#বিয়ের আগে জীবনসঙ্গীনী সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহ) এর ছেলেকে দেয়া নসীহত:

#নারীরা সাধারণত রোমান্টিকতা পছন্দ করে। খুনসুটি-রসিকতা পছন্দ করে। নখরা-ন্যাকা তাদের স্বভাবগত। তারা ভালবাসার স্পষ্ট প্রকাশকে খুবই পছন্দ করে। তুমি একান্তে স্ত্রীর কাছে এসব কথা প্রকাশে কখনোই কার্পণ্য করবেনা। তাকে বেশি বেশি ভালোবাসার কথা বলবে। যদি এসবে কার্পণ্য কর,তাহলে দেখবে কিছুদিন পরই তোমার আর তার মাঝে একটা অদৃশ্য পর্দা ঝুলে গেছে। এরপর দিনদিন পরস্পরের সম্পর্কে শুষ্কতা আসতে শুরু করবে। ভালবাসা জানলা দিয়ে পালাবার পথ খুঁজবে।

# নারীরা কঠোর-কর্কশ-রূঢ়-বদমেজাজি-রুক্ষস্বভাবের পুরুষকে একদম পছন্দ করেনা। তোমার মধ্যে এমন কিছু থাকলে এখুনি ঝেড়ে ফেল। কারণ তারা সুশীল,ভদ্র,উদার পুরুষ পছন্দ করে। তুমি তার ভালবাসা অর্জনের জন্য,তাকে আশ্বস্ত করার জন্য হলেও গুণগুলো অর্জন কর।

#এটা খুব ভালো করে মনে রাখবে,তুমি তোমার স্ত্রীকে যেমন পরিচ্ছন্ন,সুন্দর,পরিপাটি,গোছালো,সুরুচিপূর্ণ, সুগন্ধিময় দেখতে চাও,তোমার স্ত্রীও কিন্তু তোমাকে ঠিক তেমনটাই চায়। তাই সাবধান থাকবে,তার চাহিদা পূরণে যেন কোন অবস্থাতেই তোমার পক্ষ থেকে বিন্দুমাত্র অবহেলা না হয়।

#ঘর হল নারীদের রাজ্য। একজন নারী নিজেকে সবসময় সেই রাজ্যের সিংহাসনে আসীন দেখতে খুবই পছন্দ করে। সে কল্পনায়,স্বপ্নে, বাস্তবে এই রাজ্য নিয়ে ভাবে। সাজায়,রচনা করে। খুবই সাবধান থাকবে। কখনোই তোমার স্ত্রীর এই সুখময় রাজত্বকে ভেংগে দিতে যেও না। এমনকি তাকে সিংহাসন থেকে নামিয়ে দেয়ার প্রয়াশও চালাবেনা। তুমি তো জানোই,আল্লাহ্ তা’আলার কাছে সবচেয়ে অপছন্দজনক বিষয় কী?

– তাঁর সাথে কোনকিছু শরীক করা।
– হ্যাঁ,ঠিক বলেছো। একজন রাজার কাছেও সবচেয়ে ঘৃণিত বিষয় কী?
– তার রাজ্যে অন্য কেউ হস্তক্ষেপ করা।

#নারীরা তার স্বামীকে মনে প্রাণে,সর্বান্ত:করণে প্রবলভবে স্বামীকে পেতে চায়। তবে পাশাপাশি বাপের বাড়িকেও হারাতে চায় না। হুঁশিয়ার থেকো বাবা! তুমি ভুলেও নিজেকে আর স্ত্রীর পরিবারকে এক পাল্লায় তুলে মাপতে শুরু করে দিওনা। তুমি এ অন্যায় দাবী করে বসো না ‘হয় আমাকে বেছে নাও,নাহলে তোমার বাবা-মাকে। তুমি এই বিষয়টা চিন্তাতেও স্থান দিও না। তুমি তাকে এমনটা করতে বাধ্য করলে সে হয়তো চাপে পড়ে মেনে নিবে। কিন্তু তার মনের গহীনে কোথাও একটা চাপা বোবা কান্না গুমরে মরতে থাকবে। তোমার প্রতি এক ধরনের সুপ্ত অশ্রদ্ধা তার কোমল মনে জেগে উঠবে।
তুমি জানো,অনেক শুনেছো এবং পড়েছো নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে বাহু (বা পাজরের) বাঁকা হাড় থেকে। এই বক্রতা কিন্তু তার দোষ নয়, সৌন্দর্য । তুমি চোখের ভ্রু লক্ষ করে দেখেছ? সেটার সৌন্দর্যটা কোথায়?

