শিরকের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ
শিরকের সংজ্ঞা: রব ও ইলাহ হিসাবে

আল্লাহর সহিত আর কাউকে শরীক সাব্যস্ত
করার নামই শিরক। অধিকাংশ ক্ষেত্রে উলুহিয়াত তথা ইলাহ হিসাবে আল্লাহর সাথে শরীক করা হয়।
যেমন আল্লাহর সাথে অন্য কারো নিকট দোয়া করা
কিংবা বিভিন্ন প্রকার ইবাদাত যেমন যবেহ,
মান্নাত, ভয়, আশা, মহববত ইত্যাদির কোন কিছু
গায়রুলাহর উদ্দেশ্যে নিবেদন করা। নিম্নলিখিত কারণে শিরক সবচেয়ে বড় গোনাহ হিসাবে বিবেচিত:

১. এতে ‘ইলাহ’- এর গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্যে
খালেক তথা সৃষ্টিকর্তার সাথে মাখলুক তথা সৃষ্ট বস্ত্তর তুলনা করা হয়। কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করলো, সে প্রকারান্তরে তাকে আল্লাহর অনুরূপ ও সমকক্ষ বলে স্থির করলো।

আল্লাহ বলেন {ﺇِﻥَّ ﺍﻟﺸِّﺮْﻙَ ﻟَﻈُﻠْﻢٌ ﻋَﻈِﻴﻢٌ ﴿13
‘নিশ্চয়ই আল্লাহর সাথে শরীক করা মহা অন্যায়।’

জুলুম বলা হয় কোন বস্ত্তকে তার আসল জায়গা
থেকে সরিয়ে অন্য জায়গায় রাখা। সুতরাং যে গায়রুলাহর ইবাদত করে, সে মূলত: ইবাদাতকে তার আসল স্থানে না রেখে ইবাদাত পাওয়ার উপযুক্ত নয় এমন কারো উদ্দেশ্যে তা নিবেদন করে। আর এটা হল

#সবচেয়ে বড় জুলুম এবং অন্যায়।

২. আল্লাহ তাআলা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলে দিয়েছেন, শিরক করার পর যে ব্যক্তি তা থেকে তওবা করবেনা, তিনি তাকে ক্ষমা করবেন না।

আল্লাহ বলেন:
ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻟَﺎ ﻳَﻐْﻔِﺮُ ﺃَﻥْ ﻳُﺸْﺮَﻙَ ﺑِﻪِ ﻭَﻳَﻐْﻔِﺮُ ﻣَﺎ ﺩُﻭﻥَ ﺫَﻟِﻚَ ﻟِﻤَﻦْ ﻳَﺸَﺎﺀُ ﻭَﻣَﻦْ
ﻳُﺸْﺮِﻙْ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻓَﻘَﺪِ ﺍﻓْﺘَﺮَﻯ ﺇِﺛْﻤًﺎ ﻋَﻈِﻴﻤًﺎ ﴿ 48 ﴾
‘নিশ্চয়ই আল্লাহর তাঁর সাথে শরীক করার পাপ
ক্ষমা করেন না। এতদ্ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ তিনি ক্ষমা করেন, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন। ’

৩. আল্লাহ এও বলেনওয, তিনি মুশরিকদের জন্য
জান্নাতকে হারাম করে দিয়েছেন এবং তারা চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে অবস্থান করবে।

তিনি বলেন:
ﺇِﻧَّﻪُ ﻣَﻦْ ﻳُﺸْﺮِﻙْ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻓَﻘَﺪْ ﺣَﺮَّﻡَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ﻭَﻣَﺄْﻭَﺍﻩُ ﺍﻟﻨَّﺎﺭُ ﻭَﻣَﺎ
ﻟِﻠﻈَّﺎﻟِﻤِﻴﻦَ ﻣِﻦْ ﺃَﻧْﺼَﺎﺭٍ ﴿72 ﴾
‘নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরীক করে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাত হারাম করে দেন এবং তার বাসস্থান হবে জাহান্নাম। অত্যাচারীদের কোন সাহায্যকারী নেই।

৪. শিরক সকল আমরকে নষ্ট ও নিষ্ফল করে দেয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﻭَﻟَﻮْ ﺃَﺷْﺮَﻛُﻮﺍ ﻟَﺤَﺒِﻂَ ﻋَﻨْﻬُﻢْ ﻣَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳَﻌْﻤَﻠُﻮﻥَ ﴿88 ﴾
‘যদি তারা শিরক করত, তবে তাদের কাজকর্ম
নিষ্ফল হয়ে যেত।’

