গ্রন্থঃ আদর্শ বিবাহ ও দাম্পত্য অধ্যায়ঃ বিবাহ ও দাম্পত্য বিষয়াবলী অশুচিতা যুবতী নারীর সৃষ্টিগত প্রকৃতি মাসিক রক্তস্রাব তার ইদ্দত ইত্যাদির হিসাব দেয়, গর্ভের খবর জানা যায়। আর ঐ স্রাবই তার গর্ভস্থিত ভ্রূণের আহার হয়। গর্ভাবস্থাতেও মাসিক আসতে পারে। এমন হলে এই মাসিকে তালাক হারাম নয়। কারণ, তার ইদ্দত হল গর্ভকাল।[1] অভ্যাসগত দিনে আগে-পিছে হয়ে মাসিক হলেও তা মাসিকের খুন, অভ্যাস ৭ দিনের থাকলে যদি ৬ দিনে পবিত্রা হয় তবে সে পবিত্রা, ৮ম দিনেও খুন বিদ্যমান থাকলে তা মাসিকের খুন।[2] মাসিকের খুন সাধারণতঃ রক্তের ন্যায়। কিন্তু মাঝে বা শেষের দিকে যদি মেটে বা গাবড়া রঙের খুন আসে, তবে তাও মাসিকের শামিল। অবশ্য পবিত্রা হওয়ার পর যদি ঐ ধরনের খুন আসে, তবে তা মাসিক নয়।[3] কোন স্ত্রীলোকের ১দিন খুন পরদিন বন্ধ; অনুরূপ একটানা সর্বদা হতে থাকে তবে তা মাসিক নয় বরং ইস্তিহাযা। (এর বর্ণনা পরে আসছে।) অভ্যাসমত ঋতুর কয়দিনের ভিতরে যদি একদিন খুন একদিন বন্ধ থাকে, তবে তার পুরোটাই মাসিক ধর্তব্য। খুন বন্ধ থাকলেও পবিত্রতা নয়।[4] তবে মাঝের ঐ দিনগুলিতে যদি পবিত্রতার সাদাস্রাব দেখা যায়, তবে তা পবিত্রতা।[5] মাসিকের এই অশুচিতায় যে সব ধর্মকর্মাদি নিষিদ্ধ তা নিম্নরূপঃ- ১। নামাযঃ মাসিকাবস্থায় নামায পড়া বৈধ নয়। পবিত্রা হলে গোসল করে তবেই নামায পড়বে। যে অক্তে কেবল এক রাকআত নামায পড়ার মত সময়ের পূর্বে পবিত্রা হবে গোসলের পর সেই অক্তেরও নামায কাযা পড়তে হবে। যেমন যদি কেউ সূর্যাস্তের ২ মিনিট পূর্বে পবিত্রা হয় তবে (সূর্যাস্তের পর) গোসল করে আসরের নামায কাযা পড়বে অতঃপর মাগরিবের নামায আদায় করবে। যে অক্তে গোসল করবে কেবল সেই অক্ত থেকে নামায পড়া যথেষ্ট নয়। প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الصَّلاَةِ فَقَدْ أَدْرَكَ الصَّلاَةَ. ‘‘যে ব্যক্তি নামাযের এক রাকআত পায়, সে নামায (নামাযের সময়) পেয়ে যায়।’’[6] مَنْ أَدْرَكَ مِنَ الْعَصْرِ رَكْعَةً قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ وَمَنْ أَدْرَكَ مِنَ الْفَجْرِ رَكْعَةً قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَك. ‘‘যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের এক রাকআত পেয়ে যায়, সে আসর পেয়ে নেয় এবং যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের এক রাকআত নামায পেয়ে যায়, সে ফজর পেয়ে নেয়।’’[7] সুতরাং কোন ওয়াক্তে প্রবেশ হওয়ার পর অথবা ঐ নামায পড়তে পড়তে মাসিক শুরু হলে পবিত্রতার পর ঐ ওয়াক্তের নামাযও কাযা পড়তে হবে। যেমন যদি কারো সূর্যাস্তের ২ মিনিট পর ঋতু শুরু হয় (যাতে ১ রাকআত নামায পড়া যায়), তাহলে পবিত্রতার গোসলের পর মাগরিবের ঐ নামায কাযা পড়বে।[8] ২। কুরআন স্পর্শ ও পাঠঃ নাপাকে কুরআন স্পর্শ অবৈধ।[9] অনুরূপ মুখে উচ্চারণ করে ঋতুমতী কুরআন তেলাঅত করবে না। মনে মনে পড়তে দোষ নেই। অবশ্য যদি ভুলে যাওয়ার ভয় হয় অথবা শিক্ষিকা ও ছাত্রীর কোন আয়াত উল্লেখ করা জরুরী হয়, তবে উচ্চারণ করতে প্রয়োজনে বৈধ।[10] পক্ষান্তরে দুআ দরূদ, যিকর, তসবীহ তহলীল, ইস্তেগফার, তওবা, হাদীস ও ফিক্হ পাঠ, কারো দুআয় আমীন বলা, কুরআন শ্রবণ ইত্যাদি বৈধ।[11] কুরআন মাজীদের তফসীর বা অনুবাদ স্পর্শ করে পড়া দোষের নয়। সিজদার আয়াত শুনে সিজদা করাও বৈধ।[12] ঋতুমতীর কোলে মাথা রেখে তার সন্তান অথবা স্বামী কুরআন তেলাঅত করতে পারে।[13] ৩। রোযা পালনঃ মাসিকাবস্থায় রোযা পালন নিষিদ্ধ। তবে রমযানের ফরয রোযা পরে কাযা করা জরুরী। (কিন্তু ঐ অবস্থায় ছাড়া নামাযের কাযা নেই।)[14] রোযার দিনে সূর্যাস্তের ক্ষণেক পূর্বে মাসিক এলে ঐ দিনের রোযা বাতিল; কাযা করতে হবে। সূর্যাস্তের পূর্বে মাসিক আসছে বলে মনে হলে; কিন্তু প্রস্রাবদ্বারে খুন দেখা না গেলে এবং সূর্যাস্তের পর দেখা দিলে রোযা নষ্ট হবে না। ফজর উদয় হওয়ার ক্ষণেক পরে মাসিক শুরু হলে ঐ দিনে রোযা হবে না। ফজর উদয়ের ক্ষণেক পূর্বে খুন বন্ধ হলে গোসল না করলেও ঐ দিনের রোযা ফরয।[15] ফজরের পর গোসল করে নামায পড়বে, অনুরূপ স্বামী-স্ত্রী সঙ্গম করে সেহরী খেয়ে পরে ফজরের আযান হয়ে গেলেও রোযার কোন ক্ষতি হয় না। গোসল করে নামায পড়া জরুরী।[16] রোযা রেখে দিনের মধ্যভাগে খুন এলে রোযা নষ্ট ও পানাহার বৈধ। যেমন মাসিকের দিনগুলিতে মহিলা পানাহার করতে পারবে এবং দিনে মাসিক বন্ধ হলেও দিনের অবশিষ্ট সময়ে পানাহার বৈধ।[17] ৪। তওয়াফঃ ফরয, নফল সর্ব প্রকার তওয়াফ অবৈধ। অবশ্য সায়ী এবং মিনা, মুযদালিফাহ ও আরাফাতে অবস্থান, পাথর মারা ইত্যাদি বৈধ। যেমন বিদায়ী তওয়াফের পূর্বে মাসিক শুরু হলে ঐ তওয়াফ করা ওয়াজেব থাকে না।[18] কিন্তু হজ্জ বা উমরার তওয়াফ পাক হওয়ার পর করতেই হবে। নচেৎ হজ্জ বা উমরা হবে না।[19] ৫। মসজিদ ও ঈদগাহে অবস্থানঃ মাসিক অবস্থায় মসজিদে বা ঈদগাহে বসা অবৈধ।[20] অবশ্য মসজিদের বাইরে থেকে মসজিদের ভিতরে স্থিত কোন বস্ত্ত উঠিয়ে নেওয়া অবৈধ নয়।[21] ৬। স্বামী-সঙ্গমঃ মাসিকাবস্থায় সঙ্গম হারাম। মহান আল্লাহ বলেন, ﴿وَيَسْأَلونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذىً فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ وَلاَ تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللهُ إِنَّ اللهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ﴾ ‘‘ওরা তোমাকে রজঃস্রাব (কাল ও স্থান) প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করে, তুমি বল উহা অশুচি। সুতরাং রজঃস্রাবকালে স্ত্রী-সংসর্গ থেকে দূরে থাক এবং পবিত্রা না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকট (সঙ্গমের উদ্দেশ্যে) যেও না। অতঃপর যখন তারা পরিশুদ্ধ হয়ে যায়, তখন তাদের নিকট ঠিক সেইভাবে গমন কর যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেছেন। নিশ্চয় আল্লাহ তওবাকারীদেরকে এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরকে ভালোবাসেন।’’[22] মাসিকাবস্থায় সঙ্গম করে ফেললে এক দ্বীনার (সওয়া ৪ গ্রাম সোনা বা তার মূল্য) অথবা অর্ধ দ্বীনার সদকা করতে হবে।[23] অবশ্য অসময়ে যৌনক্ষুধা নিবারণের জন্য স্ত্রী জাঙ্গিয়া পরে লজ্জাস্থান (প্রস্রাব ও পায়খানাদ্বার) পর্দা করে অন্যান্য স্থানে বীর্যপাত ইত্যাদি সর্বপ্রকার যৌনাচার বৈধ।[24] যেমন, পায়ু ও যোনীপথে সঙ্গম করার আশঙ্কা না থাকলে বা ধৈর্য রাখতে পারলে স্ত্রীর ঊরু-মৈথুনও বৈধ। প্রকাশ যে, ঋতুমতী স্ত্রীর এটো কিছু বা তার মুখের লালা নাপাক নয়। ৭। তালাক দেওয়াঃ পূর্বেই আলোচিত হয়েছে যে, মাসিকাবস্থায় তালাক দেওয়া বৈধ নয়। আর দিয়ে ফেললেও ঐ তালাক বাতিল; ধর্তব্য নয়। অবশ্য স্ত্রীর সাথে বাসর করার পূর্বে, গর্ভকালে, অথবা খোলা তালাক প্রার্থনাকালে মাসিকাবস্থায় থাকলে তালাক দেওয়া অবৈধ নয়।[25] মাসিকাবস্থায় বিবাহ আক্দ (বিয়ে পড়ানো) বৈধ। তবে বাসর না করাই উত্তম। বর মিলন না করে ধৈর্য রাখতে পারলে বাসর করবে; নচেৎ না।[26] মাসিক বন্ধ হলেই গোসল ফরয। যে সময়েই হোক গোসল করতে হবে। দেশীয় প্রথা অনুযায়ী অথবা লজ্জার খাতিরে নির্দিষ্ট সময় থেকে গোসল পিছিয়ে নামায নষ্ট করলে গোনাহগার হবে। আরো খুন আসবে সন্দেহে কোন নামায পিছিয়ে দিলে কাযা পড়ে নেবে। মহিলা গোসল নিম্নরূপে করবেঃ প্রথমে সাবানাদি দিয়ে লজ্জাস্থান ভালোরূপে ধুয়ে হাত পরিষ্কার করে নেবে। অতঃপর গোসলের নিয়ত করে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে পূর্ণ ওযু করবে, তারপর ৩ বার মাথায় পানি নিয়ে ভালো করে এমনভাবে ধৌত করবে, যেন চুলের গোড়ায়-গোড়ায় পানি পৌঁছে যায়। অতঃপর সারা শরীর ধুয়ে নেবে। পরে বস্ত্রখন্ডে বা তুলোর মধ্যে কোন সুগন্ধি লাগিয়ে লজ্জাস্থানে রেখে নেবে। গোসলের পর আবার খুন দেখা দিলে যদি মেটে বা গাবড়া রঙের খুন হয়, তাহলে কোন ক্ষতি হবে না। মাসিকের মত হলে পুনঃ বন্ধ হলে আবার গোসল করবে।[27] নামাযের অক্তে সফরে মাসিক বন্ধ হলে, অথবা পানি না থাকলে, অথবা পানি ব্যবহার ক্ষতিকর হলে তায়াম্মুম করে নামায পড়বে। সবাস্থ্যের ক্ষতি না হলে পরিজনের সাথে একই সঙ্গে হজ্জ বা রোযা পালনের উদ্দেশ্যে বা অন্য কোন প্রয়োজনে মাসিক বন্ধ রাখার ঔষধ ব্যবহার বৈধ। তবে এতে যেন স্বামীকে (ইদ্দতে) ধোঁকা দেওয়ার উদ্দেশ্য না হয়।[28] [1] (রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, শায়খ মুহাঃ আল-উসাইমীন১৩পৃঃ) [2] (রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা,১৪পৃঃ) [3] (আবু দাঊদ ৩০৭ নং) [4] (আল-ফাতাওয়াল মুহিম্মাহ, লিনিসাইল উম্মাহ ২০৭-২০৮পৃঃ) [5] (ঐ ২০৭পৃঃ) [6] (বুখারী,মুসলিম) [7] (বুখারী, মুসলিম, মিশকাতুল মাসাবীহ ৬০১নং, রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা,১৯পৃঃ) [8] (ঐ১৮পৃঃ) [9] (সূরা আল-ওয়াক্বিয়া (৫৬) : ৭৯) [10] (রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, ২০-২১পৃঃ, তামবীহাতুল মু’মিনাত ৩৬পৃঃ) [11] (রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, ১৯পৃঃ, তামবীহাতুল মু’মিনাত ৩৮পৃঃ) [12] (জামিউ আহকামিন নিসা, ১/১৭৪) [13] (বুখারী, মুসলিম, জামিউ আহকামিন নিসা, ১/১৬৩) [14] (বুখারী ৩২১নং, মুসলিম ২৬৫নং, আবু দাঊদ ২৬৩নং) [15] (জামিউ আহকামিন নিসা, ১/১৭৩) [16] (বুখারী, মুসলিম, রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, ২২পৃঃ) [17] (মুমঃ ৪/৫৪১-৫৪২) [18] (বুখারী, মুসলিম) [19] (রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, ২৩-২৪পৃঃ) [20] (বুখারী,মুসলিম) [21] (মুসলিম, আবু দাঊদ প্রভৃতি, তামবীহাতুল মু’মিনাত ৩৭পৃঃ) [22] (সূরা আল-বাক্বারা (২) : ২২২) [23] (আবু দাঊদ, তিরমিযী প্রভৃতি, আদাবুয যিফাফ ১২২পৃঃ) [24] (বুখারী, মুসলিম, রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, ২৫পৃঃ) [25] (রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, ২৭পৃঃ) [26] (ঐ ২৮ পৃঃ) [27] (আল-ফাতাওয়া আল- ইসলামিয়্যাহ ১/২৪০) [28] (রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, ৪৩, আল-ফাতাওয়া আল- ইসলামিয়্যাহ ১/২৪১)

গ্রন্থঃ আদর্শ বিবাহ ও দাম্পত্য
অধ্যায়ঃ বিবাহ ও দাম্পত্য বিষয়াবলী

অশুচিতা

যুবতী নারীর সৃষ্টিগত প্রকৃতি মাসিক রক্তস্রাব তার ইদ্দত ইত্যাদির হিসাব দেয়, গর্ভের খবর জানা যায়। আর ঐ স্রাবই তার গর্ভস্থিত ভ্রূণের আহার হয়।

গর্ভাবস্থাতেও মাসিক আসতে পারে। এমন হলে এই মাসিকে তালাক হারাম নয়। কারণ, তার ইদ্দত হল গর্ভকাল।[1]

অভ্যাসগত দিনে আগে-পিছে হয়ে মাসিক হলেও তা মাসিকের খুন, অভ্যাস ৭ দিনের থাকলে যদি ৬ দিনে পবিত্রা হয় তবে সে পবিত্রা, ৮ম দিনেও খুন বিদ্যমান থাকলে তা মাসিকের খুন।[2]

মাসিকের খুন সাধারণতঃ রক্তের ন্যায়। কিন্তু মাঝে বা শেষের দিকে যদি মেটে বা গাবড়া রঙের খুন আসে, তবে তাও মাসিকের শামিল। অবশ্য পবিত্রা হওয়ার পর যদি ঐ ধরনের খুন আসে, তবে তা মাসিক নয়।[3]

কোন স্ত্রীলোকের ১দিন খুন পরদিন বন্ধ; অনুরূপ একটানা সর্বদা হতে থাকে তবে তা মাসিক নয় বরং ইস্তিহাযা। (এর বর্ণনা পরে আসছে।)

অভ্যাসমত ঋতুর কয়দিনের ভিতরে যদি একদিন খুন একদিন বন্ধ থাকে, তবে তার পুরোটাই মাসিক ধর্তব্য। খুন বন্ধ থাকলেও পবিত্রতা নয়।[4]

তবে মাঝের ঐ দিনগুলিতে যদি পবিত্রতার সাদাস্রাব দেখা যায়, তবে তা পবিত্রতা।[5]

মাসিকের এই অশুচিতায় যে সব ধর্মকর্মাদি নিষিদ্ধ তা নিম্নরূপঃ-

১। নামাযঃ মাসিকাবস্থায় নামায পড়া বৈধ নয়। পবিত্রা হলে গোসল করে তবেই নামায পড়বে। যে অক্তে কেবল এক রাকআত নামায পড়ার মত সময়ের পূর্বে পবিত্রা হবে গোসলের পর সেই অক্তেরও নামায কাযা পড়তে হবে। যেমন যদি কেউ সূর্যাস্তের ২ মিনিট পূর্বে পবিত্রা হয় তবে (সূর্যাস্তের পর) গোসল করে আসরের নামায কাযা পড়বে অতঃপর মাগরিবের নামায আদায় করবে। যে অক্তে গোসল করবে কেবল সেই অক্ত থেকে নামায পড়া যথেষ্ট নয়। প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন,

مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الصَّلاَةِ فَقَدْ أَدْرَكَ الصَّلاَةَ.

‘‘যে ব্যক্তি নামাযের এক রাকআত পায়, সে নামায (নামাযের সময়) পেয়ে যায়।’’[6]

مَنْ أَدْرَكَ مِنَ الْعَصْرِ رَكْعَةً قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ وَمَنْ أَدْرَكَ مِنَ الْفَجْرِ رَكْعَةً قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَك.

‘‘যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের এক রাকআত পেয়ে যায়, সে আসর পেয়ে নেয় এবং যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের এক রাকআত নামায পেয়ে যায়, সে ফজর পেয়ে নেয়।’’[7]

সুতরাং কোন ওয়াক্তে প্রবেশ হওয়ার পর অথবা ঐ নামায পড়তে পড়তে মাসিক শুরু হলে পবিত্রতার পর ঐ ওয়াক্তের নামাযও কাযা পড়তে হবে। যেমন যদি কারো সূর্যাস্তের ২ মিনিট পর ঋতু শুরু হয় (যাতে ১ রাকআত নামায পড়া যায়), তাহলে পবিত্রতার গোসলের পর মাগরিবের ঐ নামায কাযা পড়বে।[8]

২। কুরআন স্পর্শ ও পাঠঃ

নাপাকে কুরআন স্পর্শ অবৈধ।[9]

অনুরূপ মুখে উচ্চারণ করে ঋতুমতী কুরআন তেলাঅত করবে না। মনে মনে পড়তে দোষ নেই। অবশ্য যদি ভুলে যাওয়ার ভয় হয় অথবা শিক্ষিকা ও ছাত্রীর কোন আয়াত উল্লেখ করা জরুরী হয়, তবে উচ্চারণ করতে প্রয়োজনে বৈধ।[10]

পক্ষান্তরে দুআ দরূদ, যিকর, তসবীহ তহলীল, ইস্তেগফার, তওবা, হাদীস ও ফিক্হ পাঠ, কারো দুআয় আমীন বলা, কুরআন শ্রবণ ইত্যাদি বৈধ।[11]

কুরআন মাজীদের তফসীর বা অনুবাদ স্পর্শ করে পড়া দোষের নয়। সিজদার আয়াত শুনে সিজদা করাও বৈধ।[12]

ঋতুমতীর কোলে মাথা রেখে তার সন্তান অথবা স্বামী কুরআন তেলাঅত করতে পারে।[13]

৩। রোযা পালনঃ

মাসিকাবস্থায় রোযা পালন নিষিদ্ধ। তবে রমযানের ফরয রোযা পরে কাযা করা জরুরী। (কিন্তু ঐ অবস্থায় ছাড়া নামাযের কাযা নেই।)[14]

রোযার দিনে সূর্যাস্তের ক্ষণেক পূর্বে মাসিক এলে ঐ দিনের রোযা বাতিল; কাযা করতে হবে। সূর্যাস্তের পূর্বে মাসিক আসছে বলে মনে হলে; কিন্তু প্রস্রাবদ্বারে খুন দেখা না গেলে এবং সূর্যাস্তের পর দেখা দিলে রোযা নষ্ট হবে না।

ফজর উদয় হওয়ার ক্ষণেক পরে মাসিক শুরু হলে ঐ দিনে রোযা হবে না। ফজর উদয়ের ক্ষণেক পূর্বে খুন বন্ধ হলে গোসল না করলেও ঐ দিনের রোযা ফরয।[15]

ফজরের পর গোসল করে নামায পড়বে, অনুরূপ স্বামী-স্ত্রী সঙ্গম করে সেহরী খেয়ে পরে ফজরের আযান হয়ে গেলেও রোযার কোন ক্ষতি হয় না। গোসল করে নামায পড়া জরুরী।[16]

রোযা রেখে দিনের মধ্যভাগে খুন এলে রোযা নষ্ট ও পানাহার বৈধ। যেমন মাসিকের দিনগুলিতে মহিলা পানাহার করতে পারবে এবং দিনে মাসিক বন্ধ হলেও দিনের অবশিষ্ট সময়ে পানাহার বৈধ।[17]

৪। তওয়াফঃ

ফরয, নফল সর্ব প্রকার তওয়াফ অবৈধ। অবশ্য সায়ী এবং মিনা, মুযদালিফাহ ও আরাফাতে অবস্থান, পাথর মারা ইত্যাদি বৈধ। যেমন বিদায়ী তওয়াফের পূর্বে মাসিক শুরু হলে ঐ তওয়াফ করা ওয়াজেব থাকে না।[18]

কিন্তু হজ্জ বা উমরার তওয়াফ পাক হওয়ার পর করতেই হবে। নচেৎ হজ্জ বা উমরা হবে না।[19]

৫। মসজিদ ও ঈদগাহে অবস্থানঃ

মাসিক অবস্থায় মসজিদে বা ঈদগাহে বসা অবৈধ।[20] অবশ্য মসজিদের বাইরে থেকে মসজিদের ভিতরে স্থিত কোন বস্ত্ত উঠিয়ে নেওয়া অবৈধ নয়।[21]

৬। স্বামী-সঙ্গমঃ

মাসিকাবস্থায় সঙ্গম হারাম। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿وَيَسْأَلونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذىً فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ وَلاَ تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللهُ إِنَّ اللهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ﴾

‘‘ওরা তোমাকে রজঃস্রাব (কাল ও স্থান) প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করে, তুমি বল উহা অশুচি। সুতরাং রজঃস্রাবকালে স্ত্রী-সংসর্গ থেকে দূরে থাক এবং পবিত্রা না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকট (সঙ্গমের উদ্দেশ্যে) যেও না। অতঃপর যখন তারা পরিশুদ্ধ হয়ে যায়, তখন তাদের নিকট ঠিক সেইভাবে গমন কর যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেছেন। নিশ্চয় আল্লাহ তওবাকারীদেরকে এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরকে ভালোবাসেন।’’[22]

মাসিকাবস্থায় সঙ্গম করে ফেললে এক দ্বীনার (সওয়া ৪ গ্রাম সোনা বা তার মূল্য) অথবা অর্ধ দ্বীনার সদকা করতে হবে।[23]

অবশ্য অসময়ে যৌনক্ষুধা নিবারণের জন্য স্ত্রী জাঙ্গিয়া পরে লজ্জাস্থান (প্রস্রাব ও পায়খানাদ্বার) পর্দা করে অন্যান্য স্থানে বীর্যপাত ইত্যাদি সর্বপ্রকার যৌনাচার বৈধ।[24]

যেমন, পায়ু ও যোনীপথে সঙ্গম করার আশঙ্কা না থাকলে বা ধৈর্য রাখতে পারলে স্ত্রীর ঊরু-মৈথুনও বৈধ।

প্রকাশ যে, ঋতুমতী স্ত্রীর এটো কিছু বা তার মুখের লালা নাপাক নয়।

৭। তালাক দেওয়াঃ

পূর্বেই আলোচিত হয়েছে যে, মাসিকাবস্থায় তালাক দেওয়া বৈধ নয়। আর দিয়ে ফেললেও ঐ তালাক বাতিল; ধর্তব্য নয়। অবশ্য স্ত্রীর সাথে বাসর করার পূর্বে, গর্ভকালে, অথবা খোলা তালাক প্রার্থনাকালে মাসিকাবস্থায় থাকলে তালাক দেওয়া অবৈধ নয়।[25]

মাসিকাবস্থায় বিবাহ আক্দ (বিয়ে পড়ানো) বৈধ। তবে বাসর না করাই উত্তম। বর মিলন না করে ধৈর্য রাখতে পারলে বাসর করবে; নচেৎ না।[26]

মাসিক বন্ধ হলেই গোসল ফরয। যে সময়েই হোক গোসল করতে হবে। দেশীয় প্রথা অনুযায়ী অথবা লজ্জার খাতিরে নির্দিষ্ট সময় থেকে গোসল পিছিয়ে নামায নষ্ট করলে গোনাহগার হবে। আরো খুন আসবে সন্দেহে কোন নামায পিছিয়ে দিলে কাযা পড়ে নেবে।

মহিলা গোসল নিম্নরূপে করবেঃ

প্রথমে সাবানাদি দিয়ে লজ্জাস্থান ভালোরূপে ধুয়ে হাত পরিষ্কার করে নেবে। অতঃপর গোসলের নিয়ত করে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে পূর্ণ ওযু করবে, তারপর ৩ বার মাথায় পানি নিয়ে ভালো করে এমনভাবে ধৌত করবে, যেন চুলের গোড়ায়-গোড়ায় পানি পৌঁছে যায়। অতঃপর সারা শরীর ধুয়ে নেবে। পরে বস্ত্রখন্ডে বা তুলোর মধ্যে কোন সুগন্ধি লাগিয়ে লজ্জাস্থানে রেখে নেবে।

গোসলের পর আবার খুন দেখা দিলে যদি মেটে বা গাবড়া রঙের খুন হয়, তাহলে কোন ক্ষতি হবে না। মাসিকের মত হলে পুনঃ বন্ধ হলে আবার গোসল করবে।[27]

নামাযের অক্তে সফরে মাসিক বন্ধ হলে, অথবা পানি না থাকলে, অথবা পানি ব্যবহার ক্ষতিকর হলে তায়াম্মুম করে নামায পড়বে।

সবাস্থ্যের ক্ষতি না হলে পরিজনের সাথে একই সঙ্গে হজ্জ বা রোযা পালনের উদ্দেশ্যে বা অন্য কোন প্রয়োজনে মাসিক বন্ধ রাখার ঔষধ ব্যবহার বৈধ। তবে এতে যেন স্বামীকে (ইদ্দতে) ধোঁকা দেওয়ার উদ্দেশ্য না হয়।[28]

[1] (রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, শায়খ মুহাঃ আল-উসাইমীন১৩পৃঃ) [2] (রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা,১৪পৃঃ) [3] (আবু দাঊদ ৩০৭ নং) [4] (আল-ফাতাওয়াল মুহিম্মাহ, লিনিসাইল উম্মাহ ২০৭-২০৮পৃঃ) [5] (ঐ ২০৭পৃঃ) [6] (বুখারী,মুসলিম) [7] (বুখারী, মুসলিম, মিশকাতুল মাসাবীহ ৬০১নং, রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা,১৯পৃঃ) [8] (ঐ১৮পৃঃ) [9] (সূরা আল-ওয়াক্বিয়া (৫৬) : ৭৯) [10] (রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, ২০-২১পৃঃ, তামবীহাতুল মু’মিনাত ৩৬পৃঃ) [11] (রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, ১৯পৃঃ, তামবীহাতুল মু’মিনাত ৩৮পৃঃ) [12] (জামিউ আহকামিন নিসা, ১/১৭৪) [13] (বুখারী, মুসলিম, জামিউ আহকামিন নিসা, ১/১৬৩) [14] (বুখারী ৩২১নং, মুসলিম ২৬৫নং, আবু দাঊদ ২৬৩নং) [15] (জামিউ আহকামিন নিসা, ১/১৭৩) [16] (বুখারী, মুসলিম, রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, ২২পৃঃ) [17] (মুমঃ ৪/৫৪১-৫৪২) [18] (বুখারী, মুসলিম) [19] (রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, ২৩-২৪পৃঃ) [20] (বুখারী,মুসলিম) [21] (মুসলিম, আবু দাঊদ প্রভৃতি, তামবীহাতুল মু’মিনাত ৩৭পৃঃ) [22] (সূরা আল-বাক্বারা (২) : ২২২) [23] (আবু দাঊদ, তিরমিযী প্রভৃতি, আদাবুয যিফাফ ১২২পৃঃ) [24] (বুখারী, মুসলিম, রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, ২৫পৃঃ) [25] (রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, ২৭পৃঃ) [26] (ঐ ২৮ পৃঃ) [27] (আল-ফাতাওয়া আল- ইসলামিয়্যাহ ১/২৪০) [28] (রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, ৪৩, আল-ফাতাওয়া আল- ইসলামিয়্যাহ ১/২৪১)