– বক্রতায়
– একদম ঠিক কথা। বক্রতাই ভ্রুকে সুন্দর করে তোলে। ভ্রুটা যদি সোজা হত,দেখতে সুন্দর লাগতো না। যদি তোমার স্ত্রী কোন ভুল করে ফেলে,অস্থির হয়ে রেগেমেগে হামলা করে বসোনা। উত্তেজিত অবস্থায় তাকে সোজা করতে যেওনা,তাহলে অতিরিক্ত চাপে ভেঙে যাবে। আর ভাঙা মানে বুঝোই তো,তালাক!
আবার সে অনবরত ভুল করে যেতে থাকলে ভেঙে যাওয়ার ভয়ে কিছু না বলে লাগামহীন ছেড়েও দিওনা। তাহলে বক্রতা যে আরো বেড়ে যাবে। নিজের ভেতরে গুটিয়ে যাবে। তোমার প্রতি আচরণ উদ্ধত হয়ে যাবে। তোমার কথায় কান দিবেনা।
.
– তাহলে কী করব?
– মাঝামাঝি অবস্থানে থাকবে।
.
তুমি ঐ হাদিসটা পড়ো নি?
– কোনটা?
– ঐ যে,যার ভাবার্থ হল,নারীদের সৃষ্টি করা হয়েছে এমনভাবে যে,তারা স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়। তার প্রতি অতীতে কৃত সব সদ্ব্যবহার-সদাচার ভুলে যায়। তুমি যদি তার প্রতি যুগ-যুগান্তরও সুন্দর আচরণ কর, হঠাৎ একদিন কোনক্রমে একটু রূঢ় আচরণ করে ফেলেছ, ব্যাস অমনিইই সে নাকের জল চোখের জল এক করে ফেলবে – আমি তোমার কাছে কখনোই ভালো কিছু পাইনি।

দেখো বাছা! তার এই আচরণে রুষ্ট হয়োনা। তার এই চপল স্বভাবের প্রতিক্রিয়ায় তার প্রতি বিতৃষ্ণা এনো না। তার এই স্বভাবকে তুমি অপছন্দ করলেও, তার মধ্যে এমন অনেক কিছু পাবে, যা তুমি শুধু পছন্দই করোনা, বরং জানও লড়িয়ে দিতে পারো।

#নারীদের শরীর মনের অবস্থা সবসময় একরকম থাকে না। প্রতি মাসে নির্দিষ্ট একটা সময় তাদের শারীরিক দুর্বলতা থাকে। অনেকসময় মানসিক অস্থিরতাও বিরাজ করে। তাদের এই দুর্বলতা, অসহায় অবস্থার কথা বিবেচনা করে আল্লাহ্ তা’আলা তাদের নির্দিষ্ট সময়ের নামাজ মাফ করে দিয়েছেন। রোযাকে পিছিয়ে দিয়েছন তার স্বাস্থ্য ও মেজাজ ঠিক হওয়া পর্যন্ত। তুমিও তোমার স্ত্রীর দুর্বল মুহুর্তগুলোতে তার প্রতি কোমল হবে।

#সবসময় মনে রেখো, তোমার স্ত্রী তোমার কাছে অনেকটা দায়বদ্ধ। বিভিন্নভাবে তোমার মুখাপেক্ষী। তোমার সুন্দর আচরণের কাঙাল। তুমি তার প্রতি যত্নবান হবে। তার প্রতি অনেকবেশি মনোযোগ দিবে। তাকে আপন করে নেবে। তাহলে সে তোমার জন্য শ্রেষ্ঠ সম্পদে পরিণত হবে। তাকে অনুপম সংগী হিসেবে পাবে।

প্রশ্নঃ কেবল স্বামীই কি স্ত্রীকে ‘তিন তালাক’ দিতে পারে? যদি কোন নারী তালাক বা ডিভোর্স নিতে চান তাহলে তাকে কি করতে হবে?

উত্তরঃ ডাঃ জাকির নায়েকঃ একজনপুরূষ তার স্ত্রীকে ডিভোর্স দিতে পারে কিন্তু একজন নারী ওকি তার স্বামীকে ডিভোর্স বা তালাক দিতে পারে? একজন মহিলা তালাক দিতে পারেনা। কারণ ‘তালাক’ শব্দটি আরবি যেটা ‘ডিভোর্স’ অর্থে ব্যাবহার করা হয়- যা স্বামী স্ত্রীকে দিতে পারে, কিন্তু স্ত্রী-স্বামীকে দিতে পারবেনা। ইসলামে ডিভোর্স পাঁচ ধরনেরহয়ে থাকে।

প্রথমঃ এ চুক্তির মাধ্যমে স্বামী- স্ত্রী উভয়েই বলবে ব্যাস আমরা আর একসাথে ঘর করার মত উপযুক্ত নই- চল আমরা উভয়কে ছেড়ে দেই।

দ্বিতীয়ঃ এই প্রকার তালাক স্বামীর একক ইচ্ছায় হবে। যেখানে স্বামীকে তার স্ত্রীর প্রদেয় মোহর পরিশোধ করতে হবে এবং স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে প্রদেয় উপহারও ফিরিয়ে দিতে হবে।

তৃতীয়ঃ স্ত্রীর একক ইচ্ছায় ডিভোর্স দেয়া। যদি তার বিয়ের চুক্তিতে তথা তার নিকাহনামায় এটি উল্লেখ থাকে তবে এককভাবে স্বামীকে ডিভোর্স দিতে পারবে- এটাকে বলা হয় ‘ইসমা’।

