⭕⭕#ফরজ_গোসল_নিয়ে_যা_না_জানলেই_নয় :
ফরজ গোসল নিয়ে ভুল ধারণা ভাঙাতে অবশ্যই পোস্টটি পড়ুনঃ⭕⭕

#ফরজ_গোসল আসলে কি : ফরজ গোসল ঐ গোসলকে বলা হয়, যা করা অপরিহার্য। বালেগ বয়সে নাপাক হলে অর্থাৎ কারো স্বপ্নদোষ হলে বা স্বামী-স্ত্রীর মিলনে গোসল ফরজ হয়।
# আর তা থেকে পবিত্রতা অর্জনের তাগীদ দিয়ে আল্লাহ বলেন: যদি তোমরা নাপাক হয়ে থাক, তবে গোসল কর। [সূরা মায়েদাহ: ৬]

আমাদের মধ্যে অনেকেই ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম জানেন না; আবার সংকোচে কাউকে জিজ্ঞেস ও করতে পারেন না। ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম না জানার কারণে অসংখ্য মুসলিম ভাই- বোনের নামায সহ নানা আমল কবুল হয় না।
অথচ নামাযের জন্য পবিত্রতা অর্জন করা ফরজ। আল্লাহ বলেন-
# হে ঈমানদার গণ! নামাযের ধারে-কাছে যেয়ো না যখন তোমরা নেশা অবস্থায় মাতাল হয়ে থাকো, যে পর্যন্ত না তোমরা বুঝো কি তোমরা বলছো, অথবা যৌন-সম্ভোগ করার পরবর্তী অবস্থায়, যতক্ষণ না গোসল করেছ। [সূরা আন’নিসা : ৪৩ ]
নামায শুদ্ধ হওয়ার জন্য নামাযের বাহিরে যে রুকুনগুলো আছে তন্মধ্যে শরীর পাক, কাপড় পাক ও জায়গা পাক হওয়ার কথাও আছে।
# হাদীসে আছে যে অপবিত্র শরীরে, কাপড়ে ও বিছানাপত্রে নামায হয় না। [মিশকাত : ২৬২]

> #গোসল_ফরজ_হওয়ার_কারণসমূহ :

১। যদি কামভাবের সাথে বীর্যপাত হয়।
২। সহবাস করলে, যদিও বীর্যপাত না হয়।
৩। স্বপ্ন দোষ হয়ে যদি বীর্য পাত হয়। (তিরমিযী শরীফ, হাদীস নং-১০৩,১০৫)
৪। মহিলাদের হায়েজ (পিরিয়ড) শেষ হলে।
৫। মহিলাদের নেফাস (বাচ্চা প্রসবের পর রক্তপাত )
থেকে পাক হলে।
(ফিকহুল মুয়াস্সার, জামেউস সুনান)

> #গোসল_ওয়াজিব_হওয়ার_কারণসমূহ-
১। মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া জীবিতদের উপর ওয়াজিব। (ফিকহুল মুয়াস্সার-৪৪)
২। বিধর্মী ইসলাম গ্রহণ করলে যদি তার শরীর নাপাক থাকে তাহলে তার উপর গোসল করা ওয়াজিব। (আবু দাউদ শরীফ, হাদীস নং-৩০১)

>> #গোসলের_ফরজ_তিনটি।

১। একবার কুলি করা ফরজ।
আর গড়গড়ার সাথে কুলি করবেন। (যদি রোজাদার না হন)
২। একবার নাকের নরম জায়গা পর্যন্ত পানি পৌঁছিয়ে পরিষ্কার করা ফরজ ।
৩। সমস্ত শরীরে ভালভাবে পানি পৌঁছানো ফরজ। (ফিকহুল মুয়াস্সার)

>> #গোসলের_সুন্নাত_সমূহ : অথবা,

✅#ফরজ_গোসল / #গোসলের_সুন্নতী_নিয়ম বা তরিকা শুরু থেকে শেষ অব্ধি দেখা যাক-

১. ফরয গোসলের পূর্বে ইস্তিঞ্জা অর্থাৎ পেশাব করা। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং-১০২০)

২. শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পড়া। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১২৬৯৪)

৩. পৃথকভাবে উভয় হাত কব্জিসহ ধোয়া। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-২৪৮)

৪. শরীর বা কাপড়ের কোন স্থানে নাপাকী লেগে থাকলে প্রথমে তা তিনবার ধুয়ে পবিত্র করে নেয়া। (মুসলিম শরীফ, হাদীস নং-৩২১)

৫. নাপাকী লেগে থাকলে বা না লেগে থাকলে সর্ব অবস্থায় গুপ্তাঙ্গ ধৌত করা। এরপর উভয় হাত ভালভাবে ধুয়ে নেয়া। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-২৪৯)

৬. সুন্নাত তরীকায় পূর্ণ উযূ করা। তবে গোসলের স্থানে পানি জমে থাকলে, গোসল শেষ করে পা ধৌত করবে। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-২৬০)

৭. প্রথমে মাথায় পানি ঢালা। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-২৫৬)

৮. এরপর ডান কাঁধে। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-২৫৪)

৯. এরপর বাম কাঁধে। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-২৫৪)

১০. অতঃপর অবশিষ্ট শরীর ভিজানো।(বুখারী শরীফ, হাদীস নং-২৭৪)

১১. সমস্ত শরীরে এমনভাবে তিনবার পানি পৌঁছানো, যেন একটি পশমের গোড়াও শুষ্ক না থাকে। (আবু দাউদ, হাদীস নং-৪৯/ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং- ৮১৩)

তবে নদী-পুকুর ইত্যাদিতে গোসল করলে কিছুক্ষণ ডুব দিয়ে থাকলেই তিন বার পানি ঢালার সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। (আবু দাউদ, হাদীস নং-২৪৯/ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাদীস নং-৮১৩)

১২. সমস্ত শরীর হাত দ্বারা ঘষে-মেজে ধৌত করা। (তিরমিযী, হাদীস নং-১০৬)

↔মহিলা এবং পুরুষের গোসলের নিয়ম একই।

______ এখন কিছু মাসায়েলা বোঝা যাক _______

#

#ফরজ_গোসলের_মাসায়েলাঃ [১]

এ কথা বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, যেহেতু সারা শরীরে পানি পৌছানো ফরজ, তাই শরীরের যে সমস্ত অঙ্গে সাধারণত পানি পৌঁছতে চায় না, যেমন :
কান, আঙুলের ফাঁক, কনুই, বগলের নীচ, চোখের কিনারা, নাভির ছিদ্র, প্রত্যেকটি চুলের গোড়া ইত্যাদি স্থানে খেয়াল করে পানি পৌঁছাতে হবে।

নখে নখপালিশ থাকলে, তা সম্পূর্ণ উঠানো ব্যতীত ওজু/ গোসল সহিহ হবে না। কারণ এটি নখের উপরে আবরণ ফেলে, পানি প্রবেশ করতে বাধা দেয়।

আর মেয়েদের নাক ও কানের অলংকার পরার ছিদ্রে যাতে পানি পৌঁছে তা লক্ষ্য রাখতে হবে। নাকে নথ, হাতে আংটি, বালা ইত্যাদি পরা থাকলে উত্তমরূপে নাড়িয়ে ঘুরিয়ে নিচে পৌঁছাবে, যদি কানে নাকে দুল না থাকে তবে খেয়াল করে ছিদ্রে পানি পৌছাবে, যেন শুকনো থেকে গোসল অশুদ্ধ না হয়।
রেফারেন্স- ফাতওয়ায়ে শামী-১ম খন্ড,পৃ-১১৪।

তবে ছিদ্র সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে থাকলে সেক্ষেত্রে আর পানি পৌছাতে হবে না। পানি ঢুকানোর মত প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া অর্ধেক ছিদ্র থাকলেও সেখানে পানি পৌঁছাতে হয়।

#ফরজ_গোসলের_মাসায়েলাঃ [২]

#গোড়ায়_পানি_দিলেই_কি_ফরজ_গোসল আদায় হবে? যদি সম্পুর্ণ চুল না ভিজে?

