https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2220657267987485&id=100001297017101

আসসালামুআলাইকুম আমার ছেলে ওমর

বিদ‘আত প্রসঙ্গে –
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
বিদ‘আতের সংজ্ঞা :
বিদ‘আত অর্থ নতুন সৃষ্টি ।
বিদ‘আত শব্দের আভিধানিক অর্থ হল:
শব্দটির মূল অক্ষর হলো- ب-د-ع যার মৌলিক অর্থ দুইটি
(ক) অপূর্ব সৃজন বা নতুন আবিষ্কার ।
اَلشَّيْءُ الْمُخْتَرَعُ عَلٰى غَيْرِ مِثَالٍ سَابِقٍ
অর্থাৎ পূর্ববর্তী কোন নমুনা ছাড়াই নতুন আবিষ্কৃত বিষয়।
মিশকাত- ১/২১৬ পৃঃ ) যেমন- বলা হয়
ابدعت الفعل (আমি একটি নতুন কাজ করেছি )
(তিনি দৃষ্টান্ত ছাড়া আসমান জমিন সৃষ্টি করেছেন )

(খ) ধ্বংস হওয়া, ক্লান্ত হওয়া, যেমন- বলা হয় ابدعت الراحلة
(সৃষ্টি ক্লান্ত হয়ে গেলে ) এবং হাদিস শরিফে আছে , النى ابدعنى فلحمله
(আমার সৃষ্টি ধ্বংস হয়েছে সুতরাং আমার সাওয়ারির
ব্যবস্থা করুন )

আর শরীয়তের পরিভাষায়-
مَا أُحْدِثَ فِى دِيْنِ اللهِ وَلَيْسَ لَهُ أَصْلٌ عَامٌ وَلاَخَاصٌّ يَدُلُّ عَلَيْهِ
অর্থাৎ আল্লাহ্‌র দ্বীনের মধ্যে নতুন করে যার প্রচলন করা হয়েছে এবং এর
পক্ষে শরীয়তের কোন ব্যাপক ও সাধারণ কিংবা খাস ও সুনির্দিষ্ট দলীল নেই।
এভাবে ও বলা যায় –
শরীয়তের পরিভাষায় বিদ‘আত বলা হয় দ্বীনের মধ্যে কোন নতুন সৃষ্টিকে,
অর্থাৎ দ্বীনের মধ্যে ইবাদাত মনে করে এবং অতিরিক্ত ছওয়াবের আশায়
এমন কিছু আকিদা বা আমল সংযোজন ও বৃদ্ধি করা, যা রাসুল (সা:)
সাহাবি ও তাবেয়িদের যুগে অর্থাৎ আদর্শ যুগে ছিল না । তবে যে সব নেক
কাজের প্রেক্ষাপট সে যুগে সৃষ্টি হয়নি, পরবর্তীতে নতুন প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হওয়ায়
নতুন আঙ্গিকে দ্বীনের কোন কাজ করা হয় সেটা বিদআত নয়, যেমন প্রচলিত
ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ।

এ সংজ্ঞাটিতে তিনটি বিষয় লক্ষণীয় :
নতুনভাবে প্রচলন অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম ও সাহাবায়ে
কিরামের যুগে এর কোন প্রচলন ছিল না এবং এর কোন নমুনাও ছিল না।
এ নব প্রচলিত বিষয়টিকে দ্বীনের মধ্যে সংযোজন করা এবং ধারণা করা যে,
এটি দ্বীনের অংশ। নব প্রচলিত এ বিষয়টি শরীয়তের কোন ‘আম বা খাস
দলীল ছাড়াই চালু ও উদ্ভাবন করা।

সংজ্ঞার এ তিনটি বিষয়ের একত্রিত রূপ হল বিদ‘আত, যা থেকে বিরত থাকার
কঠোর নির্দেশ শরীয়তে এসেছে। কঠোর নিষেধাজ্ঞার এ বিষয়টি হাদীসে বারবার
উচ্চারিত হয়েছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম বলেছেন,
«وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُوْرِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ» رواه أبو داود والترمذى.
তোমরা (দ্বীনের) নব প্রচলিত বিষয়সমূহ থেকে সতর্ক থাক। কেননা প্রত্যেক
নতুন বিষয় বিদআ‘ত এবং প্রত্যেক বিদ‘আত ভ্রষ্টতা ।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম তাঁর এক খুতবায় বলেছেন:

إِنَّ أَصْدَقَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللهِ وَأَحْسَنَ الْهَدْيِ هَدْيُ
مُحَمَّدٍ وَشَرُّ الأُمُوْرِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلُّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ
وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ وَكُلُّ ضَلاَلَةٍ فِي النَّارِ. رواه مسلم
والنسائى।
‘‘নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহ্‌র কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মদের আদর্শ।
আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হল (দ্বীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয়। আর নব উদ্ভাবিত
প্রত্যেক বিষয় বিদ‘আত এবং প্রত্যেক বিদ‘আত হল ভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক পথভ্রষ্টতার
পরিণাম জাহান্নাম।

এখানে
একটা বিষয় লক্ষণিয় যে, দ্ধীনের মধ্যে বেদআত ভ্রষ্টতা, দ্ধীনের জন্য হলে
ভ্রষ্টতা নয়। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “ফিদ্দীন”
বলেছেন, “লিদ্দীন” বলেন নি।

এ ব্যপারে বিভিন্ন গ্রন্থে ওলামায়ে কেরামদের অনেক গুলো উক্তি উল্লেখ রয়েছে ।
এখন নির্ভর যোগ্য কয়েকটি উক্তি উল্লেখ করা হলো –
(১) ইমাম শাফেয়ি (র) বলেন –
বিদয়াত এমন বিষয় যা কুরআন, হাদিস,সাহাবায়ে কেরামের আসর এবং ইজমায়ে
উম্মতের পরিপন্থি পন্থায় আবিষ্কৃত হয়েছে ।

(২) হাফেজ ইবনে হাজার আস্কালানি (র) বলেন –
অর্থাৎ- বিদআত এমন বস্তুকে বলে, শরীয়তে যার কোন ভিত্তি বা প্রমান নেই ।
(ফাতহুল বারী -১৩/২২৫৩ পৃঃ )

(৩) শাব্বির আহমাদ ওসমানী (র) বলেন –
এমন বিষয় বা কাজকে বিদয়াত বলে কুরআন, সুন্নাহ, সাহাবা, তাবেয়ি,
তাবে-তাবেইনদের পক্ষ থেকে যার কোন ভিত্তি বা প্রমান নেই এবং তা
দ্বীন ও সওয়াবের মনে করা হয় ।

(৪) صلحب تحفة الا حبلب বলেন-
অর্থাৎ শরীয়তের পরিভাষায় বিদয়াত ঐ সমস্ত বস্তুকে বলা হয়, যা দ্বীন মনে
করে করা হয় । অথচ তাঁর কোন প্রমান কুরআন, সুন্নাহ, ইজমায়ে মুস্তাহিদ ও
কেয়াসের শর‍্যিতে নেই ।( تحفة الا حبلب ৫৫ পৃঃ )

এ ছারাও আল্লামা বদ্রুদ্দিন আইনি, আল্লামা শাতেবি, রাগেব ইস্পাহানি প্রমুখ
বরেন্য মনীষীদের এ ধরনের অনেক উক্তি বিদ্যমান রয়েছে । সারকথা সওয়াবের
প্রত্যাশায় ইবাদাত কিংবা ইবাদতের এমন কোন পন্থা বা পদ্ধতি আবিষ্কার করা,
যে গুলো শরীয়তের দলিলচতুষ্ঠয় অর্থাৎ কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা, শরয়ি কিয়াসে
সুস্পষ্ট বা অস্পষ্ট কোনভাবেই কোন প্রকার ভিত্তি পাওয়া যায় না । তাকে শরীয়তের
দৃষ্টিতে বিদআত বলে ।

