প্রশ্ন: ভালবাসা দিবসের বিধান কি?

💥 উত্তর এক:
❌❌ বিশ্ব ভালবাসা দিবস পালন একটি রোমান জাহেলি উৎসব। রোমানরা খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করার পরেও এ দিবস পালনের প্রথা অব্যাহত রাখে। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২৭০ খ্রিস্টাব্দে ভ্যালেন্টাইন নামক একজন পাদ্রির মৃত্যুদণ্ডের সাথে এ উৎসবটি সম্পৃক্ত। বিধর্মীরা এখনো এ দিবসটি পালন করে, ব্যভিচার ও অনাচারের মধ্যে তারা এ দিবসটি কাটিয়ে থাকে।

💥 দুই:
🔖 কোন মুসলমানের জন্য কাফেরদের কোন উৎসব পালন করা জায়েয নয়। কেননা উৎসব (ঈদ) ধর্মীয় বিষয়। এ ক্ষেত্রে শরয়ি নির্দেশনার এক চুল বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। 👉🏼শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: উৎসব (ঈদ) ধর্মীয় অনুশাসন, ইসলামী আদর্শ ও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। যে ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “তোমাদের প্রত্যেককে আমি আলাদা শরিয়ত ও মিনহাজ (আদর্শ) দিয়েছি”। তিনি আরও বলেন: “প্রত্যেক উম্মতের জন্য রয়েছে আলাদা শরিয়ত দিয়েছি; যা তারা পালন করে থাকে” যেমন- কিবলা, নামায, রোজা। অতএব, তাদের উৎসব পালন ও তাদের অন্যসব আদর্শ গ্রহণ করার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। কারণ তাদের সকল উৎসবকে গ্রহণ করা কুফরকে গ্রহণ করার নামান্তর। তাদের কিছু কিছু জিনিস গ্রহণ করা কিছু কিছু কুফরকে গ্রহণ করার নামান্তর। বরং উৎসবগুলো প্রত্যেক ধর্মের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এবং ধর্মীয় আলামতগুলোর মধ্যে অন্যতম। অতএব, এটি গ্রহণ করা মানে কুফরের সবিশেষ অনুশাসন ও সবচেয়ে প্রকাশ্য আলামতের ক্ষেত্রে তাদের অনুসরণ করা। কোন সন্দেহ নেই যে, এ ক্ষেত্রে তাদের অনুকরণ করা মানে কুফরের অনুকরণ করা।

এর সর্বনিম্ন অবস্থা হচ্ছে- গুনাহ। ✨ নবী (ﷺ) এ দিকে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন: “নিশ্চয় প্রত্যেক কওমের উৎসব রয়েছে। এটা হচ্ছে আমাদের ঈদ বা উৎসব”📓(সহীহ বুখারী ৯৫২, আ. প্র. ৮৯৮, ই. ফা. ৯০৪, 📓মুসলিম ৮৯২, 📓আল-লুলু ওয়াল মারজান ৫১২)। এটি যুনার (জিম্মিদের বিশেষ পোশাক) বা এ বিজাতিদের বিশেষ কোন আলামত গ্রহণ করার চেয়ে অধিক নিকৃষ্ট। কেননা এ ধরনের আলামত কোন ধর্মীয় বিষয় নয়; বরং এ পোশাকের উদ্দেশ্য হচ্ছে- মুমিন ও কাফেরের আলাদা পরিচয় ফুটিয়ে তোলা। পক্ষান্তরে তাদের উৎসব ও উৎসব সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো একান্ত ধর্মীয়; যে ধর্মকে ও ধর্মাবলম্বীকে লানত করা হয়েছে। সুতরাং এ ধরনের ক্ষেত্রে তাদের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ করা আল্লাহর আযাব ও গজব নাযিলের কারণ হতে পারে।
📓(ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম ১/২০৭)

তিনি আরও বলেন: “কোন মুসলমানের জন্য তাদের উৎসবের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন কিছুর ক্ষেত্রে সাদৃশ্য গ্রহণ করা জায়েয নয়। যেমন, খাবার দাবার, পোশাকাদি, গোসল, আগুন জ্বালানো অথবা এ উৎসবের কারণে কোন অভ্যাস বা ইবাদত বর্জন করা ইত্যাদি। এবং কোন ভোজানুষ্ঠান করা, উপহার দেওয়া, অথবা এ উৎসব বাস্তবায়নে সহায়ক এমন কিছু বেচাবিক্রি করা জায়েয নয়। অনুরূপভাবে তাদের উৎসবে শিশুদেরকে খেলতে যেতে দেওয়া এবং সাজসজ্জা প্রকাশ করা জায়েয নয়।

💥 মোদ্দাকথা, বিধর্মীদের উৎসবের নিদর্শন এমন কিছুতে অংশ নেয়া মুসলমানদের জন্য জায়েয নয়। বরং তাদের উৎসবের দিন মুসলমানদের নিকট অন্য সাধারণ দিনের মতই। মুসলমানেরা এ দিনটিকে কোনভাবে বিশেষত্ব দিবে না।📓(মাজমুউল ফাতাওয়া ২৯/১৯৩)

👉🏼 হাফেজ যাহাবী বলেন: খ্রিস্টানদের উৎসব বা ইহুদিদের উৎসব যেটা তাদের সাথে খাস এমন কোন উৎসবে কোন মুসলমান অংশ গ্রহণ করবে না। যেমনিভাবে কোন মুসলমান তাদের ধর্মীয় অনুশাসনগুলো ও কিবলাকে গ্রহণ করে না। 📓(তাশাব্বুহুল খাসিস বি আহলিল খামিস, মাজাল্লাতুল হিকমা ৪/১৯৩)

👉🏼শাইখুল ইসলাম যে হাদিসটির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন সে হাদিসটি সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেন: একবার আবু বকর (রাঃ) আমার ঘরে এলেন। তখন আমার কাছে আনসারদের দুইটি বালিকা ছিল। বুআসের দিন আনসারগণ যে পংক্তিমালা বলেছিল তারা সেগুলো দিয়ে গান গাইছিল। আয়েশা (রাঃ) বলেন: মেয়ে দুইটি গায়িকা ছিল না। তা দেখে আবু বকর (রাঃ) বললেন: ✨রাসূল (ﷺ) এর ঘরে শয়তানের বীনা! সেদিন ছিল ঈদের দিন। তাঁর কথা শুনে ✨রাসূল (ﷺ) বললেন: হে আবু বকর, প্রত্যেক জাতির উৎসব থাকে। এটা আমাদের উৎসবের দিন। 📓(সহীহ বুখারী ৯৫২, আ. প্র. ৮৯৮, ই. ফা. ৯০৪, 📓মুসলিম ৮৯২, 📓আল-লুলু ওয়াল মারজান ৫১২)

💥 আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেন: ✨রাসূল (ﷺ) যখন মদিনায় আগমন করলেন তখন মদিনাবাসী বিশেষ দুইটি দিনে খেলাধুলা করত। তখন ✨নবী (ﷺ) বললেন: এ দুইটি দিনের হাকিকত কি? তারা বলল: জাহেলী যুগে আমরা এ দুইটি দিনে খেলাধুলা করতাম। তখন ✨রাসূল (ﷺ) বললেন: “নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে এ দুইটি দিনের চেয়ে উত্তম দুইটি দিন দিয়েছেন। ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর।📓(সুনান আবূ দাউদ ১১৩৪) আলবানী হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন। এটি প্রমাণ করে ঈদ বা উৎসব প্রত্যেক জাতির একটা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। সুতরাং কোন জাহেলি উৎসব বা মুশরিকদের উৎসব পালন করা জায়েয নয়।

Advertisements

প্রশ্নঃ মুসলিম মহিলার জন্য শাড়ি পরা কি বৈধ? ====================­======== উত্তর-শাড়ি যদি সারা দেহকে ঢেকে নেয়, তাহলে বৈধ। বলা বাহুল্য, পেট-পিঠ বের করে রেখে অথবা পাতলা শাড়ি পরা বৈধ নয়। অনুরূপ এমন লেবাসও বৈধ নয় যাতে নারী দেহের কোনও সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। যে নারীরা এমন শাড়ি বা লেবাস পরে, তারা সেই নারীদলের অন্তর্ভুক্ত, যাঁদের ব্যাপারে আল্লাহ্র রাসুল (সঃ) বলেছেন, “দুই শ্রেণীর মানুষ জাহান্নামবাসী হবে, যাঁদেরকে এখনো আমি দেখিনি। তন্মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণী হল সেই মহিলা দল, যারা কাপড় পরা সত্বেও যেন উলঙ্গ থাকবে, (যারা পাতলা অথবা খোলা লেবাস পরিধান করবে।) এরা (পর পুরুষকে নিজের প্রতি) আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও (তাঁর প্রতি) আকৃষ্ট হবে; তাঁদের মাথা হবে হিলে যাওয়া উটের কুজের মত। তারা জান্নাত প্রবেশ করবে না এবং তাঁর সুগন্ধও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধ এত এত দূরবর্তী স্থান হতে পাওয়া যাবে।” (মুসলিম ২১২৮ নং) আলা ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বর্ণনা করেন। নাবী ﷺ দু-এরকমের লেবাস এবং দু-ধরনের বিক্রয় নিষেধ করেছেন। পেচিয়ে কাপড় পরিধান করা থেকে এবং এক কাপড় পরে এহতেবা করা থেকে, যাতে মানুষের লজ্জাস্থানের উপর কোন কাপড় না থাকে এবং “মুলামাসা ও মুনাবাযা” বেচা-কেনা থেকেও। -[ সহিহ বুখারী, ইফা, হাদিস নম্বর- ৫৮৪৮] পেচিয়ে কাপড় পরিধান করার ব্যাপারে হাদিসের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আছে আর এই কারনে যেহেতু শাড়ী পেচিয়ে পরিধান করতে হয় তাই আমরা মনে করি শাড়ী পরা থেকে মুসলিম মহিলাগন যদি দূরে থাকেন সেটাই উত্তম। —- দ্বীনী প্রশ্নোত্তর: সাজসজ্জা ও প্রসাধন- লেখক আবদুল হামীদ ফাইযী আল মাদানি

প্রশ্নঃ মুসলিম মহিলার জন্য শাড়ি পরা কি বৈধ?
====================­========
উত্তর-শাড়ি যদি সারা দেহকে ঢেকে নেয়, তাহলে বৈধ। বলা বাহুল্য, পেট-পিঠ বের করে রেখে অথবা পাতলা শাড়ি পরা বৈধ নয়। অনুরূপ এমন লেবাসও বৈধ নয় যাতে নারী দেহের কোনও সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। যে নারীরা এমন শাড়ি বা লেবাস পরে, তারা সেই নারীদলের অন্তর্ভুক্ত, যাঁদের ব্যাপারে আল্লাহ্র রাসুল (সঃ) বলেছেন,
“দুই শ্রেণীর মানুষ জাহান্নামবাসী হবে, যাঁদেরকে এখনো আমি দেখিনি। তন্মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণী হল সেই মহিলা দল, যারা কাপড় পরা সত্বেও যেন উলঙ্গ থাকবে, (যারা পাতলা অথবা খোলা লেবাস পরিধান করবে।) এরা (পর পুরুষকে নিজের প্রতি) আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও (তাঁর প্রতি) আকৃষ্ট হবে; তাঁদের মাথা হবে হিলে যাওয়া উটের কুজের মত। তারা জান্নাত প্রবেশ করবে না এবং তাঁর সুগন্ধও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধ এত এত দূরবর্তী স্থান হতে পাওয়া যাবে।” (মুসলিম ২১২৮ নং)
আলা ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বর্ণনা করেন। নাবী ﷺ দু-এরকমের লেবাস এবং দু-ধরনের বিক্রয় নিষেধ করেছেন। পেচিয়ে কাপড় পরিধান করা থেকে এবং এক কাপড় পরে এহতেবা করা থেকে, যাতে মানুষের লজ্জাস্থানের উপর কোন কাপড় না থাকে এবং “মুলামাসা ও মুনাবাযা” বেচা-কেনা থেকেও। -[ সহিহ বুখারী, ইফা, হাদিস নম্বর- ৫৮৪৮]
পেচিয়ে কাপড় পরিধান করার ব্যাপারে হাদিসের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আছে আর এই কারনে যেহেতু শাড়ী পেচিয়ে পরিধান করতে হয় তাই আমরা মনে করি শাড়ী পরা থেকে মুসলিম মহিলাগন যদি দূরে থাকেন সেটাই উত্তম।
—-
দ্বীনী প্রশ্নোত্তর: সাজসজ্জা ও প্রসাধন- লেখক আবদুল হামীদ ফাইযী আল মাদানি

📍💞একজন নারীর জীবনে স্বামী হচ্ছে বটগাছের ছায়া!যার স্বামী নাই তিনিই জানেন স্বামী যে কত অমুল্যধন!

📍💞একজন নেককার স্ত্রী, তার স্বামীর জন্য শ্রেষ্ঠ সম্পদ। তবে একজন স্ত্রী ততক্ষণ পর্যন্ত নেককার হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত ৪ টি কাজ সঠিক ভাবে করতে না পারবে! পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, রমজান মাসের রোজা এবং নিজের লজ্জাস্থানের হেফাজত (অর্থাৎ আল্লাহ্‌র বিধান অনুযায়ী পরিপূর্ণ ভাবে পর্দা করা) ও স্বীয় স্বামীর অনুগত্য করতে হবে।

📍💞রাসূল ( সাঃ) বলেছেন : যে নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, রমজান মাসের রোজা রাখে এবং নিজের লজ্জাস্থান হেফাজত করে ও স্বীয় স্বামীর আনুগত্য করে, সে, নিজের ইচ্ছানুযায়ী জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করবে। (আহমাদঃ১৫৭৩/ইবনে হিব্বান,সহিহ আল-জামে:৬৬০)

📍💞রাসুল(সঃ)বলেছেন- স্বামীই তোমার জান্নাত এবং স্বামীই তোমার জাহান্নাম! অর্থাৎ স্বামীর সন্তুষ্টি জান্নাত যাওয়ার অন্যতম মাধ্যম এবং তার অসুন্তুস্টি জাহান্নাম যাওয়ার বড় কারন।

📍💞স্বামীর প্রতি চূড়ান্ত সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ থাকা প্রতিটি স্ত্রীর দায়িত্ব।

📍💞”সুনানে আবু দাউদে” রসূল (স)বলেনঃ আমি যদি নারীদের আল্লাহর পর কাউকে সিজদা করতে বলতাম তাহলে প্রত্যেক নারীকে নিজ স্বামীর সামনে সিজদা করতে বলতাম।

📍💞”কোন স্বামী তার স্ত্রীকে নিজের প্রয়োজনে আহবান করল, আর স্ত্রী সাড়া দিল না; সে স্ত্রী যেন জাহান্নামকেই তার ঠিকানা বানিয়ে নিল।”

📍💞রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
“সমগ্র পৃথিবীটাই সম্পদে পরিপূর্ণ। আর তার মধ্যে কল্যাণকর ও উত্তম সম্পদ হলো সৎ চরিত্রবান নেককার নারী/স্ত্রী।
[ মুসলিমঃ১৪৬৭, নাসাঈঃ৩২৩২, ইবনে মাজাহঃ১৮৫৫, আহমেদঃ৬৫৩৯,]

📍💞নেককার নারীর গুণাবলিঃ

আল্লাহ তা’আলা বলেন,
فالصالحات قانتات حافظات للغيب بما حفظ الله. النساء:৩৪)
ইবনে কাসির রহ. লিখেন,فالصالحات শব্দের অর্থ নেককার নারী, ইবনে আব্বাস ও অন্যান্য মুফাসসিরের মতে قانتات শব্দের অর্থ স্বামীদের আনুগত্যশীল নারী, আল্লামা সুদ্দি ও অন্যান্য মুফাসসির বলেন حافظات للغيب শব্দের অর্থ স্বামীর অনুপস্থিতিতে নিজের সতীত্ব ও স্বামীর সম্পদ রক্ষাকারী নারী।”[ইবনে কাসির : ১ : ৭৪৩]

📍💞রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ
“তোমাদের সেসব স্ত্রী জান্নাতি, যারা মমতাময়ী, অধিক সন্তান প্রসবকারী, পতি-সঙ্গ প্রিয়- যে স্বামী গোস্বা করলে সে তার হাতে হাত রেখে বলে, আপনি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত, আমি দুনিয়ার কোন স্বাদ গ্রহণ করব না।”[আলবানির সহিহ হাদীস সংকলন : ২৮৭]

📍💞সুনানে নাসায়িতে আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একদা জিজ্ঞাসা করা হল, হে আল্লাহর রাসূল, কোন নারী সব চেয়ে ভাল? তিনি বললেন, “যে নারী স্বামীকে আনন্দিত করে, যখন স্বামী তার দিকে দৃষ্টি দেয়। যে নারী স্বামীর আনুগত্য করে, যখন স্বামী তাকে নির্দেশ দেয়, যে নারী স্বামীর সম্পদ ও নিজ নফসের ব্যাপারে, এমন কোনো কর্মে লিপ্ত হয় না, যা স্বামীর অপছন্দ।”[সহিহ সুনানে নাসায়ী : ৩০৩০]

📍💞হে মুসলিম নারী, নিজকে একবার পরখ কর, ভেবে দেখ এর সাথে তোমার মিল আছে কতটুকু। আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার পথ অনুসরণ কর। দুনিয়া-আখেরাতের কল্যাণ অর্জনের শপথ গ্রহণ কর। নিজ স্বামী ও সন্তানের ব্যাপারে যত্নশীল হও।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক মহিলাকে জিজ্ঞাসা করেন, “তোমার কি স্বামী আছে? সে বলল হ্যাঁ, রাসূল বললেন, তুমি তার কাছে কেমন? সে বলল, আমি তার সন্তুষ্টি অর্জনে কোন ত্রুটি করি না, তবে আমার সাধ্যের বাইরে হলে ভিন্ন কথা। রাসূল বললেন, লক্ষ্য রেখ, সে-ই তোমার জান্নাত বা জাহান্নাম।”[আহমাদ : ৪ : ৩৪১]

📍💞উপরের আলোচনার আলোকে নেককার নারীর গুণাবলি :
💞১. নেককার : ভাল কাজ সম্পাদনকারী ও নিজ রবের হক আদায়কারী নারী।
💞২. আনুগত্যশীল : বৈধ কাজে স্বামীর আনুগত্যশীল নারী।
💞৩. সতী : নিজ নফসের হেফাজতকারী নারী, বিশেষ করে স্বামীর অবর্তমানে।
💞৪. হেফাজতকারী : স্বামীর সম্পদ ও নিজ সন্তান হেফাজতকারী নারী।
💞৫. আগ্রহী : স্বামীর পছন্দের পোশাক ও সাজ গ্রহণে আগ্রহী নারী।
💞৬. সচেষ্ট : স্বামীর গোস্বা নিবারণে সচেষ্ট নারী। কারণ হাদিসে এসেছে, স্বামী নারীর জান্নাত বা জাহান্নাম।
💞৭. সচেতন : স্বামীর চাহিদার প্রতি সচেতন নারী। স্বামীর বাসনা পূর্ণকারী।
যে নারীর মধ্যে এসব গুণ বিদ্যমান, সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাষ্য মতে জান্নাতী। তিনি বলেছেন, “যে নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, রমজানের রোজা রাখে, নিজ সতীত্ব হেফাজত করে ও স্বামীর আনুগত্য করে, তাকে বলা হবে, যে দরজা দিয়ে ইচ্ছে জান্নাতে প্রবেশ কর।”[ইবনে হিব্বান, আল-জামে : ৬৬০]

📍💞যারা অবিবাহিত তারা নেককার স্বামী/স্ত্রী ও সন্তান পাওয়ার জন্য বা যারা বিবাহিত তাদের স্বামী/স্ত্রী ও সন্তান ধার্মিক হওয়ার জন্য দুয়াঃ
ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻫَﺐْ ﻟَﻨَﺎ ﻣِﻦْ ﺃَﺯْﻭَﺍﺟِﻨَﺎ ﻭَﺫُﺭِّﻳَّﺎﺗِﻨَﺎ ﻗُﺮَّﺓَ ﺃَﻋْﻴُﻦٍ ﻭَﺍﺟْﻌَﻠْﻨَﺎ ﻟِﻠْﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ ﺇِﻣَﺎﻣًﺎ
উচ্চারণঃ রব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা ক্বুররাতা আ ’ ইয়ুন, ওয়াজআ ’ লনা মুত্তাক্বীনা ইমামা।
অর্থঃ হে আমাদের পালনকর্তা,
আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান কর এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্যে আদর্শস্বরূপ কর। সুরা আল-ফুরক্বানঃ ৭৪।

💞📍💞📍💞📍💞📍💞📍

📍💞 In the life of a woman, husband is the shadow of the banyan tree, she has no husband, she knows how honorable husband is!

📍💞 One of the noble wives, the best asset for her husband. But a wife will not be able to do good till 4 things can not be done properly! Five times prayers, fasting of Ramadan and the custody of his own private parts (that is, to be fully screened according to Allah’s law) and his husbands should be obeyed.

The Holy Prophet said: The woman who performs five times a month of fasting, fasting in Ramadan, and protects her private place and obeys her husband, she will enter inside any door of Paradise according to her wishes. (Ahmad: 1573 / Ibn Hibbah, Sahih al-Jami: 660)

The Holy Prophet has said – Husband is your Paradise and husband is your hell! That is, the husband’s satisfaction is one of the means of going to heaven and the reason for its untouchability is hell.

স্ত্রীর The responsibility of every wife, who is ultimate respect and respect for Swami

📍💞 “Sunan Abu Daud” the Messenger (s) said: If I asked women to prostrate after Allah, I would have told every woman to prostrate in front of her husband.

📍💞 “A husband invites his wife to his own need, and the wife does not respond, the wife has made her the place of hell.”

The Holy Prophet (peace be upon him) said,
“The whole world is full of wealth, and in it there is good and good wealth, the virtuous virtuous woman / wife.
[Muslim: 1467, Nasai 3232, Ibn Majah 1855, Ahmed 6539,]

📍💞New woman’s qualities:

Allaah says,
فالصالحات قانتات حافظات للغيب بما حفظ الله. النساء: 34)
Ibn Kassir rah According to the good women, Ibn Abbas and other commentators, the words of قانتات mean the words of kantan, husbands’ wives of Allama Suddi, and other commentators say حافظات للغيب means the woman who protects her virginity and husband’s property in the absence of her husband. “[Ibn Kassir: 1: 743]

The Messenger of Allah (্লাম) said:
“Your wives, Paradise, who are dear to me, who give birth to a child, give birth to their loved ones, who love their husbands, they put their hands in their hands and say, until you are satisfied, I will not taste anything on the earth.” [Al-Albanani Sahih Hadith. 287]

Narrated by Abu Huraira, in Nasai, in Riyadh,
The Messenger of Allah (কে) was asked, “O Messenger of Allah, what is the best woman?” He said, “A woman who makes her husband happy, when the husband looks at her, a woman who obeys his husband, when the husband orders him, that the woman does not engage in any work related to her husband’s wealth and self-worth, which is not her husband’s dislike.” [Sahih Sunan Nasai: 3030]

Muslim women, try yourself one day, think about how much you have in common with it. Follow the path of pleasing Allah. Take oath to attain the good of the world and the Hereafter. Be careful about your husband and your child.
The Messenger of Allah (াল) asked a woman, “Do you have a husband?” He said, “Yes, the Messenger said,” What do you do with him? “He said,” I do not make any mistakes in achieving his satisfaction, but I am different from that. “The Messenger said, Note that he is your heaven or hell. “[Ahmad: 4: 341]

Good qualities of good women in the discussion of the above:
💞1. Nkaka: Good working person and women who earn their rights.
2. Loyalty: In obedience to lawful women, obedient women
💞3. Sati: Protecting women of their own self, especially in the absence of their husbands.
💞4. Hefajtakta: The husband’s wealth and the custody of his own child.
💞5 Interested: Women who are interested in taking husband’s choice and clothing.
💞6. Efforts: Woman seeking protection from her husband. Because the Hadith comes, the husband of the husband or the hell of hell
💞7. Conscious: Woman aware of husband’s needs. Fulfilling the wishes of the husband.
According to the statement of Allah’s Messenger (াল), the woman who has these qualities, He said, “The woman who performs prayers for five times, fasting in Ramadan, protects her chastity and obeys her husband, it will be said, enter the garden by which door is entered.” [Ibn Hibban, al-Jami: 660]

📍💞 Those who are unmarried, to get good husbands / wives and children, or to those who are married, their husbands / wives and children are duaah
ربنا هب لنا من أزواجنا وذرياتنا قرة أعين واجعلنا للمتقين إماما
Pronunciation: Rabbana Hublana Min Azaazina wa Zuriyatina Qurrata A ‘Yun, Wajah’ Lana Muttqbina Imam.
It means: Our Lord,
Give us comfort from our wives and our children on behalf of our eyes and make us ideal for the righteous. Surah Al-Furqan: 74

💞📍💞📍💞📍💞📍💞📍

জেনে নিন গোসল সংক্রান্ত মাসআলা-মাসায়েল

https://wp.me/s19Oe7-bath

যে ব্যক্তি সকালে তিনবার রাতে তিনবার এই দোয়া পাঠ করবে কোনো কিছু তার ক্ষতি করতে পারবে না।

بِسْمِ اللّٰهِ الَّذِيْ لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِيْ الْأَرْضِ وَلاَ فِيْ السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ
উচ্চারণ :-বিস্‌মিল্লা-হিল্লাযী লা ইয়াদ্বুররু মা‘আস্‌মিহী শাইউন ফিল্ আরদ্বি ওয়ালা ফিস্ সামা-ই, ওয়াহুয়াস্ সামী‘উল ‘আলীম।
অর্থ :- আল্লাহ্‌র নামে; যাঁর নামের সাথে আসমান ও যমীনে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী।”

(আবূ দাউদ, ৪/৩২৩, নং ৫০৮৮; তিরমিযী, ৫/৪৬৫)

যে ব্যক্তি সকালে তিনবার রাতে তিনবার এই দোয়া পাঠ করবে কোনো কিছু তার ক্ষতি করতে পারবে না।

بِسْمِ اللّٰهِ الَّذِيْ لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِيْ الْأَرْضِ وَلاَ فِيْ السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ
উচ্চারণ :-বিস্‌মিল্লা-হিল্লাযী লা ইয়াদ্বুররু মা‘আস্‌মিহী শাইউন ফিল্ আরদ্বি ওয়ালা ফিস্ সামা-ই, ওয়াহুয়াস্ সামী‘উল ‘আলীম।
অর্থ :- আল্লাহ্‌র নামে; যাঁর নামের সাথে আসমান ও যমীনে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী।”

(আবূ দাউদ, ৪/৩২৩, নং ৫০৮৮; তিরমিযী, ৫/৪৬৫)

যে সব কারণে নিজের অজান্তে
স্ত্রী চিরতরে হারাম হয়ে যায়।

মানুষ অনেক সময় এমন কথা বলে বা কাজ করে যার দ্বারা তার অজান্তে তার স্ত্রী চিরতরে হারাম হয়ে যায়। এমতাবস্থায় সংসার চালিয়ে গেলে সে যেনাকারী সাব্যস্ত হবে এবং সন্তান হারামজাদা গন্য হবে। সাধারন মুসলমান ভাইদেরকে তা থেকে বাঁচানোর জন্যই এই প্রয়াস। নিম্নে কিছু জরুরী মাসআলা উল্লেখ করা হল।

উল্লেখ্য যে, এখানে মাসআলাগুলো লেখার দ্বারা উদ্দেশ্য হল যাতে আমরা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো থেকে বাঁচতে পারি। এগুলো পড়ে ফাতওয়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে মাসআলাগুলো লেখা হয়নি। এমনকি নিম্নলিখিত বিষয়গুলো কারো ঘটে গেলে সেক্ষেত্রেও সে এর উপর আমল করবে না। বরং অবশ্যই কোন নির্ভরযোগ্য দারুল ইফতা বা মুফতী সাহেবের স্মরনাপন্ন হবে।

মোটকথা মাসআলাগুলো লেখার দ্বারা উদ্দেশ্য হল অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় থেকে বেঁচে থাকা। এবং রাগের মাথায় যে কোন ধরনের শব্দ মুখে উচ্চারণ না করা। কেননা অনেককে দেখা গেছে একটি কথার দ্বারাই তার জীবন তছনছ হয়ে গিয়েছে এবং সারাজীবন তার জের বহন করছে। তাই ঝগড়াঝাঁটির সময় শব্দ উচ্চারণের ক্ষেত্রে খুব সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

মাসআলাঃ কেউ তার স্ত্রীকে ঠাট্টা করে তালাক দিলে তা পতিত হয়ে যাবে।-তিরমিজী শরীফ হাদীস নং-১১৮৪।

মাসআলাঃ কেউ তালাকের মিথ্যা স্বীকারোক্তি করলে তা পতিত হয়ে যায়। অর্থাৎ পূর্বে তালাক না দিয়েও কেউ যদি তালাক দিয়েছে বলে থাকে তা পতিত হয়ে যাবে। -রদ্দুল মুহতার ৩/২৩৮।

মাসআলাঃ রাগান্বিত অবস্থায় তালাক দিলে তালাক পতিত হয়ে যায়। অনুরূপভাবে মদ্যপ অবস্থায় মাতাল হয়ে তালাক দিলে তা পতিত হয়। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৫৩, আল মুহীতুল বুরহানী ৩/৩৪৮, আদ্দুররুল মুখতার /২৩৫,২৪১,২৪৪।

মাসআলাঃ কেউ তার স্ত্রীকে বলল “আমি তোমাকে ছেড়ে দিয়েছি” এর দ্বারা তালাক হয়ে যাবে। চাই তার তালাকের নিয়ত থাক বা না থাক। -রদ্দুল মুহতার ৩/২৯৯, আলমগিরী ১/৩৭৯।

মাসআলাঃ তালাক পতিত হওয়ার জন্য সাক্ষীর সামনে তালাক দেওয়া বা স্ত্রীর উপস্থিতিতে তালাক দেওয়া জরুরী নয়। বরং কেউ একাকী নির্জনে তার স্ত্রীকে তালাক দিলে তা কার্যকর হয়ে যাবে। -ফাতওয়ায়ে দারুল উলুম ৯/৪৮,৪১,৬৮।

মাসআলাঃ মৌখিকভাবে তালাক দিলে যেমনিভাবে তালাক পতিত হয় তেমনিভাবে মুখে উচ্চারণ ব্যাতীত লিখিতভাবে তালাক দিলে তা পতিত হয়। -রদ্দুল মুহতার ৩/২৪৬, ২৪৭।

মাসআলাঃ কেউ তালাকনামায় সজ্ঞানে স্বাক্ষর করলে লিখিত তালাকনামা অনুযায়ী তালাক পতিত হয়। -তাতারখানিয়া ৩/৩৮০।

মাসআলাঃ কেউ উকীলকে বা অন্য কাউকে বলল “আমি স্ত্রীকে তালাক দিব” তালাকনামা লিখুন। এর দ্বারাই তার স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হবে। চাই সে তালাকনামা লিখুক অথবা না লিখুক। -তাতারখানিয়া ৩/৩৭৯, রদ্দুল মুহতার ৩/২৪৬।

মাসআলাঃ স্পষ্টভাবে তালাক দিলে (যেমন কেউ তার স্ত্রীকে বলল আমি তোমাকে তালাক দিলাম) নিয়তের প্রয়োজন নেই। তার নিয়ত যা-ই থাকুক না কেন তালাক পতিত হবে। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২২, রদ্দুল মুহতার ৩/২৪৭।

মাসআলাঃ কেউ একই মজলিসে এক সাথে তিন তালাক দিলে তিন তালাকই পতিত হবে। এক তালাক নয়। চাই সে এক শব্দে তিন তালাক দিক বা ভিন্ন শব্দে। উভয় অবস্থায় তিন তালাক পতিত হবে। আর এটাই চার ইমামের মাযহাব। -সুরা বাকারাহ আয়াতঃ ২৩০, সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৫২৬১,৫২৫৯, সুনানে নাসাই, হাদীস নং৩৪১, সুনানে বাইহাকী, হাদীস নং ১৪৭৩৫, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং ১১৩৪৩।

মাসআলাঃ স্ত্রীকে তিন তালাক দিলে শরঈ হালালা ব্যতীত তার সাথে ঘর-সংসার করা নাজায়েয ও হারাম। যদি অন্য পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় অতঃপর দ্বিতীয় স্বামী তাকে স্বেচ্ছায় তালাক দেয় তবে ইদ্দত পালনের পর ১ম স্বামীর সাথে পূনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে। -সূরা বাকারাহ, আয়াত নং ২৩০, সহীহ বুখারী, হাদীস নং৫২৬১,৫২৫৯।

মাসআলাঃ কেউ রাগান্বিত অবস্থায় স্ত্রীকে বলল তুমি ইদ্দত পালন কর বা তুমি এখন থেকে একা বা তুমি স্বাধীন বা তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলাম তবে এর দ্বারা একটি বায়েন তালাক পতিত হবে যদিও তার তালাকের নিয়ত না থাকে। -আদ্দুরুল মুখতার ৩/২৯৬-২৯৮, আলবাহরুর বায়েক ৩/৫১৮-৫২৩, ফাতওয়ায়ে দারুল উলুম ৯/৩১০।

মাসআলাঃ স্ত্রী বা অন্য কেউ স্বামীর নিকট তালাক চাইল।স্বামী স্ত্রীকে জবাবে বলল তুমি মুক্ত বা তুমি আমার জন্য হারাম বা তুমি আমার থেকে বিচ্ছিন্ন বা তুমি ইদ্দত পালন কর বা তুমি এখন থেকে একা বা তুমি স্বাধীন তবে কোন নিয়ত ব্যতীত স্ত্রীর উপর একটি বায়েন তালাক পতিত হবে। -আদ্দুররুল মুখতার ৩/২৯৬-২৯৮,তাবয়ীনুল হাকায়েক ৩/৭৮।

মাসআলাঃকেউ তার স্ত্রীকে বলল “তুমি আমার জন্য হারাম”এর দ্বারা তার স্ত্রীর উপর একটি বায়েন তালাক পতিত হবে ।-রদ্দুল মুহতার ৩/৪৩৩, ফাতওয়ায়ে দারুল উলুম ৯/৩০২।

মাসআলাঃ তালাক বায়েন হলে নতুন করে মোহর ধার্য্য করে দুজন সাক্ষীর সামনে ঈজাব কবুলের দ্বারা বিবাহ দোহরানো ব্যতীত স্ত্রী হালাল হবে না। -ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া ১/৪৭২।

উল্লেখিত বিষয়গুলোর কোন একটির দ্বারা তালাক হলে কোন ক্ষেত্রে ফিরিয়ে নেওয়ার দ্বারা, কোন ক্ষেত্রে বিবাহ দোহরানো দ্বারা, কোন ক্ষেত্রে বিবাহ দোহরানো দ্বারা কোন ক্ষেত্রে শরঈ হালালার দ্বারা স্ত্রী ফিরে আসার সুযোগ রয়েছে। তবে স্ত্রী হারাম হওয়ার অন্য একটি সুরত রয়েছে যাকে “হুরমতে মুছাহারাহ” বলে। এর দ্বারা স্ত্রী চিরতরে কেয়ামত পর্যন্ত হারাম হয়ে যায়। নিম্নে এ সংক্রান্ত কিছু মাসআলা আলোচনা করা অত্যন্ত জরুরী মনে করছি।

মাসআলাঃ যদি কোন পুরুষ ও মহিলা একে অপরকে কামভাবে (শাহওয়াতের সাথে) স্পর্শ করে অথবা পুরুষ মহিলার লজ্জাস্থানের ভিতরে কামভাব নিয়ে দৃষ্টি দেয় তবে তাদের প্রত্যেকের জন্য অপরের উপরের সিঁড়ি ও নিচের সিঁড়ির সকলে চিরতরে হারাম হয়ে যায়। অর্থাৎ তাদের কারো সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না। আর কেউ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ থাকলে সে চিরতরে হারাম হয়ে যাবে। একে হুরমতে মুছাহারাহ বলে। -এলাউস সুনান-১১/১৩১,১৩২, রদ্দুল মুহতার-৩/৩১-৩৩।

মাসআলাঃ কেউ তার শাশুড়ী বা মেয়েকে কামভাব নিয়ে স্পর্শ করলে তার স্ত্রী তার জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যায়। -রদ্দুল মুহতার ৩/৩১-৩৩।

মাসআলাঃ কোন মহিলা তার ছেলে বা শ্বশুরকে কামভাবে নিয়ে স্পর্শ করলে তার স্বামী তার জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যায়। ¬-আদ্দুররুল মুখতার ৩/৩১-৩৩।

মাসআলাঃ হুরমতে মুছাহারাহ সাব্যস্ত হওয়ার জন্য কামভাব উভয়ের হওয়া শর্ত নয় বরং যে স্পর্শ করেছে বা যাকে স্পর্শ করা হচ্ছে কোন একজনের কামভাব এলেই হুরমতে মুছাহারাহ সাব্যস্ত হবে।-¬রদ্দুল মুহতার ৩/৩৬।

মাসআলাঃ হুরমতে মুছাহারাহ সাব্যস্ত হতে হলে সরাসরি শরীরে স্পর্শ হতে হবে অথবা এমন কাপড়ের উপরে স্পর্শ হতে হবে যার উপরে শরীরের উষ্ণতা অনুভুত হয়।-আদ্দুররুল মুখতার ৩/৩১।

কাজেই পুরুষের জন্য শাশুড়ি ও মেয়ের ( সাবালেগ হলে বা সাবালেগের নিকটবর্তী হলে) সাথে চলাফেরার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন প্রয়োজন। অনুরূপভাবে মহিলার জন্য শ্বশুর ও ছেলের ( সাবালক বা সাবালকের নিকটবর্তী হলে) সাথে চলাফেরার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন একান্ত প্রয়োজন। নতুবা সামান্য ভুলের কারনে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চিরতরে হারাম হয়ে যেতে পারে।

এখানে আরেকটি জরুরী বিষয় হল, স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার শরঈ পদ্ধতি ও নীতিমালা রয়েছে। তালাক দেওয়ার পূর্বে প্রত্যেক মুসলমানের জন্য তা সম্পর্কে অবগত হওয়া জরুরী। তাই কেউ তালাক দিতে চাইলে ( যা শরীআতের দৃষ্টিকোণ থেকে নিকৃষ্ট কাজ) অবশ্যই তালাক দেওয়ার পূর্বে কোন বিজ্ঞ মুফতী সাহেবের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে তদানুযায়ী আমল করবে। অথচ অত্যন্ত আফসোসের ও পরিতাপের বিষয় আমাদের অধিকাংশ ভাই রাগের মাথায় একাই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন এবং এক সাথে এক বৈঠকেই স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে দেন। অতঃপর কোন দারুল ইফতা বা মুফতি সাহেবের নিকট গিয়ে কান্নাকাটি করেন এবং ধন্না দেন। অথচ তখন গিয়ে তো কোন লাভ নেই। কেননা ডাক্তারের কাছে লাশ নিয়ে গেলে কোন লাভ হয় না। তাছাড়া এক সাথে তিন তালাক দেওয়া মারাত্মক ও জঘন্যতম গুনাহ। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সুখী দাম্পত্য জীবন দান করুন। আমীন।