#উত্তরঃ হ্যা।
যদি মহিলাদের খোপা বাঁধা থাকে এবং চুলের গোড়ায় ঠিকভাবে পানি পৌঁছে তবে চুল খোলা জরুরী নয় গোসলের মধ্যে।

* উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো মাথায় চুলের বেনী গেঁথে থাকি। সুতরাং অপবিত্রতার গোসলের সময় কি আমি তা খুলব? তিনি বললেন, না। বরং তোমার জন্যে এটাই যথেষ্ট যে, তুমি মাথার ওপর তিন আজলা পানি ঢেলে দিয়ে। অতঃপর সারা শরীরে পানি ঢেলে দিয়ে পবিত্র হয়ে যাবে
(সহীহ মুসলিম,ইফাঃ ৬৩৫)

উম্মু সালামাহ এবং অন্য হাদিসে আয়িশাহে (রাযীঃ) বর্ণিত হাদীস দ্বারা বোঝা যায় যে, মহিলাদের পবিত্রতার গোসলের সময় চুলের বেনী খুলে সমস্ত চুল ধোয়া জরুরী নয়।
শুধুমাত্র মহিলাদের চুলের গোড়ায় পানি ঢেলে তাতে পানি পৌছানোই যথেষ্ট। আগা বা বেণী ধোয়া জরুরি না। তবে চুল খোলা থাকলে সমস্ত চুলই ধুতে হবে। এটিই উত্তম।

#আরও_একটি_মাসায়েলাঃ [৩]

ফরজ গোসলের সময় কুলি করা এবং নাকে পানি দেয়ার কথা ভুলে গেলে কী করবে?

#প্রশ্ন- যদি কোন ব্যক্তির ফরজ গোসলের সময় কুলি করা এবং নাকে পানি দেয়ার কথা স্মরণ না থাকে এবং গোসলের পর পরই মনে হয় তাহলে কি তার পুনরায় গোসল করতে হবে নাকি তাৎক্ষণিকভাবে কুলি করলে এবং নাকে পানি দিলে হয়ে যাবে?
#জবাব : ফরয গোসলে কুলি করতে বা নাকে পানি দিতে ভুলে গেলে স্মরণ হওয়ার পর নাকে পানি দিলে বা কুলি করে নিলেই চলবে, নতুন করে গোসল করতে হবে না।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর সূত্রে বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে,

এক ব্যক্তি নবী কারীম ﷺ -এর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করল যে, এক ব্যক্তি ফরয গোসল করেছে, কিন্তু তার কোনো একটি অঙ্গে পানি পৌঁছেনি। (এখন তার করণীয় কি?) রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, সে ঐ অঙ্গটি ধুয়ে নিয়ে নাযায পড়বে। (আলমুজামুল কাবীর, তবারানী ১০/২৩১)

উত্তর-মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী

রেফারেন্স- ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম ১/১৪৬, ফাতওয়ায়ে শামী ১/১১৯, ফাতওয়ায়ে আলমগীরী ১/১৯ কাশফুল বারী শারহুল বুখারী,
বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী।

#
_____⭕ আপনাদের আরও সহজে বোঝার সুবিধার্থে
#প্রশ্নোত্তরপর্ব ⭕_____

⏩প্রশ্ন ১.

আপু ফরজ গোসল শুদ্ধ হওয়ার জন্য কি সব গুলো সুন্নত আদায় করতেই হবে?

#উত্তরঃ জি না, ফরজ গোসল সহিহ হওয়ার জন্য উপরোক্ত গোসলের সুন্নাতগুলি পালন করা ফরজ/ কোন অত্যাবশকীয় শর্ত নয়।
উপরে বর্ণিত গোসলের এই সম্পূর্ণ পদ্ধতিটি হলো গোসলের সুন্নাতসহ ফরজ গুলি ।। আর সুন্নাত হলো অতিরিক্ত কাজ; নফল। সুন্নত গুলো আদায় করে সুন্নতী তরিকাতে ফরজ গোসল করলে আপনি সুন্নতের সওয়াব পাবেন।