বিঃ দ্রঃ যে সমস্ত আমল শরীয়তে মুস্তাহাব সেগুলকে যদি ফরজ বা অয়াজিবের সমতুল্য
মনে করা হয়, তা হলে তাও বিদয়াত হয়ে যায় । এ জন্য মুস্তাহাব আমল মাঝে মাঝে বর্জন
করবে । যেমন- যে সমস্ত নামাজের পর সুন্নত নেই সে সব নামাজের পর সালাম ফিরিয়ে মুক্তাদিদের দিকে ফেরা মুস্তাহাব, নামাজের পর দুয়া করা মুস্তাহাব । এখন জুদি কেউ এটাকে
জুরুরি মনে করে, তাহলে তা বিদয়াত ও বর্জনীয় ।

সারকথা, শরীয়তের দৃষ্টিতে বিদয়াত একটি গর্হিত কাজ ও মারাত্মক গুনাহ । যার
কোন কোণটা তো কুফর ও শিরক । আর অন্য গুলো কুফর ও শিরক না হলেও কুফর
ও শিরকের পর সবচেয়ে জগন্যতম গুনাহ এবং ইসলাম ধবংস করার নামান্তর । যথা-
এক হাদিসে রাসুল (সাঃ) ইরশাদ করেন –
এবং বিদাতের দ্বারা সুন্নত বিলুপ্ত হয়ে যায় । যেমন – ইবনে আব্বাস (রা) বলেন,
যখন কোন মানুষ একটি বিদয়াত উদ্বোধন করে, তখন তাদের থেকে একটি সুন্নত
মরে যায় ।

********************************************
******বিদআত নিয়ে বিভ্রান্তির নিরসন******
*********************************************

সাম্প্রতিক কালে ধর্মীয় কোন বিষয় আসলেই বিদআত শব্দটা নিয়ে আসে একদল। একে অন্যকে বিদআতী বলে তিরস্কার করে । কিন্তু বিদআত বিষয়টা কি? শরীয়ত কি বলে? সব বিদআতই কি পরিত্যাজ্য ? নাকি পরিত্যাজ্য বিদআতই পরিত্যাজ্য।

সহীহ্ সমঝের জন্য বিদয়াত সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত অথচ দলীল ভিত্তিক আলোচনা করা হলো- মূলতঃ বিদয়াত সম্পর্কে বুঝতে হলে, আমাদেরকে প্রথমেই জানতে হবে বিদয়াতের লোগাতী ও শরীয়তী অর্থ | অতপরঃ জানতে হবে বিদয়াত কত প্রকার ও কি কি? কোনটি গ্রহণযোগ্য ও কোনটি পরিত্যাজ্য |

বিদয়াতের লোগাতী অর্থ
————————
বিদয়াতের লোগাতী অর্থ হচ্ছে-
(১) “বিদয়াত হলো-দ্বীনের পূর্ণতার পর নতুন কোন বিষয় উদ্ভব হওয়া অথবা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর আমল ও খাহেশাত সম্পর্কিত কোন বিষয় নতুন উদ্ভব হওয়া |” (লোগাতুল কামূস আল মহীত্ব ৩য় জিঃ পৃঃ৩, বায়ানুল লিসান, পৃঃ১১৫)

(২) “বিদয়াত হলো- নমুনা ব্যতীত সৃষ্ট জিনিস |” (মিছবাহুল লোগাত, পৃঃ ২৭)

(৩) “বিদয়াত মূলতঃ ওটাকেই বলা হয়, যা পূর্ব নমুনা ব্যতীত সৃষ্টি করা হয়েছে |” (ফাতহুল বারী শরহে বুখারী ৪র্থ জিঃ পৃঃ২১৯, মিরকাত শরীফ)

(৪) “জেনে রাখ, হুযূরে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পারে উদ্ভব ঘটেছে এমন প্রত্যেক কাজই বিদয়াত |” (আশয়াতুল লোমআত)

(৫) “বিদয়াত হলো- নতুন কথা, নতুন প্রথা |” (আরবী ফিরোজুল লোগাত পৃঃ৫৩)

(৬) “বিদয়াত ওটাকে বলা হয়, যা পূর্ব নমুনা ব্যতীত সৃষ্টি করা হয় |” (লোগাত আল মনজিদ পৃঃ৭৬)

(৭) “বিদয়াত হলো- নতুন কথা |” (লোগাতে সাঈদী পৃঃ৯৬)
সুতরাং বিদয়াত শব্দের লোগাতী বা আভিধানিক মূল অর্থ হলো- নতুন উৎপত্তি, নতুন উদ্ভব, নতুন সৃষ্টি | পূর্বে যার কোন অস্তিত্ব ছিলনা |

বিদয়াতের শরীয়তী অর্থ
———————–
(১) বিদয়াতের শরীয়তী অর্থ সম্পর্কে বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফক্বীহ্ আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি লিখেছেন, “প্রকৃতপক্ষে বিদয়াত হলো- এমন জিনিসের আবির্ভাব, যার নমুনা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময় ছিলনা |” (ওমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী ৫ম জিঃ পৃঃ৩৫৬)

(২) আল্লামা ইসমাইল নাবিহানী রহমতুল্লাহি আলাইহি লিখেছেন, (শায়খুল ইসলাম) ইজদুদ্দীন ইবনে সালাম বলেন, “বিদয়াত এমন একটি কাজ, যা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানায় সম্পন্ন হয়নি |” (জাওয়াহিরুল বিহার পৃঃ২৮০)

(৩) ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি লিখেছেন, “শরীয়ত মুতাবেক বিদয়াত হচ্ছে- এমনসব নব আবিস্কৃত জিনিসের নাম, যা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময় ছিলনা |” (শরহে মুসলিম লিন নববী)

(৪) হাফেজ ইবনে রজব রহমতুল্লাহি আলাইহি লিখেছেন, “বিদয়াত ঐ বিষয়কেই বলা হয়, যার ভিত্তি শরীয়তে নেই | সুতরাং শরীয়তে যে বিষয়ের ভিত্তি রয়েছে, শরীয়ত মুতাবেক তা বিদয়াত নয়, যদিও আভিধানিক অর্থে বিদয়াত বলা হয় |” (জামিউল উলূম ওয়াল হাকাম পৃঃ১৯৩, ইরশাদুল উনূদ পৃঃ১৬১)

(৫) ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি লিখেছেন, ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “বিদয়াতের শরীয়তী অর্থ হচ্ছে এমন একটি নতুন কর্ম, যা হুযূরে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানায় ছিলনা |” (তাহযীবুল আসমা ওয়াল লোগাত)
শরীয়তের দৃষ্টিতে বিদয়াত শব্দের মূল অর্থ হলো- ঐ নতুন উদ্ভব বিষয়, যার ভিত্তি কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসে নেই |

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা এটা স্পষ্টই বুঝা যায় যে, বিদয়াত হলো- হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর হতে ক্বিয়ামত পর্যন্ত উদ্ভাবিত প্রত্যেক নতুন বিষয় | এখন তা ‘খায়রুল কুরুনে’ও হতে পারে অথবা তার পরেও হতে পারে |

বিদয়াতের ব্যাখ্যা
—————-
উপরোক্ত লোগাতী ও শরীয়তী অর্থের আলোচনা দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, বিদয়াত হলো হুযূরে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর হতে ক্বিয়ামত পর্যন্ত উদ্ভাবিত প্রত্যেক নতুন বিষয় | অতএব, নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ের কোনটি শরীয়তে গ্রহণযোগ্য ও কোনটি পরিত্যাজ্য, তা অবশ্যই ব্যাখ্যা সাপেক্ষ | তাই এ বিদয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বিখ্যাত মুহাদ্দিস হযরত মোল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর বিশ্ব বিখ্যাত হাদীছ শরীফের কিতাব মেশকাত শরীফের শরাহ্ মেরকাত শরীফে উল্লেখ করেন, “ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, যে নব উদ্ভাবিত কাজ কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, আসার (অর্থাৎ সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণের আমল বা কাওল) অথবা ইজমার বিরুদ্ধ বলে প্রমাণিত, সেটাই গোমরাহী ও নিকৃষ্ট | আর যে নব উদ্ভাবিত কাজ উল্লেখিত কোনটির বিপরীত বা বিরুদ্ধ নয়, তা মন্দ বা নাজায়েয নয় |” (মেরকাত শরহে মেশকাত, ১ম জিঃ পৃঃ১৮৯)
ইমাম শারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “প্রত্যেক নতুন উদ্ভাবিত পদ্ধতিই যে নিকৃষ্ট বা নিষিদ্ধ হবে, তার কোন যুক্তি নেই |” (আরওয়ারে কুদসিয়্যাহ্)