গ্রন্থঃ আদর্শ বিবাহ ও দাম্পত্য অধ্যায়ঃ বিবাহ ও দাম্পত্য বিষয়াবলী অবৈধ বিবাহ বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে নারী-পুরুষ বৈধভাবে যৌনসুখ উপভোগ করতে পারে। কিন্তু কোন্ পুরুষ নারীর জন্য বৈধ এবং কোন্ নারী পুরুষের জন্য অবৈধ বা অগম্যা তার বিস্তারিত বিধান রয়েছে ইসলামে।[1] অবৈধ নারীকে অথবা অবৈধ নিয়মে বিবাহ করে সংসার করলে ব্যভিচার করা হয়। এমন কতকগুলি কারণ রয়েছে যার কারণে নারী-পুরুষের আপোসে কোন সময়ে বিবাহ বৈধ নয়। প্রথম কারণ, রক্তের সম্পর্কঃ নারী-পুরুষের মাঝে রক্তের সম্পর্ক থাকলে যেহেতু এক অপরের অংশ গণ্য হয় তাই তাদের আপোসে বিবাহ হারাম। এরা হল; ১- পুরুষের পক্ষে; তার মা, দাদী, নানী এবং নারীর পক্ষে; তার বাপ, দাদো ও নানা। ২- পুরুষের পক্ষে; তার কন্যা (বেটী) এবং নাতিন ও পুতিন, আর নারীর পক্ষে; তার পুত্র (ছেলে) এবং নাতি ও পোতা। ৩- পুরুষের পক্ষে; তার (সহোদরা, বৈপিত্রেয়ী ও বৈমাত্রেয়ী) বোন, বুনঝি, ভাইঝি ও তাদের মেয়ে, ভাইপো ও বুনপোর মেয়ে। আর নারীর পক্ষে; তার (সহোদর, বৈপিত্রেয় বা বৈমাত্রেয়) ভাই, ভাইপো, বুনপো ও তাদের ছেলে এবং ভাইঝি ও বুনঝির ছেলে। ৪- পুরুষের পক্ষে; তার ফুফু (বাপের সহোদরা, বৈপিত্রেয়ী বা বৈমাত্রেয়ী বোন) এবং নারীর পক্ষে; তার চাচা (বাপের সহোদর, বৈপিত্রেয় বা বৈমাত্রেয় ভা­ই)। ৫- পুরুষের পক্ষে; তার খালা (মায়ের সহোদরা, বৈপিত্রেয়ী বা বৈমাত্রেয়ী বোন) এবং নারীর পক্ষে; তার মামা (মায়ের সহোদর, বৈপিত্রেয় বা বৈমাত্রেয় ভাই)। প্রকাশ যে, সৎ মায়ের বোন (সৎ খালা) পুরুষের জন্য এবং সৎ মায়ের ভাই (সৎ মামা) নারীর জন্য হারাম বা মাহরাম নয়। এদের আপোসে বিবাহ বৈধ। ৬- পুরুষের পক্ষে; তার বাপ-মায়ের খালা বা ফুফু এবং নারীর পক্ষে তার বাপ-মায়ের চাচা বা মামা অবৈধ।[2] প্রকাশ যে, পুরুষের জন্য তার খালাতো, ফুফাতো, মামাতো, চাচাতো বোন ও (তাদের মেয়ে) বুনঝি বৈধ ও গম্য। অনুরূপ নারীর জন্য তার খালাতো, ফুফাতো, মামাতো, চাচাতো ভাই ও ভাইপো বৈধ ও গম্য। আবার পুরুষের পক্ষে; তার (মামার মৃত্যু বা তালাকের পর) মামী, (চাচার মৃত্যু বা তালাকের পর) চাচী এবং নারীর পক্ষে তার (খালার মৃত্যু বা তালাকের পর) খালু (ফুফুর মৃত্যু বা তালাকের পর) ফোফা গম্য। পূর্বোক্ত গম্য-গম্যার মাঝে বিবাহ বৈধ ও পর্দা ওয়াজেব। রক্তের সম্পর্ক যদি কৃত্রিম হয়, তবে বিবাহ হারাম নয়। সুতরাং (রোগিনীকে রক্ত দিয়ে বাঁচিয়ে তাকে বিবাহ করা রক্তদাতা পুরুষের জন্য অবৈধ নয়। অনুরূপ স্বামী স্ত্রীকে বা স্ত্রী স্বামীকে রক্ত দান করলে বিবাহের কোন ক্ষতি হয় না।[3] দ্বিতীয় কারণঃ বৈবাহিক সম্পর্ক : ১- পুরুষের জন্য (স্ত্রী ও শবশুরের মৃত্যু বা তালাকের পরেও) শাশুড়ী, নানশাশ ও দাদশাশ। (স্ত্রীর সাথে মিলন না হলেও) চিরতরে হারাম। অনুরূপ নারীর পক্ষে তার শবশুর, দাদোশবশুর ও নানাশবশুর অগম্য। ২- রমিতা (যার সাথে সঙ্গম হয়েছে এমন) স্ত্রীর (অপর স্বামীর) কন্যা ও তার বংশজাত কন্যা ও পুতিন বা নাতিন। (স্ত্রীর সাথে মিলন হলে তবে। নচেৎ মিলনের পূর্বে মারা গেলে বা তালাক দিলে তার মেয়ে অবৈধ বা অগম্যা নয়।) তদনুরূপ নারীর জন্য তার স্বামীর (অপর স্ত্রীর) ছেলে ও তার বংশজাত ছেলেও অবৈধ। ৩- পুরুষের জন্য তার সৎমা (বাপ তার সাথে মিলন করুক অথবা না করুক। বাপ মারা গেলে বা তালাক দিলেও) হারাম। অনুরূপ সৎ দাদী এবং নানীও। নারীর জন্য তার সৎবাপ (মায়ের সাথে তার মিলন হলে) অগম্য। অনুরূপ সৎ দাদো এবং নানাও হারাম। ৪- পুরুষের জন্য তার নিজের পুত্রবধূ (আপন ঔরসজাত ছেলের স্ত্রী) অনুরূপ পুতবউ ও নাতবউ এবং নারীর জন্য তার নিজের গর্ভজাত কন্যার স্বামী (জামাই) অনুরূপ নাতজামাই ও পুতজামাই অবৈধ। সুতরাং পুরুষের জন্য তার সৎশাশুড়ী, স্ত্রীর দুধমা, (বিতর্কিত) এবং পালয়িত্রী মা হারাম নয়। অনুরূপ নারীর জন্য তার সৎশ্বশুর, স্বামীর দুধবাপ (বিতর্কিত) এবং পালয়িতা বাপ অবৈধ নয়। স্বামীর এক স্ত্রীর ছেলে-মেয়ের সাথে দ্বিতীয়া স্ত্রীর পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত ছেলে-মেয়ের বিবাহ বৈধ।[4] প্রকাশ যে, বৈবাহিক সূত্রে মিলনের ফলে যাদের সাথে বিবাহ অবৈধ, ব্যভিচার সূত্রে মিলনের ফলে তাদের সাথে বিবাহ অবৈধ কি না–তা নিয়ে বেশ বিতর্ক রয়েছে। অর্থাৎ যেমন বিবাহের পূর্বে কোন নারীর সাথে ব্যভিচার করলে তার মা বা মেয়েকে বিবাহ করা হারাম হবে কি না এবং বিবাহের পরে ব্যভিচার করলে ঐ নারীর মা বা মেয়ে (যে এই পুরুষের স্ত্রী) তার পক্ষে হারাম হয়ে যাবে কি না, শবশুর-বউ-এ ব্যভিচার করলে ছেলের উপর তার ঐ স্ত্রী হারাম হয়ে যাবে কি না, ব্যভিচারজাত কন্যাকে বিবাহ করা যাবে কি না, -এসব বিষয়ে বড্ড মতভেদ রয়েছে। অবশ্য কোন পক্ষের নিকটেই সহীহ কোন দলীল নেই। যদিও অনুমান, অভিরুচি ও বিবেকমতে হারাম সাব্যস্ত হওয়াই উচিৎ।[5] পরন্তু বহু উলামা বলেন, কারো সাথে ব্যভিচার করলেই সে স্ত্রী এবং তার মা শাশুড়ী হয়ে যায় না। সুতরাং এতে ব্যভিচারের কোন প্রভাব নেই।[6] নৈতিক শৈথিল্যের এমন অশ্লীলতা, পশুত্ব ও সমস্যা থেকে আল্লাহ মুসলিম সমাজকে মুক্ত ও পবিত্র রাখুন। আমীন। পক্ষান্তরে বৈধরূপে স্ত্রী মনে করে সহবাস করলে সম্পর্কে প্রভাব পড়ে। যেমন; বিবাহ-বন্ধন শুদ্ধ না হয়েই সহবাস করলে অথবা সহবাস করার পর জানা গেল যে, ঐ স্ত্রীর সাথে স্বামীও কোন দুধ-মায়ের দুধ পান করেছে। এ ক্ষেত্রে স্ত্রী হারাম সাব্যস্ত হবে এবং তার মা ও মেয়েকে বিবাহ করা ঐ পুরুষের জন্য হারাম হবে।[7] তৃতীয় কারণঃ দুধের সম্পর্ক : যদি কোন শিশু (ছেলে অথবা মেয়ে) কোন ভিন্ন মহিলার দুধ পান করে থাকে, তবে সে তার দুধমা। অবশ্য ‘দুধমা’ সাব্যস্তের জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে; ১। ঐ দুধপান শিশুর ২বছর বয়সের ভিতরে হতে হবে। দু’বছর পার হয়ে দুধপান করলে ‘মা’ সাব্যস্ত হবে না।[8] ২। তৃপ্তিসহকারে পাঁচ অথবা ততোধিক বার দুধপান করবে।[9] স্তনবৃন্ত চুষে অথবা মাইপোষ, চামচ কিংবা নলের সাহায্যে দুধ পেটে গেলে তবেই ‘মা’ সাব্যস্ত হবে।[10] ‘দুধমা’ সাব্যস্ত হলে তার সাথে এবং রক্ত-সম্পর্কীয় অন্যান্য আত্মীয়র ন্যায় ঐ মায়ের বংশের সকলের সাথে বিবাহ অবৈধ হবে।[11] সুতরাং রীতিমত দুধপানকারী পুরুষ তার দুধ-মা, দুধ-বোন, দুধ-খালা, দুধ-ভাইঝি, দুধ-বোনঝি প্রভৃতিকে চিরদিনের জন্য বিবাহ করতে পারবে না। তদনুরূপ দুধপানকারী মহিলার তার দুধ-বাপ, দুধ-ভাই, দুধ-চাচা, দুধ-মামা, দুধ-ভাইপো, দুধ-বুনপো প্রভৃতির সাথে বিবাহ বৈধ নয়। অবশ্য যে দুধ পান করেছে তার অন্য ভা­ই-বোনেরা ঐ মায়ের পক্ষে এবং তার ছেলেমেয়ে বা অন্যান্য আত্মীয়র পক্ষে হারাম নয়।[12] কোন পুরুষ যদি (শিশুবেলায়) তার দাদীর দুধ রীতিমত পান করে থাকে, তবে তার পক্ষে রক্ত-সম্পর্কীয় মহিলা ছাড়াও চাচাতো, ফুফাতো এবং নানীর দুধ পান করে থাকলে মামাতো খালাতো বোনও হারাম। কারণ, এই বোনেরা তখন দুধ-ভাইঝি ও দুধ-বোনঝিতে পরিগণিত হয়ে যায়।[13] উল্লেখ্য যে, শৃঙ্গারের সময় স্ত্রীর দুধ মুখে গেলে স্বামী-স্ত্রীর বিবাহ-বন্ধনে কোন ক্ষতি হয় না। কারণ, এটা রীতিমত দুধ পান নয়। চতুর্থ কারণঃ লিআন : স্বামীর সংসারে থেকে যদি স্ত্রী ব্যভিচার ক’রে তা অস্বীকার করে এবং এই ব্যভিচারের উপর যদি স্বামী ৪ জন সাক্ষী কাজীর সামনে উপস্থিত না করতে পারে, তবে কাজী প্রত্যেককে কসম করাবেন; প্রথমে স্বামী বলবে, ‘আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি যে, আমি আমার স্ত্রী অমুককে যে ব্যভিচারের অপবাদ দিয়েছি তাতে সত্যবাদী।’ এইরূপ চারবার বলার পর পঞ্চমবারে তাকে থামিয়ে কাজী বলবেন, ‘আল্লাহকে ভয় কর, এই (শেষ কসম)টাই আল্লাহর আযাব অনিবার্যকারী। (সত্য বল। কারণ,) আখেরাতের আযাব হতে দুনিয়ার আযাব (মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার শাস্তি) সহজতর।’ এরপরেও যদি সে বিরত না হয়, তবে পঞ্চমবারে বলবে, ‘আমি আমার স্ত্রী অমুককে যে ব্যভিচারের অপবাদ দিয়েছি, তাতে যদি আমি মিথ্যাবাদী হই তাহলে আমার উপর আল্লাহর অভিশাপ হোক!’ অতঃপর স্ত্রী অনুরূপ বলবে, ‘আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি যে, আমাকে আমার স্বামী অমুক যে ব্যভিচারের অপবাদ দিয়েছে তাতে ও মিথ্যাবাদী।’ এইরূপ চারবার বলার পর পঞ্চমবারে থামিয়ে কাজী তাকে বলবেন, আল্লাহকে ভয় কর, এটাই আল্লাহর আযাব অনিবার্যকারী, (সত্য বল। কারণ,) আখেরাতের আযাবের চেয়ে দুনিয়ার আযাব (ব্যভিচারের শাস্তি) সহজতর।’ এরপরেও যদি বিরত না হয়, তাহলে পঞ্চমবারে সে বলবে, ‘আমাকে আমার স্বামী অমুক যে ব্যভিচারের অপবাদ দিয়েছে, তাতে যদি ও সত্যবাদী হয়, তাহলে আমার উপর আল্লাহর গযব হোক!’ এতদূর করার পর কাজী স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ করে দেবেন। আর এতে কারো শাস্তি হবে না।[14] এই ধরনের লা’নত ও অভিশাপের বিচ্ছেদকে ‘লিআন’ বলে। এই বিচ্ছেদ হওয়ার পর ঐ স্ত্রী ঐ স্বামীর জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যায়। কোন প্রকারে আর পুনর্বিবাহ বৈধ নয়।[15] প্রকাশ যে, রক্ত, দুধ ও বৈবাহিক সম্পর্কের ফলে যাদের আপোসে চিরতরে বিবাহ অবৈধ কেবল তাদের সামনেই মহিলার পর্দা নেই। বাকী বন্ধুত্ব, পাতানো, বা পীর ধরার (?) ফলে কেউ হারাম হয় না। সুতরাং বন্ধুর বোন, পাতানো বোন এবং পীর-বোনের (?) সাথেও বিবাহ হালাল এবং পর্দা ওয়াজেব। আরো এমন কতকগুলি কারণ রয়েছে যাতে নারী-পুরুষের বিবাহ চিরতরে হারাম নয়; তবে সাময়িকভাবে হারাম। সেই নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হলে বিবাহ বৈধ। এমন কারণও কয়েকটিঃ- প্রথম কারণঃ কুফর ও শির্ক। কোন মুসলিম (নারী-পুরুষ) কোন কাফের বা মুশরিক (নারী-পুরুষ)কে বিবাহ করতে পারে না। অবশ্য ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হলে তার সাথে বিবাহ বৈধ। এ ব্যপারে মহান আল্লাহ বলেন, ﴿وَلاَ تَنْكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ وَلَأَمَةٌ مُؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ وَلاَ تُنْكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُوا وَلَعَبْدٌ مُؤْمِنٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكٍ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ أُولَئِكَ يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ وَاللهُ يَدْعُو إِلَى الْجَنَّةِ وَالْمَغْفِرَةِ﴾ ‘‘আর অংশীবাদী রমণী যে পর্যন্ত মুসলমান না হয়, তোমরা তাকে বিবাহ করো না। মুশরিক নারী তোমাদের পছন্দ হলেও নিশ্চয়ই মুসলিম ক্রীতদাসী তার চেয়ে উত্তম। আর মুসলমান না হওয়া পর্যন্ত অংশীবাদী পুরুষের সাথে কন্যার বিবাহ দিও না। অংশীবাদী পুরুষ তোমাদের পছন্দ হলেও মুসলিম ক্রীতদাস তার চেয়ে উত্তম। কারণ, ওরা তোমাদেরকে জাহান্নামের দিকে আহবান করে এবং আল্লাহ তোমাদেরকে নিজ অনুগ্রহ ও ক্ষমার দিকে আহবান করেন।’’[16] {لَا هُنَّ حِلٌّ لَّهُمْ وَلَا هُمْ يَحِلُّونَ لَهُنَّ} (10) سورة الممتحنة ‘‘মু’মিন নারীগণ কাফের পুরুষদের জন্য এবং কাফের পুরুষরা মু’মিন নারীদের জন্য বৈধ নয়।’’[17] শিয়া, কাদেয়ানী, কবুরী, মাযারী এবং মতান্তরে বেনামাযী প্রভৃতি পাত্র-পাত্রীর সাথে কোন (তওহীদবাদী) মুসলিম পাত্র-পাত্রীর বিবাহ বৈধ নয়।[18] পক্ষান্তরে আসমানী কিতাবধারী ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টান সচ্চরিত্র নারীকে (ইসলাম গ্রহণ না করলেও) মুসলিম পুরুষ বিবাহ করতে পারে।[19] তবে এর চেয়ে মুসলিম নারীই যে উত্তম তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু কোন মুসলিম নারীর সাথে কোন কিতাবধারী পুরুষের বিবাহ বৈধ নয়; যতক্ষণ না সে ইসলাম গ্রহণ করেছে। যেহেতু ইসলাম চির উন্নত, অবনত হয় না। তাছাড়া মুসলিমরা সকল নবীর প্রতি ঈমান রাখে, কিন্তু কিতাবধারীরা ইসলামের সর্বশেষ নবী (সাঃ)-এর প্রতি ঈমান রাখে না।[20] প্রকাশ যে, মুসলিম নামধারী মুশরিকরা (যারা আল্লাহ ছাড়া পীর, কবর বা মাযারের নিকট প্রয়োজনাদি ভিক্ষা করে, তারা) আহলে কিতাবের মত নয়। তাদের সাথে বিবাহ-শাদী বৈধ নয়।[21] কোন পুরুষ ইসলাম গ্রহণ করলেও চট্ করে তার সাথে মুসলিম নারীর বিবাহ দেওয়া উচিৎ নয়। মুসলিম হয়ে নামায-রোযা ও অন্যান্য ধর্মীয় বিষয় পালন করছে কি না, তা দেখা উচিৎ। নচেৎ এমনও হতে পারে (বরং অধিকাংশ এমনটাই হয়) যে, মুসলিম যুবতীর রূপ ও প্রেমে মুগ্ধ হয়ে কেবল তাকেই পাবার উদ্দেশ্যে নামে মাত্র মুসলিম হয়ে ইসলামে ফাঁকি দেয়।[22] কোন মুসলিম পুরুষ অমুসলিম নারীকে বিবাহ করতে চাইলে তাকে প্রকৃত মুসলিম করে ইদ্দত দেখে তারপর বিবাহ করবে। নামায-রোযা প্রভৃতিতে যত্নবান না হলে বিবাহ বৈধ হবে না।[23] দ্বিতীয় কারণঃ- অপরের স্বামীত্বঃ অপরের বিবাহিতা স্ত্রী তার স্বামীত্বে থাকতে আর অন্য পুরুষের জন্য বৈধ নয়। সে মারা গিয়ে অথবা তালাক দিয়ে ইদ্দতের যথা সময় অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত ঐ রমণীকে বিবাহ করা হারাম। সুতরাং ঐ মহিলা আসলে গম্যা, কিন্তু অপরের স্বামীত্বে থাকার জন্য সাময়িকভাবে অন্যের পক্ষে অবৈধ। এমন বিবাহিত সধবাকে কেউ বিয়ে করলেও বিবাহ-বন্ধনই হয় না। সে প্রথম স্বামীরই অধিকারভুক্ত থাকে, আর দ্বিতীয় স্বামী ব্যভিচারী হয়। পরন্তু একটি মহিলা একাধিক স্বামী গ্রহণ করতে পারে না। কারণ এতে বংশ ও সন্তানের অবস্থা সর্বহারা হয়। পক্ষান্তরে একজন পুরুষ একাধিক স্ত্রী (৪টি পর্যন্ত) গ্রহণ করতে পারে।[24] কারণ, এতে ঐ ভয় থাকে না। তাছাড়া বলাই বাহুল্য যে, ইসলাম মানবপ্রকৃতির জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ ধর্ম। জীবনের সর্বপ্রকার সমস্যার সমাধান খুঁজে মিলে এই ধর্মে। মানবকূলের সকল মানুষের প্রকৃতি, যৌনক্ষুধা বা কামশক্তি সমান নয়। স্ত্রী তার বীর্যবান স্বামীর সম্পূর্ণ ক্ষুধা নাও মিটাতে পারে; বিশেষ করে যদি সে রোগা হয় অথবা তার ঋতুর সময় দীর্ঘস্থায়ী হয়। পক্ষান্তরে ব্যভিচারও মানবচরিত্রের প্রতিকূল। স্ত্রী বন্ধ্যা হলে বংশে বাতি দেবার জন্য সন্তান লাভের উদ্দেশ্যে অথবা একজন বিধবা বা পরিত্যক্তার সৌভাগ্য ফিরিয়ে আনতে এবং আরো অন্যান্য যুক্তিযুক্ত কারণে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বিবাহ সংসারে প্রয়োজন হয়। আর এটা নৈতিকতার পরিপন্থী নয়। চরিত্র ও নৈতিকতার প্রতিকূল তো এক বা একাধিক উপপত্নী বা ‘গার্ল্স ফ্রেন্ড্’ গ্রহণ করা।[25] পক্ষান্তরে একাধিক বিবাহের শর্ত আছেঃ ১- একই সঙ্গে যেন চারের অধিক না হয়। ২- স্ত্রীদের মাঝে যেন ন্যায়পরায়ণতা থাকে। ভরণ-পোষণ, চরিত্র-ব্যবহার প্রভৃতিতে যেন সকলকে সমান চোখে দেখা হয়। সকলের নিকট যেন সমানভাবে রাত্রি-বাস বা অবস্থান করা হয়। নচেৎ একাধিক বিবাহ হারাম।[26] অবশ্য অন্তরের গুপ্ত প্রেমকে সকলের জন্য সমানভাবে ভাগ করা অসম্ভব।[27] তাই অন্তর যদি কাউকে অধিক পেতে চায় বা ভালোবাসে তবে তা দূষণীয় নয়। কিন্তু প্রকাশ্যে সকলের সাথে সমান ব্যবহার প্রদর্শন ওয়াজেব। একাধিক বিবাহ করলে কোন স্ত্রীর মন্দ-চর্চা অন্য স্ত্রীর নিকট করবে না। কোন স্ত্রীকে অন্য স্ত্রী প্রসঙ্গে কুমন্তব্য বা কুৎসা করতে সুযোগ দেবে না। তাদের আপোষে যাতে ঈর্ষাঘটিত কোন মনোমালিন্য বা দুর্ব্যবহার না হয়, তার খেয়াল রাখবে। পৃথক-পৃথক বাসা হলেই শান্তির আশা করা যায়। নচেৎ ‘নিম তেঁতো, নিষিন্দি তেঁতো, তেঁতো মাকাল ফল, তাহারও অধিক তেঁতো দু’ সতীনের ঘর।’ বিশেষ করে বেপর্দা পরিবেশ হলে তো তিক্তময় নরক সে সংসার। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, দ্বিতীয় বিবাহ করার সময় প্রথম স্ত্রীর অনুমতি জরুরী নয়।[28] কুফরীর কারণে স্বামীর অধিকার থেকে ছিন্ন হয়ে মুসলিমদের যুদ্ধবন্দিনীরূপে কোন মুজাহিদের ভাগে এলে এক মাসিক পরীক্ষার পর অথবা গর্ভ হলে প্রসব ও নেফাসকাল পর্যন্ত অপেক্ষার পর অধিকারভুক্ত হবে; যদিও তার স্বামী বর্তমানে জীবিত আছে।[29] কোন মহিলার স্বামী মারা গেলে অথবা তালাক দিলে সে তার ইদ্দতকাল পর্যন্ত ঐ স্বামীর অধিকারে থাকে। অতএব কোন রমণীকে তার ইদ্দতকালে বিবাহ করা অবৈধ।[30] ইদ্দতের বিস্তারিত বিবরণ পরে আসবে ইনশাআল্লাহ। কোন মহিলা গর্ভবতী থাকলে গর্ভকাল তার ইদ্দত। গর্ভাবস্থায় বিবাহ বৈধ নয়। অবৈধ গোপন প্রেমে যার ব্যভিচারে গর্ভবতী হয়েছে সেই প্রেমিক বিবাহ করলেও গর্ভাবস্থায় আক্দ সহীহ নয়। প্রসবের পরই আক্দ সম্ভব।[31] কোন মহিলার স্বামী নিখোঁজ হলে নিখোঁজ হওয়ার দিন থেকে পূর্ণ চার বছর অপেক্ষা করার পর আরো চার মাস দশদিন স্বামী-মৃত্যুর ইদ্দত পালন করে দ্বিতীয় স্বামী গ্রহণ করতে পারে। এই নির্ধারিত সময়ের পূর্বে তার বিবাহ হারাম। বিবাহের পর তার পূর্ব স্বামী ফিরে এলে তার এখতিয়ার হবে; স্ত্রী ফেরৎ নিতে পারে অথবা মোহর ফেরৎ নিয়ে তাকে ঐ স্বামীর জন্য ত্যাগ করতেও পারে।[32] স্ত্রী চাইলে আর নতুনভাবে বিবাহ আক্দের প্রয়োজন নেই। কারণ, স্ত্রী তারই এবং দ্বিতীয় আক্দ তার ফিরে আসার পর বাতিল। তবে তাকে ফিরে নেওয়ার পূর্বে ঐ স্ত্রী (এক মাসিক) ইদ্দত পালন করবে।[33] গর্ভবতী হলে প্রসবকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। আর সে সময়ে দ্বিতীয় স্বামী থেকে পর্দা ওয়াজেব হয়ে যাবে। তৃতীয় কারণঃ- দুই নিকটাত্মীয়র জমায়েত সাধারণতঃ একাধিক বিবাহে অশান্তি বেশীই হয়। সতীন তার সতীনকে সহজে সইতে পারে না। সতীনে-সতীনে বিচ্ছিন্নতা থাকে। অতএব সতীন একান্ত নিকটাত্মীয় হলে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন হয়, যা হারাম। তাছাড়া নিকটাত্মীয় সতীনের কথায় গায়ে ঝালা ধরে বেশী, দ্বন্দ্ব বাড়ে অধিক। কথায় বলে ‘আনসতীনে নাড়ে চাড়ে, বোন সতীনে পুড়িয়ে মারে।’ তাই ইসলাম এমন একান্ত নিকটাত্মীয়দেরকে একত্রে স্ত্রীরূপে জমা করতে নিষেধ করেছে। সুতরাং স্ত্রী থাকতে তার (সহোদরা, বৈপিত্রেয়ী, বৈমাত্রেয়ী বা দুধ) বোন (অর্থাৎ, শালী) কে বিবাহ করা হারাম। তদনুরূপ স্ত্রীর বর্তমানে তার খালা বা বোনঝি, ফুফু বা ভাইঝিকে বিবাহ করা অবৈধ। স্ত্রী মারা গেলে বা তালাক দিলে ইদ্দতের পর তার ঐ নিকটাত্মীয়র কাউকে বিবাহ করতে বাধা নেই। স্ত্রীর কাঠবাপের (বা মায়ের স্বামীর) অন্য স্ত্রীর মেয়েকে বিবাহ করতে দোষ নেই।[34] চতুর্থ কারণঃ ইহরাম হজ্জ বা উমরায় ইহরাম বাঁধা অবস্থায় বিবাহ ও বিবাহের পয়গাম হারাম। এই অবস্থায় কারো বিবাহ হলেও তা বাতিল।[35] পঞ্চম কারণঃ চারের অধিক সংখ্যা চার স্ত্রী বর্তমান থাকতে পঞ্চম বিবাহ হারাম।[36] চারের মধ্যে কেউ ইদ্দতে থাকলে তার ইদ্দত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য বিবাহ করা যাবে না। ষষ্ঠ কারণঃ তিন তালাক। স্ত্রীকে তিন তালাক তিন পবিত্রতায় দিলে অথবা জীবনের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তিনবার তালাক দিলে ঐ স্ত্রীকে পুনঃ বিবাহ করা বৈধ নয়। যদি একান্তই তাকে পুনরায় ফিরে পেতে চায়, তবে ঐ স্ত্রী দ্বিতীয় স্বামী ও তার যৌনস্বাদ গ্রহণের পর সে সেবচ্ছায় তালাক দিলে অথবা মারা গেলে তবে ইদ্দতের পর তাকে পুনর্বিবাহ করতে পারে। নচেৎ তার পূর্বে নয়।[37] স্ত্রীকে তিন তালাক দেওয়ার পর লজ্জিত হয়ে ভুল বুঝতে পেরে তাকে ফিরে পেতে ‘হালালা’ পন্থা অবলম্বন বৈধ নয়। অর্থাৎ, স্ত্রীকে হালাল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে কোন বন্ধু বা চাচাতো-মামাতো ভায়ের সাথে বিবাহ দিয়ে এক রাত্রি বাস করে তালাক দিলে পরে ইদ্দতের পর নিজে বিবাহ করা এক প্রকার ধোঁকা এবং ব্যভিচার। যাতে দ্বিতীয় স্বামী এক রাত্রি ব্যভিচার করে এবং প্রথম স্বামী ঐ স্ত্রীকে হালাল মনে করে ফিরে নিয়েও তার সাথে চিরদিন ব্যভিচার করতে থাকে। কারণ, প্রকৃতপক্ষে স্ত্রী ঐভাবে তার জন্য হালাল হয় না। যে ব্যক্তি হালাল করার জন্য ঐরূপ বিবাহ করে, হাদীসের ভাষায় সে হল ‘ধার করা ষাঁড়।’[38] এই ব্যক্তি এবং যার জন্য হালাল করা হয় সে ব্যক্তি (অর্থাৎ প্রথম স্বামী) আল্লাহ ও তদীয় রসূলের অভিশপ্ত।[39] জায়বদলী বা বিনিময়-বিবাহ বিনা পৃথক মোহরে বৈধ নয়। এ ওর বোন বা বেটিকে এবং ও এর বোন বা বেটীকে বিনিময় ক’রে পাত্রীর বদলে পাত্রীকে মোহর বানিয়ে বিবাহ ইসলামে হারাম।[40] অবশ্য বহু উলামার নিকট উভয় পাত্রীর পৃথক মোহর হলেও জায়বদলী বিয়ে বৈধ নয়। (যদি তাতে কোন ধোকা-ধাপ্পা দিয়ে নামকে-ওয়াস্তে মোহর বাঁধা হয় তাহলে।[41] মুত্আহ বা সাময়িক বিবাহও ইসলামে বৈধ নয়। কিছুর বিনিময়ে কেবল এক সপ্তাহ বা মাস বা বছর স্ত্রীসঙ্গ গ্রহণ করে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় যেহেতু ঐ স্ত্রী ও তার সন্তানের দুর্দিন আসে, তাই ইসলাম এমন বিবাহকে হারাম ঘোষণা করেছে।[42] অনুরূপ তালাকের নিয়তে বিবাহ এক প্রকার ধোঁকা। বিদেশে গিয়ে বা দেশেই বিবাহ-বন্ধনের সময় মনে মনে এই নিয়ত রাখা যে, কিছুদিন সুখ লুটে তালাক দিয়ে দেশে ফিরব বা চম্পট দেব, তবে এমন বিবাহও বৈধ নয়। (এরূপ করলে ব্যভিচার করা হয়।) কারণ, এতেও ঐ স্ত্রী ও তার সন্তানের অসহায় অবস্থা নেমে আসে।[43] যাতে নারীর মান ও অধিকার খর্ব হয়। কোন তরুণীর বিনা সম্মতিতে জোরপূর্বক বিবাহ দেওয়া হারাম। এমন বিবাহ-বন্ধন শুদ্ধই হয় না।[44] বাল্য-বিবাহ বৈধ।[45] তবে সাবালক হওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর এক অপরকে পছন্দ না হলে তারা বিবাহবন্ধন ছিন্ন করতে পারে।[46] সববংশ বা সবগোত্রের আত্মীয় গম্য পাত্র-পাত্রীর বিবাহ বৈধ। তবে ভিন্ন গোত্রে অনাত্মীয়দের সাথেই বৈবাহিক-সূত্র স্থাপন করা উত্তম।[47] বিশেষ করে সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি ও মনোমালিন্য নিয়ে বাড়াবাড়ি অধিক হয় সবগোত্রে ঘরে-ঘরে বিবাহ হলে। অভিজ্ঞরা বলেন, ‘ঘরে-ঘরে বিয়ে দিলে, ঘর পর হয়ে যায়। আত্মীয়তা বাড়াতে গিয়ে তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় একেবারেই।’ অবশ্য সর্বক্ষেত্রে দ্বীনদারীই হল কষ্টিপাথর। কোন মুসলিম কোন ব্যভিচারিণী নারীকে বিবাহ করতে পারে না। বরং এ ব্যাপারে ঐরূপ নারী মনোমুগ্ধকর সুন্দরী রূপের ডালি বা ডানা-কাটা পরি হলেও মুসলিম পুরুষের তাতে রুচি হওয়াই উচিৎ নয়। একান্ত প্রেমের নেশায় নেশাগ্রস্ত হলেও তাকে সহধর্মিনী করা হারাম। এ ব্যাপারে আল্লাহ পাক বলেন, ﴿الزَّانِي لاَ يَنْكِحُ إِلاَّ زَانِيَةً أَوْ مُشْرِكَةً وَالزَّانِيَةُ لا يَنْكِحُهَا إِلاَّ زَانٍ أَوْ مُشْرِكٌ وَحُرِّمَ ذَلِكَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ﴾ ‘‘ব্যভিচারী কেবল ব্যভিচারিণী অথবা অংশীবাদিনীকে এবং ব্যভিচারিণী কেবল ব্যভিচারী অথবা অংশীবাদী পুরুষকে বিবাহ করে থাকে। আর মুমিন পুরুষদের জন্য তা হারাম করা হল।’’[48] সুতরাং অসতী নারী মুশরিকের উপযুক্ত; মুসলিমের নয়। কারণ উভয়েই অংশীবাদী; এ পতির প্রেমে উপপতিকে অংশীস্থাপন করে এবং ও করে একক মা’বূদের ইবাদতে অন্য বাতিল মা’বূদকে শরীক। (অবশ্য অসতী হলেও কোন মুশরিকের সাথে কোন মুসলিম নারীর বিবাহ বৈধ নয়।) পক্ষান্তরে ব্যভিচারিণী যদি তওবা করে প্রকৃত মুসলিম নারী হয়, তাহলে এক মাসিক অপেক্ষার পর তবেই তাকে বিবাহ করা বৈধ হতে পারে। গর্ভ হলে গর্ভাবস্থায় বিবাহ-বন্ধন শুদ্ধ নয়। প্রসবের পরই বিবাহ হতে হবে।[49] [1] (সূরা আন-নিসা (৪) : ২৩) [2] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৯/৭৩) [3] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৩/৩৭০, ৪/৩৩২) [4] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ২/২৬২, ৯/৬৭) [5] (সিলসিলা যয়ীফাহ ১/৫৬৬, ইখতিয়ারাত ইবনে তাইমিয়্যাহ ৫৮৫-৫৮৮পৃঃ, ফাতাওয়া মুহাম্মদ বিন ইব্রাহীম ১০/১৩০) [6] (মুমঃ ৭/৪৪) [7] (ঐ ৭/৪৫) [8] (সূরা আল-বাক্বারা (২) : ২৩৩) [9] (মুসলিম) [10] (আহকামু খিতবাতিন নিকাহি ফিল ইসলাম, ডক্টর শওকত উলাইয়্যান) [11] (বুখারী ৫০৯৯নং, মুসলিম) [12] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৬/২৬৩) [13] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৬/২৬৬) [14] (সূরা আন-নূর (২৪) : ৬-৯, বুখারী, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩৩০৭নং) [15] (আহকামু খিতবাতিন নিকাহি ফিল ইসলাম ১১৬পৃঃ) [16] (সূরা আল-বাক্বারা (২) : ২২১) [17] (সূরা আল-মুমতাহিনা (৬০) : ১০) [18] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৬/১১৫,১৭/৬১, ২৮/৯৩) [19] (সূরা আল-মায়িদা (৫) : ৫) [20] (ইসলাম মেঁ হালাল অ হারাম, ইউসুফ ক্বারযাবী, অনুবাদ, শাম্স পীরযাদাহঃ ২৪৫পৃঃ) [21] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ২৮/৯৩) [22] (ফাতাওয়াল মারআহ ৪৬পৃঃ) [23] (বুখারী ৫২৮৬নং, ফাতাওয়া নাযীরিয়্যাহ ২/৩৫৭) [24] (সূরা আন-নিসা (৪) : ৩) [25] (তামবীহাতুল মু’মিনাত ৬৭-৭৫পৃঃ দ্রঃ) [26] (সূরা আন-নিসা (৪) : ৩) [27] (সূরা আন-নিসা (৪) : ১২৯) [28] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ২৫/৬৭) [29] (সূরা আন-নিসা (৪) : ২৮) [30] (সূরা আল-বাক্বারা (২) : ২৩৫) [31] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৯/৫৪,৭২) [32] (মানারুস সাবীল ২/৮৮পৃঃ) [33] (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ২/৭৬৬) [34] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৯/৫৭) [35] (যাদুল মাআদ ৪/৬) [36] (সূরা আল-বাক্বারা (৪) :৩) [37] (সূরা আল-বাক্বারা (২) : ২৩০) [38] (ইরওয়াউল গালীল ৬/৩০৯) [39] (ইরওয়াউল গালীল ১৮৯৭ নং, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩২৯৬) [40] (বুখারী, মুসলিম ইত্যাদি) [41] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৪/৩২৮, ৯/৬৮) [42] (বুখারী, মুসলিম, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩১৪৭নং) [43] (ফাতাওয়াল মারআহ ৪৯পৃঃ) [44] (ফাতাওয়াল মারআহ ৪৮ পৃঃ) [45] (মুসলিম, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩১২৯নং) [46] (বুখারী ৫১৩৮নং, আবু দাঊদ, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩১৩৬নং) [47] (ফাতাওয়াল মারআহ ৪৭পৃঃ) [48] (সূরা আন-নূর (২৪) : ৩) [49] (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ২/৭৮০)