যদি পিরিয়ড ভালো হওয়ার পর / সহবাসের পর ফরজ গোসল করে ওই ওয়াক্তের নামাজ পড়ার জন্য বেশি সময় না থাকে (ওই নামাজের ওয়াক্ত যদি বেশিক্ষণ না থাকে, যে সুন্নতী নিয়মে গোসল করলে নামাজ মিস হওয়ার আশংকা রয়েছে)
সেক্ষেত্রে সে কেবলমাত্র ‘গোসলের ৩ ফরজ’ আদায় করে গোসল করে নামাজে দাঁড়াতে পারবে।

তাই কোন কারণে সুন্নত বাদ দিয়ে শুধুমাত্র গোসলের ৩ফরজ আদায় করে গোসল করলেও ফরজ গোসল আদায় হয়ে যাবে তবে সুন্নতের সওয়াব পাবেন না।

আর যদি গোসলের উক্ত ৩ ফরজের একটিও বাদ যায় সেক্ষেত্রে আপনার ফরজ গোসলই হবে না। পরবর্তীতে কোন ওজু/ নামাজ কবুল হবে না।

⏩প্রশ্ন ২.

ফরজ গোসল কি প্রতিদিন করতে হয়?

#উত্তরঃ বোন, ফরজ গোসল প্রতিদিন কেন করবেন? আপনার আগে বুঝতে হবে ফরজ গোসল কি?

প্রথমত, আপনার উপর গোসল ফরজ হওয়ার কোন কারণ না ঘটলে গোসল না করেও শুধুমাত্র ওজু করেই আপনি পবিত্রতা অর্জন করতে পারবেন, সালাত পড়তে পারবেন।

আর, গোসল ফরজ হওয়ার কোন কারণ ঘটলে আমাদের পবিত্র হওয়ার জন্য গোসল করা ফরজ (সুরা মায়িদা)। সেই গোসলকেই বলে #ফরজ_গোসল।

অর্থাৎ কারো ওপর যদি গোসল ফরজ হওয়ার একটি কারণও পাওয়া যায়, সে গোসল না করে নেয়া পর্যন্ত আর কোনভাবেই (মানে ওজুতে) পবিত্র হতে পারবে না।
তাকে গোসল করতেই হবে। গোসলের মধ্যে গোসলের ৩ফরজ পালন করে গোসল করতে হবে। নাহলে ওই গোসল শরীয়ত মুতাবেক গোসলই হবে না।

এটাকেই বলে ফরজ গোসল। তাহলে বুঝা গেল, গোসল ফরজ হওয়ার কিছু না হলে প্রতিদিন গোসল করা ফরজ না। মানে প্রতিদিন ফরজ গোসল করা ফরজ না।

⏩প্রশ্ন ৩.

আচ্ছা, আমি তো প্রতিদিনই গোসল করি, আমি জানতে চাই, ফরজ গোসলের নিয়মটি আলাদা কেন?
তাহলে ফরজ গোসল আর সাধারণ গোসলের নিয়ম কি আলাদা?

#উত্তরঃ বোন,
আমাদের কাছে বাহ্যত দৃষ্টিতে গোসল হলো সারাগায়ে একটু পানি ঢালা। আর শরীয়তে গোসলের জন্য ৩টি কাজ অবশ্যই করণীয়, (ফরজ) তা হলো-
১। ভালভাবে কুলি করা।
২। নাকের নরম জায়গা পর্যন্ত পানি পৌঁছান।
৩। সম্পূর্ণ শরীর ধৌত করা।

আপনি “প্রশ্ন ২.” এর উত্তরেই বুঝতে পারবেন যে প্রতিদিন গোসল ফরজ হওয়ার কোন কারণ সংঘটিত না হলে গোসল (মানে ফরজ গোসল) না করেও নামাজের জন্য পবিত্র হওয়ার জন্যে শুধু ওজু করলেই হয়ে যায়। মানে ওইদিন আপনি গোসল না করেও শুধু ওজু করে নামাজ পড়তে পারবেন।