অথচ আজকাল কিছু জাহিল লোক সকল বিদয়াতকেই (নতুন উদ্ভাবিত পদ্ধতি) গোমরাহী বলে থাকে এবং দলীল হিসাবে তারা নিম্নোক্ত হাদীস শরীফখানা পেশ করে থাকে |
যেমন হাদীছ শরীফে ইরশাদ করা হয়েছে,
كل بدعة ضلالة وكل ضلالة فى النار.
অর্থঃ- “প্রত্যেক বিদয়াতই গোমরাহী, আর প্রত্যেক গোমরাহ লোকই জাহান্নামে যাবে।”
অথচ তার ব্যাখ্যা সম্পর্কে তারা নেহায়েতই অজ্ঞ | এ হাদীস শরীফের ব্যাখ্যা মেশকাত শরীফের শরাহ্ মেরকাত শরীফে উল্লেখ করা হয়, “সাহেবে মেরকাত হযরত মোল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “আল আজহার” নামক কিতাবে كل بدعة ضلالة হাদীস শরীফের এ অংশটুকুর ব্যাখ্যা এভাবে করা হয়েছে, “সকল বিদয়াতে সাইয়্যিয়াই গোমরাহী |”
আর তাই শায়খ ইব্রাহীম হালবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “নতুন উদ্ভাবিত কোন কাজ হযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাবেয়ীনগণের নিকট হতে প্রমাণিত না থাকলে অথবা উক্ত কাজের প্রতি বিদয়াত শব্দ আরোপিত হলেই যে, তা মন্দ বা গোমরাহী একথা যুক্তিযুক্ত নয় | বরং তা ভালও হতে পারে |” (কবীরী শরহে মুনিয়াতুল মুসল্লী পৃঃ২৫১)

হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও উনার এহইয়াউল উলুম কিতাবের ২য় খন্ড ২৬ পৃষ্ঠায় অনুরূপ মন্তব্য করেন |
কেউ কেউ আবার হযরত আয়েশা আলাইহাস সালাম ওয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা হতে বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদীছ শরীফখানা পেশ করে বলেন, যে সকল বিদয়াতই পরিত্যাজ্য | হাদীস শরীফে ইরশাদ করা হয়,
من احدث قى امرنا هذا ما ليس منه فهورد.
“যে ব্যক্তি আমার এ দ্বীনের ভিতরে কোন নতুন জিনিস উদ্ভাবন করবে, যার ভিত্তি এ দ্বীনে নেই, সেটা অবশ্যই পরিত্যাজ্য |”

এ হাদীস শরীফের ব্যাখ্যায় মাওলানা শাব্বীর আহমদ ওসমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “ ما ليس منه হাদীস শরীফের উক্ত শব্দ দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয়, যে সকল দ্বীনী কাজের সনদ কুরআন শরীফ অথবা হাদীস শরীফ বা খোলাফা-ই-রাশেদীন রদ্বীয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের সুন্নত অথবা বুযুর্গানে দ্বীনের পারস্পরিক কার্যকলাপ অথবা গ্রহণযোগ্য শর্তাদীসহ শরীয়তের স্পষ্ট দলীলসমূহের ভিত্তিতে যে ইজতিহাদ করা হয়েছে, তার মধ্যে পাওয়া যায়, তবে সেগুলোকে নিকৃষ্ট বিদয়াত (বিদয়াতে সাইয়্যিায়াহ্) বলা যাবেনা | কারণ এ ভিত্তিসমূহ দ্বীনের অন্তর্ভূক্ত |” (ফাতহুল মুলহিম শরহে মুসলিম, ২য় জিঃ পৃঃ৪০৭)

অতএব, যে সকল কাজ উল্লেখিত ভিত্তিসমূহের উপর প্রতিষ্ঠিত, তা দ্বীন অর্থাৎ শরীয়তের অন্তর্ভূক্ত বলেই বিবেচিত হবে | অনুরূপ মোযাহেরে হক্ব ১ম খন্ড ৭০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে, হাদীছ শরীফে
ما ليس منه শব্দ ব্যবহার হয়েছে- উদ্দেশ্য এই যে, যে সকল কাজ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফের বিরুদ্ধ নয়, সেগুলোকে বিদয়াতের গন্ডি বহির্ভূত করে রাখা | কারণ এ সকল কাজ নতুন উদ্ভুত হলেও গোমরাহী বা নিকৃষ্ট নয় |

উল্লেখিত আলোচনা দ্বারা এটা স্পষ্টই প্রমাণিত হয় যে, বিদয়াত মাত্রই পরিত্যাজ্য নয় এবং সকল বিদয়াতই গোমরাহী নয় | যদি তাই হতো, তবে তারাবীহ্ নামাজ জামায়েতে পড়া জায়েয হতো না | কেননা এটাকেও বিদয়াত বলা হয়েছে, অর্থাৎ উত্তম বিদয়াত |

এখন মূল বিষয় হলো- বিদয়াত কত প্রকার ও কি কি এবং তার মধ্যে কোনটি শরীয়তে গ্রহণযোগ্য আর কোনটি শরীয়তে পরিত্যাজ্য, তা নির্ণয় করা |

বিদয়াতের শ্রেণী বিভাগ
———————-
ইমাম, মুজতাহিদগণ শরীয়তের বিধান অনুযায়ী বিদয়াতকে
প্রথমতঃ দু’ভাগে বিভক্ত করেছেন-
১| বিদয়াতে ই’তেক্বাদী, অর্থাৎ আক্বীদা বা বিশ্বাসগত বিদয়াত |
২| বিদয়াতে আ’মালী, অর্থাৎ কর্মগত বিদয়াত |

(১) বিদয়াতে ই’তেক্বাদী বা আক্বীদাগত বিদয়াত হলো-
————————————————–
যে সমস্ত আক্বীদা কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফের মূলনীতির বহির্ভূত,
মূলতঃ এ আক্বীদাগত বিদয়াতের সবটাই হারামের পর্যায়ভূক্ত ‍এবং অবশ্যই পরিত্যাজ্য | যেমন- খারেজী, মু’তাজিলা, জাবারিয়া, ক্বদরিয়া, শিয়া ইত্যাদি বাতিল ফিরকার আবির্ভাব | এই নব আবির্ভূত ফিরকার ন্যায় আক্বীদা পোষণ করা সম্পূর্ণই হারাম ও কুফরী |

(২) বিদয়াতে আ’মালী বা কর্মগত বিদয়াতঃ
—————————————-
বিদয়াতে আ’মালী প্রথমতঃ দু’ভাগে বিভক্ত-
(ক) বিদয়াতে হাসানা,
(খ) বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ্ |

(ক) বিদয়াতে হাসানা আবার তিন প্রকার-
(১) বিদয়াতে ওয়াজিব, (২) বিদয়াতে মোস্তাহাব ও (৩) বিদয়াতে মোবাহ্ |