গ্রন্থঃ আদর্শ বিবাহ ও দাম্পত্য
অধ্যায়ঃ বিবাহ ও দাম্পত্য বিষয়াবলী

অবৈধ বিবাহ

বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে নারী-পুরুষ বৈধভাবে যৌনসুখ উপভোগ করতে পারে। কিন্তু কোন্ পুরুষ নারীর জন্য বৈধ এবং কোন্ নারী পুরুষের জন্য অবৈধ বা অগম্যা তার বিস্তারিত বিধান রয়েছে ইসলামে।[1]

অবৈধ নারীকে অথবা অবৈধ নিয়মে বিবাহ করে সংসার করলে ব্যভিচার করা হয়।

এমন কতকগুলি কারণ রয়েছে যার কারণে নারী-পুরুষের আপোসে কোন সময়ে বিবাহ বৈধ নয়।

প্রথম কারণ, রক্তের সম্পর্কঃ

নারী-পুরুষের মাঝে রক্তের সম্পর্ক থাকলে যেহেতু এক অপরের অংশ গণ্য হয় তাই তাদের আপোসে বিবাহ হারাম। এরা হল;

১- পুরুষের পক্ষে; তার মা, দাদী, নানী এবং নারীর পক্ষে; তার বাপ, দাদো ও নানা।

২- পুরুষের পক্ষে; তার কন্যা (বেটী) এবং নাতিন ও পুতিন, আর নারীর পক্ষে; তার পুত্র (ছেলে) এবং নাতি ও পোতা।

৩- পুরুষের পক্ষে; তার (সহোদরা, বৈপিত্রেয়ী ও বৈমাত্রেয়ী) বোন, বুনঝি, ভাইঝি ও তাদের মেয়ে, ভাইপো ও বুনপোর মেয়ে। আর নারীর পক্ষে; তার (সহোদর, বৈপিত্রেয় বা বৈমাত্রেয়) ভাই, ভাইপো, বুনপো ও তাদের ছেলে এবং ভাইঝি ও বুনঝির ছেলে।

৪- পুরুষের পক্ষে; তার ফুফু (বাপের সহোদরা, বৈপিত্রেয়ী বা বৈমাত্রেয়ী বোন) এবং নারীর পক্ষে; তার চাচা (বাপের সহোদর, বৈপিত্রেয় বা বৈমাত্রেয় ভা­ই)।

৫- পুরুষের পক্ষে; তার খালা (মায়ের সহোদরা, বৈপিত্রেয়ী বা বৈমাত্রেয়ী বোন) এবং নারীর পক্ষে; তার মামা (মায়ের সহোদর, বৈপিত্রেয় বা বৈমাত্রেয় ভাই)।

প্রকাশ যে, সৎ মায়ের বোন (সৎ খালা) পুরুষের জন্য এবং সৎ মায়ের ভাই (সৎ মামা) নারীর জন্য হারাম বা মাহরাম নয়। এদের আপোসে বিবাহ বৈধ।

৬- পুরুষের পক্ষে; তার বাপ-মায়ের খালা বা ফুফু এবং নারীর পক্ষে তার বাপ-মায়ের চাচা বা মামা অবৈধ।[2]

প্রকাশ যে, পুরুষের জন্য তার খালাতো, ফুফাতো, মামাতো, চাচাতো বোন ও (তাদের মেয়ে) বুনঝি বৈধ ও গম্য। অনুরূপ নারীর জন্য তার খালাতো, ফুফাতো, মামাতো, চাচাতো ভাই ও ভাইপো বৈধ ও গম্য।

আবার পুরুষের পক্ষে; তার (মামার মৃত্যু বা তালাকের পর) মামী, (চাচার মৃত্যু বা তালাকের পর) চাচী এবং নারীর পক্ষে তার (খালার মৃত্যু বা তালাকের পর) খালু (ফুফুর মৃত্যু বা তালাকের পর) ফোফা গম্য। পূর্বোক্ত গম্য-গম্যার মাঝে বিবাহ বৈধ ও পর্দা ওয়াজেব।

রক্তের সম্পর্ক যদি কৃত্রিম হয়, তবে বিবাহ হারাম নয়। সুতরাং (রোগিনীকে রক্ত দিয়ে বাঁচিয়ে তাকে বিবাহ করা রক্তদাতা পুরুষের জন্য অবৈধ নয়। অনুরূপ স্বামী স্ত্রীকে বা স্ত্রী স্বামীকে রক্ত দান করলে বিবাহের কোন ক্ষতি হয় না।[3]

দ্বিতীয় কারণঃ বৈবাহিক সম্পর্ক :

১- পুরুষের জন্য (স্ত্রী ও শবশুরের মৃত্যু বা তালাকের পরেও) শাশুড়ী, নানশাশ ও দাদশাশ। (স্ত্রীর সাথে মিলন না হলেও) চিরতরে হারাম। অনুরূপ নারীর পক্ষে তার শবশুর, দাদোশবশুর ও নানাশবশুর অগম্য।

২- রমিতা (যার সাথে সঙ্গম হয়েছে এমন) স্ত্রীর (অপর স্বামীর) কন্যা ও তার বংশজাত কন্যা ও পুতিন বা নাতিন। (স্ত্রীর সাথে মিলন হলে তবে। নচেৎ মিলনের পূর্বে মারা গেলে বা তালাক দিলে তার মেয়ে অবৈধ বা অগম্যা নয়।) তদনুরূপ নারীর জন্য তার স্বামীর (অপর স্ত্রীর) ছেলে ও তার বংশজাত ছেলেও অবৈধ।

৩- পুরুষের জন্য তার সৎমা (বাপ তার সাথে মিলন করুক অথবা না করুক। বাপ মারা গেলে বা তালাক দিলেও) হারাম। অনুরূপ সৎ দাদী এবং নানীও।

নারীর জন্য তার সৎবাপ (মায়ের সাথে তার মিলন হলে) অগম্য। অনুরূপ সৎ দাদো এবং নানাও হারাম।

৪- পুরুষের জন্য তার নিজের পুত্রবধূ (আপন ঔরসজাত ছেলের স্ত্রী) অনুরূপ পুতবউ ও নাতবউ এবং নারীর জন্য তার নিজের গর্ভজাত কন্যার স্বামী (জামাই) অনুরূপ নাতজামাই ও পুতজামাই অবৈধ।

সুতরাং পুরুষের জন্য তার সৎশাশুড়ী, স্ত্রীর দুধমা, (বিতর্কিত) এবং পালয়িত্রী মা হারাম নয়। অনুরূপ নারীর জন্য তার সৎশ্বশুর, স্বামীর দুধবাপ (বিতর্কিত) এবং পালয়িতা বাপ অবৈধ নয়।

স্বামীর এক স্ত্রীর ছেলে-মেয়ের সাথে দ্বিতীয়া স্ত্রীর পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত ছেলে-মেয়ের বিবাহ বৈধ।[4]

প্রকাশ যে, বৈবাহিক সূত্রে মিলনের ফলে যাদের সাথে বিবাহ অবৈধ, ব্যভিচার সূত্রে মিলনের ফলে তাদের সাথে বিবাহ অবৈধ কি না–তা নিয়ে বেশ বিতর্ক রয়েছে। অর্থাৎ যেমন বিবাহের পূর্বে কোন নারীর সাথে ব্যভিচার করলে তার মা বা মেয়েকে বিবাহ করা হারাম হবে কি না এবং বিবাহের পরে ব্যভিচার করলে ঐ নারীর মা বা মেয়ে (যে এই পুরুষের স্ত্রী) তার পক্ষে হারাম হয়ে যাবে কি না, শবশুর-বউ-এ ব্যভিচার করলে ছেলের উপর তার ঐ স্ত্রী হারাম হয়ে যাবে কি না, ব্যভিচারজাত কন্যাকে বিবাহ করা যাবে কি না, -এসব বিষয়ে বড্ড মতভেদ রয়েছে। অবশ্য কোন পক্ষের নিকটেই সহীহ কোন দলীল নেই। যদিও অনুমান, অভিরুচি ও বিবেকমতে হারাম সাব্যস্ত হওয়াই উচিৎ।[5]

পরন্তু বহু উলামা বলেন, কারো সাথে ব্যভিচার করলেই সে স্ত্রী এবং তার মা শাশুড়ী হয়ে যায় না। সুতরাং এতে ব্যভিচারের কোন প্রভাব নেই।[6]

নৈতিক শৈথিল্যের এমন অশ্লীলতা, পশুত্ব ও সমস্যা থেকে আল্লাহ মুসলিম সমাজকে মুক্ত ও পবিত্র রাখুন। আমীন।

পক্ষান্তরে বৈধরূপে স্ত্রী মনে করে সহবাস করলে সম্পর্কে প্রভাব পড়ে। যেমন; বিবাহ-বন্ধন শুদ্ধ না হয়েই সহবাস করলে অথবা সহবাস করার পর জানা গেল যে, ঐ স্ত্রীর সাথে স্বামীও কোন দুধ-মায়ের দুধ পান করেছে। এ ক্ষেত্রে স্ত্রী হারাম সাব্যস্ত হবে এবং তার মা ও মেয়েকে বিবাহ করা ঐ পুরুষের জন্য হারাম হবে।[7]

তৃতীয় কারণঃ দুধের সম্পর্ক :

যদি কোন শিশু (ছেলে অথবা মেয়ে) কোন ভিন্ন মহিলার দুধ পান করে থাকে, তবে সে তার দুধমা। অবশ্য ‘দুধমা’ সাব্যস্তের জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে;

১। ঐ দুধপান শিশুর ২বছর বয়সের ভিতরে হতে হবে। দু’বছর পার হয়ে দুধপান করলে ‘মা’ সাব্যস্ত হবে না।[8]

২। তৃপ্তিসহকারে পাঁচ অথবা ততোধিক বার দুধপান করবে।[9] স্তনবৃন্ত চুষে অথবা মাইপোষ, চামচ কিংবা নলের সাহায্যে দুধ পেটে গেলে তবেই ‘মা’ সাব্যস্ত হবে।[10]

‘দুধমা’ সাব্যস্ত হলে তার সাথে এবং রক্ত-সম্পর্কীয় অন্যান্য আত্মীয়র ন্যায় ঐ মায়ের বংশের সকলের সাথে বিবাহ অবৈধ হবে।[11]

সুতরাং রীতিমত দুধপানকারী পুরুষ তার দুধ-মা, দুধ-বোন, দুধ-খালা, দুধ-ভাইঝি, দুধ-বোনঝি প্রভৃতিকে চিরদিনের জন্য বিবাহ করতে পারবে না। তদনুরূপ দুধপানকারী মহিলার তার দুধ-বাপ, দুধ-ভাই, দুধ-চাচা, দুধ-মামা, দুধ-ভাইপো, দুধ-বুনপো প্রভৃতির সাথে বিবাহ বৈধ নয়।

অবশ্য যে দুধ পান করেছে তার অন্য ভা­ই-বোনেরা ঐ মায়ের পক্ষে এবং তার ছেলেমেয়ে বা অন্যান্য আত্মীয়র পক্ষে হারাম নয়।[12]

কোন পুরুষ যদি (শিশুবেলায়) তার দাদীর দুধ রীতিমত পান করে থাকে, তবে তার পক্ষে রক্ত-সম্পর্কীয় মহিলা ছাড়াও চাচাতো, ফুফাতো এবং নানীর দুধ পান করে থাকলে মামাতো খালাতো বোনও হারাম। কারণ, এই বোনেরা তখন দুধ-ভাইঝি ও দুধ-বোনঝিতে পরিগণিত হয়ে যায়।[13]

উল্লেখ্য যে, শৃঙ্গারের সময় স্ত্রীর দুধ মুখে গেলে স্বামী-স্ত্রীর বিবাহ-বন্ধনে কোন ক্ষতি হয় না। কারণ, এটা রীতিমত দুধ পান নয়।

চতুর্থ কারণঃ লিআন :

স্বামীর সংসারে থেকে যদি স্ত্রী ব্যভিচার ক’রে তা অস্বীকার করে এবং এই ব্যভিচারের উপর যদি স্বামী ৪ জন সাক্ষী কাজীর সামনে উপস্থিত না করতে পারে, তবে কাজী প্রত্যেককে কসম করাবেন; প্রথমে স্বামী বলবে, ‘আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি যে, আমি আমার স্ত্রী অমুককে যে ব্যভিচারের অপবাদ দিয়েছি তাতে সত্যবাদী।’

এইরূপ চারবার বলার পর পঞ্চমবারে তাকে থামিয়ে কাজী বলবেন, ‘আল্লাহকে ভয় কর, এই (শেষ কসম)টাই আল্লাহর আযাব অনিবার্যকারী। (সত্য বল। কারণ,) আখেরাতের আযাব হতে দুনিয়ার আযাব (মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার শাস্তি) সহজতর।’

এরপরেও যদি সে বিরত না হয়, তবে পঞ্চমবারে বলবে, ‘আমি আমার স্ত্রী অমুককে যে ব্যভিচারের অপবাদ দিয়েছি, তাতে যদি আমি মিথ্যাবাদী হই তাহলে আমার উপর আল্লাহর অভিশাপ হোক!’

অতঃপর স্ত্রী অনুরূপ বলবে, ‘আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি যে, আমাকে আমার স্বামী অমুক যে ব্যভিচারের অপবাদ দিয়েছে তাতে ও মিথ্যাবাদী।’

এইরূপ চারবার বলার পর পঞ্চমবারে থামিয়ে কাজী তাকে বলবেন, আল্লাহকে ভয় কর, এটাই আল্লাহর আযাব অনিবার্যকারী, (সত্য বল। কারণ,) আখেরাতের আযাবের চেয়ে দুনিয়ার আযাব (ব্যভিচারের শাস্তি) সহজতর।’

এরপরেও যদি বিরত না হয়, তাহলে পঞ্চমবারে সে বলবে, ‘আমাকে আমার স্বামী অমুক যে ব্যভিচারের অপবাদ দিয়েছে, তাতে যদি ও সত্যবাদী হয়, তাহলে আমার উপর আল্লাহর গযব হোক!’

এতদূর করার পর কাজী স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ করে দেবেন। আর এতে কারো শাস্তি হবে না।[14]

এই ধরনের লা’নত ও অভিশাপের বিচ্ছেদকে ‘লিআন’ বলে। এই বিচ্ছেদ হওয়ার পর ঐ স্ত্রী ঐ স্বামীর জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যায়। কোন প্রকারে আর পুনর্বিবাহ বৈধ নয়।[15]

প্রকাশ যে, রক্ত, দুধ ও বৈবাহিক সম্পর্কের ফলে যাদের আপোসে চিরতরে বিবাহ অবৈধ কেবল তাদের সামনেই মহিলার পর্দা নেই। বাকী বন্ধুত্ব, পাতানো, বা পীর ধরার (?) ফলে কেউ হারাম হয় না। সুতরাং বন্ধুর বোন, পাতানো বোন এবং পীর-বোনের (?) সাথেও বিবাহ হালাল এবং পর্দা ওয়াজেব।

আরো এমন কতকগুলি কারণ রয়েছে যাতে নারী-পুরুষের বিবাহ চিরতরে হারাম নয়; তবে সাময়িকভাবে হারাম। সেই নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হলে বিবাহ বৈধ। এমন কারণও কয়েকটিঃ-

প্রথম কারণঃ কুফর ও শির্ক।

কোন মুসলিম (নারী-পুরুষ) কোন কাফের বা মুশরিক (নারী-পুরুষ)কে বিবাহ করতে পারে না। অবশ্য ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হলে তার সাথে বিবাহ বৈধ। এ ব্যপারে মহান আল্লাহ বলেন,

﴿وَلاَ تَنْكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ وَلَأَمَةٌ مُؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ وَلاَ تُنْكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُوا وَلَعَبْدٌ مُؤْمِنٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكٍ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ أُولَئِكَ يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ وَاللهُ يَدْعُو إِلَى الْجَنَّةِ وَالْمَغْفِرَةِ﴾

‘‘আর অংশীবাদী রমণী যে পর্যন্ত মুসলমান না হয়, তোমরা তাকে বিবাহ করো না। মুশরিক নারী তোমাদের পছন্দ হলেও নিশ্চয়ই মুসলিম ক্রীতদাসী তার চেয়ে উত্তম। আর মুসলমান না হওয়া পর্যন্ত অংশীবাদী পুরুষের সাথে কন্যার বিবাহ দিও না। অংশীবাদী পুরুষ তোমাদের পছন্দ হলেও মুসলিম ক্রীতদাস তার চেয়ে উত্তম। কারণ, ওরা তোমাদেরকে জাহান্নামের দিকে আহবান করে এবং আল্লাহ তোমাদেরকে নিজ অনুগ্রহ ও ক্ষমার দিকে আহবান করেন।’’[16]

{لَا هُنَّ حِلٌّ لَّهُمْ وَلَا هُمْ يَحِلُّونَ لَهُنَّ} (10) سورة الممتحنة

‘‘মু’মিন নারীগণ কাফের পুরুষদের জন্য এবং কাফের পুরুষরা মু’মিন নারীদের জন্য বৈধ নয়।’’[17]

শিয়া, কাদেয়ানী, কবুরী, মাযারী এবং মতান্তরে বেনামাযী প্রভৃতি পাত্র-পাত্রীর সাথে কোন (তওহীদবাদী) মুসলিম পাত্র-পাত্রীর বিবাহ বৈধ নয়।[18]

পক্ষান্তরে আসমানী কিতাবধারী ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টান সচ্চরিত্র নারীকে (ইসলাম গ্রহণ না করলেও) মুসলিম পুরুষ বিবাহ করতে পারে।[19]

তবে এর চেয়ে মুসলিম নারীই যে উত্তম তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু কোন মুসলিম নারীর সাথে কোন কিতাবধারী পুরুষের বিবাহ বৈধ নয়; যতক্ষণ না সে ইসলাম গ্রহণ করেছে। যেহেতু ইসলাম চির উন্নত, অবনত হয় না। তাছাড়া মুসলিমরা সকল নবীর প্রতি ঈমান রাখে, কিন্তু কিতাবধারীরা ইসলামের সর্বশেষ নবী (সাঃ)-এর প্রতি ঈমান রাখে না।[20]

প্রকাশ যে, মুসলিম নামধারী মুশরিকরা (যারা আল্লাহ ছাড়া পীর, কবর বা মাযারের নিকট প্রয়োজনাদি ভিক্ষা করে, তারা) আহলে কিতাবের মত নয়। তাদের সাথে বিবাহ-শাদী বৈধ নয়।[21]

কোন পুরুষ ইসলাম গ্রহণ করলেও চট্ করে তার সাথে মুসলিম নারীর বিবাহ দেওয়া উচিৎ নয়। মুসলিম হয়ে নামায-রোযা ও অন্যান্য ধর্মীয় বিষয় পালন করছে কি না, তা দেখা উচিৎ। নচেৎ এমনও হতে পারে (বরং অধিকাংশ এমনটাই হয়) যে, মুসলিম যুবতীর রূপ ও প্রেমে মুগ্ধ হয়ে কেবল তাকেই পাবার উদ্দেশ্যে নামে মাত্র মুসলিম হয়ে ইসলামে ফাঁকি দেয়।[22]

কোন মুসলিম পুরুষ অমুসলিম নারীকে বিবাহ করতে চাইলে তাকে প্রকৃত মুসলিম করে ইদ্দত দেখে তারপর বিবাহ করবে। নামায-রোযা প্রভৃতিতে যত্নবান না হলে বিবাহ বৈধ হবে না।[23]

দ্বিতীয় কারণঃ- অপরের স্বামীত্বঃ

অপরের বিবাহিতা স্ত্রী তার স্বামীত্বে থাকতে আর অন্য পুরুষের জন্য বৈধ নয়। সে মারা গিয়ে অথবা তালাক দিয়ে ইদ্দতের যথা সময় অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত ঐ রমণীকে বিবাহ করা হারাম। সুতরাং ঐ মহিলা আসলে গম্যা, কিন্তু অপরের স্বামীত্বে থাকার জন্য সাময়িকভাবে অন্যের পক্ষে অবৈধ। এমন বিবাহিত সধবাকে কেউ বিয়ে করলেও বিবাহ-বন্ধনই হয় না। সে প্রথম স্বামীরই অধিকারভুক্ত থাকে, আর দ্বিতীয় স্বামী ব্যভিচারী হয়। পরন্তু একটি মহিলা একাধিক স্বামী গ্রহণ করতে পারে না। কারণ এতে বংশ ও সন্তানের অবস্থা সর্বহারা হয়। পক্ষান্তরে একজন পুরুষ একাধিক স্ত্রী (৪টি পর্যন্ত) গ্রহণ করতে পারে।[24] কারণ, এতে ঐ ভয় থাকে না।

তাছাড়া বলাই বাহুল্য যে, ইসলাম মানবপ্রকৃতির জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ ধর্ম। জীবনের সর্বপ্রকার সমস্যার সমাধান খুঁজে মিলে এই ধর্মে। মানবকূলের সকল মানুষের প্রকৃতি, যৌনক্ষুধা বা কামশক্তি সমান নয়। স্ত্রী তার বীর্যবান স্বামীর সম্পূর্ণ ক্ষুধা নাও মিটাতে পারে; বিশেষ করে যদি সে রোগা হয় অথবা তার ঋতুর সময় দীর্ঘস্থায়ী হয়। পক্ষান্তরে ব্যভিচারও মানবচরিত্রের প্রতিকূল।

স্ত্রী বন্ধ্যা হলে বংশে বাতি দেবার জন্য সন্তান লাভের উদ্দেশ্যে অথবা একজন বিধবা বা পরিত্যক্তার সৌভাগ্য ফিরিয়ে আনতে এবং আরো অন্যান্য যুক্তিযুক্ত কারণে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বিবাহ সংসারে প্রয়োজন হয়। আর এটা নৈতিকতার পরিপন্থী নয়। চরিত্র ও নৈতিকতার প্রতিকূল তো এক বা একাধিক উপপত্নী বা ‘গার্ল্স ফ্রেন্ড্’ গ্রহণ করা।[25]

পক্ষান্তরে একাধিক বিবাহের শর্ত আছেঃ

১- একই সঙ্গে যেন চারের অধিক না হয়।

২- স্ত্রীদের মাঝে যেন ন্যায়পরায়ণতা থাকে। ভরণ-পোষণ, চরিত্র-ব্যবহার প্রভৃতিতে যেন সকলকে সমান চোখে দেখা হয়। সকলের নিকট যেন সমানভাবে রাত্রি-বাস বা অবস্থান করা হয়। নচেৎ একাধিক বিবাহ হারাম।[26]

অবশ্য অন্তরের গুপ্ত প্রেমকে সকলের জন্য সমানভাবে ভাগ করা অসম্ভব।[27]

তাই অন্তর যদি কাউকে অধিক পেতে চায় বা ভালোবাসে তবে তা দূষণীয় নয়। কিন্তু প্রকাশ্যে সকলের সাথে সমান ব্যবহার প্রদর্শন ওয়াজেব।

