*নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি ‘সালাত ও সালাম’ এর অর্থ কি এবং সবচেয়ে উত্তম ও সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত দরুদ কোনটি?*
▬▬▬▬▬▬▬▬
প্রশ্ন: ক. সূরা আহযাব এর ৫৬ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন: “আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি সালাত প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরা তাঁর প্রতি সালাত ও সালাম পেশ করো।” এ কথাটার অর্থ কি?
খ. সব চেয়ে ছোটো দরুদ কোনটি যা সব সময় পড়া আমাদের জন্য সহজ হবে?

উত্তর :
✅ *সালাত ও সালামের অর্থ:*
আল্লাহ বলেন,
إِنَّ اللَّـهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
“নিশ্চয় আল্লাহ ও ফিরিশতাগণ নবীর প্রতি সলাত পেশ করে। হে ঈমানদারগণ, তোমরা তার প্রতি সালাত ও সালাম পেশ করো।” (সূরা আহযাব: ৫৬)

শাব্দিক দৃষ্টিকোন থেকে সালাত অর্থ রহমত আর সালাম অর্থ শান্তি ও নিরাপত্তা।

❇ নবীর প্রতি সালাম এর অর্থ তাঁর জীবদ্বশায় তার শারীরিকভাবে সুস্থতা, দ্বীনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, কবরে শান্তি এবং আখিরাতে মুক্তির জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করা।

❇ আর তার প্রতি সালাতের অর্থের ব্যাপারে দুটি মত পাওয়া যায়। যথা:
*১) একদল আলিমের মতে:*
🔶 আল্লাহর পক্ষ থেকে নবীর প্রতি সালাত পেশ করার অর্থ হল, তার প্রতি রহমত বর্ষণ করা
🔶 ফেরেশতামণ্ডলীর পক্ষ থেকে এর অর্থ: আল্লাহর নিকট ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করা।
🔶 আর মানবমণ্ডলীর পক্ষ থেকে এর অর্থ হল, (রহমত বর্ষণ ও ক্ষমার জন্য) আল্লাহর নিকট দুয়া করা।

*তবে অন্য আলেমগণ এর ভিন্ন একটি অর্থ বলেছেন। তা হল,*

🔶 আল্লাহর পক্ষ থেকে নবীর প্রতি সালাত অর্থ, নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের উচ্চ পরিষদে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রশংসা করা
🔶 আর ফেরেশতা ও সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে এর অর্থ হল, দুয়া করা। অর্থাৎ এই দুয়া করা যে, আল্লাহ তাআলা যেন নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের দ্বারা গঠিত উচ্চ পরিষদে তাঁর নবীর প্রশংসা করেন। (এই মত ব্যক্ত করেছেন পূর্ববর্তীদের থেকে আবুল আলিয়া আর পরবর্তীদের থেকে ইবনুল কায়্যেম, আল্লামা উসাইমীন প্রমুখ)

✅ *সবচেয়ে উত্তম দরুদ:*

সবচেয়ে উত্তম দরুদ হল দরুদে ইবরাহীম। যেমন, ইমাম বুখারী রহ. কা’ব ইবনে উযরাহ রা. থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসুল, আমরা তো আপনাকে সালাম করতে জানি কিন্তু আপনার উপর সালাত বা দুরুদ পাঠাব কিভাবে? তখন তিনি সাহাবীদের সালাত বা দরুদ শিক্ষা দিলেন এভাবে:*
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، فِي الْعَالَمِينَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়া’আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া’আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।
আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া’আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া’আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ”। (বুখারী, মিশকাত পৃঃ ৮৬, হা/৯১৯)

অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ ও তার বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেভাবে আপনি ইবরাহীম ও তাঁর বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করেছিলেন। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত সম্মানিত।
হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ ও তার বংশধরদের উপর বরকত নাজিল করুন, যেভাবে ইবরাহীম ও তাঁর বংশধরদের উপর বরকত নাজিল করেছিলেন। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত সম্মানিত।””

✅ *সংক্ষিপ্ত দরুদ:*

(আমার জানা মতে) একসাথে একই বাক্যের মধ্যে সালাত ও সালাম উভয়টি উল্লেখিত হয়েছে এমন কোন হাদীস বর্ণিত হয় নি। কিন্তু পূর্বসূরীগণ একসাথে বিভিন্ন বাক্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি সালাত ও সালাম পেশ করেছেন। যেমন, তারা এভাবে বলেছেন: “সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” অথবা “আসসালাতু আস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ” ইত্যাদি। সুতরাং একসাথে আমরাও এভাবে বলতে পারি। ইনশাআল্লাহ এতে কোন সমস্যা নেই।
▬▬▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
https://www.facebook.com/AbdullaahilHadi
(লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সউদী আরব)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।

গ্রন্থঃ ছালাতুর রাসূল (ছাঃ)

ছালাতুল ইস্তেখা-রাহ (صلوة الإسةخارة)

আল্লাহর নিকট থেকে কল্যাণ ইঙ্গিত প্রার্থনার জন্য যে নফল ছালাত আদায় করা হয়, তাকে ‘ছালাতুল ইস্তেখা-রাহ’ বলা হয়। কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় কোন্ শুভ কাজটি করা মঙ্গলজনক হবে, সে বিষয়ে আল্লাহর নিকট থেকে ইঙ্গিত পাওয়ার জন্য বিশেষভাবে এই ছালাত আদায় করা হয়। কোন দিকে ঝোঁক না রেখে সম্পূর্ণ নিরাবেগ ও খোলা মনে ইস্তেখারার ছালাত আদায় করবে। অতঃপর যেদিকে মন টানবে, সেভাবেই কাজ করবে। এ জন্য ফরয ছালাত ব্যতীত ইস্তেখারার নিয়ত সহ দু’রাক‘আত নফল ছালাত দিনে বা রাতে যেকোন সময়ে পড়া যায়।

ইস্তেখারার দো‘আ এক রাক‘আত বিশিষ্ট বিতর ছালাতে পড়া উচিৎ নয়। বরং এক-এর অধিক রাক‘আত বিশিষ্ট বিতরে বা যে কোন সুন্নাত-নফলে পড়া যায়। [1]

জাবের (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাদেরকে সকল কাজে ‘ইস্তেখা-রাহ’ শিক্ষা দিতেন, যেভাবে তিনি আমাদেরকে কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। তিনি বলেছেন, তোমদের কেউ যখন কোন কাজের সংকল্প করবে, তখন ফরয ব্যতীত দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করবে। অতঃপর বলবে।-

اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَسْتَخِيْرُكَ بِعِلْمِكَ، وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيْمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلاَ أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ وَلاَ أَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلاَّمُ الْغُيُوْبِ، اَللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ خَيْرٌ لِّيْ فِيْ دِيْنِيْ وَمَعَاشِيْ وَعَاقِبَةِ أَمْرِيْ فَاقْدِرْهُ لِيْ وَيَسِّرْهُ لِيْ ثُمَّ بَارِكْ لِيْ فِيْهِ، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ شَرٌّ لِّيْ فِيْ دِيْنِيْ وَمَعَاشِيْ وَعَاقِبَةِ أَمْرِيْ فَاصْرِفْهُ عَنِّيْ وَاصْرِفْنِيْ عَنْهُ وَاقْدِرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِيْ بِهِ، قَالَ: (وَيُسَمِّي حَاجَتَهُ)- رواه البخارىُّ-

উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্তাখীরুকা বি‘ইলমিকা ওয়া আস্তাক্বদিরুকা বি ক্বুদরাতিকা, ওয়া আসআলুকা মিন ফাযলিকাল ‘আযীম। ফাইন্নাকা তাক্বদিরু ওয়া লা আক্বদিরু, ওয়া তা‘লামু ওয়া লা আ‘লামু, ওয়া আনতা ‘আল্লা-মুল গুয়ূব। আল্লা-হুম্মা ইন কুনতা তা‘লামু আন্না হা-যাল আমরা খায়রুল লী ফী দ্বীনী ওয়া মা‘আ-শী ওয়া ‘আ-ক্বিবাতি আমরী, ফাক্বদিরহু লী ওয়া ইয়াসসিরহু লী; ছুম্মা বা-রিক লী ফীহি। ওয়া ইন কুনতা তা‘লামু আন্না হা-যাল আমরা শার্রুল লী ফী দ্বীনী ওয়া মা‘আ-শী ওয়া ‘আ-ক্বিবাতি আমরী, ফাছরিফহু ‘আন্নী ওয়াছরিফনী ‘আনহু, ওয়াক্বদির লিয়াল খায়রা হায়ছু কা-না, ছুম্মা আরযিনী বিহী।

অনুবাদ : হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট তোমার জ্ঞানের সাহায্যে কল্যাণের বিষয়টি প্রার্থনা করছি এবং তোমার শক্তির মাধ্যমে (সেটা অর্জন করার) শক্তি প্রার্থনা করছি। আমি তোমার মহান অনুগ্রহ ভিক্ষা চাইছি। কেননা তুমিই ক্ষমতা রাখ। আমি ক্ষমতা রাখি না। তুমিই জানো, আমি জানি না। তুমিই যে অদৃশ্য বিষয় সমূহের মহাজ্ঞানী।

হে আল্লাহ! যদি তুমি জানো যে, এ কাজটি আমার জন্য উত্তম হবে আমার দ্বীনের জন্য, আমার জীবিকার জন্য ও আমার পরিণাম ফলের জন্য, তাহ’লে ওটা আমার জন্য নির্ধারিত করে দাও এবং সহজ করে দাও। অতঃপর ওতে আমার জন্য বরকত দান কর।

আর যদি তুমি জানো যে, এ কাজটি আমার জন্য মন্দ হবে আমার দ্বীনের জন্য, আমার জীবিকার জন্য ও আমার পরিণাম ফলের জন্য, তাহ’লে এটা আমার থেকে ফিরিয়ে নাও এবং আমাকেও ওটা থেকে ফিরিয়ে রাখ। অতঃপর আমার জন্য মঙ্গল নির্ধারণ কর, যেখানে তা আছে এবং আমাকে তা দ্বারা সন্তুষ্ট কর’।

এখানে হা-যাল আমরা (এই কাজ) বলার সময় কাজের নাম উল্লেখ করা যায় বলে রাবী বর্ণনা করেন। যা উপরোক্ত হাদীছের শেষে বর্ণিত হয়েছে। [2]

দো‘আর সময়কাল :

এখানে দো‘আটি কখন পড়বে, সে বিষয়ে দু’টি বিষয় প্রতিভাত হয়। ১. জাবের (রাঃ) বর্ণিত বুখারীর হাদীছে এসেছে ثُمَّ لْيَقُلْ ‘অতঃপর সে যেন বলে’। এতে বুঝা যায় যে, সালাম ফিরানোর পরে দো‘আ করবে। ২. একই রাবী বর্ণিত আবুদাঊদের হাদীছে এসেছে وَلْيَقُلْ ‘এবং সে যেন বলে’। এতে বুঝা যায় যে, ছালাতের মধ্যে দো‘আ করবে। [3] অন্যান্য ছহীহ হাদীছে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ছালাতের মধ্যেই বিশেষ করে সিজদায় এবং শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ ও সালামের মধ্যবর্তী সময়ে বিশেষ দো‘আ সমূহ করতেন।[4] সে হিসাবে ইস্তেখারাহর দো‘আটিও শেষ বৈঠকে বসে ধীরে-সুস্থে করা বাঞ্ছনীয়। আর যদি সালাম ফিরানোর পরে উক্ত দো‘আ করেন, তাহ’লে বেশী দেরী না করে এবং অহেতুক কোন কথা না বলে সত্বর দু’হাত উঠিয়ে দো‘আ করবেন এবং শুরুতে হাম্দ ও দরূদ পাঠ করবেন। যেমন আল-হামদুলিল্লাহি রবিবল ‘আ-লামীন, ওয়াছছালাতু ওয়াসসালামু ‘আলা রাসূলিল্লাহিল কারীম, অতঃপর দো‘আ পাঠ করবেন। [5]

ছাহেবে মির‘আত বলেন, ইস্তেখারাহর পরে যেটা প্রকাশিত হয় বা ঘটে যায়, সেটাই করা উচিৎ। এজন্য তাকে ঘুমিয়ে যাওয়া এবং স্বপ্ন দেখা বা কাশ্ফ হওয়া অর্থাৎ হৃদয় খুলে যাওয়া শর্ত নয়।[6]

একটি বিষয়ের জন্য একবার ব্যতীত একাধিকবার ‘ছালাতুল ইস্তেখা-রাহ’ আদায়ের কথা স্পষ্টভাবে কোন ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত নয়। তবে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কখনো দো‘আ করলে একই সময়ে তিনবার করে দো‘আ করতেন এবং কিছু চাইলে তিনবার করে চাইতেন।[7]

এই ছহীহ হাদীছের উপরে ভিত্তি করে ইস্তেখারাহর দো‘আ পাঠের উদ্দেশ্যে অত্র ছালাত ইস্তিসক্বার ছালাতের ন্যায় একাধিকবার পড়া যায় বলে ইমাম শাওকানী মন্তব্য করেছেন। ইমাম নববী বলেন, উক্ত দো‘আ পাঠের সময় হৃদয়কে যাবতীয় ঝোঁক প্রবণতা হ’তে খালি করে নিতে হবে এবং সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর উপরে তাওয়াক্কুল করতে হবে। নইলে ঐ ব্যক্তি আল্লাহর নিকটে কল্যাণপ্রার্থী না হয়ে বরং নিজের প্রবৃত্তির পূজারী হিসাবে গণ্য হবে। [8]

[1] . নায়লুল আওত্বার ৩/৩৫৪, ‘ইস্তেখা-রাহ্’র ছালাত’ অনুচ্ছেদ। [2] . অথবা বলবে, (فِىْ عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ অর্থাৎ আমার ইহকাল ও পরকালের জন্য)। বুখারী, মিশকাত হা/১৩২৩ ‘ঐচ্ছিক ছালাত’ অনুচ্ছেদ-৩৯; আবুদাঊদ হা/১৫৩৮; মির‘আত ৪/৩৬২। [3] . বুখারী হা/১১৬২, আবুদাঊদ হা/১৫৩৮; মির‘আত ৪/৩৬২। [4] . মুসলিম, মিশকাত হা/৮৯৪, ৮১৩। [5] . আবুদাঊদ হা/১৪৮১, ৮৮-৯০; নায়ল ৩/৩৫৪-৫৫; ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/১৫৮; মির‘আত ৪/৩৬২, ৬৪। [6] . মির‘আত ৪/৩৬৫। [7] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৫৮৪৭, ‘ফাযায়েল ও শামায়েল’ অধ্যায়-২৯, অনুচ্ছেদ-৪। [8] . নায়লুল আওত্বার ৩/৩৫৬, ‘ইস্তেখা-রাহর ছালাত’ অনুচ্ছেদ।

“কুরআনকে আমি সহজ করে দিয়েছি” – একথার অর্থ কী?