#আপনি জানতে চেয়েছেন যে ফরজ গোসলের জন্য আলাদা নিয়ম কেন?
এর উত্তর হলো, ফরজ গোসলের জন্যে যে আলাদা নিয়ম আপনি দেখেছেন, তাই হলো আপনার রাসূলের গোসলের তরিকা।
আমরা তো ইসলামি শরীয়াহ থেকে বহু দূরে, তাই আমরা আমাদের পথপ্রদর্শকের শেখানো পথে গোসল না করে টিভি-সিনেমাতে দেখানো বিধর্মীদের মত গোসল করি। আমাদের মা-বাবা আজ এত গাফেল, তারা আমাদের রাসূলের সুন্নাত অনুযায়ী গোসলের সুন্নাত নিয়মটাও শেখাতে পারেনি।

একটু আগে বললাম, গোসলের জন্য ৩টি ফরজ আছে। যার উপর গোসল ফরজ সে যদি গোসল না করে এই ৩ ফরজ আদায় না করে কোনরকম গায়ে অল্পবিস্তর পানি ঢেলে বের হয়ে আসে তাহলে শারঈ মোতাবেক তার ‘গোসল’ হবে না।

আর যার ওপর গোসল ফরজ হয় নি, তার জন্যও প্রতিদিন গোসল করা সুন্নাত। কারণ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। এখন,সে যদি রাসূলের উম্মাত হয়ে থাকে সে অবশ্যই সুন্নাত অনুযায়ী তার প্রতিদিনকার সাধারণ গোসলটি সম্পাদন করবে। সুন্নাতগুলো আদায় করে সুন্নাতি তরিকাতে গোসল করলে একইসাথে গোসলের ৩ফরজ খুব ভালোভাবে আদায় হয়ে যাচ্ছে।

তাই বোঝা গেল, ফরজ গোসল আর সাধারণ গোসল ২টি আলাদা বস্তুর নাম নয়।
প্রতিদিনের গোসলের সুন্নতই এই পোস্টে আলোচনা করা হলো। আপনারা যদি ভাবেন, মাসে একদিন সুন্নাত অনুসারে ফরজ গোসল করবেন, বাকিদিন সুন্নাত অনুযায়ী গোসল করবেন না, তাহলে ৩ফরজ আদায় হলে আপনাদের গোসল আদায় হয়ে যাবে। তবে, আপনি সুন্নাতের সাওয়াব থেকে বঞ্চিত হবেন।

এখন কথা হলো, আপনারা ফরজ গোসলের দিন গোসলের ৩ফরজ খুব খেয়ালে আদায় করবেন।

আর,
ফরজ গোসলের বাইরে অন্যান্য দিনের স্বাভাবিক গোসলে সুন্নতি নিয়মে গোসল না করলে বা অন্ততপক্ষে গোসলের ৩ ফরজ বাদ দিলেও কোন সমস্যা নেই। কারণ আপনার উপর যেহেতু গোসল তখন ফরজ না, ওজু করেই আপনি সালাতের জন্য পবিত্র হতে পারবেন, গোসল আবশ্যক না।

⏩প্রশ্ন ৪.

আমি যদি গোসলের ফরজ ও সুন্নতগুলো আদায় না করে সারাগায়ে পানি ঢেলে কোনরকম গোসল করি তাহলে কি আমি নামাজ পড়তে পারব আবার ওজু করা ছাড়াই?

#উত্তরঃ আপনি গোসলের ৩ ফরজ আদায় না করে সারাগায়ে পানি ঢেলে ‘কোনরকম গোসল’ করলে শরিয়াহ মুতাবেক আপনার গোসল হয়নি। তাই গোসলের সাওয়াবও পাবেন না। কারণ গোসল আদায় হতে হলে গোসলের ৩ফরজ অন্ততপক্ষে আদায় করা আবশ্যক।

আপনি বলেছেন আপনি শুধুমাত্র গায়ে পানি দিয়েছেন এমতাবস্থায় নামাজ পড়ার জন্য ওজু হয়ে গেছে কিনা?