একাধিক বিবাহ করলে কোন স্ত্রীর মন্দ-চর্চা অন্য স্ত্রীর নিকট করবে না। কোন স্ত্রীকে অন্য স্ত্রী প্রসঙ্গে কুমন্তব্য বা কুৎসা করতে সুযোগ দেবে না। তাদের আপোষে যাতে ঈর্ষাঘটিত কোন মনোমালিন্য বা দুর্ব্যবহার না হয়, তার খেয়াল রাখবে। পৃথক-পৃথক বাসা হলেই শান্তির আশা করা যায়। নচেৎ ‘নিম তেঁতো, নিষিন্দি তেঁতো, তেঁতো মাকাল ফল, তাহারও অধিক তেঁতো দু’ সতীনের ঘর।’ বিশেষ করে বেপর্দা পরিবেশ হলে তো তিক্তময় নরক সে সংসার।

প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, দ্বিতীয় বিবাহ করার সময় প্রথম স্ত্রীর অনুমতি জরুরী নয়।[28]

কুফরীর কারণে স্বামীর অধিকার থেকে ছিন্ন হয়ে মুসলিমদের যুদ্ধবন্দিনীরূপে কোন মুজাহিদের ভাগে এলে এক মাসিক পরীক্ষার পর অথবা গর্ভ হলে প্রসব ও নেফাসকাল পর্যন্ত অপেক্ষার পর অধিকারভুক্ত হবে; যদিও তার স্বামী বর্তমানে জীবিত আছে।[29]

কোন মহিলার স্বামী মারা গেলে অথবা তালাক দিলে সে তার ইদ্দতকাল পর্যন্ত ঐ স্বামীর অধিকারে থাকে। অতএব কোন রমণীকে তার ইদ্দতকালে বিবাহ করা অবৈধ।[30]

ইদ্দতের বিস্তারিত বিবরণ পরে আসবে ইনশাআল্লাহ।

কোন মহিলা গর্ভবতী থাকলে গর্ভকাল তার ইদ্দত। গর্ভাবস্থায় বিবাহ বৈধ নয়। অবৈধ গোপন প্রেমে যার ব্যভিচারে গর্ভবতী হয়েছে সেই প্রেমিক বিবাহ করলেও গর্ভাবস্থায় আক্দ সহীহ নয়। প্রসবের পরই আক্দ সম্ভব।[31]

কোন মহিলার স্বামী নিখোঁজ হলে নিখোঁজ হওয়ার দিন থেকে পূর্ণ চার বছর অপেক্ষা করার পর আরো চার মাস দশদিন স্বামী-মৃত্যুর ইদ্দত পালন করে দ্বিতীয় স্বামী গ্রহণ করতে পারে। এই নির্ধারিত সময়ের পূর্বে তার বিবাহ হারাম। বিবাহের পর তার পূর্ব স্বামী ফিরে এলে তার এখতিয়ার হবে; স্ত্রী ফেরৎ নিতে পারে অথবা মোহর ফেরৎ নিয়ে তাকে ঐ স্বামীর জন্য ত্যাগ করতেও পারে।[32]

স্ত্রী চাইলে আর নতুনভাবে বিবাহ আক্দের প্রয়োজন নেই। কারণ, স্ত্রী তারই এবং দ্বিতীয় আক্দ তার ফিরে আসার পর বাতিল। তবে তাকে ফিরে নেওয়ার পূর্বে ঐ স্ত্রী (এক মাসিক) ইদ্দত পালন করবে।[33]

গর্ভবতী হলে প্রসবকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। আর সে সময়ে দ্বিতীয় স্বামী থেকে পর্দা ওয়াজেব হয়ে যাবে।

তৃতীয় কারণঃ- দুই নিকটাত্মীয়র জমায়েত

সাধারণতঃ একাধিক বিবাহে অশান্তি বেশীই হয়। সতীন তার সতীনকে সহজে সইতে পারে না। সতীনে-সতীনে বিচ্ছিন্নতা থাকে। অতএব সতীন একান্ত নিকটাত্মীয় হলে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন হয়, যা হারাম। তাছাড়া নিকটাত্মীয় সতীনের কথায় গায়ে ঝালা ধরে বেশী, দ্বন্দ্ব বাড়ে অধিক। কথায় বলে ‘আনসতীনে নাড়ে চাড়ে, বোন সতীনে পুড়িয়ে মারে।’ তাই ইসলাম এমন একান্ত নিকটাত্মীয়দেরকে একত্রে স্ত্রীরূপে জমা করতে নিষেধ করেছে। সুতরাং স্ত্রী থাকতে তার (সহোদরা, বৈপিত্রেয়ী, বৈমাত্রেয়ী বা দুধ) বোন (অর্থাৎ, শালী) কে বিবাহ করা হারাম। তদনুরূপ স্ত্রীর বর্তমানে তার খালা বা বোনঝি, ফুফু বা ভাইঝিকে বিবাহ করা অবৈধ। স্ত্রী মারা গেলে বা তালাক দিলে ইদ্দতের পর তার ঐ নিকটাত্মীয়র কাউকে বিবাহ করতে বাধা নেই।

স্ত্রীর কাঠবাপের (বা মায়ের স্বামীর) অন্য স্ত্রীর মেয়েকে বিবাহ করতে দোষ নেই।[34]

চতুর্থ কারণঃ ইহরাম

হজ্জ বা উমরায় ইহরাম বাঁধা অবস্থায় বিবাহ ও বিবাহের পয়গাম হারাম। এই অবস্থায় কারো বিবাহ হলেও তা বাতিল।[35]

পঞ্চম কারণঃ চারের অধিক সংখ্যা

চার স্ত্রী বর্তমান থাকতে পঞ্চম বিবাহ হারাম।[36] চারের মধ্যে কেউ ইদ্দতে থাকলে তার ইদ্দত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য বিবাহ করা যাবে না।

ষষ্ঠ কারণঃ তিন তালাক।

স্ত্রীকে তিন তালাক তিন পবিত্রতায় দিলে অথবা জীবনের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তিনবার তালাক দিলে ঐ স্ত্রীকে পুনঃ বিবাহ করা বৈধ নয়। যদি একান্তই তাকে পুনরায় ফিরে পেতে চায়, তবে ঐ স্ত্রী দ্বিতীয় স্বামী ও তার যৌনস্বাদ গ্রহণের পর সে সেবচ্ছায় তালাক দিলে অথবা মারা গেলে তবে ইদ্দতের পর তাকে পুনর্বিবাহ করতে পারে। নচেৎ তার পূর্বে নয়।[37]

স্ত্রীকে তিন তালাক দেওয়ার পর লজ্জিত হয়ে ভুল বুঝতে পেরে তাকে ফিরে পেতে ‘হালালা’ পন্থা অবলম্বন বৈধ নয়। অর্থাৎ, স্ত্রীকে হালাল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে কোন বন্ধু বা চাচাতো-মামাতো ভায়ের সাথে বিবাহ দিয়ে এক রাত্রি বাস করে তালাক দিলে পরে ইদ্দতের পর নিজে বিবাহ করা এক প্রকার ধোঁকা এবং ব্যভিচার। যাতে দ্বিতীয় স্বামী এক রাত্রি ব্যভিচার করে এবং প্রথম স্বামী ঐ স্ত্রীকে হালাল মনে করে ফিরে নিয়েও তার সাথে চিরদিন ব্যভিচার করতে থাকে। কারণ, প্রকৃতপক্ষে স্ত্রী ঐভাবে তার জন্য হালাল হয় না।

যে ব্যক্তি হালাল করার জন্য ঐরূপ বিবাহ করে, হাদীসের ভাষায় সে হল ‘ধার করা ষাঁড়।’[38] এই ব্যক্তি এবং যার জন্য হালাল করা হয় সে ব্যক্তি (অর্থাৎ প্রথম স্বামী) আল্লাহ ও তদীয় রসূলের অভিশপ্ত।[39]

জায়বদলী বা বিনিময়-বিবাহ বিনা পৃথক মোহরে বৈধ নয়। এ ওর বোন বা বেটিকে এবং ও এর বোন বা বেটীকে বিনিময় ক’রে পাত্রীর বদলে পাত্রীকে মোহর বানিয়ে বিবাহ ইসলামে হারাম।[40] অবশ্য বহু উলামার নিকট উভয় পাত্রীর পৃথক মোহর হলেও জায়বদলী বিয়ে বৈধ নয়। (যদি তাতে কোন ধোকা-ধাপ্পা দিয়ে নামকে-ওয়াস্তে মোহর বাঁধা হয় তাহলে।[41]

মুত্আহ বা সাময়িক বিবাহও ইসলামে বৈধ নয়। কিছুর বিনিময়ে কেবল এক সপ্তাহ বা মাস বা বছর স্ত্রীসঙ্গ গ্রহণ করে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় যেহেতু ঐ স্ত্রী ও তার সন্তানের দুর্দিন আসে, তাই ইসলাম এমন বিবাহকে হারাম ঘোষণা করেছে।[42]

অনুরূপ তালাকের নিয়তে বিবাহ এক প্রকার ধোঁকা। বিদেশে গিয়ে বা দেশেই বিবাহ-বন্ধনের সময় মনে মনে এই নিয়ত রাখা যে, কিছুদিন সুখ লুটে তালাক দিয়ে দেশে ফিরব বা চম্পট দেব, তবে এমন বিবাহও বৈধ নয়। (এরূপ করলে ব্যভিচার করা হয়।) কারণ, এতেও ঐ স্ত্রী ও তার সন্তানের অসহায় অবস্থা নেমে আসে।[43] যাতে নারীর মান ও অধিকার খর্ব হয়।

কোন তরুণীর বিনা সম্মতিতে জোরপূর্বক বিবাহ দেওয়া হারাম। এমন বিবাহ-বন্ধন শুদ্ধই হয় না।[44]

বাল্য-বিবাহ বৈধ।[45] তবে সাবালক হওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর এক অপরকে পছন্দ না হলে তারা বিবাহবন্ধন ছিন্ন করতে পারে।[46]

সববংশ বা সবগোত্রের আত্মীয় গম্য পাত্র-পাত্রীর বিবাহ বৈধ। তবে ভিন্ন গোত্রে অনাত্মীয়দের সাথেই বৈবাহিক-সূত্র স্থাপন করা উত্তম।[47]

বিশেষ করে সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি ও মনোমালিন্য নিয়ে বাড়াবাড়ি অধিক হয় সবগোত্রে ঘরে-ঘরে বিবাহ হলে। অভিজ্ঞরা বলেন, ‘ঘরে-ঘরে বিয়ে দিলে, ঘর পর হয়ে যায়। আত্মীয়তা বাড়াতে গিয়ে তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় একেবারেই।’ অবশ্য সর্বক্ষেত্রে দ্বীনদারীই হল কষ্টিপাথর।

কোন মুসলিম কোন ব্যভিচারিণী নারীকে বিবাহ করতে পারে না। বরং এ ব্যাপারে ঐরূপ নারী মনোমুগ্ধকর সুন্দরী রূপের ডালি বা ডানা-কাটা পরি হলেও মুসলিম পুরুষের তাতে রুচি হওয়াই উচিৎ নয়। একান্ত প্রেমের নেশায় নেশাগ্রস্ত হলেও তাকে সহধর্মিনী করা হারাম।

এ ব্যাপারে আল্লাহ পাক বলেন,

﴿الزَّانِي لاَ يَنْكِحُ إِلاَّ زَانِيَةً أَوْ مُشْرِكَةً وَالزَّانِيَةُ لا يَنْكِحُهَا إِلاَّ زَانٍ أَوْ مُشْرِكٌ وَحُرِّمَ ذَلِكَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ﴾

‘‘ব্যভিচারী কেবল ব্যভিচারিণী অথবা অংশীবাদিনীকে এবং ব্যভিচারিণী কেবল ব্যভিচারী অথবা অংশীবাদী পুরুষকে বিবাহ করে থাকে। আর মুমিন পুরুষদের জন্য তা হারাম করা হল।’’[48]

সুতরাং অসতী নারী মুশরিকের উপযুক্ত; মুসলিমের নয়। কারণ উভয়েই অংশীবাদী; এ পতির প্রেমে উপপতিকে অংশীস্থাপন করে এবং ও করে একক মা’বূদের ইবাদতে অন্য বাতিল মা’বূদকে শরীক। (অবশ্য অসতী হলেও কোন মুশরিকের সাথে কোন মুসলিম নারীর বিবাহ বৈধ নয়।)

পক্ষান্তরে ব্যভিচারিণী যদি তওবা করে প্রকৃত মুসলিম নারী হয়, তাহলে এক মাসিক অপেক্ষার পর তবেই তাকে বিবাহ করা বৈধ হতে পারে। গর্ভ হলে গর্ভাবস্থায় বিবাহ-বন্ধন শুদ্ধ নয়। প্রসবের পরই বিবাহ হতে হবে।[49]

[1] (সূরা আন-নিসা (৪) : ২৩) [2] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৯/৭৩) [3] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৩/৩৭০, ৪/৩৩২) [4] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ২/২৬২, ৯/৬৭) [5] (সিলসিলা যয়ীফাহ ১/৫৬৬, ইখতিয়ারাত ইবনে তাইমিয়্যাহ ৫৮৫-৫৮৮পৃঃ, ফাতাওয়া মুহাম্মদ বিন ইব্রাহীম ১০/১৩০) [6] (মুমঃ ৭/৪৪) [7] (ঐ ৭/৪৫) [8] (সূরা আল-বাক্বারা (২) : ২৩৩) [9] (মুসলিম) [10] (আহকামু খিতবাতিন নিকাহি ফিল ইসলাম, ডক্টর শওকত উলাইয়্যান) [11] (বুখারী ৫০৯৯নং, মুসলিম) [12] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৬/২৬৩) [13] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৬/২৬৬) [14] (সূরা আন-নূর (২৪) : ৬-৯, বুখারী, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩৩০৭নং) [15] (আহকামু খিতবাতিন নিকাহি ফিল ইসলাম ১১৬পৃঃ) [16] (সূরা আল-বাক্বারা (২) : ২২১) [17] (সূরা আল-মুমতাহিনা (৬০) : ১০) [18] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৬/১১৫,১৭/৬১, ২৮/৯৩) [19] (সূরা আল-মায়িদা (৫) : ৫) [20] (ইসলাম মেঁ হালাল অ হারাম, ইউসুফ ক্বারযাবী, অনুবাদ, শাম্স পীরযাদাহঃ ২৪৫পৃঃ) [21] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ২৮/৯৩) [22] (ফাতাওয়াল মারআহ ৪৬পৃঃ) [23] (বুখারী ৫২৮৬নং, ফাতাওয়া নাযীরিয়্যাহ ২/৩৫৭) [24] (সূরা আন-নিসা (৪) : ৩) [25] (তামবীহাতুল মু’মিনাত ৬৭-৭৫পৃঃ দ্রঃ) [26] (সূরা আন-নিসা (৪) : ৩) [27] (সূরা আন-নিসা (৪) : ১২৯) [28] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ২৫/৬৭) [29] (সূরা আন-নিসা (৪) : ২৮) [30] (সূরা আল-বাক্বারা (২) : ২৩৫) [31] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৯/৫৪,৭২) [32] (মানারুস সাবীল ২/৮৮পৃঃ) [33] (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ২/৭৬৬) [34] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৯/৫৭) [35] (যাদুল মাআদ ৪/৬) [36] (সূরা আল-বাক্বারা (৪) :৩) [37] (সূরা আল-বাক্বারা (২) : ২৩০) [38] (ইরওয়াউল গালীল ৬/৩০৯) [39] (ইরওয়াউল গালীল ১৮৯৭ নং, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩২৯৬) [40] (বুখারী, মুসলিম ইত্যাদি) [41] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৪/৩২৮, ৯/৬৮) [42] (বুখারী, মুসলিম, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩১৪৭নং) [43] (ফাতাওয়াল মারআহ ৪৯পৃঃ) [44] (ফাতাওয়াল মারআহ ৪৮ পৃঃ) [45] (মুসলিম, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩১২৯নং) [46] (বুখারী ৫১৩৮নং, আবু দাঊদ, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩১৩৬নং) [47] (ফাতাওয়াল মারআহ ৪৭পৃঃ) [48] (সূরা আন-নূর (২৪) : ৩) [49] (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ২/৭৮০)

গ্রন্থঃ আদর্শ বিবাহ ও দাম্পত্য অধ্যায়ঃ বিবাহ ও দাম্পত্য বিষয়াবলী মধু-মিলন হৃদয়ের আদান-প্রদানের এই প্রথম সাক্ষাতে যৌন-মিলন করতে চেষ্টা না করাই স্বামীর উচিৎ। অবশ্য স্ত্রী রাজী ও প্রস্ত্তত থাকলে সে কথা ভিন্ন। স্ত্রীর কর্তব্য স্বামীর ইঙ্গিতে সাড়া দেওয়া। এমন কি গোসলের পানি না থাকলেও স্ত্রীর ‘না’ করার অধিকার নেই।[1] যেহেতু স্বামী যখন তার স্ত্রীকে বিছানার দিকে ডাকে, তখন স্ত্রী যেতে অস্বীকার করলে এবং স্বামী রাগান্বিত অবস্থায় রাত্রি কাটালে প্রভাতকাল পর্যন্ত ফিরিশ্তাবর্গ স্ত্রীর উপর অভিশাপ করে থাকেন।[2] স্ত্রী রান্নাশালে রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকলেও (অথবা সফরের জন্য সওয়ারীর পিঠে থাকলেও) স্বামীর ডাকে উপস্থিত হওয়া ওয়াজেব।[3] এই মিলনে রয়েছে সদকার সম-পরিমাণ সওয়াব।[4] একটানা নফল ইবাদত ত্যাগ করেও স্ত্রী-মিলন করা ইসলামের বিধান।[5] এই জন্যই স্বামী উপস্থিত থাকলে তার অনুমতি ছাড়া স্ত্রী নফল রোযা রাখতে পারে না।[6] সুতরাং অন্যান্য ব্যস্ততা ত্যাগ করে সঙ্গমের মাধ্যমে উভয়ের মনে মহাশান্তি আনয়ন একান্ত কর্তব্য। মিলনে কেবল স্বামীর নিজের যৌনতৃষ্ণা নিবারণই যেন উদ্দেশ্য না হয়। কেবল নিজের উত্তেজনা ও কামাগ্নি নির্বাপিত করতে এবং স্ত্রীর মানসিক, শারীরিক, প্রভৃতি অবস্থা খেয়াল না করে অথবা তাকে উত্তেজিতা না করে অথবা তার বীর্যস্খলন বা পূর্ণতৃপ্তির কথা না ভেবে কেবল নিজের বীর্যপাত ও তৃপ্তিকেই প্রাধান্য দিয়ে মিলন মধু-মিলন নয়। উভয়ের পূর্ণ তৃপ্তিই হল প্রকৃত মধুর মিলন। সুতরাং সঙ্গমের পূর্বে বিভিন্ন শৃঙ্গার; আলিঙ্গন, চুম্বন, দংশন, মর্দন প্রভৃতির ভূমিকা জরুরী। নচেৎ স্ত্রী এই স্বাদ থেকে বঞ্চিত হলে তার নিকট প্রেমের কোন স্বাদই থাকবে না। পতি পেয়েও উপপতির চিন্তায় দিনপাত করবে। অতএব সচেতন যুবক যেন এতে ভুল না করে বসে। নচেৎ বিয়ের আসল উদ্দেশ্য (ব্যভিচার উৎখাত) বিফল হয়ে যাবে।[7] প্রকাশ যে, শৃঙ্গারের সময় স্ত্রীর স্তনবৃন্ত দংশন ও চোষন কোন দোষের নয়।[8] অবশ্য একে অন্যের লজ্জাস্থান লেহন ও চোষণ অবশ্যই ঘৃণিত আচরণ। মিলনের জন্য কোন নির্দিষ্ট দিন-ক্ষণ বা সময় নেই। মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা এবং মনের চাহিদা থাকলে তা করা যায়। অবশ্য অধিক নেশায় স্বাস্থ্য হারানো উচিৎ নয়। স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য বিনা স্পর্শ ও যৌন চিন্তায় যখন যৌনাঙ্গ স্ফীত হয়ে উঠে ঠিক সেই সময়েই করা উচিৎ। তবে মনে রাখার কথা যে, একে অপরের যৌনক্ষুধা মিটাতে অসমর্থ হলে এবং যৌনবাজারে একজন গরম ও অপরজন ঠান্ডা হলে সংসারে কলহ নেমে আসে। যেমন সঙ্গমের নির্দিষ্ট কোন পদ্ধতিও ইসলামে বর্ণিত হয়নি। এই সময় করলে সন্তান নির্বোধ হয়, ঐভাবে করলে সন্তান অন্ধ, বধির বা বিকলাঙ্গ হয় ইত্যাদি কথার স্বীকৃতি ইসলামে নেই। আল্লাহ পাক বলেন, ﴿نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ﴾ ‘‘তোমাদের স্ত্রী তোমাদের শস্যক্ষেত্র স্বরূপ। সুতরাং তোমরা তোমাদের শষ্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পার।[9] অতএব সমস্ত রকমের আসন বৈধ। সমস্ত বৈধ সময়ে সঙ্গম বৈধ। অমাবস্যা-পূর্ণিমা প্রভৃতি কোন শুভাশুভ দিন বা রাত নয়। এতে সন্তানের কোনও ক্ষতি হয় না।[10] স্ত্রীর মাসিক হলে সঙ্গম হারাম। কারণ, এই স্রাব অশুচি। পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত স্ত্রীর নিকট সঙ্গমের জন্য যাওয়া নিষিদ্ধ।[11] মাসিকাবস্থায় সঙ্গম করা এক প্রকার কুফরী।[12] সহবাস করে ফেললে এক দ্বীনার (সওয়া চার গ্রাম পরিমাণ সোনা অথবা তার মূল্য, না পারলে এর অর্ধ পরিমাণ অর্থ) সদকাহ করে কাফ্ফারা দিতে হবে।[13] এ ছাড়া এই অবস্থায় সঙ্গমে স্বামী-স্ত্রীর উভয়ের পক্ষে স্বাস্থ্যগত বিশেষ ক্ষতিও রয়েছে অনেক।[14] অবশ্য মাসিকাবস্থায় সঙ্গম ছাড়া অন্যান্যভাবে যৌনাচার বৈধ।[15] যেমন, এই সময় বা অন্যান্য সময় স্ত্রীর ঊরুমৈথুন বৈধ। এতে বীর্যপাত হলেও দোষ নেই।[16] তবে স্ত্রীর পায়ুপথে (মলদ্বারে) সঙ্গম হারাম। যে ব্যক্তি এমন কাজ করে সে অভিশপ্ত।[17] এমন ব্যক্তির দিকে আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকিয়েও দেখবেন না।[18] এমন কাজও এক প্রকার কুফরী।[19] সুতরাং এই সঙ্গমে স্ত্রীর সম্মত না হওয়া ফরয। উল্লেখ্য যে, নেফাসের অবস্থাতেও সঙ্গম হারাম। গর্ভাবস্থায় যদি ভ্রূণের কোন প্রকার ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে, তাহলে খুবই সতর্কতার সাথে বৈধ।[20] নির্জন কক্ষে কোন পর্দার ভিতরেই মিলন করা লজ্জাশীলতার পরিচয়। অবশ্য স্বামী-স্ত্রী উভয়েই উভয়ের সর্বাঙ্গ নগ্নাবস্থায় দেখতে পারে।[21] এতে স্বাস্থ্যগত কোন ক্ষতিও নেই। ‘ স্বামী-স্ত্রীর একে অন্যের লজ্জাস্থান দেখতে নেই, বা হযরত আয়েশা (রাঃ) কখনও স্বামীর গুপ্তাঙ্গ দেখেননি, উলঙ্গ হয়ে গাধার মত সহবাস করো না, বা উলঙ্গ হয়ে সহবাস করলে সন্তান অন্ধ হয়। সঙ্গমের সময় কথা বললে সন্তান তোৎলা বা বোবা হয়’ ইত্যাদি বলে যে সব হাদীস বর্ণনা করা হয়, তার একটিও সহীহ ও শুদ্ধ নয়।[22] পক্ষান্তরে আল্লাহ বলেন, ﴿هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَهُنَّ﴾ ‘‘ওরা (স্ত্রীরা) তোমাদের লেবাস এবং তোমরা তাদের লেবাস।’’[23] ঘুমন্ত হলেও নিজ সন্তান বা অন্য কেউ কক্ষে থাকলে সঙ্গম করা উচিৎ নয়। তবে শিশু একান্ত অবোধ হলে ভিন্ন কথা। প্রকাশ যে, মেয়েদের যৌন-মিলন না করার সাধারণ ধৈর্য-সীমা চার মাস। তাই পর্যাপ্ত কারণ ছাড়া এবং উভয়ের সম্মত চুক্তি ব্যতীত এর অধিক সময় বিরহে কাটানো বৈধ নয়।[24] সঙ্গমের পূর্বে নিম্নের দুআ পাঠ কর্তব্য; بِسْمِ اللهِ، اَللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا. উচ্চারণঃ- বিসমিল্লা-হ, আল্লা-হুম্মা জান্নিবনাশ শাইতবা-না অজান্নিবিশ শাইতবা-না মা রাযাকবতানা। অর্থাৎ, আমি আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করছি। হে আল্লাহ! আমাদের নিকট থেকে শয়তানকে দূরে রাখ এবং আমাদেরকে যে সন্তান দান করবে তার নিকট থেকেও শয়তানকে দূরে রাখ। এই দুআ পাঠ করে সহবাস করলে উক্ত সহবাসের ফলে সৃষ্টি সন্তানের কোন ক্ষতি শয়তান করতে পারে না।[25] প্রকাশ যে, শয়তানও মানুষের সন্তান-সন্ততিতে অংশগ্রহণ করে থাকে; যদি সঙ্গমের পূর্বে আল্লাহর নাম না নেওয়া হয় তাহলে।[26] সঙ্গম বা বীর্যপাতের পর গোসল (মাথা শুদ্ধ সর্বশরীর ধোয়া) ফরয। তবে নগ্নাবস্থায় স্বামী-স্ত্রী আলিঙ্গনাদি করলে, বীর্যপাত না হলে এবং মযী (বীর্যের পূর্বে নির্গত আঠাল তরল পদার্থ) বের হলেও গোসল ফরয নয়। লজ্জাস্থান ধুয়ে ওযু যথেষ্ট। লিঙ্গাগ্র যোনী-মুখে প্রবেশ করালে বীর্যপাত না হলেও উভয়ের উপর গোসল ফরয। অনুরূপ লিঙ্গাগ্র যোনীপথে প্রবেশ না করিয়েও যে কোন প্রকারে বীর্যপাত করলে গোসল ফরয।[27] স্ত্রীর ঊরু-মৈথুন করে বীর্যপাত করলে স্বামী গোসল করবে। স্ত্রী (বীর্যপাত না হলে) গোসল করবে না। ঊরু ধুয়ে ওযু যথেষ্ট।[28] একাধিক বার সঙ্গম অথবা গোসল ফরযের একাধিক কারণ হলেও শেষে একবার গোসলই যথেষ্ট।[29] স্বামী-সঙ্গম করার পর-পরই স্ত্রীর মাসিক শুরু হয়ে গেলে একেবারে মাসিক বন্ধ হওয়ার পর গোসল করতে পারে।[30] অর্থাৎ মাসিকাবস্থায় পূর্ব-সঙ্গমের জন্য গোসল জরুরী নয়। প্রথমে স্বামী গোসল করে স্ত্রীর গোসল করার পূর্বে শীতে তার দেহের উত্তাপ নেওয়া কোন দোষের নয়।[31] একই রাত্রে বা দিনে একাধিকবার সহবাস করতে চাইলে দুই সহবাসের মাঝে ওযু করে নেওয়া উচিৎ। অবশ্য গোসল করলে আরো উত্তম। এতে পুনর্মিলনে অধিকতর তৃপ্তি লাভ হয়।[32] নিদ্রার পূর্বে সঙ্গম করে ফজরের পূর্বে গোসল করতে চাইলে লজ্জাস্থান ধুয়ে ওযু অথবা তায়াম্মুম করে শয়ন করা উত্তম।[33] অবশ্য সর্বোত্তম হলো ঘুমাবার পূর্বেই গোসল করে নেওয়া।[34] কারণ, দীর্ঘক্ষণ নাপাকে না থাকাই শ্রেয়। তবে গোসল না করে যেন কোন নামায নষ্ট না হয়। যেহেতু যথাসময়ে নামায আদায় করা ফরয। রোযার দিনে স্ত্রীচুম্বন ও শৃঙ্গারাচারে বীর্যপাত না হলে রোযা নষ্ট হয় না।[35] যদিও প্রেমকেলিতে মযী স্খলন হয় তবুও কোন ক্ষতি নেই।[36] স্ত্রীর হস্তমৈথুনে বা সমকামে বীর্যপাত করলে রোযা নষ্ট হয়।[37] স্বামী-স্ত্রী কোন প্রকার ভুলে রোযার দিনে সঙ্গমে লিপ্ত হয়ে পড়লে মনে পড়া মাত্র পৃথক হয়ে যাবে। এর জন্য কাযা কাফ্ফারা নেই।[38] ইচ্ছাকৃত সঙ্গম করলে তওবা, রোযা কাযা এবং কাফ্ফারা ওয়াজেব; একটি ক্রীতদাস স্বাধীন করবে, না পারলে (যথার্থ ওজর ছাড়া) নিরবচ্ছিন্নভাবে দুই মাস একটানা রোযা পালন করবে, তা না পারলে ষাটজন গরীবকে (মাথাপিছু ১কিলো ২৫০ গ্রাম করে) খাদ্য (চাল) দান করতে হবে।[39] অবশ্য স্ত্রী সম্মত না হলে জোরপূর্বক সহবাস করলে স্ত্রীর রোযা নষ্ট হয় না।[40] ই’তিকাফ অবস্থায় সঙ্গম বৈধ নয়।[41] হজ্জ করতে গিয়ে ইহরাম অবস্থায় সঙ্গম করলে হজ্জ বাতিল হয়ে যাবে। হজ্জের সমস্ত কাজ পূর্ণ করতে হবে, মক্কায় অতিরিক্ত একটি উট ফিদয়াহ দিতে হবে এবং নফল হলেও ঐ হজ্জ আগামীতে কাযা করতে হবে।[42] মিলনের গুপ্ত রহস্য বন্ধু-সখী বা আর কারো নিকট প্রকাশ করা হারাম। স্ত্রী-সঙ্গমের কথা যে অপরের নিকট খুলে বলে সে ব্যক্তি কিয়ামতে আল্লাহর নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট পর্যায়ের লোকেদের দলভুক্ত হবে।[43] এমন ব্যক্তি তো সেই শয়তানের মত, যে কোন নারী-শয়তানকে রাস্তায় পেয়ে সঙ্গম করতে লাগে, আর লোকেরা তার দিকে চেয়ে চেয়ে দেখে।[44] উল্লেখ্য যে, বিবাহ-বন্ধনের পর সারার পূর্বে স্বামী-স্ত্রীর দেখা-সাক্ষাৎ ও মিলন বৈধ।[45] প্রকাশ থাকে যে, বাসর রাত্রির শেষ প্রভাতে দুধ ইত্যাদি দিয়ে বাসর ঠান্ডা করার আচার ইসলামী নয়। বরের জন্য বাসর-সকালে উঠে বাড়িতে উপস্থিত আত্মীয়-সবজনকে সালাম দেওয়া এবং তাদের জন্য দুআ করা মুস্তাহাব। আত্মীয়-সবজনেরও মুস্তাহাব, তার জন্য অনুরূপ সালাম-দুআ করা। আল্লাহর রসূল (সাঃ) এমনটি করেছেন।[46] [1] (আল-ফাতাওয়াল মুহিম্মাহ, লিনিসাইল উম্মাহ ৯৬পৃঃ) [2] (বুখারী, মুসলিম, আবু দাঊদ, মুসনাদে আহমদ, সহীহ আল-জা-মিউস সাগীর অযিয়াদাতুহ ৫৩২নং) [3] (নাসাঈ, ত্বাহাবী, মুশকিলুল আসার, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩২৫৭নং, সহীহ আল-জা-মিউস সাগীর অযিয়াদাতুহ ৫৩৪নং) [4] (মুসলিম, নাসাঈ) [5] (বুখারী মুসলিম, মিশকাতুল মাসাবীহ১৪৫নং) [6] (মিশকাতুল মাসাবীহ ৩২৬৯নং) [7] (অকাফাত মাআল উসরাহ, সাবরী শাহীন ৫০-৫১পৃঃ) [8] (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ২/৭৫৭) [9] (সূরা বাক্বারা ২/২২৩) [10] (বুখারী, মুসলিম, আদাবুয যিফাফ ৯৯-১০০পৃঃ) [11] (আলকুরআন কারীম ২/২২২) [12] (আবু দাঊদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, নাসাঈ, আদাবুয যিফাফ ১২০-১২১) [13] (আবু দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ প্রভৃতি, আযি ১২২পৃঃ) [14] (তুহফাতুল আরূস, ১৩৯ পৃঃ) [15] (মুসলিম, আবু দাঊদ, প্রভৃতি, আদাবুয যিফাফ ১২১-১২২পৃঃ) [16] (জামিউ আহকামিন নিসা, ১/৯০) [17] (আবু দাঊদ, মুসনাদে আহমদ) [18] (নাসাঈ, তিরমিযী) [19] (আবু দাঊদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, আদাবুয যিফাফ ১০১-১০৪পৃঃ) [20] (ফাতাওয়াল মারআহ ১০৩পৃঃ) [21] (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ২/৭৬৬) [22] (দেখুন, তুহফাতুল আরূস, ১১৮-১১৯পৃঃ) [23] (সূরা আল-বাক্বারা (২) : ১৮৭) [24] (ফাতাওয়াল মারআহ ৭৭পৃঃ) [25] (বুখারী, আবু দাঊদ, তিরমিযী, আদাবুয যিফাফ ৯৮পৃঃ) [26] (সূরা ইসরা (১৭) : ৬৪, তফসীর ইবনে কাসীর ৩/৫৪) [27] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ২২/৮৯) [28] (জামিউ আহকামিন নিসা, ১/৯০পৃঃ) [29] (ঐ ১/১২৫পৃঃ) [30] (ঐ ১/১২৪) [31] (আদাবুয যিফাফ ১০৫ পৃঃ) [32] (মুসলিম, ইবনে আবী শাইবাহ , মুসনাদে আহমদ, আবু দাঊদ, নাসাঈ, তাবঃ, আদাবুয যিফাফ ১০৮পৃঃ) [33] (আদাবুয যিফাফ ১১৩,১১৭-১১৮ পৃঃ) [34] (ঐ১১৮পৃঃ) [35] (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ১/৫০৫) [36] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৪/১০৪) [37] (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ১/৫০৭) [38] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৪/১১৩) [39] (বুখারী, মুসলিম, আবু দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ফিকহুস সুন্নাহ ১/৪১৩-৪১৪) [40] (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ১/৫৪২) [41] (সূরা আল-বাক্বারা (২) : ১৮৭) [42] (আল-ফাতাওয়া আল- ইসলামিয়্যাহ ২/২৩২) [43] (ইবনে আবী শাইবাহ , মুসলিম, মুসনাদে আহমদ, প্রভৃতি আদাবুয যিফাফ ১৪২ পৃঃ) [44] (মুসনাদে আহমদ,ইবনে আবী শাইবাহ ,আবু দাঊদ,বাইহাকী,প্রভৃতি আদাবুয যিফাফ ১৪৩-১৪৪ পৃঃ) [45] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ২২/২০৬) [46] (নাসাঈ, আদাবুয যিফাফ ১৩৮-১৩৯ পৃঃ)