আল্লাহ আরো বলেন:
ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺃُﻭﺣِﻲَ ﺇِﻟَﻴْﻚَ ﻭَﺇِﻟَﻰ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻣِﻦْ ﻗَﺒْﻠِﻚَ ﻟَﺌِﻦْ ﺃَﺷْﺮَﻛْﺖَ ﻟَﻴَﺤْﺒَﻄَﻦَّ ﻋَﻤَﻠُﻚَ
ﻭَﻟَﺘَﻜُﻮﻧَﻦَّ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺨَﺎﺳِﺮِﻳﻦَ ﴿65 ﴾
‘আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের
প্রতি ওহী প্রেরণ করা হয়েছে যদি আল্লাহর
শরীক স্থির করেন, তবে আপনার কর্ম নিষ্ফল
হবে এবং আপনি ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হবেন।’

৫. মুশরিক ব্যক্তির রক্ত (তথা প্রাণ সংহার) ও
ধন-সম্পদ কেড়ে নেয়া উভয়ই হালাল।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﻓَﺎﻗْﺘُﻠُﻮﺍ ﺍﻟْﻤُﺸْﺮِﻛِﻴﻦَ ﺣَﻴْﺚُ ﻭَﺟَﺪْﺗُﻤُﻮﻫُﻢْ ﻭَﺧُﺬُﻭﻫُﻢْ ﻭَﺍﺣْﺼُﺮُﻭﻫُﻢْ ﻭَﺍﻗْﻌُﺪُﻭﺍ
ﻟَﻬُﻢْ ﻛُﻞَّ ﻣَﺮْﺻَﺪٍ ﻓَﺈِﻥْ ﺗَﺎﺑُﻮﺍ ﻭَﺃَﻗَﺎﻣُﻮﺍ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓَ ﻭَﺁَﺗَﻮُﺍ ﺍﻟﺰَّﻛَﺎﺓَ ﻓَﺨَﻠُّﻮﺍ ﺳَﺒِﻴﻠَﻬُﻢْ
ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻏَﻔُﻮﺭٌ ﺭَﺣِﻴﻢٌ ﴿5 ﴾
‘অতঃপর মুশরিকদেরকে হত্যা কর যেখানে
তাদের পাও, তাদেরকে বন্দী কর এবং অবরোধ
কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ
পেতে বসে থাক।’

নবী সালালাহু আলাইহি ওয়া সালাম বলেন:
ﺃﻣِﺮْﺕُ ﺃﻥْ ﺃﻗَﺎﺗِﻞَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﻘُﻮْﻟُﻮْﺍ ﻟَﺎﺇﻟَﻪَ ﺇﻟَّﺎ ﺍﻟﻠﻪ، ﻓﺈﺫَﺍ ﻗَﺎﻟُﻮْﺍﻫَﺎ
ﻋَﺼَﻤُﻮْﺍ ﻣِﻨِّﻲ ﺩِﻣَﺎﺀﻫُﻢ ﻭَﺃﻣْﻮَﺍﻟَﻬُﻢ ﺇﻟَّﺎ ﺑِﺤَﻘِّﻬَﺎ

‘আল্লাহ ছাড়া আর কোন হক মা’বুদ নাই, একথা
বলা পর্যন্ত লোকজনের সাথে লড়ে যাওয়ার
জন্য আমাকে আদেশ করা হয়েছে। অতঃপর
যখনই তারা এই বাণী উচ্চরণ করল, আমার হাত
থেকে তাদের জান-মাল তারা রক্ষা করে নিল। অবশ্য এ বাণীর দাবী অনুযায়ীকৃত দন্ডনীয় অপরাধের সাজা পেতেই হবে।’

৬. কবীরা গোনাহসমূহের মধ্যে শিরক সবচেয়ে বড় গোনাহ।

রাসূলুলাহ সালালাহু আলাইহি ওয়া সালাম
বলেন:
ﺃﻟَﺎ ﺃﻧَﺒِﺌﻜُﻢْ ﺑِﺄﻛْﺒَﺮِ ﺍﻟﻜَﺒَﺎﺋﺮِ؟ ﻗُﻠْﻨَﺎ ﺑَﻠَﻰ ﻳَﺎﺭَﺳُﻮْﻝَ ﺍﻟﻠﻪ . ﻗﺎَﻝَ ﺍﻟْﺈﺷْﺮَﺍﻙُ ﺑِﺎﻟﻠﻪ
ﻭَﻋُﻘُﻮْﻕُ ﺍﻟْﻮَﺍﻟِﺪَﻳْﻦِ .