যদি আপনার ওপর গোসল ফরজ না হয়ে থাকে, সেসময়ে আপনি গোসলের ৩টি ফরজের মধ্যে কুলি না করেন ও নাকে পানি না দেন শুধু গায়ে পানি দেন (আপনার ভাষ্যমতে) তাহলে ওযুর ৪ ফরজ আদায় করলে তখন আপনার ওজু ঠিকই হয়ে যাবে।
কিন্তু গোসল আদায় হবে না।

এরুপ সারা শরীরে পানি পৌঁছানো শরীয়াহ মোতাবেক গোসল নয়, তবে এই পানি পৌঁছানোর মাধ্যমে যদি ওজুর ৪ ফরজ যদি আদায় হয়ে যায় তাহলে এরুপ ওজুর মধ্যে বা শেষে ওজু ভঙ্গের কোন কারণ দেখা না দিলে এরপরে পুনরায় ওজু না করেও নামাজ পড়া যাবে।

ওজুর ফরজ গুলো হলোঃ

ওজুর ফরয ৪টি

১. সমস্ত মুখ একবার ধৌত করা। (সূরা মায়িদা, আয়াত নং ৬)
২. দুই হাত কনুইসহ একবার ধৌত করা। (ঐ)
৩. মাথার এক চতুর্থাংশ একবার মাসাহ করা।
৪. উভয় পা টাখনুসহ একবার ধৌত করা। (ঐ)

ফায়দাঃ উপরোক্ত চারটি কাজের কোন একটি না করলে বা এর মধ্যে এক চুল পরিমাণও শুকনা থাকলে ওজু সহীহ হবে না। (প্রমাণ: শামী, ১:৯১/ আল বাহরুর রায়িক, ১:৯/ হিদায়া, ১:১৬)

*ওজুর সবগুলো ফরজ অন্ততপক্ষে একবার করতে হবে যাতে একটা অংশও পানিশুন্য না থাকে, এজন্যই ৩বার করা সুন্নাহ, ৩বারে সবজায়গায় ভালোভাবে পানি পৌছে যায় কোন সন্দেহ থাকে না

আর ওজুর সুন্নাত তরীকা-

অজুর সুন্নাত সমূহ

১. উযূর নিয়ত করা অর্থাৎ উযূকারী মনে মনে এই নিয়ত করবে যে, পবিত্রতা অর্জন করা ও নামায জায়েয হওয়ার জন্য আমি উযূ করছি। (সূরা বায়্যিনাহ, ৫/ বুখারী শরীফ, হাদীস নং-৬৬৮৯)

২. বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পড়ে উযূ আরম্ভ করা। হাদীসে পাকে আছে, বিসমিল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহ পড়ে উযূ করলে যতক্ষণ ঐ উযূ থাকবে, ফেরেশতাগণ তার নামে ততক্ষণ অনবরত সাওয়াব লিখতে থাকবে, যদিও সে কোন মুবাহ কাজে লিপ্ত থাকে।(নাসায়ী শরীফ, হাদীস নং-৭৮/ তাবারানী সাগীর, ১ : ৭৩)

৩. উভয় হাত পৃথকভাবে কব্জিসহ তিনবার ধোয়া। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-১৫৯)

৪. মিসওয়াক করা। যদি মিসওয়াক না থাকে তাহলে আঙ্গুল দ্বারা দাঁত মাজা মিসওয়াক অর্ধ হাতের চেয়ে বেশি লম্বা না হওয়া এবং গাছের ডাল হওয়া মুস্তাহাব। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৯২১৬, ১৩৯, ৩৯৯০/ তিরমিযী, হাদীস নং-২৩/ বাইহাকী, হাদীস নং-১৭৪)

৫. তিনবার কুলি করা। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-১৮৫)

৬. তিনবার নাকে পানি দেয়া এবং নাক সাফ করা। (সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-১০৭৭)

৭. ততসঙ্গে প্রতিবারই নাক ঝাড়া। (মুসলিম শরীফ, হাদীস নং-২৩৬)

৮. প্রত্যেক অঙ্গকে পূর্ণভাবে তিনবার করে ধোয়া। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-১৫৯) এর জন্য তিনবারের বেশি পানি নিতে হলে নিবে।

৯. দুই হাতে মুখ ধোয়া এবং মুখমণ্ডল ধোয়ার সময় দাড়ি খিলাল করা।(তিরমিযী, হাদীস নং-৩১)