চতুর্থঃ এ পদ্ধতিটি হলো, স্বামী যদি স্ত্রীর সাথে খারাপ আচরণ করে অথবা তাকে ন্যায্য অধিকার না দেয় তখন স্ত্রীর কাজীর কাছে যাওয়ার অধিকার আছে। এবং বিয়ে বাতিল করার আবেদন জানাতে পারবে। একে বলে ‘নিকাহ-ই- ফাসেদ’। তখন কাজী স্বামী কে পুরো মোহর পরিশোধ করার জন্য বলবে।

পঞ্চমঃ এ পদ্ধতিটেকে বলা হয় “খোলা”। এক্ষেত্রে যদিও স্বামী সব দিক থেকে ভাল হয় এবং তার সম্পর্কে স্ত্রীর কোন অভিযোগ না থাকে তথাপি তার ব্যাক্তিগত কারণে স্বামীকে পছন্দ করেনা- তখন সে স্বামীকে অনুরোধ করতে পারে তাকে ডিভোর্স দেয়ার জন্য। আর এটাই হলো ‘খোলা’। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, নারী যে তার স্বামীকে ডিভোর্স দেয়ার এ পদ্ধতিগুলো গ্রহন করতে পারে সে কথা খুব কম লোকই বলে। কিছু আলেম-ওলামা আছেন যারা এ পাঁচ ধরনের ডিভোর্স কে ২ বা ৩ ভাগে ভাগ করেন; কিন্তু ব্যাপক অর্থে ইসলামে তালাক পাঁচ প্রকার।শরয়ী কারণ ছাড়া স্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বামীর কাছে তালাক প্রার্থনা করার বিধান কি?
=====================
সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কোনো মহিলা যদি বিনা দোষে স্বামীর নিকট তালাক প্রার্থনা করে, তাহলে জান্নাতের সুগন্ধি তার জন্য হারাম হয়ে যাবে”। [মুসনাদে আহমদ; তিরমিযী; মিশকাত, হাদীস নং ৩২৭৯]

এমন অনেক স্ত্রীলোক আছে যারা স্বামীর সঙ্গে একটু ঝগড়া-বিবাদ হলেই কিংবা তার চাওয়া-পাওয়ার একটু ব্যত্যয় ঘটলেই তার নিকট তালাক দাবী করে। অনেক সময় স্ত্রী তার কোনো নিকট আত্মীয় কিংবা অসৎ প্রতিবেশী কর্তৃক এরূপ অনিষ্টকর কাজে প্ররোচিত হয়। কখনো সে স্বামীকে লক্ষ্য করে তার জাত্যভিমান উষ্কে দেওয়ার মত শব্দ উচ্চারণ করে।

যেমন সে বলে, ‘যদি তুমি পুরুষ হয়ে থাক তাহলে আমাকে তালাক দাও। কিন্তু তালাকের যে কি বিষময় ফল তা সবার জানা আছে। তালাকের কারণে একটি পরিবারে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়। সন্তানরা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। এজন্য অনেক সময় স্ত্রীর মনে অনুশোচনা জাগতে পারে। কিন্তু তখন তো আর করার কিছুই থাকে না। এসব কারণে শরীআত কথায় কথায় তালাক প্রার্থনাকে হারাম করে সমাজের যে উপকার করেছে তা সহজেই অনুমেয়।

সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কোনো মহিলা যদি বিনা দোষে স্বামীর নিকট তালাক প্রার্থনা করে, তাহলে জান্নাতের সুগন্ধি তার জন্য হারাম হয়ে যাবে”। [মুসনাদে আহমদ; তিরমিযী; মিশকাত, হাদীস নং ৩২৭৯]

উক্ববা ইবন আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, “সম্পর্কছিন্নকারিণী ও খোলাকারিণী নারীগণ মুনাফিক”। [ত্বাবরানী ফিল কাবীর, ১৭/৩৩৯, সহীহুল জামে‘ ১৯৩৪]