‘কুরআন সহজ’-এর অর্থ কী? কুরআন শরীফের একটি আয়াতের অর্থ বোঝার ক্ষেত্রে কারো কারো ভুল হয়। এখানে তা দূর করা জরুরি। কুরআন বলে, ولقد يسرنا القرآن للذكر فهل من مدكر ‘আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি।’সূরা আল ক্বামার, আয়াত নং ১৭। অতএব কেউ আছে কি যে উপদেশ গ্রহণ করবে? কেউ কেউ বলে, আমরা কুরআন থেকেই কুরআনের অনুবাদ নিজে বুঝব এবং এর উপর আমল করব। যারা এমন কথা বলে, তারা এ আয়াতের মর্মই বুঝেনি। খুব ভাল করে মনে রাখতে হবে যে, কুরআনের বিষয়বস্ত্তসমূহ দুই প্রকার : প্রথম প্রকার : কিছু আয়াত এমন রয়েছে যেগুলোতে আল্লাহপাক মানুষকে উপদেশ দিয়েছেন যে, আল্লাহ এক, আখিরাত সম্পর্কে বলেছেন যে, একদিন তোমাদের সকলকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। এ উপদেশ একজন সাধারণ মানুষ শুধু অনুবাদ পড়ে গ্রহণ করতে পারবে। এ কারণেই তো কুরআন স্পষ্ট বলেছে, উপদেশ গ্রহণের ক্ষেত্রে সহজ। দ্বিতীয় প্রকার : দ্বিতীয় প্রকারের বিষয়বস্ত্ত, যেগুলোতে আল্লাহ পাক আহকাম ও আমছাল বা উপমা পেশ করেছেন। এসব হুকুমের ব্যাপারে আল্লাহ নিজে বলেন- وتلك الامثال نضربها للناس وما يعقلها الا العالمون ‘আমি এসব উপমা মানুষের উপকারার্থে প্রদান করে থাকি তবে তা কেবল ইলমওয়ালারাই বুঝবে।’সূরা আনকাবুত, আয়াত নং ৪৩। আর ইলম তা-ই যা সাহাবায়ে কেরাম অর্জন করেছিলেন। যদি চৌদ্দশ বছর পর এখন কেউ বলে, আমি নিজে গবেষণা করে কুরআনের ব্যাখ্যা বলব, এ পর্যন্ত যা তাফসীর করা হয়েছে তা আমার বুঝে আসছে না, এগুলো আমি মানি না, বরং আমি আমার বুদ্ধি দিয়েই বুঝব, তাহলে ওই ব্যক্তি পদে পদে ভুল করবে।
-আল্লামা মুফতী তাকী উসমানী, মাসিক আল কাউসার, অক্টোবর-২০১২

##তাফসীরে মা’আরেফুল কুরআনে রয়েছে,
وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ আয়াতে ذكر এর অর্থ দ্বিবিধঃ এক. মুখস্ত করা এবং দুই উপদেশ ও শিক্ষা অর্জন করা। এখানে উভয় অর্থ বোঝানো যেতে পারে।আল্লাহ তাআলা কুরআনকে মুখস্থ করার জন্য সহজ করে দিয়েছেন। ইতোপূর্বে অন্য কোন ঐশী গ্রন্থ এরূপ ছিল না। তাওরাত, ইঞ্জীল ও যাবুর মানুষের মুখস্থ ছিল না। আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সহজীকরণের ফলশ্রুতিতেই কচি কচি বালক-বালিকারাও সমগ্র কুরআন মুখস্থ করে ফেলতে সক্ষম হয় এবং তাতে একটি যের, যবরের পার্থক্য হয় না। চৌদ্দশ বছর ধরে প্রতি স্তরে প্রতি ভূখণ্ডে হাজারো লাখো হাফেজের বুকে আল্লাহর কিতাব কুরআন সংরক্ষিত আছে এবং কিয়ামত পরযন্ত থাকবে।

এছাড়া কুরআন পাক তার উপদেশ ও শিক্ষার বিষয়বস্তুকে খুবই করে বর্ণনা করেছে। ফলে বড় বড় আলেম, বিশেষজ্ঞ ও দার্শনিক যেমন এর দ্বারা উপকৃত হয়, তেমনি গণ্ডমূর্খ ব্যক্তিরাও এর শিক্ষা ও উপদেশমূলক বিষয়বস্তু দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়।
ইজতিহাদ তথা বিধানাবলী চয়ন করার জন্য কুরআনকে সহজ করা হয়নিঃ আলোচ্য আয়াতে يَسَّرْنَا এর সাথে لِلذِّكْرِ সংযুক্ত করে আরো বলা হয়েছে যে, মুখস্থ করা ও উপদেশ গ্রহণ করার সীমা পরযন্ত কুরআনকে সহজ করা হয়েছে। ফলে প্রত্যেক আলেম ও জাহেল, ছোট ও বড়—সমভাবে এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে। এতে জরুরী হয় না যে, কুরআন পাক থেকে বিধানাবলী চয়ন করাও তেমনি সহজ হবে। বলা বাহুল্য, এটা একটা স্বতন্ত্র ও কঠিন শাস্ত্র। যেসব প্রগাঢ় জ্ঞানী আলেম এই শাস্ত্রের গভেষণায় জীবনপাত করেন, কেবল তারাই এই শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করতে পারেন। এটা প্রত্যেকের বিচরণক্ষেত্র নয়।

কোন কোন মুসলমান উপরোক্ত আয়াতকে সম্বল করে কুরআনের মূলনীতি ও ধারাসমূহ পূর্ণরূপে আয়ত্ব না করেই মুজতাহিদ হতে চায় এবং বিধানাবলী চয়ন করতে চায়। উপরোক্ত বক্তব্য দ্বারা তাদের ভ্রান্তি ফুটে উঠেছে। বলা বাহুল্য, এটা পরিষ্কার পথভ্রষ্টতা।
-তাফসীরে মা’আরেফুল কুরআন, অষ্টম খণ্ড। ই.ফা., পৃ. ২২৫-২২৬
উক্ত আয়াতের উপরোক্ত তাফসীর এর সমর্থনে নিন্মের তাফসীরগুলো দেখুনঃ
০১. ছফওয়াতুত তাফাসীরে রয়েছে,
{وَلَقَدْ يَسَّرْنَا القرآن لِلذِّكْرِ} أي والله لقد سهلنا القرآن للحفظ والتدبر والاتعاظ، لما اشتمل عليه من أنواع المواعظ والعبر {فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ} أي فهل من متعظٍ بمواعظه، معتبرٍ بقصصه وزواجره؟ مقال الخازن: وفيه الحث على تعليم القرآن والاشتغال به، لأنه قد يسره الله وسهله على من يشاء من عباده، بحيث يسهل حفظه للصغير والكبير، والعربي والعجمي قال سعيد بن جبير: يرسناه للحفظ والقراءة، وليس شيء من كُتب الله تعالى يُقرأ كلُّه ظاهراً إلا القرآن، وبالجملة فقد جعل الله القرآن مهيئاً ومسهلاً لمن أراد حفظه وفهمه أو الاتعاظ به، فهو رأس سعادة الدنيا والآخرة
০২. আওদাহুত তাফাসীরে রয়েছে,
{وَلَقَدْ يَسَّرْنَا} سهلنا {الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ} للاتعاظ به، والتذكر بما فيه

০৩. তাফসীরে মাজহারীতে রয়েছে,
وَلَقَدْ يَسَّرْنَا اى سهلنا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ اى للاذكار والاتعاظ بان ذكرنا فيه انواع المواعظ والعبر والوعيد واحوال الأمم السابقة للاعتبار والمعنى يسرنا القران للحفظ بالاختصار وعذوبة اللفظ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ

০৪. তাফসীরে জালালাইনে রয়েছে,
{وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآن لِلذِّكْرِ} سَهَّلْنَاهُ لِلْحِفْظِ وَهَيَّأْنَاهُ لِلتَّذَكُّرِ {فَهَلْ مِنْ مُدَّكِر} مُتَّعِظ بِهِ وَحَافِظ لَهُ وَالِاسْتِفْهَام بِمَعْنَى الْأَمْر أَيْ احْفَظُوهُ وَاتَّعِظُوا بِهِ
০৫. তাফসীরে ইবনে কাসীরে রয়েছে,
{وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ} أَيْ: سَهَّلْنَا لَفْظَهُ، وَيَسَّرْنَا مَعْنَاهُ لِمَنْ أَرَادَهُ، لِيَتَذَكَّرَ النَّاسُ. كَمَا قَالَ: {كِتَابٌ أَنزلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ (2) أُولُو الألْبَابِ} [ص: 29] ، وَقَالَ تَعَالَى: {فَإِنَّمَا يَسَّرْنَاهُ بِلِسَانِكَ لِتُبَشِّرَ بِهِ الْمُتَّقِينَ وَتُنْذِرَ بِهِ قَوْمًا لُدًّا} [مَرْيَمَ: 97] .
قَالَ مُجَاهِدٌ: {وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ} يَعْنِي: هَوّنّا قِرَاءَتَهُ.
وَقَالَ السُّدِّيُّ: يَسَّرْنَا تِلَاوَتَهُ عَلَى الْأَلْسُنِ.

০৬. তাফসীরে খাজেনে রয়েছে,
وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ يعني سهلنا القرآن لِلذِّكْرِ يعني ليتذكر ويعتبر به قال سعيد بن جبير يسرناه للحفظ والقراءة وليس شيء من كتب الله تعالى يقرأ كله ظاهرا إلا القرآن فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ يعني متعظ بمواعظه وفيه الحث على تعليم القرآن والاشتغال به لأنه قد يسره الله وسهله على من يشاء من عباده بحيث يسهل حفظه للصغير والكبير والعربي والعجمي وغيرهم.

০৭. তাফসীরে বায়জাবীতে রয়েছে,
وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ سهلناه أو هيأناه من يسر ناقته للسفر إذا رحلها. لِلذِّكْرِ للادكار والاتعاظ بأن صرفنا فيه أنواع المواعظ والعبر، أو للحفظ بالاختصار وعذوبة اللفظ. فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ متعظ.

০৮. তাফসীরে কাশশাফে রয়েছে,
وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ أى سهلناه للادكار والاتعاظ، بأن شحناه بالمواعظ الشافية وصرفنا فيه من الوعد والوعيد فَهَلْ مِنْ متعظ. وقيل: ولقد سهلناه للحفظ وأعنا عليه من أراد حفظه، فهل من طالب لحفظه ليعان عليه.
০৯. তাফসীরে বাগাভীতে রয়েছে,
{وَلَقَدْ يَسَّرْنَا} سَهَّلْنَا {الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ} لِيُتَذَكَّرَ وَيُعْتَبَرَ بِهِ، وَقَالَ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ: يَسَّرْنَاهُ لِلْحِفْظِ وَالْقِرَاءَةِ، وَلَيْسَ شَيْءٌ مِنْ كُتُبِ اللَّهِ يُقْرَأُ كُلُّهُ ظَاهِرًا إِلَّا الْقُرْآنَ “فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ”، مُتَّعِظٍ بِمَوَاعِظِهِ.

১০. তাফসীরে তাবারীতে রয়েছে,
وقوله (وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ) يقول تعالى ذكره: ولقد سهَّلنا القرآن، بيَّناه وفصلناه للذكر، لمن أراد أن يتذكر ويعتبر ويتعظ، وهوّناه.
كما حدثنا محمد بن عمرو، قال: ثنا أبو عاصم، قال: ثنا عيسى، وحدثني الحارث، قال: ثنا الحسن، قال: ثنا ورقاء جميعا، عن ابن أبي نجيح، عن مجاهد، قوله (يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ) قال: هوّناه.
حدثني يونس، قال: أخبرنا ابن وهب، قال: قال ابن زيد، في قوله (وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ) قال: يسَّرنا: بيَّنا.
وقوله (فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ) يقول: فهل من معتبر متعظ يتذكر فيعتبر بما فيه من العبر والذكر.
وقد قال بعضهم في تأويل ذلك: هل من طالب علم أو خير فيُعان عليه، وذلك قريب المعنى مما قلناه، ولكنا اخترنا العبارة التي عبرناها في تأويله، لأن ذلك هو الأغلب من معانيه على طاهره.
* ذكر من قال ذلك:
حدثنا بشر، قال: ثنا يزيد، قال: ثنا سعيد، عن قتادة (وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ) يقول: فهل من طالب خير يُعان عليه.
حدثنا الحسين بن عليّ الصُّدائيّ، قال: ثنا يعقوب، قال: ثني الحارث بن عبيد الإياديّ قال: سمعت قتادة يقول في قول الله (فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ) قال: هل من طالب خير يُعان عليه.
(সংগৃহিত)

স্বপ্ন কি আর করণীয়ই বা কী(২য় পর্ব)