‘আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় কবীরা
গোনাহের সংবাদ দিব না? আমরা বললাম-
জ্বী, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল ! তিনি বললেন: আল্লাহর সাথে শিরক করা এবং পিতা- মাতার অবাধ্য হওয়া।’ আলামা ইবনুল কাইয়েম বলেন: আল্লাহ জানিয়ে দিয়েছেন যে, সমস্ত জগতের সৃষ্টি এবং এর উপর কর্তৃত্বের উদ্দেশ্য হলো- আল্লাহ তাআলাকে যেন তার নাম ও গুণাবলীসহ জানা যায় ও শুধু তাঁরই ইবাদত করা হয়। তাঁর সাথে আর কারো শরীক করা না হয়। আর মানুষ যেন নিজেদের মধ্যে ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম করে। ন্যায় ও ইনসাফ হলো সেই নিক্তি যদ্বারা আসমান ও জমীন প্রতিষ্ঠত।

যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﻟَﻘَﺪْ ﺃَﺭْﺳَﻠْﻨَﺎ ﺭُﺳُﻠَﻨَﺎ ﺑِﺎﻟْﺒَﻴِّﻨَﺎﺕِ ﻭَﺃَﻧْﺰَﻟْﻨَﺎ ﻣَﻌَﻬُﻢُ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏَ ﻭَﺍﻟْﻤِﻴﺰَﺍﻥَ ﻟِﻴَﻘُﻮﻡَ
ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﺑِﺎﻟْﻘِﺴْﻂِ ﴿25 ﴾
‘ নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলগণকে প্রেরণ
করেছি, স্পষ্ট প্রমাণসহ এবং তাদের সঙ্গে দিয়েছি কিতাব ও ন্যায়নীতি, যাতে মানুষ সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে।’ এখানে আল্লাহ জানিয়ে দিয়েছিন যে, তিনি তাঁর রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন এবং স্বীয় গ্রন্থসমূহ নাযিল করেছেন, যাতে মানুষ ‘ক্বিসত’ তথা ইনসাফ হচ্ছে তাওহীদ। বরং তাওহীদ হচ্ছে আ’দল ও ইনসাফের মূল স্তম্ভ। পক্ষান্তরে শিরক হলো স্পষ্ট জুলুম ও অন্যায়।

যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন,
ﺇِﻥَّ ﺍﻟﺸِّﺮْﻙَ ﻟَﻈُﻠْﻢٌ ﻋَﻈِﻴﻢٌ ﴿13 }
‘নিশ্চয়ই শিরক একটি বড় জুলুম’
অতএব শিরক হচ্ছে সবচেয়ে বড় জুলুম এবং
তাওহীদ হচ্ছে সর্বোত্তম আদল ও ইনসাফ। আর
যা বিশ্ব সৃষ্টির এই উদ্দেশ্যের সবচেয়ে বেশী
পরিপন্থী, তাই সবচেয়ে বড় কবীরা গোনাহ। এ
ব্যাপারে ইবনুল কাইয়েম আরো বলেন: যখন
শিরকই হলো এই উদ্দেশ্যের পরিপন্থী, তাই
সর্বতোভাবে এটাই সবচেয়ে বড় কবীরা গোনাহ। আল্লাহ প্রত্যেক মুশরিকের উপর জান্নাতকে হারাম করে দিয়েছেন এবং তার জান-মাল ও পরিবার- পরিজনকে তাওহীদ পন্থীদের জন্য হালাল করে দিয়েছেন। তদুপরি তাদেরকে দাস হিসাবে গ্রহণ করার ও অনুমতি দিয়েছেন, কেননা তারা আল্লাহর ইবাদত ও দাসত্বের কাজ আদায় করা থেকে বিরত থেকেছে। আল্লাহ মুশরিক ব্যক্তির কোন কাজ কবুল করতে, আখিরাতে তার ব্যাপারে কোন সুপারিশ গ্রহণ করতে ও তার কোন দোয়া কবুল করতে এবং তার কোন আশা বাস্তবায়ন করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছেন। প্রকৃতপক্ষে মুশরিক ব্যক্তি আল্লাহ সম্পর্কে সবচেয়ে অজ্ঞ। কেননা সে সৃষ্টির কাইকে আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করে। অথচ এ হল চূড়ান্ত অজ্ঞতা এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের জুলুম। যদিও বস্তবিকভাবে মুশরিক ব্যক্তি তার রব আল্লাহ তাআলার উপর জুলুম করেনা। বরং সে নিজের উপরই জুলুম করে থাকে।