হ্যাঁ যদি কোনো শরঈ ওযর থাকে যেমন-স্বামী সালাত আদায় করে না, অনবরত নেশা করে কিংবা স্ত্রীকে হারাম কাজের আদেশ দেয়, অন্যায়ভাবে মারধর করে, স্ত্রীর শরঈ অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করে। কিন্তু স্বামীকে নছীহত করেও ফেরানো যাচ্ছে না এবং সংশোধনেরও কোনো উপায় নেই সেক্ষেত্রে তালাক দাবী করায় স্ত্রীর কোনো দোষ হবে না। বরং দীন ও জীবন রক্ষার্থে তখন সে তালাক প্রার্থনা করতে পারে।
———
মূল : শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ
অনুবাদক : মু. সাইফুল ইসলাম/সম্পাদক : ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
গ্রন্থনায় : ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ/সৌজন্যে : ইসলামহাউজ।
স্ত্রী কেন স্বামীকে সরাসরি তালাক
দিতে পারেন না??
===============
� সুওয়াল :—-
স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দিতে পারলে স্ত্রী কেন
স্বামীকে তালাক দিতে পারবেন না?
এক্ষেত্রে তাদের উভয়ের সমান ক্ষমতা থাকা উচিত নয় কি? তা না হলে, স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক
অধিকারে কি বৈষম্য হয়ে যায় না?
.
** জাওয়াব :—–
ইসলামী শরীয়তের বিধানে শুধুমাত্র স্বামীকেই তালাক
প্রদানের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, স্ত্রীকে নয়। আল্লাহ তা‘আলা
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন–
ﻓَﻄَﻠِّﻘُﻮﻫُﻦَّ ﻟِﻌِﺪَّﺗِﻬِﻦَّ ﻭَﺃَﺣْﺼُﻮﺍ ﺍﻟْﻌِﺪَّﺓَ
ﻭَﺍﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺭَﺑَّﻜُﻢْ
“তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়ো
ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে এবং
ইদ্দত গণনা করো। তোমরা তোমাদের
পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করো।….”
স্বামীর জন্য স্ত্রীকে তালাক দিতে
পারা এবং স্ত্রীর জন্য স্বামীকে
সরাসরি তালাক দিতে না পারার কারণ
হলো, বিবাহের মাধ্যমে স্বামী হন
গ্রহণকারী এবং স্ত্রী হন
গ্রহণকৃতা। আর যিনি গ্রহণকারী হন
তার কর্তব্য হয়ে যায় গ্রহণকৃতাকে
সম্মানী প্রদান পূর্বক গ্রহণ করা
এবং গ্রহণের পর তার যাবতীয়
জীবনোপকরণের ভার বহন করা। এ
জন্যই স্বামী বিবাহে মহর সম্মানী
প্রদান করে স্ত্রীকে গ্রহণ করেন,
অতঃপর আজীবন স্ত্রীর সকল
জীবনোপকরণের বন্দোবস্ত করেন।
অপরদিকে স্ত্রী যেহেতু
গ্রহণকারীণী নন, বরং গ্রহণকৃতা,
তাই তিনি নিজের বা স্বামীর কারো
জীবনোপকরণের ভার বহন করেন না।
বরং স্বামীর কাছ থেকে তিনি যাবতীয়
প্রয়োজন পূরণের সুবিধা ভোগ
করেন।
অপরদিকে তালাক অর্থ পরিত্যাগ
করা। এক্ষেত্রে যিনি গ্রহণকারী
তিনিই পরিত্যাগকারী হতে পারেন,
আর যিনি গ্রহণকৃতা তিনি
পরিত্যাগকৃতা হতে পারেন,
পরিত্যাগকারীণী হতে পারেন না।
সুতরাং স্বামী যেহেতু বিবাহের
মাধ্যমে স্ত্রীকে গ্রহণকারী, তাই
বিবাহ বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে তাকে
পরিত্যাগ করার ক্ষমতা তারই হওয়া
যুক্তিযুক্ত। কিন্তু স্ত্রী যেহেতু
গ্রহণকারীনী নন, তাই তার
পরিত্যাগকারীণী হওয়া অযৌক্তিক।
এক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রীকে
পরস্পর সমান চোখে দেখার কথা
উঠতে পারে না। কেননা, এমতাবস্থায়
স্বামী ও স্ত্রীকে সমান চোখে
দেখতে হলে, স্বামী যেমন স্ত্রীকে
মহর দেন, তেমনি বিষয়টি সমান
করার জন্য স্ত্রীরও স্বামীকে মহর
দিতে হয় এবং স্বামী যেমন স্ত্রী ও
তার সন্তানদের খোরপোষ দেন,
তেমনি স্ত্রীরও স্বামী ও
সন্তানদের খোরপোষ সমানভাবে
বহন করতে হয়। অথচ সেটা করা হয়
না, বরং একতরফা ভাবে স্বামীর
কাঁধেই স্ত্রীকে মহর দেয়া এবং
স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণ,
বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদি
যাবতীয় খরচের যিম্মা ন্যস্ত করা
হয়।
আসলে এটা হয় এ জন্য যে, বিবাহের
মাধ্যমে স্বামী হন স্ত্রীকে
গ্রহণকারী এবং স্ত্রী হন
গ্রহণকৃতা। এ জন্যইতো বিবাহের
প্রসঙ্গে স্বামীর ক্ষেত্রে বলা হয়–
ﺯَﻭَّﺝَ (তিনি বিবাহ করেছেন) এবং
স্ত্রীর ক্ষেত্রে বলা হয়– ﺗَﺰَﻭَّﺟَﺖ
(তিনি বিবাহ বসেছেন বা বিবাহ
বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন)। আর
পবিত্র কুরআনেও আল্লাহ তা‘আলা
পুরুষেদের বেলায় বিবাহ করা এবং
নারীদের বেলায় অভিভাবকগণের
তাদেরকে বিবাহ দেয়ার কথা
বলেছেন। (দ্রষ্টব্য : সূরাহ বাক্বারা,
আয়াত নং ২২১)
এভাবে স্বামী যেহেতু বিবাহের মাধ্যমে
স্ত্রীকে গ্রহণকারী হন, তাই তিনি
গ্রহণকৃতা স্ত্রীর যাবতীয়
প্রয়োজন পূরণ করে থাকেন।
সুতরাং স্বামী যেহেতু বিবাহের
মাধ্যমে স্ত্রীকে গ্রহণকারী হন, এ
জন্য তালাকের মাধ্যমে
পরিত্যাগকারী বা তালাক প্রদানের
ক্ষমতা স্বামীরই হওয়া যু্ক্তিযুক্ত।আর স্বামী যদি খারাপ হয় অথবা স্বামী স্ত্রীর মাঝে বনিবনা না হয়,স্ত্রী স্বামীর নিকট তালাক চাইবে। স্বামী তালাক দিতে রাজি না হলে
যেকোন দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাবার অধিকার রাখে। যাকে শরী‘আতে ‘খোলা’ বলে। এ সময় স্ত্রী তার মোহরানা স্বামীকে ফেরৎ দিবে। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, ছাবেত ইবনু ক্বায়েসের স্ত্রী রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট আসল এবং বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ)! আমি ছাবেত ইবনে কায়েসের দ্বীনদারী এবং চাল-চলনের নিন্দা করি না, তবে আমি মুসলিম নারী হয়ে (তার অসুন্দর হবার কারণে) তার নাফরমানী করব, এটা চাই না। তখন নবী (ছাঃ) বললেন, তুমি কি তার মোহর বাবত বাগান ফেরত দিবে? মহিলা বলল, হ্যাঁ দিব। নবী করীম (ছাঃ) ছাবেতকে বললেন, বাগান গ্রহণ কর এবং তাকে ‘খোলা’ হিসাবে এক তালাক প্রদান কর (বুখারী, মিশকাত হা/৩২৭৪)। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, স্ত্রী স্বামীকে সরাসরি তালাক দিতে পারে না, তবে তালাক নেয়ার ব্যবস্থা করতে পারে। এমতাবস্থায় স্বামীকে মোহরানা ফেরত দিতে হবে। আর স্বামী স্ত্রীকে তালাক দিলে স্ত্রীর প্রাপ্য মোহর পূরণ করে দিতে হবে। অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি এখানে বিবেচ্য নয় (নাসাঈ, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৩৩১৭ ‘লি‘আন’ অনুচ্ছেদ; বুলূগুল মারাম হা/১০৯৮-এর আলোচনা)।
═════════════════════
✓দ্বীনী এ পোস্টকে শেয়ার করে ইসলামের আলো পৌঁছে দিন প্রিয়জনদের কাছে।
✓দ্বীনী হিদায়াতের সমুজ্জ্বল আলোকরশ্মিতে আলোকিত হোক মুমিনদের হৃদয়।
═════════════════════
মুফতী-আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন নোমানী