ভাল স্বপ্ন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে
হাদীসে এসেছে
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻗﺘﺎﺩﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ” ﺍﻟﺮﺅﻳﺎ ﺍﻟﺼﺎﻟﺤﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ، ﻭﺍﻟﺤﻠﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ، ﻓﺈﺫﺍ ﺭﺃﻯ ﺃﺣﺪﻛﻢ ﻣﺎ ﻳﺤﺐ ﻓﻼ ﻳﺤﺪﺙ ﺑﻪ ﺇﻻ ﻣﻦ ﻳﺤﺐ . ﻭﺇﺫﺍ ﺭﺃﻯ ﻣﺎ ﻳﻜﺮﻩ ﻓﻠﻴﺘﻌﻮﺫ ﺑﺎﻟﻠﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ، ﻭﻟﻴﻨﻔﺚ ﻋﻦ ﺷﻤﺎﻟﻪ ﺛﻼﺛﺎً، ﻭﻻ ﻳﺤﺪﺙ ﺑﻬﺎ ﺃﺣﺪﺍً ﻓﺈﻧﻬﺎ ﻟﻦ ﺗﻀﺮﻩ ” ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ .
আবু কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ভাল ও সুন্দর স্বপ্ন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে হয়ে থাকে আর খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে। যদি কেউ ভাল স্বপ্ন দেখে তাহলে তা শুধু তাকেই বলবে যে তাকে ভালোবাসে। অন্য কাউকে বলবে না।
আর যদি স্বপ্নে খারাপ কিছু দেখে তাহলে শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করবে। ( বলবে, আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম) এবং বাম দিকে তিনবার থুথু নিক্ষেপ করবে। আর কারো কাছে স্বপ্নের কথা বলবে না। মনে রাখবে এ স্বপ্ন তার ক্ষতি করতে পারবে না। (বর্ণনায় : বুখারী ও মুসলিম)
এ হাদীস থেকে আমরা জানতে পারলাম :
এক. ভাল স্বপ্ন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে হয়ে থাকে।
দুই. খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে এসে থাকে।
তিন. খারাপ স্বপ্ন দেখলে সাথে সাথে তিনবার বাম দিকে থুথু ফেলে আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম বলতে হবে। তবে সত্যিকার থুথু ফেলবে না। মানে মুখ থেকে পানি নির্গত হবে না। শুধু আওয়ায করবে। কেননা হাদীসে নাফাস শব্দ এসেছে। যার অর্থ এমন হাল্কা থুথু যাতে পানি বা শ্লেষ্মা নেই।
চার. এই আমলটুকু করলে খারাপ স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না।
পাঁচ. খারাপ স্বপ্ন দেখলে কারো কাছে তা বর্ণনা করবে না।
ছয়. ভাল স্বপ্ন দেখলে তার কাছেই বর্ণনা করবে যে তাকে ভালোবাসে। শত্রু ভাবাপন্ন বা হিংসুক ধরনের কারো কাছে ভাল স্বপ্নও বর্ণনা করতে নেই। কারণ, হতে পারে ভাল স্বপ্নটির একটি খারাপ ব্যাখ্যা সে শুনিয়ে দেবে। ফলে অস্থিরতা, দু:চিন্তা ও উদ্বেগ বেড়ে যাবে।
দেখুন ইউসুফ আলাইহিস সালাম স্বপ্ন দেখেছিলেন:
যখন ইউসুফ তার পিতাকে বলল, হে আমার পিতা, আমি দেখেছি এগারটি নক্ষত্র, সূর্য ও চাঁদকে, আমি দেখেছি তাদেরকে আমার প্রতি সিজদাবনত অবস্থায়।’সে বলল, হে আমার পুত্র, তুমি তোমার ভাইদের নিকট তোমার স্বপ্নের বর্ণনা দিও না, তাহলে তারা তোমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করবে। নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য দুশমন।’(সূরা ইউসুফ, আয়াত ৪-৫)
এ আয়াতে আমরা দেখলাম ইউসুফ আলাইহিস সালাম স্বপ্ন দেখে তার পিতাকে বর্ণনা করলেন। আর পিতা আল্লাহ তাআলার নবী ইয়াকুব আলাইহিস সালাম তাকে স্বপ্নের কথা নিজ ভাইদের বলতে নিষেধ করলেন। কারণ, ভাইয়েরা তাকে ভালোবাসত না। বরং হিংসা করত।
কয়েকটি ভাল স্বপ্নের উদাহরণ
আল্লাহ তাআলা বলেন:
যখন আল্লাহ তোমাকে স্বপ্নের মধ্যে তাদেরকে স্বল্প সংখ্যায় দেখিয়েছিলেন। আর তোমাকে যদি তিনি তাদেরকে বেশি সংখ্যায় দেখাতেন, তাহলে অবশ্যই তোমরা সাহসহারা হয়ে পড়তে এবং বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক করতে। কিন্তু আল্লাহ নিরাপত্তা দিয়েছেন। নিশ্চয় অন্তরে যা আছে তিনি সে সব বিষয়ে অবগত।(সূরা আনফাল : ৪৩)
বদর যুদ্ধের প্রাক্কালে আল্লাহ তাআলা তার রাসূলকে বিজয় লাভের সুন্দর স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। তাকে শত্রু বাহিনীর সংখ্যা অনেক কম করে দেখিয়েছেন। বেশি করে দেখালে তিনি হয়ত ভয় পেয়ে যেতেন।
তাই এটি একটি ভাল স্বপ্ন।
এভাবে আল্লাহ তাআলা স্বপ্নের মাধ্যমে তার নবী ও রাসূলদের কাছে ওহী প্রেরণ করতেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন :
অবশ্যই আল্লাহ তাঁর রাসূলকে স্বপ্নটি যথাযথভাবে সত্যে পরিণত করে দিয়েছেন। তোমরা ইনশাআল্লাহ নিরাপদে তোমাদের মাথা মুণ্ডন করে এবং চুল ছেঁটে নির্ভয়ে মসজিদুল হারামে অবশ্যই প্রবেশ করবে। অতঃপর আল্লাহ জেনেছেন যা তোমরা জানতে না। সুতরাং এ ছাড়াও তিনি দিলেন এক নিকটবর্তী বিজয়। (সূরা ফাতাহ : ২৭)
আয়াত থেকে আমরা জানতে পারলাম, আল্লাহ তাআলার তাঁর রাসূলকে মক্কা জয় করার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। আর সে স্বপ্ন আল্লাহ তাআলাই বাস্তবায়ন করেছিলেন।
এমনিভাবে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আল-কোরআনে মিশরের বাদশার স্বপ্ন বর্ণনা করেছেন। সে স্বপ্নের সুন্দর ব্যাখ্যা করেছিলেন, নবী ইউসুফ আলাইহিস সালাম। বিষয়টি আল কোরআনের সূরা ইউসুফের ৪৩ আয়াত থেকে ৫৫ আয়াত পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে এবং সেখানে সেই স্বপ্নের ব্যাখ্যাও দেয়া হয়েছে।
এর আগে সূরার ৩৬ আয়াত থেকে ৪২ আয়াত পর্যন্ত ইউসুফ আলাইহিস সালামের জেল জীবনের দুজন সাথীর স্বপ্ন ও ইউসুফ আলাইহিস সালাম কর্তৃক তার ব্যাখ্যা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা যে জ্ঞান-বিজ্ঞানের একটি বিষয় তা আল-কোরআনে নবী ইউসুফের ভাষায় বলা হয়েছে এভাবে:
হে আমার রব, আপনি আমাকে রাজত্ব দান করেছেন এবং স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিখিয়েছেন। হে আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা! দুনিয়া ও আখিরাতে আপনিই আমার অভিভাবক, আমাকে মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু দিন এবং নেককারদের সাথে আমাকে যুক্ত করুন (সূরা ইউসুফ : ১০১)
এমনিভাবে সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ ইবনে আব্দে রাব্বিহী ও ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা স্বপ্নে আজান দেখেছিলেন। আর তাদের স্বপ্নে দেখা আজান-কেই নামাজের বর্তমান আজান ও ইকামত হিসাবে আমরা দেখতে পাচ্ছি।
তাদের সুন্দর স্বপ্নগুলো এভাবেই ইসলামের নিদর্শন হিসাবে বাস্তবে রূপ লাভ করেছে অনন্তকালের জন্য।
আমাদের আরো মনে রাখতে হবে যে, ভালো ও সুন্দর স্বপ্নগুলো কখনো হুবহু বাস্তব রূপে দেখা যায় আবার কখনো রূপকভাবে ভিন্ন আকৃতিতে ।
যেমন আজান দেয়ার পদ্ধতি সংক্রান্ত স্বপ্ন হুবহু দেখানো হয়েছে। অপরদিকে ইউসুফ আলাইহিস সালামের স্বপ্নগুলো ভিন্ন আকৃতিতে রূপকভাবে দেখানো হয়েছে।
স্বপ্ন দেখলে যা করতে হবে
যদি কেউ ভাল স্বপ্ন দেখে তাহলে তার তিনটি কাজ করতে হবে :
এক. আল্লাহ তাআলার প্রশংসা স্বরূপ আল হামদুলিল্লাহ বলতে হবে।
দুই. এটা অন্যকে সুসংবাদ হিসাবে জানাবে।
তিন. স্বপ্ন সম্পর্কে এমন ব্যক্তিদেরকে জানাবে যারা তাকে ভালোবাসে।
হাদীসে এসেছে :
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺳﻌﻴﺪ ﺍﻟﺨﺪﺭﻱ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻧﻪ ﺳﻤﻊ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻘﻮﻝ : ” ﺇﺫﺍ ﺭﺃﻯ ﺃﺣﺪﻛﻢ ﺭﺅﻳﺎ ﻳﺤﺒﻬﺎ، ﻓﺈﻧﻤﺎ ﻫﻲ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ، ﻓﻠﻴﺤﻤﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻬﺎ، ﻭﻟﻴﺤﺪﺙ ﺑﻬﺎ، ﻭﺇﺫﺍ ﺭﺃﻯ ﻏﻴﺮ ﺫﻟﻚ ﻣﻤﺎ ﻳﻜﺮﻩ، ﻓﺈﻧﻤﺎ ﻫﻲ ﻣﻦ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ، ﻓﻠﻴﺴﺘﻌﺬ ﻣﻦ ﺷﺮﻫﺎ، ﻭﻻ ﻳﺬﻛﺮﻫﺎ ﻷﺣﺪ ﻓﺈﻧﻬﺎ ﻻ ﺗﻀﺮﻩ “.
ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ﻓﻲ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺘﻌﺒﻴﺮ ، ﻭﺭﻭﻯ ﻣﺴﻠﻢ ﻣﻦ ﺣﺪﻳﺚ ﺃﺑﻲ ﻗﺘﺎﺩﺓ ﻓﻲ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺮﺅﻳﺎ ﻭﻓﻴﻪ : ﻓﺈﻥ ﺭﺃﻯ ﺭﺅﻳﺎ ﺣﺴﻨﺔ ﻓﻠﻴﺒﺸﺮ، ﻭﻻ ﻳﺨﺒﺮ ﺇﻻ ﻣﻦ ﻳﺤﺐ .
আবু সায়ীদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু্ আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছেন, যখন তোমাদের কেউ এমন স্বপ্ন দেখে যা তার ভাল লাগে, তাহলে সে বুঝে নেবে এটা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে। তখন সে এ স্বপ্নের জন্য আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করবে আর অন্যকে এ ব্যাপারে জানাবে।
আর যদি অন্য স্বপ্ন দেখে যা সে পছন্দ করে না, তাহলে বুঝে নেবে এটা শয়তানের পক্ষ থেকে। তখন সে এ স্বপ্নের ক্ষতি থেকে আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবে। (আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম বলবে) এবং কাউকে এ স্বপ্নের কথা বলবে না। মনে রাখবে এ স্বপ্ন তাকে ক্ষতি করবে না। (সহীহ বুখারী)
স্বপ্ন ভাল হলে তা শুভাকাংখী ব্যতীত অন্য কারো কাছে বলা ঠিক নয়। এ কারণে ইয়াকুব আ. তার ছেলে ইউসূফ কে বলেছিলেন :
হে আমার বৎস! তোমার স্বপ্নের কথা তোমার ভাইদের কাছে বলো না। (সূরা ইউসুফ : ৫)
খারাপ স্বপ্ন দেখলে কি করবে?
হাদীসে এসেছে
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻗﺘﺎﺩﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ” ﺍﻟﺮﺅﻳﺎ ﺍﻟﺼﺎﻟﺤﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ، ﻭﺍﻟﺤﻠﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ، ﻓﺈﺫﺍ ﺭﺃﻯ ﺃﺣﺪﻛﻢ ﻣﺎ ﻳﺤﺐ ﻓﻼ ﻳﺤﺪﺙ ﺑﻪ ﺇﻻ ﻣﻦ ﻳﺤﺐ . ﻭﺇﺫﺍ ﺭﺃﻯ ﻣﺎ ﻳﻜﺮﻩ ﻓﻠﻴﺘﻌﻮﺫ ﺑﺎﻟﻠﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ، ﻭﻟﻴﻨﻔﺚ ﻋﻦ ﺷﻤﺎﻟﻪ ﺛﻼﺛﺎً، ﻭﻻ ﻳﺤﺪﺙ ﺑﻬﺎ ﺃﺣﺪﺍً ﻓﺈﻧﻬﺎ ﻟﻦ ﺗﻀﺮﻩ ” ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ .
আবু কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ভাল ও সুন্দর স্বপ্ন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে হয়ে থাকে আর খারাপ স্বপ্ন হয় শয়তানের পক্ষ থেকে। যদি কেউ ভাল স্বপ্ন দেখে, তাহলে তা শুধু তাকেই বলবে, যে তাকে ভালোবাসে। অন্য কাউকে বলবে না। আর কেউ যদি স্বপ্নে খারাপ কিছু দেখে, তা হলে শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবে। (আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম বলবে) এবং বাম দিকে তিনবার থুথু নিক্ষেপ করবে। আর কারো কাছে স্বপ্নের কথা বলবে না। মনে রাখবে, এ স্বপ্ন তার কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না। (বর্ণনায় : বুখারী ও মুসলিম)
খারাপ স্বপ্ন দেখলে যা করতে হবে :
এক. এই খারাপ স্বপ্নের ক্ষতি ও অনিষ্ট থেকে আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে। এভাবে সকল প্রকার ক্ষতি থেকে আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা উচিত।
দুই. শয়তানের অনিষ্ট ও কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে। এবং এর জন্য আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম পড়তে হবে। কারণ, খারাপ স্বপ্ন শয়তানের কুপ্রভাবে হয়ে থাকে।
তিন. বাঁ দিকে তিনবার থুথু নিক্ষেপ করতে হবে। এটা করতে হবে শয়তানের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ ও তার চক্রান্ত-কে অপমান করার জন্য ।
চার. যে কাতে ঘুমিয়ে খারাপ স্বপ্ন দেখেছে তা পরিবর্তন করে অন্য কাতে শুতে হবে। অবস্থাকে বদলে দেয়ার ইঙ্গিত স্বরূপ এটা করা হয়ে থাকে।
পাঁচ. খারাপ স্বপ্ন দেখলে কারো কাছে বলবে না। আর নিজেও এর ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করবে না।
হাদীসে এসেছে
ﺟﺎﺀ ﺭﺟﻞ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻘﺎﻝ : ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ! ﺭﺃﻳﺖ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﻨﺎﻡ ﻛﺄﻥ ﺭﺃﺳﻲ ﻗﻄﻊ . ﻗﺎﻝ : ﻓﻀﺤﻚ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﻗﺎﻝ ” ﺇﺫﺍ ﻟﻌﺐ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ ﺑﺄﺣﺪﻛﻢ ﻓﻲ ﻣﻨﺎﻣﻪ . ﻓﻼ ﻳﺤﺪﺙ ﺑﻪ ﺍﻟﻨﺎﺱ ” . ﻭﻓﻲ ﺭﻭﺍﻳﺔ ﺃﺑﻲ ﺑﻜﺮ ” ﺇﺫﺍ ﻟﻌﺐ ﺑﺄﺣﺪﻛﻢ ” ﻭﻟﻢ ﻳﺬﻛﺮ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ .
ﺍﻟﺮﺍﻭﻱ : ﺟﺎﺑﺮ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ . ﺍﻟﻤﺤﺪﺙ : ﻣﺴﻠﻢ – ﺍﻟﻤﺼﺪﺭ : ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ – ﺍﻟﺼﻔﺤﺔ ﺃﻭ ﺍﻟﺮﻗﻢ : 2268
ﺧﻼﺻﺔ ﺣﻜﻢ ﺍﻟﻤﺤﺪﺙ : ﺻﺤﻴﺢ
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি স্বপ্নে দেখেছি, আমার মাথা কেটে ফেলা হয়েছে। এ কথা শুনে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে ফেললেন। আর বললেন : ঘুমের মধ্যে শয়তান তোমাদের কারো সাথে যদি দুষ্টুমি করে, তবে তা মানুষের কাছে বলবে না। (বর্ণনায় : মুসলিম)
হাদীস থেকে আমরা জানতে পারলাম :
এক. সাহাবীগণ কোনো স্বপ্ন দেখলে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে তার ব্যাখ্যা জানতে চাইতেন। তারা এভাবে কোনো স্বপ্নকে অযথা মনে না করে এর গুরুত্ব দিতেন।
দুই. খারাপ স্বপ্ন দেখলে তা কাউকে বলতে নেই।
তিন. খারাপ ও নেতিবাচক স্বপ্ন শয়তানের একটি কুমন্ত্রণা।