৭. শিরক হলো এমন ত্রুটি ও দোষ যা থেকে
আল্লাহ তাআলা নিজেকে পবিত্র বলে ঘোষণা করেছেন। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরীক করলো, সে আল্লাহর জন্য ওটাই সাব্যস্ত করলো যা থেকে তিনি নিজেকে পবিত্র বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আর তাই শিরক হলো আল্লাহর পরিপূর্ণ নাফরমানী, চূড়ান্ত হঠকারিতা ও তাঁকে কষ্ট দেওয়ারই নামান্তর শিরকের প্রকারভেদ

#শিরক দুই প্রকার:
(১) শিরকে আকরার(বড় শিরক) যা বান্দাকে
মিলাতের গন্ডী থেকে বের করে দেয়। এ ধরণের শিরকে লিপ্ত ব্যক্তি যদি শিরকের উপরই মৃত্যুবরণ করে, এবং তা থেকে তওবা না করে থাকে, তাহলে সে চিরস্থায়ী ভাবে দোজখে অবস্থান করবে। শিরকে আকবর হলো গায়রুলাহ তথা আল্লাহ ছাড়া যে কোন ব্যক্তি, প্রাণী বা বস্ত্তর উদ্দেশ্যে কোন ইবাদত আদায় করা, গায়রুলাহর উদ্দেশে কুরবানী করা, মান্নাত করা, কোন মৃত ব্যক্তি কিংবা জ্বিন অথবা শয়তান কারো ক্ষতি করতে পারে কিংবা কাউকে অসুস্থ করতে পারে, এ ধরনের ভয় পাওয়া, প্রয়োজন ও চাহিদা পূর্ণ করা এবং বিপদ দূর করার ন্যায় যে সব ব্যাপারে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ ক্ষমতা রাখেনা সে সব ব্যাপারে আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে আশা করা। আজকাল আওলিয়া ও বুযুর্গানে দ্বীনের কবরসমূহকে কেন্দ্র করে এ ধরনের শিরকের প্রচুর চর্চা হচ্ছে।

এদিকে ইশারা করে আল্লাহ বলেন:

ﻭَﻳَﻌْﺒُﺪُﻭﻥَ ﻣِﻦْ ﺩُﻭﻥِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣَﺎ ﻟَﺎ ﻳَﻀُﺮُّﻫُﻢْ ﻭَﻟَﺎ ﻳَﻨْﻔَﻌُﻬُﻢْ ﻭَﻳَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ ﻫَﺆُﻟَﺎﺀِ
ﺷُﻔَﻌَﺎﺅُﻧَﺎ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪَِ ﴿18}
‘তারা আল্লাহর পরিবর্তে এমন বস্ত্তর ইবাদত
করে, যা না তাদের কোন ক্ষতি সাধন করতে
পারে, না করতে পারে, কোন উপকার। আর
তারা বলে, এরা তো আল্লাহর কাছে আমাদের
সুপারিশকারী।’

(২.) শিরকে আসগার (ছোট শিরক) শিরক
আসগার বান্দাকে মুসলিম মিলাতের গন্ডী থেকে বের করে দেয়না, তবে তার একত্ববাদের আক্বীদায় ত্রুটি ও কমতির সৃষ্টি করে। এটি শিরকে আকবারে লিপ্ত হওয়ার অসীলা ও কারণ।

এ ধরনের শিরক দু‘প্রকার: প্রথম প্রকার: স্পষ্ট শিরক
এ প্রকারের শিরক কথা ও কাজের ক্ষেত্রে
হয়ে থাকে। কথার ক্ষেত্রে শিরকের উদাহরণ:
আল্লাহর ব্যতীত অন্য কিছুর কসম ও শপথ করা।