আর এ বিদয়াতে হাসানাহ্ সম্পর্কেই হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
من سن فى الا سلام سنة حسنة فله اجرها واجر من عمل بها من بعده
“যে কেউ দ্বীন ইসলামে উত্তম কোন পদ্ধতি উদ্ভাবন করবে (যা শরীয়ত সম্মত), তার জন্য সে সাওয়াব পাবে এবং তারপরে যারা এ পদ্ধতির অনুসরণ করবে, তার সাওয়াবও সে পাবে |” (মুসলিম শরীফ)
উল্লেখিত হাদীস শরীফের দৃষ্টিতে বিদয়াতে হাসানাকে বিদয়াত লিদদ্বীন বলা হয় | কেউ কেউ আবার উক্ত হাদীস শরীফের দৃষ্টিতে বিদয়াতে হাসানাকে ‘বিদয়াতে লোগবী’ও বলে থাকেন | অর্থাৎ যদিও শাব্দিক অর্থে বিদয়াত বলা হয়েছে, মূলতঃ এগুলো সুন্নাতেরই অন্তর্ভূক্ত | কারণ হাদীছ শরীফে (سنة) সুন্নাত শব্দ উল্লেখ রয়েছে।

(খ) আর বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ্ দু’প্রকার- (১) বিদয়াতে হারাম, (২) বিদয়াতে মাকরূহ্ |
এই বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ্ সম্পর্কেই হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
من احدث فى امر نا هذا ماليس منه فهورد
“যে ব্যক্তি আমার এ দ্বীনের ভিতরে কোন নতুন জিনিসের প্রবর্তন করবে, যার ভিত্তি এ দ্বীনে নেই, তা অবশ্যই পরিত্যাজ্য |” (মিশকাত শরীফ)
আর এ বিদয়াত সম্পর্কেই ইরশাদ হয়েছে, كل بدعة ضلالة وكل ضلالة فى النار.
অর্থঃ- “প্রত্যেক বিদয়াতই গোমরাহী, আর প্রত্যেক গোমরাহ লোকই জাহান্নামে যাবে |”
উল্লেখিত হাদীস শরীফের দৃষ্টিতে বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহকে বিদয়াত ফিদদ্বীন বলা হয় | আর এ বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহকেই ‘শরয়ী’ বিদয়াত বলা হয় |

মূলকথা হলো- যা সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর নতুন উদ্ভব হয় এবং তা দ্বীনের সাহায্য করে থাকে অথবা সাহায্যকারী না হলেও দ্বীনের কোন ক্ষতি করে না, সেটাই বিদয়াত লিদদ্বীন বা লোগবী বিদয়াত অর্থাৎ বিদয়াতে হাসানা | আর যে নতুন বিষয় উদ্ভব হওয়ার কারণে দ্বীনের কিছুমাত্রও ক্ষতি হয়, তবে সেটাই হবে বিদয়াতে ফিদদ্বীন বা শরয়ী বিদয়াত অর্থাৎ বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ্ |

উল্লেখিত আলোচনা দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, বিদয়াত বলতেই পরিত্যাজ্য নয় | অর্থাৎ যেই নতুন উদ্ভাবিত কাজ কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসের বিপরীত তা অবশ্যই বর্জনীয়। আর সেটাই বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ্ বা হারামের অন্তর্ভূক্ত, যদিও তা “কুরুনে সালাসার” মধ্যে উদ্ভাবিত হোক না কেন | আর যেই নতুন উদ্ভাবিত কাজ কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসের অনুকুলে তা অবশ্যই জায়েয এবং উত্তম, আর এটাকেই বিদয়াতে হাসানাহ্ বলা হয় | যদিও তা ‘কুরুনে সালাসার’ পরে উদ্ভাবিত হয় |

বিদয়াতে হাসানা ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ-এর বিশ্লেষণ
—————————————————
নিম্নে বিদয়াতে হাসানা ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়ার উদাহরণভিত্তিক ব্যাখ্যা দেয়া হলো-

১| বিদয়াতে ওয়াজিবঃ- যা পালন না করলে ইসলামের ক্ষতি বা সংকট হবে, যেমন- কুরআন শরীফ ও হাদীস শরীফ কাগজে কিতাব আকারে লিপিবদ্ধ করা, কুরআন শরীফের জের, জবর, পেশ দেওয়া, মাদ্রাসা নির্মাণ করা, নহু সরফ, উসুল ইত্যাদি প্রয়োজনীয় কিতাব লেখা ও পড়া |

২| বিদয়াতে মোস্তাহাবঃ- যা শরীয়তে নিষেধ নেই এবং তা সমস্ত মুসলমানগণ ভাল মনে করে সাওয়াবের নিয়তে করে থাকেন, যেমন- তারাবীহ্ নামাজ জামায়াতে পড়া, মুসাফিরখানা, ইবাদতখানা, লঙ্গরখানা, ইত্যাদি জনহিতকর কাজ করা | খতিবের সম্মুখে আজান দেওয়া, রমাদ্বান শরীফে বিতর নামাজ জামায়াতে আদায় করা ইত্যাদি | এ প্রসঙ্গে হযরত ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত- সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
ما راه الناس حسنا فهو عندالله حسنا – لا تجتمع امتى على الضلالة
“লোকে যা ভাল মনে করে তা আল্লাহ্ পাক-এর নিকটও ভাল | আমার উম্মতগণ কখনো গোমরাহীর মধ্যে একমত হবে না |” (মেশকাত শরীফ)

৩| বিদয়াতে মোবাহ্ঃ- ঐ সমস্ত নতুন কাজ যা শরীয়তে নিষেধ নেই, যেমন- পোলাও, বিরিয়ানী, বুট, মুড়ী, পিয়াঁজো ইত্যাদি খাদ্য খাওয়া, ট্রেন, মোটরগাড়ী, প্লেন ইত্যাদি যান-বাহনে চড়া |

৪| বিদয়াতে হারামঃ- যা কুরআন শরীফ ও হাদীস শরীফ-এর পরিপন্থি বা ওয়াজিব আমলগুলি ধ্বংসের কারণ। যেমন- ইহুদী, নাসারা ও ভন্ড ফকিরদের কু-প্রথা বা আক্বীদাসমূহ |

৫| বিদয়াতে মাকরূহ্ঃ- যার দ্বারা কোন সুন্নত কাজ বিলুপ্ত হয়ে যায়। যেমন- বিধর্মীদের পোশাক পরিধান করা, টাই পরিধান করা এবং বিধর্মীদের অনুসরণ করা ইত্যাদী | কেননা হাদীস শরীফে রয়েছে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم – ما احدث قوم بدعة الارفع مثلها من السنة فتمسك بسنة خير من احداث بدعة
“যখনই কোন ক্বাওম একটি বিদয়াতের উদ্ভব ঘটাইয়াছে, তখনই একটি সুন্নত লোপ পেয়েছে | সুতরাং একটি সুন্নতের আমল করা (যদিও ওটা ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতর হয়) একটি বিদয়াত উদ্ভব করা হতে উত্তম (যদিও ওটা বিদয়াতে হাসানা হয়) |” (মসনদে আহমদ)

বিদয়াতের অনুরূপ ব্যাখ্যা বা সংজ্ঞা নিন্মোক্ত কিতাবসমূহেও রয়েছে। যেমন- বুখারী শরীফের শরাহ ফাতহুল মুবীন, হাশিয়ায়ে মেশকাত, আশআতুল লোময়াত, ফতওয়ায়ে শামী, এশবাউল কালাম, আসমাওয়াল লোগাত, হুসনুল মাকাছেদ ইত্যাদি আরো আনেক কিতাবকমূহে |

কেউ কেউ আবার বলে থাকে, খাইরুল কুরুনের পর আবিস্কৃত প্রত্যেক নতুন জিনিসই বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ্ | অথচ এটা মোটেও শুদ্ধ নয় | কেননা যদি তাই হতো, তবে আমাদের সামাজে প্রচলিত এমন অনেক নতুন বিষয় রয়েছে, যা অবশ্যই পরিত্যাগ করা জরুরী হয়ে পড়তো |