উস্তাদ আব্দুল্লাহ শহিদ আঃরহমান।

আকীকা এবং এ সংক্রান্ত বিধানাবলি
যে সুন্নতগুলোর তাৎপর্য অনেক কিন্তু আমরা তার প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেই না আকীকা তার অন্যতম। ইসলাম পূর্বকাল থেকে চলে আসা এই আমলের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। তিনি একে অনুমোদন করেছেন, নিজে করেছেন এবং অন্যদের করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। কিন্তু এ সুন্নতটি আজ বিস্মৃতপ্রায়। মুসলিমগণ এর আমল বাদ দিয়ে এর স্থলে চালু করেছেন নানা বিজাতীয় ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন রীতিনীতি।
অথচ ইসলামী মনস্তত্ত্ব বিবেচনায় আকীকার গুরুত্ব অপরিসীম। এর প্রতি আমরা উন্নাসিকতা দেখিয়ে নিজেদেরই বিপদ নিজেরাই ডেকে আনছি। হাদীসের ইঙ্গিত থেকে যেমন অনুমিত হয়, এর সঙ্গে শিশুর পার্থিব ও অপার্থিব কল্যাণ জড়িত। আমরা দেখি নব জাতকের এটা-সেটা রোগ-বালাই লেগেই থাকে। রোজই তার চিকিৎসার পেছনে, পথ্য ও ওষুধ কিনতে গিয়ে অনেক অর্থ ব্যয় করতে হয়। হাজার হাজার টাকা আমরা অসন্তুষ্টি আর অভিযোগ নিয়ে শিশুর অসুখ-বিসুখের পেছনে ব্যয় করতে পারি অথচ আকীকার মতো চমৎকার একটি আমল করতে পারি না, একটি বা দু’টি ছাগল জবাইয়ের মাধ্যমে। যার মাধ্যমে অনেক বিপদাপদ থেকেই বেঁচে যেতে পারে আমাদের প্রিয় আত্মজ।
সাধারণ মুসলিম তো নস্যি মোটামুটি দীনদার ও ইসলামের আদর্শ চর্চাকারী ভাইয়েরাও এ সুন্নতটিকে বড় অযত্ন অনাদরে উপেক্ষা করেন। হয়তো গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে না জানার কারণে অথবা যাপিত জীবনে হাজারো সুন্নতের প্রতি উদাসীনতারই অংশ হিসেবে। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন।
এ নিবন্ধের মাধ্যমে আমি আমাদের অনাদর ও উপেক্ষায় অনালোচিত ও অচর্চিত এই সুন্নতের কথাই সবাইকে স্মরণ করে দেবার প্রয়াস পেতে চাই। নিচের বিন্যাসে আমি এ সংক্রান্ত বেশ-কিছু বিষয় তুলে ধরতে চেয়েছি। এ ক্ষেত্রে আমি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য গ্রন্থের সাহায্য নিয়েছি। বিশেষভাবে যে কিতাবটির কথা না বললে অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দেয়া হয়, তা হলো- ড. হিসামুদ্দীন আফফানা কর্তৃক সংকলিত ‘আহকামুল আকীকা’ নামক গ্রন্থ। এবার চলুন মূল আলোচনায় প্রবেশ করা যাক :

আকীকা কাকে বলে :
আকীকা শব্দের অর্থ কাটা, সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে যে প্রাণীকে জবাই করা হয় তাকে আকীকা বলে। চাই তা ছেলে হোক বা মেয়ে। কেননা, এ প্রাণীর হলক তথা গলা কাটা করা হয়।

প্রাক-ইসলামী যুগে আকীকা

আকীকার প্রথা জাহেলী যুগ থেকেই চালু ছিল। মাওয়ারদী বলেন, ‘আকীকা বলা হয় ওই ছাগলকে ইসলাম পূর্বযুগে আরবা যা সন্তান ভূমিষ্ট হলে জবাই করত।’
অলীউল্লাহ দেহলভী রহ. বলেন, ‘জেনে রাখুন, আরবরা তাদের সন্তানের আকীকা করতো। আকীকা তাদের মাঝে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় বিষয় এবং সুন্নতে মুয়াক্কাদা ছিল। এতে ছিল ধর্মীয়, নাগরিক ও আত্মিক অনেক উপকারী দিক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাই তা অব্যাহত রাখেন এবং মানুষকে এতে উদ্বুদ্ধ করেন। এর প্রমাণ আমরা দেখতে আব্দুল্লাহ ইবন বুরাইদা রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বর্ণিত হাদীসে। আব্দুল্লাহ ইবন বুরাইদা রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বলেন, আমার বাবা বুরাইদাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন,
«كُنَّا فِي الْجَاهِلِيَّةِ إِذَا وُلِدَ لِأَحَدِنَا غُلاَمٌ ذَبَحَ شَاةً وَلَطَخَ رَأْسَهُ بِدَمِهَا ، فَلَمَّا جَاءَ اللَّهُ بِالإِسْلاَمِ كُنَّا نَذْبَحُ شَاةً ، وَنَحْلِقُ رَأْسَهُ وَنُلَطِّخُهُ بِزَعْفَرَانٍ».
‘জাহেলী যুগে আমাদের নিয়ম ছিল, যখন আমাদের কারো পুত্র সন্তান জন্ম নিতো, সে একটি ছাগল জবাই করতো এবং এর রক্ত তার মাথায় লাগিয়ে দিতো। কিন্তু আল্লাহ যখন ইসলাম নিয়ে আসলেন, তখন আমরা একটি ছাগল জবাই করতাম এবং তার মাথা নেড়ে করতাম আর তার তাকে জাফরান দিয়ে মাখিয়ে দিতাম।’ [আবূ দাউদ : ২৮৪৩; বাইহাকী : ১৯৭৬৬; মুস্তাদরাক : ৭৫৯৪]
মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহা আকীকা সংক্রান্ত যে হাদীস বর্ণনা করেন, তা থেকেও এমনটি প্রতিভাত হয়। তিনি বলেন,
«وَكَانَ أَهْلُ الْجَاهِلِيَةِ يَجْعَلُونَ قُطْنَةً فِى دَمِ الْعَقِيقَةِ وَيَجْعَلُونَهُ عَلَى رَأْسِ الصَّبِىِّ فَأَمَرَ النَّبِىُّ -صلى الله عليه وسلم- أَنْ يُجْعَلَ مَكَانَ الدَّمِ خَلُوقًا».
‘জাহেলী যুগের লোকেরা আকীকার রক্তে তুলা ভেজাতো এবং তা শিশুর মাথায় রাখতো। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলেন তুলার স্থলে জাফরান তথা সুগন্ধি রাখা হয়।’ [বাইহাকী, সুনান আল-কুবরা : ১৯৭৬৭]
আল্লামা সুয়ূতী রহ. উল্লেখ করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাদা আব্দুল মুত্তালিব তাঁর জন্মের সপ্তম দিনে তাঁর আকীকা করেন। তিনি বলেন, ‘ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে ইবন আসাকির বর্ণনা করেন, আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুবলেন,
لما ولد النبي صلى الله عليه و سلم عق عنه عبد المطلب وسماه محمدا فقيل له ما حملك على أن سميته محمدا ولم تسمه باسم آبائه فقال أردت أن يحمده الله في السماء ويحمده الناس في الأرض
‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জন্মগ্রহণ করেন, আব্দুল মুত্তালিব তার আকীকা করেন এবং তার নাম রাখেন মুহাম্মদ। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো কিসে আপনাকে তাঁর নাম বাবা-দাদার নামের সঙ্গে না মিলিয়ে রেখে মুহাম্মদ রাখতে? তিনি বললেন, আমি চেয়েছি যাতে তার প্রশংসা আল্লাহ করেন আসমানে আর মানুষে করে যমীনে।’ [শাহরহুয যারকানী আলা মুয়াত্তা মালেক, পৃ. ৫৫৮; ইবন আব্দিল বার, আল-ইস্তিয়াব।]
তেমনি মূসা আলাইহিমুস সালামের শরীয়তেও আকীকার প্রচলন ছিল। হাদীসে যেমন বর্ণিত হয়েছে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
«إِنَّ الْيَهُودَ تَعُقُّ عَنِ الْغُلاَمِ وَلاَ تَعُقُّ عَنِ الْجَارِيَةِ فَعُقُّوا عَنِ الْغُلاَمِ شَاتَيْنِ وَعَنِ الْجَارِيَةِ شَاةٌ»
‘ইহুদীরা পুত্র সন্তানের আকীকা করতো কিন্তু কন্যা সন্তান হলে তার আকীকা করতো না। অতএব তোমরা পুত্র সন্তানের জন্য দু’টি ছাগল এবং কন্যা সন্তানের জন্য একটি ছাগল দিয়ে আকীকা করো।’ [বাইহাকী, সুনান আল-কুবরা : ১৯৭৬০; মুসনাদ বাযযার : ৮৮৫৭।]

ইসলামে আকীকা

আকীকার বিধান প্রবর্তিত হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্ম ও উক্তি- উভয়প্রকার হাদীসের মাধ্যমে। এ সম্পর্কে অনেক ‘আছার’ও বর্ণিত হয়েছে অনেক। নিচে এর কিছু তুলে ধরা হচ্ছে :

প্রথমত. সুন্নাহ কাওলী বা মৌখিক হাদীস :
১. সালমান বিন আমের দাব্বী রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন,
«مَعَ الْغُلَامِ عَقِيقَةٌ فَأَهْرِيقُوا عَنْهُ دَمًا وَأَمِيطُوا عَنْهُ الْأَذَى»
‘পুত্র সন্তানের সঙ্গে আকীকা রয়েছে। সুতরাং তার পক্ষে রক্ত প্রবাহিত করো এবং তার থেকে কষ্ট দূর করো।’ [বুখারী : ৫০৪৯; তিরমিযী : ১৫১৫; মুসনাদ আহমদ : ১৭৯০৭।]
২. সামুরা বিন জুনদুব রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
«كُلُّ غُلاَمٍ رَهِينَةٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ سَابِعِهِ وَيُحْلَقُ وَيُسَمَّى»
‘প্রত্যেক শিশুই তার আকীকা জরুরী। জন্মের সপ্তম দিনে তার জন্য জবাই করা হবে এবং তার মাথা নেড়ে করা হবে আর নাম রাখা হবে। [আবূ দাউদ : ২৮৪০; মুসনাদ আহমদ : ২০০৯৫।]
৩. উম্মে কুরয আল-কা‘বিয়া রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছি,
«عَنِ الْغُلاَمِ شَاتَانِ مُكَافِئَتَانِ وَعَنِ الْجَارِيَةِ شَاةٌ».
‘ছেলে সন্তানের পক্ষে সমবয়সী দু’টি ছাগল এবং মেয়ে সন্তানের পক্ষে একটি ছাগল (দিয়ে আকীকা করা যাবে)।’ [আবূ দাউদ : ২৮৩৬; মুসনাদ আহমদ : ২৭৪০৯।]
৪. উম্মে কুরয আল-কা‘বিয়া রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহার অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আকীকা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, উত্তরে তিনি বলেন,
«عَنِ الْغُلاَمِ شَاتَانِ وَعَنِ الْجَارِيَةِ وَاحِدَةٌ وَلاَ يَضُرُّكُمْ ذُكْرَانًا كُنَّ أَمْ إِنَاثًا».
‘ছেলে সন্তানের পক্ষে সমবয়সী দু’টি ছাগল এবং মেয়ে সন্তানের পক্ষে একটি ছাগল (দিয়ে আকীকা দেয়া যাবে) আর ওই ছাগলগুলো পাঠা হোক বা পাঠ তাতে তোমাদের কোনো অসুবিধা নাই।’ [তিরমিযী : ১৫৯৯; মুসনাদ আহমদ : ২৭৩৭৩।]
৫. হাফসা বিনতে আব্দুর রহমান রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহা তাঁকে অবহিত করেছেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«عَنِ الْغُلامِ شَاتَانِ ، وَعَنِ الْجَارِيَةِ شَاةٌ»
‘পুত্র সন্তানের জন্য দু’টি ছাগল এবং কন্যা সন্তানের জন্য একটি ছাগল।’ [ইবন হিব্বান : ৫৩১০; ইবন আবী শাইবা : ২৪৭২৯।]
৬. একই হাদীসের অপর এক বর্ণনায় রয়েছে,
«عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ ، أَنَّهُمْ دَخَلُوا عَلَى حَفْصَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَسَأَلُوهَا عَنِ العَقِيقَةِ ، فَأَخْبَرَتْهُمْ أَنَّ عَائِشَةَ أَخْبَرَتْهَا ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَهُمْ عَنِ الغُلاَمِ شَاتَانِ مُكَافِئَتَانِ ، وَعَنِ الجَارِيَةِ شَاةٌ».
‘ইউসুফ বিন মাহাক থেকে বর্ণিত যে, তিনি হাফসা বিনতে আব্দুর রহমান রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহার কাছে গেলেন এবং তাঁকে আকীকা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, তখন তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহা থেকে জানালেন যে, তিনি তাঁকে এ মর্মে অবহিত করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ছেলে হলে সমবয়সী দু’টি ছাগল ও মেয়ে হলে একটি ছাগল দিয়ে আকীকা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।’ [তিরমিযী : ১৫১৩।]
৭. আসমা বিনতে ইয়াযীদ রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«الْعَقِيقَةُ حَقٌّ ، عَنِ الْغُلامِ : شَاتَانِ ، وَعَنِ الْجَارِيَةِ : شَاةٌ».
‘পুত্র সন্তানের পক্ষ থেকে প্রায় সমবয়সী দু’টি ছাগল হক এবং কন্যা সন্তানের পক্ষ থেকে একটি।’ [আল-আদাদ ওয়াল-মাছানী : ৩৩৫৩; মুসনাদ আহমদ : ২৭৫৮২।]
৮. ইয়াযীদ বিন আব্দুল্লাহ মুযানী তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«يُعَقُّ عَنِ الْغُلاَمِ ، وَلاَ يُمَسُّ رَأْسُهُ بِدَمٍ».
‘পুত্র সন্তানের পক্ষে আকীকা করা হবে আর তার মাথায় রক্ত স্পর্শ করা হবে না।’ [ইবন মাজা : ৩১৬৬; আল-আদাদ ওয়াল-মাছানী : ১১০৮।]
৯. আমর বিন শুয়াইব তার বাবা আর বাবা তার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন যে,
«أَنَّ النَّبِىَّ -صلى الله عليه وسلم- أَمَرَ بِتَسْمِيَةِ الْمَوْلُودِ يَوْمَ سَابِعِهِ وَوَضْعِ الأَذَى عَنْهُ وَالْعَقِّ».
‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মের সপ্তম দিবসে নবজাতকের নাম রাখা, তার আবর্জনা দূর করা (তথা নেড়ে করা) ও আকীকার নির্দেশ দিয়েছেন।’ [তিরমিযী : ২৮৩২।]
১০. ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إذا كان يوم سابعه فأهريقوا عنه دما وأميطوا عنه الأذى وسموه».
‘যখন তার (নবজাতকের জন্মের) সপ্তম দিন আসবে, তখন তার পক্ষে রক্ত প্রবাহিত করো আর তার আবর্জনা (মাথার চুল) দূর করো এবং তার নাম রাখো।’ [তাবরানী, আল-মু‘জামুল আওসাত : ১৮৮৩।]
১১. আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহা আকীকা সংক্রান্ত যে হাদীস বর্ণনা করেন, তা থেকেও এমনটি প্রতিভাত হয়। তিনি বলেন,
«وَكَانَ أَهْلُ الْجَاهِلِيَةِ يَجْعَلُونَ قُطْنَةً فِى دَمِ الْعَقِيقَةِ وَيَجْعَلُونَهُ عَلَى رَأْسِ الصَّبِىِّ فَأَمَرَ النَّبِىُّ -صلى الله عليه وسلم- أَنْ يُجْعَلَ مَكَانَ الدَّمِ خَلُوقًا.
‘জাহেলী যুগের লোকেরা আকীকার রক্তে তুলা ভেজাতো এবং তা শিশুর মাথায় রাখতো। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলেন তুলার স্থলে জাফরান তথা সুগন্ধি রাখা হয়।’ [বাইহাকী, সুনান আল-কুবরা : ১৯৭৬৭।]
১২. হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
«إِنَّ الْيَهُودَ تَعُقُّ عَنِ الْغُلاَمِ وَلاَ تَعُقُّ عَنِ الْجَارِيَةِ فَعُقُّوا عَنِ الْغُلاَمِ شَاتَيْنِ وَعَنِ الْجَارِيَةِ شَاةٌ».
‘ইহুদীরা পুত্র সন্তানের আকীকা করতো কিন্তু কন্যা সন্তান হলে তার আকীকা করতো না। অতএব তোমরা পুত্র সন্তানের জন্য দু’টি ছাগল এবং কন্যা সন্তানের জন্য একটি ছাগল দিয়ে আকীকা করো।’ [বাইহাকী, সুনান আল-কুবরা : ১৯৭৬০; মুসনাদ বাযযার : ৮৮৫৭।]