রাসূল সালালাহু আলাইহি ওয়া সালাম বলেন:
ﻣَﻦْ ﺣَﻠَﻒَ ﺑِﻐَﻴْﺮِ ﺍﻟﻠﻪِ ﻓَﻘَﺪْ ﻛَﻔَﺮَ ﺃﻭْ ﺃﺷْﺮَﻙَ .
‘যে ব্যক্তি গায়রুলার কসম করল, সে কুফুরী
কিংবা শিরক করল’ অনুরূপভাবে এমন কথা বলা যে, ‘‘আল্লাহ এবং তুমি যেমন চেয়েছ’’ ﻣﺎﺷﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺷﺌﺖ কোন এক ব্যক্তি রাসূল সালালাহু আলাইহি ওয়া সালা
মকে ‘‘আল্লাহ এবং আপনি যেমন চেয়েছেন’’
কথাটি বললে তিনি বললেন, ‘‘তুমি কি আমাকে
আল্লাহর সাথে সমকক্ষ স্থির করলে? বরং বল,
আল্লাহ এককভাবে যা চেয়েছেন।’’ আর একথাও বলা যে, ‘‘যদি আল্লাহ ও অমুক ব্যক্তি না থাকত’’ ﻟﻮﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻭ ﻓﻼﻥ । উপরোক্ত ক্ষেত্রদ্বয়ে বিশুদ্ধ হল নিম্নরূপে বলা -‘‘আল্লাহ চেয়েছেন, অতঃপর অমুক যেমন চেয়েছে’’ ﻣﺎﺷﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ ﺛﻢ ﻓﻼﻥ ‘‘যদি আল্লাহ না থাকতেন, অতঃপর অমুক ব্যক্তি না থাকত’’ ﻟﻮﻻ
ﺍﻟﻠﻪ ﺛﻢ ﻓﻼﻥ । কেননা আরবীতে ﺛﻢ (যার অর্
তারপর বা অতঃপর) অব্যয়টি বিলম্বে
পর্যায়ক্রমিক অর্থের জন্য ব্যবহৃত হয়। তাই‘‘এবং
’’ শব্দের বদলে ‘‘তারপর’’ কিংবা ‘‘অতঃপর
শব্দের ব্যবহার বান্দার ইচ্ছাকে আল্লাহর
ইচ্ছার অধীনস্ত করে দেয়।

যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:
ﻭَﻣَﺎ ﺗَﺸَﺎﺀُﻭﻥَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻥْ ﻳَﺸَﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺭَﺏُّ ﺍﻟْﻌَﺎﻟَﻤِﻴﻦَ ﴿29 ﴾
‘তোমরা বিশ্বজগতের প্রভু আল্লাহর ইচ্ছা
ছাড়া কোন কিছুরই ইচ্ছা করতে পারনা।’
পক্ষান্তরে আরবী ﻭﺍﻭ যার অর্থ : এবং অব্যয়টি দুটো সত্ত্ব বা বস্ত্তকে একত্রীকরণ ও উভয়ের অংশীদারিত্ব অর্থ প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়। এদ্বারা পর্যায়ক্রমিক অর্থ কিংবা পরবর্তী পর্যায়ে সংঘটিত অর্থ বুঝা যায়না। যেমন একথা বলা যে, ‘‘ আমার জন্য তো কেবল তুমি
এবং আল্লাহ আছ’’ ও ‘‘ এতো আল্লাহ এবং তোমার বরকতে হয়েছে’’। আর কাজের ক্ষেত্রে শিরকের

#উদাহরণ: যেমন বিপদাপদ দূর করার জন্য কড়ি কিংবা দাগা বাঁধা, বদনজর থেকে বাঁচার জন্য তাবীজ ইত্যাদি লটকানো। এসব ব্যাপারে যদি এ বিশ্বাস থাকে যে, এগুলো বলাথ-মসীবত দূর করার মাধ্যম ও উপকরণ, তাহলে তা হবে শিরকে আসগার। কেননা আল্লাহ এগুলোকে সে উপকরণ হিসাবে সৃষ্টি করেননি। পক্ষান্তরে কারো যদি এ বিশ্বাস হয় যে, এসব বস্ত্ত স্বয়ং বালা- মুসীবত দূর করে, তবে তা হবে শিরক আকবর। কেননা এতে গায়রুলাহর প্রতি সেই ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে যা শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট।

#দ্বিতীয় প্রকার: গোপন শিরক
এ প্রকার শিরকের স্থান হলো ইচ্ছা, সংকল্প ও
নিয়্যাতের মধ্যে। যেমন লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে ও প্রসিদ্ধি অর্জনের জন্য কোন আমল করা। অর্থাৎ আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা।যায় এমন কোন কাজ করে তা দ্বারা মানুষের প্রশংসা লাভের ইচ্ছা করা। যেমন সুন্দর ভাবে নামায আদায় করা, কিংবা সদকা করা এ উদ্দেশ্যে যে, মানুষ তার প্রশংসা করবে,
অথবা সশব্দে যিকির- আযকার পড়া ও সুকণ্ঠে তেলাওয়াত করা যাতে তা শুনে লোকজন তার গুণগান করে। যদি কোন আমলে রিয়া তথা লোক দেখানোর উদ্দেশ্য সংমিশ্রিত থাকে, তাহলে আল্লাহ তা বাতিল করে দেন।