যেমন-
(ক) বর্তমানে যে পদ্ধতিতে মাদ্রাসায় ইলম শিক্ষা দেওয়া হয়, সেই পদ্ধতি সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুরু করে “খাইরুল কুরুন” পর্যন্ত কারো সময়ই ছিলনা |

(খ) বর্তমানে আমরা যে নাহু সরফ শিক্ষা করে থাকি, তাও “খাইরুল কুরুনে” ছিল না |

(গ) বর্তমানে আমরা যে পদ্ধতিতে তারাবীহর নামাজ পড়ে থাকি, এ পদ্ধতিও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময় ছিলনা |

(ঘ) বর্তমানে আমরা মসজিদে জামায়াতের জন্য যে সময় নির্ধারণ করে থাকি, তাও সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন হযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময় ছিলনা |

(ঙ) বর্তমানে আমরা যে পদ্ধতিতে জুময়ার সানী আজান দিয়ে থাকি, এ পদ্ধতি সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময় ছিলনা |

(চ) বর্তমানে আমরা যে পদ্ধতিতে ওয়াজ মাহফিল করে থাকি ঐরূপ পদ্ধতি সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়াজ মাহফিল করেননি |

(ছ) বর্তমানে আমরা যে পোলাও, বিরিয়ারী কোর্মা, বুট, মুড়ী, পিয়াজো খেয়ে থাকি, তা সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাননি |

(জ) বর্তমানে আমরা যে সকল যান-বাহনে চড়ে থাকি যেমন- মোটরগাড়ী, ট্রেন, প্লেন, রকেট, রিক্সা জাহাজ ইত্যাদি এবং পবিত্র হজ্বব্রত পালন করি ও বিদেশ ভ্রমনে যাই, তা সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময় ছিলনা, তিনি ঐগুলোতে কখনো চড়েননি |

(ঝ) বর্তমানে মানুষ যে সকল খাট-পালঙ্ক, সোকেস-আলমারী ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকে, তা সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যবহার করেননি |

(ঞ) বর্তমানে বিয়ে-শাদীতে যে কাবিননামা করা হয়, তা সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সময় ছিলনা |

(ত) বর্তমানে যে সকল আধুনিক যন্ত্রপাতি মানুষ ব্যবহার করছে, যেমন- ফ্যান, ঘড়ি, চশমা, মাইক, কম্টিউটার ইত্যাদি, এগুলো সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সময় ছিলনা |

(থ) বর্তমানে যে পদ্ধতিতে মাদ্রাসার জন্য চাঁদা আদায় করা হয়, যেমন সদকা, ফেৎরা, যাকাত, কুরবানীর চামড়া, মান্নতের টাকা ইত্যাদি এবং যে পদ্ধতিতে মাদ্রাসা তৈরী করা হয়, তা যেমন সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময় ছিলনা | তদ্রুপ ‘খায়রুল কুরুনেও’ ছিলনা | এমনিভাবে আরো অনেক বিষয়ই রয়েছে, যা সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা “খায়রুল কুরুনে” ছিলনা কিন্তু আমরা তা দায়েমীভবে করছি |

আপনারা কি এগুলো ব্যবহার হতে বিরত থাকেন বা হেফাজতে আছেন?

সুতরাং মূলকথা হলো- সাইয়্যিদুল ম

কুরবানীর একাংশে আক্বীকা দেওয়া প্রসঙ্গ

https://wp.me/s19Oe7-aqiqah

⭕⭕#ফরজ_গোসল_নিয়ে_যা_না_জানলেই_নয় :
ফরজ গোসল নিয়ে ভুল ধারণা ভাঙাতে অবশ্যই পোস্টটি পড়ুনঃ⭕⭕

#ফরজ_গোসল আসলে কি : ফরজ গোসল ঐ গোসলকে বলা হয়, যা করা অপরিহার্য। বালেগ বয়সে নাপাক হলে অর্থাৎ কারো স্বপ্নদোষ হলে বা স্বামী-স্ত্রীর মিলনে গোসল ফরজ হয়।
# আর তা থেকে পবিত্রতা অর্জনের তাগীদ দিয়ে আল্লাহ বলেন: যদি তোমরা নাপাক হয়ে থাক, তবে গোসল কর। [সূরা মায়েদাহ: ৬]

আমাদের মধ্যে অনেকেই ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম জানেন না; আবার সংকোচে কাউকে জিজ্ঞেস ও করতে পারেন না। ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম না জানার কারণে অসংখ্য মুসলিম ভাই- বোনের নামায সহ নানা আমল কবুল হয় না।
অথচ নামাযের জন্য পবিত্রতা অর্জন করা ফরজ। আল্লাহ বলেন-
# হে ঈমানদার গণ! নামাযের ধারে-কাছে যেয়ো না যখন তোমরা নেশা অবস্থায় মাতাল হয়ে থাকো, যে পর্যন্ত না তোমরা বুঝো কি তোমরা বলছো, অথবা যৌন-সম্ভোগ করার পরবর্তী অবস্থায়, যতক্ষণ না গোসল করেছ। [সূরা আন’নিসা : ৪৩ ]
নামায শুদ্ধ হওয়ার জন্য নামাযের বাহিরে যে রুকুনগুলো আছে তন্মধ্যে শরীর পাক, কাপড় পাক ও জায়গা পাক হওয়ার কথাও আছে।
# হাদীসে আছে যে অপবিত্র শরীরে, কাপড়ে ও বিছানাপত্রে নামায হয় না। [মিশকাত : ২৬২]

> #গোসল_ফরজ_হওয়ার_কারণসমূহ :

১। যদি কামভাবের সাথে বীর্যপাত হয়।
২। সহবাস করলে, যদিও বীর্যপাত না হয়।
৩। স্বপ্ন দোষ হয়ে যদি বীর্য পাত হয়। (তিরমিযী শরীফ, হাদীস নং-১০৩,১০৫)
৪। মহিলাদের হায়েজ (পিরিয়ড) শেষ হলে।
৫। মহিলাদের নেফাস (বাচ্চা প্রসবের পর রক্তপাত )
থেকে পাক হলে।
(ফিকহুল মুয়াস্সার, জামেউস সুনান)

> #গোসল_ওয়াজিব_হওয়ার_কারণসমূহ-
১। মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া জীবিতদের উপর ওয়াজিব। (ফিকহুল মুয়াস্সার-৪৪)
২। বিধর্মী ইসলাম গ্রহণ করলে যদি তার শরীর নাপাক থাকে তাহলে তার উপর গোসল করা ওয়াজিব। (আবু দাউদ শরীফ, হাদীস নং-৩০১)

>> #গোসলের_ফরজ_তিনটি।

১। একবার কুলি করা ফরজ।
আর গড়গড়ার সাথে কুলি করবেন। (যদি রোজাদার না হন)
২। একবার নাকের নরম জায়গা পর্যন্ত পানি পৌঁছিয়ে পরিষ্কার করা ফরজ ।
৩। সমস্ত শরীরে ভালভাবে পানি পৌঁছানো ফরজ। (ফিকহুল মুয়াস্সার)

>> #গোসলের_সুন্নাত_সমূহ : অথবা,

✅#ফরজ_গোসল / #গোসলের_সুন্নতী_নিয়ম বা তরিকা শুরু থেকে শেষ অব্ধি দেখা যাক-

১. ফরয গোসলের পূর্বে ইস্তিঞ্জা অর্থাৎ পেশাব করা। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং-১০২০)

২. শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পড়া। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১২৬৯৪)

৩. পৃথকভাবে উভয় হাত কব্জিসহ ধোয়া। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-২৪৮)

৪. শরীর বা কাপড়ের কোন স্থানে নাপাকী লেগে থাকলে প্রথমে তা তিনবার ধুয়ে পবিত্র করে নেয়া। (মুসলিম শরীফ, হাদীস নং-৩২১)

৫. নাপাকী লেগে থাকলে বা না লেগে থাকলে সর্ব অবস্থায় গুপ্তাঙ্গ ধৌত করা। এরপর উভয় হাত ভালভাবে ধুয়ে নেয়া। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-২৪৯)