গ্রন্থঃ আদর্শ বিবাহ ও দাম্পত্য
অধ্যায়ঃ বিবাহ ও দাম্পত্য বিষয়াবলী

মধু-মিলন

হৃদয়ের আদান-প্রদানের এই প্রথম সাক্ষাতে যৌন-মিলন করতে চেষ্টা না করাই স্বামীর উচিৎ। অবশ্য স্ত্রী রাজী ও প্রস্ত্তত থাকলে সে কথা ভিন্ন। স্ত্রীর কর্তব্য স্বামীর ইঙ্গিতে সাড়া দেওয়া। এমন কি গোসলের পানি না থাকলেও স্ত্রীর ‘না’ করার অধিকার নেই।[1]

যেহেতু স্বামী যখন তার স্ত্রীকে বিছানার দিকে ডাকে, তখন স্ত্রী যেতে অস্বীকার করলে এবং স্বামী রাগান্বিত অবস্থায় রাত্রি কাটালে প্রভাতকাল পর্যন্ত ফিরিশ্তাবর্গ স্ত্রীর উপর অভিশাপ করে থাকেন।[2]

স্ত্রী রান্নাশালে রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকলেও (অথবা সফরের জন্য সওয়ারীর পিঠে থাকলেও) স্বামীর ডাকে উপস্থিত হওয়া ওয়াজেব।[3]

এই মিলনে রয়েছে সদকার সম-পরিমাণ সওয়াব।[4]

একটানা নফল ইবাদত ত্যাগ করেও স্ত্রী-মিলন করা ইসলামের বিধান।[5]

এই জন্যই স্বামী উপস্থিত থাকলে তার অনুমতি ছাড়া স্ত্রী নফল রোযা রাখতে পারে না।[6]

সুতরাং অন্যান্য ব্যস্ততা ত্যাগ করে সঙ্গমের মাধ্যমে উভয়ের মনে মহাশান্তি আনয়ন একান্ত কর্তব্য।

মিলনে কেবল স্বামীর নিজের যৌনতৃষ্ণা নিবারণই যেন উদ্দেশ্য না হয়। কেবল নিজের উত্তেজনা ও কামাগ্নি নির্বাপিত করতে এবং স্ত্রীর মানসিক, শারীরিক, প্রভৃতি অবস্থা খেয়াল না করে অথবা তাকে উত্তেজিতা না করে অথবা তার বীর্যস্খলন বা পূর্ণতৃপ্তির কথা না ভেবে কেবল নিজের বীর্যপাত ও তৃপ্তিকেই প্রাধান্য দিয়ে মিলন মধু-মিলন নয়। উভয়ের পূর্ণ তৃপ্তিই হল প্রকৃত মধুর মিলন। সুতরাং সঙ্গমের পূর্বে বিভিন্ন শৃঙ্গার; আলিঙ্গন, চুম্বন, দংশন, মর্দন প্রভৃতির ভূমিকা জরুরী। নচেৎ স্ত্রী এই স্বাদ থেকে বঞ্চিত হলে তার নিকট প্রেমের কোন স্বাদই থাকবে না। পতি পেয়েও উপপতির চিন্তায় দিনপাত করবে। অতএব সচেতন যুবক যেন এতে ভুল না করে বসে। নচেৎ বিয়ের আসল উদ্দেশ্য (ব্যভিচার উৎখাত) বিফল হয়ে যাবে।[7]

প্রকাশ যে, শৃঙ্গারের সময় স্ত্রীর স্তনবৃন্ত দংশন ও চোষন কোন দোষের নয়।[8]

অবশ্য একে অন্যের লজ্জাস্থান লেহন ও চোষণ অবশ্যই ঘৃণিত আচরণ।

মিলনের জন্য কোন নির্দিষ্ট দিন-ক্ষণ বা সময় নেই। মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা এবং মনের চাহিদা থাকলে তা করা যায়। অবশ্য অধিক নেশায় স্বাস্থ্য হারানো উচিৎ নয়। স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য বিনা স্পর্শ ও যৌন চিন্তায় যখন যৌনাঙ্গ স্ফীত হয়ে উঠে ঠিক সেই সময়েই করা উচিৎ। তবে মনে রাখার কথা যে, একে অপরের যৌনক্ষুধা মিটাতে অসমর্থ হলে এবং যৌনবাজারে একজন গরম ও অপরজন ঠান্ডা হলে সংসারে কলহ নেমে আসে।

যেমন সঙ্গমের নির্দিষ্ট কোন পদ্ধতিও ইসলামে বর্ণিত হয়নি। এই সময় করলে সন্তান নির্বোধ হয়, ঐভাবে করলে সন্তান অন্ধ, বধির বা বিকলাঙ্গ হয় ইত্যাদি কথার স্বীকৃতি ইসলামে নেই।

আল্লাহ পাক বলেন,

﴿نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ﴾

‘‘তোমাদের স্ত্রী তোমাদের শস্যক্ষেত্র স্বরূপ। সুতরাং তোমরা তোমাদের শষ্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পার।[9]

অতএব সমস্ত রকমের আসন বৈধ। সমস্ত বৈধ সময়ে সঙ্গম বৈধ। অমাবস্যা-পূর্ণিমা প্রভৃতি কোন শুভাশুভ দিন বা রাত নয়। এতে সন্তানের কোনও ক্ষতি হয় না।[10]

স্ত্রীর মাসিক হলে সঙ্গম হারাম। কারণ, এই স্রাব অশুচি। পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত স্ত্রীর নিকট সঙ্গমের জন্য যাওয়া নিষিদ্ধ।[11]

মাসিকাবস্থায় সঙ্গম করা এক প্রকার কুফরী।[12]

সহবাস করে ফেললে এক দ্বীনার (সওয়া চার গ্রাম পরিমাণ সোনা অথবা তার মূল্য, না পারলে এর অর্ধ পরিমাণ অর্থ) সদকাহ করে কাফ্ফারা দিতে হবে।[13]

এ ছাড়া এই অবস্থায় সঙ্গমে স্বামী-স্ত্রীর উভয়ের পক্ষে স্বাস্থ্যগত বিশেষ ক্ষতিও রয়েছে অনেক।[14]

অবশ্য মাসিকাবস্থায় সঙ্গম ছাড়া অন্যান্যভাবে যৌনাচার বৈধ।[15]

যেমন, এই সময় বা অন্যান্য সময় স্ত্রীর ঊরুমৈথুন বৈধ। এতে বীর্যপাত হলেও দোষ নেই।[16]

তবে স্ত্রীর পায়ুপথে (মলদ্বারে) সঙ্গম হারাম। যে ব্যক্তি এমন কাজ করে সে অভিশপ্ত।[17] এমন ব্যক্তির দিকে আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকিয়েও দেখবেন না।[18] এমন কাজও এক প্রকার কুফরী।[19] সুতরাং এই সঙ্গমে স্ত্রীর সম্মত না হওয়া ফরয।

উল্লেখ্য যে, নেফাসের অবস্থাতেও সঙ্গম হারাম। গর্ভাবস্থায় যদি ভ্রূণের কোন প্রকার ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে, তাহলে খুবই সতর্কতার সাথে বৈধ।[20]

নির্জন কক্ষে কোন পর্দার ভিতরেই মিলন করা লজ্জাশীলতার পরিচয়। অবশ্য স্বামী-স্ত্রী উভয়েই উভয়ের সর্বাঙ্গ নগ্নাবস্থায় দেখতে পারে।[21]

এতে স্বাস্থ্যগত কোন ক্ষতিও নেই। ‘ স্বামী-স্ত্রীর একে অন্যের লজ্জাস্থান দেখতে নেই, বা হযরত আয়েশা (রাঃ) কখনও স্বামীর গুপ্তাঙ্গ দেখেননি, উলঙ্গ হয়ে গাধার মত সহবাস করো না, বা উলঙ্গ হয়ে সহবাস করলে সন্তান অন্ধ হয়। সঙ্গমের সময় কথা বললে সন্তান তোৎলা বা বোবা হয়’ ইত্যাদি বলে যে সব হাদীস বর্ণনা করা হয়, তার একটিও সহীহ ও শুদ্ধ নয়।[22]

পক্ষান্তরে আল্লাহ বলেন,

﴿هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَهُنَّ﴾

‘‘ওরা (স্ত্রীরা) তোমাদের লেবাস এবং তোমরা তাদের লেবাস।’’[23]

ঘুমন্ত হলেও নিজ সন্তান বা অন্য কেউ কক্ষে থাকলে সঙ্গম করা উচিৎ নয়। তবে শিশু একান্ত অবোধ হলে ভিন্ন কথা।

প্রকাশ যে, মেয়েদের যৌন-মিলন না করার সাধারণ ধৈর্য-সীমা চার মাস। তাই পর্যাপ্ত কারণ ছাড়া এবং উভয়ের সম্মত চুক্তি ব্যতীত এর অধিক সময় বিরহে কাটানো বৈধ নয়।[24]

সঙ্গমের পূর্বে নিম্নের দুআ পাঠ কর্তব্য;

بِسْمِ اللهِ، اَللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا.

উচ্চারণঃ- বিসমিল্লা-হ, আল্লা-হুম্মা জান্নিবনাশ শাইতবা-না অজান্নিবিশ শাইতবা-না মা রাযাকবতানা।

অর্থাৎ, আমি আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করছি। হে আল্লাহ! আমাদের নিকট থেকে শয়তানকে দূরে রাখ এবং আমাদেরকে যে সন্তান দান করবে তার নিকট থেকেও শয়তানকে দূরে রাখ।

এই দুআ পাঠ করে সহবাস করলে উক্ত সহবাসের ফলে সৃষ্টি সন্তানের কোন ক্ষতি শয়তান করতে পারে না।[25]

প্রকাশ যে, শয়তানও মানুষের সন্তান-সন্ততিতে অংশগ্রহণ করে থাকে; যদি সঙ্গমের পূর্বে আল্লাহর নাম না নেওয়া হয় তাহলে।[26]

সঙ্গম বা বীর্যপাতের পর গোসল (মাথা শুদ্ধ সর্বশরীর ধোয়া) ফরয। তবে নগ্নাবস্থায় স্বামী-স্ত্রী আলিঙ্গনাদি করলে, বীর্যপাত না হলে এবং মযী (বীর্যের পূর্বে নির্গত আঠাল তরল পদার্থ) বের হলেও গোসল ফরয নয়। লজ্জাস্থান ধুয়ে ওযু যথেষ্ট।

লিঙ্গাগ্র যোনী-মুখে প্রবেশ করালে বীর্যপাত না হলেও উভয়ের উপর গোসল ফরয। অনুরূপ লিঙ্গাগ্র যোনীপথে প্রবেশ না করিয়েও যে কোন প্রকারে বীর্যপাত করলে গোসল ফরয।[27]

স্ত্রীর ঊরু-মৈথুন করে বীর্যপাত করলে স্বামী গোসল করবে। স্ত্রী (বীর্যপাত না হলে) গোসল করবে না। ঊরু ধুয়ে ওযু যথেষ্ট।[28]

একাধিক বার সঙ্গম অথবা গোসল ফরযের একাধিক কারণ হলেও শেষে একবার গোসলই যথেষ্ট।[29] স্বামী-সঙ্গম করার পর-পরই স্ত্রীর মাসিক শুরু হয়ে গেলে একেবারে মাসিক বন্ধ হওয়ার পর গোসল করতে পারে।[30] অর্থাৎ মাসিকাবস্থায় পূর্ব-সঙ্গমের জন্য গোসল জরুরী নয়।

প্রথমে স্বামী গোসল করে স্ত্রীর গোসল করার পূর্বে শীতে তার দেহের উত্তাপ নেওয়া কোন দোষের নয়।[31]

একই রাত্রে বা দিনে একাধিকবার সহবাস করতে চাইলে দুই সহবাসের মাঝে ওযু করে নেওয়া উচিৎ। অবশ্য গোসল করলে আরো উত্তম। এতে পুনর্মিলনে অধিকতর তৃপ্তি লাভ হয়।[32]

নিদ্রার পূর্বে সঙ্গম করে ফজরের পূর্বে গোসল করতে চাইলে লজ্জাস্থান ধুয়ে ওযু অথবা তায়াম্মুম করে শয়ন করা উত্তম।[33]

অবশ্য সর্বোত্তম হলো ঘুমাবার পূর্বেই গোসল করে নেওয়া।[34] কারণ, দীর্ঘক্ষণ নাপাকে না থাকাই শ্রেয়। তবে গোসল না করে যেন কোন নামায নষ্ট না হয়। যেহেতু যথাসময়ে নামায আদায় করা ফরয।

রোযার দিনে স্ত্রীচুম্বন ও শৃঙ্গারাচারে বীর্যপাত না হলে রোযা নষ্ট হয় না।[35] যদিও প্রেমকেলিতে মযী স্খলন হয় তবুও কোন ক্ষতি নেই।[36]

স্ত্রীর হস্তমৈথুনে বা সমকামে বীর্যপাত করলে রোযা নষ্ট হয়।[37]

স্বামী-স্ত্রী কোন প্রকার ভুলে রোযার দিনে সঙ্গমে লিপ্ত হয়ে পড়লে মনে পড়া মাত্র পৃথক হয়ে যাবে। এর জন্য কাযা কাফ্ফারা নেই।[38]

ইচ্ছাকৃত সঙ্গম করলে তওবা, রোযা কাযা এবং কাফ্ফারা ওয়াজেব; একটি ক্রীতদাস স্বাধীন করবে, না পারলে (যথার্থ ওজর ছাড়া) নিরবচ্ছিন্নভাবে দুই মাস একটানা রোযা পালন করবে, তা না পারলে ষাটজন গরীবকে (মাথাপিছু ১কিলো ২৫০ গ্রাম করে) খাদ্য (চাল) দান করতে হবে।[39]

অবশ্য স্ত্রী সম্মত না হলে জোরপূর্বক সহবাস করলে স্ত্রীর রোযা নষ্ট হয় না।[40]

ই’তিকাফ অবস্থায় সঙ্গম বৈধ নয়।[41]

হজ্জ করতে গিয়ে ইহরাম অবস্থায় সঙ্গম করলে হজ্জ বাতিল হয়ে যাবে। হজ্জের সমস্ত কাজ পূর্ণ করতে হবে, মক্কায় অতিরিক্ত একটি উট ফিদয়াহ দিতে হবে এবং নফল হলেও ঐ হজ্জ আগামীতে কাযা করতে হবে।[42]

মিলনের গুপ্ত রহস্য বন্ধু-সখী বা আর কারো নিকট প্রকাশ করা হারাম। স্ত্রী-সঙ্গমের কথা যে অপরের নিকট খুলে বলে সে ব্যক্তি কিয়ামতে আল্লাহর নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট পর্যায়ের লোকেদের দলভুক্ত হবে।[43]

এমন ব্যক্তি তো সেই শয়তানের মত, যে কোন নারী-শয়তানকে রাস্তায় পেয়ে সঙ্গম করতে লাগে, আর লোকেরা তার দিকে চেয়ে চেয়ে দেখে।[44]

উল্লেখ্য যে, বিবাহ-বন্ধনের পর সারার পূর্বে স্বামী-স্ত্রীর দেখা-সাক্ষাৎ ও মিলন বৈধ।[45]

প্রকাশ থাকে যে, বাসর রাত্রির শেষ প্রভাতে দুধ ইত্যাদি দিয়ে বাসর ঠান্ডা করার আচার ইসলামী নয়।

বরের জন্য বাসর-সকালে উঠে বাড়িতে উপস্থিত আত্মীয়-সবজনকে সালাম দেওয়া এবং তাদের জন্য দুআ করা মুস্তাহাব। আত্মীয়-সবজনেরও মুস্তাহাব, তার জন্য অনুরূপ সালাম-দুআ করা। আল্লাহর রসূল (সাঃ) এমনটি করেছেন।[46]

[1] (আল-ফাতাওয়াল মুহিম্মাহ, লিনিসাইল উম্মাহ ৯৬পৃঃ) [2] (বুখারী, মুসলিম, আবু দাঊদ, মুসনাদে আহমদ, সহীহ আল-জা-মিউস সাগীর অযিয়াদাতুহ ৫৩২নং) [3] (নাসাঈ, ত্বাহাবী, মুশকিলুল আসার, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩২৫৭নং, সহীহ আল-জা-মিউস সাগীর অযিয়াদাতুহ ৫৩৪নং) [4] (মুসলিম, নাসাঈ) [5] (বুখারী মুসলিম, মিশকাতুল মাসাবীহ১৪৫নং) [6] (মিশকাতুল মাসাবীহ ৩২৬৯নং) [7] (অকাফাত মাআল উসরাহ, সাবরী শাহীন ৫০-৫১পৃঃ) [8] (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ২/৭৫৭) [9] (সূরা বাক্বারা ২/২২৩) [10] (বুখারী, মুসলিম, আদাবুয যিফাফ ৯৯-১০০পৃঃ) [11] (আলকুরআন কারীম ২/২২২) [12] (আবু দাঊদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, নাসাঈ, আদাবুয যিফাফ ১২০-১২১) [13] (আবু দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ প্রভৃতি, আযি ১২২পৃঃ) [14] (তুহফাতুল আরূস, ১৩৯ পৃঃ) [15] (মুসলিম, আবু দাঊদ, প্রভৃতি, আদাবুয যিফাফ ১২১-১২২পৃঃ) [16] (জামিউ আহকামিন নিসা, ১/৯০) [17] (আবু দাঊদ, মুসনাদে আহমদ) [18] (নাসাঈ, তিরমিযী) [19] (আবু দাঊদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, আদাবুয যিফাফ ১০১-১০৪পৃঃ) [20] (ফাতাওয়াল মারআহ ১০৩পৃঃ) [21] (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ২/৭৬৬) [22] (দেখুন, তুহফাতুল আরূস, ১১৮-১১৯পৃঃ) [23] (সূরা আল-বাক্বারা (২) : ১৮৭) [24] (ফাতাওয়াল মারআহ ৭৭পৃঃ) [25] (বুখারী, আবু দাঊদ, তিরমিযী, আদাবুয যিফাফ ৯৮পৃঃ) [26] (সূরা ইসরা (১৭) : ৬৪, তফসীর ইবনে কাসীর ৩/৫৪) [27] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ২২/৮৯) [28] (জামিউ আহকামিন নিসা, ১/৯০পৃঃ) [29] (ঐ ১/১২৫পৃঃ) [30] (ঐ ১/১২৪) [31] (আদাবুয যিফাফ ১০৫ পৃঃ) [32] (মুসলিম, ইবনে আবী শাইবাহ , মুসনাদে আহমদ, আবু দাঊদ, নাসাঈ, তাবঃ, আদাবুয যিফাফ ১০৮পৃঃ) [33] (আদাবুয যিফাফ ১১৩,১১৭-১১৮ পৃঃ) [34] (ঐ১১৮পৃঃ) [35] (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ১/৫০৫) [36] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৪/১০৪) [37] (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ১/৫০৭) [38] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৪/১১৩) [39] (বুখারী, মুসলিম, আবু দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ফিকহুস সুন্নাহ ১/৪১৩-৪১৪) [40] (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ১/৫৪২) [41] (সূরা আল-বাক্বারা (২) : ১৮৭) [42] (আল-ফাতাওয়া আল- ইসলামিয়্যাহ ২/২৩২) [43] (ইবনে আবী শাইবাহ , মুসলিম, মুসনাদে আহমদ, প্রভৃতি আদাবুয যিফাফ ১৪২ পৃঃ) [44] (মুসনাদে আহমদ,ইবনে আবী শাইবাহ ,আবু দাঊদ,বাইহাকী,প্রভৃতি আদাবুয যিফাফ ১৪৩-১৪৪ পৃঃ) [45] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ২২/২০৬) [46] (নাসাঈ, আদাবুয যিফাফ ১৩৮-১৩৯ পৃঃ)

গ্রন্থঃ আদর্শ বিবাহ ও দাম্পত্য অধ্যায়ঃ বিবাহ ও দাম্পত্য বিষয়াবলী যৌনাচার ও ব্যাভিচার আল্লাহ তা’আলা পৃথিবী আবাদ রাখার জন্য মানুষকে খলীফারূপে সৃষ্টি করেছেন। তার মধ্যে এমন প্রকৃতি ও প্রবৃত্তি দান করেছেন যাতে সে অতি সহজে নিজের বংশ বৃদ্ধি ও আবাদ করতে পারে। ক্ষুধা-নিবৃত্তি করে যেমন তার নিজের অস্তিত্ব অবশিষ্ট থাকে, তদ্রূপ যৌনক্ষুধা নিবৃত্তি করলে তার বংশ বাকী থাকবে। এই যৌনক্ষুধা এমন এক ক্ষুধা, যার তাড়নায় ক্ষুধার্ত মানুষ নিজেকে অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ ও আয়ত্তে রাখতে পারে না। ক্ষুধা উপশান্ত না হওয়া পর্যন্ত মানুষ প্রকৃতিস্থ হতে পারে না। অবশ্য উক্ত ক্ষুধা নিবারণের জন্য পৃথিবীতে সাধারণতঃ তিনটি রীতি রয়েছে ; প্রথমতঃ ‘ফ্রী-সেক্স’-এর পশুবৎ রীতি; যাতে ধর্মীয়, নৈতিক বা লৌকিক কোন প্রকারের বাধা ও নিয়ন্ত্রণ নেই, যখন যেভাবে ইচ্ছা কামপিপাসা দূর করা যায়। যাতে সমাজে সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খলতা এবং বংশে আসে কত শত জারজ। দ্বিতীয়তঃ সংযম রীতি; যাতে মানুষ ইন্দ্রিয় বাসনাকে নিগৃহীত রাখে। কোন প্রকারের বীর্যক্ষয়কে পাপ মনে করে। এরূপ বৈরাগ্যবাদ প্রকৃতি-ধর্মেরও বিরোধী। তৃতীয়তঃ নিয়ন্ত্রিত রীতি; গন্ডি-সীমার অভ্যন্তরে থেকে কাম-বাসনাকে মানুষ চরিতার্থ করতে পারে। ঐ সীমা উল্লংঘন করে নিয়ন্ত্রণ-হারা হতে পারে না। এই রীতিই হল মানুষের জন্য প্রকৃতিসিদ্ধ ও ন্যায়পরায়ণ। বিবাহ-বন্ধনের মাঝে সীমিত ও রীতিমত যৌনাচার ও কামবাসনা চরিতার্থ করা যায়। কিন্তু বল্গাহীনভাবে ব্যভিচার করা যায় না। এই নীতিই সমস্ত ঐশীধর্মের নীতি এবং ইসলামের আদর্শ। ইসলাম বিবাহকে বৈধ করেছে এবং ব্যভিচারকে অবৈধ ও হারাম ঘোষণা করেছে। নারী-পুরুষের এই মিলনকে যদি নিয়ন্ত্রিত না করা হত, তাহলে পৃথিবীতে সুশৃঙ্খল সমাজ ও সংসার গড়ে উঠত না। স্থায়ী হত না প্রেম ও সম্প্রীতি। সেই দাম্পত্য গড়ে উঠত না, যাতে থাকে একের অন্যের জন্য শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, স্নেহ, স্বার্থত্যাগ ও উৎসর্গ। তাইতো প্রয়োজন ছিল ব্যভিচারকে কঠোরভাবে দমন করা। যাতে সমাজের মানুষরা অসভ্য ও উচ্ছৃঙ্খল না হয়ে উঠে, লাগামহীন যৌনাচারে বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধি ও মহামারীর প্রাদুর্ভাব না ঘটে এবং মানুষ পশুর পর্যায়ে নেমে না যায়। তাই তো ইসলামে রয়েছে ব্যভিচারীর জন্য কঠোর শাস্তি-ব্যবস্থা। আল্লাহ তা’আলা বলেন, ﴿الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ وَلا تَأْخُذْكُمْ بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللهِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ﴾ ‘‘ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী—ওদের প্রত্যেককে একশত কশাঘাত কর; যদি তোমরা আল্লাহতে ও পরকালে বিশ্বাসী হও, তাহলে আল্লাহর বিধান কার্যকরীকরণে ওদের প্রতি দয়া যেন তোমাদেরকে অভিভূত না করে। আর মু’মিনদের একটি দল যেন ওদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।’’[1] আর এরপর তাদেরকে এক বছরের জন্য দেশ থেকে বহিষ্কার অথবা কারাদন্ডে দন্ডিত করা হবে।[2] এ তো হল অবিবাহিত ব্যভিচারী-ব্যভিচারিণীর শাস্তি। বিবাহিতদের শাস্তি হল তাদেরকে কোমর অবধি মাটিতে পুঁতে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা।[3] তদনুরূপ সমকাম বা সমলিঙ্গী-ব্যভিচারকেও ইসলাম হারাম ঘোষণা করেছে। প্রকৃতিগতভাবে পুরুষ নারীর প্রতি এবং নারী পুরুষের প্রতি আসক্ত এবং উভয়েই একে অপরের মিলন লাভের আকাঙ্ক্ষী। কিন্তু এই প্রকৃতির সীমা উল্লংঘন করে এবং দ্বীনী নিয়ন্ত্রণের বেড়া ডিঙ্গিয়ে যারা নির্লজ্জভাবে পুরুষে-পুরুষে ও নারীতে-নারীতে সমকামে নিজেদের যৌনক্ষুধা নিবারণ করে তাদেরও শাস্তি হত্যা।[4] কৃত্রিম-মৈথুন বা হস্তমৈথুন অত বড় মহাপাপ না হলেও যা স্বাস্থ্যের পক্ষে দারুন ক্ষতি ও হানিকর এবং তা হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেন, وَالَّذِيْنَ هُمْ لِفُرُوْجِهِمْ حَافِظُوْنَ، إِلاَّ عَلى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُوْمِيْنَ، فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاءَ ذلِكَ فَأُولئِكَ هُمُ الْعَادُوْنَ অর্থাৎ, ‘‘যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে, তবে নিজেদের পত্নী অথবা অধিকারভুক্ত দাসীদের ([5]) ক্ষেত্রে অন্যথা করলে তারা নিন্দার্হ হবে না এবং তাছাড়া অন্যান্য পথ অবলম্বন করলে তারা হবে সীমালংঘনকারী।’’[6] সুতরাং কৃত্রিম মৈথুন এক প্রকার সীমালংঘন; যা মহাপাপ। তাছাড়া আল্লাহর রসূল (সাঃ) যখন সামর্থ্যবান যুবকদেরকে বিবাহ করতে বললেন, তখনই অসামর্থ্যবান যুবককে রোযা রাখার নির্দেশ দিলেন। যাতে যৌন-তাড়নায় যুবকদল কোনরূপ বেয়াড়া না হয়ে যায়। পক্ষান্তরে এতে হয়তো ক্ষণিকের যৌনস্বাদ আছে কিন্তু এর পশ্চাতে আছে মহালাঞ্ছনা, মহাপরিতাপ। শরীয়ত যেমন সর্বপ্রকার ব্যভিচারকে হারাম ঘোষণা করেছে তেমনি ব্যভিচারের কাছ ঘেঁসতে, অবৈধ যৌনাচারের নিকটবর্তী হতে নিষেধ এবং এর সমস্ত ছিদ্র-পথ বন্ধ করতে আদেশ করেছে। কারণ, যে পথ হারামে নিয়ে যায় সে পথে চলাও হারাম। [1] (সূরা আন-নূর (২৪) : ২) [2] (বুখারী, মুসলিম, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩৫৫৫নং) [3] (বুখারী, মুসলিম, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩৫৫৫, ৩৫৫৭নং) [4] (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩৫৭৫নং) ([5]) অধিকারভুক্ত দাসী বলে ক্রীতদাসী ও কাফের যুদ্ধবন্দিবনীকে বুঝানো হয়েছে। এখানে কাজের মেয়ে, দাসী। খাদেমা বা চাকরানী উদ্দেশ্য নয়। [6] (সূরা আল-মু’মিনূন (২৩) : ৫-৭)