আল্লাহ বলেন:
ﻓَﻤَﻦْ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﺮْﺟُﻮﺍ ﻟِﻘَﺎﺀَ ﺭَﺑِّﻪِ ﻓَﻠْﻴَﻌْﻤَﻞْ ﻋَﻤَﻠًﺎ ﺻَﺎﻟِﺤًﺎ ﻭَﻟَﺎ ﻳُﺸْﺮِﻙْ ﺑِﻌِﺒَﺎﺩَﺓِ ﺭَﺑِّﻪِ
ﺃَﺣَﺪًﺍ ﴿ 110 ﴾
‘অতএব যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত
কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম সম্পাদন করে
এবং তার পালনকর্তার ইবাদতে কাউকে শরীক
না করে’
নবী সালালাহু আলাইহি ওয়া সালাম বলেন:
ﺃﺧﻮﻑ ﻣﺎ ﺃﺧﺎﻑ ﻋﻠﻴﻜﻢ ﺍﻟﺸﺮﻙ ﺍﻷﺻﻐﺮ، ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻳﺎﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻣﺎ
ﺍﻟﺸﺮﻙ ﺍﻷﺻﻐﺮ ﻗﺎﻝ : ﺍﻟﺮﻳﺎﺀ
‘তোমাদের উপর আমি যে জিনিসের ভয়
সবচেয়ে বিশী করছি তা হল শিরকে আসগরধ।
সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন: ইয়া রাসূলালা
হ! শিরকে আসগর কি? তিনি বললেন: রিয়া (লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে আমল করা) পার্থিব লোভে পড়ে কোন আমল করাও এ প্রকার শিরকের অন্তর্গত। যেমন কোন ব্যক্তি শুধু মাল- সম্পদ অর্জনের জন্যেই হজ্জ করে, আযান দেয় অথবা লোকদের ইমামতি করে,
কিংবা শরয়ী জ্ঞান অর্জন করে বা জিহাদ
করে। নবী সালালাহু আলাইহি ওয়া সালাম বলেন:

ﺗﻌﺲ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺪﻳﻨﺎﺭ ﻭ ﺗﻌﺲ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺪﺭﻫﻢ، ﺗﻌﺲ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺨﻤﻴﺼﺔ، ﺗﻌﺲ
ﻋﺒﺪﺍﻟﺨﻤﻴﻠﺔ ﺇﻥ ﺃﻋﻄﻲ ﺭﺿﻲ ﺇﻥ ﻟﻢ ﻳﻌﻂ ﺳﺨﻂ .
‘ দীনার , দিরহাম এবং খামিসা- খামিলা
(তথা উত্তম পোশক-পরিচ্ছদ- এর যারা দাস, তাদের ধ্বংস। তাকে দেয়া হলে সে সন্তুষ্ট হয়, আর না দেয়া হলে অসন্তুষ্ট হয়। ’ ইমাম ইবনুল কাইয়েম র. বলেন সংকল্প ও নিয়্যাতের শিরক হলো এমন এক সাগর সদৃশ যার কোন কূল- কিনারা নেই। খুব কম লোকই তা থেকে বাঁচতে পারে। অতএব যে ব্যক্তি তার আমল দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কিছু ও গায়রুলার কাছে ঐ আমলের প্রতিদান প্রত্যাশা করে, সে মূলতঃ উক্ত আমল দ্বারা তার নিয়ত ও সংকল্প নিয়্যত খালেছ ভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি উদ্দেশ্যে করা। এটাই হলো সত্যপন্থা তথা ইব্রাহীমের মিলাত, যা অনুসরণ করার জন্য আল্লাহ তাঁর সকল বান্দাদের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এতদ্ব্যতীত তিনি কারো কাছ থেকে অন্য কিছু কবুল করবেন না। আর এ সত্য পন্থাই হলো ইসলামের হাকীকত।

ﻭَﻣَﻦْ ﻳَﺒْﺘَﻎِ ﻏَﻴْﺮَ ﺍﻟْﺈِﺳْﻠَﺎﻡِ ﺩِﻳﻨًﺎ ﻓَﻠَﻦْ ﻳُﻘْﺒَﻞَ ﻣِﻨْﻪُ ﻭَﻫُﻮَ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺂَﺧِﺮَﺓِ ﻣِﻦَ
ﺍﻟْﺨَﺎﺳِﺮِﻳﻦَ ﴿85 ﴾
‘কেহ ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন গ্রহণ করতে
চাইলে তা কখনও কবুল করা হবেনা এবং সে
হবে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত। ’ উপরের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট বাবে বুঝা যাচ্ছে যে, শিরকে আকবার ও শিরকে আসগারের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে।