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2478317078888168&id=100001297017101

●●●#জন্ম_মৃত্যুর_আশ্চর্য_মিল ●●●
☆☆ যখন তুমি জন্ম গ্রহন করো , তখন তোমার কানে আযান দেওয়া হয়,, কিন্তু সালাত নয়।
আবার যখন তুমি মৃত্যুবরণ করো , তখন সালাত আদায় হয় ,, আযান নয়।
☆☆যখন তুমি মাতৃগর্ভ থেকে বের হও, জানোনা ,,কে তোমাকে বের করেছে । এমনি ভাবে যখন তোমার মৃত্যু হয়,, তুমি জানো না কে তোমাকে কবরে রেখেছে ।
☆☆ যখন তুমি জন্মগ্রহণ কর, তোমাকে গোসল দেওয়া হয়,, পরিষ্কার করা হয় ।অনুরুপ ভাবে যখন তুমি মৃত্যুবরণ করো,, তখন ও তোমাকে গোসল ও পরিচ্ছন্ন করা হয় ।
☆☆যখন তুমি জন্মগ্রহণ কর, তখন জানো না কে খুশি হয়েছে এবং কে তোমাকে স্বাগত জানিয়েছে।এমনি ভাবে যখন তুমি মৃত্যুবরণ করো,, তখন জানো না কে তোমার জন্য কেঁদেছে এবং কে তোমার বিদায়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে ।
☆☆যখন তুমি মাতৃগর্ভে ছিলে,, সংকীর্ণ ও অন্ধকার স্থানে ছিলে ।আবার যখন তোমাকে কবরে রাখা হবে,, সংকীর্ণ ও অন্ধকার স্থানে রাখা হবে ।
☆☆ যখন তুমি জন্মগ্রহণ করেছ, তখন তোমাকে একটি কাপড় দিয়ে জড়িয়ে ধরা হয়েছে । আবার যখন মৃত্যুবরণ করবে,, তোমাকে একটি কাপড় দিয়ে জড়িয়ে ঢেকে রাখা হবে ।
☆☆ জন্মলাভ করে বড়ো হলে লোকেরা তোমার,, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে ।তেমনি ভাবে যখন তোমাকে কবরে রাখা হবে ,, ফেরেশতারা তোমার আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন ।
■■ #অতএব_ঃ #আমরা_কি_প্রস্তুতি_নিয়েছি_মৃত্যুর_জন্য_???■■

স্বামী – স্ত্রীর মনোমালিন্য হলে করণীয় কি?