গ্রন্থঃ আদর্শ বিবাহ ও দাম্পত্য
অধ্যায়ঃ বিবাহ ও দাম্পত্য বিষয়াবলী

যৌনাচার ও ব্যাভিচার

আল্লাহ তা’আলা পৃথিবী আবাদ রাখার জন্য মানুষকে খলীফারূপে সৃষ্টি করেছেন। তার মধ্যে এমন প্রকৃতি ও প্রবৃত্তি দান করেছেন যাতে সে অতি সহজে নিজের বংশ বৃদ্ধি ও আবাদ করতে পারে। ক্ষুধা-নিবৃত্তি করে যেমন তার নিজের অস্তিত্ব অবশিষ্ট থাকে, তদ্রূপ যৌনক্ষুধা নিবৃত্তি করলে তার বংশ বাকী থাকবে।

এই যৌনক্ষুধা এমন এক ক্ষুধা, যার তাড়নায় ক্ষুধার্ত মানুষ নিজেকে অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ ও আয়ত্তে রাখতে পারে না। ক্ষুধা উপশান্ত না হওয়া পর্যন্ত মানুষ প্রকৃতিস্থ হতে পারে না।

অবশ্য উক্ত ক্ষুধা নিবারণের জন্য পৃথিবীতে সাধারণতঃ তিনটি রীতি রয়েছে ;

প্রথমতঃ ‘ফ্রী-সেক্স’-এর পশুবৎ রীতি; যাতে ধর্মীয়, নৈতিক বা লৌকিক কোন প্রকারের বাধা ও নিয়ন্ত্রণ নেই, যখন যেভাবে ইচ্ছা কামপিপাসা দূর করা যায়। যাতে সমাজে সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খলতা এবং বংশে আসে কত শত জারজ।

দ্বিতীয়তঃ সংযম রীতি; যাতে মানুষ ইন্দ্রিয় বাসনাকে নিগৃহীত রাখে। কোন প্রকারের বীর্যক্ষয়কে পাপ মনে করে। এরূপ বৈরাগ্যবাদ প্রকৃতি-ধর্মেরও বিরোধী।

তৃতীয়তঃ নিয়ন্ত্রিত রীতি; গন্ডি-সীমার অভ্যন্তরে থেকে কাম-বাসনাকে মানুষ চরিতার্থ করতে পারে। ঐ সীমা উল্লংঘন করে নিয়ন্ত্রণ-হারা হতে পারে না। এই রীতিই হল মানুষের জন্য প্রকৃতিসিদ্ধ ও ন্যায়পরায়ণ। বিবাহ-বন্ধনের মাঝে সীমিত ও রীতিমত যৌনাচার ও কামবাসনা চরিতার্থ করা যায়। কিন্তু বল্গাহীনভাবে ব্যভিচার করা যায় না। এই নীতিই সমস্ত ঐশীধর্মের নীতি এবং ইসলামের আদর্শ। ইসলাম বিবাহকে বৈধ করেছে এবং ব্যভিচারকে অবৈধ ও হারাম ঘোষণা করেছে। নারী-পুরুষের এই মিলনকে যদি নিয়ন্ত্রিত না করা হত, তাহলে পৃথিবীতে সুশৃঙ্খল সমাজ ও সংসার গড়ে উঠত না। স্থায়ী হত না প্রেম ও সম্প্রীতি। সেই দাম্পত্য গড়ে উঠত না, যাতে থাকে একের অন্যের জন্য শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, স্নেহ, স্বার্থত্যাগ ও উৎসর্গ।

তাইতো প্রয়োজন ছিল ব্যভিচারকে কঠোরভাবে দমন করা। যাতে সমাজের মানুষরা অসভ্য ও উচ্ছৃঙ্খল না হয়ে উঠে, লাগামহীন যৌনাচারে বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধি ও মহামারীর প্রাদুর্ভাব না ঘটে এবং মানুষ পশুর পর্যায়ে নেমে না যায়।

তাই তো ইসলামে রয়েছে ব্যভিচারীর জন্য কঠোর শাস্তি-ব্যবস্থা। আল্লাহ তা’আলা বলেন,

﴿الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ وَلا تَأْخُذْكُمْ بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللهِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ﴾

‘‘ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী—ওদের প্রত্যেককে একশত কশাঘাত কর; যদি তোমরা আল্লাহতে ও পরকালে বিশ্বাসী হও, তাহলে আল্লাহর বিধান কার্যকরীকরণে ওদের প্রতি দয়া যেন তোমাদেরকে অভিভূত না করে। আর মু’মিনদের একটি দল যেন ওদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।’’[1]

আর এরপর তাদেরকে এক বছরের জন্য দেশ থেকে বহিষ্কার অথবা কারাদন্ডে দন্ডিত করা হবে।[2]

এ তো হল অবিবাহিত ব্যভিচারী-ব্যভিচারিণীর শাস্তি। বিবাহিতদের শাস্তি হল তাদেরকে কোমর অবধি মাটিতে পুঁতে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা।[3]

তদনুরূপ সমকাম বা সমলিঙ্গী-ব্যভিচারকেও ইসলাম হারাম ঘোষণা করেছে। প্রকৃতিগতভাবে পুরুষ নারীর প্রতি এবং নারী পুরুষের প্রতি আসক্ত এবং উভয়েই একে অপরের মিলন লাভের আকাঙ্ক্ষী। কিন্তু এই প্রকৃতির সীমা উল্লংঘন করে এবং দ্বীনী নিয়ন্ত্রণের বেড়া ডিঙ্গিয়ে যারা নির্লজ্জভাবে পুরুষে-পুরুষে ও নারীতে-নারীতে সমকামে নিজেদের যৌনক্ষুধা নিবারণ করে তাদেরও শাস্তি হত্যা।[4]

কৃত্রিম-মৈথুন বা হস্তমৈথুন অত বড় মহাপাপ না হলেও যা স্বাস্থ্যের পক্ষে দারুন ক্ষতি ও হানিকর এবং তা হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَالَّذِيْنَ هُمْ لِفُرُوْجِهِمْ حَافِظُوْنَ، إِلاَّ عَلى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُوْمِيْنَ، فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاءَ ذلِكَ فَأُولئِكَ هُمُ الْعَادُوْنَ

অর্থাৎ, ‘‘যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে, তবে নিজেদের পত্নী অথবা অধিকারভুক্ত দাসীদের ([5]) ক্ষেত্রে অন্যথা করলে তারা নিন্দার্হ হবে না এবং তাছাড়া অন্যান্য পথ অবলম্বন করলে তারা হবে সীমালংঘনকারী।’’[6]

সুতরাং কৃত্রিম মৈথুন এক প্রকার সীমালংঘন; যা মহাপাপ। তাছাড়া আল্লাহর রসূল (সাঃ) যখন সামর্থ্যবান যুবকদেরকে বিবাহ করতে বললেন, তখনই অসামর্থ্যবান যুবককে রোযা রাখার নির্দেশ দিলেন। যাতে যৌন-তাড়নায় যুবকদল কোনরূপ বেয়াড়া না হয়ে যায়। পক্ষান্তরে এতে হয়তো ক্ষণিকের যৌনস্বাদ আছে কিন্তু এর পশ্চাতে আছে মহালাঞ্ছনা, মহাপরিতাপ।

শরীয়ত যেমন সর্বপ্রকার ব্যভিচারকে হারাম ঘোষণা করেছে তেমনি ব্যভিচারের কাছ ঘেঁসতে, অবৈধ যৌনাচারের নিকটবর্তী হতে নিষেধ এবং এর সমস্ত ছিদ্র-পথ বন্ধ করতে আদেশ করেছে। কারণ, যে পথ হারামে নিয়ে যায় সে পথে চলাও হারাম।

[1] (সূরা আন-নূর (২৪) : ২) [2] (বুখারী, মুসলিম, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩৫৫৫নং) [3] (বুখারী, মুসলিম, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩৫৫৫, ৩৫৫৭নং) [4] (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩৫৭৫নং) ([5]) অধিকারভুক্ত দাসী বলে ক্রীতদাসী ও কাফের যুদ্ধবন্দিবনীকে বুঝানো হয়েছে। এখানে কাজের মেয়ে, দাসী। খাদেমা বা চাকরানী উদ্দেশ্য নয়। [6] (সূরা আল-মু’মিনূন (২৩) : ৫-৭)

*থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন* প্রতি বছর ইংরেজি ৩১শে ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১২টা ০১ মিনিটে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে বর্তমান বিশ্ব একটি নতুন বর্ষে পদার্পন করে। এ অনুষ্ঠানগুলো কি ইসলাম সমর্থিত !!! আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, “তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে থাক যা কাফেরদের জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।” (সূরা আলে-ইমরান: ১৩১) থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন বর্জন সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি জানাতেই আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস। *উৎপত্তি:* প্রাচীন পারস্যের পরাক্রমশালী সম্রাট জামশিদ খ্রিষ্টপূর্ব ৮০০ সালে নববর্ষ প্রবর্তন করেন। পরবর্তীতে ব্যাবিলনের সম্রাট জুলিয়াস সিজার খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬ সালে ইংরেজি নববর্ষ প্রচলন করেন। প্রথমদিকে নববর্ষ বিভিন্ন তারিখে পালন করা হতো। পরবর্তীতে ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তনের পর পহেলা জানুয়ারিতে নববর্ষের দিন হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়। বাংলাদেশে থাটি ফার্স্ট নাইটের ব্যাপক প্রচলন ঘটে ২০০০ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর মধ্যরাতের মিলেনিয়াম বা সহস্রাব্দ পালনের মধ্য দিয়ে। (সূত্র ইন্টারনেট) *থাটিফার্স্ট নাইট কি ইসলাম সমর্থিত?* ১. অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা: এ রাত্রিকে কেন্দ্র করে চলে অশালীন ও বেহায়াপনার মহোৎসব। যুবতীরা আঁটসাঁট, অশালীন ও অর্ধ নগ্ন পোশাক পরিধান করে অবাধে চলাফেরা করে। অথচ এ প্রসঙ্গে নবী (সা:) বলেন, “ঐসব নারী যারা হবে পেষাক পরিহিতা কিন্তু প্রায় নগ্ন। যারা পরপুরুষকে আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও আকৃষ্ট হবে। তাদের মাথা বক্র উঁচু কাঁধ বিশিষ্ট উটের ন্যায়। তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এমনকি জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না।” (সহীহ মুসলিম: ২১২৮) ২. শিরক যুক্ত শ্লোগান: মুসলিমদের অনেকেই বর্ষবরণ করতে দিয়ে শিরকের মধ্যে লিপ্ত হয়ে ইমান হারা হচ্ছে। আর তাদের শ্লোগান হচ্ছে- _“মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা_ _অগ্নি স্নানে সূচি হোক ধরা।”_ উক্ত শ্লোগানে অগ্নিপূজকদের আগুন দ্বারা পবিত্র হওয়ার ভ্রান্ত বিশ্বাস সু-স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হচ্ছে। অথচ অগ্নিকে সম্মান করা, আগুনের কাছে সাহায্য চাওয়া এবং আগুন দ্বারা পবিত্র হওয়ার ধারণা করা শিরক। আর আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহ তা’য়ালা তার সাথে শিরুক কারীকে ক্ষমা করবেন না।” (সূরা নিসাঃ ১১৬) ৩. বিজাতীয় সাদৃশ্য: থাটি ফার্স্ট নাইট উদযাপন সম্পূর্ণরূপে বিজাতীয় সংস্কৃতি। এ রাত্রিতে বলে ও ম্যাসেজের মাধ্যমে অভিবাদন জানানো, আতশবাজি, পটকাবাজি, ফ্যাশন শো, ফায়ার প্লে, ট্যাটাে বা উল্কা অংকন, ডিজে পাটি ও কনসার্ট, নেশা সেবনসহ বিজাতীয় সংস্কৃতির সাথে সাদৃশ্য রাখে। ইসলাম এটি কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। রাসূল (স.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনাে সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করলো সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।” (আহমদ, আবু দাউদ, মিশকাতঃ ৪৩৪৭) *যুব সমাজকে ধ্বংস ও নারীদের সম্ভ্রম নষ্ট করার নীল নকশা* যুব সমাজকে ধ্বংস ও নারীদের সম্ভ্রম নষ্ট করার জন্যই থাটি ফার্স্ট নাইট বাংলাদেশে আমদানি করা হয়েছে। ২০০০ সালের ৩১ শে ২৫ মিনিটে গুলশানে থাটি ফাস্ট নাইট উদযাপনকারী এক তরুণীকে কিছু মাতাল যুবক শ্লীলতা হানি করে ও তার শরীরের বেশীর ভাগ কাপড় ছিঁড়ে ফেলে। (সূত্র- দৈনিক মানবজমিন, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০০০ইং) আর ২০০১ সালের শাওন আখতার বাধনের ক্ষত-বিক্ষত দেহ কে না দেখেছেন ? আরও কত বাধন। এ থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় থাটি ফাস্ট নাইট একটি যৌন উৎসব। যা তাদের জন্য অসম্মান জনক। অথচ, আল্লাহ তা’য়ালা বলেন: “আর তোমরা জেনার নিকটবর্তী হয়ো না।” (সূরা বনী-ইসরাইল: ৩২) মহান আল্লাহ যাবতীয় অশ্লীল অন্যায় কাজ হারাম করেছেন। (সূরা আল আ’রাফ : ৩২) আমাদের আহবান পরিশেষে সকলকে উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি যে, জেনা, মদ্যপান ও অমুসলিমদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণের এই নিকৃষ্ট সংস্কৃতিকে চিরদিনের জন্য বাংলাদেশ থেকে বিলীন করতে আমরা সচেষ্ট হই। এ লক্ষ্যে সকল মুসলিমকে সীসা ঢালা প্রাচীরের মত প্রতিরোধ বুহ্য সৃষ্টি করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা ও অন্যদেরকে এই বিষয়ে সচেতন করার মাধ্যমে জান্নাত লাভ করার জন্য আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আল্লাহ্‌ তা’য়ালা বলেন, “তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে ও পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।” (সূরা আত-তাহরীম: ৬) ➖➖➖➖➖➖ প্রচারে: শুব্বান রিচার্স সেন্টার৭৯/ক’/৩, উত্তর যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪ https://salafibd.wordpress.com/2017/12/31/thirty-first-night/

*থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন*

প্রতি বছর ইংরেজি ৩১শে ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১২টা ০১ মিনিটে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে বর্তমান বিশ্ব একটি নতুন বর্ষে পদার্পন করে। এ অনুষ্ঠানগুলো কি ইসলাম সমর্থিত !!!

আল্লাহ তা’য়ালা বলেন,

“তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে থাক যা কাফেরদের জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।” (সূরা আলে-ইমরান: ১৩১)

থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন বর্জন সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি জানাতেই আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস।

*উৎপত্তি:*

প্রাচীন পারস্যের পরাক্রমশালী সম্রাট জামশিদ খ্রিষ্টপূর্ব ৮০০ সালে নববর্ষ প্রবর্তন করেন। পরবর্তীতে ব্যাবিলনের সম্রাট জুলিয়াস সিজার খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬ সালে ইংরেজি নববর্ষ প্রচলন করেন। প্রথমদিকে নববর্ষ বিভিন্ন তারিখে পালন করা হতো।

পরবর্তীতে ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তনের পর পহেলা জানুয়ারিতে নববর্ষের দিন হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়। বাংলাদেশে থাটি ফার্স্ট নাইটের ব্যাপক প্রচলন ঘটে ২০০০ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর মধ্যরাতের মিলেনিয়াম বা সহস্রাব্দ পালনের মধ্য দিয়ে। (সূত্র ইন্টারনেট)
*থাটিফার্স্ট নাইট কি ইসলাম সমর্থিত?*

১. অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা: এ রাত্রিকে কেন্দ্র করে চলে অশালীন ও বেহায়াপনার মহোৎসব। যুবতীরা আঁটসাঁট, অশালীন ও অর্ধ নগ্ন পোশাক পরিধান করে অবাধে চলাফেরা করে। অথচ এ প্রসঙ্গে নবী (সা:) বলেন,

“ঐসব নারী যারা হবে পেষাক পরিহিতা কিন্তু প্রায় নগ্ন। যারা পরপুরুষকে আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও আকৃষ্ট হবে। তাদের মাথা বক্র উঁচু কাঁধ বিশিষ্ট উটের ন্যায়। তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এমনকি জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না।” (সহীহ মুসলিম: ২১২৮)

২. শিরক যুক্ত শ্লোগান: মুসলিমদের অনেকেই বর্ষবরণ করতে দিয়ে শিরকের মধ্যে লিপ্ত হয়ে ইমান হারা হচ্ছে। আর তাদের শ্লোগান হচ্ছে-

_“মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা_

_অগ্নি স্নানে সূচি হোক ধরা।”_

উক্ত শ্লোগানে অগ্নিপূজকদের আগুন দ্বারা পবিত্র হওয়ার ভ্রান্ত বিশ্বাস সু-স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হচ্ছে। অথচ অগ্নিকে সম্মান করা, আগুনের কাছে সাহায্য চাওয়া এবং আগুন দ্বারা পবিত্র হওয়ার ধারণা করা শিরক। আর আল্লাহ তা’য়ালা বলেন,

“নিশ্চয় আল্লাহ তা’য়ালা তার সাথে শিরুক কারীকে ক্ষমা করবেন না।” (সূরা নিসাঃ ১১৬)

৩. বিজাতীয় সাদৃশ্য: থাটি ফার্স্ট নাইট উদযাপন সম্পূর্ণরূপে বিজাতীয় সংস্কৃতি। এ রাত্রিতে বলে ও ম্যাসেজের মাধ্যমে অভিবাদন জানানো, আতশবাজি, পটকাবাজি, ফ্যাশন শো, ফায়ার প্লে, ট্যাটাে বা উল্কা অংকন, ডিজে পাটি ও কনসার্ট, নেশা সেবনসহ বিজাতীয় সংস্কৃতির সাথে সাদৃশ্য রাখে। ইসলাম এটি কঠোরভাবে নিষেধ করেছে।

রাসূল (স.) বলেছেন,

“যে ব্যক্তি কোনাে সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করলো সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।” (আহমদ, আবু দাউদ, মিশকাতঃ ৪৩৪৭)

*যুব সমাজকে ধ্বংস ও নারীদের সম্ভ্রম নষ্ট করার নীল নকশা*

যুব সমাজকে ধ্বংস ও নারীদের সম্ভ্রম নষ্ট করার জন্যই থাটি ফার্স্ট নাইট বাংলাদেশে আমদানি করা হয়েছে। ২০০০ সালের ৩১ শে ২৫ মিনিটে গুলশানে থাটি ফাস্ট নাইট উদযাপনকারী এক তরুণীকে কিছু মাতাল যুবক শ্লীলতা হানি করে ও তার শরীরের বেশীর ভাগ কাপড় ছিঁড়ে ফেলে। (সূত্র- দৈনিক মানবজমিন, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০০০ইং)

আর ২০০১ সালের শাওন আখতার বাধনের ক্ষত-বিক্ষত দেহ কে না দেখেছেন ? আরও কত বাধন। এ থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় থাটি ফাস্ট নাইট একটি যৌন উৎসব। যা তাদের জন্য অসম্মান জনক। অথচ, আল্লাহ তা’য়ালা বলেন:

“আর তোমরা জেনার নিকটবর্তী হয়ো না।” (সূরা বনী-ইসরাইল: ৩২)

মহান আল্লাহ যাবতীয় অশ্লীল অন্যায় কাজ হারাম করেছেন। (সূরা আল আ’রাফ : ৩২)

আমাদের আহবান

পরিশেষে সকলকে উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি যে, জেনা, মদ্যপান ও অমুসলিমদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণের এই নিকৃষ্ট সংস্কৃতিকে চিরদিনের জন্য বাংলাদেশ থেকে বিলীন করতে আমরা সচেষ্ট হই। এ লক্ষ্যে সকল মুসলিমকে সীসা ঢালা প্রাচীরের মত প্রতিরোধ বুহ্য সৃষ্টি করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা ও অন্যদেরকে এই বিষয়ে সচেতন করার মাধ্যমে জান্নাত লাভ করার জন্য আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আল্লাহ্‌ তা’য়ালা বলেন,

“তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে ও পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।” (সূরা আত-তাহরীম: ৬)
➖➖➖➖➖➖
প্রচারে:
শুব্বান রিচার্স সেন্টার৭৯/ক’/৩, উত্তর যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
https://salafibd.wordpress.com/2017/12/31/thirty-first-night/