দ্বিতীয়ত. সুন্নাহ ফি‘লী বা কর্মগত হাদীস :
১. ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
عَقَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْحَسَنِ ، وَالْحُسَيْنِ بِكَبْشَيْنِ كَبْشَيْنِ.
‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুমার জন্য দু’টি দু’টি করে ভেড়া দিয়ে আকীকা করেন।’ [নাসায়ী : ১২১৯।]
২. আব্দুল্লাহ বিন বুরাইদা থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,
عَقَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْحَسَنِ وَالْحُسَيْنِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا.
‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর জন্য আকীকা করেছেন।’ [মু‘জামুল কাবীর : ২৫১০; নাসায়ী : ৪২১৩; মুসনাদ আহমদ : ২৩০৫১।]
৩. আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
عَقَّ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- عَنِ الْحَسَنِ وَالْحُسَيْنِ يَوْمَ السَّابِعِ وَسَمَّاهُمَا وَأَمَرَ أَنْ يُمَاطَ عَنْ رَأْسِهِمَا الأَذَى.
‘(জন্মের) সপ্তম দিনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসাইনের আকীকা দিয়েছেন, তাঁদের নাম রেখেছেন এবং তাঁদের মাথা থেকে কষ্ট (চুল) দূর করেছেন।’ [বাইহাকী : ১৯০৫৫; সহীহ ইবন হিব্বান : ৫৩১১।]
৪. আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
عَقَّ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- عَنِ الْحَسَنِ وَالْحُسَيْنِ شَاتَيْنِ يَوْمَ السَّابِعِ وَأَمَرَ أَنْ يُمَاطَ عَنْ رَأْسِهِ الأَذَى. وَقَالَ« : اذْبَحُوا عَلَى اسْمِهِ وَقُولُوا بِسْمِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُمَّ لَكَ وَإِلَيْكَ هَذِهِ عَقِيقَةُ فُلاَنٍ.
‘হাসান ও হুসাইনের (জন্মের) সপ্তম দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’টি ছাগল দিয়ে আকীকা দেন এবং তার মাথার কষ্ট দূর করার নির্দেশ দেন। আর তিনি বলেন, ‘তাঁর (আল্লাহর) নামে জবাই করো এবং বলো, বিসমিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার, হে আল্লাহ, আপনার কাছে অমুকের জন্য এ আকীকা।’ [বাইহাকী : ১৯৭৭২; মুসনাদ আবী ইয়া‘লা : ৪৫২১।]
৫. আব্দুল্লাহ ইবন উমরা রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَقَّ عَنِ الْحَسَنِ وَالْحُسَيْنِ عَنْ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا كَبْشَيْنِ اثْنَيْنِ مِثْلَيْنِ مُتَكَافِئَيْنِ.
‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসাইন- উভয়ের প্রত্যেকের জন্যই প্রায় একইরকম সমবয়সী দুটি করে ভেড়া দিয়ে আকীকা দেন।’ [হাকেম, মুস্তাদরাক : ৭৫৯০।]
৬. আলী বিন আবী তালেব রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
عَقَّ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- عَنِ الْحَسَنِ بِشَاةٍ وَقَالَ « يَا فَاطِمَةُ احْلِقِى رَأْسَهُ وَتَصَدَّقِى بِزِنَةِ شَعْرِهِ فِضَّةً . قَالَ فَوَزَنَتْهُ فَكَانَ وَزْنُهُ دِرْهَمًا أَوْ بَعْضَ دِرْهَمٍ.
‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ছাগল দিয়ে হাসানের আকীকা দিলেন এবং বললেন, ‘হে ফাতেমা, এর তার মাথার চুল ফেলে দাও এবং তার চুলের ওজনে রুপা সদকা করো। তিনি বলেন, অতপর ফাতেমা তা পরিমাপ করলো, এর ওজন হলো এক দিরহাম বা এক দিরহামের কিছু পরিমাণ।’ [তিরমিযী : ১৬০২; হাকেম, মুস্তাদরাক : ৭৫৮৯।]

নেড়ে করতে হবে, কাযা‘ করা যাবে না

উপরের হাদীসগুলোতে থেকে আমরা যেমন জানলাম, শিশু জন্মের সপ্তম দিনে তার মাথা নেড়ে করতে বলা হয়েছে। তবে কাযা‘ থেকে নিষেধ করা হয়েছে। আর তা হলো, ‘বাচ্চার মাথা এমনভাবে নেড়ে করা যে তার মাথার বিভিন্ন স্থান অমুণ্ডিত থাকে’। [ইবনুল আছীর, নিহায়া : কাযা‘ অধ্যায়।]
ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- نَهَى عَنِ الْقَزَعِ. قَالَ قُلْتُ لِنَافِعٍ وَمَا الْقَزَعُ قَالَ يُحْلَقُ بَعْضُ رَأْسِ الصَّبِىِّ وَيُتْرَكُ بَعْضٌ».
‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাযা‘ থেকে বারণ করেছেন। তিনি বলেন, নাফে‘কে আমি জিজ্ঞেস করলাম, কাযা‘ কী? তিনি বললেন, বাচ্চার মাথার কিছু অংশ মুণ্ডানো আর কিছু অমুণ্ডিত রাখা’। [মুসলিম : ৩৯৫৯; বুখারী : ৫৪৬৫; ইবন মাজা : ৩৬২৭; আহমদ : ৪৯২৮।]
উদ্দেশ্য, নেড়ে করতে হবে পুরো মাথা জুড়ে। কারণ, মাথার কিছু অংশ নেড়ে করা আর কিছু না করা ইসলামী ব্যক্তিত্বের পরিপন্থী, যার মাধ্যমে একজন মুসলিম অন্য জাতি-গোষ্ঠী থেকে এবং বিজাতীয় সংস্কৃতি থেকে স্বাতন্ত্র্যের অধিকারী হয়। এই কাযা‘র মাধ্যমে মূলত কাফেরদের সঙ্গে সাদৃশ্য অবলম্বন হয়। আর তাদের সাদৃশ্য ধারণ জায়িয নয়।
হুমাইদ বিন আব্দুর রহমান বিন আউফ থেকে বর্ণিত, মুয়াবিয়া বিন সুফিয়ান রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু যে বছর হজ করেন, তিনি মিম্বরে বসলেন, আমার ভৃত্যের হাতে থাকা চুল থেকে একগুচ্ছ চুল নিলেন এবং বললেন,
يَا أَهْلَ الْمَدِينَةِ أَيْنَ عُلَمَاؤُكُمْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَنْهَى عَنْ مِثْلِ هَذِهِ وَيَقُولُ «إِنَّمَا هَلَكَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ حِينَ اتَّخَذَ هَذِهِ نِسَاؤُهُمْ».
হে মদীনাবাসী, কোথায় তোমাদের আলিমগণ? (তিনি কি তোমাদের বারণ করেন নি?) আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমন করা থেকে নিষেধ করতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, ‘বনী ইসরাঈল ধ্বংস হয়েছিল যখন তাদের নারীরা এটাকে (কাযা‘) ধারণ করেছিল।’ [মুসলিম : ৫৭০০; বুখারী : ৩৪৬৮; আবূ দাউদ : ৪১৬৯।]
(এ থেকে বুঝা যায়, মাথার চুল কিছু মুণ্ডানো আর কিছু রেখে দেওয়া তাদের শরীয়তে হারাম ছিল।)
ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى صَبِيًّا قَدْ حُلِقَ بَعْضُ شَعَرِهِ وَتُرِكَ بَعْضُهُ فَنَهَى عَنْ ذَلِكَ وَقَالَ : « احْلِقُوا كُلَّهُ ، أَوِ اتْرُكُوا كُلَّهُ».
‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি শিশুকে দেখলেন তার (মাথার) কিছু চুল নেড়ে করা হয়েছে আর কিছু অবশিষ্ট রাখা হয়েছে। তাকে দেখে তিনি এ থেকে বারণ করলেন এবং বললেন, তোমরা (মাথা) পুরোটাই মুণ্ডাও অথবা পুরোটাই অমুণ্ডিত রাখো।’ [মুসনাদ আহমদ : ৫৬১৫; আব্দুর রাযযাক, মুসান্নাফ : ১৯৫৬৪১।]

যখন বলি স্বামীরর অবাধ্য স্ত্রী জাহান্নামি তখন স্বামীরা স্ত্রীদের কে বলে ,দেখ আমার অবাধ্য হলে জাহান্নমে যাবা,তাই অনেকে অভিযোগ করে বলে শুধু কি আমাদের জন্য আছে পুরুষদের জন্য কোন হাদীস নেই :p . সম্মানিত ভাইয়ারা, সর্বকালেরর সর্বোত্তম আচরণের মানুষটি হচ্ছেন আমাদের রাসূল্লাহ (সাঃ) আর তিনি বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সেই সকল ব্যক্তি সর্বোত্তম যারা তাদের স্ত্রীরদের প্রতি সর্বোত্তম আচরণ করে। . রাসূলুল্লাহ (সা) আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন যে – কেউ যদি তার স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে কোনও দোষ দেখে বিরক্ত বোধ করে, তখন সে তার এমন গুণের কথা স্মরণ করুক যার জন্য সে তাকে ভালবাসে।(মুসলিম) . রাসূলুল্লাহ(সা) বলেন – “মেয়েদের সাথে কোমল আচরণ করো, কারণ তাদেরকে বাঁকা পাঁজর থেকে তৈরী করা হয়েছে। আর সবচেয়ে বাঁকা হচ্ছে পাঁজরের উপরের অংশ। যদি তুমি একে সোজা করতে চাও এটা ভেঙ্গে যাবে, আর যদি ছেড়ে দাও তো বাঁকাই থেকে যাবে। কাজেই, মেয়েদের সাথে নমনীয় আচরণ করো ” [বুখারী ও মুসলিম, আবু হুরাইরা (রা) হতে বর্ণিত] . তাই স্ত্রীর কাছে নিজেকে সর্বোত্তম হিসেবে গড়ে তুলেন । . ইয়া রাসূল্লাহ (সাঃ) আমি জানি না আপনি কীভাবে এত কিছু করেছেন কীভাবে আপনি পরিবারের প্রতি অবহেলা না করেও এই উম্মার যত্ন নিয়েছেন। একজন স্বামী এবং বাবা হিসেবে আপনার মহত্ত্ব ঠিক তেমনই অসাধারণ ছিল,যেমন ছিল একজন নেতা হিসেবে। . “নিশ্চয় রাসূল (সাঃ) এর জীবনে রয়েছে তোমাদের জন্য উওম অদ্রশ “(সূরা আল আহযাব ঃ২১)