৬. সুন্নাত তরীকায় পূর্ণ উযূ করা। তবে গোসলের স্থানে পানি জমে থাকলে, গোসল শেষ করে পা ধৌত করবে। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-২৬০)

৭. প্রথমে মাথায় পানি ঢালা। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-২৫৬)

৮. এরপর ডান কাঁধে। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-২৫৪)

৯. এরপর বাম কাঁধে। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-২৫৪)

১০. অতঃপর অবশিষ্ট শরীর ভিজানো।(বুখারী শরীফ, হাদীস নং-২৭৪)

১১. সমস্ত শরীরে এমনভাবে তিনবার পানি পৌঁছানো, যেন একটি পশমের গোড়াও শুষ্ক না থাকে। (আবু দাউদ, হাদীস নং-৪৯/ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং- ৮১৩)

তবে নদী-পুকুর ইত্যাদিতে গোসল করলে কিছুক্ষণ ডুব দিয়ে থাকলেই তিন বার পানি ঢালার সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। (আবু দাউদ, হাদীস নং-২৪৯/ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাদীস নং-৮১৩)

১২. সমস্ত শরীর হাত দ্বারা ঘষে-মেজে ধৌত করা। (তিরমিযী, হাদীস নং-১০৬)

↔মহিলা এবং পুরুষের গোসলের নিয়ম একই।

______ এখন কিছু মাসায়েলা বোঝা যাক _______

#

#ফরজ_গোসলের_মাসায়েলাঃ [১]

এ কথা বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, যেহেতু সারা শরীরে পানি পৌছানো ফরজ, তাই শরীরের যে সমস্ত অঙ্গে সাধারণত পানি পৌঁছতে চায় না, যেমন :
কান, আঙুলের ফাঁক, কনুই, বগলের নীচ, চোখের কিনারা, নাভির ছিদ্র, প্রত্যেকটি চুলের গোড়া ইত্যাদি স্থানে খেয়াল করে পানি পৌঁছাতে হবে।

নখে নখপালিশ থাকলে, তা সম্পূর্ণ উঠানো ব্যতীত ওজু/ গোসল সহিহ হবে না। কারণ এটি নখের উপরে আবরণ ফেলে, পানি প্রবেশ করতে বাধা দেয়।

আর মেয়েদের নাক ও কানের অলংকার পরার ছিদ্রে যাতে পানি পৌঁছে তা লক্ষ্য রাখতে হবে। নাকে নথ, হাতে আংটি, বালা ইত্যাদি পরা থাকলে উত্তমরূপে নাড়িয়ে ঘুরিয়ে নিচে পৌঁছাবে, যদি কানে নাকে দুল না থাকে তবে খেয়াল করে ছিদ্রে পানি পৌছাবে, যেন শুকনো থেকে গোসল অশুদ্ধ না হয়।
রেফারেন্স- ফাতওয়ায়ে শামী-১ম খন্ড,পৃ-১১৪।

তবে ছিদ্র সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে থাকলে সেক্ষেত্রে আর পানি পৌছাতে হবে না। পানি ঢুকানোর মত প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া অর্ধেক ছিদ্র থাকলেও সেখানে পানি পৌঁছাতে হয়।

#ফরজ_গোসলের_মাসায়েলাঃ [২]

#গোড়ায়_পানি_দিলেই_কি_ফরজ_গোসল আদায় হবে? যদি সম্পুর্ণ চুল না ভিজে?

#উত্তরঃ হ্যা।
যদি মহিলাদের খোপা বাঁধা থাকে এবং চুলের গোড়ায় ঠিকভাবে পানি পৌঁছে তবে চুল খোলা জরুরী নয় গোসলের মধ্যে।

* উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো মাথায় চুলের বেনী গেঁথে থাকি। সুতরাং অপবিত্রতার গোসলের সময় কি আমি তা খুলব? তিনি বললেন, না। বরং তোমার জন্যে এটাই যথেষ্ট যে, তুমি মাথার ওপর তিন আজলা পানি ঢেলে দিয়ে। অতঃপর সারা শরীরে পানি ঢেলে দিয়ে পবিত্র হয়ে যাবে
(সহীহ মুসলিম,ইফাঃ ৬৩৫)

উম্মু সালামাহ এবং অন্য হাদিসে আয়িশাহে (রাযীঃ) বর্ণিত হাদীস দ্বারা বোঝা যায় যে, মহিলাদের পবিত্রতার গোসলের সময় চুলের বেনী খুলে সমস্ত চুল ধোয়া জরুরী নয়।
শুধুমাত্র মহিলাদের চুলের গোড়ায় পানি ঢেলে তাতে পানি পৌছানোই যথেষ্ট। আগা বা বেণী ধোয়া জরুরি না। তবে চুল খোলা থাকলে সমস্ত চুলই ধুতে হবে। এটিই উত্তম।

#আরও_একটি_মাসায়েলাঃ [৩]

ফরজ গোসলের সময় কুলি করা এবং নাকে পানি দেয়ার কথা ভুলে গেলে কী করবে?

#প্রশ্ন- যদি কোন ব্যক্তির ফরজ গোসলের সময় কুলি করা এবং নাকে পানি দেয়ার কথা স্মরণ না থাকে এবং গোসলের পর পরই মনে হয় তাহলে কি তার পুনরায় গোসল করতে হবে নাকি তাৎক্ষণিকভাবে কুলি করলে এবং নাকে পানি দিলে হয়ে যাবে?
#জবাব : ফরয গোসলে কুলি করতে বা নাকে পানি দিতে ভুলে গেলে স্মরণ হওয়ার পর নাকে পানি দিলে বা কুলি করে নিলেই চলবে, নতুন করে গোসল করতে হবে না।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর সূত্রে বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে,

এক ব্যক্তি নবী কারীম ﷺ -এর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করল যে, এক ব্যক্তি ফরয গোসল করেছে, কিন্তু তার কোনো একটি অঙ্গে পানি পৌঁছেনি। (এখন তার করণীয় কি?) রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, সে ঐ অঙ্গটি ধুয়ে নিয়ে নাযায পড়বে। (আলমুজামুল কাবীর, তবারানী ১০/২৩১)

উত্তর-মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী

রেফারেন্স- ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম ১/১৪৬, ফাতওয়ায়ে শামী ১/১১৯, ফাতওয়ায়ে আলমগীরী ১/১৯ কাশফুল বারী শারহুল বুখারী,
বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী।

#
_____⭕ আপনাদের আরও সহজে বোঝার সুবিধার্থে
#প্রশ্নোত্তরপর্ব ⭕_____

⏩প্রশ্ন ১.

আপু ফরজ গোসল শুদ্ধ হওয়ার জন্য কি সব গুলো সুন্নত আদায় করতেই হবে?

#উত্তরঃ জি না, ফরজ গোসল সহিহ হওয়ার জন্য উপরোক্ত গোসলের সুন্নাতগুলি পালন করা ফরজ/ কোন অত্যাবশকীয় শর্ত নয়।
উপরে বর্ণিত গোসলের এই সম্পূর্ণ পদ্ধতিটি হলো গোসলের সুন্নাতসহ ফরজ গুলি ।। আর সুন্নাত হলো অতিরিক্ত কাজ; নফল। সুন্নত গুলো আদায় করে সুন্নতী তরিকাতে ফরজ গোসল করলে আপনি সুন্নতের সওয়াব পাবেন।

যদি পিরিয়ড ভালো হওয়ার পর / সহবাসের পর ফরজ গোসল করে ওই ওয়াক্তের নামাজ পড়ার জন্য বেশি সময় না থাকে (ওই নামাজের ওয়াক্ত যদি বেশিক্ষণ না থাকে, যে সুন্নতী নিয়মে গোসল করলে নামাজ মিস হওয়ার আশংকা রয়েছে)
সেক্ষেত্রে সে কেবলমাত্র ‘গোসলের ৩ ফরজ’ আদায় করে গোসল করে নামাজে দাঁড়াতে পারবে।

তাই কোন কারণে সুন্নত বাদ দিয়ে শুধুমাত্র গোসলের ৩ফরজ আদায় করে গোসল করলেও ফরজ গোসল আদায় হয়ে যাবে তবে সুন্নতের সওয়াব পাবেন না।

আর যদি গোসলের উক্ত ৩ ফরজের একটিও বাদ যায় সেক্ষেত্রে আপনার ফরজ গোসলই হবে না। পরবর্তীতে কোন ওজু/ নামাজ কবুল হবে না।

⏩প্রশ্ন ২.