মনোমালিন্য
‘‘সংসার সাগরে দুঃখ-তরঙ্গের খেলা,
আশা তার একমাত্র ভেলা।’’
কিন্তু সেই ভেলা ডুবে গেলে আর কার কি সাধ্য? স্বামী যদি স্ত্রীকে না চায়। তার কোন ত্রুটির কারণে তাকে উপেক্ষা করে, তবে স্ত্রী চাইলেও কি করতে পারে? মহান আল্লাহ তার সমাধান দিয়েছেনঃ-
‘‘স্ত্রী যদি তার স্বামীর দুর্ব্যবহার ও উপেক্ষার আশঙ্কা করে, তবে তারা আপোস-নিষ্পত্তি করতে চাইলে তাদের কোন দোষ নেই। বস্ত্ততঃ আপোস করা অতি উত্তম।[1]
স্ত্রী নিজের কিছু অধিকার বিসর্জন দিয়ে
সন্ধির মাধ্যমে স্বামীর সংসর্গ গ্রহণ করাই একমাত্র পথ।
কিন্তু স্ত্রী স্বামীকে উপেক্ষা করতে চাইলে এবং স্বামী তাকে প্রাণ দিয়ে চাইলে তার সমাধান কি? স্ত্রীর এই উপেক্ষা যদি সংগত কারণে হয়; অর্থাৎ স্বামীর ভরণ-পোষণ বা সঙ্গমের অযোগ্যতা যথার্থভাবে প্রমাণিত হয় অথবা আরোপিত শর্তাদি পালন না করে থাকে, তাহলে এ বিষয়ে আল্লাহ বলেন,
﴿إِلاَّ أَنْ يَخَافَا أَلاَّ يُقِيمَا حُدُودَ اللهِ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلاَّ يُقِيمَا حُدُودَ اللهِ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ تِلْكَ حُدُودُ اللهِ فَلا تَعْتَدُوهَا وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ﴾
‘‘তবে যদি তাদের উভয়ের আশংকা হয় যে, তারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে না এবং তোমরা যদি আশংকা কর যে, তারা আল্লাহর সীমারেখা (বাস্তবিকই) রক্ষা করে চলতে সক্ষম নয়। তবে সে অবস্থায় স্ত্রী কোন কিছুর বিনিময়ে (মোহর ফেরৎ বা অতিরিক্ত কিছু অর্থদন্ড দিয়ে) ( স্বামী থেকে) নিষ্কৃতি পেতে চাইলে তাতে ( স্বামী-স্ত্রীর) কারো পাপ নেই। এ সব আল্লাহর গন্ডীসীমা। অতএব তোমরা তা লঙ্ঘন করো না, আর যারা আল্লাহর নির্ধারিত সীমা উল্লংঘন করে তারাই অত্যাচারী।’’[2]
সুতরাং স্বামী মোহর ফেরৎ নিয়ে স্ত্রীকে তালাক দেবে। না দিলে স্ত্রী কাজীর নিকট অভিযোগ করে ‘খোলা তালাক’ নিতে পারে।
পক্ষান্তরে স্ত্রী যদি অকারণে বা সামান্য ত্রুটির কারণে; যেমন পর্দায় থাকতে পারবে না বলে, স্বামী লজেন্স কিনে খাওয়ায় না বলে অথবা প্যান্ট পরে না বলে ‘খোলা’ চায় তবে তার উপর জান্নাতের সুগন্ধিও হারাম।[3]
প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন,
الْمُخْتَلِعَاتُ وَالْمُنْتَزِعَاتُ هُنَّ الْمُنَافِقَاتُ.
‘‘খোলা তালাক প্রার্থিনী এবং বিবাহ বন্ধন ছিন্নকারিণীরা মুনাফিক মেয়ে।’’[4]
তালাক বৈধ হলেও তা কোন খেল-তামাশা নয়। পর্যাপ্ত কারণ বিনা তালাক দেওয়া বা নেওয়ার উপর জবাবদিহি করতে হবে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তিবর্গকে।
পক্ষান্তরে স্ত্রী একান্ত অবাধ্য হলে স্বামীর উচিৎ
প্রথমতঃ তাকে সদুপায়ে উপদেশ দেওয়া ও বুঝানো। আল্লাহ ও তাঁর আযাবের ভয় প্রদর্শন করা। তাতেও বিরত না হলে তার শয্যাত্যাগ করা। তবে কক্ষ ত্যাগ করা উচিৎ নয়। কিন্তু শয্যাত্যাগ করাকে যদি স্ত্রী ভালো মনে করে এবং তাতে কোন ফললাভ না হয়, তাহলে এরপর সে তাকে প্রহার করতে পারে। তবে চেহারায় নয় বা এমন প্রহার নয়; যাতে কেটে-ফুটে যায়।[5]
এতে যদি স্ত্রী স্বামীর অনুগতা হয়ে সোজা পথে এসে যায়, তাহলে আর অন্য কোন ভিন্নপথ অবলম্বন করা (তালাক দেওয়া) স্বামীর জন্য উচিৎ নয়।[6]
প্রকাশ যে, স্বামী-স্ত্রীর মাঝে প্রেম বা বিচ্ছেদ সৃষ্টি করতে কোন প্রকার যোগ-যাদু ইত্যাদি অভিচার ক্রিয়ার সাহায্য নেওয়া বৈধ নয়। কারণ যাদু এক প্রকার কুফরী।[7]
৪ মাস অপেক্ষা কম সময়ের জন্য স্বামী তার স্ত্রীর নিকট না যাওয়ার কসম খেয়ে সেই সময়ের ভিতরে স্ত্রী-মিলন চাইলে কসমের কাফ্ফারা আদায় করতে হবে। মেয়াদ পূর্ণ করলে কাফ্ফারা লাগবে না। পক্ষান্তরে ৪ মাসের অধিক সময়ের জন্য স্ত্রী-স্পর্শ না করার কসম খেলে কসমের কাফ্ফারা দিয়ে ৪ মাসের পূর্বেই স্ত্রীর নিকট যাওয়া জরুরী। নচেৎ ৪ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলে স্ত্রীর তালাক হয়ে যাবে বা স্ত্রী কাজীর নিকট অভিযোগ করে স্বামীকে তার সংসর্গে আসতে অথবা তালাক দিতে বাধ্য করতে পারবে। মহান আল্লাহ বলেন,
{لِّلَّذِينَ يُؤْلُونَ مِن نِّسَآئِهِمْ تَرَبُّصُ أَرْبَعَةِ أَشْهُرٍ فَإِنْ فَآؤُوا فَإِنَّ اللهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ (226) وَإِنْ عَزَمُواْ الطَّلاَقَ فَإِنَّ اللهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} (227) سورة البقرة