প্রশ্নঃ (৪৬৮) ইহরামের কাপড় পরিধান করার পর গোসল করার বিধান কি? উত্তরঃ ইহরামে প্রবেশ করার পর গোসল করতে কোন বাধা নেই। কেননা ইহা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত রয়েছে। চাই একবার গোসল করুক বা দু’বার। কিন্তু ইহরাম অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে জানাবাতের (নাপাকীর) গোসল করা ওয়াজিব। আর ইহরাম বাঁধার সময় গোসল করা সুন্নাত। প্রশ্নঃ (৪৬৯) মৃত দাদার পক্ষ থেকে হজ্জ করার বিধান কি? অবশ্য তার পক্ষ থেকে হজ্জ আদায়কারী নিজের হজ্জ সম্পাদন করেছে। উত্তরঃ যে মৃত দাদা নিজের হজ্জ করেনি তার পক্ষ থেকে হজ্জ সম্পাদন করা জায়েয। কেননা সুন্নাতে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এ ব্যাপারে প্রমাণ রয়েছে। প্রশ্নঃ (৪৭০) ইহরামের জন্য বিশেষ কোন নামায আছে কি? উত্তরঃ ইহরামের জন্য নির্দিষ্ট কোন নামায নেই। কিন্তু কোন লোক যদি এমন সময় মীক্বাতে পৌঁছে যখন ফরয নামাযের সময় উপস্থিত হয়েছে, তখন তার জন্য উত্তম হচ্ছে ফরয নামায সম্পাদন করার পর ইহরাম বাঁধা। ফরয নামাযের সময় নয় কিন্তু চাশতের নামাযের (ছালাতে যুহা) সময়ে মিক্বাতে পৌঁছলো, তাহলে প্রথমে পরিপূর্ণরূপে গোসল করবে, সুগন্ধি মাখবে, ইহরামের কাপড় পরিধান করে চাশতের নিয়তে নামায আদায় করবে তারপর ইহরামের নিয়ত করবে। চাশত নামাযের সময় না হলে তাহিয়্যাতুল ওযুর নিয়ত করে দু’রাকাত নামায পড়ে ইহরামে প্রবেশ করা উত্তম। কিন্তু ইহরামের নিয়তে নামায আদায় করার কোন দলীল নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত নেই। প্রশ্নঃ (৪৭১) কোন ব্যক্তি যদি হজ্জের মাসে ওমরা আদায় করে মদীনা সফর করে, অতঃপর যুলহুলায়ফা থেকে হজ্জের ইহরাম বাঁধে, তবে সে কি তামাত্তুকারীরূপে গণ্য হবে? উত্তরঃ যখন কিনা এ ব্যক্তি হজ্জের মাসে ওমরা সম্পাদন করে এবছরেই হজ্জ আদায় করার দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করেছে, তখন সে তামাত্তুকারী হিসেবে গণ্য হবে। কেননা ওমরা ও হজ্জের মধ্যবর্তী কোন সফর তামাত্তুকে বাতিল করবে না। তবে যদি ওমরা আদায় করার পর নিজ দেশে ফেরত যায় এবং সেখান থেকে হজ্জের উদ্দেশ্যে সফর করে, তবে তার তামাত্তু বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। কেননা প্রত্যেকটি কাজ সে আলাদা আলাদা সফরে সম্পাদন করেছে। অতএব ওমরা সম্পাদন করার পর যে লোক মদীনা সফর করে যুলহুলায়ফা থেকে হজ্জের ইহরাম বাঁধবে, সে তামাত্তু হজ্জকারী হিসেবে কুরবানী দিবে। কেননা আল্লাহ্‌ বলেনঃ ] فَمَنْ تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنْ الْهَدْيِ [ “যে ব্যক্তি হজ্জের সাথে ওমরা করার নিয়ত করবে, সে সাধ্যানুযায়ী কুরবানী দিবে।” (সূরা বাক্বারাঃ ১৯৬) প্রশ্নঃ (৪৭২) কোন ব্যক্তি যদি শাওয়াল মাসে ওমরার ইহরাম বেঁধে ওমরা পূর্ণ করে। কিন্তু সে সময় সে হজ্জের নিয়ত করেনি। কিন্তু হজ্জের সময় তার হজ্জ করার সুযোগ হল। সে কি তামাত্তুকারী গণ্য হবে? উত্তরঃ না, সে তামাত্তুকারী গণ্য হবে না। অতএব তাকে কুরবানীও দিতে হবে না। প্রশ্নঃ (৪৭৩) নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত তালবিয়াটি কি? ওমরা এবং হজ্জের ক্ষেত্রে কখন তালবিয়া পাঠ করা বন্ধ করতে হবে? উত্তরঃ নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত তালবিয়াটি হচ্ছে নিম্নরূপঃ لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ “লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক্‌, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক্‌, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক্‌, লা শারীকা লাক।” ইমাম আহমাদ একটু বৃদ্ধি করে বর্ণনা করেন, “লাব্বাইকা ইলাহাল হক্ব।” এর সনদ হাসান। ওমরার ক্ষেত্রে তওয়াফ শুরুর পূর্বে তালবিয়া পাঠ করা বন্ধ করবে। আর হজ্জের ক্ষেত্রে দশ তারিখে ঈদের দিন জামরা আকাবায় পাথর মারার পূর্বে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করবে। তিরমিযীতে ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, “নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওমরাতে হাজরে আস্‌ওয়াদ স্পর্শ করার সময় তালবিয়া বলা বন্ধ করতেন।” ইমাম তিরমিযী হাদীছটিকে ছহীহ্‌ বলেন। কিন্তু এর সনদে মুহাম্মাদ বিন আব্দুর্‌ রহমান বিন আবু লায়লা নামক জনৈক বর্ণনাকারী আছে। অধিকাংশ হাদীছ বিশারদ তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) আরো বলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরাফা থেকে মুযদালিফা আসার পথে তাঁর আরোহীর পিছনে উসামা (রাঃ)কে বসিয়েছিলেন। মুযদালিফা থেকে মিনা যাওয়ার পথে ফায্‌ল বিন আব্বাস (রাঃ)কে পিছনে বসিয়েছিলেন। তাঁরা উভয়ে (উসামা ও ফায্‌ল) বলেছেন, তিনি ব জামরা আকাবায় কঙ্কর মারার পূর্ব পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করতে থেকেছেন। ইমাম মালেকের মতে হারাম শরীফে পৌঁছার সাথে সাথে তালবিয়া বলা বন্ধ করবে। কেউ কেউ বলেছেন, বায়তুল্লাহ্‌র কাছে পৌঁছলে বা কাবা ঘর দেখলেই তালবিয়া বলা বন্ধ করবে। লাব্বাইক বলার অর্থ হচ্ছেঃ আপনার আনুগত্যের কাজ প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আপনার আহবানে সাড়া দিচ্ছি। প্রশ্নঃ (৪৭৪) ইহরাম বেঁধে কি মাথা আঁচড়ানো জায়েয আছে? উত্তরঃ ইহরাম অবস্থায় মাথা আঁচড়ানো উচিত নয়। কেননা ইহরামকারীর উচিত হচ্ছে এলোকেশ ও ধুলোমলিন থাকা। তবে গোসল করতে কোন অসুবিধা নেই। তাছাড়া মাথা আঁচড়ালে চুল পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু ইহরামকারী মাথা বা শরীর প্রভৃতি চুলকালে যদি কোন চুল পড়ে যায়, তাতে কোন অসুবিধা নেই। কেননা সে ইচ্ছাকৃত চুল উঠায়নি। জেনে রাখা উচিত যে, ইহরাম অবস্থায় যাবতীয় নিষিদ্ধ কাজ যদি কেউ ভুলক্রমে করে ফেলে, তবে কোন অসুবিধা নেই। কেননা আল্লাহ্‌ বলেন, ]وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا أَخْطَأْتُمْ بِهِ وَلَكِنْ مَا تَعَمَّدَتْ قُلُوبُكُمْ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا[ “তোমরা কোন ভুল করলে তোমাদের কোন অপরাধ নেই। কিন্তু সে ব্যাপারে তোমাদের অন্তরে সংকল্প থাকলে অপরাধ হবে। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম করুণাময়।” (সূরা আহযাবঃ ৫) আল্লাহ্‌ আরো বলেন, ]رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا[ “হে আমাদের প্রতিপালক! যদি আমাদের ভুল হয় বা ত্রুটি হয় তজ্জন্যে আমাদেরকে ধৃত করবেন না।” (সূরা বাক্বারাঃ ২৮৬) ইহরামের অন্যতম নিষিদ্ধ কাজ শিকার করা সম্পর্কে আল্লাহ্‌ বলেন, ]يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْتُلُوا الصَّيْدَ وَأَنْتُمْ حُرُمٌ وَمَنْ قَتَلَهُ مِنْكُمْ مُتَعَمِّدًا فَجَزَاءٌ مِثْلُ مَا قَتَلَ مِنْ النَّعَمِ يَحْكُمُ بِهِ ذَوَا عَدْلٍ مِنْكُمْ[ “হে মু’মিনগণ! তোমরা ইহরাম অবস্থায় বন্য শিকারকে হত্যা করো না; আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ইচ্ছাপূর্বক তাকে হত্যা করবে, তার উপর তখন জরিমানা ওয়াজিব হবে, যা মূল্যের দিক দিয়ে সেই জানোয়ারের সমতুল্য হয়, যাকে সে হত্যা করেছে। তার অনুমানিক মূল্যের মীমাংসা তোমাদের মধ্যে হতে দু’জন নির্ভরযোগ্য লোক করে দেবে।” (সূরা মায়িদাঃ ৯৫) এই আয়াতে ‘ইচ্ছাপূর্বক’ শব্দ উল্লেখ করাতে বুঝা যায়- যদি অনিচ্ছাকৃত হত্যা করে ফেলে, তবে তাকে কোন জরিমানা দিতে হবে না। এ বিধানই ইসলামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেননা ইসলাম ধর্ম ক্ষমা ও সহজতার বৈশিষ্টে অনন্য। অতএব কোন ব্যতিক্রম ছাড়াই ইহরাম অবস্থায় যাবতীয় নিষিদ্ধ কাজ যদি কেউ অজ্ঞতা বশতঃ বা ভুলবশতঃ করে ফেলে, তবে তার বিরুদ্ধে কোন বিধান প্রজোয্য হবে না, কোন ফিদ্‌ইয়া আবশ্যক হবে না- এমনকি স্ত্রী সহবাস করে ফেললেও হজ্জ বিনষ্ট হবে না। উল্লেখিত শরীয়তের দলীলের দাবী অনুযায়ী এটাই বিশুদ্ধ কথা। প্রশ্নঃ (৪৭৫) অজ্ঞতা বশতঃ মাথা থেকে সামান্য চুল কেটে হালাল হয়ে গেলে তার উপর আবশ্যক কি? উত্তরঃ অজ্ঞতা বশতঃ যে হাজী সাহেব মাথা থেকে সামান্য চুল কেটে হালাল হয়ে গেছে, তার উপর কোন কিছু আবশ্যক নয়। কেননা সে অজ্ঞ। তবে জানার পর তাকে পূর্ণ মাথা থেকে চুল কাটতে হবে। এ উপলক্ষে আমি মুসলিম ভাইদেরকে নসীহত করতে চাই, কোন ইবাদত করতে চাইলে, তার সীমারেখা ও নিয়ম-নীতি না জেনে তাতে লিপ্ত হওয়া উচিত নয়। যাতে করে অজ্ঞতা বশতঃ এমন কিছু না করে ফেলে যাতে ইবাদতটিই নষ্ট হয়ে যায়। কেননা আল্লাহ তা’আলা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে লক্ষ্য করে বলেন, ]قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنْ اتَّبَعَنِي وسبحان الله وما أنا من المشركين[ “আপনি বলে দিন, এটাই আমার পথ আল্লাহর দিকে বুঝে-শুনে দা’ওয়াত দেই- আমি এবং আমার অনুসারীগণ। আল্লাহ পবিত্র। আমি অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত নই।” (সূরা ইউসুফঃ ১০৮) আল্লাহ আরো বলেন, ]قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُوْلُوا الْأَلْبَابِ[ “আপনি বলুন, যারা জানে এবং জানে না তারা কি এক বরাবর? বুদ্ধিমানরাই তো উপদেশ গ্রহণ করে থাকে।” (সূরা যুমারঃ ৯) অতএব একজন লোক বুঝে-সুঝে আল্লাহর সীমারেখা জেনে-শুনে তাঁর ইবাদত করবে এটা খুবই উত্তম। অজ্ঞতার সাথে বা মানুষের অন্ধানুসরণ করে আল্লাহর ইবাদত করা উচিত নয়। কেননা না জেনে ইবাদত করতে গেলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা যেমন বেশী তেমনি যাদের অনুসরণ করবে তাদের মধ্যে জ্ঞান থাকতেও পারে নাও থাকতে পারে। প্রশ্নঃ (৪৭৬) প্রশাসনকে ফাঁকি দেয়ার উদ্দেশ্যে বিনা ইহরামে মীক্বাত অতিক্রম করে মক্কায় পৌঁছে ইহরাম বাঁধলে হজ্জ বিশুদ্ধ হবে কি? উত্তরঃ তার হজ্জ তো বিশুদ্ধ হয়ে যাবে কিন্তু মুসলিম শাসককে ফাঁকি দেয়ার জন্য সে হারাম কাজ করেছে। এটা হারাম হয়েছে দু’কারণেঃ প্রথমতঃ আল্লাহর নির্দেশ লঙ্ঘন করে ইচ্ছাকৃতভাবে বিনা ইহরামে মীক্বাত অতিক্রম করেছে। দ্বিতীয়তঃ আল্লাহ্‌ আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন মুসলিম শাসকের আনুগত্য করার। অবশ্য আল্লাহ্‌র নাফরমানীর কাজে তাদের আনুগত্য করা যাবে না। অতএব তার উপর আবশ্যক হচ্ছে আল্লাহর কাছে তওবা করা। আর ফিদ্‌ইয়া প্রদান করা অর্থাৎ- একটি কুরবানী করে মক্কার ফকীরদের মাঝে বন্টন করে দিতে হবে। কেননা সে মীক্বাত থেকে ইহরাম বাঁধেনি। বিদ্বানদের মতে হজ্জ বা ওমরার কোন ওয়াজিব পরিত্যাগ করলে তার জন্য ফিদ্‌ইয়া প্রদান করা আবশ্যক। প্রশ্নঃ (৪৭৭) তামাত্তুকারী যদি নিজ দেশে ফেরত গিয়ে আবার হজ্জের জন্য সফর করে, তবে কি ইফরাদকারী হিসেবে গণ্য হবে? উত্তরঃ হ্যাঁ, তামাত্তুকারী ওমরা আদায় করার পর নিজ দেশে ফেরত গিয়ে আবার সেই বছর হজ্জের জন্য মক্কা সফর করলে সে ইফরাদকারী হিসেবে গণ্য হবে। কেননা নিজ পরিবারের কাছে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে হজ্জ ও ওমরার মাঝে বিচ্ছিন্নতা করেছে। আবার সফর শুরু করার অর্থ হচ্ছে সে হজ্জের জন্য নতুনভাবে সফর করছে। তখন তার এই হজ্জ ইফরাদ হিসেবে গণ্য হবে। এ অবস্থায় তামাত্তুকারীর মত কুরবানী করা তার জন্য ওয়াজিব হবে না। কিন্তু নিজ দেশে ফিরে যাওয়াটা যদি তার কুরবানী রহিত করার বাহানা হয়, তবে কুরবানী রহিত হবে না। কেননা কোন ওয়াজিব রহিত করার বাহানা করলে উহা রহিত হবে না। প্রশ্নঃ (৪৭৮) ইহরাম অবস্থায় ছাতা ব্যবহার করার বিধান কি? অনুরূপভাবে সিলাইকৃত বেল্ট ব্যবহার করা যাবে কি? উত্তরঃ সূর্যের তাপ বা বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য ছাতা ব্যবহার করাতে কোন অসুবিধা নেই। কোন ক্ষতি নেই। একাজ হাদীছে পুরুষের মাথা ঢাকার নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা এটা মাথা ঢাকা নয়; বরং তা রৌদ্র প্রভৃতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ছায়া গ্রহণ করা। ছহীহ্‌ মুসলিমে প্রমাণিত হয়েছে, বিদায় হজ্জে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সাথে উসামা বিন যায়েদ ও বেলাল (রাঃ) ছিলেন। তাদের একজন নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর উটনির লাগাম ধরে ছিলেন। অপরজন একটি কাপড় উপরে উঠিয়ে তাঁকে ছাঁয়া করছিলেন, এভাবে চলতে চলতে তিনি জামরা আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপ করলেন। এ হাদীছ থেকে দলীল পাওয়া যায় যে, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইহরাম অবস্থায় হালাল হওয়ার পূর্বে কাপড় দিয়ে ছাঁয়া গ্রহণ করেছেন। লুঙ্গি বাঁধার জন্য যে কোন ধরণের বেল্ট ব্যবহার করাতে কোন অসুবিধা নেই। আর ‘সেলাইকৃত বেল্ট’ প্রশ্নকারীর এই কথাটি সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত ভুল থেকে উৎপত্তি হয়েছে। তাদের ধারণা, যে কোন প্রকারের সিলাই থাকলেই তা আর পরিধান করা যাবে না। কিন্তু কথাটি ভুল। ‘সিলাইকৃত কাপড় পরিধান করা যাবে না’ একথা দ্বারা বিদ্বানগণ বুঝিয়েছেন এমন সব কাপড় পরিধান করা যা শরীরের মাপে বানানো হয়েছে। সাধারণভাবে পোষাক হিসেবে যা পরিধান করা হয়। যেমন, জামা, পায়জামা, গেঞ্জি, জাঙ্গিয়া প্রভৃতি। একারণে কোন মানুষ যদি এমন চাদর বা লুঙ্গি পরিধান করে যা জোড়া-তালি দেয়া, তবে কোন অসুবিধা নেই- এমনকি যদি তার উভয় প্রান্ত সেলাই করা থাকে তাতেও কোন ক্ষতি হবে না। প্রশ্নঃ (৪৭৯) শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কিভাবে ইহরাম করবে? উত্তরঃ কোন মানুষ যদি ইহরামের কাপড় পরিধান করতে সক্ষম না হয়, তবে যে ধরণের কাপড় পরতে সক্ষম হবে তাই পরিধান করবে। তখন বিদ্বানদের মতেঃ ক) তাকে ফিদ্‌ইয়া হিসেবে একটি কুরবানী করে মক্কার ফকীরদের মাঝে বিতরণ করতে হবে। খ) অথবা ছয়জন মিসকীনকে খাদ্য প্রদান করতে হবে। প্রত্যেককে অর্ধ ছা’ তথা সোয়া কেজি পরিমাণ খাদ্য দিবে। গ) অথবা তিনদিন রোযা পালন করবে। রোগের কারণে মাথা মুন্ডন করতে বাধ্য হলে যে বিধান প্রজোয্য হয়, তার উপর কিয়াস করে বিদ্বানগণ উক্ত সমাধান দিয়েছেন। আল্লাহ্‌ বলেন, ]فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِنْ رَأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِنْ صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ [ “কোন লোক যদি পীড়িত হয় বা তার মাথা যন্ত্রনাগ্রস্ত হয়, তবে সে রোযা কিংবা সাদকা অথবা কুরবানী দ্বারা তার বিনিময় (ফিদ্‌ইয়া) আদায় করবে।” (সূরা বাক্বারাঃ ১৯৬) আর রোযা ও সাদকার বিষয়টি পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে সেভাবেই নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যাখ্যা করেছেন। (ফতোওয়া আরকানুল ইসলাম থেকে) মূল: শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন (রহ.) অনুবাদক: মুহাঃ আব্দুল্লাহ আল-কাফী ও আব্দুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী৷

প্রশ্নঃ (৪৬৮) ইহরামের কাপড় পরিধান করার পর গোসল করার বিধান কি?
উত্তরঃ ইহরামে প্রবেশ করার পর গোসল করতে কোন বাধা নেই। কেননা ইহা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত রয়েছে। চাই একবার গোসল করুক বা দু’বার। কিন্তু ইহরাম অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে জানাবাতের (নাপাকীর) গোসল করা ওয়াজিব। আর ইহরাম বাঁধার সময় গোসল করা সুন্নাত।

প্রশ্নঃ (৪৬৯) মৃত দাদার পক্ষ থেকে হজ্জ করার বিধান কি? অবশ্য তার পক্ষ থেকে হজ্জ আদায়কারী নিজের হজ্জ সম্পাদন করেছে।
উত্তরঃ যে মৃত দাদা নিজের হজ্জ করেনি তার পক্ষ থেকে হজ্জ সম্পাদন করা জায়েয। কেননা সুন্নাতে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এ ব্যাপারে প্রমাণ রয়েছে।

প্রশ্নঃ (৪৭০) ইহরামের জন্য বিশেষ কোন নামায আছে কি?
উত্তরঃ ইহরামের জন্য নির্দিষ্ট কোন নামায নেই। কিন্তু কোন লোক যদি এমন সময় মীক্বাতে পৌঁছে যখন ফরয নামাযের সময় উপস্থিত হয়েছে, তখন তার জন্য উত্তম হচ্ছে ফরয নামায সম্পাদন করার পর ইহরাম বাঁধা।

ফরয নামাযের সময় নয় কিন্তু চাশতের নামাযের (ছালাতে যুহা) সময়ে মিক্বাতে পৌঁছলো, তাহলে প্রথমে পরিপূর্ণরূপে গোসল করবে, সুগন্ধি মাখবে, ইহরামের কাপড় পরিধান করে চাশতের নিয়তে নামায আদায় করবে তারপর ইহরামের নিয়ত করবে। চাশত নামাযের সময় না হলে তাহিয়্যাতুল ওযুর নিয়ত করে দু’রাকাত নামায পড়ে ইহরামে প্রবেশ করা উত্তম। কিন্তু ইহরামের নিয়তে নামায আদায় করার কোন দলীল নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত নেই।

প্রশ্নঃ (৪৭১) কোন ব্যক্তি যদি হজ্জের মাসে ওমরা আদায় করে মদীনা সফর করে, অতঃপর যুলহুলায়ফা থেকে হজ্জের ইহরাম বাঁধে, তবে সে কি তামাত্তুকারীরূপে গণ্য হবে?
উত্তরঃ যখন কিনা এ ব্যক্তি হজ্জের মাসে ওমরা সম্পাদন করে এবছরেই হজ্জ আদায় করার দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করেছে, তখন সে তামাত্তুকারী হিসেবে গণ্য হবে। কেননা ওমরা ও হজ্জের মধ্যবর্তী কোন সফর তামাত্তুকে বাতিল করবে না। তবে যদি ওমরা আদায় করার পর নিজ দেশে ফেরত যায় এবং সেখান থেকে হজ্জের উদ্দেশ্যে সফর করে, তবে তার তামাত্তু বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। কেননা প্রত্যেকটি কাজ সে আলাদা আলাদা সফরে সম্পাদন করেছে। অতএব ওমরা সম্পাদন করার পর যে লোক মদীনা সফর করে যুলহুলায়ফা থেকে হজ্জের ইহরাম বাঁধবে, সে তামাত্তু হজ্জকারী হিসেবে কুরবানী দিবে। কেননা আল্লাহ্‌ বলেনঃ

] فَمَنْ تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنْ الْهَدْيِ [
“যে ব্যক্তি হজ্জের সাথে ওমরা করার নিয়ত করবে, সে সাধ্যানুযায়ী কুরবানী দিবে।” (সূরা বাক্বারাঃ ১৯৬)

প্রশ্নঃ (৪৭২) কোন ব্যক্তি যদি শাওয়াল মাসে ওমরার ইহরাম বেঁধে ওমরা পূর্ণ করে। কিন্তু সে সময় সে হজ্জের নিয়ত করেনি। কিন্তু হজ্জের সময় তার হজ্জ করার সুযোগ হল। সে কি তামাত্তুকারী গণ্য হবে?
উত্তরঃ না, সে তামাত্তুকারী গণ্য হবে না। অতএব তাকে কুরবানীও দিতে হবে না।

প্রশ্নঃ (৪৭৩) নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত তালবিয়াটি কি? ওমরা এবং হজ্জের ক্ষেত্রে কখন তালবিয়া পাঠ করা বন্ধ করতে হবে?
উত্তরঃ নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত তালবিয়াটি হচ্ছে নিম্নরূপঃ

لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ
“লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক্‌, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক্‌, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক্‌, লা শারীকা লাক।” ইমাম আহমাদ একটু বৃদ্ধি করে বর্ণনা করেন, “লাব্বাইকা ইলাহাল হক্ব।” এর সনদ হাসান।

ওমরার ক্ষেত্রে তওয়াফ শুরুর পূর্বে তালবিয়া পাঠ করা বন্ধ করবে। আর হজ্জের ক্ষেত্রে দশ তারিখে ঈদের দিন জামরা আকাবায় পাথর মারার পূর্বে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করবে। তিরমিযীতে ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, “নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওমরাতে হাজরে আস্‌ওয়াদ স্পর্শ করার সময় তালবিয়া বলা বন্ধ করতেন।” ইমাম তিরমিযী হাদীছটিকে ছহীহ্‌ বলেন। কিন্তু এর সনদে মুহাম্মাদ বিন আব্দুর্‌ রহমান বিন আবু লায়লা নামক জনৈক বর্ণনাকারী আছে। অধিকাংশ হাদীছ বিশারদ তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) আরো বলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরাফা থেকে মুযদালিফা আসার পথে তাঁর আরোহীর পিছনে উসামা (রাঃ)কে বসিয়েছিলেন। মুযদালিফা থেকে মিনা যাওয়ার পথে ফায্‌ল বিন আব্বাস (রাঃ)কে পিছনে বসিয়েছিলেন। তাঁরা উভয়ে (উসামা ও ফায্‌ল) বলেছেন, তিনি ব জামরা আকাবায় কঙ্কর মারার পূর্ব পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করতে থেকেছেন।

ইমাম মালেকের মতে হারাম শরীফে পৌঁছার সাথে সাথে তালবিয়া বলা বন্ধ করবে। কেউ কেউ বলেছেন, বায়তুল্লাহ্‌র কাছে পৌঁছলে বা কাবা ঘর দেখলেই তালবিয়া বলা বন্ধ করবে।

লাব্বাইক বলার অর্থ হচ্ছেঃ আপনার আনুগত্যের কাজ প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আপনার আহবানে সাড়া দিচ্ছি।

প্রশ্নঃ (৪৭৪) ইহরাম বেঁধে কি মাথা আঁচড়ানো জায়েয আছে?
উত্তরঃ ইহরাম অবস্থায় মাথা আঁচড়ানো উচিত নয়। কেননা ইহরামকারীর উচিত হচ্ছে এলোকেশ ও ধুলোমলিন থাকা। তবে গোসল করতে কোন অসুবিধা নেই। তাছাড়া মাথা আঁচড়ালে চুল পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু ইহরামকারী মাথা বা শরীর প্রভৃতি চুলকালে যদি কোন চুল পড়ে যায়, তাতে কোন অসুবিধা নেই। কেননা সে ইচ্ছাকৃত চুল উঠায়নি। জেনে রাখা উচিত যে, ইহরাম অবস্থায় যাবতীয় নিষিদ্ধ কাজ যদি কেউ ভুলক্রমে করে ফেলে, তবে কোন অসুবিধা নেই। কেননা আল্লাহ্‌ বলেন,

]وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا أَخْطَأْتُمْ بِهِ وَلَكِنْ مَا تَعَمَّدَتْ قُلُوبُكُمْ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا[
“তোমরা কোন ভুল করলে তোমাদের কোন অপরাধ নেই। কিন্তু সে ব্যাপারে তোমাদের অন্তরে সংকল্প থাকলে অপরাধ হবে। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম করুণাময়।” (সূরা আহযাবঃ ৫)
আল্লাহ্‌ আরো বলেন,

]رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا[
“হে আমাদের প্রতিপালক! যদি আমাদের ভুল হয় বা ত্রুটি হয় তজ্জন্যে আমাদেরকে ধৃত করবেন না।” (সূরা বাক্বারাঃ ২৮৬)

ইহরামের অন্যতম নিষিদ্ধ কাজ শিকার করা সম্পর্কে আল্লাহ্‌ বলেন,

]يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْتُلُوا الصَّيْدَ وَأَنْتُمْ حُرُمٌ وَمَنْ قَتَلَهُ مِنْكُمْ مُتَعَمِّدًا فَجَزَاءٌ مِثْلُ مَا قَتَلَ مِنْ النَّعَمِ يَحْكُمُ بِهِ ذَوَا عَدْلٍ مِنْكُمْ[
“হে মু’মিনগণ! তোমরা ইহরাম অবস্থায় বন্য শিকারকে হত্যা করো না; আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ইচ্ছাপূর্বক তাকে হত্যা করবে, তার উপর তখন জরিমানা ওয়াজিব হবে, যা মূল্যের দিক দিয়ে সেই জানোয়ারের সমতুল্য হয়, যাকে সে হত্যা করেছে। তার অনুমানিক মূল্যের মীমাংসা তোমাদের মধ্যে হতে দু’জন নির্ভরযোগ্য লোক করে দেবে।” (সূরা মায়িদাঃ ৯৫)
এই আয়াতে ‘ইচ্ছাপূর্বক’ শব্দ উল্লেখ করাতে বুঝা যায়- যদি অনিচ্ছাকৃত হত্যা করে ফেলে, তবে তাকে কোন জরিমানা দিতে হবে না। এ বিধানই ইসলামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেননা ইসলাম ধর্ম ক্ষমা ও সহজতার বৈশিষ্টে অনন্য।

অতএব কোন ব্যতিক্রম ছাড়াই ইহরাম অবস্থায় যাবতীয় নিষিদ্ধ কাজ যদি কেউ অজ্ঞতা বশতঃ বা ভুলবশতঃ করে ফেলে, তবে তার বিরুদ্ধে কোন বিধান প্রজোয্য হবে না, কোন ফিদ্‌ইয়া আবশ্যক হবে না- এমনকি স্ত্রী সহবাস করে ফেললেও হজ্জ বিনষ্ট হবে না। উল্লেখিত শরীয়তের দলীলের দাবী অনুযায়ী এটাই বিশুদ্ধ কথা।

প্রশ্নঃ (৪৭৫) অজ্ঞতা বশতঃ মাথা থেকে সামান্য চুল কেটে হালাল হয়ে গেলে তার উপর আবশ্যক কি?
উত্তরঃ অজ্ঞতা বশতঃ যে হাজী সাহেব মাথা থেকে সামান্য চুল কেটে হালাল হয়ে গেছে, তার উপর কোন কিছু আবশ্যক নয়। কেননা সে অজ্ঞ। তবে জানার পর তাকে পূর্ণ মাথা থেকে চুল কাটতে হবে।

এ উপলক্ষে আমি মুসলিম ভাইদেরকে নসীহত করতে চাই, কোন ইবাদত করতে চাইলে, তার সীমারেখা ও নিয়ম-নীতি না জেনে তাতে লিপ্ত হওয়া উচিত নয়। যাতে করে অজ্ঞতা বশতঃ এমন কিছু না করে ফেলে যাতে ইবাদতটিই নষ্ট হয়ে যায়। কেননা আল্লাহ তা’আলা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে লক্ষ্য করে বলেন,

]قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنْ اتَّبَعَنِي وسبحان الله وما أنا من المشركين[
“আপনি বলে দিন, এটাই আমার পথ আল্লাহর দিকে বুঝে-শুনে দা’ওয়াত দেই- আমি এবং আমার অনুসারীগণ। আল্লাহ পবিত্র। আমি অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত নই।” (সূরা ইউসুফঃ ১০৮)
আল্লাহ আরো বলেন,

]قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُوْلُوا الْأَلْبَابِ[
“আপনি বলুন, যারা জানে এবং জানে না তারা কি এক বরাবর? বুদ্ধিমানরাই তো উপদেশ গ্রহণ করে থাকে।” (সূরা যুমারঃ ৯)

অতএব একজন লোক বুঝে-সুঝে আল্লাহর সীমারেখা জেনে-শুনে তাঁর ইবাদত করবে এটা খুবই উত্তম। অজ্ঞতার সাথে বা মানুষের অন্ধানুসরণ করে আল্লাহর ইবাদত করা উচিত নয়। কেননা না জেনে ইবাদত করতে গেলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা যেমন বেশী তেমনি যাদের অনুসরণ করবে তাদের মধ্যে জ্ঞান থাকতেও পারে নাও থাকতে পারে।

প্রশ্নঃ (৪৭৬) প্রশাসনকে ফাঁকি দেয়ার উদ্দেশ্যে বিনা ইহরামে মীক্বাত অতিক্রম করে মক্কায় পৌঁছে ইহরাম বাঁধলে হজ্জ বিশুদ্ধ হবে কি?
উত্তরঃ তার হজ্জ তো বিশুদ্ধ হয়ে যাবে কিন্তু মুসলিম শাসককে ফাঁকি দেয়ার জন্য সে হারাম কাজ করেছে। এটা হারাম হয়েছে দু’কারণেঃ

প্রথমতঃ আল্লাহর নির্দেশ লঙ্ঘন করে ইচ্ছাকৃতভাবে বিনা ইহরামে মীক্বাত অতিক্রম করেছে।

দ্বিতীয়তঃ আল্লাহ্‌ আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন মুসলিম শাসকের আনুগত্য করার। অবশ্য আল্লাহ্‌র নাফরমানীর কাজে তাদের আনুগত্য করা যাবে না। অতএব তার উপর আবশ্যক হচ্ছে আল্লাহর কাছে তওবা করা। আর ফিদ্‌ইয়া প্রদান করা অর্থাৎ- একটি কুরবানী করে মক্কার ফকীরদের মাঝে বন্টন করে দিতে হবে। কেননা সে মীক্বাত থেকে ইহরাম বাঁধেনি। বিদ্বানদের মতে হজ্জ বা ওমরার কোন ওয়াজিব পরিত্যাগ করলে তার জন্য ফিদ্‌ইয়া প্রদান করা আবশ্যক।

প্রশ্নঃ (৪৭৭) তামাত্তুকারী যদি নিজ দেশে ফেরত গিয়ে আবার হজ্জের জন্য সফর করে, তবে কি ইফরাদকারী হিসেবে গণ্য হবে?
উত্তরঃ হ্যাঁ, তামাত্তুকারী ওমরা আদায় করার পর নিজ দেশে ফেরত গিয়ে আবার সেই বছর হজ্জের জন্য মক্কা সফর করলে সে ইফরাদকারী হিসেবে গণ্য হবে। কেননা নিজ পরিবারের কাছে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে হজ্জ ও ওমরার মাঝে বিচ্ছিন্নতা করেছে। আবার সফর শুরু করার অর্থ হচ্ছে সে হজ্জের জন্য নতুনভাবে সফর করছে। তখন তার এই হজ্জ ইফরাদ হিসেবে গণ্য হবে। এ অবস্থায় তামাত্তুকারীর মত কুরবানী করা তার জন্য ওয়াজিব হবে না। কিন্তু নিজ দেশে ফিরে যাওয়াটা যদি তার কুরবানী রহিত করার বাহানা হয়, তবে কুরবানী রহিত হবে না। কেননা কোন ওয়াজিব রহিত করার বাহানা করলে উহা রহিত হবে না।

প্রশ্নঃ (৪৭৮) ইহরাম অবস্থায় ছাতা ব্যবহার করার বিধান কি? অনুরূপভাবে সিলাইকৃত বেল্ট ব্যবহার করা যাবে কি?
উত্তরঃ সূর্যের তাপ বা বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য ছাতা ব্যবহার করাতে কোন অসুবিধা নেই। কোন ক্ষতি নেই। একাজ হাদীছে পুরুষের মাথা ঢাকার নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা এটা মাথা ঢাকা নয়; বরং তা রৌদ্র প্রভৃতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ছায়া গ্রহণ করা। ছহীহ্‌ মুসলিমে প্রমাণিত হয়েছে, বিদায় হজ্জে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সাথে উসামা বিন যায়েদ ও বেলাল (রাঃ) ছিলেন। তাদের একজন নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর উটনির লাগাম ধরে ছিলেন। অপরজন একটি কাপড় উপরে উঠিয়ে তাঁকে ছাঁয়া করছিলেন, এভাবে চলতে চলতে তিনি জামরা আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপ করলেন। এ হাদীছ থেকে দলীল পাওয়া যায় যে, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইহরাম অবস্থায় হালাল হওয়ার পূর্বে কাপড় দিয়ে ছাঁয়া গ্রহণ করেছেন।

লুঙ্গি বাঁধার জন্য যে কোন ধরণের বেল্ট ব্যবহার করাতে কোন অসুবিধা নেই। আর ‘সেলাইকৃত বেল্ট’ প্রশ্নকারীর এই কথাটি সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত ভুল থেকে উৎপত্তি হয়েছে। তাদের ধারণা, যে কোন প্রকারের সিলাই থাকলেই তা আর পরিধান করা যাবে না। কিন্তু কথাটি ভুল। ‘সিলাইকৃত কাপড় পরিধান করা যাবে না’ একথা দ্বারা বিদ্বানগণ বুঝিয়েছেন এমন সব কাপড় পরিধান করা যা শরীরের মাপে বানানো হয়েছে। সাধারণভাবে পোষাক হিসেবে যা পরিধান করা হয়। যেমন, জামা, পায়জামা, গেঞ্জি, জাঙ্গিয়া প্রভৃতি। একারণে কোন মানুষ যদি এমন চাদর বা লুঙ্গি পরিধান করে যা জোড়া-তালি দেয়া, তবে কোন অসুবিধা নেই- এমনকি যদি তার উভয় প্রান্ত সেলাই করা থাকে তাতেও কোন ক্ষতি হবে না।

প্রশ্নঃ (৪৭৯) শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কিভাবে ইহরাম করবে?
উত্তরঃ কোন মানুষ যদি ইহরামের কাপড় পরিধান করতে সক্ষম না হয়, তবে যে ধরণের কাপড় পরতে সক্ষম হবে তাই পরিধান করবে। তখন বিদ্বানদের মতেঃ