ফরজ গোসল কি প্রতিদিন করতে হয়?

#উত্তরঃ বোন, ফরজ গোসল প্রতিদিন কেন করবেন? আপনার আগে বুঝতে হবে ফরজ গোসল কি?

প্রথমত, আপনার উপর গোসল ফরজ হওয়ার কোন কারণ না ঘটলে গোসল না করেও শুধুমাত্র ওজু করেই আপনি পবিত্রতা অর্জন করতে পারবেন, সালাত পড়তে পারবেন।

আর, গোসল ফরজ হওয়ার কোন কারণ ঘটলে আমাদের পবিত্র হওয়ার জন্য গোসল করা ফরজ (সুরা মায়িদা)। সেই গোসলকেই বলে #ফরজ_গোসল।

অর্থাৎ কারো ওপর যদি গোসল ফরজ হওয়ার একটি কারণও পাওয়া যায়, সে গোসল না করে নেয়া পর্যন্ত আর কোনভাবেই (মানে ওজুতে) পবিত্র হতে পারবে না।
তাকে গোসল করতেই হবে। গোসলের মধ্যে গোসলের ৩ফরজ পালন করে গোসল করতে হবে। নাহলে ওই গোসল শরীয়ত মুতাবেক গোসলই হবে না।

এটাকেই বলে ফরজ গোসল। তাহলে বুঝা গেল, গোসল ফরজ হওয়ার কিছু না হলে প্রতিদিন গোসল করা ফরজ না। মানে প্রতিদিন ফরজ গোসল করা ফরজ না।

⏩প্রশ্ন ৩.

আচ্ছা, আমি তো প্রতিদিনই গোসল করি, আমি জানতে চাই, ফরজ গোসলের নিয়মটি আলাদা কেন?
তাহলে ফরজ গোসল আর সাধারণ গোসলের নিয়ম কি আলাদা?

#উত্তরঃ বোন,
আমাদের কাছে বাহ্যত দৃষ্টিতে গোসল হলো সারাগায়ে একটু পানি ঢালা। আর শরীয়তে গোসলের জন্য ৩টি কাজ অবশ্যই করণীয়, (ফরজ) তা হলো-
১। ভালভাবে কুলি করা।
২। নাকের নরম জায়গা পর্যন্ত পানি পৌঁছান।
৩। সম্পূর্ণ শরীর ধৌত করা।

আপনি “প্রশ্ন ২.” এর উত্তরেই বুঝতে পারবেন যে প্রতিদিন গোসল ফরজ হওয়ার কোন কারণ সংঘটিত না হলে গোসল (মানে ফরজ গোসল) না করেও নামাজের জন্য পবিত্র হওয়ার জন্যে শুধু ওজু করলেই হয়ে যায়। মানে ওইদিন আপনি গোসল না করেও শুধু ওজু করে নামাজ পড়তে পারবেন।

#আপনি জানতে চেয়েছেন যে ফরজ গোসলের জন্য আলাদা নিয়ম কেন?
এর উত্তর হলো, ফরজ গোসলের জন্যে যে আলাদা নিয়ম আপনি দেখেছেন, তাই হলো আপনার রাসূলের গোসলের তরিকা।
আমরা তো ইসলামি শরীয়াহ থেকে বহু দূরে, তাই আমরা আমাদের পথপ্রদর্শকের শেখানো পথে গোসল না করে টিভি-সিনেমাতে দেখানো বিধর্মীদের মত গোসল করি। আমাদের মা-বাবা আজ এত গাফেল, তারা আমাদের রাসূলের সুন্নাত অনুযায়ী গোসলের সুন্নাত নিয়মটাও শেখাতে পারেনি।

একটু আগে বললাম, গোসলের জন্য ৩টি ফরজ আছে। যার উপর গোসল ফরজ সে যদি গোসল না করে এই ৩ ফরজ আদায় না করে কোনরকম গায়ে অল্পবিস্তর পানি ঢেলে বের হয়ে আসে তাহলে শারঈ মোতাবেক তার ‘গোসল’ হবে না।

আর যার ওপর গোসল ফরজ হয় নি, তার জন্যও প্রতিদিন গোসল করা সুন্নাত। কারণ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। এখন,সে যদি রাসূলের উম্মাত হয়ে থাকে সে অবশ্যই সুন্নাত অনুযায়ী তার প্রতিদিনকার সাধারণ গোসলটি সম্পাদন করবে। সুন্নাতগুলো আদায় করে সুন্নাতি তরিকাতে গোসল করলে একইসাথে গোসলের ৩ফরজ খুব ভালোভাবে আদায় হয়ে যাচ্ছে।

তাই বোঝা গেল, ফরজ গোসল আর সাধারণ গোসল ২টি আলাদা বস্তুর নাম নয়।
প্রতিদিনের গোসলের সুন্নতই এই পোস্টে আলোচনা করা হলো। আপনারা যদি ভাবেন, মাসে একদিন সুন্নাত অনুসারে ফরজ গোসল করবেন, বাকিদিন সুন্নাত অনুযায়ী গোসল করবেন না, তাহলে ৩ফরজ আদায় হলে আপনাদের গোসল আদায় হয়ে যাবে। তবে, আপনি সুন্নাতের সাওয়াব থেকে বঞ্চিত হবেন।

এখন কথা হলো, আপনারা ফরজ গোসলের দিন গোসলের ৩ফরজ খুব খেয়ালে আদায় করবেন।

আর,
ফরজ গোসলের বাইরে অন্যান্য দিনের স্বাভাবিক গোসলে সুন্নতি নিয়মে গোসল না করলে বা অন্ততপক্ষে গোসলের ৩ ফরজ বাদ দিলেও কোন সমস্যা নেই। কারণ আপনার উপর যেহেতু গোসল তখন ফরজ না, ওজু করেই আপনি সালাতের জন্য পবিত্র হতে পারবেন, গোসল আবশ্যক না।

⏩প্রশ্ন ৪.

আমি যদি গোসলের ফরজ ও সুন্নতগুলো আদায় না করে সারাগায়ে পানি ঢেলে কোনরকম গোসল করি তাহলে কি আমি নামাজ পড়তে পারব আবার ওজু করা ছাড়াই?

#উত্তরঃ আপনি গোসলের ৩ ফরজ আদায় না করে সারাগায়ে পানি ঢেলে ‘কোনরকম গোসল’ করলে শরিয়াহ মুতাবেক আপনার গোসল হয়নি। তাই গোসলের সাওয়াবও পাবেন না। কারণ গোসল আদায় হতে হলে গোসলের ৩ফরজ অন্ততপক্ষে আদায় করা আবশ্যক।

আপনি বলেছেন আপনি শুধুমাত্র গায়ে পানি দিয়েছেন এমতাবস্থায় নামাজ পড়ার জন্য ওজু হয়ে গেছে কিনা?