‘‘যারা নিজেদের স্ত্রীর কাছে না যাওয়ার শপথ (ঈলা) করে তারা চার মাস অপেক্ষা করবে; অতঃপর তারা যদি মিলে যায়, তবে নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর যদি তারা তালাকই দিতে সংকল্প করে, তবে আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’’[8]
স্ত্রী পছন্দ না হলে যদি স্বামী তালাক দেয়, তবে প্রদত্ত মোহর সে ফেরৎ পাবে না। স্ত্রী ‘খোলা’ নিলে স্বামী মোহর ফেরৎ পাবে। সুতরাং এই মোহর বা অতিরিক্ত অর্থদন্ডের লোভে স্ত্রীর উপর নির্যাতন চালিয়ে তাকে ‘খোলা’ নিতে বাধ্য করা স্বামীর জন্য বৈধ নয়। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন,
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَرِثُوا النِّسَاءَ كَرْهاً وَلا تَعْضُلُوهُنَّ لِتَذْهَبُوا بِبَعْضِ مَا آتَيْتُمُوهُنَّ إِلَّا أَنْ يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ﴾
‘‘হে মুমিনগণ! জোর-জুলুম করে নারীদের ওয়ারেস হওয়া তোমাদের জন্য হালাল নয়। তোমরা তাদেরকে যা প্রদান করেছ, তার কিয়দংশ আত্মসাৎ করার (ফিরিয়ে নেবার) উদ্দেশ্যে তাদের উপর উৎপীড়ন করো না (বা আটক রেখো না); যদি না তারা প্রকাশ্য অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়।’’[9]
তিনি আরো বলেন,
﴿وَإِنْ أَرَدْتُمُ اسْتِبْدَالَ زَوْجٍ مَكَانَ زَوْجٍ وَآتَيْتُمْ إِحْدَاهُنَّ قِنْطَاراً فَلا تَأْخُذُوا مِنْهُ شَيْئاً أَتَأْخُذُونَهُ بُهْتَاناً وَإِثْماً مُبِيناً﴾
‘‘আর যদি এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করারই ইচ্ছা কর এবং তাদের একজনকে প্রচুর অর্থ দিয়ে থাক, তবুও তা থেকে কিছুই গ্রহণ করো না। তোমরা কি মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপাচরণ দ্বারা তা গ্রহণ করবে?’’[10]
স্বামীর এরূপ দুরভিসন্ধি বুঝা গেলে সে মোহর ফেরৎ পাবে না।[11]
স্বামীর জন্য বৈধ নয় যে, সে নিছক জব্দ করা ও কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে স্ত্রীকে তালাক না দিয়ে লটকে রাখবে।স্বামীর জন্য বৈধ নয় যে, সে নিছক জব্দ করা ও কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে স্ত্রীকে তালাক না দিয়ে লটকে রাখবে। আল্লাহর আদেশ,
﴿وَلا تُمْسِكُوهُنَّ ضِرَاراً لِتَعْتَدُوا وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ وَلاَ تَتَّخِذُوا آيَاتِ اللهِ هُزُواً﴾
‘‘তাদের উপর নির্যাতন বা বাড়াবাড়ি করার উদ্দেশ্যে তাদেরকে আটকে রেখো না। যে ব্যক্তি এমন করে সে নিজেরই ক্ষতি করে। আর তোমরা আল্লাহর নির্দেশসমূহকে ঠাট্টা-তামাশার বস্ত্ত মনে করো না।–।’’[12]
বনিবনাও চরম স্পর্শকাতর পর্যায়ে পৌঁছে গেলে, প্রহারাদি করেও স্ত্রী স্বামীর অনুগতা না হলে আর এক উপায় আল্লাহ বলে দিয়েছেন,
﴿وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَماً مِنْ أَهْلِهِ وَحَكَماً مِنْ أَهْلِهَا إِنْ يُرِيدَا إِصْلاحاً يُوَفِّقِ اللهُ بَيْنَهُمَا﴾
‘‘যদি উভয়ের মধ্যে বিরোধ আশঙ্কা কর তবে তোমরা এর ( স্বামীর) পরিবার হতে একজন ও ওর (স্ত্রীর) পরিবার হতে একজন সালিস নিযুক্ত কর; যদি তারা উভয়ে নিষ্পত্তি চায় তবে আল্লাহ তাদের মধ্যে মীমাংসার অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি করে দেবেন।’’[13]
এ উপায় ফলপ্রসূ না হলে তিক্তময় জীবন থেকে নিষ্কৃতি পেতে শেষ পন্থা হল তালাক। প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন,
ثَلاَثَةٌ يَدعُونَ فَلاَ يُستَجَابُ لَهُم : رَجُلٌ كاَنَت تَحتَهُ امرَأَةٌ سَيِّئَة الخُلُق فَلَم يُطَلِّقهَا وَرَجُلٌ كَانَ لَه عَلى رَجُل مَالٌ فَلَم يَشهَد عَلَيه وَرَجُل آتى سَفيهاً مَالَهُ وَقَد قَالَ الله عَزَّ وَجَلَّ : { وَلاَ تُؤتُوا السُّفَهَاءَ أَمْوَالَكُم }.
‘‘তিন ব্যক্তি দুআ করে কিন্তু কবুল হয় না; যে তার অসৎ চরিত্রের স্ত্রীকে তালাক দেয় না। যে ঋণ দিয়ে সাক্ষী রাখে না এবং যে নির্বোধকে নিজের অর্থ প্রদান করে; অথচ আল্লাহ বলেছেন, ‘‘তোমরা নির্বোধদেরকে তোমাদের অর্থ প্রদান করো না।’’[14]
তালাক কোন বিধেয় কর্ম নয়, বরং বৈধ কর্ম। বড় হতভাগারাই তালাকের আশ্রয় নিয়ে থাকে। আসলে তালাক হল ইমারজেন্সী গেটের মতো। যখন চারিদিকে আগুন লাগে এবং সমস্ত গেট বন্ধ হয়ে যায়, তখন নিরুপায়ে ঐ গেট ব্যবহার না করলে জীবন বাঁচে না।