১০.হাত ও পা ধোয়ার সময় আঙ্গুলসমূহ খিলাল করা। (তিরমিযী, হাদীস নং-৩৮)

১১. একবার সম্পূর্ণ মাথা মাসাহ্‌ করা।(তিরমিযী, হাদীস নং-৩৪)

১২. উভয় কান মাসাহ করা। উল্লেখ্য, কানের ছিদ্রের মধ্যে কনিষ্ঠ আঙ্গুল ঢুকিয়ে এবং ভিতর দিকে অবশিষ্ট অংশে শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা মাসাহ করা।(তিরমিযী, হাদীস নং-৩৩/ আবু দাউদ, হাদীস নং-১৩৫)

১৩. উযূর অঙ্গসমূহ হাত দ্বারা ঘষে-মেজে ধোয়া।(মুস্তাদরাক, হাদীস নং-৫৭৬/ সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস নং-১১৮)

১৪. এক অঙ্গ ধোয়ার পর অন্য অঙ্গ ধৌত করতে বিলম্ব না করা।(মুসলিম, হাদীস নং-২৪৩/ আবু দাউদ, হাদীস নং-১৭৩)

১৫. তরতীবের সাথে উযূ করা। অর্থাৎ উযূর অঙ্গসমূহ ধোয়ার সময় ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। (আবু দাউদ, হাদীস নং-১৩৭)

১৬. ডান দিকের অঙ্গ আগে ধোয়া।(বুখারী শরীফ, হাদীস নং-১৬৮)

১৭. শীত অথবা অন্য কোন কারণে যখন উযূ করতে ইচ্ছে না হয়, তখনও উযূর অঙ্গসমূহ উত্তমরূপে ধুয়ে উযূ করা।(তিরমিযী, হাদীস নং-৫১/ মুসলিম, হাদীস নং-২৫১)

১৮. উযূর মধ্যে নিম্নোক্ত দু‘আটি পড়া :

اَللّهُمَّ اغْفِرْلِي ذَنْبِيْ وَوَسِّعْ لِيْ فِيْ دَارِيْ وَبَارِكْ لِيْ فِيْ رِزْقِيْ.
(আমালুল্‌য়াওমি ওয়াল লাইলাহ লি ইবনিসসুন্নী, হাদীস নং-২৮)

এবং উযূ শেষ করে কালিমায়ে শাহাদাত পড়া।(মুসলিম শরীফ, হাদীস নং-২৩৪)

অতঃপর এ দু‘আ পড়া : (তিরমিযী, হাদীস নং-৫৫)

اَللّهُمَّ اجْعَلْنِيْ مِنَ التَّوَّابِيْنَ وَاجْعَلْنِيْ مِنَ الْمُتَطَهِّرِيْنْ .

উল্লেখ্য, গোসল এবং তায়াম্মুমের শুরু ও শেষে উযূতে বর্ণিত দু‘আ পড়বে।

বি.দ্র. শুধু এ সব বর্ণনা পড়ার দ্বারা সুন্নাত তরীকায় উযূ করা সম্ভব নয়, এ জন্য কোন হাক্কানী আলেম থেকে সব বিষয়গুলো চাক্ষুষভাবে দেখে নিবে। আল্লাহ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হযরত জিবরাঈল আ.-এর মাধ্যমে সকল বিষয় চাক্ষুষভাবে দেখিয়ে শিক্ষা দিয়েছেন। (তিরমিযী, হাদীস নং-১৪৯)

-কিতাবুস সুন্নাহ, নামাজ শিক্ষা ও ইমামদের দায়িত্ব বই থেকে।
মুফতি মানসুরুল হক দামাত বারকাতুহুম (দা.বা.=আল্লাহ উনার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন)

__________/🌹\___________

‘ফরজ গোসল’ নিয়ে এটাই সর্বশেষ সম্পাদিত পোস্ট । ফরজ গোসল নিয়ে এটি ব্যতীত অন্য কোন পোস্ট কপি / শেয়ার করবেন না।
কারণ ইন্টারনেটে ফরজ গোসল বিষয়ে অনেক ভুল পোস্ট আছে।)

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: