দাইয়ূছ

যে নারী বা পুরুষ পর্দা মানে না তাকে দাইয়ূছী বলা হয়। ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«ثَلَاثَةٌ قَدْ حَرَّمَ اللهُ عَلَيْهِمُ الْجَنَّةَ: مُدْمِنُ الْخَمْرِ، وَالْعَاقُّ، وَالدَّيُّوثُ “، الَّذِي يُقِرُّ فِي أَهْلِهِ الْخَبَثَ»

“তিন ব্যক্তির জন্য আল্লাহ জান্নাত হারাম করেছেন। লাগাতার শরাব পানকারী, মাতা-পিতার অবাধ্য সন্তান এবং দাইয়ূছী, যে নিজ পরিবারের মধ্যে বেহায়াপনাকে জিইয়ে রাখে’। [1]

আমাদের যুগে পর্দাহীনতার নিত্যনতুন সংস্করণ বের হচ্ছে। বাড়ীতে কন্যা কিংবা স্ত্রীকে একজন বেগানা পুরুষের পাশে বসে আলাপ করতে দেখেও বাড়ীর কর্তা পুরুষটি কিছুই বলেন না। বরং তিনি যেন এরূপ একাকী আলাপে খুশীই হন। মহিলাদের কোনো বেগানা পুরুষের সাথে একাকী বাইরে যাওয়াও দাইয়ূছী। ড্রাইভারের সাথে অনেক স্ত্রীলোককে এভাবে একাকী বাইরে যেতে দেখা যায়। বিনা পর্দায় তাদেরকে বাইরে যেতে দেওয়াটাই দাইয়ূছী। এভাবে বাইরে বের হলে পুরুষের লোলুপ দৃষ্টি তাদের প্রতি পড়ে।আবার ফিল্ম কিংবা যে সকল পত্রিকা পরিবেশকে কলুষিত করে ও অশ্লীলতার বিস্তার ঘটায় সেগুলো আমদানী করা এবং বাড়ীতে স্থান দেওয়াও দাইয়ূছী। সুতরাং এসব হারাম থেকে আমাদের অবশ্যই বেঁচে থাকতে হবে।

[1] মুসনাদে আহমদ; সুনান নাসাঈ; মিশকাত, হাদীস নং ৩৬৫৫।

পবিত্র কুরআনে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের নির্দেশনা!ফজর সালাতের নির্দেশ-“আর স্মরণ করতে থাক স্বীয় পালনকর্তাকে আপন মনে ক্রন্দনরত ও ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় এবং এমন স্বরে যা চিৎকার করে বলা অপেক্ষা কম; সকালে (ফজর) ও সন্ধ্যায়। আর বে-খবর থেকো না।”——->[ সূরাঃ আল-আরাফ আয়াত ২০৫]।”অতএব, তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা স্মরণ কর সন্ধ্যায় ও সকালে (ফজর)।”——–>[ সূরা আর-রূম আয়াত ১৭]।”আমি পর্বতমালাকে তার অনুগামী করে দিয়েছিলাম, তারা সকাল(ফজর)-সন্ধ্যায় তার সাথে পবিত্রতা ঘোষণা করত। “——–>[সূরা ছোয়াদ(সা’দ) আয়াত ১৮]।”অতএব, তারা যা কিছু বলে, তজ্জন্যে আপনি ছবর করুন এবং, সূর্যোদয় (ফজর) ও সূর্যাস্তের পূর্বে আপনার পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করুন।”——–>[সূরা ক্বাফ আয়াত ৩৯]।”আর দিনের দুই প্রান্তের নামায ঠিক রাখবে, এবং রাতের প্রান্তভাগে পূর্ণ কাজ অবশ্যই পাপ দূর করে দেয়, যারা স্মরণ রাখে তাদের জন্য এটি এক মহা স্মারক।”——–>[সূরাঃ হুদ আয়াত ১১৪]।”সূর্য ঢলে পড়ার সময় থেকে রাত্রির অন্ধকার পর্যন্ত নামায কায়েম করুন এবং ফজরের কোরআন পাঠও। নিশ্চয় ফজরের কোরআন পাঠ মুখোমুখি হয়।”——->[ সূরাঃ বনি ইসরাইল/আল ইসরা আয়াত ৭৮]।যোহর সালাতের নির্দেশ-যোহরের সালাতের ব্যাপারে কুরআনের যা এসেছে তা থেকে প্রমাণ নেয়া যায়, তা হচ্ছে, “নামায কায়েম কর, যখন সূর্য ঢলে পড়ে।”——>[সূরা আল-ইসরাঃ ৩৮]”এবং আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যাবতীয় প্রশংসা তাঁরই(আল্লাহর) জন্য, নিশাকালে (অপরাহ্নে) এবং যখন তোমরা মধ্যাহ্নে (জহুর) থাক।”——->[সূরা আর-রূম আয়াত ১৮]।আছর সালাতের নির্দেশ”সমস্ত নামাযের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাযের (আছর) ব্যাপারে। আর আল্লাহর সামনে একান্ত আদবের সাথে দাঁড়াও।”———>[সূরা আল বাক্বারাহ আয়াত ২৩৮]।”অতএব, তারা যা কিছু বলে, তজ্জন্যে আপনি ছবর করুন এবং, সূর্যোদয় (ফজর) ও সূর্যাস্তের পূর্বে (আছর) আপনার পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করুন।”——–>[সূরা ক্বাফ আয়াত ৩৯]।মাগরিব সালাতের নির্দেশ”আর স্মরণ করতে থাক স্বীয় পালনকর্তাকে আপন মনে ক্রন্দনরত ও ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় এবং এমন স্বরে যা চিৎকার করে বলা অপেক্ষা কম; সকালে (ফজর) ও সন্ধ্যায় (মাগরিব) । আর বে-খবর থেকো না।”——->[ সূরাঃ আল-আরাফ আয়াত ২০৫]।”আর আপনি সালাত কায়েম করুন দিনের দু প্রান্তভাগে ও রাতের প্রথমাংসে(১) নিশ্চয় সৎকাজ অসৎ কাজকে মিটিয়ে দেয়। উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য এটা এক উপদেশ।——->[সূরা হুদ আয়াত ১১৪]।তাফসীর[১] নামায কায়েম করার নির্দেশ দানের পর সংক্ষিপ্তভাবে নামাযের ওয়াক্ত বর্ণনা করেছেন যে, “দিনের দু’প্রান্তে অর্থাৎ শুরুতে ও শেষভাগে এবং রাতেরও কিছু অংশে নামায কায়েম করবেন।” দিনের দু’প্রান্তের নামাযের মধ্যে প্রথমভাগের নামায সম্পর্কে সবাই একমত যে, সেটি ফজরের নামায। [তাবারী; বাগভী; কুরতুবী; ইবন কাসীর] কিন্তু শেষ প্রান্তের নামায সম্পর্কে ইবন আব্বাস বলেন তা মাগরিবের নামায। [তাবারী; কুরতুবি ; ইবন কাসির] হাসান বসরি, কাতাদাহ ও দাহহাক আসরের নামাযকেই দিনের শেষ নামায সাব্যস্ত করেছেন। [কুরতুবী ইবন কাসীর] অবশ্য এখানে একটি মত এটাও রয়েছে যে, দিনের দু’প্রান্ত বলে, যোহর ও আসরের সালাত বোঝানো হয়েছে। [কুরতুবী] রাতের কিছু অংশের নামায সম্পর্কে ইবন আব্বাস ও মুজাহিদ বলেন, এটি হচ্ছে, এশার নামায। হাসান বসরী, মুজাহিদ, মুহাম্মদ ইবনে কা’ব, কাতাদাহ, যাহ্‌হাক প্রমুখ তফসীরকারকদের অভিমত হচ্ছে যে, সেটি মাগরিব ও এশার নামায। [ইবন কাসীর] অতএব এ আয়াতে চার ওয়াক্ত নামাযের বর্ণনা পাওয়া গেল। অবশিষ্ট রইল যোহরের নামায। এ ব্যাপারে ইবন কাসীর বলেন, এটি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয হওয়ার আগের নির্দেশ। আর তখন দু’ ওয়াক্ত নামাযই ফরয ছিল। সূর্যোদয়ের আগের নামায এবং সূর্যাস্তের আগের নামায। আর রাতের বেলা রাসূল ও উম্মতের উপর কিয়ামুল লাইল করা ফরয ছিল। [ইবন কাসীর] অথবা যোহরের সালাতের ব্যাপারে কুরআনের অন্যত্র যা এসেছে তা থেকে প্রমাণ নেয়া যায়, তা হচ্ছে, “নামায কায়েম কর, যখন সূর্য ঢলে পড়ে।” [সূরা আল-ইসরাঃ ৩৮]ইশা সালাতের নির্দেশ-“এবং বিকালে ও দুপুরে। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে সকল প্রশংসা তাঁরই।” [1]——–>[সূরা আর-রূম আয়াত ১৮]।তাফসীরে জাকারিয়া[1] এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নিজ পবিত্র সত্তার পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা। যার উদ্দেশ্য হল নিজ বান্দাকে পথ প্রদর্শন যে, উক্ত সময়গুলিতে, যা একের পর এক আসতে থাকে এবং যা আল্লাহর পরিপূর্ণ ক্ষমতা ও মহত্ত্ব বুঝায়, তাঁর পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা কর। সন্ধ্যা ও সকাল হল রাতের অন্ধকার ও দিনের আলোর প্রারম্ভ। এশা খুব অন্ধকার এবং যোহর খুব উজ্জ্বলতার সময় হয়ে থাকে। অতএব ঐ সত্তা অতি পবিত্র যিনি উক্ত সকল বস্তুর সৃষ্টিকর্তা এবং যিনি সেই বিভিন্ন সময়ের মধ্যে আলাদা আলাদা উপকারিতা রেখেছেন। অনেকে বলেন, এখানে ‘তাসবীহ’র অর্থ হল নামায। উক্ত দুটি আয়াতে যে সময়ের কথা বলা হয়েছে তা হল, পাঁচ অক্ত নামাযের সময়। تُمسُون (সন্ধ্যা) শব্দে মাগরিব-এশা, تُصبِحُون (ভোর) শব্দে ফজর عَشِيًا (বিকাল) শব্দে আসর এবং تُظهِرون (দুপুর) শব্দে যোহর নামাযের সময় উল্লেখ হয়েছে। (ফাতহুল ক্বাদীর)”রাত্রির কিছু অংশে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করুন এবং নামাযের পশ্চাতেও”।——–>[সূরা ক্বাফ আয়াত ৪০]।”আর আপনি সালাত কায়েম করুন দিনের দু প্রান্তভাগে ও রাতের প্রথমাংসে(১) নিশ্চয় সৎকাজ অসৎ কাজকে মিটিয়ে দেয়। উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য এটা এক উপদেশ।——->[সূরা হুদ আয়াত ১১৪]।তাফসীর[১] নামায কায়েম করার নির্দেশ দানের পর সংক্ষিপ্তভাবে নামাযের ওয়াক্ত বর্ণনা করেছেন যে, “দিনের দু’প্রান্তে অর্থাৎ শুরুতে ও শেষভাগে এবং রাতেরও কিছু অংশে নামায কায়েম করবেন।” দিনের দু’প্রান্তের নামাযের মধ্যে প্রথমভাগের নামায সম্পর্কে সবাই একমত যে, সেটি ফজরের নামায। [তাবারী; বাগভী; কুরতুবী; ইবন কাসীর] কিন্তু শেষ প্রান্তের নামায সম্পর্কে ইবন আব্বাস বলেন তা মাগরিবের নামায। [তাবারী; কুরতুবি ; ইবন কাসির] হাসান বসরি, কাতাদাহ ও দাহহাক আসরের নামাযকেই দিনের শেষ নামায সাব্যস্ত করেছেন। [কুরতুবী ইবন কাসীর] অবশ্য এখানে একটি মত এটাও রয়েছে যে, দিনের দু’প্রান্ত বলে, যোহর ও আসরের সালাত বোঝানো হয়েছে। [কুরতুবী] রাতের কিছু অংশের নামায সম্পর্কে ইবন আব্বাস ও মুজাহিদ বলেন, এটি হচ্ছে, এশার নামায। হাসান বসরী, মুজাহিদ, মুহাম্মদ ইবনে কা’ব, কাতাদাহ, যাহ্‌হাক প্রমুখ তফসীরকারকদের অভিমত হচ্ছে যে, সেটি মাগরিব ও এশার নামায। [ইবন কাসীর]।

https://m.facebook.com/groups/1855479478022410?view=permalink&id=2775524696017879&sfnsn=mo

YouTube এ “আসসালামুআলাইকুম আমার ছেলে ওমর দোয়া করবেন” দেখুন

Preaching Authentic Islam in Bangla এই ব্লগটির একমাত্র উদ্দেশ্য কুর‘আন ও সুন্নাহ্‌র আলোকে ইসলামের প্রকৃত বার্তা ছড়িয়ে দেয়া। … (বাংলা ভাষায় ৭০০টির অধিক ইসলামী জ্ঞানের বিভিন্ন উপকরণের এক বিশাল সমাহার!) ▼ মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০১৪ ফতোওয়া সালাত: নামায সম্পর্কে অতি গুরুত্বপূর্ণ ১৭০টি প্রশ্নোত্তর ফতোওয়া সালাত: নামায সম্পর্কে অতি গুরুত্বপূর্ণ ১৭০টি প্রশ্নোত্তর ফতোওয়া সালাত: নামায সম্পর্কে অতি গুরুত্বপূর্ণ ১৭০টি প্রশ্নোত্তর (ফতোওয়া আরকানুল ইসলাম থেকে) মূল: শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন (রহ.) অনুবাদক: মুহাঃ আব্দুল্লাহ আল-কাফী ও আব্দুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী  প্রশ্নঃ (১৮৪) ইসলামে ছালাতের বিধান কি? কার উপর ছালাত ফরয? উত্তরঃ ছালাত ইসলামের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রুকন; বরং এটা কালেমায়ে শাহাদাতের পর দ্বিতীয় রুকন। এটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দ্বারা সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটা ইসলামের মূল খুঁটি। যেমনটি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,  وَعَمُودُهُ الصَّلَاةُ  “ইসলামের মূল খুঁটি হচ্ছে, ছালাত।”  আল্লাহ্‌ তা‘আলা তাঁর নবী মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর উপর ছালাত ফরয করেন এমন উঁচু স্থানে যেখানে মানুষের পক্ষে পৌঁছা অসম্ভব। কোন মাধ্যম ছাড়াই রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর জীবনে সর্বশ্রেষ্ঠ একটি রাত মে’রাজের রাতে আল্লাহ্‌ তা‘আলা তাঁকে সপ্তাকাশের উপর আরশে নিয়ে এই ছালাত ফরয করেন। প্রথমে রাত-দিনে ছালাত পঞ্চাশ ওয়াক্ত নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু আল্লাহ্‌ তা’আলা বান্দাদের প্রতি দয়া করে এর সংখ্যা কমিয়ে নির্ধারণ করেন পাঁচ ওয়াক্ত। আর প্রতিদান ঘোষণা করেন পঞ্চাশ ওয়াক্তের বরাবর। এ থেকে প্রমাণিত হয় ছালাত কত গুরুত্বপূর্ণ। ছালাতকে আল্লাহ্‌ কত ভালাবসেন। সুতরাং মানুষের জীবনের সর্বাধিক শ্রেষ্ঠ সময় এই ক্ষেত্রে ব্যয় করা অত্যন্ত জরুরী। ছালাত ফরয হওয়ার ব্যাপারে দলীল হচ্ছে: কুরআন, সুন্নাহ্‌ ও মুসলমানদের এজমা বা ঐকমত্য। কুরআন থেকে দলীলঃ আল্লাহ্‌ তাআলা বলেনঃ ]فَإِذَا اطْمَأْنَنتُمْ فَأَقِيمُوا الصَّلاةَ إِنَّ الصَّلاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا[ অর্থঃ “যখন তোমরা নিরাপদ হও তখন নামায প্রতিষ্ঠা কর; নিশ্চয় নামায মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা ফরয করা হয়েছে। (সূরা নিসা: ১০৩) নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মু‘আয বিন জাবাল (রা:)কে ইয়ামান প্রেরণ করেন, তখন তাকে বলেনঃ أَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللَّهَ قَدِ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ “তুমি তাদেরকে শিক্ষা দিবে যে, নিশ্চয় আল্লাহ্‌ প্রতিদিন (দিনে-রাতে) তাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত ফরয করেছেন।” ছালাত ফরয হওয়ার উপর সমস্ত মুসলমান ঐকমত্য হয়েছে। এ জন্য উলামাগণ (রহ:) বলেন, কোন মানুষ যদি পাঁচ ওয়াক্ত বা কোন এক ওয়াক্ত ছালাত ফরয হওয়াকে অস্বীকার করে, তবে সে কাফের মুরতাদ ইসলাম থেকে বহিস্কৃত। তার রক্ত ও সম্পদ হালাল। কিন্তু যদি সে তওবা করে তার কথা ভিন্ন। অবশ্য উক্ত ব্যক্তি যদি নতুন মুসলমান হয়- ইসলামের বিধি-বিধান সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে এবং অনুরূপ কথা বলে তবে তার ওযর গ্রহণযোগ্য হবে। তাকে উক্ত বিষয়ে জ্ঞান শিক্ষা দিতে হবে। তারপরও যদি সে ছালাত ফরয হওয়ার বিষয়টিকে অমান্য করে তবে সেও কাফের বলে গণ্য হবে। নিম্নলিখিত প্রত্যেক ব্যক্তির উপর ছালাত ফরযঃ মুসলিম, বালেগ, আকেল, নারী বা পুরুষ। মুসলিমের বিপরীত হচ্ছে কাফের। কাফেরের উপর ছালাত ফরয নয়। অর্থাৎ- কাফের অবস্থায় তার জন্য ছালাত আদায় করা আবশ্যক নয়। ইসলাম গ্রহণ করলেও আগের ছালাত ক্বাযা আদায় করতে হবে না। কিন্তু এ কারণে ক্বিয়ামত দিবসে তাকে শাস্তি দেয়া হবে। আল্লাহ্‌ বলেন, ]إِلَّا أَصْحَابَ الْيَمِينِ، فِي جَنَّاتٍ يَتَسَاءَلُونَ، عَنْ الْمُجْرِمِينَ، مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ، قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ، وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِينَ، وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ الْخَائِضِينَ، وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّينِ.[ “কিন্তু ডানদিকস্তরা, তারা থাকবে জান্নাতে এবং পরস্পরে অপরাধীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। বলবে, তোমাদেরকে কিসে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করেছে? তারা বলবে, আমরা নামায পড়তাম না, অভাবগ্রস্তকে আহার্য দিতাম না, আমরা সমালোচকদের সাথে সমালোচনা করতাম। আর আমরা প্রতিফল দিবসকে অস্বীকার করতাম।” (সূরা মুদ্দাস্‌সির- ৩৯-৪৬)  ‘আমরা নামায পড়তাম না’ কথা থেকে বুঝা যায়, তারা কাফের ও ক্বিয়ামত দিবসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা সত্বেও ছালাত পরিত্যাগ করার কারণে তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে। প্রাপ্ত বয়স্কঃ যার মধ্যে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার কোন একটি চিহ্ন প্রকাশ পাবে তাকেই বালেগ বা প্রাপ্ত বয়স্ক বলা হবে। উক্ত চিহ্ন পুরুষের ক্ষেত্রে তিনটি আর নারীর ক্ষেত্রে চারটি।             ক) পনর বছর পূর্ণ হওয়া।             খ) উত্তেজনার সাথে নিদ্রা বা জাগ্রত অবস্থায় বীর্যপাত হওয়া।             গ) নাভীমূল গজানো। অর্থাৎ- লজ্জাস্থানের আশে-পাশে শক্ত লোম দেখা দেয়া। এ তিনটি চিহ্ন নারী পুরুষ সবার ক্ষেত্রে প্রজোয্য। নারীর ক্ষেত্রে চতুর্থ চিহ্নটি হচ্ছে, হায়েয বা ঋতুস্রাব হওয়া। কেননা তা বালেগ হওয়ার আলামত। আকেল বা বুদ্ধিমান হচ্ছে বিবেকহীন পাগলের বিপরীত শব্দ। কোন নারী বা পুরুষ যদি অতি বয়স্ক হওয়ার কারণে হিতাহীত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে, তবে সেও এ শ্রেণীর অন্তর্গত হবে। এ অবস্থায় বিবেকহীন হওয়ার কারণে তার উপর ছালাত ফরয হবে না। ঋতুস্রাব বা নেফাস হলে ছালাত ওয়াজিব নয়। কেননা নবী ছা. বলেন,  أَلَيْسَ إِذَا حَاضَتْ لَمْ تُصَلِّ وَلَمْ تَصُمْ  “নারী কি এমন নয় যে, সে ঋতুবতী হলে নামায পড়বে না, রোযা রাখবে না?” প্রশ্নঃ (১৮৫) বেহুঁশ এবং স্মৃতি শক্তিহীন ব্যক্তির জন্য শরীয়তের বিধি-বিধান বাস্তবায়ন করা কি আবশ্যক? উত্তরঃ আল্লাহ্‌ তা‘আলা মানুষের উপর আবশ্যক করেছেন যাবতীয় ইবাদত বাস্তবায়ন করা- যদি তার মধ্যে সে যোগ্যতা ও ক্ষমতা থাকে। যেমন সে বিবেক সম্পন্ন হবে। সবকিছু বুঝতে পারবে। কিন্তু যে লোক বিবেকশুণ্য, সে শরীয়তের বিধি-নিষেধ মেনে চলতে বাধ্য নয়। এ কারণে পাগল, শিশু বা অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালক-বালিকার উপর কোন বাধ্যবাধকতাও নেই। এটা আল্লাহ্‌র বিশেষ রহমত। অনুরূপ হচ্ছে আধাপাগল- যার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছে কিন্তু পুরোপুরি পাগল হয়নি এবং অতি বয়স্ক হওয়ার কারণে হিতাহীত জ্ঞানশুণ্য ব্যক্তির উপরও ছালাত-ছিয়াম আবশ্যক নয়। কেননা সে তো স্মৃতি শক্তিহীন মানুষ। সে ঐ শিশুর মত যার মধ্যে ভাল-মন্দ পার্থক্য করার ক্ষমতা নেই। সুতরাং সমস্ত বিধি-বিধান তার উপর থেকে রহিত, কোন কিছুই তার উপর আবশ্যক নয়। তবে সম্পদের যাকাত সম্পর্কিত বাধ্যবাধকতা তার উপর বজায় থাকবে। কেননা যাকাতের সম্পর্ক সম্পদের সাথে। তখন ঐ ব্যক্তির অভিভাবক তার পক্ষ থেকে যাকাতের অংশ বের করে দিবেন। কেননা যাকাত ওয়াজিব হয় সম্পদের উপর। এজন্য আল্লাহ্‌ বলেন, ]خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ[ “তাদের সম্পদ থেকে যাকাত গ্রহণ করুন। উহা তাদেরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবে।” (সূরা তওবা- ১০৩)  এখানে আল্লাহ্‌ পাক তাদের সম্পদ থেকে যাকাত নিতে বলেছেন, ব্যক্তি থেকে যাকাত নিতে বলেননি। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মু‘আযকে ইয়ামানে প্রেরণ করেন তাকে বলেন, أَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً فِي أَمْوَالِهِمْ تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ وَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ “তাদেরকে জানিয়ে দিবে যে, আল্লাহ্‌ তাদের সম্পদে ছাদকা বা যাকাত ফরয করেছেন। তা ধনীদের থেকে নিয়ে গরীবদের মাঝে বিতরণ করা হবে।” (বুখারী ও মুসলিম)  এ হাদীছের ভিত্তিতে সম্পদের আবশ্যকতা স্মৃতিহীন লোকের উপর থেকে রহিত হবে না। কিন্তু শারীরিক ইবাদত যেমন ছালাত, ছিয়াম, পবিত্রতা প্রভৃতি রহিত হয়ে যাবে। কেননা সে বিবেকহীন। কিন্তু অসুস্থতা প্রভৃতির করণে বেহুঁশ হলে অধিকাংশ বিদ্যানের মতে তার উপর ছালাত আবশ্যক হবে না। এ রকম অসুস্থ ব্যক্তি যদি একদিন বা দু‘দিন বেহুঁশ থাকে তবে তাকে ছালাত কাযা আদায় করতে হবে না। কেননা বিবেকশুণ্য বেহুঁশ মানুষকে ঘুমন্ত ব্যক্তির সাথে তুলনা করা চলবে না। যার সম্পর্কে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ مَنْ نَسِيَ صَلَاةً أَوْ نَامَ عَنْهَا فَكَفَّارَتُهَا أَنْ يُصَلِّيَهَا إِذَا ذَكَرَهَا “যে ব্যক্তি ছালাত আদায় করতে ভুলে যায় অথবা নামায না পড়ে ঘুমিয়ে থাকে, তার কাফ্‌ফারা হচ্ছে যখনই স্মরণ হবে, তখনই সে তা আদায় করে নিবে।”  কেননা ঘুমন্ত ব্যক্তি হুঁশ সম্পন্ন এ অর্থে যে, তাকে জাগানো হলে জাগ্রত হবে। কিন্তু বেহুঁশকে জাগানো হলেও তার হুঁশ ফিরবে না। এ বিধান হচ্ছে ঐ অবস্থায়, যখন বেহুঁশী কোন কারণ ছাড়াই ঘটবে। কিন্তু কোন কারণ বশতঃ হলে যেমন সংজ্ঞা লোপ করার জন্য ঔষধ ব্যবহার করে, তবে উক্ত বেহুঁশ অবস্থার ছালাত সমূহ তাকে কাযা আদায় করতে হবে। দীর্ঘকাল সংজ্ঞাহীন থাকার কারণে ছালাত-ছিয়াম আদায় করতে না পরলে তার হুকুম প্রশ্নঃ (১৮৬) জনৈক ব্যক্তি দু‘মাস যাবত বেহুশ অবস্থায় ছিল। কোন কিছুই অনুধাবন করতে পারেনি। ফলে না ছালাত আদায় করেছে না রামাযানের ছিয়াম পালন করেছে। এখন তার করণীয় কি? উত্তরঃ সংজ্ঞাহীন হওয়ার কারণে তার উপর কোন কিছুই আবশ্যক নয়। আল্লাহ্‌ যদি তার জ্ঞান ফিরিয়ে দেন, তবে সে রামাযানের ছিয়াম ক্বাযা আদায় করবে। কিন্তু আল্লাহ্‌ যদি তার মৃত্যুর ফায়সালা করেন, তবে তার উপর কোন কিছু আবশ্যক নয়। তবে জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর যদি সার্বক্ষণিক ওযর বিশিষ্ট হয়, যেমন অতি বয়স্ক প্রভৃতি, তবে ফরয হচ্ছেঃ তার অভিভাবক তার পক্ষ থেকে প্রতিদিনের বিনিময়ে একজন মিসকীনকে খাদ্য প্রদান করবে। তবে ছালাত ক্বাযা আদায় করার ব্যাপারে ওলামাদের মধ্যে দু’রকম মত পাওয়া যায়। ১) অধিকাংশ বিদ্বান বলেন, তাকে ক্বাযা আদায় করতে হবে না। কেননা ইবনু ওমর (রাঃ) একদিন একরাত্রি বেহুঁশ ছিলেন। কিন্তু তিনি ছুটে যাওয়া ছালাত ক্বাযা আদায় করেননি। (মালেক, হা/ ২৩) ২) তাকে ক্বাযা আদায় করতে হবে। এ মত পোষণ করেছেন পরবর্তী যুগের হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ। ইনছাফ গ্রনে’র লিখক বলেন, এটা মাযহাবের বিচ্ছিন্ন মতামত সমূহের অন্তর্গত। এ মতটি আম্মার বিন ইয়াসির (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি তিন দিন বেহুঁশ ছিলেন। তারপর ছুটে যাওয়া ছালাত ক্বাযা আদায় করেছেন। (মালেক, হা/ ২৩) প্রশ্নঃ (১৮৭) ছালাতের কোন একটি শর্ত (যেমন পানি সংগ্রহ) পূর্ণ করতে গিয়ে যদি ছালাতের সময় পার হয়ে যায় তবে তার বিধান কি? উত্তরঃ বিশুদ্ধ কথা হচ্ছে, কোনভাবেই ছালাতের নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত করা বৈধ নয়। কোন লোক যদি সময় পার হয়ে যাওয়ার ভয় করে, তবে যে অবস্থাতেই থাকুক ছালাত আদায় করে নিবে। যদিও একটু পর উক্ত শর্ত পূর্ণ করা সম্ভব হয়। কেননা আল্লাহ্‌ বলেন,  إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا  “নিশ্চয় নিদিষ্ট সময়ে ছালাত আদায় করা মুমিনদের উপর ফরয করা হয়েছে।” (সূরা নিসা- ১০৩)  অনুরূপভাবে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতিটি ছালাতের সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুতরাং ঐ সময়ে আদায় করাটাই ওয়াজিব। কেননা শর্ত পূর্ণ করার জন্য অপেক্ষা করা যদি বৈধ হত, তবে তায়াম্মুমের কোন প্রয়োজন ছিল না। সময় পার হওয়ার পর পানি সংগ্রহ করা সম্ভব। সুতরাং দীর্ঘ সময়ের জন্য ছালাতকে দেরী করা বা অল্প সময়ের জন্য দেরী করার মাঝে কোন পার্থক্য নেই। উভয় অবস্থায় নামাযের সময় পার হয়ে যাচ্ছে। তাই যে অবস্থাতেই থাক না কেন সময়ের মধ্যেই (তায়াম্মুম করে হলেও) ছালাত আদায় করে নিবে। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়া এমত পোষণ করেছেন। প্রশ্নঃ (১৮৮) রাত জাগার কারণে সূর্য উঠার পর নামায আদায় করলে কবূল হবে কি? অন্যান্য নামায সে সময়মতই আদায় করে। সেগুলোর বিধান কি? উত্তরঃ ইচ্ছাকৃতভাবে সময় পার করে সূর্য উঠার পর ফজর ছালাত আদায় করলে তা কবূল হবে না। কেননা রাত না জেগে আগেভাগে নিদ্রা গেলে সময়মত উক্ত ছালাত আদায় করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল। সুতরাং বিনা ওযরে সময় অতিবাহিত করে ছালাত আদায় করলে উক্ত ছালাত কবূল হবে না। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ “যে ব্যক্তি এমন আমল করল, যার পক্ষে আমাদের কোন নির্দেশ নেই, তবে উহা প্রত্যাখ্যাত।”  আর যে ব্যক্তি বিনা ওযরে সময় অতিবাহিত করে ছালাত আদায় করে, সে তো এমন আমল করল, যার অনুমতি আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূল দেননি। সুতরাং উহা প্রত্যাখ্যাত। কিন্তু সে বলতে পারে আমি তো ঘুমিয়ে ছিলাম। আর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ مَنْ نَسِيَ صَلَاةً أَوْ نَامَ عَنْهَا فَكَفَّارَتُهَا أَنْ يُصَلِّيَهَا إِذَا ذَكَرَهَا “যে ব্যক্তি ছালাত আদায় করতে ভুলে যায় অথবা নামায না পড়ে ঘুমিয়ে থাকে, তার কাফ্‌ফারা হচ্ছে যখনই স্মরণ হবে তখনই সে উহা আদায় করে নিবে।” আমরা তাকে বলব, যখন কিনা তার জন্য সম্ভব ছিল যে, সময় মত জাগার জন্য আগেভাগে ঘুমিয়ে পড়বে বা এলার্ম ঘড়ি প্রস্তত করবে বা কাউকে অনুরোধ করবে তাকে জাগিয়ে দেয়ার জন্য। তখন এগুলো না করে সময় অতিবাহিত করে ঘুমের ওজুহাত খাড়া করা, ইচ্ছাকৃতভাবে ছালাত পরিত্যাগ করারই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে। সুতরাং পরবর্তীতে আদায় করলে উহা কবূল হবে না। আর অন্যান্য ছালাত সময়মত আদায় করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে। এ উপলক্ষ্যে আমি কিছু নসীহত করতে চাইঃ মুসলিম ব্যক্তির উপর আবশ্যক হচ্ছে, এমনভাবে আল্লাহ্‌র ইবাদত করা, যেভাবে করলে তিনি তার উপর সন্তুষ্ট হবেন। এ দুনিয়ায় তাকে তো সৃষ্টি করা হয়েছে কেবল মাত্র তাঁর ইবাদত করার জন্য। কেউ জানেনা কখন তার মৃত্যু ঘন্টা বেজে উঠবে। তাকে পাড়ি জমাতে হবে পরপারের জগতে। যেখানে হিসাব-নিকাশের সম্মুখিন হবে। তখন আমলই হবে একমাত্র তার সহযোগী। মৃত্যুর পর আমল করার আর কোন অবকাশ থাকবে না। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ “যখন মানুষ মৃত্যু বরণ করে, তিনটি আমল ব্যতীত তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়। ছাদকায়ে জারিয়া, উপকারী বিদ্যা, সৎ সন্তান যে তার জন্য দু‘আ করবে।” প্রশ্নঃ (১৮৯) যে ব্যক্তি ফজরের ছালাত বিলম্ব করে আদায় করে, এমনকি তার সময় পার হয়ে যায়। তার বিধান কি? উত্তরঃ যারা ফজর ছালাত বিলম্ব করে আদায় করে এমনকি তার সময় পার হয়ে যায়- যদি বিশ্বাস করে যে, এরূপ করা বৈধ, তবে তা আল্লাহ্‌র সাথে কুফরী হল। কেননা বিনা কারণে ছালাতের নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত করা হালাল বা জায়েয, যে ব্যক্তি একথা অন্তর থেকে বিশ্বাস করবে সে কাফের। এই কারণে যে, সে কুরআন, সুন্নাহ্‌ ও মুসলমানদের ইজমার বিরোধীতা করেছে। কিন্তু যদি তা হালাল না ভেবে বিশ্বাস করে যে, দেরী করে ছালাত আদায় করলে গোনাহ্‌গার হতে হবে। তারপরও প্রবৃত্তির তাড়নায় বা ঘুমের কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে সময় পার করে দেয়। তবে সে সাধারণ পাপী বলে গণ্য হবে। তাকে আল্লাহ্‌র কাছে তওবা করতে হবে। অন্যায় থেকে বিরত হতে হবে। বড় বড় কাফেরের জন্যও তওবার দরজা উন্মুক্ত। আল্লাহ্‌ বলেন, ]قُلْ يَاعِبَادِي الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ[ “বলুন, হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহ্‌র রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সমস্ত গোনাহ্‌ ক্ষমা করেন। তিনি ক্ষমাশীল, অতিব দয়ালু।” (সূরা যুমার- ৫৩) এদের ব্যাপারে যারা জানবে তারা তাদেরকে নসীহত করবে, তাদেরকে কল্যাণের নির্দেশ দিবে। যদি তারা তওবা না করে, তবে তাদের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নালিশ করতে হবে। যাতে করে তারা যিম্মামুক্ত হতে পারে। আর কর্তৃপক্ষও তাদের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে তাদেরকে সংশোধন করতে পারে। প্রশ্নঃ (১৯০) জনৈক যুবক এক ব্যক্তির মেয়েকে বিবাহ করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। তার ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে যে, সে ছালাত আদায় করে না। কিন্তু বলা হচ্ছে, ‘ঠিক হয়ে যাবে। আল্লাহ্‌ তাকে হেদায়াত করবেন।’ এই যুবকের সাথে মেয়ে বিবাহ দেয়া কি বৈধ? উত্তরঃ বিবাহের প্রস্তাবকারী যদি জামাআতের সাথে ছালাত আদায় না করে, তবে সে আল্লাহ্‌ ও রাসূলের নাফারমান্ত গোনাহ্‌গার। মুসলমানদের ইজমার বিরোধীতাকারী। কেননা জামাতবদ্ধ হয়ে ছালাত আদায় করা সর্বোত্তম ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত, এব্যাপারে মুসলমানগণ ঐকমত্য হয়েছে।  শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) (মাজমু’ ফাতাওয়া ২৩/ ২২২ গ্রনে’) বলেন, ‘আলেমগণ একথার উপর ঐকমত্য হয়েছেন যে, জামাআতের সাথে ছালাত আদায় করা অতিব গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, শ্রেষ্ঠ আনুগত্য ও ইসলামের অন্যতম বড় নিদর্শন।’ কিন্তু তার এই ফাসেক্বী তাকে ইসলাম থেকে বের করে দিবে না। এর সাথে মুসলিম মেয়ের বিবাহ দেয়া জায়েয। কিন্তু তাকে বাদ দিয়ে ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত সচ্চরিত্রবান যুবকের সাথে বিবাহ দেয়াই উত্তম। যদিও সে অর্থ-সম্পদ ও বংশ-মর্যাদায় উন্নত না হয়। কেননা হাদীছে এসেছেঃ  “তোমাদের কাছে যদি এমন ব্যক্তি (বিবাহের প্রস্তাব দেয়) যার ধর্মীয় ও চারিত্রিক অবস্থা সনে-াষ জনক, তবে তার সাথে বিবাহ দাও। যদি এরূপ না কর তবে পৃথিবীতে ফিৎনা হবে এবং বিরাট ফাসাদ হবে। তাঁরা বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! যদি এরূপ লোক না পাওয়া যায়? তিনি বললেন, যদি তোমাদের কাছে এমন ব্যক্তি আসে (বিবাহের প্রস্তাব দেয়) যার ধর্মীয় ও চারিত্রিক অবস্থা সনে-াষ জনক তবে তার সাথে বিবাহ দাও।”  কথাটি তিনি তিনবার বলেছেন। ছহীহ্‌ বুখারী ও মুসলিম প্রভৃতি গ্রনে’ প্রমাণিত হয়েছে, আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لِأَرْبَعٍ لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَلِجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاك “চারটি গুণাগুণ দেখে কোন নারীকে বিবাহ করা হয়। তার সম্পদ, বংশ মর্যাদা, সৌন্দর্য ও ধর্ম। ধর্মভীরু নারীকে বিবাহ করে তুমি বিজয়ী হও। তোমার দু’হাত ধুলোলুন্ঠিত হোক।”  এ দু’টি হাদীছ থেকে প্রমাণিত হচ্ছে, বিবাহের ক্ষেত্রে সর্বাধিক যে বিষয়টির গুরুত্বারোপ করা আবশ্যক, তা হচ্ছে নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে- ধর্মভীরুতা ও সচ্চরিত্রবান হওয়া। আর আল্লাহ্‌ভীরু ও দায়িত্ব সচেতন অভিভাবকের জন্য আবশ্যক হচ্ছে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নির্দেশের প্রতি গুরুত্বারোপ করা। কেননা ক্বিয়ামত দিবসে এ বিষয়ে সে জিজ্ঞাসিত হবে। আল্লাহ্‌ বলেন, ]وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ فَيَقُولُ مَاذَا أَجَبْتُمْ الْمُرْسَلِينَ[ “আর সেদিন আল্লাহ্‌ তাদেরকে ডেকে বলবেন, তোমরা রাসূলগণের আহবানে কি সাড়া দিয়েছিলে?” (সূরা ক্বাছাছ- ৬৫) তিনি আরো বলেন, ]فَلَنَسْأَلَنَّ الَّذِينَ أُرْسِلَ إِلَيْهِمْ وَلَنَسْأَلَنَّ الْمُرْسَلِينَ، فَلَنَقُصَّنَّ عَلَيْهِمْ بِعِلْمٍ وَمَا كُنَّا غَائِبِينَ[ “অতএব আমি অবশ্যই তাদেরকে জিজ্ঞেস করব, যাদের কাছে রাসূল প্রেরীত হয়েছিল এবং আমি অবশ্যই জিজ্ঞেস করব রাসূলগণকে। তাদের উপর সব কিছুর বিজ্ঞচিতভাবে বর্ণনা প্রদান করব। আর আমি অনুপসি’ত ছিলাম না। ” (সূরা আ’রাফ- ৬-৭) আর যদি বিবাহের প্রস্তাবক এমন ব্যক্তি হয়, যে না জামাআতের সাথে ছালাত আদায় করে না বরং একাকী নামায আদায় করে। অর্থাৎ- মোটেও ছালাত আদায় করে না। তবে সে কাফের ইসলাম থেকে বহিস্কৃত। তার তওবা করা জরুরী। যদি খালেছভাবে তওবা নাসূহা করে ছালাত আদায় শুরু করে, তবে আল্লাহ্‌ তাকে ক্ষমা করে দিবেন। কিন্তু তওবা না করলে তাকে কাফের ও মুরতাদ অবস্থায় হত্যা করতে হবে। গোসল না দিয়ে, কাফন না পরিয়ে, জানাযা না পড়িয়ে, দাফন করতে হবে। মুসলমানদের গোরস্থানে দাফন করা যাবে না। তার কাফের হওয়ার ব্যাপারে কুরআন ও সুন্নাহ্‌র দলীল নিম্নে প্রদত্ব হলোঃ কুরআনের দলীলঃ আল্লাহ্‌ বলেন, ]فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا، إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ[ “অতঃপর এদের পর এল অপদার্থ লোকেরা। তারা নামায নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুবর্তী হল। সুতরাং তারা অচিরেই পথভ্রষ্টতায় পতিত হবে। কিন্তু তারা ব্যতীত যারা তওবা করেছে এবং ঈমান এনেছে।” (সূরা মারইয়াম- ৫৯-৬০)  এখানে ‘কিন্তু তারা ব্যতীত যারা তওবা করেছে এবং ঈমান এনেছে।’ একথা দ্বারা বুঝা যায়, ছালাত বিনষ্ট ও কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করার সময় তারা ঈমানদার ছিল না। আল্লাহ্‌ আরো বলেন, ]فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوْا الزَّكَاةَ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ[ “যদি তারা তওবা করে ও ছালাত আদায় করে এবং যাকাত প্রদান করে, তবে তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই।” (সূরা- তওবা- ১১)  এ আয়াত থেকে প্রমাণিত হল, ছালাত প্রতিষ্ঠা ও যাকাত প্রদান না করলে দ্বীনী ভ্রাতৃত্ব সাব্যস্ত হবে না। অবশ্য হাদীছের দলীল দ্বারা প্রমাণিত যে, যাকাত পরিত্যাগকারী যদি তার আবশ্যকতা স্বীকার করে, কিন্তু কৃপণতার কারণে তা আদায় না করে, তবে সে কাফের হবে না। অতএব ছালাত প্রতিষ্ঠা করা ঈমানী ভ্রাতৃত্বের শর্ত হিসেবে অবশিষ্ট রইল। তাই এর দাবী হচ্ছে তা পরিত্যাগ করা কুফরী। এই কারণে বেনামাযীর সাথে ঈমানী ভ্রাতৃত্ব বিনষ্ট হয়ে যায়। বেনামাযী ফাসেক নয় বা ছোট কাফের নয়। কেননা ফাসেক্বী এবং ছোট কুফরী ঈমানী ভ্রাতৃত্ব থেকে বের করে দেয় না। যেমনটি মু‘মিনদের পরস্পর দু’টি দল যুদ্ধে লিপ্ত হলে, তাদের সংশোধনের উদ্দেশ্যে আল্লাহ্‌ বলেন, ]إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ[ “মু’মিনগণ পরস্পর ভাই ভাই। অতএব তোমাদের ভাইদের পরস্পরের মাঝে সংশোধন কর।” (সূরা হুজুরাত- ১০)  পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত দু’টি দল ঈমানের গন্ডি থেকে বের হয়ে যায়নি। অথচ মু’মিনের সাথে লড়াইয়ে লিপ্ত হওয়া কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। যেমনটি ছহীহ্‌ বুখারীতে আবদুল্লাহ্‌ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ وَقِتَالُهُ كُفْرٌ “কোন মুসলিমকে গালিগালাজ করা ফাসেক্বী, আর তার সাথে লড়াইয়ে লিপ্ত হওয়া কুফরী।” হাদীছের দলীলঃ ছালাত পরিত্যাগকারী কাফের হওয়ার ব্যাপারে সুন্নাহ্‌ থেকে দলীল সমূহ হচ্ছে নিম্নরূপঃ জাবের বিন আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,  (بَيْنَ الرَّجُلِ والْكُفْرِ والشِّرْكِ تَرْكُ الصَّلاَةِ)  “মুসলিম বান্দা এবং কাফের ও মুশরিকের মধ্যে পার্থক্য হল ছালাত পরিত্যাগ করা।”  বুরায়দা বিন হুছাইব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ]الْعَهْدُ الَّذِيْ بّيْنَناَ وَبَيْنَهُمْ الصّلاَةُ فَمَنْ تَرِكَهاَ فَقَدْ كَفَرَ[ “তাদের মাঝে এবং আমাদের মাঝে চুক্তি হচ্ছে ছালাতের, যে ব্যক্তি ছালাত পরিত্যাগ করবে সে কাফের হয়ে যাবে।” উবাদাহ্‌ বিন ছামেত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁরা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কাছে বাইআত করেছেন এই মর্মে যে,  ‘‘তারা শাসকের সাথে বিরোধীতায় লিপ্ত হবে না। যতক্ষণ না তারা তাদের থেকে সুস্পষ্ট কুফরী অবলোকন করে, যে ব্যাপারে আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে প্রকাশ্য প্রমাণ বিদ্যমান আছে।”  অর্থাৎ- শাসকদেরকে আল্লাহ্‌ যে দায়িত্ব দিয়েছেন, লোকেরা সে ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধাচরণ করবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যে সুপ্রমাণিত কোন কুফরী অবলোকন করে। আপনি যখন এটা বুঝলেন তখন এই হাদীছটি দেখুন সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ سَتَكُونُ أُمَرَاءُ فَتَعْرِفُونَ وَتُنْكِرُونَ فَمَنْ عَرَفَ بَرِئَ وَمَنْ أَنْكَرَ سَلِمَ وَلَكِنْ مَنْ رَضِيَ وَتَابَعَ قَالُوا أَفَلَا نُقَاتِلُهُمْ قَالَ لَا مَا صَلَّوْا “অচিরেই তোমাদের মাঝে এমন কিছু আমীর বা শাসকের আগমণ ঘটবে, যাদের মধ্যে ভাল বিষয় লক্ষ্য করবে খারাপ বিষয়ও লক্ষ্য করবে। যে ব্যক্তি মন্দ বিষয়গুলো চিনলো (অন্য বর্ণনায়, অপসন্দ করল) সে মুক্ত হয়ে গেল। আর যে ব্যক্তি সেগুলোর প্রতিবাদ করল সে নিরাপদ হলো। কিন্তু যে সন্তুষ্ট হয় ও তাদের অনুসরণ করে। তাঁরা বললেন, আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব না? তিনি বললেন, না, যতক্ষণ তারা ছালাত প্রতিষ্ঠা করে।”  এ হাদীছ থেকে জানা গেল, তারা যদি ছালাত আদায় না করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। পূর্বে ঊবাদার হাদীছটিতে বলা হয়েছে কোন ক্রমেই শাসকদের বিরুদ্ধাচরণ করা যাবে না। অতএব বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে সুপ্রমাণিত কোন কুফরী ছাড়া তাদের সাথে লড়াই করা যাবে না। সুতরাং এ দু’টি হাদীছ দ্বারা জানা গেল, ছালাত পরিত্যাগ করা আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে সুপ্রমাণিত সুস্পষ্ট কুফরী। এগুলো হচ্ছে আল্লাহ্‌র কিতাব ও সুন্নাতে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে দলীল প্রমাণ। ছালাত পরিত্যাগকারী কাফের। মিল্লাতে ইসলাম থেকে বহিস্কৃত। যেমনটি অন্যান্য সুস্পষ্ট বর্ণনায় পাওয়া যায়। ইবনু আবী হাতেম সুনান গ্রনে’ ঊবাদা বিন ছামেত (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে নসীহত করেছেনঃ ]لا تشركوا بالله شيئاً، ولا تتركوا الصلاة عمداً فمن تركها عامداً متعمداً خرج من الملة[ “তোমরা কোন কিছুকে আল্লাহ্‌র সাথে শরীক করবে না। ইচ্ছাকৃতভাবে ছালাত পরিত্যাগ করবে না। কেননা যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ছালাত পরিত্যাগ করবে সে মিল্লাতে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে।” এব্যাপারে ছাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত উক্তি সমূহ নিম্নরূপঃ ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (لا إسلام لمن ترك الصلاة)   “যে ব্যক্তি ছালাত পরিত্যাগ করে, ইসলামে তার কোন অংশ নেই।”   আবদুল্লাহ্‌ বিন শাক্বীক্ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ]لَا يَرَوْنَ شَيْئًا مِنَ الْأَعْمَالِ تَرْكُهُ كُفْرٌ غَيْرَ الصَّلَاةِ[ “নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)এর ছাহাবীগণ ছালাত ব্যতীত কোন আমল পরিত্যাগ করার কারণে কাউকে কাফের মনে করতেন না।” উল্লেখিত শ্রুতিগত উক্ত দলীল সমূহ ছাড়া সাধারণ যুক্তিও প্রমাণ করে যে, ছালাত পরিত্যাগকারী কাফের। ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেন, ‘ছালাতে অলসতাকারী প্রত্যেক ব্যক্তি মাত্রই তাকে অবজ্ঞাকারী। সুতরাং সে ইসলামের ব্যাপারে উদাসীন এবং অবজ্ঞাকারী। ছালাতে যাদের যতটুকু অংশ রয়েছে ইসলামে তাদের ততটুকু অংশ রয়েছে। ছালাতের প্রতি যার যতটুকু আগ্রহ রয়েছে ইসলামের প্রতি তার আগ্রহ ততটুকু আছে। ইমাম ইবনুল ক্বাইয়্যিম (রহঃ) (কিতাবুছ ছালাত পৃ: ৪০০) বলেন, হাদীছের সমষ্টি থেকে প্রমাণিত হয়ঃ “যে লোক বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ্‌ তা‘আলা ছালাতের নির্দেশ দিয়েছেন, তা ফরয করেছেন, সে কখনই ছালাত পরিত্যাগ করবে না। সে কখনই ধারাবাহিকভাবে সমস্ত ছালাত থেকে বিরত থাকবে না। কারণ সাধারণ বিবেক ও যুক্তিতে একথা কখনই সম্ভব নয় যে, একজন লোক অন্তর থেকে বিশ্বাস করবে যে, আল্লাহ্‌ তা‘আলা প্রতিদিন রাত ও দিনে পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত ফরয করেছেন, এর পরিত্যাগকারীকে তিনি কঠিন শাস্তি দিবেন; অথচ তারপরও সে তা প্রত্যাখ্যান করবে এবং সার্বক্ষণিক এ ছালাতকে পরিত্যাগ করে চলবে। এটা নিঃসন্দেহে অবাস্তব কথা। সুতরাং ছালাতের ফরযকে সত্যায়নকারী কখনই উহা পরিত্যাগ করে সন্তুষ্ট চিত্তে বসে থাকতে পারে না। ঈমানের দাবী হচ্ছে ছালাত আদায় করা। তার হৃদয় যদি তাকে ছালাতের নির্দেশ না দেয়, তবে তার অন্তরে যে ঈমানের লেশ মাত্র নেই একথা বলার অপেক্ষা রাখে না। অন্তর সম্পর্কিত বিধি-বিধান ও তার আমল সম্পর্কে যাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নেই তাদের কথায় কান দিবেন না।” ইমাম ইবনুল ক্বাইয়্যিম সত্য বলেছেন। যে ছালাতে রয়েছে অশেষ, অফুরন্ত ও অসংখ্য ছাওয়াব। তা আদায় করাও অতি সহজ সাধ্য। ছালাত পরিত্যাগ করাতে রয়েছে কঠিন শাস্তি। যার অন্তরে সামান্যতম ঈমান রয়েছে সে কখনও উক্ত ছালাত পরিত্যাগ করতে পারে না। এটা অসম্ভব ব্যাপার। যখন কিনা কুরআন্তসুন্নাহ্‌র দলীলাদী দ্বারা প্রমাণিত হল যে, ছালাত পরিত্যাগকারী কাফের, ইসলাম থেকে বহিস্কৃত মুরতাদ- তখন তার সাথে কোন মুসলিম নারীর বিবাহ সম্পাদন করা বৈধ নয়। আল্লাহ্‌ কুরআনে বলেন, ]وَلَا تَنكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ وَلَأَمَةٌ مُؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ[ “আর তোমরা মুশরিক নারীদেরকে বিবাহ করো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান গ্রহণ করে। অবশ্যই মুসলিম ক্রীতদাসী মুশরিক নারী অপেক্ষা উত্তম। যদিও তাদেরকে তোমাদের ভাল লাগে।” (সূরা বাক্বারা- ২২১)  আর আল্লাহ্‌ মুহাজির নারীদের সম্পর্কে বলেন, ]فَإِنْ عَلِمْتُمُوهُنَّ مُؤْمِنَاتٍ فَلَا تَرْجِعُوهُنَّ إِلَى الْكُفَّارِ لَا هُنَّ حِلٌّ لَهُمْ وَلَا هُمْ يَحِلُّونَ لَهُنَّ[ “যদি তোমরা জান যে, তারা ঈমানদার, তবে আর তাদেরকে কাফেরদের কাছে ফেরত পাঠিও না। এরা কাফেরদের জন্য হালাল নয় এবং কাফেররা এদের জন্যও হালাল নয়।” (সূরা মুমতাহিনা- ১০)  এই দু’টি আয়াতের ভিত্তিতে মুসলমানগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, কোন মুসলিম নারীর সাথে কাফেরের বিবাহ বৈধ নয়। অতএব কোন অভিভাবক যদি নিজ মেয়ে বা অধিনস্ত কোন মেয়ের বিবাহ বেনামাযী ব্যক্তির সাথে সম্পন্ন করে, তবে সে বিবাহ বিশুদ্ধ হবে না। এই বিবাহের মাধ্যমে উক্ত নারী তার জন্য বৈধ হবে না। কেননা এটা এমন সম্পর্ক যাতে আল্লাহ্‌ ও রাসূলের নির্দেশ নেই। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আয়েশা (রাঃ) এর বরাতে ছহীহ্‌ সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ “যে ব্যক্তি এমন আমল করবে, যাতে আমাদের নির্দেশনা নেই, তবে তা প্রত্যাখ্যাত।” (বুখারী ও মুসলিম) অতএব স্বামী যদি ছালাত পরিত্যাগ করার পর তওবা করে ছালাত আদায়ের মাধ্যমে ইসলামে ফিরে না আসে, তবে তার বিবাহ ভঙ্গ হয়ে যাবে। তাই বেনামাযী বিবাহের প্রস্তাবদানকারীর সাথে বিবাহের আক্বদ করার কোন প্রশ্নই আসে না। সারকথা, বিবাহের প্রস্তাবকারী এই ব্যক্তি যদি জামাতের সাথে ছালাত আদায় না করে, তবে সে ফাসেক্ব- কাফের নয়। এর সাথে বিবাহ দেয়া যায়। তবে তাকে বাদ দিয়ে নামাযে পাবন্দ চরিত্রবান যুবকের সাথে বিবাহ দেয়া বেশী উত্তম। কিন্তু যদি সে মোটেও ছালাত আদায় না করে- না জামাতের সাথে না একাকী- তবে কাফের, ইসলাম থেকে বহিস্কৃত মুরতাদ। কোনভাবেই তার সাথে মুসলিম নারীর বিবাহ সম্পাদন করা জায়েয নয়। তবে যদি সে সত্যিকারভাবে তওবা করে ছালাত আদায় করে ইসলাম ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে কোন বাধা নেই। আর প্রশ্নকারী উল্লেখ করেছেন যে, প্রস্তাবকারীর ব্যাপারে প্রশ্নকৃত ব্যক্তি বলেছে ‘ঠিক হয়ে যাবে- আল্লাহ্‌ তাকে হেদায়াত করবেন।’ এটা তো ভবিষ্যতের কথা। সে সম্পর্কে একমাত্র আল্লাই ভাল জানেন। অজানা ভবিষ্যতের উপর নির্ভর করে কোন কিছু ভিত্তি করা চলে না। কেননা আমরা শুধু বর্তমান অবস্থার উপর জিজ্ঞাসিত হব; ভবিষ্যতের উপর নয়। আর এ ব্যক্তির বর্তমান অবস্থা হচ্ছে কুফরী। সুতরাং এই কুফরী অবস্থায় কি করে তার সাথে মুসলিম রমণীর বিবাহ সম্পন্ন করা যায়? আমরা আল্লাহর কাছে তার হেদায়াত এবং ইসলামে ফিরে আসার জন্য দু‘আ করি। যাতে করে তার সাথে মুসলিম নারীর বিবাহ সম্পন্ন করা সহজ ও সম্ভব হয়। আল্লাহই হেদায়াতের মালিক। প্রশ্নঃ (১৯১) জনৈক ব্যক্তি পরিবারের লোকদের ছালাতের আদেশ করছেন। কিন্তু কেউ তাঁর কথা শুনে না। এঅবস্থায় তিনি কি করবেন? তিনি কি তাদের সাথে মিলেমিশে বসবাস করবেন, নাকি বাড়ি থেকে বের হয়ে যাবেন? উত্তরঃ পরিবারের লোকেরা যদি একেবারেই ছালাত আদায় না করে, তবে তারা কাফের ইসলাম থেকে বের হয়ে মুরতাদে পরিণত হবে। তাদের সাথে মিলেমিশে বসবাস করা জায়েয নয়। কিন্তু তার উপর আবশ্যক হচ্ছে তাদেরকে দা‘ওয়াত দিবেন। বারবার অনুরোধ করবেন। হতে পারে আল্লাহ্‌ তাদেরকে হেদায়াত করবেন। কেননা ছালাত পরিত্যাগকারী কাফের- নাঊযুবিল্লাহ্‌। কুরআন, সুন্নাহ্‌, ছাহাবায়ে কেরামের উক্তি ও বিশুদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি এর দলীল। যারা বেনামাযীকে কাফের বলার পক্ষপাতী নয়, তাদের দলীলগুলো চারটি অবস্থার বাইরে নয়। যথাঃ ক) মূলতঃ উক্ত দলীল সমূহে তাদের মতের পক্ষে দলীল নেই। খ) সেগুলা এমন গুণ সম্পন্ন যে তা বিদ্যমান থাকাবস্থায়, নামায পরিত্যাগের বিষয়টি তার অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। গ) অথবা এমন কিছু ওযর ও অবস্থা উল্লেখ করা হয়েছে, যে কারণে নামায পরিত্যাগ করা মার্জনীয়। ঘ) অথবা উক্ত দলীল সমূহ আম বা ব্যাপক। ছালাত পরিত্যাগকারী কাফের হওয়ার হাদীছগুলো দ্বারা তা খাছ বা বিশিষ্ট করা হয়েছে। বেনামাযী মু’মিন বা সে জান্নাতে প্রবেশ করবে বা সে জাহান্নাম থেকে নাজাত পাবে কুরআন্তসুন্নাহ্‌র উক্তি সমূহে এ রকম কথা উল্লেখ নেই। সুতরাং ‘ছালাত পরিত্যাগ করা কুফরী’ এব্যাপারে যে দলীল সমূহ উপস্থাপিত হয়েছে, তা নেয়া’মতের কুফরী বা ছোট কুফরী এরকম ব্যাখ্যা করার কোন অবকাশ নেই। যখন সুস্পষ্ট হলো, ছালাত পরিত্যাগকারী কাফের মুরতাদ, তখন তার ব্যাপারে নিম্নল্লিখিত বিধান সমূহ প্রজোয্য হবেঃ প্রথমতঃ মুসলিম নারীর সাথে তার বিবাহ সম্পন্ন করা বৈধ হবে না। বিবাহের চুক্তি হয়ে গেলেও তা বাতিল বলে গণ্য হবে এবং তার জন্য উক্ত স্ত্রী হালাল হবে না। কেননা আল্লাহ্‌ মুহাজির নারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেনঃ ]فَإِنْ عَلِمْتُمُوهُنَّ مُؤْمِنَاتٍ فَلَا تَرْجِعُوهُنَّ إِلَى الْكُفَّارِ لَا هُنَّ حِلٌّ لَهُمْ وَلَا هُمْ يَحِلُّونَ لَهُنَّ[ “যদি তোমরা জান যে, তারা ঈমানদার, তবে আর তাদেরকে কাফেরদের কাছে ফেরত পাঠিও না। এরা কাফেরদের জন্য হালাল নয় এবং কাফেররা এদের জন্য হালাল নয়।” (সূরা মুমতাহিনাঃ ১০) দ্বিতীয়তঃ বিবাহের বন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর যদি ছালাত পরিত্যাগ শুরু করে তবে উক্ত বন্ধন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে- স্ত্রী ব্যবহার তার জন্য হালাল হবে না। পূর্বোল্লিখিত আয়াত এর দলীল। তৃতীয়তঃ বেনামাযীর যবেহ্‌ করা প্রাণীর গোস্ত খাওয়া জায়েয হবে না। কেননা এটা হারাম। ইহুদী বা খৃষ্টানের যবেহ্‌ করা প্রাণীর গোস্ত খাওয়া আমাদের জন্য বৈধ। কেননা আল্লাহ্‌ তা আমাদের জন্য হালাল করেছেন। (দেখুন সূরা মায়েদা- ৫ নং আয়াত) অতএব বেনামাযীর যবেহ করা গোস্ত ইহুদী খৃষ্টানের চাইতে অধিক নিকৃষ্ট। চতুর্থতঃ বেনামাযীর জন্য বৈধ নয় মক্কা বা তার হারাম সীমানায় প্রবেশ করা। কেননা আল্লাহ্‌ তা‘আলা বলেছেন, ]يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ فَلَا يَقْرَبُوا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ بَعْدَ عَامِهِمْ هَذَا[ “হে ঈমানদারগণ! মুশরিকগণ তো নাপাক। সুতরাং তারা যেন এই বছরের পর আর মসজিদে হারামে প্রবেশ না করে।” (সূরা তওবাঃ ২৮) পঞ্চমতঃ বেনামাযীর কোন নিকটাত্মীয় মারা গেলে সে তাদের মীরাছ লাভ করবে না। যেমন কোন নামাযী ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করল, রেখে গেল একজন ছেলে এবং এক চাচাতো ভাই; কিন্তু ছেলে বেনামাযী আর চাচাতো ভাই নামাযী। এ অবস্থায় দূরের সেই চাচাতো ভাই মীরাছ পাবে ছেলে পাবে না। কেননা উসামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ لَا يَرِثُ الْمُؤْمِنُ الْكَافِرَ وَلَا يَرِثُ الْكَافِرُ الْمُؤْمِنَ “কোন মুসলিম কাফেরের মীরাছ লাভ করতে পারবে না। কোন কাফেরও কোন মুসলিমের মীরাছ লাভ করতে পারবে না।” (বুখারী ও মুসলিম)  তিনি আরো বলেন: أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا فَمَا بَقِيَ فَهُوَ لِأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ “ফারায়েয তথা মীরাছ সমূহ তার অধিকারীদের মাঝে বন্টন করে দাও। কিছু অবশিষ্ট থাকলে মৃত ব্যক্তির নিকটতম পুরুষের জন্য নির্ধারিত হবে।” (বুখারী ও মুসলিম)  এই উদাহরণ প্রজোয্য হবে সমস্ত ওয়ারীসদের ক্ষেত্রে। ষষ্ঠতঃ বেনামাযী মৃত্যু বরণ করলে- তাকে গোসল দেয়া যাবে না, কাফন পরানো যাবে না, জানাযা নামায পড়া যাবেনা, মুসলমানদের গোরস্থানে তাকে দাফন করা যাবে না। তাকে কি করতে হবে? মাঠে- ময়দানে গর্ত খনন করে পরিহিত কাপড়েই পুঁতে ফেলতে হবে। কেননা তার কোনই মর্যাদা নেই। এভিত্তিতে কোন লোক যদি মৃত্যু বরণ করে, আর তার সম্পর্কে জানা যায় যে সে বেনামাযী, তবে জানাযা পড়ার জন্য লাশকে মুসলমানদের সামনে উপস্থিত করা বৈধ হবে না। সপ্তমতঃ ক্বিয়ামত দিবসে বেনামাযীর হাশর-নশর হবে ফেরাউন, হামান, ক্বারূন ও উবাই বিন খালাফের সাথে। এরা হচ্ছে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কাফের। তারা কখনই জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তাই বেনামাযীর পরিবারের পক্ষ থেকে তার জন্য রহমত ও মাগফিরাতের দু‘আ করাও জায়েয নয়। কেননা কাফের কোন দু’আ পাওয়ার উপযুক্ত নয়। আল্লাহ্‌ বলেন, ]مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُوْلِي قُرْبَى مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ[ “নবী ও ঈমানদারদের জন্য সমিচীন নয় যে তারা কোন মুশরিকের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। যদিও তারা তাদের নিকটাত্মীয় হয় না কেন। যখন প্রমাণিত হল যে, তারা জাহান্নামের অধিবাসী।” (সূরা তওবাঃ ১১৩) সুতরাং বিষয়টি অত্যন্ত ভয়ানক। কিন্তু আফসোস! মানুষ বর্তমানে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে। নিজেদের গৃহে এমন লোকদের স্থান দিচ্ছে, যারা ছালাত আদায় করে না। অথচ এটা মোটেও ঠিক নয়। (আল্লাহ্‌ই অধিক জ্ঞান রাখেন) প্রশ্নঃ (১৯২) বেনামাযী স্বামীর সাথে মুসলিম নামাযী স্ত্রীর বসবাস করার বিধান কি? তাদের কয়েকজন সন্তানও আছে। বেনামাযীর সাথে মেয়ে বিবাহ দেয়ার বিধান কি? উত্তরঃ কোন নারী যদি এমন লোককে বিবাহ করে, যে ছালাত আদায় করে না, জামাআতের সাথেও না বাড়ীতেও একাকি না। তার বিবাহ বিশুদ্ধ নয়। কেননা ছালাত পরিত্যাগকারী কাফের। যেমনটি আল্লাহর সম্মানিত কিতাব, পবিত্র সুন্নাত ও ছাহাবায়ে কেরামের উক্তি সমূহ একথাটি প্রমাণ করে। আবদুল্লাহ্‌ বিন শাক্বীক্ব বলেন, ]كَانَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَرَوْنَ شَيْئًا مِنَ الْأَعْمَالِ تَرْكُهُ كُفْرٌ غَيْرَ الصَّلَاةِ[ “নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)এর ছাহাবীগণ ছালাত ব্যতীত কোন আমল পরিত্যাগ করার কারণে কাউকে কাফের মনে করতেন না।”  কাফেরের জন্য কোন মুসলিম নারী বৈধ নয়। আল্লাহ্‌ বলেন, ]فَإِنْ عَلِمْتُمُوهُنَّ مُؤْمِنَاتٍ فَلَا تَرْجِعُوهُنَّ إِلَى الْكُفَّارِ لَا هُنَّ حِلٌّ لَهُمْ وَلَا هُمْ يَحِلُّونَ لَهُنَّ[ “যদি তোমরা জান যে, তারা ঈমানদার, তবে আর তাদেরকে কাফেরদের কাছে ফেরত পাঠিও না। এরা কাফেরদের জন্য হালাল নয় এবং কাফেররা এদের জন্য হালাল নয়।” (সূরা মুমতাহিনাঃ ১০) বিবাহের চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর যদি স্বামী ছালাত পরিত্যাগ করা শুরু করে তবে তওবা করে ইসলামে ফিরে না আসলে তার বিবাহ ভঙ্গ হয়ে যাবে। কতক বিদ্বান বলেছেন, বিবাহ ভঙ্গের বিষয়টি ঈদ্দতের সাথে সম্পৃক্ত। যদি ঈদ্দত পার হয়ে যায় তারপর সে তওবা করে ইসলামে ফিরে আসে তবে নতুন চুক্তি করে আবার উক্ত স্ত্রীকে ফেরত নিতে পারবে। উক্ত মহিলার জন্য আবশ্যক হচ্ছে বেনামাযী স্বামী থেকে আলাদা থাকবে। তাকে মেলামেশা করতে দিবে না- যতক্ষণ না সে তওবা করে ছালাত আদায় করে। যদিও তাদের সন্তান থাকে। কেননা এ অবস্থায় পিতার কোন অধিকার নেই সন্তানদের প্রতিপালনের। এ উপলক্ষে আমি মুসলিম ভাইদেরকে সতর্ক করছি ও নসীহত করছি, তারা যেন কোন বেনামাযীর সাথে মেয়েদের বিবাহ সম্পন্ন না করেন। কেননা বিষয়টি অত্যন্ত ভয়ানক। এক্ষেত্রে তারা যেন নিকটাত্মীয় বা বন্ধুর সাথে কোন আপোষ না করেন। (আল্লাহ্‌ই অধিক জ্ঞাত আছেন) প্রশ্নঃ (১৯৩) তওবা করার পর কি ছেড়ে দেয়া ছালাতের কাযা আদায় করতে হবে? উত্তরঃ ইচ্ছাকৃতভাবে ছালাত পরিত্যাগ করার পর তওবা করে আল্লাহ্‌র পথে ফিরে আসলে ছেড়ে দেয়া ছালাত সমূহ কাযা আদায় করতে হবে কিনা এব্যাপারে বিদ্বানগণ মতভেদ করেছেন। এক্ষেত্রে দু’টি মত পাওয়া যায়। আমার কাছে প্রাধান্যযোগ মতটি হচ্ছে যা শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তায়মিয়া পছন্দ করেছেন। যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ছালাত পরিত্যাগ করে এমনকি সময় পার করে দেয়, তার কাযা আদায় করাতে কোন ফায়দা নেই। কেননা নির্দিষ্ট সময়ের ইবাদত অবশ্যই উক্ত নির্ধারিত সময়েই আদায় করতে হবে। সময়ের আগে আদায় করলে যেমন হবে না, অনুরূপ সময় পার হওয়ার পর আদায় করলেও তা বিশুদ্ধ হবেনা। আল্লাহ্‌র সীমারেখা সমূহ হেফাযত করা অত্যন্ত জরূরী। শরীয়ত প্রণেতা আমাদের উপর ছালাত ফরয করে তার সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন্ত এই সময় থেকে এই সময়ের মধ্যে ছালাত আদায় করতে হবে। অতএব যে স্থানকে নামাযের স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়নি সেখানে যেমন ছালাত বিশুদ্ধ হবে না। তেমনি যে সময়কে নামাযের সময় হিসেবে নির্ধারণ করা হয়নি, সে সময়ে ছালাত আদায় করলেও তা বিশুদ্ধ হবে না। অবশ্য যে ব্যক্তি ছালাত পরিত্যাগ করেছে তার উপর আবশ্যক হচ্ছে বেশী বেশী তওবা ইসে-গফার করা এবং বেশী বেশী নফল ইবাদত ও নেক কাজে লিপ্ত হওয়া। আশা করা যায় এর মাধ্যমে আল্লাহ্‌ তাকে মাফ করে দিবেন ও পরিত্যাক্ত ছালাত সমূহকে ক্ষমা করবেন। প্রশ্নঃ (১৯৪) বেনামাযী সন্তানদের ব্যাপারে পরিবারের কর্তার কর্তব্য কি? উত্তরঃ পরিবারের কোন সন্তান যদি বেনামাযী হয়, তবে কর্তার উপর আবশ্যক হচ্ছে তাদেরকে নামাযের ব্যাপারে বাধ্য করা। তিনি তাদেরকে নামাযের নির্দেশ দিবেন, বুঝাবেন, প্রয়োজনে তাদেরকে প্রহার করবেন। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,  وَاضْرِبُوهُمْ عَلَيْهَا لِعَشْرِ سِنِينَ   “দশ বছর বয়সে ছালাত আদায় না করলে তাদেরকে প্রহার করবে।” এতে যদি কাজ না হয়, তবে (ইসলামী রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিযুক্ত) দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছে তাকে সোপর্দ করবেন। যাতে করে তাকে ছালাত আদায় করতে বাধ্য করা হয়। এক্ষেত্রে চুপ থাকা জায়েয হবে না। কেননা এতে অন্যায় কাজে সমর্থন হয়ে যায়। ছালাত পরিত্যাগ করা কুফরী। ছালাত আদায় না করলে ব্যক্তি ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে। বেনামাযী কাফের চিরকাল জাহান্নামী। তাই সে মৃত্যু বরণ করলে তাকে গোসল দেয়া, জানাযা পড়া বা মুসলমানদের গোরস্থানে দাফন করা যাবে না। প্রশ্নঃ (১৯৫) সফর অবস্থায় আযান দেয়ার বিধান কি? উত্তরঃ বিষয়টি মতবিরোধপূর্ণ। সঠিক কথা হচ্ছে সফর অবস্থায় আযান দেয়া ওয়াজিব। দলীলঃ নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মালেক বিন হুওয়াইরিছ ও তার সফর সঙ্গীদের বলেছিলেনঃ  فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ فَلْيُؤَذِّنْ لَكُمْ أَحَدُكُمْ   “নামাযের সময় উপস্থিত হলে তোমাদের মধ্যে যেন একজন আযান দেয়।”  এরা রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নিকট ইসলামের তা’লীম নিতে এসেছিলেন। ফেরত যাওয়ার সময় নবীজী তাদেরকে এ নির্দেশ প্রদান করেন। তাছাড়া নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সফর বা গৃহে যেখানেই থাকতেন কখনই আযান বা ইক্বামত পরিত্যাগ করেননি। সফরে থাকাবস্থায় তিনি বেলালকে আযান দেয়ার নির্দেশ দিতেন। প্রশ্নঃ (১৯৬) একক ব্যক্তির জন্য আযান ও ইক্বামতের বিধান কি? উত্তরঃ একক ব্যক্তির জন্য আযান ও ইক্বামত সুন্নাত। ওয়াজিব নয়। কেননা তার আশে-পাশে এমন লোক নেই যাদেরকে আযান দিয়ে ডাকা দরকার। যেহেতু আযানের মধ্যে রয়েছে আল্লাহ্‌র যিকর ও তাঁর সম্মানের কথা উল্লেখ আছে এবং নিজেকে ছালাত ও মুক্তির দিকে আহ্বান করা হয়েছে, অনুরূপভাবে ইক্বামতেও তাই আযান ও ইক্বামত উভয়টি সুন্নাত। আযান মুস্তাহাব বা সুন্নাত হওয়ার দীলল হচ্ছে, ঊকবা বিন আমের (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীছ। তিনি বলেন, আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, يَعْجَبُ رَبُّكَ مِنْ رَاعِي غَنَمٍ فِي رَأْسِ شَظِيَّةِ الْجَبَلِ يُؤَذِّنُ بِالصَّلَاةِ وَيُصَلِّي فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي هَذَا يُؤَذِّنُ وَيُقِيمُ الصَّلَاةَ يَخَافُ مِنِّي قَدْ غَفَرْتُ لِعَبْدِي وَأَدْخَلْتُهُ الْجَنَّةَ “তোমার পালনকর্তা আশ্চার্যাম্বিত হন এমন ছাগলের রাখালের কাজে। পাহাড়ের চুঁড়া থেকে ছালাতের জন্য আযান দেয়। আল্লাহ্‌ বলেন, আমার এই বান্দাকে দেখ! ছালাতের জন্য সে আযান ও ইক্বামত দিচ্ছে। সে আমাকে ভয় করছে। আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম ও জান্নাতে প্রবেশ করালাম।” প্রশ্নঃ (১৯৭) কোন ব্যক্তি যদি যোহর ও আছর ছালাত একত্রিত আদায় করে, তবে কি প্রত্যেক ছালাতের জন্য আলাদাভাবে ইক্বামত দিবে? নফল ছালাতের জন্য ইক্বামত আছে কি? উত্তরঃ প্রত্যেক নামাযের জন্য আলাদাভাবে ইক্বামত দিতে হবে। জাবের (রাঃ) নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর বিদায় হজ্জের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন, তিনি মুযদালিফায় (মাগরিব এশা) দু’নামাযকে একত্রিত করেছেন। ইক্বামত দিয়ে প্রথমে মাগরিব ছালাত আদায় করেন। তারপর ইক্বামত দিয়ে এশা ছালাত আদায় করেন। উভয় ছালাতের মাঝে কোন সুন্নাত আদায় করেননি। নফল নামাযের জন্য কোন ইক্বামত নেই। প্রশ্নঃ (১৯৮) (الصلاة خير من النوم) “আছ্‌ছালাতু খাইরুম্‌ মিনান্‌ নাওম” কথাটি কি ফজরের প্রথম আযানে বলতে হবে না দ্বিতীয় আযানে? উত্তরঃ (الصلاة خير من النوم) “আছ্‌ছালাতু খাইরুম্‌ মিনান্‌ নাওম” কথাটি ফজরের প্রথম আযানে বলতে হবে। যেমনটি হাদীছে এসেছেঃ “সকালের প্রথম আযান প্রদান করলে বলবে, (الصلاة خير من النوم) “আছ্‌ছালাতু খাইরুম্‌ মিনান্‌ নাওম” ঘুম থেকে নামায উত্তম। এটা প্রথম আযানে দ্বিতীয় আযানে নয়। কিন্তু জানা দরকার এ হাদীছে প্রথম আযান বলতে কি বুঝানো হয়েছে? এটা হচ্ছে সেই আযান যা নামাযের সময় হওয়ার পর প্রদান করা হয়। আর দ্বিতীয় আযান হচ্ছেঃ ইক্বামত। কেননা ইক্বামতকেও ‘আযান’ বলা হয়েছে। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,  بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلَاةٌ   “প্রত্যেক দু’আযানের মধ্যবর্তী সময়ে ছালাত রয়েছে।”  এখানে দু’আযান বলতে ‘আযান ও ইক্বামত’ উদ্দেশ্য। ছহীহ্‌ বুখারীতে বলা হয়েছেঃ আমীরুল মু’মেনীন ঊছমান বিন আফ্‌ফান (রাঃ) জুমআর জন্য তৃতীয় আযান বৃদ্ধি করেন। অতএব, বেলালকে প্রথম আযানে যে “আছ্‌ছালাতু খাইরুম্‌ মিনান্‌ নাওম” বলতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল তা দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে ফজর নামাযের আযান। ফজর উদিত হওয়ার আগে যে আযানের কথা পাওয়া যায় তা ফজরের আযান নয়। লোকেরা শেষ রাতের ঐ আযানকে ফজর ছালাতের প্রথম আযানরূপে আখ্যা দিয়ে থাকে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা ফজর ছালাতের জন্য নয়। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, إِنَّ بِلاَلاً يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ لِيُوقِظَ نَائِمَكُمْ وَلِيَرْجِعَ قَائِمَكُمْ “বেলাল রাতে আযান দিয়ে থাকে। যাতে করে ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত হয় এবং নফল ছালাত আদায়কারী ফিরে যায়।”  অর্থাৎ- ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত হয়ে সাহূর খাবে আর ক্বিয়ামুল লায়ল বা তাহাজ্জুদ ছালাত আদায়কারী নামায শেষ করে সাহূর খাবে। তাছাড়া নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মালেক বিন হুওয়াইরিছকে বলেছিলেনঃ  فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ فَلْيُؤَذِّنْ لَكُمْ أَحَدُكُمْ   “নামাযের সময় উপস্থিত হলে তোমাদের মধ্যে একজন যেন আযান দেয়।”   আর আমরা জানি যে, ফজর উদিত না হলে ছালাতের সময় উপস্থিত হবে না। অতএব ফজর হওয়ার আগের আযান ফজর ছালাতের জন্য নয়। অতএব সাধারণভাবে মানুষ ফজরের আযানে যে “আছ্‌ছালাতু খাইরুম্‌ মিনান্‌ নাওম” বলে থাকে সেটাই সঠিক ও বিশুদ্ধ। কিন্তু যারা ধারণা করে থাকে যে, প্রথম আযান বলতে ফজরের পূর্বের আযান উদ্দেশ্য তাদের দৃষ্টিভঙ্গি সঠিক নয়। তারা দলীল পেশ করে থাকে যে, প্রথম আযান বলতে সেই আযানই উদ্দেশ্য যা শেষ রাতে নফল বা তাহাজ্জুদ নামাযের জন্য দেয়া হয় এবং সেজন্য বলা হয়ঃ “আছ্‌ছালাতু খাইরুম্‌ মিনান্‌ নাওম” অর্থাৎ- ঘুম থেকে নামায উত্তম। এখানে ‘উত্তম’ শব্দটি দ্বারা বুঝা যায় এ আহবানটি নফল নামাযের জন্যই। আমরা জবাবে বলবঃ ‘উত্তম’ শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব কাজের জন্যও ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ্‌ বলেন, ]يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى تِجَارَةٍ تُنجِيكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ، تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنتُمْ تَعْلَمُونَ[ “হে ঈমানদারগণ! আমি কি তোমাদেরকে এমন এক বাণিজ্যের সন্ধান দিব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি থেকে মুক্তি দিবে? তা এই যে, তোমরা আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং আল্লাহ্‌র পথে নিজেদের ধন্তসম্পদ ও জীবন পন করে জেহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম; যদি তোমাদের জ্ঞান থাকে।” (সূরা ছফ্‌ফঃ ১০, ১১)  আল্লাহ্‌ জুমআর ছালাত সম্পর্কে বলেনঃ ]يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِي لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنتُمْ تَعْلَمُونَ[ “হে ঈমানদারগণ! যখন জুমআর দিনে ছালাতের জন্য আহবান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহ্‌র যিকিরের প্রতি দ্রুত অগ্রসর হও, বেচা-কেনা ছেড়ে দাও। এটা তোমাদের জন্য উত্তম।” (সূরা জুমআঃ ৯)  অতএব ‘উত্তম’ শব্দটি যেমন ফরয বিষয়ে ব্যবহার হয় তেমনি মুস্তাহাব ও নফলের ক্ষেত্রেও ব্যবহার হয়। প্রশ্নঃ (১৯৯) টেপ রেকর্ডারের মাধ্যমে আযান দিলে আযান হবে কি? উত্তরঃ টেপ রেকর্ডারের মাধ্যমে আযান দিলে বিশুদ্ধ হবে না। কেননা আযান একটি ইবাদত। আর ইবাদত করার আগে নির্দিষ্ট নিয়ত করতে হবে। প্রশ্নঃ (২০০) মসজিদে প্রবেশ করার সময় দেখলাম আযান হচ্ছে। এসময় কোন কাজটি উত্তম? উত্তরঃ উত্তম হচ্ছে, আগে আযানের জবাব দিবে। অতঃপর আযান শেষে দু’আ পাঠ করবে। তারপর তাহিয়্যাতুল মসজিদ বা সুন্নাত নামায শুরু করবে। তবে বিদ্বানদের মধ্যে অনেকে জুমআর দিনের বিষয়টিকে ব্যতিক্রম বলেছেন। অর্থাৎ- মসজিদে প্রবেশ করার সময় যদি দেখে যে, খুতবার জন্য দ্বিতীয় আযান শুরু হয়ে গেছে, তখন আযানের জবাব না দিয়ে তাহিয়্যাতুল মসজিদ নামায শুরু করে দিবে। যাতে করে খুতবা শোনতে পারে। কারণ হচ্ছে, খুতবা শোনা ওয়াজিব, আযানের জবাব দেয়া ওয়াজিব নয়। সুতরাং যা ওয়াজিব নয় তার চাইতে ওয়াজিবের গুরুত্ব দেয়া উত্তম। প্রশ্নঃ (২০১) আযানের জবাবে ‘রাযিতু বিল্লা-হি রাব্বা, ওয়াবিল ইসলামি দী-না, ওয়াবি মুহাম্মাদিন নাবিয়্যা ওয়া রাসূলা।’ দু’আটি কখন বলতে হবে? উত্তরঃ হাদীছের বাহ্যিক অর্থে বুঝা যায়, মুআয্‌যিন যখন ‘আশহাদু আল্লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ্‌ বলবে তখন তার জবাব দিয়ে বলবে, ‘রাযীতু বিল্লা-হি রাব্বা, ওয়াবিল ইসলা-মি দী-না, ওয়াবি মুহাম্মাদিন্‌ নাবিয়্যা ওয়া রাসূলা।’ কেননা হাদীছে এসেছেঃ مَنْ قَالَ حِينَ يَسْمَعُ الْمُؤَذِّنَ أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولا وَبِالإسْلامِ دِينًا غُفِرَ لَهُ ذَنْبُهُ “যে ব্যক্তি আযান শুনে বলবেঃ ‘আশহাদু আন লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ্‌ রাযীতু বিল্লা-হি রাব্বা, ওয়াবিল ইসলামি দীনা, ওয়াবি মুহাম্মাদিন্‌ নাবিয়্যা ওয়া রাসূলা।’ অন্য রেওয়াতে বলা হয়েছেঃ “যে বলবে, ‘আমিও সাক্ষ্য দিচ্ছি’।”  এই কথাটি প্রমাণ করে যে, উক্ত দু’আটি মুআয্‌যিনের ‘আশহাদু আল্লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ্‌’ বলার পর পরই বলবে। প্রশ্নঃ (২০২) আযানের দু’আর শেষে “ইন্নাকা লা তুখ্‌লিফুল মীআ’দ” বাক্যটি বৃদ্ধি করে পড়া কি ছহীহ্‌ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত? উত্তরঃ হাদীছ শাস্ত্রের পন্ডিতদের মধ্যে এ বাক্যটি নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, ইহা ছহীহ্‌ নয়। ইহা শায। কেননা আযানের দু’আর ব্যাপারে যারা হাদীছ বর্ণনা করেছেন তাদের অধিকাংশই এবাক্যটি উল্লেখ করেননি। বিশুদ্ধ হলে তো তা বাদ দেয়া বৈধ নয়। দু’আ ও প্রশংসার বাক্যে বা অনুরূপ ক্ষেত্রে কোন শব্দ ছেড়ে দেয়া উচিত নয়। কেননা এটা দ্বারা ইবাদত সম্পন্ন করা হয়। বিদ্বানদের মধ্যে অন্যরা বলেছেনঃ এর সনদ ছহীহ্‌। এটা বলা যায় এতে কোন বাধা নেই। শায়খ আবদুল আযীয বিন বায বলেছেন, হাদীছটির সনদ ছহীহ্‌। বায়হাক্বী ছহীহ্‌ সনদে এটা বর্ণনা করেছেন। প্রশ্নঃ (২০৩) ইক্বামতের শব্দগুলো কি মুক্তাদীদেরকেও বলতে হবে? উত্তরঃ ইক্বামত বলার সময় তার পিছে পিছে শব্দগুলো উচ্চারণ করার ব্যাপারে একটি হাদীছ আবু দাঊদে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু তা যঈফ। যা গ্রহণের অযোগ্য। অতএব তা না বলাই ভাল। প্রশ্নঃ (২০৪) ইক্বামতে ‘ক্বাদক্বামাতিছ্‌ ছালাত’ বলার সময় ‘আক্বামাহাল্লাহু ওয়া আদামাহা’ বলা কি ঠিক? উত্তরঃ এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে একটি হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। মুআয্‌যিন যখন ইক্বামতে ‘ক্বাদক্বামাতিছ ছালাত’ বলত, তখন তিনি বলতেন, ‘আক্বামাহাল্লাহু ওয়া আদামাহা’। কিন্তু হাদীছটি যঈফ হওয়ার কারণে দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশ্নঃ (২০৫) ছালাত আদায় করার জন্য উত্তম সময় কি? প্রথম সময়ই কি সর্বোত্তম? উত্তরঃ শরীয়ত নির্ধারিত সময়ে ছালাত আদায় করাই ছালাতের পূর্ণাঙ্গরূপ। এজন্য ‘আল্লাহ্‌র কাছে কোন্‌ আমলটি উত্তম?’ এ প্রশ্নের জবাবে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “সময়মত ছালাত আদায় করা।” হাদীছে একথা বলা হয়নি ‘ছালাত প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা।’ কেননা কিছু ছালাত তো এমন আছে যা সময়ের আগেই আদায় করা সুন্নাত। আর কিছু ছালাত এমন আছে যা সময় হওয়ার পরও দেরী করে আদায় করা সুন্নাত। যেমন এশা ছালাত রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বিলম্ব করে আদায় করা সুন্নাত। অতএব কোন নারী যদি প্রশ্ন করে, গৃহে অবস্থানের সময় যদি আমি এশা ছালাতের আযান শুনি, তবে আমার জন্য কোনটি উত্তম- আযানের পর পর এশা ছালাত আদায় করে নেয়া নাকি রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেরী করা? জবাবে বলব, তার জন্য উত্তম হচ্ছে রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেরী করে এশা ছালাত আদায় করা। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা রাতে বের হতে দেরী করলেন। এমনকি লোকেরা বলল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! নারী ও শিশুরা তো ঘুমিয়ে পড়লো। তারপর তিনি বের হয়ে ছালাত আদায় করলেন এবং বললেন, إِنَّهُ لَوَقْتُهَا لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي “এটাই এ নামাযের সময়। আমার উম্মতের উপর যদি কষ্টকর মনে না করতাম (তবে এশা ছালাতের জন্য এ সময়টাকে নির্ধারণ করে দিতাম।) অতএব নারী নিজ গৃহে অবস্থানের সময় তার জন্য উত্তম হচ্ছে দেরী করে এশা ছালাত আদায় করা। অনুরূপভাবে একদল লোক যদি [সফরে] থাকে (যেখানে আশে পাশে কোন মসজিদ নেই।) তারা যদি প্রশ্ন করে এশা ছালাত কি আমরা দ্রুত পড়ে নিব নাকি দেরী করব? জবাবে বলবঃ তাদের জন্য উত্তম হচ্ছে, দেরী করা। অবশ্য দেরী করলে যদি কষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে আগেভাগে পড়ে নেয়াই উত্তম। অন্যান্য ছালাতগুলোর ক্ষেত্রে উত্তম হচ্ছে, আগেভাগে প্রথম ওয়াক্তেই ছালাত আদায় করা। ফজর, যোহর, আছর ও মাগরিব ছালাত সমূহ প্রথম ওয়াক্তে আদায় করবে। কিন্তু যদি দেরী করার কোন কারণ থাকে, তবে দেরী করাই উত্তম হবে। দেরী করার কারণ যেমন, গ্রীষ্মকালে যখন প্রচন্ড তাপদাহ শুরু হয়, তখন যোহর ছালাত দেরী করে ঠান্ডা সময়ে আদায় করা উত্তম। অর্থাৎ- আছর ছালাতের কিছুক্ষণ আগে। কেননা আছরের ওয়াক্ত নিকটবর্তী হলে তাপমাত্রা কমে আসে। একথার দলীলঃ নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ]إِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا بِالصَّلَاةِ فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ [ “তাপমাত্রা প্রচন্ড হলে, যোহর ছালাতকে দেরী করে ঠান্ডার সময়ে আদায় করবে। কেননা প্রচন্ড গরম জাহান্নামের কঠিন প্রখরতা থেকে আসে।”  নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সফরে থাকাবস্থায় ছালাতের সময় হলে বেলাল আযান দেয়ার জন্য উঠে দাঁড়াতেন। তখন তিনি তাকে বলতেন “ঠান্ডা কর”। কিছুক্ষণ পর আবার আযানের জন্য উঠতেন। তিনি বলতেন, “ঠান্ডা কর।” (অর্থাৎ- রোদের তাপ কম হওয়ার অপেক্ষা কর।) কিছুক্ষণ পর বেলাল আযান দেয়ার জন্য দাঁড়াতেন। তখন তিনি তাকে আযান দেয়ার অনুমতি দিতেন। দেরী করে ছালাত আদায় করা উত্তম হওয়ার আরো কারণ এমন হতে পারেঃ যেমন, প্রথম ওয়াক্তে ছালাত আদায় করলে জামাআত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় দেরী করে জামাআতের সাথে ছালাত আদায় করাই উত্তম। যেমন একজন লোক মাঠে-ময়দানে কর্মরত অবস্থায় নামাযের সময় হয়ে গেছে। সে জানে, লোকালয়ে গেলে শেষ সময়ে জামাআতের সাথে ছালাত আদায় করতে পারবে। এর জন্য কোনটি উত্তম- সময় হওয়ার সাথে সাথে একাকি ছালাত আদায় করে নেয়া, নাকি দেরী করে জামাআতের সাথে ছালাত আদায় করা? জবাবে বলব, এর জন্য উত্তম হচ্ছেঃ দেরী করে জামাআতের সাথে ছালাত আদায় করা। বরং আমি বলি, জামাআতের সাথে ছালাত আদায় করার জন্য দেরী করা ওয়াজিব। প্রশ্নঃ (২০৬) অজ্ঞতা বশতঃ সময় হওয়ার আগেই ছালাত আদায় করে নেয়ার বিধান কি? উত্তরঃ সময় হওয়ার আগে ছালাত আদায় করলে তা বিশুদ্ধ হবে না। কেননা আল্লাহ্‌ বলেনঃ ]إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا[ “নিশ্চয় নির্দিষ্ট সময়ে ছালাত আদায় করা মু’মিনদের উপর ফরয করে দেয়া হয়েছে।” (সূরা নিসাঃ ১০৩)  তাছাড়া রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রত্যেক ছালাতের জন্য সময় নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। যেমন তিনি বলেন,  وَقْتُ الظُّهْرِ إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ   “যোহরের সময় শুরু হবে- সূর্য যখন পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়বে…।”  এভাবে প্রত্যেক ছালাতের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। অতএব যে ব্যক্তি সময় হওয়ার আগেই ছালাত আদায় করে নিবে তা ফরয হিসেবে আদায় হবে না। তবে তা নফল হয়ে যাবে। তাকে নফলের ছাওয়াব দেয়া হবে। অতএব সময় হওয়ার পর ঐ ছালাত তাকে পুনরায় পড়তে হবে। (আল্লাহ্‌ই অধিক জ্ঞান রাখেন) প্রশ্নঃ (২০৭) ভুল এবং অজ্ঞতার কারণে ক্বাযা নামায সমূহের তারতীব বা ধারাবাহিকতা কি রহিত হয়ে যাবে? উত্তরঃ মাসআলাটি মতভেদপূর্ণ। বিশুদ্ধ কথা হচ্ছে, ধারাবাহিকতা রহিত হয়ে যাবে। কেননা আল্লাহ্‌ তা‘আলা বলেন, رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا “হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা যদি ভুলে যাই বা ভুল করি, তবে আমাদেরকে পাকড়াও করিও না।” (সূরা বাক্বারা- ২৮৬) নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي الْخَطَأَ وَالنِّسْيَانَ وَمَا اسْتُكْرِهُوا عَلَيْهِ “নিশ্চয় আল্লাহ্‌ তা‘আলা ক্ষমা করে দিয়েছেন আমার উম্মতের ভুলে যাওয়া ও ভুল ক্রমে করে ফেলা বিষয়ের পাপ এবং যে বিষয়ে তাকে জোর-জবরদসি- করা হয়।” প্রশ্নঃ (২০৮) এশা ছালাতের জন্য মসজিদে প্রবেশ করে মনে পড়ল, মাগরিব ছালাত বাকী আছে, এখন তার করণীয় কি? উত্তরঃ মসজিদে প্রবেশ করে যদি দেখে যে, এশার নামায দাঁড়িয়ে পড়েছে। তারপর মনে পড়ল যে, মাগরিব ছালাত আদায় করে নি। তখন মাগরিব ছালাতের নিয়ত করে এশার জামাআতে শরীক হয়ে যাবে। ইমাম তৃতীয় রাকাআত শেষে চতুর্থ রাকাআতের জন্য দন্ডায়মান হলে- বসে পড়বে এবং পূর্ণ তাশাহুদ পড়ে সালাম না ফিরিয়ে ইমামের অপেক্ষা করবে। তারপর ইমামের সাথে সালাম ফিরাবে। অবশ্য একাকী সালাম ফিরিয়ে ইমামের অবশিষ্ট নামাযে এশার নিয়তে শামিল হলেও কোন অসুবিধা নেই। ইমামের সাথে নিয়তের ভিন্নতা হলে কোন অসুবিধা নেই। বিদ্বানদের মধ্যে এব্যাপারে মতভেদ থাকলেও এটিই বিশুদ্ধ মত। আর যদি একাকী মাগরিব ছালাত আদায় করার পর এশার জামাতে শামিল হয়, তাতেও কোন অসুবিধা নেই। প্রশ্নঃ (২০৯) নিদ্রা বা ভুলে যাওয়ার কারণে যদি আমার এক বা ততোধিক ফরয ছালাত ছুটে যায়, তবে তা কাযা আদায় করার নিয়ম কি? প্রথমে কি বর্তমান সময়ের ছালাত আদায় করব তারপর কাযা নামায আদায় করব? নাকি আগে কাযা নামায সমূহ তারপর বর্তমান নামায আদায় করব? উত্তরঃ ছুটে যাওয়া কাযা নামায সমূহ প্রথমে আদায় করবে। তারপর বর্তমান সময়ের নামায আদায় করবে। দেরী করা ঠিক হবে না। মানুষের মধ্যে একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে, কারো যদি একাধিক ফরয নামায ছুটে গিয়ে থাকে, তবে ঐ নামাযের সময় উপস্থিত হলে তার কাযা আদায় করবে। যেমন, আজ কারো ফজর নামায ছুটে গেছে। সে উক্ত নামায পরবর্তী দিন ফজরের সময়ে কাযা আদায় করবে। এটা মারাত্মক ভুল এবং নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর বাণী ও কর্মের বিরোধী। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বাণীঃ مَنْ نَسِيَ صَلَاةً أَوْ نَامَ عَنْهَا فَكَفَّارَتُهَا أَنْ يُصَلِّيَهَا إِذَا ذَكَرَهَا “যে ব্যক্তি ছালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়ে অথবা ভুলে যায়, সে যেন ইহা আদায় করে যখনই স্মরণ হবে।”  এখানে এরূপ বলা হয়নি, দ্বিতীয় দিন উহা আদায় করে নিবে। খন্দক যুদ্ধের সময় নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কয়েকটি নামায ছুটে যায়। তখন তিনি বর্তমান সময়ের নামাযের আগেই উক্ত নামাযগুলোর কাযা আদায় করেন।  অতএব ছুটে যাওয়া নামাযের ক্বাযা প্রথমে আদায় করবে তারপর বর্তমান সময়ের নামায আদায় করবে। কিন্তু যদি ভুলক্রমে বা অজ্ঞতা বশতঃ ক্বাযা নামাযের আগে বর্তমান সময়ের নামায আদায় করে ফেলে তবে তা বিশুদ্ধ হবে। কেননা এটা তার ওযর। উল্লেখ্য যে, ক্বাযা নামায সমূহ তিন ভাগে বিভক্তঃ প্রথম প্রকারঃ দেরী করার ওযর দূর হয়ে গেলেই ক্বাযা আদায় করে নিবে। তা হচ্ছে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের ক্ষেত্রে। অনুরূপভাবে বিতর ও সুন্নাত নামায সমূহ। দ্বিতীয় প্রকারঃ যার পরিবর্তে অন্য নামায ক্বাযা হিসেবে আদায় করবে। তা হচ্ছে, জুমআর নামায। এ নামায ছুটে গেলে তার পরিবর্তে যোহর নামায আদায় করবে। কেউ যদি জুমআর দিন ইমামের দ্বিতীয় রাকাআতের রুকূ থেকে মাথা উঠানোর পর নামাযে শামিল হয়, তবে সে যোহর নামায আদায় করবে। ঐ অবস্থায় যোহরের নিয়ত করে ইমামের সাথে নামাযে শামিল হবে। অনুরূপভাবে কেউ যদি ইমামের সালামের পর আসে তবে সেও যোহর পড়বে। তবে কেউ যদি দ্বিতীয় রাকাআতে ইমামের সাথে রুকূ পায়, তবে সে জুমআর নামাযই আদায় করবে। অর্থাৎ ইমাম সালাম ফিরালে এক রাকাআত আদায় করবে। অনেক লোক ইমামের দ্বিতীয় রাকাআতের রুকূ থেকে মাথা উঠানোর পর জুমআর নামাযে শামিল হয়। অতঃপর সালাম শেষে জুমআর নামায হিসেবে দু‘রাকাআত নামায আদায় করে। এটা ভুল। বরং তার জন্য উচিত হচ্ছে ইমামের সালাম ফেরানোর পর যোহর হিসেবে চার রাকাআত নামায আদায় করা। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الصَّلاةِ فَقَدْ أَدْرَكَ الصَّلاةَ “যে ব্যক্তি নামাযের এক রাকআত পেয়ে গেল, সে পূর্ণ ছালাত পেয়ে গেল।”  এদ্বারা বুঝা যায় কেউ যদি এর কম পায় সে নামায পেল না। তখন জুমআর কাযা আদায় করবে যোহর নামায আদায় করার মাধ্যমে। এই কারণে নারীরা বাড়িতে, মসজিদে আসতে অপারগ অসুস্থ ব্যক্তিরা যোহর নামায আদায় করবে। তারা জুমআ আদায় করবে না। তারা যদি জুমআ আদায়ও করে, তাদের নামায প্রত্যাখ্যাত হবে- বাতিল বলে গণ্য হবে। তৃতীয় প্রকারঃ এমন নামায যা ছুটে যাওয়া সময়েই কাযা আদায় করতে হবে। আর তা হচ্ছে ঈদের নামায। ঈদের দিন সম্পর্কে জানা গেল না। কিন্তু সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়া পর জানা গেল যে আজকে ঈদের দিন ছিল। এক্ষেত্রে বিদ্বানগণ বলেন, পরবর্তী দিন সকাল বেলা উক্ত ঈদের নামাযের কাযা আদায় করতে হবে। কেননা ঈদের নামায আদায় করার সময় হচ্ছে সকাল বেলা। প্রশ্নঃ (২১০) কোন কোন লোক এমন পাতলা পোশাকে ছালাত আদায় করে যে, বাইরে থেকে তার শরীরের রং বুঝা যায়। নীচে রানের আধা-আধি পর্যন্ত ছোট পায়জামা বা জাঙ্গিয়া পরিধান করে। পাতলা কাপড়ের কারণে রানের বাকী অর্ধেক অংশ স্পষ্টই দেখা যায়। এদের নামাযের বিধান কি? উত্তরঃ এদের নামাযের বিধান ঐ লোকদের নামাযের মত যারা বিনা কাপড়ে শুধু খাট পায়জামা বা জাঙ্গিয়া পরিধান করে নামায পড়ে। কেননা এমন পাতলা পোশাক যা দ্বারা শরীরের সুষ্পষ্ট বিবরণ বুঝা যায়, সতরের স্থান সমূহ ঢেকে রাখে না তা পরিধান করা না করা উভয়ই সমান। তাই তাদের নামাযও বিশুদ্ধ নয়। এ ব্যাপারে উলামাদের দু’টি মত পাওয়া যায়। কিন্তু সঠিক মতটি হচ্ছে, তাদের নামাযও বিশুদ্ধ হবে না। ইমাম আহমাদ (রঃ)এর মাযহাবেও এ মতটি ব্যাপক প্রসিদ্ধ। কেননা নামাযে পুরুষের জন্য সর্ব নিম্ন সতর হচ্ছে- নাভীমূল থেকে হাঁটু পর্যন্ত ঢেকে রাখা। এর মাধ্যমে আল্লাহ্‌র বাণীর বাস্তবায়ন হয়। আল্লাহ্‌ বলেনঃ يَابَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ “হে আদম সন্তান! প্রত্যেক নামাযের সময় তোমরা সৌন্দর্য গ্রহণ কর।” (সূরা আ’রাফঃ ৩১)  অর্থাৎ পোশাক পরিধান কর। সুতরাং আবশ্যক হচ্ছে, তারা এমন পোশাক পরিধান করবে যা দ্বারা নাভীমূল থেকে হাঁটু পর্যন্ত ঢাকা যায়। অথবা ছোট পায়জামা বা জাঙ্গিয়ার উপরে এমন ধরণের মোটা কাপড় পরিধান করবে, যাতে বাইরে থেকে শরীরের রং বুঝা না যায়। প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়টি বিরাট ভুল ও ভয়ানক। এদের উপর আবশ্যক হচ্ছে, আল্লাহ্‌র কাছে তওবা করা। নামাযে এমন পোশাক পরিধান করার চেষ্ট করা- যা আবশ্যক সতর ঢেকে রাখে। আল্লাহ্‌ তা‘আলার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি আমাদেরকে ও মুসলমান ভাইদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন। তাঁর পছন্দনীয় ও রেজামন্দীর পথে চলার তাওফীক দিন। নিশ্চয় তিনি দানশীল ও সম্মানিত। প্রশ্নঃ (২১১) অনেক মহিলা পোশাক পরিধান করে। যার সামনে, পিছনে ও উভয় পার্শ্বে খোলা থাকে। ফলে পায়ের অনেকাংশ উন্মুক্ত হয়ে যায়। এদের কথা হচ্ছে, আমরা তো শুধু নারীদের সামনেই এরূপ পোশাক পরিধান করি? এদের এই পোশাকের বিধান কি? উত্তরঃ আমি যা সঠিক মনে করি তা হচ্ছে নারী এমন পোশাক পরিধান করবে, যা তার শরীরের সর্বাঙ্গ ঢেকে রাখবে। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়া (রহঃ) উল্লেখ করেছেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর যুগে নারীরা এমন ধরণের কামিছ পরিধান করতেন যা পায়ের টাখনুদ্বয় এবং হাতের কব্জিদ্বয় পর্যন্ত প্রলম্বিত হত। অতএব নারীর উপর আবশ্যক হচ্ছে নিজ সম্ভ্রমের প্রতি যত্নবান হওয়া। এমন পোশাক পরিধান করা যা তার শরীরকে সম্পূর্ণরূপে ঢেকে দিবে। যাতে করে সে নিম্ন লিখিত এই হাদীছের আওতাভুক্ত না হয়। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُونَ بِهَا النَّاسَ وَنِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيلاتٌ مَائِلاتٌ رُءُوسُهُنَّ كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ لا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ وَلا يَجِدْنَ رِيحَهَا وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ كَذَا وَكَذَا “দু’ধরণের জাহান্নামী লোক। এদেরকে আমি এখনো দেখিনি। একদল, যাদের হাতে গরুর লেজের ন্যায় লাঠি থাকবে। লোকদেরকে তারা প্রহার করবে। দ্বিতীয় দল, এমন নারী যারা পোশাক পরিধান করা সত্বেও যেন উলঙ্গ থাকে। তারা লোকদেরকে নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করে, অহংকারের সাথে হেলে-দুলে চলে। তাদের মাথাগুলো যেন হেলে যাওয়া উটের চুঁড়ার মত। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, তার সুঘ্রাণও পাবে না। নিশ্চয় জান্নাতের সুঘ্রাণ এত এত দূর থেকে পাওয়া যায়।” প্রশ্নঃ (২১২) নিক্বাব ও হাত মোজা পরিধান করে কি নারীর নামায আদায় করা বৈধ? উত্তরঃ নারী যদি নিজ গৃহে অথবা এমন স্থানে নামায আদায় করে, যেখানে পরপুরুষ আগমণ করবে না। তবে তার জন্য শরীয়ত সম্মত হচ্ছে, মুখমন্ডল ও কব্জি পর্যন্ত হস্তদ্বয় খোলা রাখা। যাতে করে সিজদার সময় কপাল ও নাক এবং উভয় হাত মাটিতে রাখতে সক্ষম হয়। কিন্তু সে যদি এমন স্থানে নামায পড়ে যেখানে বেগানা পরুষের আনাগোনা রয়েছে, তবে অবশ্যই মুখমন্ডল ঢেকে রাখবে। কেননা গাইর মাহরাম (যার সাথে বিবাহ সিদ্ধ এমন পর পুরুষের) সামনে মুখমন্ডল ঢেকে রাখা ওয়াজিব। তাদের সামনে মুখ খোলা জায়েয নয়। একথার দলীল হচ্ছে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ্‌ এবং সুস্থ দৃষ্টিভঙ্গি। যা থেকে কোন মুমিন তো দূরে থাক সাধারণ বিবেকবানও ভিন্নমত পোষণ করতে পারে না। হাত মোজা পরিধান করা শরীয়ত সম্মত। মহিলা ছাহাবীরা এরূপই করতেন। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নারীদের ইহরাম বাঁধার নিয়মের মধ্যে উল্লেখ করেছেনঃ  وَلَا تَنْتَقِبِ الْمَرْأَةُ الْمُحْرِمَةُ وَلَا تَلْبَسِ الْقُفَّازَيْنِ   “ইহরামকারী নারী নিক্বাব পরবে না হাত মোজাও পরিধান করবে না।”  এ হাদীছ দ্বারা বুঝা যায়, তাদের সাধারণ অভ্যাস ছিল হাত মোজা পরিধান করা। অতএব পরপুরুষের উপস্থিতিতে হাত মোজা পরিধান করাতে কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু মুখমন্ডল ঢেকে রাখবে দাঁড়ানো, বসা- সর্বাবস্থায়। তবে সিজদার সময় মুখমন্ডলের কাপড় সরিয়ে কপাল ও নাকের উপর সিজদা করবে। প্রশ্নঃ (২১৩) অজানা অবস্থায় কাপড়ে নাপাকি নিয়ে নামায আদায় করলে তার বিধান কি? উত্তরঃ নামায সম্পন্ন করার পর জানা গেল যে, কাপড়ে নাপাকি ছিল। অথবা কাপড়ে নাপাকি থাকার কথা আগে থেকেই জানতো কিন্তু ভুলে গিয়েছে। নামায শেষ হওয়ার পর সেকথা স্মরণ হল। এ অবস্থায় তাদের নামায বিশুদ্ধ হবে। পুনরায় নামায ফিরিয়ে পড়ার দরকার নেই। কেননা সে তো এই নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হয়েছে না জেনে অথবা ভুলক্রমে। আর আল্লাহ্‌ তা‘আলা এরশাদ করেছেন,  رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا  “হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা যদি ভুলে যাই বা ভুলক্রমে কোন কিছু করে ফেলি তবে আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না।” (সূরা বাক্বারা- ২৮৬)  “আল্লাহ্‌ বলেন, আমি তাই করলাম।” অর্থাৎ- পাকড়াও করলাম না। একদা রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুতা নিয়ে নামায আদায় করছিলেন, কিন্তু তাতে ছিল নাপাকি। তিনি তা জানতেন না। জিবরীল (আঃ) সে ব্যাপারে তাঁকে অবহিত করলে নামায চলাবস্থায় তিনি তা খুলে ফেললেন। এক্ষেত্রে তিনি নতুন করে নামায আদায় করেননি। এথেকে প্রমাণিত হয়, নামায অবস্থায় যদি নাপাকির ব্যাপারে জানতে পারে, তবে নামায অবস্থাতেই উহা বিদূরীত করার চেষ্টা করবে- যদি উহা বিদূরীত করতে গিয়ে সতর ঢেকে রাখার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা না হয়। অনুরূপভাবে যদি ভুলে যায় আর নামাযরত অবস্থায় তা স্মরণ হয়, তবে সতরের ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা না হলে নামায না ভেঙ্গেই উক্ত কাপড় খুলে ফেলবে। কিন্তু যদি নামায শেষ হওয়ার পর স্মরণ হয় বা নাপাকি সম্পর্কে জানতে পারে, তবে নামায বিশুদ্ধ হবে ফিরিয়ে পড়ার দরকার হবে না। তবে কেউ যদি ভুলক্রমে ওযু না করে নামায আদায় করে। তারপর নামায শেষে স্মরণ হলো যে, সে বিনা ওযুতে নামায আদায় করেছে। তবে তার উপর ওয়াজিব হচ্ছে, ওযু সম্পাদন করে নামায ফিরিয়ে পড়া। অনুরূপভাবে কেউ যদি অজ্ঞতা বশতঃ বা ভুলক্রমে শরীরে নাপাকি নিয়ে নামায আদায় করে, অতঃপর কাপড়ে বীর্য দেখে জানতে পারে বা নাপাকির কথা স্মরণ হয়, তবে যতগুলো নামায সে অপবিত্রাবস্থায় আদায় করেছিল সবগুলোই ফিরিয়ে পড়বে। উভয় মাসআলার মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে, প্রথম মাসআলাটি- অর্থাৎ কাপড়ে নাপাকী নিয়ে নামায আদায় করা- হচ্ছে, নিষিদ্ধ বিষয়কে পরিত্যাগ করা। আর দ্বিতীয়টি- অর্থাৎ- বিনা ওযুতে বা শরীর নাপাক অবস্থায় নামায আদায় করা- হচ্ছে, নির্দেশিত বিষয় যা ওযু-গোসলের মাধ্যমে বাস্তবায়িত করতে হয়। আর নির্দেশিত বিষয় অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। বিষয়টির উপস্থিতি ব্যতিরেকে ইবাদত বিশুদ্ধ হবে না। কিন্তু কাপড়ে নাপাকির বিষয়টি হচ্ছে না থাকা। অর্থাৎ- ওটার অনুপসি’তি ব্যতীত নামায বিশুদ্ধ হবে না। অতএব অজ্ঞতা বশতঃ বা ভুলক্রমে যদি তা উপস্থিত থাকে তবে কোন অসুবিধা নেই। কেননা নামাযের আবশ্যক কোন কিছু এখানে ছুটে যায়নি। প্রশ্নঃ (২১৪) টাখনুর নীচে কাপড় ঝুলিয়ে পরিধান করা যদি অহংকার বশতঃ হয় তবে তার শাস্তি কি? কিন্তু যদি অহংকার বশতঃ না হয় তবে তার শাস্তি কি? আবু বকরের হাদীছ দ্বারা যারা দলীল পেশ করে তাদের দাবীর কি জবাব? উত্তরঃ লুঙ্গি, পায়জামা, প্যান্ট ইত্যাদি কাপড় যদি পায়ের কিঞ্চিৎ নিচে ঝুলিয়ে পরিধান করা হয় এবং তাঁর উদ্দেশ্য হয় অহংকার করা, তবে তাঁর শাস্তি হল – কিয়ামত দিবসে আল্লাহ্‌ তা’আলা তাঁর দিকে দৃষ্টি দিবেন না, তাঁর সাথে কথা বলবেন না, তাকে পবিত্র করবেন না এবং তাঁর জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর যদি অহংকারের সাথে নয় বরং সাধারণভাবে কাপড় ঝুলিয়ে পরে, তবে তাঁর শাস্তি হল –তাঁর টাখনুদ্বয়কে জাহান্নামের আগুনে পোড়ানো হবে। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ثَلاَثَةٌ لاَ يُكَلّمُهُمُ اللّهُ يَوْمَ الْقِياَمَةِ وَلاَ يَنْظُرُ إلَيْهِمْ وَلاَ يُزَكّيْهِمْ وَلَهُمْ عَذاَبٌ ألِيْم: المُسْبِلُ وَالمَنَّانُ وَالْمُنْفِقُ سِـلْعَتَهُ بـاِلْحَلِفِ الكـاَذِبِ “কিয়ামত দিবসে আল্লাহ্‌ তা’আলা তিনি ব্যাক্তির সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না, তাদেরকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। সেই তিনি ব্যাক্তি হল – ১) পায়ের টাখনুর নীচে কাপড় ঝুলিয়ে পরিধানকারী, ২) দান করে খোটাদানকারী ৩) মিথ্যা শপথ করে পন্য বিক্রয়কারী “  তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেনঃ مَنْ جَرَّ ثَوْبَهُ خُيَلاَءَ لَمْ يَنْظُرِ الله إلَيْهِ يَوْمَ الْقِياَمَـةِ “যে ব্যাক্তি অহংকার বশতঃ কাপড় ঝুলিয়ে পরিধান করবে কিয়ামত দিবসে আল্লাহ্‌ তাঁর দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না”  এ বিধান ঐ ব্যাক্তির জন্য যে অহংকার বশতঃ কাপড় ঝুলিয়ে পরে। আর যে ব্যাক্তি অহংকারের উদ্দেশ্য ছাড়া কাপড় ঝুলিয়ে পরবে তাঁর ব্যাপারে হাদীসে এসেছে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ماَ أسْفَلَ الكعبين مِـنَ الإزاَرِ فَفِيْ النّـارِ     “যে টাখনুদ্বয়ের নীচে কাপড় ঝুলিয়ে পরা হত তা আগুনের মধ্যে জ্বলবে”  এ হাদিসে দোযখের আগুনে টাখনু জ্বলার ব্যাপারে অহঙ্কারের কথা উল্লেখ নেই। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ إِزْرَةُ الْمُؤْمِنِ إِلَى نِصْفِ السَّاقِ وَلا حَرَجَ أَوْ لا جُنَاحَ فِيمَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْكَعْبَيْنِ ومَا كَانَ أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ فَهُوَ فِي النَّارِ وَمَنْ جَرَّ إِزَارَهُ بَطَرًا لَمْ يَنْظُرِ اللَّهُ إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِياَمَةِ “মুমিম ব্যাক্তির কাপড় নেসফে সাক তথা অর্ধ হাঁটু পর্যন্ত, এতে কোন অসুবিধা নেই” (হাঁটু থেকে পায়ের তোলার মধ্যভাগকে নেসফে সাক বলা হয়) অন্য বর্ণনায় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরুপ বলেনঃ “পায়ের টাখনু এবং হাটুর মধ্যবর্তী স্থানে কাপড় পরিধান করাতে কোন অসুবিধা নেই। যে টাখনুর নীচে কাপড় পরিধান করা হবে তা জাহান্নামে যাবে, এবং যে ব্যাক্তি অহংকার বশতঃ কাপড় ঝুলিয়ে পরবে, কিয়ামত দিবসে আল্লাহ্‌ তাঁর দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না”। অনেকে কাপড় ঝুলিয়ে পরিধান করে এবং যুক্তি দেখায় যে আমি তো অহংকার বশতঃ কাপড় টাখনুর নীচে ঝুলিয়ে পরিনাই, সতরাং এতে তেমন অসুবিধা নেই। উল্লেখিত হাদিসগুলি থেকে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, এ ব্যাক্তির যুক্তি সম্পূর্ণ অসাড়। অতএব অহকারের উদ্দেশ্য ব্যাতিত এমনিই সাধারণভাবে কাপড় টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরলেই জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে। আর তাঁর সাথে যদি অহংকার যুক্ত হয় তবে তাঁর শাস্তি আরও কঠিন, তা  হল – আল্লাহ্‌ তাঁর সাথে কথা বলবেন না, তাঁর দিকে তাকাবেন না, তাকে পবিত্র করবেন না এবং তাঁর জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আবু বকর (রাঃ) এর হাদীছ দ্বারা যারা দলীল পেশ করতে চায় দু’দিক থেকে তাদের যুক্তি খন্ডনঃ প্রথম কথাঃ আবু বকর (রাঃ) বলেছেন, আমার কাপড়ের এক পার্শ্ব (অনিচ্ছাকৃত) ঝুলে পড়ে কিন্তু আমি তা বারবার উঠিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি।” অতএব তিনি তো ইচ্ছাকৃত একাজ করতেন না। বরং তাঁর শরীর অধিক ক্ষীণ হওয়ার কারণে অনিচ্ছাকৃত কাপড় ঝুলে যেত। তাছাড়া তিনি তা উঠিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতেন। কিন্তু যারা কাপড় ঝুলিয়ে পরে এবং ধারণা করে যে তারা অহংকার করে না, তারা তো ইচ্ছাকৃত একাজ করে। অতএব তাদের ক্ষেত্রে আমরা বলব, অহংকারের উদ্দেশ্য ব্যতীত ইচ্ছাকৃত কাপড় ঝুলিয়ে পরলে তার টাখনু জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে। যেমনটি আবু হুরায়রার হাদীছে বর্ণিত হয়েছে। আর যদি অহংকার বশতঃ হয় তবে তার শাস্তি হচ্ছে,  আল্লাহ্‌ তাঁর সাথে কথা বলবেন না, তাঁর দিকে তাকাবেন না, তাকে পবিত্র করবেন না এবং তাঁর জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। দ্বিতীয় কথাঃ নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজেই আবু বকর (রাঃ)কে পরিশুদ্ধ করেছেন এবং সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি সেই সকল লোকদের অন্তর্ভুক্ত নন, যারা অহংকার বশতঃ একাজ করে থাকে। অতএব বর্তমানে এরা কি নবীজীর পক্ষ থেকে এরূপ সচ্চরিত্রের সনদ ও তাঁর সাক্ষ্য লাভ করেছে? কিন্তু শয়তান প্রবৃত্তির অনুসারী লোকদেরকে কুরআন্তসুন্নাহ্‌ থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ উক্তি সমূহকে খেয়াল-খুশির উপর ব্যবহার করতে উদ্বুদ্ধু করে। তখন তারা বিভ্রান্ত হয়। আল্লাহ্‌ যাকে ইচ্ছা সঠিক পথে পরিচালিত করে থাকেন। প্রশ্নঃ (২১৫) এক ব্যক্তি নামায সম্পন্ন করার পর জানল যে, সে ‘জুনুব’ অপবিত্র অবস্থায় ছিল, অর্থাৎ তার উপর গোসল ফরয ছিল। এখন তার করণীয় কি? উত্তরঃ যে কোন মানুষ নামায আদায় করার পর যদি জানতে পারে যে, সে ছোট নাপাকী বা বড় নাপাকীতে লিপ্ত ছিল। তথা ওযু বা গোসল ফরয ছিল। তবে তার উপর আবশ্যক হচ্ছে পবিত্রতা অর্জন করে উক্ত নামায পুনরায় আদায় করা। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, لا تُقْبَلُ صَلاةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ “পবিত্রতা ব্যতীত কোন নামায কবূল করা হবে না।” প্রশ্নঃ (২১৬) ছালাতরত অবস্থায় নাক থেকে রক্ত বের হলে কি করবে? উত্তরঃ নাক থেকে রক্ত বের হওয়া ওযু ভঙ্গের কারণ নয়। চাই রক্ত কম বের হোক বা বেশী। অনুরূপভাবে দু’রাস্তা (পেশাব-পায়খানার রাস্তা) ছাড়া শরীরের অন্য যে কোন স্থান থেকে কোন কিছু বের হলে ওযু ভঙ্গ হবে না। যেমন বমী, পুঁজ প্রভৃতি। চাই তা কম হোক বা বেশী হোক ওযু ভঙ্গ হবে না। কেননা এগুলোর ব্যাপারে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোন হাদীছ ছহীহ্‌ প্রমাণিত হয়নি। আসল হচ্ছে পবিত্রতা। এই পবিত্রতা প্রমাণিত হয়েছে শরঈ দলীলের ভিত্তিতে। আর যা শরঈ দলীলের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয় তা খন্ডন করার জন্য শরঈ দলীল প্রয়োজন। কিন্তু দু’টি রাস্তা ব্যতীত শরীরের অন্য স্থান থেকে কোন কিছু বের হলে, ওযু ভঙ্গের কোন শরঈ দলীল নেই। অতএব নাক থেকে রক্ত বের হলে বা বমী হলে ওযু ভঙ্গ হবে না। কম হোক বা বেশী হোক। কিন্তু যেহেতু এ অবস্থায় বিনয়ের সাথে ছালাত আদায় করা দুস্কর হয়ে পড়ে, এজন্য নামায থেকে বের হতে কোন বাধা নেই। অনুরূপভাবে নামায যদি মসজিদের মধ্যে হয় আর নাকের রক্ত বা বমি পড়ে মসজিদের পরিচ্ছন্নতা বিনষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে মসজিদ থেকে বের হওয়া ওয়াজিব। কিন্তু অল্প রক্ত কাপড়ে পড়লে কাপড় নাপাক হবে না। প্রশ্নঃ (২১৭) কোন মসিজদে কবর থাকলে সেখানে নামায আদায় করার হুকুম কি? উত্তরঃ কবর সংশ্লিষ্ট মসজিদে নামায আদায় করা দু’ভাগে বিভক্তঃ প্রথম প্রকারঃ প্রথমে কবর ছিল। পরবর্তীতে তাকে কেন্দ্র করে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ওয়াজিব হচ্ছে এই মসজিদ পরিত্যাগ করা; বরং মসজিদ ভেঙ্গে ফেলা। যদি না করা হয় তবে মুসলিম শাসকের উপর আবশ্যক হচ্ছে উক্ত মসজিদ ধ্বংস করে ফেলা। দ্বিতীয় প্রকারঃ প্রথমে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। পরে সেখানে কোন মৃতকে দাফন করা হয়েছে। তখন ওয়াজিব হচ্ছে, কবর খনন করে মৃত ব্যক্তি বা তার হাড়-হাড্ডি সেখান থেকে উত্তোলন করে, মুসলমানদের গোরস্থানে দাফন করা। এই মসজিদে শর্ত সাপেক্ষে ছালাত আদায় করা জায়েয। আর তা হচ্ছে, কবর যেন মসজিদের সম্মুখভাগে না হয়। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবরের দিকে ছালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। কেউ প্রশ্ন করতে পারে, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কবর তো মসজিদের মধ্যে? এর জবাব কি? এর জবাব হচ্ছে, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর মৃত্যুর পূর্বেই মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। একথা সবার জানা যে, তাঁকে মসজিদের মধ্যে দাফন করা হয়নি; বরং মসজিদ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা স্থান, তাঁর নিজ গৃহে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে ৮৮ হিঃ সনে খলীফা ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিক তার অধিনস্ত মদীনার আমীর ওমর বিন আবদুল আযীযকে পত্র মারফত নির্দেশ প্রদান করেন, মসজিদে নববী ভেঙ্গে পূণঃনির্মাণ করার সময় যেন উম্মুল মু’মেনীন তথা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর স্ত্রীদের গৃহগুলোকে মসজিদের আওতার মধ্যে নিয়ে আসা হয়। তখন ওমর বিন আবদুল আযীয মদীনার নেতৃস্থানীয় লোক এবং ফিক্বাহবিদদেরকে একত্রিত করে তাঁদের সামনে খলীফার পত্র পড়ে শোনান। বিষয়টি তাদের কাছে খুবই কঠিন মনে হয়। তাঁরা বললেন, কবর ও গৃহগুলোকে বর্তমান অবস্থাতেই রেখে দেয়া উচিত। উপদেশ গ্রহণ করার জন্য এটাই সর্বাধিক সঠিক উপায়। বর্ণিত আছে যে, সাঈদ বিন মুসাইয়্যেব আয়েশা (রাঃ)এর গৃহ তথা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কবর শরীফকে মসজিদের মধ্যে শামিল করার ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে বাধা প্রদান করেন। কেননা তিনি আশংকা করছিলেন যে, এই কবরকে মসজিদে রূপান্তরিত করা হতে পারে। যা হাদীছের ভাষায় নিষিদ্ধ। বিষয়টি ওমর লিখে পাঠালেন খলীফা ওয়ালিদের কাছে। কিন্তু ওয়ালিদ তার নির্দেশই বাস্তবায়ন করার আদেশে অটল রইলেন। ফলে বাধ্য হয়ে ওমর খলীফার নির্দেশ মোতাবেক কবরকে মসজিদের মধ্যে শামিল করে ফেললেন। অতএব আপনি দেখলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কবর মূলতঃ মসজিদের মধ্যে দেয়া হয়নি। আর কবরের উপর মসজিদও বানানো হয়নি। সুতরাং যারা মসজিদে দাফন করা বা কবরের উপর মসজিদ তৈরীর বৈধতার পক্ষে কথা বলে তাদের কোন দলীল নেই। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হয়েছে তিনি বলেন: لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ “ইহুদী ও খৃষ্টানদের প্রতি আল্লাহ্‌র লা’নত (অভিসম্পাত), তারা তাদের নবীদের কবর সমূহকে মসজিদে রূপান্তরিত করেছে।” রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুমূর্ষু অবস্থায় ইহুদী খৃষ্টানদের কার্যকলাপ থেকে কঠিনভাবে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে উপরোক্ত বাণী পেশ করেন। উম্মে সালামা (রাঃ) হাবশায় হিজরত করে খৃষ্টানদের গীর্জা বা উপাসনালয়ে স্থাপিত বহু মূর্তী দেখেছিলেন। বিষয়টি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বলেন: أُولَئِكَ قَوْمٌ إِذَا مَاتَ فِيهِمُ الْعَبْدُ الصَّالِحُ أَوِ الرَّجُلُ الصَّالِحُ بَنَوْا عَلَى قَبْرِهِ مَسْجِدًا وَصَوَّرُوا فِيهِ تِلْكَ الصُّوَرَ أُولَئِكَ شِرَارُ الْخَلْقِ عِنْدَ اللَّهِ “ওরা এমন জাতি, তাদের মধ্যে কোন নেক বান্দা বা সৎলোক মৃত্যু বরণ করলে তার কবরের উপর তারা মসজিদ তৈরী করত এবং ঐ মূর্তিগুলো স্থাপন করত। ওরা আল্লাহ্‌র কাছে সৃষ্টির মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট।”  আবদুল্লাহ্‌ বিন মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলেন,  “সর্বাধিক নিকৃষ্ট লোক হচ্ছে তারা, যাদের জীবদ্দশায় ক্বিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। আর যারা কবর সমূহকে মসজিদে রূপান্তরিত করেছে।” ইমাম আহমাদ উত্তম সনদে হাদীছটি বর্ণনা করেন। অতএব মু’মিন কখনই ইহুদী-খৃষ্টানদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সন্তুষ্ট হবে না এবং সৃষ্টি কুলের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট হবে না। প্রশ্নঃ (২১৮) টয়লেটের ছাদের উপর ছালাত আদায় করার হুকুম কি? নাপাক উচ্ছিষ্ট একত্রিত করা হয় এমন ঘরের ছাদে ছালাত আদায় করার বিধান কি? উত্তরঃ বর্তমানে আমাদের দেশে প্রচলিত টয়লেট সমূহের ছাদের উপর ছালাত আদায় করতে কোন অসুবিধা নেই। কেননা আমাদের টয়লেট সমূহ বিশেষভাবে আলাদা করে বানানো হয়না। এর ছাদ অন্যান্য ঘরের সাথে সংশ্লিষ্ট করেই বানানো হয়। অনুরূপভাবে নাপাক উচ্ছিষ্ট একত্রিত করা হয় এ রকম ঘরের ছাদে ছালাত আদায় করতেও কোন অসুবিধা নেই। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, جُعِلَتْ لِيَ الأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا “যমিনের সকল স্থান আমার জন্য মসজিদ তথা ছালাত আদায়ের স্থান ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করে দেয়া হয়েছে।” প্রশ্নঃ (২১৯) মসজিদুল হারামের যমিনে (Floor) জুতা নিয়ে হাঁটার বিধান কি? উত্তরঃ মসজিদুল হারামের যমীনে (Floor) জুতা নিয়ে হাঁটা-হাঁটি করা উচিত নয়। কেননা যারা মসজিদের সম্মান বুঝে না এতে তারা সুযোগ পাবে। ফলে জুতায় পানি বা ময়লা নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করবে এবং মসজিদের পরিচ্ছন্নতা নষ্ট করে ফেলবে। বিদ্বানদের নিকট মূলনীতি হচ্ছেঃ “কল্যাণ ও ক্ষতির সংঘর্ষ যদি বরাবর হয় অথবা ক্ষতির আশংকা বেশী হয়; তখন কল্যাণের দিকে যাওয়ার চেয়ে ক্ষতিকর বিষয়কে প্রতিহত করা অধিক উত্তম।” নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কা বিজয়ের পর কা’বা শরীফ ভেঙ্গে, ইবরাহীম (আঃ)এর ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করতে ইচ্ছা করেছিলেন। কিন্তু লোকেরা কুফরী ছেড়ে ইসলামে নতুন প্রবেশ করার কারণে, তাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে, তাই তিনি তা পরিত্যাগ করেছেন। তিনি আয়েশা (রাঃ)কে বললেন, لَوْلَا قَوْمُكِ حَدِيثٌ عَهْدُهُمْ بِكُفْرٍ لَنَقَضْتُ الْكَعْبَةَ فَجَعَلْتُ لَهَا بَابَيْنِ بَابٌ يَدْخُلُ النَّاسُ وَبَابٌ يَخْرُجُونَ “তোমার স্বজাতির লোকেরা যদি কুফরী ছেড়ে ইসলামে নতুন প্রবেশকারী না হতো, তবে আমি এই কা’বা ঘর ভেঙ্গে (ইবরাহীমের ভিত্তির উপর) পূণঃনির্মাণ করতাম। ঘরের দু’টি দরজা রাখতাম, একটিতে লোকেরা প্রবেশ করতো অন্যটি দ্বারা বের হতো।” প্রশ্নঃ (২২০) ক্বিবলা থেকে সামান্য সরে গিয়ে নামায আদায় করলে কি নামায ফিরিয়ে পড়তে হবে? উত্তরঃ ক্বিবলার দিক থেকে সামান্য সরে গেলে নামাযে কোন ক্ষতি হবে না। এ হুকুম ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে মসজিদে হারামের বাইরে থাকে। কেননা মসজিদে হারামে ছালাত আদায়কারীর ক্বিবলা হচ্ছে মূল কা’বা। এজন্যই উলামাগণ বলেছেনঃ কা’বা শরীফ অবলোকন করা যার জন্য সম্ভব হবে, তার জন্য ওয়াজিব হচ্ছে মূল কা’বার সম্মুখবর্তী হওয়া। সুতরাং এধরণের ব্যক্তি যদি মূল কা’বার সম্মুখবর্তী না হয়ে শুধু ক্বিবলার দিকে মুখ ফেরায় তবে তার নামায বিশুদ্ধ হবে না। আল্লাহ্‌ বলেনঃ ]فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ[ “আপনার মুখমন্ডল মসজিদে হারামের দিকে ফেরান। তোমরা যেখানেই থাকনা কেন সেদিকেই তোমাদের মুখমন্ডল ফেরাবে।” (সূরা বাক্বারাঃ ১৪৪) কিন্তু মানুষ দূরে থাকার কারণে যদি কা’বা দেখতে না পায়- যদিও সে মক্কায় থাকে- তবে তার জন্য ওয়াজিব হচ্ছে ক্বিবলার দিকে মুখ ফেরানো। এ ক্ষেত্রে মূল ক্বিবলা থেকে সামান্য সরে গেলে কোন অসুবিধা হবে না। এ কারণে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনাবাসীদের বলেন,  مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ قِبْلَةٌ  “পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে ক্বিবলা।”  কেননা মদীনার অধিবাসীগণ দক্ষিণ দিকে মুখ করে নামায আদায় করেন। সুতরাং তা যদি পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝামাঝি স্থানে হয়, তবেই ক্বিবলা ঠিক হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে যারা পশ্চিম দিকে নামায পড়ে, তাদের ক্বিবলা হচ্ছে উত্তর ও দক্ষিণের মাঝামাঝি স্থানে। প্রশ্নঃ (২২১) একদল লোক ক্বিবলামুখী না হয়েই ছালাত আদায় করে নিয়েছে। তাদের এই নামাযের কি হবে? উত্তরঃ এ মাসআলাটির দু’টি অবস্থা হতে পারেঃ প্রথম অবস্থাঃ তারা এমন স্থানে ছিল, যেখানে থেকে ক্বিবলা কোন দিকে জানা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। যেমন তারা সফরে ছিল এবং আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। ফলে ক্বিবলা কোন দিকে বুঝতে পারে না। এ অবস্থায় অনুমান ও গবেষণা করে ক্বিবলা নির্ধারণ করবে। নামায শেষে যদি জানা যায় তাদের ক্বিবলা ঠিক ছিলনা, তবে কোন অসুবিধা নেই। কেননা তারা সাধ্যানুযায়ী আল্লাহকে ভয় করেছে। আল্লাহ্‌ বলেন,  فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ   “তোমরা সাধ্যানুযায়ী আল্লাহকে ভয় কর।” (সূরা তাগাবুনঃ ১৬)  নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,  إِذَا أَمَرْتُكُمْ بِأَمْرٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ  “আমি তোমাদেরকে কোন বিষয়ে আদেশ করলে, সাধ্যানুযায়ী তোমরা তা বাস্তবায়ন করবে।”  আল্লাহ্‌ তা’আলা বিশেষ করে এই মাসআলায় বলেন, ]وَلِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ وَاسِعٌ عَلِيمٌ[ “পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহ্‌র অধিকারে। তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও সেদিকেই আল্লাহ্‌র মুখমন্ডল রয়েছে। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সুপ্রশস্ত মহাজ্ঞানী।” (সূরা বাক্বারাঃ ১১৫) দ্বিতীয় অবস্থাঃ তারা এমন স্থানে ছিল, কাউকে ক্বিবলা বিষয়ে প্রশ্ন করলেই সমাধান পেয়ে যেত। কিন্তু তারা উদাসীনতা দিয়েছে। তাদের জন্য আবশ্যক হচ্ছে এই নামায ফিরিয়ে পড়া। এই ভুলের কথা নামাযের সময় অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে জানা যাক বা পরে। কেননা এক্ষেত্রে ক্বিবলা নির্ধারণ করতে তাদের ভূল হয়ে গেছে। ইচ্ছাকৃতভাবে তারা ক্বিবলা ছেড়ে দেয়নি। কিন্তু তারা মানুষকে এব্যাপারে জিজ্ঞাসা না করে ভুল করেছে। অলসতা ও উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে। তবে জানা উচিত ক্বিবলার দিক থেকে সামান্য সরে গেলে নামাযের কোন ক্ষতি হবে না। ডান দিকে বা বাম দিকে সামান্য সরে গেলে কোন অসুবিধা হবে না। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনার অধিবাসীদের বলেন,  مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ قِبْلَةٌ  “পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে ক্বিবলা।”  অতএব যারা কা’বা থেকে উত্তর দিকে রয়েছে তাদেরকে আমরা বলবঃ পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী স্থানে ক্বিবলা। অনুরূপ তাদের ক্ষেত্রে যারা দক্ষীণ দিকে থাকে। আর যারা পূর্ব বা পশ্চিম দিকে থাকে, তাদের ক্বিবলা হচ্ছে উত্তর ও দক্ষীণ দিকের মধ্যবর্তী স্থানে। অতএব সামান্য বাঁকা হলে নামাযে কোন প্রভাব পড়বে না বা ক্ষতি হবেনা। উল্লেখ্য যে, মসজিদুল হারামে যারা কা’বা ঘর প্রত্যক্ষ করতে সক্ষম তাদের জন্য ওয়াজিব হচ্ছে মূল কা’বাকে সামনে রাখা। কেননা মূল কা’বা থেকে কিছুটা বাঁকা হয়ে দাঁড়ালে সে ক্বিবলামুখী হয়ে দাঁড়ালোনা। দেখা যায় অনেক লোক মসজিদুল হারামে দীর্ঘ কাতারে দাঁড়িয়ে পড়ে, অথচ মূল কা’বার সম্মুখবর্তী হয় না। নিশ্চিতভাবে এদের অনেকেই মূল কা’বা থেকে বাঁকা হয়ে দাঁড়ায়। এটা বিরাট ধরণের ভুল। এব্যাপারে সতর্ক হওয়া ওয়াজিব। উদাসীন হওয়া উচিত নয়। কেননা এভাবে নামায আদায় করলে ক্বিবলা ছাড়া নামায পড়া হবে। ফলে নামায বিশুদ্ধ হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অনুপসি’ত রয়ে যাবে। প্রশ্নঃ (২২২) নিয়ত মুখে উচ্চারণ করার বিধান কি? উত্তরঃ নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ  إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى  “কর্মের ফলাফল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তাই রয়েছে যা সে নিয়ত করবে।” (বুখারী ও মুসলিম)  নিয়ত আরবী শব্দ যার অর্থ হচ্ছে ইচ্ছা বা সংকল্প। নিয়তের স্থান হচ্ছে অন্তর। তা মুখে উচ্চারণ করার কোন প্রয়োজন নেই। আপনি যখন ওযু করবেন তখন এটাই একটা নিয়ত। একজন বিবেকবান, সুস্থ মস্তিষ্ক, বাধ্য করা হয়নি এমন লোক কোন কাজ করবে আর সেখানে তার কোন নিয়ত বা ইচ্ছা থাকবে না এটা সম্ভব নয়। এজন্য কোন কোন বিদ্বান বলেছেন, (নিয়ত ছাড়া কোন আমল করা যদি আল্লাহ্‌ আমাদের প্রতি আবশ্যক করতেন, তবে তা হতো সাধ্যাতিত কাজ চাপিয়ে দেয়ার অন্তর্গত।) তাছাড়া রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এ ব্যাপারে কোন দলীল প্রমাণিত নেই। না প্রমাণিত আছে ছাহাবায়ে কেরাম থেকে। যারা মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত পাঠ করে আপনি দেখবেন তারা হয় মূর্খ নতুবা কোন আলেম বা মুরব্বীর অন্ধানুসারী। মুখে নিয়ত পাঠকারীদের যুক্তি হচ্ছে, অন্তরের ইচ্ছার সাথে মুখের কথা ও কাজের মিলের জন্য নিয়ত পাঠ করা উচিত। কিন্তু তাদের এ যুক্তি অসাড়। একাজ শরীয়ত সম্মত হলে রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কথা বা কাজে উম্মতের সামনে তার বর্ণনা পাওয়া যেত। (আল্লাহ্‌ই তাওফীক দাতা) প্রশ্নঃ (২২৩) নফল আদায়কারী ব্যক্তির পিছনে ফরয নামায আদায় করার বিধান কি? যেমন তারাবীহ্‌র নামাযের ইমামের পিছনে এশা ছালাত আদায় করা? উত্তরঃ তারাবীহ্‌র নামাযের ইমামের পিছনে এশা ছালাত আদায় করতে কোন অসুবিধা নেই। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রহঃ) বলেন, কোন লোক যদি সফরে থাকে আর তথাকার ইমামকে নামাযের প্রথম থেকেই পায়, তবে তার সাথেই সালাম ফেরাবে। নতুবা ইমামের সালামের পর অবশিষ্ট নামায পূর্ণ করবে। প্রশ্নঃ (২২৪) মুসাফির যদি স্থানীয় ইমামের শেষ দু’রাকাত নামাযে শরীক হয়। তবে কছরের নিয়ত করে উক্ত দু’রাকাআত শেষে ইমামের সাথে সালাম ফেরানো জায়েয হবে কি? উত্তরঃ কোন মুসাফির যদি স্থানীয় ইমামের পিছনে নামাযে দন্ডায়মান হয়, তবে কছরের নিয়ত করা জায়েয হবে না। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,  مَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوا وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوا   “ইমামের সাথে তোমরা যেটুকু ছালাত পাবে তা আদায় করবে। আর যা ছুটে যাবে তা সালামের পর পূর্ণ করবে।”  অতএব মুসাফির যদি স্থানীয় ইমামের সাথে শেষ দু’রাকাআতে শামিল হয়, তবে ইমামের সালামের পর অবশিষ্ট দু’রাকআত পূর্ণ করা ওয়াজিব। (আল্লাহ্‌ অধিক জ্ঞান রাখেন) প্রশ্নঃ (২২৫) ছালাতে শামিল হওয়ার জন্য দ্রুত পায়ে হেঁটে আসার বিধান কি? উত্তরঃ ছালাতে শামিল হওয়ার জন্য দ্রুত পায়ে হেঁটে আসা নিষিদ্ধ। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَلَا تَأْتُوهَا تَسْعَوْنَ وَأْتُوهَا تَمْشُونَ عَلَيْكُمُ السَّكِينَةُ فَمَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوا وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوا “যখন নামাযের ইক্বামত প্রদান করা হয় তখন তাড়াহুড়া করে নামাযের দিকে আসবে না। বরং হেঁটে হেঁটে ধীর স্থির এবং শান্তভাবে আগমন করবে। অতঃপর নামাযের যতটুকু অংশ পাবে আদায় করবে। আর যা ছুটে যাবে তা (পরে) পূর্ণ করে নিবে।”  অবশ্য কোন কোন বিদ্বান বলেন, ইমাম যদি রুকূতে থাকে তখন রুকূ পাওয়ার জন্য সামান্য জোরে হেঁটে যাওয়াতে কোন দোষ নেই। কিন্তু লোকেরা খুব জোরে হাঁটে বা দৌড় শুরু করে। এটাই নিষিদ্ধ। কিন্তু হাদীছের প্রতি আমল করে ধীর-স্থির ও প্রশান্তির সাথে হেঁটে যাওয়াই উত্তম- যদিও এক বা ততোধিক রাকাআত ছুটে যায়। প্রশ্নঃ (২২৬) জামাআত চলাবস্থায় ইমামের সাথে রাকাআত ধরার জন্য দ্রুত চলার বিধান কি? উত্তরঃ মসজিদে প্রবেশ করে আপনি ইমামকে রুকূ অবস্থায় পেলে তাড়াহুড়া করে দ্রুত হেঁটে বা দৌড়িয়ে নামাযে শামিল হবেন না। কাতারে মিলিত না হয়ে একাকীও নামাযে দাঁড়াবেন না। কেননা জনৈক ছাহাবী আবু বাকরা (রাঃ) একাকী নামাযে দাঁড়ানোতে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বলেছিলেন,  زَادَكَ اللَّهُ حِرْصًا وَلَا تَعُدْ  “আল্লাহ্‌ তোমার আগ্রহ বৃদ্ধি করে দিন। তুমি এরূপ আর কখনো করিও না।” প্রশ্নঃ (২২৭) মুছল্লীদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে এমনভাবে উচ্চৈঃস্বরে কুরআন তেলাওয়াত করার বিধান কি? উত্তরঃ মসজিদে বসে উচ্চৈঃস্বরে কুরআন তেলাওয়াত করলে যদি মুছল্লীদের বা শিক্ষার্থীদের বা অন্য কুরআন পাঠকের মনোযোগে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়, তবে তা হারাম। কেননা এব্যাপারে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আল বায়াযী (ফারওয়া বিন আমর) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদে এসে দেখেন লোকেরা নামায আদায় করছে কিন্তু কুরআন পাঠের কন্ঠ উঁচু শোনা যাচ্ছিল। তখন তিনি বললেন, ]إِنَّ الْمُصَلِّيَ يُنَاجِي رَبَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فَلْيَنْظُرْ أَحَدُكُمْ بِمَا يُنَاجِي رَبَّهُ وَلَا يَجْهَرْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ بِالْقِرَاءَةِ[ “একজন মুছল্লী নামাযে আপন পালনকর্তার সাথে গোপনে কথা বলে। অতএব সে যেন লক্ষ্য করে কি বলছে তার পালনকর্তাকে। আর পরস্পরে উঁচু স্বরে কুরআন পাঠ করবে না।”   অনুরূপভাবে হাদীছটি আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে আবু দাঊদও বর্ণনা করেন। প্রশ্নঃ (২২৮) অনেক মানুষ ইক্বামতের পূর্বে মসজিদে প্রবেশ করে নামায শুরু হওয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে। তাহিয়্যাতুল মসজিদ নামায আদায় করে না। এরূপ করার বিধান কি? উত্তরঃ নামায শুরু হওয়ার সময় যদি অতি অল্প থাকে তবে দাঁড়িয়ে থেকে অপেক্ষা করতে কোন দোষ নেই। কিন্তু ইমাম কখন আসবেন তা যদি জানা না থাকে তবে উত্তম হচ্ছে তাহিয়্যাতুল মসজিদ নামায শুরু করে দেয়া। তারপর ইমাম যদি এসে পড়েন আর আপনি প্রথম রাকাআতে থাকেন তবে তা ছেড়ে দিয়ে জামাআতে শামিল হবেন। আর দ্বিতীয় রাকাআতে থাকলে হালকাভাবে তা পূর্ণ করে নিবেন। প্রশ্নঃ (২২৯) মসজিদুল হারামে দেখা যায় অনেক পুরুষ ফরয নামাযের জামাআতে নারীদের পিছনেই কাতার বন্দী হয়। তাদের নামায কি বিশুদ্ধ হবে? তাদের জন্য আপনি কিছু নসীহত করবেন কি? উত্তরঃ নারীদের কাতারের পিছনে পুরুষদের কাতার বেঁধে নামায আদায় করার ব্যাপারে বিদ্বানগণ বলেন এতে কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু তা সুন্নাতের বিপরীত। কেননা সুন্নাত হচ্ছে, নারীরা পুরুষদের পিছনে দাঁড়াবে। তবে মসজিদুল হারামে বর্তমান সময়ে প্রচন্ড ভীড় দেখা যায়; ফলে নারীরা কাতারবন্দী হওয়ার পর পুরুষেরা মসজিদে এসে যেখানে জায়গা পায় সেখানেই কাতারবন্দী হয়। তখন অনেক সময় নারীদের কাতারের পিছনে বাধ্য হয়ে তাদেরকে দাঁড়াতে হয়। কিন্তু প্রতিটি মুছল্লীর জন্য আবশ্যক হচ্ছে সাধ্যানুযায়ী নারীদের পিছনে কাতারবন্দী হওয়া থেকে বিরত থাকা। কেননা এতে পুরুষদের জন্য ফিতনার সম্ভাবনা রয়েছে। অতএব পুরুষ নারীর পিছনে নামায আদায় করা থেকে সতর্ক থাকবে। যদিও ফিক্বাহ্‌বিদদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ কাজ জায়েয। আর নারীদেরও উচিত দেখে শুনে পুরুষদের দাঁড়ানোর স্থান থেকে দূরে অন্য কোথাও দাঁড়ানো। প্রশ্নঃ (২৩০) কাতার থেকে শিশু-কিশোরদেরকে সরিয়ে দেয়া জায়েয কি? উত্তরঃ কিশোর বা বালক যদি নামাযের কাতারে দন্ডায়মান হয়, তবে তাকে কাতার থেকে সরিয়ে দেয়া জায়েয হবে না। ইবনু ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,  لَا يُقِيمُ الرَّجُلُ الرَّجُلَ مِنْ مَقْعَدِهِ ثُمَّ يَجْلِسُ فِيهِ   “কোন লোক যেন অন্য লোককে তার বসার স্থান থেকে উঠিয়ে দিয়ে সেখানে না বসে।”  তাছাড়া এতে বালকের অধিকার হরণ করা হয়, তার অন্তরে দুঃখ দেয়া হয়, হতে পারে সে নামাযকে ঘৃণা করবে বা তার অন্তরে হিংসা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হবে। শিশুদেরকে যদি কাতারের শেষে দাঁড় করানো হয়, তবে তারা তো একস্থানে সমবেত হয়ে হাসাহাসি ও খেলাধুলায় মত্ত হয়ে পড়বে। ফলে মুছল্লীদের নামাযের আরো ক্ষতি হবে। কিন্তু দু’জন বা ততোধিক যদি একই স্থানে দন্ডায়মান হয় তবে তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য দু’জনের মাঝে বড়দের দাঁড়ানোতে কোন অসুবিধা নেই। প্রশ্নঃ (২৩১) দু’স্তম্ভের মধ্যবর্তী স্থানে নামায আদায় করার বিধান কি? উত্তরঃ কাতারে জায়গা থাকলে দু’স্তম্ভের মধ্যবর্তী স্থানে নামায আদায় করা জায়েয নয়। কেননা এ কারণে কাতার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিন্তু যদি স্থানের সংকুলান না হয় জায়গা না পাওয়া যায়, তবে দু’স্তম্ভের মধ্যবর্তী স্থানে নামায আদায় করতে কোন অসুবিধা নেই। প্রশ্নঃ (২৩২) নারীদের কাতারের বিধান কি? তাদের জন্য উত্তম কাতার শেষেরটি এবং অনুত্তোম কাতার প্রথমটি একথাটি কি সর্বাবস্থায় নাকি একথা নারী-পুরুষের মধ্যবর্তী স্থানে কোন আড়াল না থাকলে? উত্তরঃ নারী ও পুরুষ যদি একই স্থানে জামাআতবদ্ধ হয়ে নামাযে দাঁড়ায় তবে সেক্ষেত্রে নারীদের জন্য প্রথম কাতারের চেয়ে শেষের কাতার উত্তম। যেমনটি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,  خَيْرُ صُفُوفِ النِّسَاءِ آخِرُهَا وَشَرُّهَا أَوَّلُهَا   “নারীদের জন্য উত্তম কাতার হচ্ছে শেষেরগুলো আর অনুত্তোম কাতার হচ্ছে প্রথমগুলো।”  এটা একারণেই যে, কাতার যত পিছন দিকে হবে ততই তা পুরুষদের থেকে দূরে হবে। আর যত আগের দিকে হবে ততই পুরুষদের নিকটবর্তী হবে। তাই তাদের কাতার পুরুষদের থেকে যতদূরে হবে ততই কল্যাণ জনক হবে। অবশ্য এটা একই মসজিদের ভিতরের কথা। আর নারীদের নামাযের জন্য যদি স্বতন্ত্র স্থান নির্ধারণ করা থাকে- যেমনটি বর্তমানে অধিকাংশ মসজিদে দেখা যায়- তবে সেক্ষেত্রে পুরুষদের মত তাদের প্রথম কাতারই উত্তম। প্রশ্নঃ (২৩৩) মসজিদের বাইরে সংশ্লিষ্ট রাস্তায় নামায আদায় করার বিধান কি? উত্তরঃ মসজিদে যদি মুছল্লীদের সংকুলান না হয়, তবে বাইরে মসজিদের সাথে সংশ্লিষ্ট রাস্তায় নামায পড়লে কোন অসুবিধা নেই। তবে ইমামের অনুসরণ করা ইমামের তাকবীর ধ্বনী শোনা আবশ্যক। প্রশ্নঃ (২৩৪) কাতার সোজা করার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য কথা কি? মুছল্লীদের পরস্পর কাঁধের সাথে কাঁধ এবং পায়ের সাথে পা মিলানো কি আবশ্যক? উত্তরঃ কাতার সোজা করার ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ কথা হচ্ছে পায়ের গোড়ালী সমূহ বরাবর করে নেয়া, পায়ের আঙ্গুল সমূহ বরাবর করা আবশ্যক নয়। কেননা শরীরের ভিত্তি থাকে পায়ের গোড়ালীর উপর। আর পায়ের সাইজ অনুযায়ী আঙ্গুলের বিভিন্নতা হয়ে থাকে। কোন পা দীর্ঘ থাকে কোনটা খাট। সুতরাং কাতার বরাবর ও সোজা করা গোড়ালী মিলানো ছাড়া অন্য কোন ভাবে সম্ভব নয়। আর পায়ের গোড়ালী সমূহ পরস্পরে মিলিত করা নিঃসন্দেহে ছাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) থেকে প্রমাণিত রয়েছে। তাঁরা কাতার বন্দী হওয়ার সময় গোড়ালী সমূহ একজন অপরজনের সাথে মিলিত করে দিতেন। অর্থাৎ- প্রকৃতভাবে কাতার সোজা ও বরাবর করার জন্য তাঁদের একজন পার্শ্ববর্তী মুছল্লীর গোড়ালীর সাথে গোড়ালী মিলিত করে দাঁড়াতেন। কিন্তু কাতার বন্দীর ক্ষেত্রে এটাই আসল উদ্দেশ্য নয়; বরং এ কাজ কাতার বরাবর সোজা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করার জন্য করতে হয়। একারণে কাতারে দাঁড়ানোর পর উচিত হচ্ছে প্রত্যেকে পার্শবর্তী মুছল্লীর পায়ের সাথে পা মিলিয়ে নিবে, যাতে নিশ্চিত হতে পারে যে, কাতার সোজা হয়েছে। পূর্ণ নামাযে এভাবে পরস্পরের পাগুলোকে মিলিয়ে রাখা আবশ্যক নয়। অনেকে বাড়াবাড়ি করে পার্শ্ববর্তী মুছল্লীর পায়ের সাথে গোড়ালী মিলাতে গিয়ে নিজের দু’পায়ের মাঝে অতিরিক্ত ফাঁক সৃষ্টি করে ফেলে। এটা যেমন সুন্নাত বিরোধী হয় অনুরূপভাবে পরস্পরের কাঁধ থেকেও বহু দূরে চলে যায়। উদ্দেশ্য হচ্ছে গোড়ালী ও কাঁধ সমূহ বরাবর থাকা। প্রশ্নঃ (২৩৫) নামাযে চারটি স্থান ব্যতীত অন্য কোন স্থানে হাত উত্তোলনের কথা কি প্রমাণিত আছে? অনুরূপভাবে জানাযা ও দু’ঈদের ছালাতের তাকবীরের সময় হাত উত্তোলন করার কি বিধান? (নামাযে রফউল ইয়াদাইন বা হাত উত্তোলনের বিধান কি?) উত্তরঃ নামাযে যে চার স্থানে রফউল ইয়াদাইন বা হাত উত্তোলন করা সুন্নাত তা জেনে নেয়া আবশ্যক। ১) নামাযের প্রারম্ভে তাকবীর তাহরিমা বলার সময় ২) রুকূতে যাওয়ার সময় ৩) রুকূ থেকে উঠার সময় ৪) প্রথম তাশাহুদ শেষ করে তৃতীয় রাকাআতে উঠার সময়। এচারটি স্থানের বিষয়ে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বিশুদ্ধভাবে বর্ণনা এসেছে। ইবনু ওমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ وَإِذَا كَبَّرَ لِلرُّكُوعِ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ رَفَعَهُمَا كَذَلِكَ أَيْضًا وَقَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ وَكَانَ لَا يَفْعَلُ ذَلِكَ فِي السُّجُودِ “রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’কাঁধ বরাবর হাত দু’টিকে উত্তোলন (রফউল ইয়াদাইন) করতেন্ত যখন নামায শুরু করতেন, যখন রুকূর জন্য তাকবীর দিতেন এবং যখন রুকূ থেকে মাথা উঠাতেন তখনও এরূপ হাত দু’টিকে উঠাতেন এবং বলতেন ‘সামিয়াল্লাহুলিমান হামীদাহ্‌ রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদু।’ তিনি বলেন, সিজদার সময় তিনি এরূপ করতেন না।”  ইবনু ওমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর ক্রিয়াকলাপ সমূহ অতি সুক্ষ্ণভাবে অনুসন্ধান করতেন ও তার অনুসরণ করতেন। তিনি তাঁর নামাযের নিয়ম-কানুনগুলো অনুসন্ধান করে যা দেখেছেন তা ছিল- তাকবীরে তাহরিমা, রুকূ করা, রুকূ থেকে উঠা এবং প্রথম তাশাহুদ থেকে উঠার সময় হাত উত্তোলন করা। আর তিনি বলেছেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরূপ হাত উঠানো সিজদার সময় করতেন না। এরকম বলা ঠিক হবে না যে, হয়তো ইবনু ওমার সিজদার সময় হাত উঠানোর অবস্থাগুলো দেখেন নি বা সে সময় সতর্ক ছিলেন না। কেননা তিনি কিছু কিছু স্থানের বর্ণনা দেয়ার পর বলেছেন এরূপ তিনি সিজদর সময় করতেন না। এদ্বারা বুঝা যায় তিনি নিশ্চিত হয়েই এ কথা বলেছেন সন্দেহ বা সংশয়ের উপর ভিত্তি করে নয়। আর জানাযা ও দু’ঈদের প্রত্যেক তাকবীরে রফউল ইয়াদাইন বা হাত উত্তোলন করা শরীয়ত সম্মত। প্রশ্নঃ (২৩৬) ইমামকে রুকূ অবস্থায় পেলে কয়টি তাকবীর দিতে হবে? উত্তরঃ ইমামের রুকূ অবস্থায় কোন মানুষ যদি নামাযে শামিল হয় তবে তাকবীরে তাহরিমা দিয়ে সরাসরি রুকূ করবে। এঅবস্থায় রুকূর জন্য তাকবীর প্রদান করা সুন্নাত- ওয়াজিব নয়। তবে রুকূর জন্য আলাদা তাকবীর প্রদান করা উত্তম। তাকবীর না দিলেও কোন অসুবিধা নেই। এখানে কয়েকটি অবস্থা লক্ষণীয়ঃ প্রথম অবস্থাঃ ইমাম রুকূ থেকে উঠার আগে মুক্তাদী রুকূ করেছে এব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে। তাহলেই এটা রাক্‌আত বলে গণ্য হবে। এ অবস্থায় সূরা ফাতিহা পাঠ করা রহিত হয়ে যাবে। দ্বিতীয় অবস্থাঃ রুকূতে যাওয়ার আগেই ইমাম রুকূ হতে উঠে গেছেন এব্যাপারে নিশ্চিত হবে। এঅবস্থায় তার ঐ রাকাআত ছুটে গেল। তাকে তা সালামের পর আদায় করতে হবে। তৃতীয় অবস্থাঃ মুক্তাদি ইমামকে রুকূ অবস্থায় পেয়েছে কি না বা সে রুকূতে যাওয়ার আগেই ইমাম উঠে গিয়েছেন কি না এব্যাপারে দ্বিধা-দ্বন্দ বা সন্দেহে থাকবে। তার ধারণা যদি প্রবল হয় যে সে রুকূ অবস্থাতেই ইমামকে পেয়েছে, তবে সে রাকাআত পেয়ে গেল। আর ধারণা যদি প্রবল হয় যে, ইমামকে রুকূ অবস্থায় পায়নি, তবে তার রাকাআত ছুটে গেল। এ অবস্থায় যদি তার নামাযের কোন কিছু ছুটে যায় তবে সালামের পর সে সাহু সিজদা করবে। আর যদি কোন কিছু না ছুটে থাকে- অর্থাৎ সন্দেহযুক্ত রাকাআতটি প্রথম রাকাআত হয়, কিন্তু তার প্রবল ধারণা যে, সে রুকূ পেয়েছে। এঅবস্থায় সাহু সিজদা রহিত হয়ে যাবে। কেননা তার নামায ইমামের নামাযের সাথে সংশ্লিষ্ট। তার নামাযের কোন অংশ যদি ছুটে না যায় তবে ইমাম তার সাহু সিজদার ভার গ্রহণ করবে। সন্দেহের আরেকটি অবস্থা রয়েছে। তা হচ্ছে, রুকূ পেল কি না সে ব্যাপারে মুক্তাদী সন্দেহে থাকবে- কোনো দিক তার কাছে প্রাধান্য পাবে না। সে অবস্থায় নিশ্চিত বিষয়ের উপর ভিত্তি করবে। অর্থাৎ- রুকূ পায়নি। অতঃপর শেষে এই ছুটে যাওয়া রাকাআত আদায় করে সালাম ফেরানোর পূর্বে সাহু সিজদা করবে। এখানে আরেকটি মাসআলা উল্লেখ করা জরূরী মনে করছি। ইমাম রুকূতে গেলে অনেক লোক (যারা পরে নামাযে শামিল হচ্ছে) জোরে জোরে গলা খোকরানী দেয়, কেউ কেউ বলে (ইন্নাল্লাহা মা‘আছ্‌ ছাবেরীন), কখনো জোরে জোরে পা ফেলে। যাতে করে ইমাম একটু দেরী করে রুকূ থেকে উঠেন। এ সমস্ত কাজ সুন্নাতের খেলাফ। এতে ইমাম এবং মুক্তাদীদের নামাযে একাগ্রতা নষ্ট হয়। আবার ইমাম রুকূ অবস্থায় থাকলে অনেকে দ্রুত বরং খুব জোরে দৌড়িয়ে নামাযে আসে। অথচ বিষয়টি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَلَا تَأْتُوهَا تَسْعَوْنَ وَأْتُوهَا تَمْشُونَ عَلَيْكُمُ السَّكِينَةُ فَمَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوا وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوا “যখন নামাযের ইকামত প্রদান করা হয় তখন তাড়াহুড়া করে নামাযের দিকে আসবে না। বরং হেঁটে হেঁটে ধীর-স্তীরতা এবং প্রশান্তির সাথে আগমণ করবে। অতঃপর নামাযের যতটুকু অংশ পাবে আদায় করবে। আর যা ছুটে যাবে তা (পরে) পূর্ণ করে নিবে।” প্রশ্নঃ (২৩৭) ডান হাতকে বাম হাতের উপর রেখে তা কি বুকের উপর বা অন্তরের (Heart) উপর রাখবে নাকি নাভীর নীচে রাখবে? হাত বাঁধার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মাঝে কোন পার্থক্য আছে কি? উত্তরঃ নামাযে ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখা সুন্নাত। সাহাল বিন সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, كَانَ النَّاسُ يُؤْمَرُونَ أَنْ يَضَعَ الرَّجُلُ الْيَدَ الْيُمْنَى عَلَى ذِرَاعِهِ الْيُسْرَى فِي الصَّلَاةِ          লোকেরা নির্দেশিত হত যে, নামাযে ডান হাতকে বাম হাতের বাহুর উপর স্থাপন করবে।”  কিন্তু হাত দু’টিকে কোন স্থানে রাখবে? বিশুদ্ধতম মত হচ্ছে, হাত দু’টি বুকের উপর রাখবে। ওয়ায়েল বিন হুজ্‌র্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ]كَانَ يَضَعُ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى يَدِهِ الْيُسْرَى عَلَى صَدْرِهِ[ “নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ডান হাতকে বাম হাতের উপর রেখে বুকের উপর স্থাপন করতেন।”  হাদীছটিতে সামান্য দুর্বলতা থাকলেও এক্ষেত্রে বর্ণিত অন্যান্য হাদীছের তুলনায় এটিই সর্বাধিক শক্তিশালী। আর বুকের বাম সাইডে অন্তরের উপর হাত বাঁধা একটি ভিত্তিহীন বিদআত। নাভীর নীচে হাত বাঁধার ব্যাপারে আলী (রাঃ) থেকে একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। কিন্তু তা দুর্বল। ওয়ায়েল বিন হুজুর বর্ণিত হাদীছটি অধিক শক্তিশালী। নামাযের নিয়ম-পদ্ধতিতে নারী-পুরুষের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। সমস্ত বিধানে নারী-পুরুষ বরাবর। দলীল ছাড়া উভয়ের বিধি-নিষেধের ক্ষেত্রে কোন পার্থক্য করা বৈধ নয়। এই সুন্নাতের ক্ষেত্রে নারী বুকের উপর হাত বাঁধবে বা তার বিপরীত কোন কাজ ছহীহ্‌ সুন্নাত বা হাদীছ থেকে আমার জানা নেই। প্রশ্নঃ (২৩৮) স্বশব্দে ‘বিসমিল্লাহ্‌…” পাঠ করার বিধান কি? উত্তরঃ সঠিক কথা হচ্ছে, স্বশব্দে ‘বিসমিল্লাহ্‌..’ পাঠ করা উচিত নয়। সুন্নাত হচ্ছে নীরবে পাঠ করা। কেননা ‘বিসমিল্লাহ্‌..’ সূরা ফাতিহার অংশ নয়। কিন্তু কখনো যদি স্বশব্দে তা পাঠ করে, তাতে কোন অসুবিধা নেই। বিদ্বানদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, বরং কখনো স্বশব্দে ‘বিসমিল্লাহ্‌..’ পাঠ করা উচিত। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে, “তিনি কখনো স্বশব্দে ‘বিসমিল্লাহ্‌..’ পাঠ করতেন।” কিন্তু বিশুদ্ধভাবে যা প্রমাণিত হয়েছে তা হচ্ছে, “তিনি উহা স্বশব্দে পাঠ করতেন না।” আর এটাই উত্তম। তবে যদি কখনো বিসমিল্লাহ্‌ স্বশব্দে পাঠ করে এতে কোন অসুবিধা হবে না। প্রশ্নঃ (২৩৯) দু’আ ইসে-ফ্‌তাহ্‌ বা নামায শুরুর দু’আ (ছানা) পাঠ করার হুকুম কি? উত্তরঃ নামায শুরুর ছানা ফরয-সুন্নাত সকল ছালাতে পাঠ করা সুন্নাত- ওয়াজিব নয়। উচিত হচ্ছে মুছল্লী নামায শুরুর দু’আ সমূহ থেকে একবার এটা একবার ওটা পাঠ করবে। যাতে করে সকল সুন্নাতের উপর আমল করা সম্ভব হয়। একটি দু’আ ছাড়া আর কিছু জানা না থাকলেও কোন অসুবিধা নেই। বাহ্যিকভাবে বুঝা যায় রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একই ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের দু’আ পাঠ করেছেন। যেমন, নামাযের শুরুতে, তাশাহুদে, নামাযের পরের যিকির। এধরণের বিভিন্নতার উদ্দেশ্য হচ্ছে উম্মতের জন্য সহজ করা। এর দু’টি উপকারিতা আছেঃ প্রথম উপকারিতাঃ মানুষ সর্বদা এক ধরণের দু’আ পাঠ করবে না। কেননা একটা বিষয় সর্বদা করতে থাকলে সেটা সাধারণ অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। ফলে অনেক সময় উদাসীনতা বা অলসতা থাকলেও অভ্যাস বশতঃ তা হয়ে যায়। তখন অন্তরের উপস্থিতি সেখানে দুর্বল হয়ে যায়। কিন্তু দু’আগুলো থেকে যদি কখনো এটা কখনো ওটা পাঠ করে তবে অন্তর উপস্থিত থাকে। যা বলে তা বুঝার দরকার পড়ে। দ্বিতীয় উপকারিতাঃ উম্মতের জন্য সহজ করা। যার জন্য যেটা সহজ হবে সেটাই পাঠ করবে। সময় ও প্রয়োজন মোতাবেক কখনো এটা কখনো ওটা পাঠ করবে। প্রশ্নঃ (২৪০) ‘আমীন’ বলা কি সুন্নাত? উত্তরঃ হ্যাঁ। আমীন বলা সুন্নাতে মুআক্কাদাহ্‌। বিশেষ করে ইমাম যখন আমীন বলেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ إِذَا أَمَّنَ الْإِمَامُ فَأَمِّنُوا فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ تَأْمِينُهُ تَأْمِينَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ “ইমাম যখন আমীন বলেন তোমরাও আমীন বলবে। কেননা যার আমীন বলা ফেরেস্তাদের আমীন বলার সাথে মিলে যাবে তার পূর্বের গুনাহ্‌ ক্ষমা করা হবে।” ইমাম ও মুক্তাদীর আমীন বলা একই সময়ে হতে হবে। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,  “ইমাম যখন আমীন বলেন তোমরাও আমীন বলবে।” প্রশ্নঃ (২৪১) (ইয়্যাকানা’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন) পাঠ করার সময় ‘আমরা আল্লাহ্‌র কাছে সাহায্য চাই’। এরূপ কথা বলার বিধান কি? উত্তরঃ মুক্তাদীর জন্য আবশ্যক হচ্ছে ইমামের পড়া চুপ করে শোনা। ইমাম যখন সূরা ফাতিহা শেষ করে আমীন বলবেন সেও আমীন বলবে। এই আমীন বলা ইমামের সূরা ফাতিহা পাঠ করার সময় কোন দু’আ ইত্যাদি বলা থেকে যথেষ্ট হবে। প্রশ্নঃ (২৪২) নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার বিধান কি? উত্তরঃ নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার ব্যাপারে বিদ্বানদের থেকে নিম্নরূপ মত পাওয়া যায়। প্রথম মতঃ নামাযে কখনই সূরা ফাতিহা পাঠ করা ওয়াজিব নয়। স্বরব, নীরব কোন নামাযেই ইমাম, মুক্তাদী, একাকী- কারো জন্য পাঠ করা ওয়াজিব নয়। ওয়াজিব হচ্ছে কুরআন থেকে সহজ যে কোন কিছু পাঠ করা। তাদের দলীল হচ্ছেঃ আল্লাহ্‌ বলেন,  فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْ الْقُرْآنِ  “অতএব তোমরা কুরআন থেকে সহজ কোন কিছু পাঠ কর।” (সূরা মুযাম্মিল- ২০)  তাছাড়া নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামায শেখাতে গিয়ে গ্রাম্য লোকটিকে বলেছিলেন,  “কুরআন থেকে তোমার জন্য সহজ হয় এমন কিছু পাঠ করবে।” দ্বিতীয় মতঃ স্বরব, নীরব সকল নামাযে ইমাম, মুক্তাদী, একাকী- সবার জন্য সূরা ফাতিহা পাঠ করা রুকন বা অবশ্য কর্তব্য। অনুরূপভাবে মাসবূক এবং নামাযের প্রথম থেকে জামাআতে শামিল ব্যক্তির জন্যও রুকন। তৃতীয় মতঃ ইমাম ও একাকী ব্যক্তির জন্য সূরা ফাতিহা পাঠ করা রুকন। কিন্তু স্বরব বা নীরব কোন নামাযেই মুক্তাদীর জন্য ওয়াজিব নয়। চতুর্থ মতঃ ইমাম ও একাকী ব্যক্তির জন্য স্বরব বা নীরব নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করা রুকন। কিন্তু মুক্তাদীর জন্য নীরবের নামাযে রুকন স্বরব নামাযে নয়। আমার মতে প্রাধান্যযোগ্য মতটি হচ্ছেঃ স্বরব, নীরব সকল নামাযে ইমাম, মুক্তাদী, একাকী- সবার জন্য সূরা ফাতিহা পাঠ করা রুকন বা ফরয। তবে মাসবূক যদি ইমামের রুকূর সময় নামাযে শামিল হয়, তবে সূরা ফাতিহা পাঠ করা রহিত হয়ে যাবে। একথার দলীল হচ্ছে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাধারণ বাণীঃ তিনি বলেন, لاصَلاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ “যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পাঠ করবে না তার নামায হবে না।” তিনি আরো বলেন, مَنْ صَلَّى صَلَاةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَهِيَ خِدَاجٌ ثَلَاثًا غَيْرُ تَمَامٍ “যে ব্যক্তি ছালাত আদায় করবে অথচ তাতে উম্মুল কুরআন সূরা ফাতিহা পাঠ করবে না তার ছালাত অসম্পূর্ণ- রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) কথাটি তিনবার বলেছেন।”  অর্থাৎ- তার নামায বাতিল। উবাদা বিন ছামেত বর্ণিত হাদীছে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা ফজরের নামায শেষ করে ছাহাবীদের লক্ষ্য করে বললেনঃ لَعَلَّكُمْ تَقْرَءُونَ خَلْفَ إِمَامِكُمْ قُلْنَا نَعَمْ هَذًّا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ لَا تَفْعَلُوا إِلَّا بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَإِنَّهُ لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِهَا “তোমরা কি ইমামের পিছনে কোন কিছু পাঠ কর? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! দ্রুত পাঠ করে থাকি। তিনি বললেন, তোমরা এরূপ করো না। তবে উম্মুল কুরআন সূরা ফাতিহা পাঠ করবে। কেননা যে ব্যক্তি উহা পাঠ করবে না তার নামায হবে না।”  স্বশব্দের নামাযের ক্ষেত্রে এটি সুস্পষ্ট দলীল যে, সূরা ফাতিহা ছাড়া নামায হবে না। কিন্তু মাসবূকের জন্য সূরা ফাতিহা পাঠ করা রহিত হয়ে যাবে। একথার দলীল হচ্ছেঃ আবু বাকরা (রাঃ) এর হাদীছ। তিনি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে রুকূ অবস্থায় পেলেন। তখন দ্রুতগতিতে কাতারে পৌঁছার আগেই তিনি রুকূ করলেন। এরপর ঐ অবস্থায় হেঁটে হেঁটে কাতারে প্রবেশ করলেন। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামায শেষ করে জিজ্ঞেস করলেন, কে এরূপ করেছে? আবু বাকরা বললেন, আমি হে আল্লাহ্‌র রাসূল! নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ  زَادَكَ اللَّهُ حِرْصًا وَلَا تَعُدْ  “আল্লাহ্‌ তোমার আগ্রহ আরো বাড়িয়ে দিন। তবে এরূপ আর কখনো করিও না।”  এ হাদীছে দেখা যায় আবু বাকরা যে রাকাআতটি ছুটে যাওয়ার ভয়ে তাড়াহুড়া করলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ঐ রাকাআতটি পুনরায় আদায় করার আদেশ করলেন না। এটা ওয়াজিব হলে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সে আদেশ করতেন। যেমনটি আদেশ করেছিলেন ঐ ব্যক্তিকে যে কিনা তাড়াহুড়া করে নামায আদায় করেছিল, আর নামাযের রুকন ওয়াজিব যথাযথভাবে আদায় করছিল না। তখন নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে নামায ফিরিয়ে পড়ার আদেশ করেছিলেন। মাসবূকের সূরা ফাতিহা পাঠ রহিত হওয়ার যুক্তিগত দলীল হচ্ছেঃ এই মাসবূক তো কিরআত পাঠ করার জন্য দাঁড়ানোর সুযোগই পায়নি। অতএব সুযোগ না পেলে তার আবশ্যকতাও রহিত হয়ে যাবে। যেমন হাত কাটা ব্যক্তি ওযু করার সময় তার হাতের কাটা অংশের পরিবর্তে বাহু ধৌত করবে না। বরং ধৌত করার স্থান উপস্থিত না থাকার কারণে এ ফরয রহিত হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি ইমামকে রুকূ অবস্থায় পেল তার জন্য সূরা ফাতিহা পাঠ করা রহিত হয়ে যাবে। কেননা ক্বিরআত পাঠ করার জন্য দন্ডায়মান হওয়ার সুযোগই সে পায়নি। আর ইমামের অনুসরণ করতে গিয়ে এখানে দন্ডায়মান হওয়াও রহিত হয়ে যাবে। আমার দৃষ্টিতে এমতটিই সর্বাধিক বিশুদ্ধ। পূর্বোল্লেখিত উবাদা বিন ছামেত (রাঃ) এর হাদীছটি- (ফজরের নামাযে ক্বিরআত পাঠ সংক্রান্ত হাদীছটি) যদি না থাকতো, তবে স্বরবে কিরাআত বিশিষ্ট নামাযে মুক্তাদীর সূরা ফাতিহা পাঠ করা আবশ্যক হতো না। আর সেটাই হতো প্রাধান্যযোগ্য মত। কেননা নীরবে শ্রবণকারী পাঠকের মতই ছাওয়াবের অধিকারী হয়। এজন্যই আল্লাহ্‌ তা‘আলা মূসা (আঃ) কে বলেনঃ  قَدْ أُجِيبَتْ دَعْوَتُكُمَا  “তোমাদের উভয়ের দু’আ কবূল করা হয়েছে।” (সূরা ইউনূসঃ ৮৯)  অথচ সে সময় দু’আ শুধু মাত্র মূসা (আঃ) এককভাবে করেছিলেন। আল্লাহ্‌ বলেনঃ وَقَالَ مُوسَى رَبَّنَا إِنَّكَ آتَيْتَ فِرْعَوْنَ وَمَلَأَهُ زِينَةً وَأَمْوَالًا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا رَبَّنَا لِيُضِلُّوا عَنْ سَبِيلِكَ رَبَّنَا اطْمِسْ عَلَى أَمْوَالِهِمْ وَاشْدُدْ عَلَى قُلُوبِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُوا حَتَّى يَرَوْا الْعَذَابَ الْأَلِيمَ “আর মূসা বললেন, হে আমাদের পালনকর্তা! নিশ্চয় আপনি ফেরাউন ও তার সভাসদদের প্রদান করেছো দুনিয়ার জীবনের চাকচিক্য, সৌন্দর্য ও সম্পদ। হে আমাদের পালনকর্তা! ওরা আপনার পথ থেকে বিভ্রান্ত করে। হে আমাদের পালনকর্তা! তাদের সম্পদ নিশ্চিহ্ন করে দিন, তাদের হৃদয় কঠোর করে দিন, যাতে তারা ঈমান না আনে। যাতে করে তারা যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি প্রত্যক্ষ করতে পারে।” (সূরা ইউনূসঃ ৮৮)  এখানে কি আল্লাহ্‌ হারূনের দু’আর কথা উল্লেখ করলেন? উত্তরঃ না। তারপরও আল্লাহ্‌ বললেনঃ “তোমাদের উভয়ের দু’আ কবূল করা হয়েছে।” বিদ্বানগণ বলেনঃ এক ব্যক্তি দু’আ করা সত্বেও দ্বিবচন শব্দ এখানে উল্লেখ করার কারণ হচ্ছে, মূসা (আঃ) দু’আ করছিলেন আর হারূন (আঃ) আমীন বলছিলেন। আর আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদীছ:  (من كان له إمام، فقراءة الإمام له قراءة)  “যার ইমাম রয়েছে, তার ইমামের ক্বিরাতই তার ক্বিরাত (হিসেবে যথেষ্ট)।” কিন্তু হাদীছের সনদ যঈফ (দুর্বল)।   কেননা তা মুরসাল সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। যেমন হাফেয ইবনু কাছীর তাঁর তাফসীর গ্রনে’র ভূমিকায় বলেছেন। আরো কয়েকটি সূত্রে হাদীছটি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু কোনটিই ছহীহ্‌ নয়। তারপরও হাদীছটি দ্বারা যারা দলীল নিয়ে থাকে তারা সাধারণভাবে বলেন না যে, কোন অবস্থাতেই সূরা ফাতিহা পাঠ করতে হবে না। বরং তাদের মধ্যে অনেকে বলেনঃ নীরবের নামাযে মুক্তাদীকে অবশ্যই সূরা ফাতিহা পড়তে হবে। যদি প্রশ্ন করা হয়ঃ ইমাম যদি না থামেন (অর্থাৎ- ফাতিহা শেষ করার পর মুক্তাদীদের ফাতিহা পাঠ করার সুযোগ দেয়ার জন্য কিছু সময় নিরব না থাকেন।) তবে মুক্তাদী কখন সূরা ফাতিহা পাঠ করবে?  উত্তর হচ্ছেঃ ইমামের পড়ার সময়ই মুক্তাদী পড়বে। কেননা ছাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর পড়ার সাথে সাথেই পড়তেন। তখন তিনি তাদেরকে বলেনঃ (لَا تَفْعَلُوا إِلَّا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَإِنَّهُ لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِهَا) “তোমরা উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) ছাড়া অন্য কিছু পাঠ করবে না। কেননা যে ব্যক্তি তা পাঠ করবে না তার নামায হবে না।” প্রশ্নঃ (২৪৩) মুক্তাদী কখন সূরা ফাতিহা পাঠ করবে? ইমামের ফাতিহা পাঠ করার সময়? নাকি ইমাম সূরা ফাতিহা শেষ করে অন্য সূরা পাঠ শুরু করলে? উত্তরঃ উত্তম হচ্ছে ইমামের ফাতিহা পাঠ শেষ হওয়ার পর মুক্তাদী ফাতিহা পাঠ করবে। কেননা ফরয ক্বিরআত পাঠ করার সময় নীরব থাকা রুকন। ইমামের পড়ার সময় যদি মুক্তাদীও পাঠ করে তবে রুকন আদায় করার সময় নীরব থাকা হল না। আর ফাতিহা পাঠ করার পর যখন ইমাম অন্য ক্বিরআত শুরু করবে, সে সময় তা শোনার জন্য নীরব থাকা মুস্তাহাব। অতএব উত্তম হল, ফাতিহা পাঠ করার সময় নীরব থাকবে। নামাযের সুন্নাত ক্বিরআত পাঠের সময় নীরব থাকার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে অন্যতম রুকন সূরা ফাতিহা পাঠ করার সময় নীরব থেকে তা শ্রবণ করা। তাছাড়া ইমামের ‘ওয়ালায্‌ যওয়াল্লীন’ বলার সময় মুক্তাদীও (‘ওয়ালায্‌ যওয়াল্লীন’) পাঠ করলে তাঁর সাথে ‘আমীন’ বলা সম্ভব হবে না। প্রশ্নঃ (২৪৪) নামায বা কুরআন তেলাওয়াতের সময় কিভাবে অন্তর নরম করা যায়? উত্তরঃ বিনয়-নম্রতা নামাযের অন্তঃসার ও আসল প্রাণ। এর অর্থ হচ্ছে, অন্তরের উপস্থিতি। ডানে-বামে অন্তরকে নিয়ে ঘুরাফেরা না করা। বিনয়-নম্রতা বিরোধী কোন কিছু যদি মানুষের অন্তরে আসে তবে সে পাঠ করবে ‘আঊযুবিল্লাহি মিনাশ্‌ শায়তানির রাজীম।’ যেমনটি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আদেশ করেছিলেন। সন্দেহ নেই শয়তান মানুষের সমস্ত ইবাদত বিশেষ করে সর্বোত্তম ইবাদত ছালাত বিনষ্ট করার জন্য সর্বাধিক আগ্রহী। নামাযরত ব্যক্তির কাছে শয়তান আগমণ করে বলে, উমুক কথা স্মরণ কর, উমুক কথা স্মরণ কর। তাকে এমন কিছুর খেয়ালে নিয়ে যায় যাতে কোন উপকার নেই। আবার নামায শেষ হলে এসমস্ত খেয়াল শেষ হয়ে যায়। অতএব মানুষের জন্য আবশ্যক হচ্ছে, নামাযের মত গুরুত্বপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ ইবাদত আদায় করার জন্য সবচেয়ে বেশী মনযোগী ও বিনয়ী হওয়া। কেননা সে তো মহান আল্লাহ্‌র সামনে দন্ডায়মান। তাঁর সাথে গোপনে কথা বলছে। মনে করবে সে যেন মহান আল্লাহকে দেখছে বা এতটুকু মনে করবে যে, আল্লাহ্‌ তাকে দেখছেন। আর যখনই শয়তানের কুমন্ত্রনা ও বদখেয়াল মনের দুয়ারে উঁকি দিতে চাইবে তখনই আল্লাহ্‌র কাছে আশ্রয় চাইবে। পাঠ করবেঃ ‘আঊযুবিল্লাহি মিনাশ্‌ শায়তানির রাজীম।’ প্রশ্নঃ (২৪৫) সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর কিছুক্ষণ চুপ থাকার বিধান কি? উত্তরঃ ফিক্বাহবিদদের মধ্যে থেকে কেউ মত প্রকাশ করেছেন যে, ইমাম সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর অন্য সূরা শুরু করার পূর্বে কিছুক্ষণ নীরব থাকবেন, যাতে করে মুক্তাদী ফাতিহা পাঠ করতে সক্ষম হয়। কিন্তু এব্যাপারে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোন হাদীছ বর্ণিত হয়নি। তবে তা হচ্ছে সামান্য বিরতী নিঃশ্বাস নেয়ার জন্য এবং এই ফাঁকে মুক্তাদি সূরা ফাতিহা পাঠ করা আরম্ভ করে দিবে। এরপর ইমাম অন্য ক্বিরাত শুরু করে দিলেও কোন অসুবিধা নেই। কেননা সূরা ফাতিহা পাঠ করা মুক্তাদীর জন্য রুকন। কিন্তু ইমামের ক্বিরআত শ্রবণ করা তার জন্য মুস্তাহাব। মোটকথা নীরব থাকার মুহূর্তটি অতি সামান্য দীর্ঘ নয়। প্রশ্নঃ (২৪৬) ফজরের এক রাকাআত নামায ছুটে গেলে বাকী রাকাআতটি কি স্বশব্দে না নীরবে পাঠ করবে? উত্তরঃ বিষয়টি তার ইচ্ছাধীন। কিন্তু উত্তম হচ্ছে নীরব কন্ঠে পাঠ করা। কেননা জোর কন্ঠে পাঠ করলে হয়তো অন্য মুছল্লীদের নামাযে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। প্রশ্নঃ (২৪৭) রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নামাযের পদ্ধতির উপর লিখিত একটি পুস্তকে পড়লাম, রুকূ থেকে উঠার পর আবার হাত বাঁধা একটি বিভ্রান্তকর বিদআত। এক্ষেত্রে বিশুদ্ধ কথা কি? আল্লাহ্‌ আপনাকে উত্তম প্রতিদান প্রদান করুন উত্তরঃ যে বিষয়ে ইজতেহাদ বা গবেষণার অবকাশ রয়েছে সে বিষয়ে কাউকে সুন্নাতের পরিপন্থী বিদআতী বলতে আমি সংকোচ বোধ করি। এটা উচিত নয়। যারা রুকূ থেকে উঠে আবার হাত বাঁধেন, তারা নিজেদের মতের পক্ষে সুন্নাত থেকে দলীল উপস্থাপন করে থাকেন। এবিষয়টি কারো গবেষণার বিরোধী হলে তাকে সরাসরি বিদআতী বলা খুবই কঠিন বিষয়। এধরণের বিষয়ে বিদআত শব্দ উচ্চারণ করা করো পক্ষে উচিত নয়। কেননা যে সকল বিষয়ে গবেষণার অবকাশ থাকে এবং হতে পারে একথা সত্য অথবা ঐকথা সত্য, তাতে পরস্পরে বিদআতের অপবাদ দিতে শুরু করলে মুসলিম সমাজে বিচ্ছেদ সৃষ্টি হবে, একে অপরে ঘৃণা ও বিদ্বেষের সূচনা হবে। ইসলামের শত্রুরা তা নিয়ে হাসাহাসি করবে। আমার মতে বিশুদ্ধ কথা হচ্ছেঃ রুকূ থেকে উঠার পর ডান হাতকে বাম হাতের উপর রেখে বুকে স্থাপন করা একটি সুন্নাত। দলীলঃ সাহাল বিন সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “লোকেরা নির্দেশিত হত যে, নামাযে ডান হাতকে বাম হাতের বাহুর উপর স্থাপন করবে।” গভীরভাবে লক্ষ্য করে ও অনুসন্ধান করে হাদীছ থেকে দলীল গ্রহণ করার যুক্তি সমূহ হচ্ছেঃ যদি প্রশ্ন করা হয়ঃ সিজদার সময় হাত দু’টি কোথায় থাকবে? উত্তরঃ যমীনের উপর। প্রশ্নঃ রুকূ অবস্থায় হাত কোথায় থাকবে? উত্তরঃ হাঁটুদ্বয়ের উপর। প্রশ্নঃ বসাবস্থায় হাত দু’টি কোথায়? উত্তরঃ রানের উপর। থাকল দাঁড়ানো অবস্থার কথা। রুকূর আগে ও পরে উভয় অবস্থা হচ্ছে দাঁড়ানো। আর তা এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হবেঃ “লোক…

সহীহ বুখারীর ১০ টি বৈজ্ঞানিক হাদীসঃ১) নবীজি বলেন,”জ্বর আসে জাহান্নামের তাপ থেকে! সুতরাং,জ্বর কে পানি দ্বারা প্রশমিত কর! (সহীহ বুখারী,, খন্ড: ৭:অধ্যায় ৭১:হাদিস ৬২১).২)নবীজি বলেন,”যদি কারো পানিতে মাছি পড়ে যায়,তবে মাছিটিকে পানিতে চুবিয়ে তারপর পান কর!কারণ,মাছির এক ডানায় আছে রোগ,অন্য ডানায় আছে প্রতিকার! “(সহীহ বুখারী, 4:54:537).৩) নবীজি বলেন,কালোজিরা আস- সামস ব্যতিত সর্বরোগের ঔষধ! আয়েশা জিজ্ঞেস করেন,আস- সামস কি?নবীজি উত্তরে বলেন,মৃত্যু!(বুখারী৭:৭১:৫৯১)৪)নবীজি বলেন,”যারা রোপ্যপাত্রে পানি পান করে,তারা জাহান্নামের আগুন দ্বারা তাদের পেটপুর্ণ করে! (বুখারী 7:69:538)৫) নবীজি বলেন,”জাহান্নামের আগুণ আল্লাহর কাছে অভিযোগ করল,”হে আমার প্রতিপালক,আমার বিভিন্ন অংশ পরস্পরকেখেয়ে ফেলছে!সুতরাং,তিনি জাহান্নামকে দুইবার শ্বাস নেয়ার অনুমতি দিলেন,একটি শীতকালে (প্রশ্বাস),অন্যটি গ্রীষ্মকালে (নিঃশ্বাস)!এবং এটাই (গ্রীষ্মকলে) প্রখর গরম ও (শীতিকালে) তীব্র শীতের কারণ! (বুখারী 4:54:482)৬)নবীজি বলেন,”আল্লাহ হাচি পছন্দ করেন এবং হাই তোলা অপছন্দ করেন!(বুখারী 8:73:242)৭)নবীজি বলেন,”ভাল স্বপ্ন আসে আল্লাহ থেকে আর দুঃস্বপ্ন আসে শয়তান থেকে!কেউ যদি দুঃস্বপ্ন দেখে তার উচিত আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া ও বাম দিকে থুথু নিক্ষেপ করা,কারণ এতে দুঃস্বপ্ন তার কোন ক্ষতি করতে পারবেনা। (বুখারী 9:87:115).৮)আব্দুল্লাহ বর্ণিত:এক লোক নবীজির কাছে এসে বলল,সে সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়েছে এবং নামায আদায় করতে পারেনি!!নবীজি বললেন:শয়তান তার কানে প্রস্রাব করে দিয়ে চলে গিয়েছে!(বুখারী 2:21:245).৯)নবীজি বলেন,”তোমরা সুর্যদ্বয় ও সুর্যাস্তের সময় নামায আদায় করোনা,কারণ সুর্য শয়তানের মাথার দুইপ্রান্তের মধ্যখানদিয়ে উদিত হয়(বুখারী৪:৫৪:৪৯৪) .১০) নবীজি বলেন,,”যে ব্যক্তি প্রতি সকালে ৭ টি আজওয়া খেজুর খায়,তার ওপর বিষ ও জাদু কোন প্রভাব ফেলতে পারেনা!(বুখারী ৭:৬৫:৩৫৬)

সহীহ বুখারীর ১০ টি বৈজ্ঞানিক হাদীসঃ
১) নবীজি বলেন,”জ্বর আসে জাহান্নামের তাপ থেকে! সুতরাং,জ্বর কে পানি দ্বারা প্রশমিত কর! (সহীহ বুখারী,, খন্ড: ৭:অধ্যায় ৭১:হাদিস ৬২১)
.
২)নবীজি বলেন,”যদি কারো পানিতে মাছি পড়ে যায়,তবে মাছিটিকে পানিতে চুবিয়ে তারপর পান কর!কারণ,মাছির এক ডানায় আছে রোগ,অন্য ডানায় আছে প্রতিকার! “(সহীহ বুখারী, 4:54:537)
.
৩) নবীজি বলেন,কালোজিরা আস- সামস ব্যতিত সর্বরোগের ঔষধ! আয়েশা জিজ্ঞেস করেন,আস- সামস কি?নবীজি উত্তরে বলেন,মৃত্যু!(বু
খারী৭:৭১:৫৯১)
৪)নবীজি বলেন,”যারা রোপ্যপাত্রে পানি পান করে,তারা জাহান্নামের আগুন দ্বারা তাদের পেটপুর্ণ করে! (বুখারী 7:69:538)
৫) নবীজি বলেন,”জাহান্নামের আগুণ আল্লাহর কাছে অভিযোগ করল,”হে আমার প্রতিপালক,আমার বিভিন্ন অংশ পরস্পরকে
খেয়ে ফেলছে!সুতরাং,তিনি জাহান্নামকে দুইবার শ্বাস নেয়ার অনুমতি দিলেন,একটি শীতকালে (প্রশ্বাস),অন্যটি গ্রীষ্মকালে (নিঃশ্বাস)!
এবং এটাই (গ্রীষ্মকলে) প্রখর গরম ও (শীতিকালে) তীব্র শীতের কারণ! (বুখারী 4:54:482)
৬)নবীজি বলেন,”আল্লাহ হাচি পছন্দ করেন এবং হাই তোলা অপছন্দ করেন!(বুখারী 8:73:242)
৭)নবীজি বলেন,”ভাল স্বপ্ন আসে আল্লাহ থেকে আর দুঃস্বপ্ন আসে শয়তান থেকে!কেউ যদি দুঃস্বপ্ন দেখে তার উচিত আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া ও বাম দিকে থুথু নিক্ষেপ করা,কারণ এতে দুঃস্বপ্ন তার কোন ক্ষতি করতে পারবেনা। (বুখারী 9:87:115)
.
৮)আব্দুল্লাহ বর্ণিত:এক লোক নবীজির কাছে এসে বলল,সে সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়েছে এবং নামায আদায় করতে পারেনি!!নবীজি বললেন:শয়তান তার কানে প্রস্রাব করে দিয়ে চলে গিয়েছে!(বুখারী 2:21:245)
.
৯)নবীজি বলেন,”তোমরা সুর্যদ্বয় ও সুর্যাস্তের সময় নামায আদায় করোনা,কারণ সুর্য শয়তানের মাথার দুইপ্রান্তের মধ্যখান
দিয়ে উদিত হয়(বুখারী৪:৫৪:৪৯৪) .
১০) নবীজি বলেন,,”যে ব্যক্তি প্রতি সকালে ৭ টি আজওয়া খেজুর খায়,তার ওপর বিষ ও জাদু কোন প্রভাব ফেলতে পারেনা!(বুখারী ৭:৬৫:৩৫৬)

♦#প্রশ্নঃ মোহরের টাকা পরিশোধ না করে কি স্ত্রীকে স্পর্শ বা দর্শন করা যাবেনা?

বাসর রাত্রেই কি মোহরের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করতে হয়?

স্বামী কি স্ত্রীর কাছে ঐ রাত্রেই দেন- মোহরের টাকা মাফ চাইতে পারবে?

স্ত্রী যদি মাফ করে দেন তাহলে ভবিষ্যতে কি পরিশোধ করতে হবে না?

বিয়ের সময় স্ত্রীকে যে অলংকার বা অন্যান্য জিনিস দেওয়া হয় তা সাধারনতঃ দেন- মোহরের টাকা থেকে কেটে রাখা হয়। এটা কি ঠিক?

#অনেকেই আট/দশ লক্ষ টাকা দেন-মোহর ধার্য করে থাকে,অথচ এক সময়ে এই টাকা পরিশোধ করা স্বামীর পক্ষে সম্ভব হয় না! তখন তার হুকুম কি? অনেক সময় বংশ মর্যাদার অনুযায়ী বড় অংকের মহরানা ধার্য করতে দেখা যায়। এটা কি ঠিক?

★★★#উত্তরঃ মহরানা স্ত্রীর প্রাপ্য একটা ঋণ বিশেষ! স্ত্রীর দেন-মোহর স্বামীর উপর অবশ্য পরিশোধ্য বিষয়। এটি ফরজ। এজন্য যতটুকু পরিমান স্বামীর পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব, সেই পরিমানই দেন- মোহর ধার্য করা কর্তব্য। না দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে মোটা অংকের দেন-মোহর ধার্য করে সম্পাদিত বিয়ে শুদ্ধ হয়না! দেন- মোহর একান্ত ভাবেই স্ত্রীর প্রাপ্য। স্ত্রী যদি ইচ্ছা করেন তবে তাকে স্পর্শ করার আগেই স্বামীকে তা আদায় করে দিতে বাধ্য করতে পারেন। যদি পরস্পরের সম্মতিক্রমে সময় নেওয়া হয়, তবে তা বৈধ হবে। অর্থাৎ বিলম্বেও পরিশোধ করা যাবে।

বাসর রাত্রে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর নিকট দেন-মোহর মাফ চাওয়া নিতান্ত কাপুরুষচিত একটি প্রথা। নতুন বৌ লজ্জার খাতিরে হয়তো মাফ করে দিলাম বলে দেয়,কিন্তু যেহেতু সন্তুষ্টচিত্তে সেই ঋণ ক্ষমা করা হয়না, তাই এরুপ ক্ষমা চাওয়া অর্থহীন, লজ্জাজনক। বিয়ের মোহরানা সম্পর্কে কোরআন কি বলে ? তোমরা নারীগণকে তাদের মোহরানা বা একটা নির্দিষ্ট উপহার দিবে। যদি তারা সন্তুষ্টচিত্তে মোহরানার কিছু অংশ ছেড়ে দেয়, তোমরা তা স্বাচ্ছন্দে ভোগ করবে।-[সূরা নিসা – ৪]

পবিত্র কোরআন নারীর পারিবারিক অধিকার রক্ষার জন্য স্বেচ্ছায় ও সন্তুষ্টচিত্তে মোহরানা পরিশোধ করতে বিবাহিত পুরুষের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে এবং এ ব্যাপারে সব ধরনের কঠোরতা ও কর্কশ আচরণ পরিহার করতে বলেছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ এও বলছেন , মোহরানা ফিরিয়ে নেয়া বা এর অংশবিশেষ ফিরিয়ে নেয়াও তোমাদের জন্য বৈধ নয়। যদি তারা অর্থাৎ স্ত্রীরা নিজেরাই খুশী মনে মোহরানার কিছু অংশ ফিরিয়ে দিতে চায়, তাহলে তা গ্রহণ করা যেতে পারে। এই আয়াতে উল্লেখিত নাহলেও শব্দটির অর্থ হলো, মৌচাকের মৌমাছি। মৌমাছি যেমন কোন স্বার্থের আশা না করেই মানুষকে মধু দেয়, সে রকম পুরুষেরও উচিত জীবনসঙ্গীকে দাম্পত্য জীবনের মধু হিসেবেই মোহরানা দেয়া। আর যা উপহার হিসেবে দেয়া হয়, তা ফিরে পাবার আশা করা কি অন্যায় নয় ? এই আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো,

=>> প্রথমত : স্ত্রীর প্রাপ্য মোহরানা তার ক্রয় মূল্য নয়, বরং এটা স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ভালবাসার নিদর্শন ও উপহার । কোরআনের আয়াতে মাহরানা শব্দটিকে বলা হয়েছে, যা সাদাক্কাত বা আন্তরিকতা শব্দ থেকে উদ্ভূত।

=>> দ্বিতীয়ত : মোহরানা স্ত্রীর অধিকার এবং স্ত্রী-ই এর মালিক। স্ত্রীকে মোহরানা দেয়া যেমন বন্ধ রাখা যায়না , তেমনি তা ফেরতও নেয়া যায় না।

=>>তৃতীয়ত : মোহরানা মাফ করার জন্য স্ত্রীর বাহ্যিক সন্তুষ্টি যথেষ্ট নয়। এজন্যে স্ত্রীর প্রকৃত বা আন্তরিক সন্তুষ্টি জরুরী।

মহানবী (সা:) বলেছেন, যে কোনও ব্যক্তি কোন মহিলাকে কম- বেশী “ মোহরের “ বিনিময়ে বিবাহ করছে, মনে মনে তার হক আদায় দেয়ার নিয়ত রাখেনি, তাকে ধোকাঁ দিয়েছে ,অতঃপর তার হক আদায় না করেই মারা গিয়েছে, সে ব্যক্তি কেয়ামতের দিন ব্যাভিচারী বা যেনাকার হয়ে আল্লাহর সংগে সাক্ষাৎ করবে।(ত্বাবারানী সঃ তারগীব ১৮০৭ নং)

♦প্রশ্নঃ–মাহারের কি পরিমান হওয়া ভাল?

উত্তরঃ-সাধারণভাবে মাহার কম ধার্য করাই মুস্তাহাব। রসূল(সাঃ)বলেন –
“ সে নারী বরকতের মাঝে আছে যাকে প্রস্তাব দেয়া সহজ ও যার মোহরানা অল্প” [ মুসনাদু আহমাদ; হাসান সানাদে]
তবে মাহার এর সর্বনিম্ন পরিমান সম্পর্কে ইমাম ইবনুল কায়্যিম(রহঃ) বলেন- “ কোন বস্তু, সেবা যার মূল্য আছে তাই মাহার হিসেবে ধার্য করা যেতে পারে” যেমন- সোনা,রূপা,টাকা-পয়সা, জমি জমা, ফলমূল ইত্যাদি। আর সেবার উদাহরণ হলঃ ভেড়া চরানো, সেচ দেয়া, ফল তোলা কুরআন শিক্ষা দেয়া ইত্যাদি। মাহারের সর্বাধিক পরিমাণের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট কোন সীমা নেই। এ ব্যাপারে সকল আলিম ঐক্যমত পোষণ করেছেন। [আল-মুগনী; খন্ড- ৬; পৃঃ ৬৮১]

আলিমগণ নিম্নোক্ত দালীলের ভিত্তিতে একমত হয়েছেন –

“ আর (স্ত্রীদের) একজনকে দিয়েছ স্তুপীকৃত সম্পদ।“ [নিসাঃ২০]
এই আয়াতে ﻗﻨﻄﺎﺭ শব্দটির একটি অর্থ হচ্ছে- ‘প্রচুর সম্পদ,সম্পদের স্তুপ’ [আল হাবী আল কাবীর; খন্ডঃ ১২ ; পৃঃ ৪] বিবাহের পর উভয় পক্ষের সম্মতিতে পূর্ব নির্ধারিত মাহারের হ্রাস-বৃদ্ধি উভয়ই জায়েয।[সূরা আন-নিসাঃ৭৮] জমহুর আলিমগণও এ ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন। [আল মুগনি; খন্ডঃ৬ ; পৃঃ ৭৪৩-৭৪

+++++++++++++++++++++++++++

“দেনমোহর অাদায় করা ফরজে অাইন!!!

বর্তমানে অাধুনিকতার নামে নোংরামি পদ্ধতিতে যে বিবাহ অনুষ্ঠানের অায়োজন করে দুনিয়াবী মান মর্যাদার দোহাই দিয়ে কোরআন-হাদীসের আদেশ নিষেধকে এড়িয়ে গিয়ে গুরুত্ব না দিয়ে (বর) পক্ষকে গরু কাটা করা হয় তা ইসলামে অাদৌ বৈধ বলে বিবেচিত হবে কিনা আসুন একটু জেনে নেই-

♣সুন্নতি তথা মহানবী সা : এর দেখানো নিয়ম পদ্ধতিতে বিয়ে হলে পাত্রের সাধ্যমত দেনমোহর নির্ধারণ করা উচিত।
কেননা অতিরিক্ত দেনমোহর চাপে পিষ্ট (বর) অবশেষে ব্যর্থ হয়ে বৌয়ের কাছেই ক্ষমা -মাফ চেয়ে নেয়!!!!
যা ইসলামী শরীয়তের সম্পূর্ন বিরোধী

♣দ্বীনের প্রতিটা কাজ মহান অাল্লাহ রাব্বুলঅালামিন সহজ করে দিয়েছেন।
তাই নিজের জামাতা কে ছোট করে “পাপী করে অন্যরা কি করলো কত মোটা অংক কসলো সেটা না দেখে ———–তারই সাধ্যের মধ্যে দেনমোহর নির্ধারন করুন!!!!

♦বিবাহ কে সহজ করে দিন অাল্লাহর হুকুম দুনিয়ার বুকে সুপ্রতিষ্ঠিত করুন।হাদীসে আছে,যেই বিয়েতে খরচ কম হয়,সেই বিয়েই বরকতময়।

আফসোস বর্তমান সমাজের দিকে তাকালে দেখা যায় যে জেনার বাজার হলো সস্তা আর বিয়ের বাজার হলো আকাশচুম্বি তাই অনেকেই বউ পালার সামর্থ্য অর্জন করলেও শুধু অযথা বিয়ের আকাশচুম্বি খরচের ভয়ে বিয়ে করতে দেরি করে।

উভয় পক্ষের অভিভাবকদের উচিত বিয়ের ক্ষেত্রে দ্বীনদ্বারিতাকে প্রাধান্য দিয়ে লৌকিকতা পরিহার করে সামর্থ্যনুযায়ী বিয়ের ব্যবস্থা করা।

কিয়ামতের দিনে গুনাগার হিসেবে নিজ জামাতা কে উপাস্থাপন করতে কতটুকু ভালো লাগবে অাপনার????
বিবেচনার ভার অাপনার বিবেক????

তবে কোরঅান হাদিসের বাইরে কখনোই কোন বিবাহ বৈধ হতেই পারে না।

এই চরম সত্য সকল মা বাবা ভাই ও বোন কে বোঝার তৌফিক দিক। আমিন।

আসসালামুআলাইকুম

👉#সত্য বললে গীবত হবেনা! যারা এমনটা ভাবেন লিখাটা তাদের জন্য……..

  • ‘থাক আর বলিস না! গীবত হয়ে যাচ্ছে!’
  • ‘আরে না, গীবত না। আমি কি মিথ্যা কিছু বলতেসি? সত্যি যা, তাই বলতেসি।’
    .
    ভাই!
    সত্য বলেই তা গীবত। মিথ্যে হলে তো দ্বিগুণ গুনাহ –
    ১. গীবত, ২. অপবাদ।

আসুন কিছু প্রশ্নোত্তরে জেনে নিই বিস্তারিত……

🔰গীবত (পরচর্চা) ও তহমত (অপবাদ)
▬▬▬▬●◈●▬▬▬▬

প্রশ্ন: গীবত করা তো আপন মৃত ভাইয়ের মাংস ভক্ষণ করার সমান। তাহলে ধরুন, কেউ কারোর নামে সমালোচনা করছে কিন্তু সেটা সত্য। অর্থাৎ যার নামে সমালোচনা করা হচ্ছে সত্যই তার মধ্যে সমস্যা আছে। তাহলেও কি গীবত বলে গণ্য হবে? কারণ তার নামে সত্যি কথাটাই বলা হচ্ছে; মিথ্যা বলা হয় নি।

উত্তর:

কারো মধ্যে যদি বাস্তবেই কোন দোষ-ত্রুটি থাকে আর তা যদি তার অসাক্ষাতে সমালোচনা করা হয় তাহলে এটাই প্রকৃত গীবত (পরচর্চা)। এটাই মৃত ভায়ের গোস্ত খাওয়ার সমতুল্য এবং কবিরা গুনাহ। কিন্তু যদি তার মধ্যে কোন দোষ না থাকে তারপরও অন্যায়ভাবে তার দোষ চর্চা করা হয় তাহলে এটাকে তহমত বা অপবাদ বলা হয়। গীবতের চেয়ে অপবাদ দেয়া আরও বড় অন্যায়। কারণ, এতে এক সাথে অনেকগুলো অন্যায় সংঘটিত হয়। যেমন, অপবাদ, মিথ্যা, সম্মানহানি ও জুলুম।

গীবত (পরচর্চা) ও তহমত (অপবাদ) এর সংজ্ঞা সম্পর্কে নিম্নোক্ত হাদিসটি পড়ুন:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «أَتَدْرُونَ مَا الْغِيبَةُ؟» قَالُوا: اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: ذِكْرُكَ أَخَاكَ بِمَا يَكْرَهُ قِيلَ أَفَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ فِي أَخِي مَا أَقُولُ؟ قَالَ: إِنْ كَانَ فِيهِ مَا تَقُولُ، فَقَدِ اغْتَبْتَهُ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيهِ فَقَدْ بَهَتَّهُ

আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লম বলেছেন: তোমরা কি জান, গীবত কি? তাঁরা বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন:
“গীবত হল তোমার ভাইয়ের সম্পর্কে এমন কিছু আলোচনা করা, যা সে অপছন্দ করে।”

#প্রশ্ন করা হল: আমি যা বলেছি তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থেকে থাকে, তাহলে আপনি কি বলেন?

তিনি বললেন: “তুমি তার সম্পর্কে যা বলেছ তা যদি তার মধ্যে থাকে, তাহলেই তুমি তার গীবত করলে। আর যদি তা তার মধ্যে না থাকে, তাহলে তো তুমি তার প্রতি অপবাদ আরোপ করলে।” (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং-২৫৮৯)

🔰গীবত এর সংজ্ঞা, ভয়াবহতা এবং যে সব ক্ষেত্রে গীবত বৈধ
▪▪▪▪▪▪▪▪

প্রশ্ন: গীবত সম্পর্কে একটু বিস্তারিত জানতে চাই। কেউ যদি আমার মনে কষ্ট দেয় তার সে আচরণের কথা যদি আমি ৩য় কাউকে বলি তবে কি এটা গীবত হবে-এই হিসেবে যে এ কথা তার সামনে বললে সে মনে কষ্ট পেত?

উওরঃ গীবত এর সঙ্গা, ভয়াবহতা এবং কোন কোন ক্ষেত্রে গীবত করা বৈধ?

গীবতএরসংজ্ঞাঃ

গীবত শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে, অনুপস্থিত কারো, পরচর্চা করা, পরনিন্দা করা, কুৎসা রটনা করা, পিছে সমালোচনা করা ইত্যাদি।

◼ পরিভাষায় গীবত বলা হয় ‘তোমার কোনও ভাইয়ের পেছনে তার এমন দোষের কথা উল্লেখ করা যা সে গোপন রেখেছে অথবা যার উল্লেখ সে অপছন্দ করে।’ (মু’জামুল ওয়াসিত)

◼ গীবতের সবচেয়ে উত্তম ও বাস্তবসম্মত সংজ্ঞা দিয়েছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিম্নোক্ত হাদিসে :

সাহাবি আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, গীবত কাকে বলে, তোমরা জান কি? সাহাবিগণ বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ই ভালো জানেন। তিনি বললেন, তোমার কোনও ভাই (দ্বীনি) সম্পর্কে এমন কথা বলা, যা সে অপছন্দ করে, তা-ই গীবত। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি যে দোষের কথা বলি তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে তাহলেও কি গীবত হবে? উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যে দোষের কথা বল, তা যদি তোমার ভাইয়ের থাকে তবে তুমি অবশ্যই তার গীবত করলে আর তুমি যা বলছ তা যদি তার মধ্যে না থাকে তবে তুমি তার ওপর মিথ্যা অপবাদ দিয়েছ। (মুসলিম)

সুতরাং এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, কোনও ভাইয়ের এমন দোষের কথা বলা গীবত যা সে অপছন্দ করে।

অত:এব কেউ যদি আপনাকে কষ্ট দেয় আর আপনি তা যদি এমন ব্যক্তির সামনে পেশ করেন, যে তার বিচার করবে বা এ বিষয়ে দুজনের মধ্যে সমাধান করবে বা এ ব্যাপারে আপনাকে সাহায্য করবে তাহলে তা গীবতের পর্যায়ে পড়বে না। অন্যথায় গীবত হিসেবে পরিগণিত হবে।

🎯#গীবতের_ভয়াবহতা:

▪ গীবত বা অসাক্ষাতে মানুষের দোষত্রুটি নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ সূরা হুজরাতের ১২ নম্বর আয়াতে বলেন,

وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ

‘আর তোমরা কেউ কারো গীবত করো না, তোমরা কি কেউ আপন মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া পছন্দ করবে? একে তোমরা অবশ্যই ঘৃণা করবে।, (সূরা হুজুরাত:১২)

সুস্থ, স্বাধীন কোনও বিবেকবান মানুষই জ্ঞান অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত মৃত মানুষ তো দূরের কথা, যে পশু জীবিত থাকলে হালাল সেই পশু মৃত হলে তার গোশতও ভক্ষণ করবে না। অথচ মানুষ সুস্থ মস্তিষ্কে, স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে গীবতের মতো জঘন্য ফেতনায় নিমজ্জিত হয়।

▪ গীবত সামাজিক বন্ধন ছিন্নভিন্ন করে দেয়। মানুষের মাঝ থেকে ভালবাসা, বন্ধুত্ব ও সুসম্পর্ক নষ্ট হয়। শুরু হয় মানুষে মানুষে অবিশ্বাস, আস্থাহীনতা এবং সকল ক্ষেত্রে চরম বিশৃংখলা। এটি একটি সামাজিক ক্যান্সারের মত। সমাজ দেহে কোন এক স্থানে এর সূচনা হলে আস্তে আস্তে তা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমানে আমাদের সমাজে এহেন বিশৃংখ অবস্থা বিরজমান হওয়ার জন্য এই অপরাধটি অন্যতম কারণ।
তাই গীবতের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি।

যেসকলক্ষেত্রেঅসাক্ষাতেকোরওদোষত্রুটিআলোচনাকরাগীবতেরঅন্তর্ভুক্ত_নয়:

ইমাম নববী (রহ:) বলেন, ”সৎ ও শরীয়ত সম্মত উদ্দেশ্য সাধন যদি গীবত ছাড়া সম্ভব না হয়, তাহলে এক্ষেত্রে গীবত জায়েয।” তার মতে ছয় ধরণের গীবত জায়েয। যথা:⤵️⤵️

☑ ১. মজলুম ব্যক্তি জালেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারে।

☑ ২. ত্রুটি সংশোধনের জন্য কোন ব্যক্তির দোষ এমন ব্যক্তির কাছে বলা, যে তা সংশোধন করার ক্ষমতা রাখে।

☑ ৩. মুফতির নিকট মাসয়ালা জানতে গিয়ে প্রয়োজনে কোন ব্যক্তির (সম্ভব হলে নাম উল্লেখ না করে) ত্রুটি বলা যায়।

☑ ৪. কোন ব্যক্তি কারো সাথে বিয়ে বা ব্যবসায়ের সম্পর্ক করতে চাইলে এবং তার সম্পর্কে অন্য ব্যক্তির সাথে পরামর্শ চাইলে তার দোষ-গুণ স্পষ্টভাবে বলে দেবে যা সে জানে (মনে হিংসা-বিদ্বেষ না রেখে)।

☑ ৫. যে সব লোক সমাজে প্রকাশ্যে পাপ কাজ, বিদআত বা গোমরাহির প্রসার ঘটাচ্ছে, তাদের দোষ-ত্রুটির তীব্র সমালোচনা জায়েয।

☑ ৬. চেনার উদ্দেশ্যে কাউকে ছদ্মনাম বা খারাপ উপনামে ডাকা জায়েয (তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে নয়)।
(আল্লামা ইমাম নববী রচিত মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যা গ্রন্থ)
▪▪▪▪▪▪▪
উত্তরদাতা:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীলল
জুবাইল, দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

“গীবত এমন একটি কবিরা গুনাহ; ছালাত, সাদক্বা, সিয়াম ও হজ্ব যা মার্জনা করতে পারে না।”
(ইবনু উসাইমীন,শারহু রিয়াদুস সালিহীন, ৬/১০৯)

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে গীবত-পরচর্চা, মিথ্যারোপ, অপবাদ ইত্যাদি ধ্বংসাত্মক অন্যায় থেকে হেফাজত করুন। আমিন,,,,,,,

আসসালামুআলাইকুম

আসসালামুআলাইকুম ওরহমাতুল্লাহি ওবারাকাতুহ

👉 ‘লাইলাতুল ক্বদর’ (ক্বদরের রাত) চেনার কিছু আলামত-
.
১. রাতটি গভীর অন্ধকারে ছেয়ে যাবে না।
২. নাতিশীতোষ্ণ হবে। অর্থাৎ গরম বা শীতের তীব্রতা থাকবে না।
৩. মৃদুমন্দ বাতাস প্রবাহিত হতে থাকবে।
৪. সে রাতে ইবাদত করে মানুষ অপেক্ষাকৃত অধিক তৃপ্তিবোধ করবে।
৫. ঐ রাতে বৃষ্টি বর্ষণ হতে পারে।
৬. সকালে হালকা আলোকরশ্মিসহ সূর্যোদয় হবে। যা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মত।
.
(তথ্যসূত্র- সহীহ বুখারী : ২০২১,সহীহ মুসলিম : ৭৬২,সহীহ ইবনে খুযাইমা : ২১৯০)।

👉 লাইলাতুল্ কদর’ এ কি কি ইবাদত করবেন ?

আলহামদুলিল্লাহ, ওয়াস্ স্বালাতু ওয়াস্ সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আম্মা বাদঃ

অনেক দ্বীনী ভাই আছেন যারা সহীহ নিয়মে লাইলাতুল কদরে ইবাদত করতে ইচ্ছুক। তাই তারা প্রশ্ন করে থাকেন যে, লাইলাতুল কদরে আমরা কি কি ইবাদত করতে পারি? এই রকম ভাই এবং সকল মুসলিম ভাইদের জ্ঞাতার্থে সংক্ষিপ্তাকারে কিছু উল্লেখ করা হল। [ওয়ামা তাওফীকী ইল্লা বিল্লাহ]

প্রথমতঃ আল্লাহ তাআ’লা আমাদের বলে দিয়েছেন যে, এই রাত এক হাজার মাসের থেকেও উত্তম। অর্থাৎ এই এক রাতের ইবাদত এক হাজার মাসের থেকেও উত্তম। [আল্ মিসবাহ আল্ মুনীর/১৫২১]
তাই এই রাতটি ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করাই হবে আমাদের মূল উদ্দেশ্য।

দ্বিতীয়তঃ জানা দরকার যে ইবাদত কাকে বলে? ইবাদত হচ্ছে, প্রত্যেক এমন আন্তরিক ও বাহ্যিক কথা ও কাজ যা, আল্লাহ পছন্দ করেন এবং তাতে সন্তুষ্ট থাকেন। [মাজমুউ ফাতাওয়া,১০/১৪৯]

উক্ত সংজ্ঞার আলোকে বলা যেতে পারে যে ইবাদত বিশেষ এক-দুটি কাজে সীমাবদ্ধ নয়। তাই আমরা একাধিক ইবাদতের মাধ্যমে এই রাতটি অতিবাহিত করতে পারি। নিম্নে কিছু উৎকৃষ্ট ইবাদত উল্লেখ করা হলঃ

১- ফরয নামায সমূহ ঠিক সময়ে জামাআ’তের সাথে আদায় করা।
যেমন মাগরিব, ইশা এবং ফজরের নামায। তার সাথে সাথে সুন্নতে মুআক্কাদা, তাহিয়্যাতুল মসজিদ সহ অন্যান্য মাসনূন নামায আদায় করা।

২- কিয়ামে লাইলাতুল্ কদর করা।
অর্থাৎ রাতে তারবীহর নামায আদায় করা। নবী (সাঃ) বলেনঃ
“যে ব্যক্তি ঈমান ও নেকীর আশায় লাইলাতুল কদরে কিয়াম করবে (নামায পড়বে) তার বিগত গুনাহ ক্ষমা করা হবে”। [ফাতহুল বারী,৪/২৯৪]
এই নামায জামাআতের সাথে আদায় করা উত্তম। অন্যান্য রাতের তুলনায় এই রাতে ইমাম দীর্ঘ কিরাআতের মাধ্যমে নামায সম্পাদন করতে পারেন। ইশার পর প্রথম রাতে কিছু নামায পড়ে বাকী নামায শেষ রাতে পড়াতে পারেন। একা একা নামায আদায়কারী হলে সে তার ইচ্ছানুযায়ী দীর্ঘক্ষণ ধরে নামায পড়তে পারে।

৩- বেশী বেশী দুআ করা।
তন্মধ্যে সেই দুআটি বেশী বেশী পাঠ করা যা নবী (সাঃ) মা আয়েশা (রাযিঃ) কে শিখিয়েছিলেন।
মা আয়েশা নবী (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি লাইলাতুল কদর লাভ করি, তাহলে কি দুআ করবো? তিনি (সাঃ) বলেনঃ বলবে, (আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল্ আফওয়া ফা’ফু আন্নী”। [আহমদ,৬/১৮২] অর্থ, হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল। ক্ষমা পছন্দ কর, তাই আমাকে ক্ষমা কর”।

এছাড়া বান্দা পছন্দ মত দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণকর যাবতীয় দুআ করবে। সে গুলো প্রমাণিত আরবী ভাষায় দুআ হোক কিংবা নিজ ভাষায় হোক। এ ক্ষেত্রে ইবাদতকারী একটি সুন্দর সহীহ দুআ সংকলিত দুআর বইয়ের সাহায্য নিতে পারে। সালাফে সালেহীনদের অনেকে এই রাতে অন্যান্য ইবাদতের চেয়ে দুআ করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। কারণ এতে বান্দার মুক্ষাপেক্ষীতা, প্রয়োজনীয়তা ও বিনম্রতা প্রকাশ পায়, যা আল্লাহ পছন্দ করেন।

৪- যিকর আযকার ও তাসবীহ তাহলীল করা।
অবশ্য এগুলো দুআরই অংশ বিশেষ। কিন্তু বিশেষ করে সেই শব্দ ও বাক্য সমূহকে যিকর বলে, যার মাধ্যমে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করা হয়। যেমন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”, “আল্ হামদু ল্লিল্লাহ” “সুবহানাল্লাহ”, “আল্লাহুআকবার” “আস্তাগফিরুল্লাহ”, “লা হাওলা ওয়ালা কুউআতা ইল্লা বিল্লাহ”। ইত্যাদি।

৫- কুরআন তিলাওয়াত।
কুরআন পাঠ একটি বাচনিক ইবাদত, যা দীর্ঘ সময় ধরে করা যেতে পারে। যার এক একটি অক্ষর পাঠে রয়েছে এক একটি নেকী। নবী (সাঃ) বলেনঃ
“যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পড়বে, সে তার বিনিময়ে একটি নেকী পাবে… আমি একথা বলছি না যে, আলিফ,লাম ও মীম একটি অক্ষর; বরং আলিফ একটি অক্ষর লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর”। [তিরমিযী, তিনি বর্ণনাটিকে হাসান সহীহ বলেন]

এছাড়া কুরআন যদি কিয়ামত দিবসে আপনার সুপারিশকারী হয়, তাহলে কতই না সৌভাগ্যের বিষয়! নবী (সাঃ) বলেনঃ
“তোমরা কুরআন পড়; কারণ সে কিয়ামত দিবসে পাঠকারীর জন্য সুপারিশকারী হিসাবে আগমন করবে”। [মুসলিম]

৬- সাধ্যমত আল্লাহর রাস্তায় কিছু দান-সাদকা করা।
নবী (সাঃ) বলেনঃ
“সাদাকা পাপকে মুছে দেয়, যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়”। [সহীহুত তারগবি]

শবে কদরের একটি রাতে এই রকম ইবাদতের মাধ্যমে আপনি ৮৩ বছর ৪ মাসের সমান সওয়াব অর্জন করতে পারেন। ইবাদতের এই সুবর্ণ সুযোগ যেন হাত ছাড়া না হয়। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দিন। আমীন!

উল্লেখ থাকে যে, ইবাদতের উদ্দেশ্যে বৈষয়িক কাজ-কর্মও ইবাদতে পরিণত হয়। যেমন রোযার উদ্দেশ্যে সাহরী খাওয়া, রাত জাগার জন্য প্রয়োজনীয় কাজ-কর্ম সেরে নেওয়া। তাই লাইলাতুল কদরে ইবাদতের উদ্দেশ্যে বান্দা যেসব দুনিয়াবী কাজ করে সেগুলোও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।

আশা করি আপনাদের বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত কিছু আইডিয়া দিতে পেরেছি। ওয়ামা তাওফীক ইল্লা বিল্লাহ্।

👉 একাকিত্ব থেকেই গুনাহের প্রতি আকৃষ্টতা বাড়ে। নিরিবিলিতে নিজের নফস হয়ে ওঠে শক্তিশালী!
প্রত্যেক মুমিনের উচিত নিজেকে ব্যস্ত রাখা,আখিরাতের কাজে..

—নিজেকে তৈরি করো রোজার মতো তাহলে মৃত্যু টা হবে ইদের মতো—–

যখন মসজিদ তোমাকে ডেকেছিলো তোমার টাইম ছিলো না , আজ তোমার কাছে টাইম আছে । কিন্ত মসজিদ তোমাকে গ্রহণ করছেনা !! 🗣হায় আফসোস!!😥

https://m.facebook.com/groups/1855479478022410?view=permalink&id=2558812901022394&sfnsn=mo

#বেগানা_নারী_পুরুষ_হতে_সাবধান..!

একজন বাইরের বেগানা মহিলার অথবা পুরুষের হাত সহ অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্পর্শ করার আগে হাদিস টা মনে রাখেন..

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করার পর অবৈধভাবে কোন মহিলার সাথে সহবাস করার মত বড় পাপ আর নাই”।[আহমদ, তাবারানী]

“মানুষ তার সমগ্র ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে জিনা করে। দেখা হচ্ছে চোখের জিনা,ফুঁসলানো কণ্ঠের জিনা, তৃপ্তির সাথে কথা শোনা কানের জিনা, হাত দিয়ে স্পর্শ করা হাতের জিনা, কোনো অবৈধ উদ্দেশ্যে পথ চলা পায়ের জিনা, এভাবে ব্যভিচারের যাবতীয় ভূমিকা যখন পুরোপুরি পালিত হয়, তখন লজ্জাস্থান তার পূর্ণতা দান করে অথবা পূর্ণতা দান থেকে বিরত থাকে” -বুখারি, মুসলিম ও আবু দাউদ) ”

” নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য কারো মাথায় লোহার পেরেক ঠুকে দেওয়া ঐ মহিলাকে স্পর্শ করা থেকে অনেক ভালো, যে তার জন্য মোটেই হালাল নয়।” – ত্বাবারানী ২০/২১২
রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন “আমি মেয়েদের সাথে মুসাফাহা করিনা।” – (আহমাদ-৬/৩৫৮)

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ” তোমাদের কারো মাথায় যদি লোহা দিয়ে আঘাত করা হয়, তবু এটা তার জন্যে ঐ মহিলাকে স্পর্শ করা থেকে উত্তম – যে তার জন্যে বৈধ নয়। “(তাবরানি, সহীহুল জামে-৪৯২১ )

“আমি মেয়েদের হাত স্পর্শ করিনা।” – (সহীহুল জামে হাদীস নং ৭০৫৪)

এ প্রসংগে মা আয়েশা (রাঃ) বলেছেন, “আল্লাহর শপথ, রসুল (সঃ) এর হাত কখনোই কোন বেগানা নারীর হাত স্পর্শ করেনি। তিনি কথার মাধ্যমে তাদেরকে বায়’আত করাতেন।” – (মুসলিম ৩/১৪৭৯)

কিন্তু আজকে সেই নবীর উম্মত হিসেবে আমরা তো মূলত প্রতিযোগিতাই নেমেছি তাইনা? আজকে কেউ কারো যদি গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ড না থাকে তাহলে মনে হয় জীবনটাই বৃথা! আবার কেউ যদি দ্বীনকে পরিপূর্ণ ভাবে মেনে চলে হারামকে-হারাম এবং হালালকে- হালাল হিসেবে গ্রহণ করে তাহলে তাঁকে বলে ব্যাকডেটেড বা মধ্যযুগীয়,,
আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়াতুবু ইলাইহি। আল্লাহ আমাদের এইসমস্ত বেহায়াপনা থেকে মুসলিম নারী-পুরুষ সমাজকে আল্লাহ্ হেফাজত করুক।