রোযার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। আল্লাহ অবগত রয়েছেন যে, তোমরা আত্নপ্রতারণা করছিলে, সুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করেছেন এবং তোমাদের অব্যাহতি দিয়েছেন। অতঃপর তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর এবং যা কিছু তোমাদের জন্য আল্লাহ দান করেছেন, তা আহরন কর। আর পানাহার কর যতক্ষণ না কাল রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। অতঃপর রোযা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত। আর যতক্ষণ তোমরা এতেকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিশো না। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক বেঁধে দেয়া সীমানা। অতএব, এর কাছেও যেও না। এমনিভাবে বর্ণনা করেন আল্লাহ নিজের আয়াত সমূহ মানুষের জন্য, যাতে তারা বাঁচতে পারে। أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَىٰ نِسَائِكُمْ ۚ هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَهُنَّ ۗ عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَخْتَانُونَ أَنْفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنْكُمْ ۖ فَالْآنَ بَاشِرُوهُنَّ وَابْتَغُوا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ ۚ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ۖ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ ۚ وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ ۗ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَقْرَبُوهَا ۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ Al-Baqarah-179 হে বুদ্ধিমানগণ! কেসাসের মধ্যে তোমাদের জন্যে জীবন রয়েছে, যাতে তোমরা সাবধান হতে পার। وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ Al-Baqarah-241 আর তালাকপ্রাপ্তা নারীদের জন্য প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী খরচ দেয়া পরহেযগারদের উপর কর্তব্য। وَلِلْمُطَلَّقَاتِ مَتَاعٌ بِالْمَعْرُوفِ ۖ حَقًّا عَلَى الْمُتَّقِينَ Al-Baqarah-240 আর যখন তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে তখন স্ত্রীদের ঘর থেকে বের না করে এক বছর পর্যন্ত তাদের খরচের ব্যাপারে ওসিয়ত করে যাবে। অতঃপর যদি সে স্ত্রীরা নিজে থেকে বেরিয়ে যায়, তাহলে সে নারী যদি নিজের ব্যাপারে কোন উত্তম ব্যবস্থা করে, তবে তাতে তোমাদের উপর কোন পাপ নেই। আর আল্লাহ হচ্ছেন পরাক্রমশালী বিজ্ঞতা সম্পন্ন। وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا وَصِيَّةً لِأَزْوَاجِهِمْ مَتَاعًا إِلَى الْحَوْلِ غَيْرَ إِخْرَاجٍ ۚ فَإِنْ خَرَجْنَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِي مَا فَعَلْنَ فِي أَنْفُسِهِنَّ مِنْ مَعْرُوفٍ ۗ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ Al-Baqarah-237 আর যদি মোহর সাব্যস্ত করার পর স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দিয়ে দাও, তাহলে যে, মোহর সাব্যস্ত করা হয়েছে তার অর্ধেক দিয়ে দিতে হবে। অবশ্য যদি নারীরা ক্ষমা করে দেয় কিংবা বিয়ের বন্ধন যার অধিকারে সে (অর্থাৎ, স্বামী) যদি ক্ষমা করে দেয় তবে তা স্বতন্ত্র কথা। আর তোমরা পুরুষরা যদি ক্ষমা কর, তবে তা হবে পরহেযগারীর নিকটবর্তী। আর পারস্পরিক সহানুভূতির কথা বিস্মৃত হয়ো না। নিশ্চয় তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ সেসবই অত্যন্ত ভাল করে দেখেন। وَإِنْ طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَمَسُّوهُنَّ وَقَدْ فَرَضْتُمْ لَهُنَّ فَرِيضَةً فَنِصْفُ مَا فَرَضْتُمْ إِلَّا أَنْ يَعْفُونَ أَوْ يَعْفُوَ الَّذِي بِيَدِهِ عُقْدَةُ النِّكَاحِ ۚ وَأَنْ تَعْفُوا أَقْرَبُ لِلتَّقْوَىٰ ۚ وَلَا تَنْسَوُا الْفَضْلَ بَيْنَكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ Al-Baqarah-236 স্ত্রীদেরকে স্পর্শ করার আগে এবং কোন মোহর সাব্যস্ত করার পূর্বেও যদি তালাক দিয়ে দাও, তবে তাতেও তোমাদের কোন পাপ নেই। তবে তাদেরকে কিছু খরচ দেবে। আর সামর্থ্যবানদের জন্য তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী এবং কম সামর্থ্যবানদের জন্য তাদের সাধ্য অনুযায়ী। যে খরচ প্রচলিত রয়েছে তা সৎকর্মশীলদের উপর দায়িত্ব। لَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِنْ طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ مَا لَمْ تَمَسُّوهُنَّ أَوْ تَفْرِضُوا لَهُنَّ فَرِيضَةً ۚ وَمَتِّعُوهُنَّ عَلَى الْمُوسِعِ قَدَرُهُ وَعَلَى الْمُقْتِرِ قَدَرُهُ مَتَاعًا بِالْمَعْرُوفِ ۖ حَقًّا عَلَى الْمُحْسِنِينَ Al-Baqarah-235 আর যদি তোমরা আকার ইঙ্গিতে সে নারীর বিয়ের পয়গাম দাও, কিংবা নিজেদের মনে গোপন রাখ, তবে তাতেও তোমাদের কোন পাপ নেই, আল্লাহ জানেন যে, তোমরা অবশ্যই সে নারীদের কথা উল্লেখ করবে। কিন্তু তাদের সাথে বিয়ে করার গোপন প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখো না। অবশ্য শরীয়তের নির্ধারিত প্রথা অনুযায়ী কোন কথা সাব্যস্ত করে নেবে। আর নির্ধারিত ইদ্দত সমাপ্তি পর্যায়ে না যাওয়া অবধি বিয়ে করার কোন ইচ্ছা করো না। আর একথা জেনে রেখো যে, তোমাদের মনে যে কথা রয়েছে, আল্লাহর তা জানা আছে। কাজেই তাঁকে ভয় করতে থাক। আর জেনে রেখো যে, আল্লাহ ক্ষমাকারী ও ধৈর্য্যশীল। وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا عَرَّضْتُمْ بِهِ مِنْ خِطْبَةِ النِّسَاءِ أَوْ أَكْنَنْتُمْ فِي أَنْفُسِكُمْ ۚ عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ سَتَذْكُرُونَهُنَّ وَلَٰكِنْ لَا تُوَاعِدُوهُنَّ سِرًّا إِلَّا أَنْ تَقُولُوا قَوْلًا مَعْرُوفًا ۚ وَلَا تَعْزِمُوا عُقْدَةَ النِّكَاحِ حَتَّىٰ يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ ۚ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي أَنْفُسِكُمْ فَاحْذَرُوهُ ۚ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ حَلِيمٌ Al-Baqarah-234 আর তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে এবং নিজেদের স্ত্রীদেরকে ছেড়ে যাবে, তখন সে স্ত্রীদের কর্তব্য হলো নিজেকে চার মাস দশ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করিয়ে রাখা। তারপর যখন ইদ্দত পূর্ণ করে নেবে, তখন নিজের ব্যাপারে নীতি সঙ্গত ব্যবস্থা নিলে কোন পাপ নেই। আর তোমাদের যাবতীয় কাজের ব্যাপারেই আল্লাহর অবগতি রয়েছে। وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا ۖ فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا فَعَلْنَ فِي أَنْفُسِهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ ۗ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ Al-Baqarah-233 আর সন্তানবতী নারীরা তাদের সন্তানদেরকে পূর্ন দু’বছর দুধ খাওয়াবে, যদি দুধ খাওয়াবার পূর্ণ মেয়াদ সমাপ্ত করতে চায়। আর সন্তানের অধিকারী অর্থাৎ, পিতার উপর হলো সে সমস্ত নারীর খোর-পোষের দায়িত্ব প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী। কাউকে তার সামর্থাতিরিক্ত চাপের সম্মুখীন করা হয় না। আর মাকে তার সন্তানের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। এবং যার সন্তান তাকেও তার সন্তানের কারণে ক্ষতির সম্মুখীন করা যাবে না। আর ওয়ারিসদের উপরও দায়িত্ব এই। তারপর যদি পিতা-মাতা ইচ্ছা করে, তাহলে দু’বছরের ভিতরেই নিজেদের পারস্পরিক পরামর্শক্রমে দুধ ছাড়িয়ে দিতে পারে, তাতে তাদের কোন পাপ নেই, আর যদি তোমরা কোন ধাত্রীর দ্বারা নিজের সন্তানদেরকে দুধ খাওয়াতে চাও, তাহলে যদি তোমরা সাব্যস্তকৃত প্রচলিত বিনিময় দিয়ে দাও তাতেও কোন পাপ নেই। আর আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রেখো যে, আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কাজ অত্যন্ত ভাল করেই দেখেন। وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَادَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ ۖ لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ ۚ وَعَلَى الْمَوْلُودِ لَهُ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ ۚ لَا تُكَلَّفُ نَفْسٌ إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَا تُضَارَّ وَالِدَةٌ بِوَلَدِهَا وَلَا مَوْلُودٌ لَهُ بِوَلَدِهِ ۚ وَعَلَى الْوَارِثِ مِثْلُ ذَٰلِكَ ۗ فَإِنْ أَرَادَا فِصَالًا عَنْ تَرَاضٍ مِنْهُمَا وَتَشَاوُرٍ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا ۗ وَإِنْ أَرَدْتُمْ أَنْ تَسْتَرْضِعُوا أَوْلَادَكُمْ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِذَا سَلَّمْتُمْ مَا آتَيْتُمْ بِالْمَعْرُوفِ ۗ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ Al-Baqarah-232 আর যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়ে দাও এবং তারপর তারাও নির্ধারিত ইদ্দত পূর্ন করতে থাকে, তখন তাদেরকে পূর্ব স্বামীদের সাথে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে নিয়মানুযায়ী বিয়ে করতে বাধাদান করো না। এ উপদেশ তাকেই দেয়া হচ্ছে, যে আল্লাহ ও কেয়ামত দিনের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে। এর মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে একান্ত পরিশুদ্ধতা ও অনেক পবিত্রতা। আর আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না। وَإِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلَا تَعْضُلُوهُنَّ أَنْ يَنْكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ إِذَا تَرَاضَوْا بَيْنَهُمْ بِالْمَعْرُوفِ ۗ ذَٰلِكَ يُوعَظُ بِهِ مَنْ كَانَ مِنْكُمْ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۗ ذَٰلِكُمْ أَزْكَىٰ لَكُمْ وَأَطْهَرُ ۗ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ Al-Baqarah-231 আর যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়ে দাও, অতঃপর তারা নির্ধারিত ইদ্দত সমাপ্ত করে নেয়, তখন তোমরা নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে রেখে দাও অথবা সহানুভুতির সাথে তাদেরকে মুক্ত করে দাও। আর তোমরা তাদেরকে জ্বালাতন ও বাড়াবাড়ি করার উদ্দেশ্যে আটকে রেখো না। আর যারা এমন করবে, নিশ্চয়ই তারা নিজেদেরই ক্ষতি করবে। আর আল্লাহর নির্দেশকে হাস্যকর বিষয়ে পরিণত করো না। আল্লাহর সে অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, যা তোমাদের উপর রয়েছে এবং তাও স্মরণ কর, যে কিতাব ও জ্ঞানের কথা তোমাদের উপর নাযিল করা হয়েছে যার দ্বারা তোমাদেরকে উপদেশ দান করা হয়। আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ যে, আল্লাহ সর্ববিষয়েই জ্ঞানময়। وَإِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ سَرِّحُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ ۚ وَلَا تُمْسِكُوهُنَّ ضِرَارًا لِتَعْتَدُوا ۚ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَٰلِكَ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ ۚ وَلَا تَتَّخِذُوا آيَاتِ اللَّهِ هُزُوًا ۚ وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَمَا أَنْزَلَ عَلَيْكُمْ مِنَ الْكِتَابِ وَالْحِكْمَةِ يَعِظُكُمْ بِهِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ Al-Baqarah-230 তারপর যদি সে স্ত্রীকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়া হয়, তবে সে স্ত্রী যে পর্যন্ত তাকে ছাড়া অপর কোন স্বামীর সাথে বিয়ে করে না নেবে, তার জন্য হালাল নয়। অতঃপর যদি দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে তাদের উভয়ের জন্যই পরস্পরকে পুনরায় বিয়ে করাতে কোন পাপ নেই। যদি আল্লাহর হুকুম বজায় রাখার ইচ্ছা থাকে। আর এই হলো আল্লাহ কতৃêক নির্ধারিত সীমা; যারা উপলব্ধি করে তাদের জন্য এসব বর্ণনা করা হয়। فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّىٰ تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ ۗ فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَنْ يَتَرَاجَعَا إِنْ ظَنَّا أَنْ يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۗ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ Al-Baqarah-229 তালাকে-‘রাজঈ’ হ’ল দুবার পর্যন্ত তারপর হয় নিয়মানুযায়ী রাখবে, না হয় সহৃদয়তার সঙ্গে বর্জন করবে। আর নিজের দেয়া সম্পদ থেকে কিছু ফিরিয়ে নেয়া তোমাদের জন্য জায়েয নয় তাদের কাছ থেকে। কিন্তু যে ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই এ ব্যাপারে ভয় করে যে, তারা আল্লাহর নির্দেশ বজায় রাখতে পারবে না, অতঃপর যদি তোমাদের ভয় হয় যে, তারা উভয়েই আল্লাহর নির্দেশ বজায় রাখতে পারবে না, তাহলে সেক্ষেত্রে স্ত্রী যদি বিনিময় দিয়ে অব্যাহতি নিয়ে নেয়, তবে উভয়ের মধ্যে কারোরই কোন পাপ নেই। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা। কাজেই একে অতিক্রম করো না। বস্তুতঃ যারা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে, তারাই জালেম। الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ ۖ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ ۗ وَلَا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا إِلَّا أَنْ يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ ۗ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا ۚ وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ Al-Baqarah-228 আর তালাকপ্রাপ্তা নারী নিজেকে অপেক্ষায় রাখবে তিন হায়েয পর্যন্ত। আর যদি সে আল্লাহর প্রতি এবং আখেরাত দিবসের উপর ঈমানদার হয়ে থাকে, তাহলে আল্লাহ যা তার জরায়ুতে সৃষ্টি করেছেন তা লুকিয়ে রাখা জায়েজ নয়। আর যদি সদ্ভাব রেখে চলতে চায়, তাহলে তাদেরকে ফিরিয়ে নেবার অধিকার তাদের স্বামীরা সংরক্ষণ করে। আর পুরুষদের যেমন স্ত্রীদের উপর অধিকার রয়েছে, তেমনি ভাবে স্ত্রীদেরও অধিকার রয়েছে পুরুষদের উপর নিয়ম অনুযায়ী। আর নারীরদের ওপর পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। আর আল্লাহ হচ্ছে পরাক্রমশালী, বিজ্ঞ। وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ ۚ وَلَا يَحِلُّ لَهُنَّ أَنْ يَكْتُمْنَ مَا خَلَقَ اللَّهُ فِي أَرْحَامِهِنَّ إِنْ كُنَّ يُؤْمِنَّ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۚ وَبُعُولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فِي ذَٰلِكَ إِنْ أَرَادُوا إِصْلَاحًا ۚ وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ ۚ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ ۗ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ Al-Baqarah-223 তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্য ক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর। আর নিজেদের জন্য আগামী দিনের ব্যবস্থা কর এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাক। আর নিশ্চিতভাবে জেনে রাখ যে, আল্লাহর সাথে তোমাদেরকে সাক্ষাত করতেই হবে। আর যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সুসংবাদ জানিয়ে দাও। نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّىٰ شِئْتُمْ ۖ وَقَدِّمُوا لِأَنْفُسِكُمْ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ مُلَاقُوهُ ۗ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ Al-Baqarah-222 আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে হায়েয (ঋতু) সম্পর্কে। বলে দাও, এটা অশুচি। কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন উত্তম রূপে পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে, তখন গমন কর তাদের কাছে, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন। وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ ۖ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ ۖ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّىٰ يَطْهُرْنَ ۖ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ An-Nisa-20 যদি তোমরা এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রী পরিবর্তন করতে ইচ্ছা কর এবং তাদের একজনকে প্রচুর ধন-সম্পদ প্রদান করে থাক, তবে তা থেকে কিছুই ফেরত গ্রহণ করো না। তোমরা কি তা অন্যায়ভাবে ও প্রকাশ্য গোনাহর মাধ্যমে গ্রহণ করবে? وَإِنْ أَرَدْتُمُ اسْتِبْدَالَ زَوْجٍ مَكَانَ زَوْجٍ وَآتَيْتُمْ إِحْدَاهُنَّ قِنْطَارًا فَلَا تَأْخُذُوا مِنْهُ شَيْئًا ۚ أَتَأْخُذُونَهُ بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا An-Nisa-19 হে ঈমাণদারগণ! বলপূর্বক নারীদেরকে উত্তরাধিকারে গ্রহন করা তোমাদের জন্যে হালাল নয় এবং তাদেরকে আটক রেখো না যাতে তোমরা তাদেরকে যা প্রদান করেছ তার কিয়দংশ নিয়ে নাও; কিন্তু তারা যদি কোন প্রকাশ্য অশ্লীলতা করে! নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবন-যাপন কর। অতঃপর যদি তাদেরকে অপছন্দ কর, তবে হয়ত তোমরা এমন এক জিনিসকে অপছন্দ করছ, যাতে আল্লাহ, অনেক কল্যাণ রেখেছেন। يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَرِثُوا النِّسَاءَ كَرْهًا ۖ وَلَا تَعْضُلُوهُنَّ لِتَذْهَبُوا بِبَعْضِ مَا آتَيْتُمُوهُنَّ إِلَّا أَنْ يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ ۚ وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ ۚ فَإِنْ كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَىٰ أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَيَجْعَلَ اللَّهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا An-Nisa-23 তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, তোমাদের কন্যা, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভ্রাতৃকণ্যা; ভগিনীকণ্যা তোমাদের সে মাতা, যারা তোমাদেরকে স্তন্যপান করিয়েছে, তোমাদের দুধ-বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মাতা, তোমরা যাদের সাথে সহবাস করেছ সে স্ত্রীদের কন্যা যারা তোমাদের লালন-পালনে আছে। যদি তাদের সাথে সহবাস না করে থাক, তবে এ বিবাহে তোমাদের কোন গোনাহ নেই। তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রী এবং দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা; কিন্তু যা অতীত হয়ে গেছে। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকরী, দয়ালু। حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ وَبَنَاتُكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ وَعَمَّاتُكُمْ وَخَالَاتُكُمْ وَبَنَاتُ الْأَخِ وَبَنَاتُ الْأُخْتِ وَأُمَّهَاتُكُمُ اللَّاتِي أَرْضَعْنَكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ مِنَ الرَّضَاعَةِ وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ وَرَبَائِبُكُمُ اللَّاتِي فِي حُجُورِكُمْ مِنْ نِسَائِكُمُ اللَّاتِي دَخَلْتُمْ بِهِنَّ فَإِنْ لَمْ تَكُونُوا دَخَلْتُمْ بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ وَحَلَائِلُ أَبْنَائِكُمُ الَّذِينَ مِنْ أَصْلَابِكُمْ وَأَنْ تَجْمَعُوا بَيْنَ الْأُخْتَيْنِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَحِيمًا An-Nisa-24 এবং নারীদের মধ্যে তাদের ছাড়া সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ; তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায়-এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর হুকুম। এদেরকে ছাড়া তোমাদের জন্যে সব নারী হালাল করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তাদেরকে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য-ব্যভিচারের জন্য নয়। অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর। তোমাদের কোন গোনাহ হবে না যদি নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিজ্ঞ, রহস্যবিদ। وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۖ كِتَابَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ ۚ وَأُحِلَّ لَكُمْ مَا وَرَاءَ ذَٰلِكُمْ أَنْ تَبْتَغُوا بِأَمْوَالِكُمْ مُحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَافِحِينَ ۚ فَمَا اسْتَمْتَعْتُمْ بِهِ مِنْهُنَّ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ فَرِيضَةً ۚ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا تَرَاضَيْتُمْ بِهِ مِنْ بَعْدِ الْفَرِيضَةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا

প্রশ্ন: নামায পড়ার সময় মেয়েদের পা কি ঢাকতেই হবে? —- শায়েখ নাসিরুদ্দিন আলবানীর উত্তর: মেয়েদের পা (পায়ের গোড়ালি, পায়ের পাতা) না ঢেকে সলাহ্ আদায়ের অনুমতি নেই, এমনকি ঘর থেকে বের হলেও পা (গোড়ালি, পায়ের পাতা) ঢাকতে হবে। কারণ, মেয়েদের পা (গোড়ালি, পায়ের পাতা) “আওরাহ” এর অংশ। এবং আল্লাহ্ সুবহানু ওয়া তা’আলা সূরা নূর এর 31 নং আয়াতে আদেশ করেছেন, “…. তারা যেন তাদের গোপন সাজসজ্জা প্রকাশের জন্য সজোরে পদচারণা না করে”। জাহিলী যুগের নারীরা পায়ে নূপুর পড়তো। তারা যখন হাঁটতো, পুরুষদের আকর্ষণের জন্য মাটিতে জোড়ে জোড়ে পা ঠুকত, যাতে করে জোড়ে শব্দ হয় আর পুরুষেরা আকর্ষিত হয়। এভাবেই শয়তান অসঅয়াসা দেয়! . তার মানে পা (গোড়ালি, পায়ের পাতা) অবশ্যই ঢাকা থাকতে হবে। কারণ কি? কারণ, আল্লাহ্ সুবহানু ওয়া তা’আলা সূরা আহযাবের 59 নং আয়াতে বলেছেন , “হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের জিলবাব নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।” . যে জিলবাব পরিধানের কথা বলা হয়েছে, তাতে মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢাকা থাকতে হবে। সহীহ তিরমিযীর 1731 ও আবু দাউদের 4119 নং হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা:) একদিন বলছিলেন, যে অহংকারবশত কাপড় ঝুলিয়ে পড়ে বিচারের মাঠে আল্লাহ্ তার দিকে ফিরে তাকাবেন না। এক মহিলা তখন বললেন, “ইয়া রাসূলুল্লাহ (সা:) তাহলে তো আমাদের পা অনাবৃত হয়ে পড়বে।” রাসূল (সা:) জবাবে বললেন,”মহিলারা এক বিঘত পরিমাণ ঝুলিয়ে পড়বে।” ঐ মহিলা আবার বললেন,”তাহলে বাতাসে পা অনাবৃত হতে পারে।” রাসূল (সা:) তখন বললেন,”তাহলে আরও এক বিঘত বেশি অর্থাৎ মোট এক হাত পরিমাণ ঝুলিয়ে পড়বে। কিন্তু এর বেশি না।” (শায়েখ এখানে হাদিসের মূল ভাবার্থটুকু কেবল বলেছেন) . একারণে, সেসময়ের নারীরা নাযিলকৃত আয়াত অনুসারে জিলবাব পড়তেন। আর তখন এখনকার মতো মেয়েদের মধ্যে মৌজা পরার প্রচলন ছিলনা। তারা তাদের পায়ের গোড়ালি, পায়ের পাতা পর্যন্ত লম্বা জিলবাব দিয়েই ঢাকতেন। এছাড়া নামাযে মেয়েদের পায়ের পাতা হয় ঢাকা ওয়াজিব এই ফাতওয়া দিয়েছেন আব্দুল্লাহ আজিজ বিন বায (ফাতওয়ায়ে আল-্মারআ’হ আল মুসলিমা, শায়েখ আব্দুল্লাহ আল-আজিজ বিন বায, পৃষ্ঠা. ৫৭)

প্রশ্নঃ স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার হুকুম কি? ============================== উত্তরঃ শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা (রহঃ) বলেন, “তালাক দেওয়ার ব্যপারে শরীয়তের মূলনীতি হচ্ছেঃ তালাক দেওয়া নিষিদ্ধ। তালাক দেওয়া শুধুমাত্র তখনই জায়েজ হবে, যখন তালাক দেওয়ার ‘উপযুক্ত কারণ’ থাকা সাপেক্ষে তালাক দেওয়ার ‘প্রয়োজনীয়তা’ থাকে।” (মাজমু আল-ফাতওয়াঃ ৩৩/৮১) . উপযুক্ত কারণ কি? সংসারে চলতে গিয়ে অনেক কারণেই স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মনোমালিন্য হতে পারে। বা স্বামী-স্ত্রী একজন আরেক জনের উপর অনেক কারণেই অসন্তুষ্ট হতে পারে। তাই বলে মন চাইলেই কি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেবে? . আল্লাহ তাআ’লা স্বামী-স্ত্রী একজন আরেকজনের “পোশাক” বলেছেন। আমাদের পোশাকে যদি একটু ময়লা লাগে, আমরা কি পোশাকটা ফেলে দেই? না। বরং, আমরা সেটা সুন্দর করে পরিষ্কার করে আবার ব্যবহার করি। ঠিক তেমনি ইসলাম আমাদেরকে শিক্ষা দেয়, সামান্য মনোমালিন্য বা বাঁধা-বাঁধির কারণে সংসার ভেঙ্গে না দিতে। এতে যেমন দুইটা মানুষের জীবনের উপরে আঘাত আসে, আবার তাদের সাথে তাদের ছেলেমেয়ে ও দুইটি পরিবারের উপরেও অনেক দুঃখ নেমে আসে। . যে কারণগুলোর কারণে তালাক দেওয়া বৈধ হতে পারেঃ (১) স্ত্রী যদি চরিত্রহীনা, ব্যভিচারী হয়, কিংবা ফাহেশা কাজে লিপ্ত থাকে। (২) স্ত্রী যদি বেনামাযী, দ্বীনদার না হয়, অথবা তার কারণে স্বামীর দ্বীন ক্ষতিগ্রস্থ হয়। (৩) স্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বামী বা সন্তানদের জীবনের কোন ক্ষতির কোনো আশংকা থাকে। (৪) স্ত্রী অবাধ্য, অহংকারী, কটুভাষী হয়, এবং স্বামীর হক্ক আদায় করতে অস্বীকার করে। . বোঝাই যাচ্ছে, এরকম গুরতর কোন কারণ থাকলে স্ত্রীকে তালাক দেওয়া বৈধ হতে পারে। কিন্তু কেউ যদি অন্যায়ভাবে কাউকে তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে তার কি শাস্তি হবে? . প্রথম কথাঃ এর দ্বারা কি একজন মানুষ উপর যুলুম করা হচ্ছেনা? একজনের জীবন বিপন্ন করে দেওয়া হচ্ছেনা? যুলুমের কি শাস্তির কথা কুরআন-হাদীসে বলা হয়েছে? আল্লাহ সুবহা’নাহু তাআ’লা স্বয়ং নিজের উপর যুলুম করা নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন, সেইখানে আমাদের মতো তুচ্ছ একজন বান্দার কোনো অধিকার আছে কারো উপর যুলুম করার? একটি হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তায়া’লা বলেন, “হে আমার বান্দারা! আমি নিজের ওপর যুলুম হারাম করে নিয়েছি এবং তোমাদের পরস্পরের মধ্যেও তা হারাম করে দিয়েছি। সুতরাং তোমরা পরস্পরের ওপর যুলুম করো না।” (মুসলিম, তিরমিজী) . জালেমদের শাস্তিঃ একজন মানুষের উপর যুলুম করাতো দূরের কথা, সহীহ হাদীসে এসেছে একটা বিড়ালের উপর যুলুম করার কারণে একজন জাহান্নামে যাবে। রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআ’লা যালিমকে দীর্ঘ সময় ছাড় দিয়ে থাকেন। অবশেষে যখন পাকড়াও করেন তখন, তাকে আর রেহাই দেন না।” তারপর তিনি (সাঃ) এই আয়াত পাঠ করেনঃ “তোমার প্রভুর পাকড়াও এ রকমই হয়ে থাকে, যখন তিনি যুলুমরত জনপদগুলোকে পাকড়াও করেন। তার পাকড়াও অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক, অপ্রতিরোধ্য।” (বুখারী, মুসলিম, তিরমিজী) রাসুল (সাঃ) আরো বলেছেনঃ “কেউ যদি তার কোনো ভাইয়ের সম্মান হানি কিংবা কোনো জিনিসের ক্ষতি করে থাকে, তবে আজই তার কাছ থেকে তা বৈধ করে নেয়া উচিত এবং সেই ভয়াবহ দিন আসার আগেই এটা করা উচিত, যে দিন টাকাকড়ি দিয়ে কোনো প্রতিকার করা যাবে না, বরং তার কাছে কোনো নেক আমল থাকলে তার যুলুমের পরিমাণ হিসাবে মযলুমকে সেই নেক আমল দিয়ে দেয়া হবে এবং অসৎ কাজ না থাকলেও ওই মযলুমের অসৎ কাজ তার ওপর বর্তাবে।” (বুখারী ও তিরমিজী) রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বিশেষভাবে আমাদেরকে জুলুম থেকে বেঁচে থাকতে আদেশ করেছেন। “তোমরা জুলুম থেকে বেঁচে থাকো কারন জুলুম কিয়ামতের দিন গভীর অন্ধকার হয়ে দেখা দিবে।” (মুসলিমঃ ৬৭৪১) . জুলুম এতো মারাত্মক যে, মজলুম যদি জালেমের বিরুদ্ধে বদদোয়া করে আল্লাহ সাথে সাথে সেই দুয়া কবুল করে নেন। আর এইজন্য জালেমরা দু্নিয়ার বুকে বেশিদিন টিকে থাকতে পারেনা। . একজন আরব কবি সুন্দর বলেছেনঃ “ক্ষমতা থাকলেই তুমি কারো প্রতি যুলুম করো না, যুলুমের পরিণাম অনুশোচনা ছাড়া আর কিছুইনা। যুলুম করার পর তুমি তো সুখে নিদ্রা যাও, কিন্তু মযলুমের চোখে ঘুম আসে না। সে সারা রাত তোমার জন্য বদ দোয়া করে আর আল্লাহ তা শোনেন। কেননা তিনিও ঘুমান না!” . সুতরাং হে আমার দ্বীনি ভাইয়েরা! অন্যায়ভাবে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ব্যপারে সাবধান। আপনি মনে করছেন তালাক দিলেই ভালো হবে, কিন্তু অন্যায়ভাবে তালাক দিলে যদি আপনার স্ত্রীর অভিশাপ আপনার উপর পড়ে, আপনি কি সুখী হতে পারবেন, দুনিয়া বা আখেরাতে? . আর স্ত্রীর এইটা ভালোনা, সেইটা এইরকম… আপনি নিজের কথা চিন্তা করুন, আপনি নিজে কতটুকু ভালো? নিজে সংশোধন হওয়ার চেষ্টা করুন, আপনার স্ত্রীও সংশোধন হবে ইনশা আল্লাহ। . মেরুদন্ডহীন অনেক লোকেরা পিতার ধমক শুনে, মায়ের আবদার রক্ষা করতে গিয়ে নিরপরাধ স্ত্রীকে তালাক দিয়ে সংসার নষ্ট করে, তাকে দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে দেয়। এমনকি কিছু হাফেজ/মাওলানা টাইটেলধারী লোকেরা এই কাজ করে আর বলে, “পিতা-মাতা জান্নাতের দরজা। পিতা-মাতার কথা অমান্য করে তাদের মনে কষ্ট দেওয়া যাবেনা।” এরা না জেনেছে দ্বীন, না জেনেছে দুনিয়ার বাস্তবতা। . উমার (রাঃ) তার ছেলে আব্দুল্লাহকে তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার জন্য আদেশ করেছিলেন। আব্দুল্লাহ তার স্ত্রীকে ভালোবাসতেন, তাই তিনি তাকে তালাক দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। উমার (রাঃ) এই কথা রাসুল (সাঃ) কে অবহিত করলে রাসুল (সাঃ) আব্দুল্লাহকে তার স্ত্রীকে তালাক দিতে আদেশ করেন। (তিরমিযীঃ ১২০০) . হাদীস বুঝে ফতোয়া দিন হে মুফতি ভাইয়েরা! উপরোক্ত ঘটনা থেকে দেখা যাচ্ছে, পিতা স্ত্রীকে তালাক দিতে আদেশ করলে রাসুল (সাঃ) সেই অনুযায়ী তালাক দিতে আদেশ করেছিলেন। তাহলে আমাদের কারো পিতা যদি স্ত্রীকে তালাক দিতে আদেশ করে, আমাদেরকেও এই আদেশ মানতে হবে? . একটা ব্যপার লক্ষ্য করুনঃ আব্দুল্লাহ (রাঃ) এর বাবা হচ্ছেন উমার (রাঃ)। যার সম্পর্কে নবী (সাঃ) বলেছিলেনঃ “আমার পরে কেউ যদি নবী হতো সে হতো উমার।” (বুখারী) উমার (রাঃ) এর তাক্বওয়া, দ্বীনদারিতা, ইস্তিক্বামা, ন্যায়পরায়ণতা, প্রজ্ঞা রাসুল (সাঃ) এর কাছে প্রমানিত ছিলো। উমার (রাঃ) এর প্রতি রাসুল (সাঃ) এর এতোটুকু আস্থা ছিলো, উমার কোন অন্যায় কাজের জন্য আদেশ করতে পারেনা। নিশ্চয়ই আব্দুল্লাহর স্ত্রীর মাঝে কোন গুরুতর ত্রুটি আছে, একারণে আব্দুল্লাহকে তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার আদেশ করেছেন। . কিন্তু আজকালকার কোন পিতা-মাতা যদি স্রেফ রাগ কিংবা জিদের বশবর্তী হয়ে, যৌতুকের টাকার লোভে, মেয়ে উচ্চ বংশের না, কথিত বাংলা কিংবা ইংরেজী মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষিত না, সুন্দরী নয়, এমন তুচ্ছ অজুহাতে তালাক দিতে আদেশ করে – এমন অন্যায় আদেশ মানা যাবেনা। কারণ উপযুক্ত কারণ ছাড়া কোন নারীকে তালাক দিয়ে তার ও সন্তানদের জীবনকে বিপন্ন করা একপ্রকার যুলুম। . আলেমদের ফতোয়াঃ আহলে সুন্নাহর মহান ইমাম, আহমাদ ইবনে হাম্বাল (রহঃ) কে এক লোক এসে বললো, “আমার পিতা আমার স্ত্রীকে তালাক দিতে আদেশ করেছে। আমি কি করবো?” ইমাম আহমাদ বললেন, “তুমি তালাক দিওনা।” লোকটি বললো, “কিন্তু উমার রাঃ তার ছেলে আব্দুল্লাহকে তার স্ত্রীকে তালাক দিতে আদেশ করেছিলেন, পরবর্তীতে রাসুল (সাঃ) আব্দুল্লাহকে উমার (রাঃ) এর কথা অনুযায়ী তার স্ত্রীকে তালাক দিতে আদেশ করেছিলেন।” ইমাম আহমাদ বলেন, “উমর (রাঃ) এর মর্যাদা আর তোমার পিতার মর্যাদা কি সমান?” (ইবনে মুফলিহ, আল-আদাব আল-শারই’য়াহঃ ১/৪৬৫) . হানাফী মাযহাবের প্রখ্যাত আলেম, মোল্লা আলী ক্বারী (রহঃ) অনুরূপ ফতোয়া দিয়েছেন। (দেখুন মিরক্বাতঃ ১/১৩২) . সর্বশেষ, প্রিয়নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর একটি অমূল্য উপদেশ দিয়ে আমার এই লেখা এখানেই শেষ করছি। তিনি বলেছেন, “(হে আমার উম্মতের লোকেরা!), তোমরা স্ত্রীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো।” (মুসলিম, তিরমিযী)