[1] (সূরা আন-নিসা (৪) : ১২৮) [2] (সূরা আল-বাক্বারা (২) : ২২৯) [3] (আবু দাঊদ, তিরমিযী, ইবনে হিববান , সহীহ আল-জা-মিউস সাগীর অযিয়াদাতুহ ২৭০৬নং) [4] (নাসাঈ, বাইহাকী, মুসনাদে আহমদ, আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ ৬৩২নং) [5] (আবু দাঊদ) [6] (সূরা আন-নিসা (৪) : ৩৪) [7] (ফাতাওয়াল মারআতিল মুসলিমাহ ১/১৪৮) [8] (সূরা আল-বাক্বারা (২) : ২২৬-২২৭, ফিকহুস সুন্নাহ ২/১৭৮-১৭৯) [9] (সূরা আন-নিসা (৪) :১৯) [10] (সূরা আন-নিসা (৪) : ২০) [11] (ফিকহুস সুন্নাহ ২/২৬৮) [12] (সূরা আল-বাক্বারা (২) : ২৩১) [13] (সূরা আল-বাক্বারা (৪) : ৩৫) [14] (সূরা আন-নিসা (৪) : ২) (সহীহ আল-জা-মিউস সাগীর অযিয়াদাতুহ ৩০৭৫নং)

https://www.facebook.com/groups/1855479478022410/permalink/2496597887243896/?sfnsn=mo

YouTube এ “জেনে নিন ইসলামিক প্রশ্ন উওর ও আমল করার নিওম” দেখুন