ক) তাকে ফিদ্‌ইয়া হিসেবে একটি কুরবানী করে মক্কার ফকীরদের মাঝে বিতরণ করতে হবে।
খ) অথবা ছয়জন মিসকীনকে খাদ্য প্রদান করতে হবে। প্রত্যেককে অর্ধ ছা’ তথা সোয়া কেজি পরিমাণ খাদ্য দিবে।
গ) অথবা তিনদিন রোযা পালন করবে।

রোগের কারণে মাথা মুন্ডন করতে বাধ্য হলে যে বিধান প্রজোয্য হয়, তার উপর কিয়াস করে বিদ্বানগণ উক্ত সমাধান দিয়েছেন। আল্লাহ্‌ বলেন,

]فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِنْ رَأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِنْ صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ [
“কোন লোক যদি পীড়িত হয় বা তার মাথা যন্ত্রনাগ্রস্ত হয়, তবে সে রোযা কিংবা সাদকা অথবা কুরবানী দ্বারা তার বিনিময় (ফিদ্‌ইয়া) আদায় করবে।” (সূরা বাক্বারাঃ ১৯৬)
আর রোযা ও সাদকার বিষয়টি পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে সেভাবেই নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যাখ্যা করেছেন।

(ফতোওয়া আরকানুল ইসলাম থেকে)
মূল: শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন (রহ.)
অনুবাদক: মুহাঃ আব্দুল্লাহ আল-কাফী ও আব্দুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী৷

 আরবী শেখার উপায়-উপকরণ আমেরিকা থেকে পরিচিত এক জুনিয়র ভাই আরবী শেখার জন্য কিছু বই-পুস্তকের লিংক চেয়েছেন। সময় ব্যয় করে তার জন্য যে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করলাম ভাবলাম ফেসবুক বন্ধুদের সাথে শেয়ার করলে অনেকে হয়তো সেটা থেকে উপকৃত হতে পারবেন। العربية بين يديك নামক বইটির খুব পাঠকপ্রিয়তা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটি পড়ানো হচ্ছে। কিং সউদ ইউনিভার্সিটিতে অন্য বই এর সাথে এ বইটিও পড়ানো হয়। ব্ইটি ডাউনলোড করার লিংক: http://waqfeya.com/book.php?bid=1769 এ পেইজটি খুললে এর সর্বশেষ লাইন ((تحميل كل المجلدات في ملف واحد مضغوط)) ক্লিক করলে এক সাথে সবগুলো খণ্ড সহজে ডাউনলোড করা যাবে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মদিনাতে ড. ফা. আব্দুর রহীম লিখিত دروس اللغة العربية لغير الناطقين بها বইটি পড়ানো হয়। এই লিংক থেকে বইটি ডাউনলোড করা যাবে https://islamhouse.com/ar/books/398778/ সৌদি আরবের দারুস সালাম লাইব্রেরী এ বইটির শেষে ইংরেজী ভাষীদের জন্য বইটির ইংরেজী সংস্করণ ছেপেছে। তবে, সে সংস্করণের কোন লিংক পেলাম না। এই লিংক থেকে উম্মুল ক্বুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বইগুলো ডাউনলোড করা যাবে।https://old.uqu.edu.sa/page/ar/51607 আরবী ব্যাকরণ শেখার প্রথম টেক্স বই হিসেবে বর্তমান যামানার অনেক আলেম الآجرومية এর কথা উল্লেখ করে থাকেন। শাইখ উছাইমীন (রহঃ) এ বইটি ব্যাখ্যা করেছেন (অডিও ও টেক্স উভয়টা রয়েছে)। শাইখ উছাইমীন এর দারসের বৈশিষ্ট হল তিনি খুব ধীরে ধীরে কথা বলেন। এতে করে প্রাথমিক স্তরের ছাত্রদের বুঝতে সুবিধা হয়। তাছাড়া অডিও শুনা ও একই শাইখের লিখিত বই সামনে থাকলে দুটোর সমন্বয়ে বিষয়টি বুঝা অনেক সহজ হয়। অডিওর লিংক: https://audio.islamweb.net/audio/index.php? পিডিএফ বই এর লিংক: https://islamhouse.com/ar/books/334270/ যারা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অন-লাইনে ভর্তি হয়ে আরবী শিখতে চান তাদের জন্য মালেশিয়া ভিত্তিক Al-madinah International University তে সে সুযোগ রয়েছে। লিংক: http://www.mediu.edu.my/ Al-madinah International University এর আরবী শেখার জন্য প্রণীত দারসগুলোর লিংক: http://www.mediu.org/eMaahad/eBooks/Download/index/index.htm এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সেমিস্টারের দারসগুলো দেখে মনে হয়েছে এ দারসগুলো আমার উস্তাদ বাংলাদেশের ক্ষণজন্মা ও প্রথিতযশা আলেমে দ্বীন মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ (হাফিজাহুল্লাহ) এর লিখিত “এসো আরবী শিখি” এর দারসগুলোর সাথে মিলে যায়। আদীব হুজুরের কাছে “এসো আরবী শিখি” পড়ে অনেক উপকৃত হয়েছি। এ বইটি ও মাদরাসাতুল মাদিনার এক বছর ছিল নিয়মতান্ত্রিক ও ধারাবাহিকভাবে আমার আরবী শেখার হাতে খড়ি। এর আগে মিজান, মুনশায়েব, মিআতে আলেম, আজিজুন্নুহাত ও পাঞ্জেগাঞ্জ ইত্যাদি বইতে বিক্ষিপ্তভাবে কিছু তথ্য শেখা হয়েছে। কিন্তু, কি শিখতেছি, কেন শিখতেছি সেটা বুঝে উঠতে পারিনি। আল্লাহ তাআলা আদীব হুজুরকে আমার পক্ষ থেকে ও উম্মাহর পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দিন। “এসো আরবী শিখি” ডাউনলোড করার লিংক: http://e-ilm.weebly.com/247824942470249424722496-2472250324… আরবী শুনে বুঝা ও বলার যোগ্যতা বাড়ানোর জন্য أنا وأخي কার্টুনটি দেখা যেতে পারে। কার্টুনটি আরবীতে ডাবিংকৃত। কার্টুনের গল্পটি মায়ের মৃত্যুর পর বড় ভাই ছোট ভাইকে কিভাবে লালন পালন করছে ও বাবাকে সহযোগিতা করছে এর ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে। এর অনেকগুলো সিরিয়াল আছে। আরবী বলা ও শুনে বুঝার যোগ্যতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটি খুবই উপকারী। যদিও কার্টুনের কিছু দৃশ্যের সাথে শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে একমত নই। https://www.youtube.com/watch?v=lRiWrhDEshA লিখেছেন: শাইখ মুহাম্মদ নূরুল্লাহ তারীফ (ফেসবুক টাইমলাইন থেকে)

রাসুল (সাঃ) যে সময়ে যে জিকিরগুলো অবশ্যই করতেন ======================== ১- ভালো কোন কিছু খাওয়া বা পান করার সময়, কোন কিছু লেখা বা পড়ার সময়, কোন কাজ শুরু করার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলে শুরু করা । -(বুখারীঃ ৫৩৭৬) ২- ভালো কিছু খাওয়া বা পান করা শেষে, কোন শোভ সংবাদ শোনা হলে, কেউ কেমন আছো জিজ্ঞেস করলে- তার জবাবে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা । -(ইবনে মাজাহঃ ৩৮০৫) ৩- কারো হাঁচি আসলে ”আলহামদু লিল্লাহী ‘আলা কুল্লী হা-ল” বলা বা কমপক্ষে আলহামদুলিল্লাহ্‌ বলা । -(আত তিরমিযীঃ ২৭৪১) ৪- কোন হাঁচি দাতার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে শুনলে- ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলা । -(বুখারীঃ ৬২২৪) ৫- ভালো যে কোন কিছু বেশি বা ব্যতিক্রম দেখলে ‘মা-শা আল্লাহ’ বলা । -(মুসলিমঃ ৩৫০৮) ৬- ভবিষ্যতে কোন কিছু করবে বললে ‘ইন শা আল্লাহ’ বলা । -(আল কাহাফঃ ২৩-২৪) ৭- কোন বাজে কথা শুনলে কিংবা আল্লাহর আজাব ও গজবের কথা শুনলে বা মনে পড়লে “না’উজু বিল্লাহ” বলা । -(বুখারীঃ ৬৩৬২) ৮- কথা প্রসঙ্গে কোন গুনাহর কথা বলে ফেললে, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলা । -(সূরা মুহাম্মদঃ ১৯) ৯- উপরে উঠার সময় ‘আল্লাহু আকবার’ বলা এবং নিচে নামার সময় ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা । -(বুখারীঃ ২৯৯৩) ১০- কেউ কিছু দিলে কিংবা কারো মাধ্যমে কোন কাজ হলে তার বদলে ‘জাযাকাল্লাহু খাইরান’ বলা । -(বুখারীঃ ৩৩৬) ১১- কোন কিছু জবেহ করার সময় ‘বিসমিল্লাহী ওল্লাহু আকবর’ বলা । -(মুসলিমঃ ৫০৮৮) এই দোয়া ও জিকিরগুলো বলা যে কতো জরুরি সে সাপেক্ষে ১টা হাদিস জেনে রাখুন- রাসুল (সাঃ) বলেন, আলহামদুলিল্লাহ্‌ মিজানের পাল্লাকে(কিয়ামতের দিন যে দাঁড়িপাল্লায় পাপ পুণ্য মাপা হবে) পরিপূর্ণ করে দেয়। আর সুবহানাল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহ্‌ আসমান ও জমিনের ফাকা অংশকে পরিপূর্ণ করে দেয়। (মুসলিম হা/২২৩) সুবহানাল্লাহ, আল্লাহ এতো সওয়াব দিবেন যা কল্পনাও করা যায় না। আপনি যে কাজেই নিয়জিত আছেন, জিহবায় আল্লাহ্‌র জিকির চালু রাখুন সবসময়

রাসুল (সাঃ) যে সময়ে যে জিকিরগুলো অবশ্যই করতেন
========================
১- ভালো কোন কিছু খাওয়া বা পান করার সময়, কোন কিছু লেখা বা পড়ার সময়, কোন কাজ শুরু করার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলে শুরু করা । -(বুখারীঃ ৫৩৭৬)
২- ভালো কিছু খাওয়া বা পান করা শেষে, কোন শোভ সংবাদ শোনা হলে, কেউ কেমন আছো জিজ্ঞেস করলে- তার জবাবে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা । -(ইবনে মাজাহঃ ৩৮০৫)
৩- কারো হাঁচি আসলে ”আলহামদু লিল্লাহী ‘আলা কুল্লী হা-ল” বলা বা কমপক্ষে আলহামদুলিল্লাহ্‌ বলা । -(আত তিরমিযীঃ ২৭৪১)
৪- কোন হাঁচি দাতার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে শুনলে- ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলা । -(বুখারীঃ ৬২২৪)
৫- ভালো যে কোন কিছু বেশি বা ব্যতিক্রম দেখলে ‘মা-শা আল্লাহ’ বলা । -(মুসলিমঃ ৩৫০৮)
৬- ভবিষ্যতে কোন কিছু করবে বললে ‘ইন শা আল্লাহ’ বলা । -(আল কাহাফঃ ২৩-২৪)
৭- কোন বাজে কথা শুনলে কিংবা আল্লাহর আজাব ও গজবের কথা শুনলে বা মনে পড়লে “না’উজু বিল্লাহ” বলা । -(বুখারীঃ ৬৩৬২)
৮- কথা প্রসঙ্গে কোন গুনাহর কথা বলে ফেললে, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলা । -(সূরা মুহাম্মদঃ ১৯)
৯- উপরে উঠার সময় ‘আল্লাহু আকবার’ বলা এবং নিচে নামার সময় ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা । -(বুখারীঃ ২৯৯৩)
১০- কেউ কিছু দিলে কিংবা কারো মাধ্যমে কোন কাজ হলে তার বদলে ‘জাযাকাল্লাহু খাইরান’ বলা । -(বুখারীঃ ৩৩৬)
১১- কোন কিছু জবেহ করার সময় ‘বিসমিল্লাহী ওল্লাহু আকবর’ বলা । -(মুসলিমঃ ৫০৮৮)
এই দোয়া ও জিকিরগুলো বলা যে কতো জরুরি সে সাপেক্ষে ১টা হাদিস জেনে রাখুন-
রাসুল (সাঃ) বলেন, আলহামদুলিল্লাহ্‌ মিজানের পাল্লাকে(কিয়ামতের দিন যে দাঁড়িপাল্লায় পাপ পুণ্য মাপা হবে) পরিপূর্ণ করে দেয়। আর সুবহানাল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহ্‌ আসমান ও জমিনের ফাকা অংশকে পরিপূর্ণ করে দেয়। (মুসলিম হা/২২৩) সুবহানাল্লাহ, আল্লাহ এতো সওয়াব দিবেন যা কল্পনাও করা যায় না।
আপনি যে কাজেই নিয়জিত আছেন, জিহবায় আল্লাহ্‌র জিকির চালু রাখুন সবসময়

বিপদ-আপদ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বান্দার ধৈর্যের পরীক্ষা নেন: 🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿 বিপদ দিয়ে আল্লাহ পরীক্ষা করেন কে ধৈর্যের পরিচয় দেয় এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকে পক্ষান্তরে কে ধৈর্য হীনতার পরিচয় দেয় ও আল্লাহর সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‎إِنَّ عِظَمَ الْجَزَاءِ مَعَ عِظَمِ الْبَلَاءِ وَإِنَّ اللَّهَ إِذَا أَحَبَّ قَوْمًا ابْتَلَاهُمْ فَمَنْ رَضِيَ فَلَهُ الرِّضَا وَمَنْ سَخِطَ فَلَهُ السَّخَطُ “বিপদ যত কঠিন হয় পুরস্কারও তত বড় হয়। আল্লাহ কোন জাতিকে ভালবাসলে তাদেরকে পরীক্ষা করেন। সুতরাং যে তাতে সন্তুষ্ট থাকে আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান আর যে তাতে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে আল্লাহ তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান।” অত্র হাদীসে আমাদের জন্য অনেক শিক্ষণীয় দিক রয়েছে। যেমন: ১) বান্দা যেমন আমল করবে তেমনই প্রতিদান পাবে। “যেমন কর্ম তেমন ফল।” ২) এখানে আল্লাহর একটি গুনের পরিচয় পাওয়া যায়। তা হল ‘সন্তুষ্ট হওয়া’। আল্লাহ তায়ালার অন্যান্য গুনের মতই এটি একটি গুন। অন্য সব গুনের মতই এটিও আল্লাহর জন্য প্রযোজ্য হবে যেমনটি তার জন্য উপযুক্ত হয়। ৩) অত্র হাদীসে জানা গেল যে, আল্লাহ তায়ালা এক বিশাল উদ্দেশ্যে বান্দা উপর বিপদ-মসিবত দিয়ে থাকেন। তা হল তিনি এর মাধ্যমে তার প্রিয়পাত্রদেরকে পরীক্ষা করেন। ৪) এখানে তকদীরের প্রমাণ পাওয়া যায়। ৫) মানব জীবনে যত বিপদাপদই আসুক না কেন সব আসে আল্লাহর তকদীর তথা পূর্ব নির্ধারিত ফয়সালা অনুযায়ী। ৬) এখান থেকে শিক্ষা পাওয়া যায় যে, বিপদ নেমে আসলে ধৈর্যের সাথে তা মোকাবেলা করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি মূহুর্তে প্রতিটি বিপদের মুখে আল্লাহর নিকটই ধর্না দিতে হবে এবং তার উপরই ভরসা রেখে পথ চলতে হবে। জীবনের সকল কষ্ট ও বিপদাপদে আল্লাহ তায়ালা নামায ও সবরের মাধ্যমে তাঁর নিকট সাহায্য চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ, এতেই মানুষের কল্যাণ নিহিত রয়েছে। ধৈর্যের পরিণতি প্রশংসনীয়। আল্লাহ তায়ালা খবর দিয়েছেন যে, তিনি ধৈর্যশীলদের সাথেই থাকেন। অর্থাৎ তাদেরকে তিনি তাদের সাহায্য করেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন: ‎يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ “হে ঈমানদারগণ, তোমরা নামায ও সবরের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য অনুসন্ধান কর। নিশ্চয় আল্লাহ সবরকারীদের সাথে থাকেন।” [সূরা বাকরা: ১৫৩] এখান থেকে ধৈর্য ধারণ করার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করা যায়। মুমিন ব্যক্তির জন্য জীবনের প্রতিটি পদে পদে ধৈর্যের পরিচয় দেয়া দরকার। এই সবরের মাধ্যমে আকীদা ও বিশ্বাস দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ধৈর্য ধারণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

বিপদ-আপদ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বান্দার ধৈর্যের পরীক্ষা নেন:
🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿
বিপদ দিয়ে আল্লাহ পরীক্ষা করেন কে ধৈর্যের পরিচয় দেয় এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকে পক্ষান্তরে কে ধৈর্য হীনতার পরিচয় দেয় ও আল্লাহর সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

‎إِنَّ عِظَمَ الْجَزَاءِ مَعَ عِظَمِ الْبَلَاءِ وَإِنَّ اللَّهَ إِذَا أَحَبَّ قَوْمًا ابْتَلَاهُمْ فَمَنْ رَضِيَ فَلَهُ الرِّضَا وَمَنْ سَخِطَ فَلَهُ السَّخَطُ

“বিপদ যত কঠিন হয় পুরস্কারও তত বড় হয়। আল্লাহ কোন জাতিকে ভালবাসলে তাদেরকে পরীক্ষা করেন। সুতরাং যে তাতে সন্তুষ্ট থাকে আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান আর যে তাতে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে আল্লাহ তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান।”

অত্র হাদীসে আমাদের জন্য অনেক শিক্ষণীয় দিক রয়েছে। যেমন:

১) বান্দা যেমন আমল করবে তেমনই প্রতিদান পাবে। “যেমন কর্ম তেমন ফল।”

২) এখানে আল্লাহর একটি গুনের পরিচয় পাওয়া যায়। তা হল ‘সন্তুষ্ট হওয়া’। আল্লাহ তায়ালার অন্যান্য গুনের মতই এটি একটি গুন। অন্য সব গুনের মতই এটিও আল্লাহর জন্য প্রযোজ্য হবে যেমনটি তার জন্য উপযুক্ত হয়।

৩) অত্র হাদীসে জানা গেল যে, আল্লাহ তায়ালা এক বিশাল উদ্দেশ্যে বান্দা উপর বিপদ-মসিবত দিয়ে থাকেন। তা হল তিনি এর মাধ্যমে তার প্রিয়পাত্রদেরকে পরীক্ষা করেন।

৪) এখানে তকদীরের প্রমাণ পাওয়া যায়।

৫) মানব জীবনে যত বিপদাপদই আসুক না কেন সব আসে আল্লাহর তকদীর তথা পূর্ব নির্ধারিত ফয়সালা অনুযায়ী।

৬) এখান থেকে শিক্ষা পাওয়া যায় যে, বিপদ নেমে আসলে ধৈর্যের সাথে তা মোকাবেলা করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি মূহুর্তে প্রতিটি বিপদের মুখে আল্লাহর নিকটই ধর্না দিতে হবে এবং তার উপরই ভরসা রেখে পথ চলতে হবে।

জীবনের সকল কষ্ট ও বিপদাপদে আল্লাহ তায়ালা নামায ও সবরের মাধ্যমে তাঁর নিকট সাহায্য চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ, এতেই মানুষের কল্যাণ নিহিত রয়েছে। ধৈর্যের পরিণতি প্রশংসনীয়। আল্লাহ তায়ালা খবর দিয়েছেন যে, তিনি ধৈর্যশীলদের সাথেই থাকেন। অর্থাৎ তাদেরকে তিনি তাদের সাহায্য করেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন:

‎يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ

“হে ঈমানদারগণ, তোমরা নামায ও সবরের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য অনুসন্ধান কর। নিশ্চয় আল্লাহ সবরকারীদের সাথে থাকেন।” [সূরা বাকরা: ১৫৩]

এখান থেকে ধৈর্য ধারণ করার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করা যায়। মুমিন ব্যক্তির জন্য জীবনের প্রতিটি পদে পদে ধৈর্যের পরিচয় দেয়া দরকার। এই সবরের মাধ্যমে আকীদা ও বিশ্বাস দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হয়।

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ধৈর্য ধারণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

# হিজার আরবি শব্দ এর বাংলা শব্দ পরদা,,,, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ পর্দার শাব্দিক অর্থ প্রতিহত করা, বাধা দান করা, গোপন করা, আড়াল করা, ঢেকে রাখা ইত্যাদি। আর ইসলামের পরিভাষায় অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের আপাদমস্তক গায়ের মাহরাম পুরুষ থেকে ঢেকে রাখাকে ‘হিজাব’ বা পর্দা বলে। পর্দার বিধান ঘোষণা করে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহপাক এরশাদ করেন—- —–‘হে নবী! মুমিন পুরুষদের বলে দিন, তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি সংযত করে রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। এটি তাদের জন্য পূত-পবিত্র পদ্ধতি। তারা যা কিছু করে, আল্লাহ তা জানেন। আর মুমিন মহিলাদের বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত করে রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। আর তারা যেন স্বীয় সাজসৌন্দর্য না দেখায়, তবে যা নিজে নিজে প্রকাশ হয়ে যায়. তা ছাড়া তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশে ফেলে রাখে। এবং তারা কারো সামনে তাদের সাজসৌন্দর্য প্রকাশ করবে না,, এই মাহরাম আত্মীয়গণ ব্যতীত যথা স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, ভ্রাতা ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক, অধিকারভুক্ত বাঁদী, নারীর প্রতি স্পৃহাহীন সেবক, ওই সব বালক যারা নারীর গোপনীয় বিষয় সম্পর্কে অবহিত হয়নি। তারা যেন পথচলার সময় এমন পদধ্বনি না করে যাতে তাদের অপ্রকাশিত সৌন্দর্য পদধ্বনিতে প্রকাশিত হয়ে পড়ে। ‘হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা কর যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরাঃ নূর, আয়াত- ৩১)। ###—-ঊল্লেখিত আয়াতে পর্দার হুকুমে স্পষ্ট করে আত্বীয়দের কথা ঊল্লেখ করে বলা হয়েছে — কারন মানুষ আত্বীয়দের সাথে ঘনিষ্ট ভাবে ফ্রি ভাবে চলাফেরা করার সুযোগ পায়। অতি সহযেই ফিতনায় জড়িয়ে পরার সম্ভাবনা থাকে। তাই সকলকে আগে ঘরোয়া পরিবেশে পর্দার সঠিক শিক্ষার অনুশীলন করতে হবে। ## ——এ ক্ষেত্রে পুরুষদের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন———— .কেননা মেয়েদের ঘরের বাহিরে যাওয়ার সীমাবদ্ধতা আছে যা পুরুষদের কারনেই লংঘিত হচ্ছে। মেয়েদের সঠিক পরিচালনার অভিবাবক দায়িত্বশীল হচ্ছে পুরুষ।। তাকেই জবাবদিহি করতে হবে মেয়েদের বযাপারে।। ———- পর্দার হুকুমের আরো কিছু দলিল——— …. “””সর্বোত্তম পর্দা হিসেবে মহিলাদেরকে সর্বদা ঘরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। এ জন্য একান্ত প্রয়োজন ছাড়া মহিলাদের বাইরে বের হওয়া নিষেধ। (মুসলিম শরিফ) ,,,,এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক এরশাদ করেন, — (হে নারীগণ!) তোমরা আপন গৃহে অবস্থান করো এবং জাহেলিয়াতের যুগের মতো সাজসজ্জা সহকারে অবাধে চলাফেরা করো না।’ (সূরা আহজাবঃ আয়াত-৩৩)””” ….মহানবী সাঃ পর্দা সম্পর্কে সতর্ক করে এরশাদ করেন,—- খবরদার! তোমরা মেয়েদের মধ্যে অবাধে যাতায়াত করো না। —–পরদা বা হিজাবের প্রকৃত রুপ এটাই।। # –কিন্তু বর্তমান সমাজে আলিমদের সংখ্যা স্বল্প,,আমলদার আলিম আরো স্বল্প। আর বাকি যারা পর্দা মানেন তারা মনে করেন বোরখা পরে ঘড় হতে বের হওয়ার নাম ই যেন পর্দা,,মাথায় ছোট কাপড় ওড়না পেচানোটাই হিজাব। আত্বীয় সকলের সাথে অবাধে মিশছে আর বাহিরের লোকদের সামনে বোরখা পড়ছে। হায় আফসোস।। ,**এ পরিস্থিতি থেকে ঊত্তরনের জন্য সর্ব প্রথম পুরুষদের এগিয়ে আসতে হবে। কারন তারা যেমন পছন্দ করে সেভাবেই মেয়েরা নিজেদের ঊপস্থাপন করে। পুরুষদের ঊচিত… বিয়ের জন্য পাত্রী নির্বাচনে,, পরবর্তী প্রজন্মের শিক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে . তদের সঠিক পরিচালনার মাধ্যমে সর্ব ক্ষেত্রে ইসলামি সুন্দর পরিবেশ তৈরী করা। অনেক পুরুষ আছে নিজেরা স্বেচ্ছাধীন চলে অধীনস্থদের জন্য পর্দা হুকুম করে ; এমনটা করাও অনুচিত নিজেকেও সে ভাবে তৈরি করে নিতে হবে ।

# হিজার আরবি শব্দ এর বাংলা শব্দ পরদা,,,,

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

পর্দার শাব্দিক অর্থ প্রতিহত করা, বাধা দান করা, গোপন করা, আড়াল করা, ঢেকে রাখা ইত্যাদি।
আর ইসলামের পরিভাষায় অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের আপাদমস্তক গায়ের মাহরাম পুরুষ থেকে ঢেকে রাখাকে ‘হিজাব’ বা পর্দা বলে।
পর্দার বিধান ঘোষণা করে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহপাক এরশাদ করেন—-
—–‘হে নবী! মুমিন পুরুষদের বলে দিন, তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি সংযত করে রাখে
এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। এটি তাদের জন্য পূত-পবিত্র পদ্ধতি।
তারা যা কিছু করে, আল্লাহ তা জানেন।
আর মুমিন মহিলাদের বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত করে রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। আর তারা যেন স্বীয় সাজসৌন্দর্য না দেখায়,
তবে যা নিজে নিজে প্রকাশ হয়ে যায়. তা ছাড়া তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশে ফেলে রাখে।
এবং তারা কারো সামনে তাদের সাজসৌন্দর্য প্রকাশ করবে না,,
এই মাহরাম আত্মীয়গণ ব্যতীত যথা স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, ভ্রাতা ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক, অধিকারভুক্ত বাঁদী, নারীর প্রতি স্পৃহাহীন সেবক, ওই সব বালক যারা নারীর গোপনীয় বিষয় সম্পর্কে অবহিত হয়নি।
তারা যেন পথচলার সময় এমন পদধ্বনি না করে যাতে তাদের অপ্রকাশিত সৌন্দর্য পদধ্বনিতে প্রকাশিত হয়ে পড়ে। ‘হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা কর যাতে তোমরা সফলকাম হও।’
(সুরাঃ নূর, আয়াত- ৩১)।

###—-ঊল্লেখিত আয়াতে পর্দার হুকুমে স্পষ্ট করে আত্বীয়দের কথা ঊল্লেখ করে বলা হয়েছে —
কারন মানুষ আত্বীয়দের সাথে ঘনিষ্ট ভাবে ফ্রি ভাবে চলাফেরা করার সুযোগ পায়। অতি সহযেই ফিতনায় জড়িয়ে পরার সম্ভাবনা থাকে।
তাই সকলকে আগে ঘরোয়া পরিবেশে পর্দার সঠিক শিক্ষার অনুশীলন করতে হবে।
## ——এ ক্ষেত্রে পুরুষদের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন————
.কেননা মেয়েদের ঘরের বাহিরে যাওয়ার সীমাবদ্ধতা আছে যা পুরুষদের কারনেই লংঘিত হচ্ছে। মেয়েদের সঠিক পরিচালনার অভিবাবক দায়িত্বশীল হচ্ছে পুরুষ।। তাকেই জবাবদিহি করতে হবে মেয়েদের বযাপারে।।
———- পর্দার হুকুমের আরো কিছু দলিল———
….
“””সর্বোত্তম পর্দা হিসেবে মহিলাদেরকে সর্বদা ঘরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। এ জন্য একান্ত প্রয়োজন ছাড়া মহিলাদের বাইরে বের হওয়া নিষেধ।
(মুসলিম শরিফ)

,,,,এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক এরশাদ করেন, —
(হে নারীগণ!) তোমরা আপন গৃহে অবস্থান করো এবং জাহেলিয়াতের যুগের মতো সাজসজ্জা সহকারে অবাধে চলাফেরা করো না।’
(সূরা আহজাবঃ আয়াত-৩৩)”””

….মহানবী সাঃ পর্দা সম্পর্কে সতর্ক করে এরশাদ করেন,—- খবরদার! তোমরা মেয়েদের মধ্যে অবাধে যাতায়াত করো না।
—–পরদা বা হিজাবের প্রকৃত রুপ এটাই।।

# –কিন্তু বর্তমান সমাজে আলিমদের সংখ্যা স্বল্প,,আমলদার আলিম আরো স্বল্প।
আর বাকি যারা পর্দা মানেন তারা মনে করেন বোরখা পরে ঘড় হতে বের হওয়ার নাম ই যেন পর্দা,,মাথায় ছোট কাপড় ওড়না পেচানোটাই হিজাব।
আত্বীয় সকলের সাথে অবাধে মিশছে আর বাহিরের লোকদের সামনে বোরখা পড়ছে। হায় আফসোস।।

,**এ পরিস্থিতি থেকে ঊত্তরনের জন্য সর্ব প্রথম পুরুষদের এগিয়ে আসতে হবে।
কারন তারা যেমন পছন্দ করে সেভাবেই মেয়েরা নিজেদের ঊপস্থাপন করে।
পুরুষদের ঊচিত… বিয়ের জন্য পাত্রী নির্বাচনে,, পরবর্তী প্রজন্মের শিক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে . তদের সঠিক পরিচালনার মাধ্যমে সর্ব ক্ষেত্রে ইসলামি সুন্দর পরিবেশ তৈরী করা। অনেক পুরুষ আছে নিজেরা স্বেচ্ছাধীন চলে অধীনস্থদের জন্য পর্দা হুকুম করে ; এমনটা করাও অনুচিত নিজেকেও সে ভাবে তৈরি করে নিতে হবে ।