নারীদের (মাসিক পিরিওড বা হায়েয থেকে) পবিত্রতার মাসয়ালা-মাসায়েল‍: ================================== সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যে যিনি বিশ্ব জগতের পালনকর্তা। দরূদ ও সালাম আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সমস্ত সাহাবায়ে কেরামের উপর বর্ষিত হোক। ইসলামী শরীয়তের বিধি-বিধান সম্পর্কে জানা প্রত্যে মুসলিম নারীর উপর কর্তব্য। বিশেষ করে ইবাদত সংক্রান্ত বিধি-বিধান। কেননা তা না জানলে চলতেই পারবে না। ঐ বিধানগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, পবিত্রতার বিধান। যার অনেক কিছুই অনেকের জানা নেই। কখনো লজ্জার কারণে বিষয়গুলো জানতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। নিম্নে হায়েয বা ঋতু সম্পর্কে শরীয়তের বিধি-বিধান আলোচনা করা হলঃ হায়েয কাকে বলে? নারীর জরায়ু থেকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিনা কারণে প্রাকৃতিকভাবে নির্গত রক্ত স্রাবকে হায়েয বা ঋতুস্রাব বলা হয়। অতএব অসুস্থতা, আঘাত, পড়ে যাওয়া, সন্তান প্রসব ইত্যাদি কোন কারণ ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে নির্গত রক্ত স্রাবই হচ্ছে হায়েয। আল্লাহ্ বলেন, وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى “আর তারা আপনাকে ঋতু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, আপনি বলে দিন উহা অসূচী বা নাপাক বস্তু।” (সূরা বাকারাঃ ২২২) হায়েয সম্পর্কে কিছু নিয়ম-নীতি ও মাসআলা-মাসায়েলঃ ১- স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশী কখনো কখনো হায়েয হতে পারে। তখন বেশী দিনগুলোকে হায়েযের দিন হিসেবেই গণনা করতে হবে। যেমনঃ জনৈক নারীর হায়েয ছিল পাঁচ দিন। এটা বৃদ্ধি হয়ে সাত হয়ে যায়। তখন তার হায়েযের সময় সাত দিন বলেই গণ্য করতে হবে। ২- কখনো নির্দিষ্ট দিনের চেয়ে কম হয়। তখন ঐ কম দিনই হায়েয হিসেবে গণনা করতে হবে। যেমনঃ জনৈক নারীর ঋতু ছিল পাঁচ দিন। তা কমে গিয়ে হয়েছে চার দিন। তখন আর অপেক্ষা করতে হবে না। তার ঋতুর সময় শেষ হয়ে গেছে। ৩- হায়েযের সময় বৃদ্ধি হয় বিশেষ কোন কারণে। যেমন জন্মনিরোধক ঔষধ সেবন করার কারণে। তখন হায়েযের সময়টা বেড়ে যায়। যেমন পূর্বে পাঁচ দিন ছিল, ঔষধ সেবন করার কারণে তা বেড়ে গিয়ে আট দিন পর্যন্ত স্রাব চলতেই থাকল। তখন তার ঋতু আট দিন হয়েছে বলেই গণ্য করতে হবে। অবশ্য সে ক্ষেত্রে মুসলিম মহিলা ডাক্তারের কাছে গিয়ে চেক করে নিশ্চিত হতে হবে যে, ঔষধ যথাস্থানে ব্যবহার করা হয়েছে এবং আঘাত, বা অন্য কোন অসুস্থতার কারণে রক্তক্ষরণ হচ্ছে না। ৪- ঋতু কখনো সময় হওয়ার পূর্বেই হয়ে যেতে পারে। যেমন কারো ঋতু মাসের শেষে হওয়ার কথা, কিন্তু তা এক সপ্তাহ বা দশদিন পূর্বেই হয়ে গেল। এ অবস্থায় তা হায়েয বলে গণ্য করতে হবে। ৫- ঋতু কখনো দেরীতে আসে। যেমন, কারো ঋতু মাসের মাঝামাঝি সময়ে হয়ে থাকে, কিন্তু দেরী হয়ে তা মাসের শেষের দিকে হল। তখন তা হয়েয হিসেবে গণ্য করতে হবে। মূলনীতিঃ (থিউরী) যদি একদিন একরাত পরিমাণ সময় বা তার চেয়ে অধিক সময় ধরে স্রাব নির্গত হয়, তাহলে নারী ঋতুবতী গণ্য হবে। যখনই পবিত্রতা দেখতে পাবে, তখনই পবিত্র হিসেবে নিজেকে গণ্য করবে। চাই নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে বেশী হোক বা কম। চাই সময়ের পূর্বে হোক বা পরে। কেননা আল্লাহ বলেন, وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى “আর তারা আপনাকে ঋতু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, আপনি বলে দিন উহা অসূচী বা নাপাক বস্তু।” (সূরা বাকারাঃ ২২২) ৬- ঋতুর রক্তস্রাব কখনো চলতেই থাকে এবং লাগাতার হতেই থাকে। (এটাই অধিকাংশ নারীর ক্ষেত্রে হয়।) যেমন, কারো পাঁচ দিন ঋতুর সময়। এই পাঁচদিন লাগাতার তার স্রাব নির্গত হতেই থাকে, তারপর সে পবিত্র হয়। ৭- আবার কখনো ঋতুর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচ্ছিন্ন ভাবে স্রাব আসে। কখনো রক্ত দেখা যায়, কখনো বন্ধ থাকে। তখন যে কয়দিন রক্ত দেখবে সে কয়দিন হায়েয বলে গণ্য করবে। যে কয়দিন বন্ধ থাকবে তা পবিত্র বলে গণ্য করবে। যেমনঃ কারো হায়েযের সময় হচ্ছে আট দিন। কোন মাসে তার চারদিন রক্তস্রাব নির্গত হল তারপর দু’দিন বন্ধ থাকল, তারপর আবার দু’দিন দেখা গেল। তখন তার প্রথম চারদিন ঋতুর দিন, মধ্যখানে দু’দিন পবিত্রতার দিন। (অর্থাৎ এ দু’দিন সালাত সিয়াম আদায় করবে) আবার শেষের দু’দিন নিশ্চতভাবে ঋতুর দিন হিসেবে গণনা করবে। কেননা আট দিনই তার ঋতুর নির্দিষ্ট দিন। তাছাড়া মূল হচ্ছে নারীর প্রতিটি রক্ত স্রাবই হায়েয বা ঋতু বলে গণ্য করা- যতক্ষণ তার বিপরীত প্রমাণিত না হয়। এটা ইমাম ইবনে তায়মিয়া (রহঃ)এর মত। কেননা আল্লাহ বলেন, هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ “উহা হচ্ছে নাপাকী, অতএব সে সময় তোমরা স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাক।” (সূরা বাকারাঃ ২২২) ৮- মূলতঃ হায়েযের সময় হচ্ছে একদিন ও একরাত। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিষয়টিকে নারীদের অভ্যাসের সাথে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, “আল্লাহর জ্ঞান অনুযায়ী ছয়দিন বা সাত দিন হায়েয হিসেবে গণনা করবে। যেমন অন্যান্য নারীদের হায়েয হয়ে থাকে।” আর সাধারণতঃ একদিন ও এক রাতের কম সময়ে কারো হায়েয হয়েছে দেখা যায় না। অতএব একদিন ও এক রাতের কম সময়ে যে স্রাব নির্গত হবে তা হায়েয বা ঋতু হিসেবে গণ্য হবে না। এই মূলনীতির ভিত্তিতেঃ ঋতুর নির্দিষ্ট দিন সমূহের মধ্যে যদি একদিন ও একরাত বা তার চেয়ে অধিক সময় ঋতু বন্ধ থাকে, তবে তা পবিত্রতা বলে গণ্য হবে। আর যদি একদিন ও একরাতের কম সময় ধরে স্রাব বন্ধ থাকে, তবে সে হায়েয অবস্থাতেই আছে বলে গণ্য হবে। যেমনঃ (ক) কারো ঋতুর নির্দিষ্ট দিন হচ্ছে সাত দিন। পঞ্চম দিবসে তার ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে গেল- ফজরের পর থেকে রাতের শেষাংশ পর্যন্ত। স্রাব এমনভাবে বন্ধ থাকে যে, যৌনাঙ্গে তুলা বা নেকড়া প্রবেশ করালে তাতে রক্তের কোন চিহ্ন দেখতে পাবে না, শুষ্কতা পাওয়া যাবে। তারপর পুনরায় ষষ্ঠ ও সপ্তম দিবসে স্রাব দেখা যায়। তখন পঞ্চম দিবস পবিত্রতার দিন বলে গণ্য হবে (সালাত আদায় করবে এবং সিয়াম পালন করবে) কেননা শুষ্কতার দ্বারা সেখানে পবিত্রতা প্রমাণিত হয়েছে। অধিকাংশ সময় এভাবেই পবিত্রতা বুঝা যায়। (খ) হায়েযের নির্দিষ্ট সময় যদি সাত দিন হয়, কিন্তু পঞ্চম দিবসে ফজরের সময় থেকে আসর পর্যন্ত স্রাব বন্ধ ছিল। তখন সে ঋতু অবস্থাতেই আছে বলে গণ্য হবে। কেননা ঐ সময়টুকু একদিন ও একরাতের কম সময়। ৯- কখনো নির্দিষ্ট সময় অতিক্রম হওয়ার পরও রক্ত দেখা যায়। যেমন গোসল করে পবিত্র হওয়ার দু’দিন বা তার চেয়ে বেশী সময় পরে দেখা যায়। তখন মূলনীতি হচ্ছে যদি একদিন একরাত বা তার চেয়ে বেশী সময় ধরে স্রাব দেখা যায়- যেমন পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে- তবে তা হায়েয বলে গণ্য। যতক্ষণ তার বিপরীত আঘাত জনিত বা অন্য কোন কারণে রক্তক্ষরণ হচ্ছে প্রমাণিত না হবে। যেমনঃ কোন নারীর ঋতুর নির্দিষ্ট দিন হচ্ছে চার দিন। চারদিন অতিক্রম হওয়ার পর সে পবিত্র হয়ে গেছে। কিন্তু ষষ্ঠ ও সপ্তম দিবসে আবার রক্ত দেখা যাচ্ছে। তখন ষষ্ঠ ও সপ্তম দিবসে যে রক্ত দেখেছে তা হায়েযের রক্ত বলে গণ্য করবে। প্রশ্নঃ কিভাবে নারী বুঝবে যে এই রক্ত একদিন ও একরাতের কম সময় ধরে প্রবাহিত হবে, ফলে সেটাকে হায়েয গণ্য করবে না। অথবা তার চেয়ে বেশী সময় ধরে নির্গত হতে থাকবে, ফলে নিজেকে পবিত্র বলে গণ্য করবে? উত্তরঃ প্রথমতঃ এই রক্ত যদি ঋতুর নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে হয় বা তার পাশাপাশি সময়ে হয়, তবে তা হায়েয হিসেবে গণ্য করবে। কেননা ওটাই আসল- যতক্ষণ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে শুষ্কতা দেখা না যাবে। অনুরূপ কথা যদি জানে যে প্রতিবার ঋতু হওয়ার সময় তার এরূপ হয়ে থাকে। দ্বিতীয়তঃ হায়েযের নির্দিষ্ট সময় অতিক্রম হয়ে পবিত্রতার সময় দেখা যায় আর সেখানে হায়েযের কোন আলামত দেখা না যায়, যেমন পিঠে ব্যাথা অনুভব করা, অথবা রক্তের রঙ ও দুর্গন্ধ থাকে না, গাঢ় প্রকৃতির নয়, অধিকাংশ সময় দুশ্চিন্তা করলে বা মানসিকতায় দুর্বলতা দেখা দিলে স্রাব এসে থাকে পরে আবার চলে যায়, তবে এসকল অবস্থায় তা হায়েয হিসেবে গণ্য হবে না। কিন্তু যদি সেই নির্গত রক্তের সাথে হায়েযের আলামত দেখা যায়, তবে তা হায়েয হিসেবে গণ্য হবে- যতক্ষণ তা হায়েযের সর্বনিম্ন সময় বরাবর না হবে। ১০- কোন মাসে যদি হায়েযের স্রাব নির্দিষ্ট সময় থেকে বেশী হয়ে যায়, তবে সেই বেশী সময়টাতে নিজেকে ঋতুবতী গণ্য করবে। যেমনঃ ঋতুর নির্দিষ্ট সময় পাঁচ দিন ছিল। কিন্তু কোন মাসে এগার দিন পর্যন্ত স্রাব চলতে থাকল, তারপর পবিত্র হল, তাহলে এই মাসে তার ঋতুর দিন এগার বলেই গণ্য হবে। • কিন্তু তারপরও যদি স্রাব চলতেই থাকে, হায়েযের সর্বোচ্চ সময়সীমা তথা পনের দিন পর্যন্ত। তাহলে পনের দিন হয়ে গেলে গোসল করে পবিত্র হয়ে যাবে, যদিও রক্তস্রাব চলতেই থাকে। ঐ অবস্থায় প্রত্যেক ফরয সালাতের জন্যে আলাদাভাবে ওযু করবে। আর পোষাক থেকে ইস্তেহাযার রক্তের চিহ্ন ধুয়ে ফেলবে। তখন পনের দিনের পর নির্গত রক্তকে ইস্তেহাযার রক্ত বলা হবে। এটাই জুমহূর তথা অধিকাংশ বিদ্বানের মাযহাব। • কিন্তু যদি পরবর্তী মাস পর্যন্ত এই স্রাব চলতেই থাকে, তবে তাকে বলা হবে মুস্তাহাযা। আর যে নারীর মাসের পুরাটা সময় বা দু’এক দিন বাদে অধিকাংশ সময় সর্বদা রক্তস্রাব হতেই থাকে তাকে মুস্তাহাযা বলা হয়। তখন ইস্তেহাযা হলে বিধি-বিধান কি তা জেনে নিতে হবে।