#সেগুলো হল:
১. কোন ব্যক্তি শিরকে আকবারে লিপ্ত হলে সে মুসলিম মিলাত থেকে বের হয়ে যায়। পক্ষান্তরে শিরকে আসগারের ফলে সে মুসলিম মিলাত থেকে বের হয় না।

২. শিরকে আকবরে লিপ্ত ব্যক্তি চিরকাল জাহান্নামে অবস্থান করবে। পক্ষান্তরে শিরকে আসগারে লিপ্ত ব্যক্তি জাহান্নামে গেলে চিরকাল সেখানে অবস্থান করবেনা।

৩. শিরকে আকবার বান্দার সমস্ত আমল নষ্ট
করে দেয়, কিন্তু শিরকে আসগার সব আমল নষ্ট
করেনা। বরং রিয়া ও দুনিয়া অর্জনের উদ্দেশ্যে কৃত আমল শুধু তৎসংশিষ্ট আমলকেই নষ্ট করে।

৪. শিরকে আকবারে লিপ্ত ব্যক্তির জান-মাল মুসলমানদের জন্য হালাল। পক্ষান্তরে শিরকে আসগারে লিপ্ত ব্যক্তির জান-মাল কারো জন্য
হালাল নয়।
লেখক : সালেহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান
অনুবাদ : মানজুরে ইলাহী
শিরকের সংজ্ঞা: রব ও ইলাহ হিসাবে

প্রশ্ন: ভালবাসা দিবসের বিধান কি?

💥 উত্তর এক:
❌❌ বিশ্ব ভালবাসা দিবস পালন একটি রোমান জাহেলি উৎসব। রোমানরা খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করার পরেও এ দিবস পালনের প্রথা অব্যাহত রাখে। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২৭০ খ্রিস্টাব্দে ভ্যালেন্টাইন নামক একজন পাদ্রির মৃত্যুদণ্ডের সাথে এ উৎসবটি সম্পৃক্ত। বিধর্মীরা এখনো এ দিবসটি পালন করে, ব্যভিচার ও অনাচারের মধ্যে তারা এ দিবসটি কাটিয়ে থাকে।

💥 দুই:
🔖 কোন মুসলমানের জন্য কাফেরদের কোন উৎসব পালন করা জায়েয নয়। কেননা উৎসব (ঈদ) ধর্মীয় বিষয়। এ ক্ষেত্রে শরয়ি নির্দেশনার এক চুল বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। 👉🏼শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: উৎসব (ঈদ) ধর্মীয় অনুশাসন, ইসলামী আদর্শ ও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। যে ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “তোমাদের প্রত্যেককে আমি আলাদা শরিয়ত ও মিনহাজ (আদর্শ) দিয়েছি”। তিনি আরও বলেন: “প্রত্যেক উম্মতের জন্য রয়েছে আলাদা শরিয়ত দিয়েছি; যা তারা পালন করে থাকে” যেমন- কিবলা, নামায, রোজা। অতএব, তাদের উৎসব পালন ও তাদের অন্যসব আদর্শ গ্রহণ করার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। কারণ তাদের সকল উৎসবকে গ্রহণ করা কুফরকে গ্রহণ করার নামান্তর। তাদের কিছু কিছু জিনিস গ্রহণ করা কিছু কিছু কুফরকে গ্রহণ করার নামান্তর। বরং উৎসবগুলো প্রত্যেক ধর্মের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এবং ধর্মীয় আলামতগুলোর মধ্যে অন্যতম। অতএব, এটি গ্রহণ করা মানে কুফরের সবিশেষ অনুশাসন ও সবচেয়ে প্রকাশ্য আলামতের ক্ষেত্রে তাদের অনুসরণ করা। কোন সন্দেহ নেই যে, এ ক্ষেত্রে তাদের অনুকরণ করা মানে কুফরের অনুকরণ করা।

এর সর্বনিম্ন অবস্থা হচ্ছে- গুনাহ। ✨ নবী (ﷺ) এ দিকে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন: “নিশ্চয় প্রত্যেক কওমের উৎসব রয়েছে। এটা হচ্ছে আমাদের ঈদ বা উৎসব”📓(সহীহ বুখারী ৯৫২, আ. প্র. ৮৯৮, ই. ফা. ৯০৪, 📓মুসলিম ৮৯২, 📓আল-লুলু ওয়াল মারজান ৫১২)। এটি যুনার (জিম্মিদের বিশেষ পোশাক) বা এ বিজাতিদের বিশেষ কোন আলামত গ্রহণ করার চেয়ে অধিক নিকৃষ্ট। কেননা এ ধরনের আলামত কোন ধর্মীয় বিষয় নয়; বরং এ পোশাকের উদ্দেশ্য হচ্ছে- মুমিন ও কাফেরের আলাদা পরিচয় ফুটিয়ে তোলা। পক্ষান্তরে তাদের উৎসব ও উৎসব সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো একান্ত ধর্মীয়; যে ধর্মকে ও ধর্মাবলম্বীকে লানত করা হয়েছে। সুতরাং এ ধরনের ক্ষেত্রে তাদের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ করা আল্লাহর আযাব ও গজব নাযিলের কারণ হতে পারে।
📓(ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম ১/২০৭)

তিনি আরও বলেন: “কোন মুসলমানের জন্য তাদের উৎসবের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন কিছুর ক্ষেত্রে সাদৃশ্য গ্রহণ করা জায়েয নয়। যেমন, খাবার দাবার, পোশাকাদি, গোসল, আগুন জ্বালানো অথবা এ উৎসবের কারণে কোন অভ্যাস বা ইবাদত বর্জন করা ইত্যাদি। এবং কোন ভোজানুষ্ঠান করা, উপহার দেওয়া, অথবা এ উৎসব বাস্তবায়নে সহায়ক এমন কিছু বেচাবিক্রি করা জায়েয নয়। অনুরূপভাবে তাদের উৎসবে শিশুদেরকে খেলতে যেতে দেওয়া এবং সাজসজ্জা প্রকাশ করা জায়েয নয়।

💥 মোদ্দাকথা, বিধর্মীদের উৎসবের নিদর্শন এমন কিছুতে অংশ নেয়া মুসলমানদের জন্য জায়েয নয়। বরং তাদের উৎসবের দিন মুসলমানদের নিকট অন্য সাধারণ দিনের মতই। মুসলমানেরা এ দিনটিকে কোনভাবে বিশেষত্ব দিবে না।📓(মাজমুউল ফাতাওয়া ২৯/১৯৩)

👉🏼 হাফেজ যাহাবী বলেন: খ্রিস্টানদের উৎসব বা ইহুদিদের উৎসব যেটা তাদের সাথে খাস এমন কোন উৎসবে কোন মুসলমান অংশ গ্রহণ করবে না। যেমনিভাবে কোন মুসলমান তাদের ধর্মীয় অনুশাসনগুলো ও কিবলাকে গ্রহণ করে না। 📓(তাশাব্বুহুল খাসিস বি আহলিল খামিস, মাজাল্লাতুল হিকমা ৪/১৯৩)

👉🏼শাইখুল ইসলাম যে হাদিসটির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন সে হাদিসটি সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেন: একবার আবু বকর (রাঃ) আমার ঘরে এলেন। তখন আমার কাছে আনসারদের দুইটি বালিকা ছিল। বুআসের দিন আনসারগণ যে পংক্তিমালা বলেছিল তারা সেগুলো দিয়ে গান গাইছিল। আয়েশা (রাঃ) বলেন: মেয়ে দুইটি গায়িকা ছিল না। তা দেখে আবু বকর (রাঃ) বললেন: ✨রাসূল (ﷺ) এর ঘরে শয়তানের বীনা! সেদিন ছিল ঈদের দিন। তাঁর কথা শুনে ✨রাসূল (ﷺ) বললেন: হে আবু বকর, প্রত্যেক জাতির উৎসব থাকে। এটা আমাদের উৎসবের দিন। 📓(সহীহ বুখারী ৯৫২, আ. প্র. ৮৯৮, ই. ফা. ৯০৪, 📓মুসলিম ৮৯২, 📓আল-লুলু ওয়াল মারজান ৫১২)

💥 আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেন: ✨রাসূল (ﷺ) যখন মদিনায় আগমন করলেন তখন মদিনাবাসী বিশেষ দুইটি দিনে খেলাধুলা করত। তখন ✨নবী (ﷺ) বললেন: এ দুইটি দিনের হাকিকত কি? তারা বলল: জাহেলী যুগে আমরা এ দুইটি দিনে খেলাধুলা করতাম। তখন ✨রাসূল (ﷺ) বললেন: “নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে এ দুইটি দিনের চেয়ে উত্তম দুইটি দিন দিয়েছেন। ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর।📓(সুনান আবূ দাউদ ১১৩৪) আলবানী হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন। এটি প্রমাণ করে ঈদ বা উৎসব প্রত্যেক জাতির একটা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। সুতরাং কোন জাহেলি উৎসব বা মুশরিকদের উৎসব পালন করা জায়েয নয়।