যদি আপনার ওপর গোসল ফরজ না হয়ে থাকে, সেসময়ে আপনি গোসলের ৩টি ফরজের মধ্যে কুলি না করেন ও নাকে পানি না দেন শুধু গায়ে পানি দেন (আপনার ভাষ্যমতে) তাহলে ওযুর ৪ ফরজ আদায় করলে তখন আপনার ওজু ঠিকই হয়ে যাবে।
কিন্তু গোসল আদায় হবে না।

এরুপ সারা শরীরে পানি পৌঁছানো শরীয়াহ মোতাবেক গোসল নয়, তবে এই পানি পৌঁছানোর মাধ্যমে যদি ওজুর ৪ ফরজ যদি আদায় হয়ে যায় তাহলে এরুপ ওজুর মধ্যে বা শেষে ওজু ভঙ্গের কোন কারণ দেখা না দিলে এরপরে পুনরায় ওজু না করেও নামাজ পড়া যাবে।

ওজুর ফরজ গুলো হলোঃ

ওজুর ফরয ৪টি

১. সমস্ত মুখ একবার ধৌত করা। (সূরা মায়িদা, আয়াত নং ৬)
২. দুই হাত কনুইসহ একবার ধৌত করা। (ঐ)
৩. মাথার এক চতুর্থাংশ একবার মাসাহ করা।
৪. উভয় পা টাখনুসহ একবার ধৌত করা। (ঐ)

ফায়দাঃ উপরোক্ত চারটি কাজের কোন একটি না করলে বা এর মধ্যে এক চুল পরিমাণও শুকনা থাকলে ওজু সহীহ হবে না। (প্রমাণ: শামী, ১:৯১/ আল বাহরুর রায়িক, ১:৯/ হিদায়া, ১:১৬)

*ওজুর সবগুলো ফরজ অন্ততপক্ষে একবার করতে হবে যাতে একটা অংশও পানিশুন্য না থাকে, এজন্যই ৩বার করা সুন্নাহ, ৩বারে সবজায়গায় ভালোভাবে পানি পৌছে যায় কোন সন্দেহ থাকে না

আর ওজুর সুন্নাত তরীকা-

অজুর সুন্নাত সমূহ

১. উযূর নিয়ত করা অর্থাৎ উযূকারী মনে মনে এই নিয়ত করবে যে, পবিত্রতা অর্জন করা ও নামায জায়েয হওয়ার জন্য আমি উযূ করছি। (সূরা বায়্যিনাহ, ৫/ বুখারী শরীফ, হাদীস নং-৬৬৮৯)

২. বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পড়ে উযূ আরম্ভ করা। হাদীসে পাকে আছে, বিসমিল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহ পড়ে উযূ করলে যতক্ষণ ঐ উযূ থাকবে, ফেরেশতাগণ তার নামে ততক্ষণ অনবরত সাওয়াব লিখতে থাকবে, যদিও সে কোন মুবাহ কাজে লিপ্ত থাকে।(নাসায়ী শরীফ, হাদীস নং-৭৮/ তাবারানী সাগীর, ১ : ৭৩)

৩. উভয় হাত পৃথকভাবে কব্জিসহ তিনবার ধোয়া। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-১৫৯)

৪. মিসওয়াক করা। যদি মিসওয়াক না থাকে তাহলে আঙ্গুল দ্বারা দাঁত মাজা মিসওয়াক অর্ধ হাতের চেয়ে বেশি লম্বা না হওয়া এবং গাছের ডাল হওয়া মুস্তাহাব। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৯২১৬, ১৩৯, ৩৯৯০/ তিরমিযী, হাদীস নং-২৩/ বাইহাকী, হাদীস নং-১৭৪)

৫. তিনবার কুলি করা। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-১৮৫)

৬. তিনবার নাকে পানি দেয়া এবং নাক সাফ করা। (সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-১০৭৭)

৭. ততসঙ্গে প্রতিবারই নাক ঝাড়া। (মুসলিম শরীফ, হাদীস নং-২৩৬)

৮. প্রত্যেক অঙ্গকে পূর্ণভাবে তিনবার করে ধোয়া। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-১৫৯) এর জন্য তিনবারের বেশি পানি নিতে হলে নিবে।

৯. দুই হাতে মুখ ধোয়া এবং মুখমণ্ডল ধোয়ার সময় দাড়ি খিলাল করা।(তিরমিযী, হাদীস নং-৩১)

১০.হাত ও পা ধোয়ার সময় আঙ্গুলসমূহ খিলাল করা। (তিরমিযী, হাদীস নং-৩৮)

১১. একবার সম্পূর্ণ মাথা মাসাহ্‌ করা।(তিরমিযী, হাদীস নং-৩৪)

১২. উভয় কান মাসাহ করা। উল্লেখ্য, কানের ছিদ্রের মধ্যে কনিষ্ঠ আঙ্গুল ঢুকিয়ে এবং ভিতর দিকে অবশিষ্ট অংশে শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা মাসাহ করা।(তিরমিযী, হাদীস নং-৩৩/ আবু দাউদ, হাদীস নং-১৩৫)

১৩. উযূর অঙ্গসমূহ হাত দ্বারা ঘষে-মেজে ধোয়া।(মুস্তাদরাক, হাদীস নং-৫৭৬/ সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস নং-১১৮)

১৪. এক অঙ্গ ধোয়ার পর অন্য অঙ্গ ধৌত করতে বিলম্ব না করা।(মুসলিম, হাদীস নং-২৪৩/ আবু দাউদ, হাদীস নং-১৭৩)

১৫. তরতীবের সাথে উযূ করা। অর্থাৎ উযূর অঙ্গসমূহ ধোয়ার সময় ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। (আবু দাউদ, হাদীস নং-১৩৭)

১৬. ডান দিকের অঙ্গ আগে ধোয়া।(বুখারী শরীফ, হাদীস নং-১৬৮)

১৭. শীত অথবা অন্য কোন কারণে যখন উযূ করতে ইচ্ছে না হয়, তখনও উযূর অঙ্গসমূহ উত্তমরূপে ধুয়ে উযূ করা।(তিরমিযী, হাদীস নং-৫১/ মুসলিম, হাদীস নং-২৫১)

১৮. উযূর মধ্যে নিম্নোক্ত দু‘আটি পড়া :

اَللّهُمَّ اغْفِرْلِي ذَنْبِيْ وَوَسِّعْ لِيْ فِيْ دَارِيْ وَبَارِكْ لِيْ فِيْ رِزْقِيْ.
(আমালুল্‌য়াওমি ওয়াল লাইলাহ লি ইবনিসসুন্নী, হাদীস নং-২৮)

এবং উযূ শেষ করে কালিমায়ে শাহাদাত পড়া।(মুসলিম শরীফ, হাদীস নং-২৩৪)

অতঃপর এ দু‘আ পড়া : (তিরমিযী, হাদীস নং-৫৫)

اَللّهُمَّ اجْعَلْنِيْ مِنَ التَّوَّابِيْنَ وَاجْعَلْنِيْ مِنَ الْمُتَطَهِّرِيْنْ .

উল্লেখ্য, গোসল এবং তায়াম্মুমের শুরু ও শেষে উযূতে বর্ণিত দু‘আ পড়বে।

বি.দ্র. শুধু এ সব বর্ণনা পড়ার দ্বারা সুন্নাত তরীকায় উযূ করা সম্ভব নয়, এ জন্য কোন হাক্কানী আলেম থেকে সব বিষয়গুলো চাক্ষুষভাবে দেখে নিবে। আল্লাহ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হযরত জিবরাঈল আ.-এর মাধ্যমে সকল বিষয় চাক্ষুষভাবে দেখিয়ে শিক্ষা দিয়েছেন। (তিরমিযী, হাদীস নং-১৪৯)

-কিতাবুস সুন্নাহ, নামাজ শিক্ষা ও ইমামদের দায়িত্ব বই থেকে।
মুফতি মানসুরুল হক দামাত বারকাতুহুম (দা.বা.=আল্লাহ উনার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন)

__________/🌹\___________

‘ফরজ গোসল’ নিয়ে এটাই সর্বশেষ সম্পাদিত পোস্ট । ফরজ গোসল নিয়ে এটি ব্যতীত অন্য কোন পোস্ট কপি / শেয়ার করবেন না।
কারণ ইন্টারনেটে ফরজ গোসল বিষয়ে অনেক ভুল পোস্ট আছে।)