♦চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণের নামায : স্বালাতুল কুসূফ অল-খুসূফ বা চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণের নামায ৪ রুকূতে ২ রাকআত সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। এই নামাযের নিয়ম নিম্নরুপ :- চন্দ্রে অথবা সূর্যে গ্রহণ লাগা শুরু হলে ‘আস-স্বালা-তু জামেআহ’ বলে আহবান করতে হবে মুসলিমদেরকে। জামাআতে কাতার বাঁধা হলে ইমাম সাহেব নামায শুরু করবেন। সশব্দে সূরা ফাতিহার পর লম্বা ক্বিরাআত করবেন এবং তারপর রুকূতে যাবেন। লম্বা রুকূ থেকে মাথা তুলে পুনরায় বুকেহাত রেখে (সূরা ফাতিহা পড়ে) আবার পূর্বাপেক্ষা কম লম্বা ক্বিরাআত করবেন। অতঃপর দ্বিতীয়বার অপেক্ষাকৃত কম লম্বা রুকূ করে বাকী রাকআত সাধারণ নামাযের মত শেষ করে দ্বিতীয় রাকআতেও অনুরুপ ২ বার ক্বিরাআত ও ২ বার রুকূ করে নামায সম্পন্ন করবেন। এ নামাযের সিজদাও হবে খুব লম্বা। প্রথম রাকআতের চেয়ে দ্বিতীয় রাকআত অপেক্ষাকৃত ছোট হবে। মুক্তাদীগণ যে নিয়মে ইমামের অনুসরণ করতে হয়, সেই নিয়মে অনুসরণ করবে। এই নামায এত লম্বা হওয়া উচিৎ যে, যেন নামায শেষ হয়ে দেখা যায়, সূর্য বা চন্দ্রের গ্রহণ ছেড়ে গেছে। অনুরুপভাবে নামায শেষ করে দাঁড়িয়ে মহানবী (সাঃ) খুতবা দিয়েছিলেন। হাম্‌দ ও সানার পর বলেছিলেন, “সূর্য ও চন্দ্র মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলার অন্যতম নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের জন্য উভয়ে গ্রহণ লাগে না। অতএব তাতে গ্রহণ লাগতে দেখলে তোমরা আতঙ্কিত হয়ে নামাযে মগ্ন হও।” (বুখারী ১০৪৭নং, মুসলিম, সহীহ) নামাযের সাথে সাথে এই সময় দুআ, তকবীর, ইস্তিগফার ও সদকাহ্‌ করা মুস্তাহাব। যেহেতু মহানবী (সাঃ) বলেন, “সূর্য ও চন্দ্র মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলার অন্যতম বড় নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের জন্য উভয়ে গ্রহণ লাগে না। অতএব তাতে গ্রহণ লাগতে দেখলে তোমরা আল্লাহর কাছে দুআ কর, তকবীর পড়, সদকাহ্‌ কর এবং নামায পড়।” (বুখারী ১০৪৪নং, মুসলিম, মিশকাত ১৪৮৩নং) অন্য এক বর্ণনায় আছে, “তোমরা আতঙ্কিত হয়ে আল্লাহর যিক্‌র, দুআ ও ইস্তিগফারে মগ্ন হও।” (ঐ, মিশকাত ১৪৮৪নং) এই সময় তিনি ক্রীতদাস মুক্ত করতে (বুখারী ১০৫৪নং) এবং কবরের আযাব থেকে পানাহ চাইতেও আদেশ করেছেন। (বুখারী ১০৫০নং) উল্লেখ্য যে, কারো যদি দুই রুকুর একটিও ছুটে যায়, তাহলে রাকআত গণ্য করবে না। কারণ, একটি রুকূ ছুটে গেলে রাকআত হবে না। ইমামের সালাম ফিরার পর ২টি রুকূ বিশিষ্ট ১ রাকআত নামায কাযা পড়তে হবে। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ্‌, সঊদী উলামা-কমিটি ১/৩৫০, মাজাল্লাতুল বুহূসিল ইসলামিয়্যাহ্‌ ১৩/৯৮, ২৩/৯৩, মুখতাসারু মুখালাফাতু ত্বাহারাতি অসস্বালাহ, আব্দুল আযীয সাদহান ১২৯-১৩০পৃ:) পূর্বেই বলা হয়েছে যে, চন্দ্র-সূর্য গ্রহণের নামায সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। কিন্তু এর তুলনায় যে নামাযের গুরুত্ব বেশী সেই নামাযের সময়ে এই নামাযের সময় হলে অধিক গুরুত্বপূর্ণ নামাযই পড়তে হবে। যেমন, জুমুআহ বা ঈদের সময় সূর্যগ্রহণ শুরু হলে, অথবা তারাবীহ্‌র সময় চন্দ্রগ্রহণ শুরু হলে গ্রহণের নামাযের উপর ঐ সকল নামায প্রাধান্য পাবে। নিষিদ্ধ সময়ের মধ্যে; যেমন ফজর ও আসরের পর গ্রহণ লাগলেও ঐ নামায পড়া যায়। ফরয নামাযের সময় এসে গেলে ঐ নামায হাল্কা করে পড়তে হবে। নামাযের পরও গ্রহণ বাকী থাকলে দ্বিতীয়বার ঐ নামায পড়া বিধেয় নয়। যেমন গ্রহণ প্রত্যক্ষ না করা পর্যন্ত কেবল পঞ্জিকার হিসাবের উপর নির্ভর করে ঐ নামায পড়া বিধেয় নয়। অনুরুপ বিধেয় নয় গ্রহণ দৃশ্য না হলে। ভূমিকম্প, ঝড়, নিরবচ্ছিন্ন বজ্রপাত, আগ্নেয়গিরির অগ্নি উদগিরণ প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও গ্রহণের মত নামায পড়ার কথা হযরত আলী, ইবনে আব্বাস ও হুযাইফা সাহাবী কর্তৃক বর্ণিত আছে। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৫/২৫৫) প্রকাশ থাকে যে, সূর্য বা চন্দ্র গ্রহণের সময় গর্ভবতীকে এ করতে নেই, সে করতে নেই, শুয়ে থাকতে হয় বা তার এই করলে সেই হয় প্রভৃতি কথা শরীয়তে নেই। সুতরাং বিজ্ঞান যদি তা সমর্থন না করে তাহলে তা অমূলক ধারণাপ্রসূত কথা। পরন্তু শরীয়তে আছে মনে করে এ কথা বলা ও মানা হলে তা বিদআত। অবশ্য খালি চোখে গ্রহণ দেখলে চোখ খারাপ হতে পারে, সে কথা সত্য। গ্রন্থঃ স্বালাতে মুবাশ্‌শির অধ্যায়ঃ অন্যান্য সালাতসমূহ

#চারটি অঙ্গকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই ব্যভিচার থেকে রক্ষা পাওয়া যায় # তার মধ্যে একটি মন ও মনোভাব # এ পর্যায় খুবই কঠিন। কারণ, মানুষের মনই হচ্ছে ন্যায়-অন্যায়ের একমাত্র উৎস। মানুষের ইচ্ছা, স্পৃহা, আশা ও প্রতিজ্ঞা মনেরই সৃষ্টি। সুতরাং যে ব্যক্তি নিজ মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে সে নিজ কুপ্রবৃত্তির উপর বিজয় লাভ করবে। আর যে ব্যক্তি নিজ মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না নিশ্চিতভাবে সে কুপ্রবৃত্তির শিকার হবে। পরিশেষে তার ধ্বংস একেবারেই অনিবার্য। মানুষের মনোভাবই পরিশেষে দুরাশার রূপ নেয়। মনের দিক থেকে সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তি সে যে দুরাশায় সন্তুষ্ট। কারণ, দুরাশাই হচ্ছে সকল ধরনের আলস্য ও বেকারত্বের পুঁজি। এটিই পরিশেষে লজ্জা ও আফসোসের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দুরাশাগ্রস্ত ব্যক্তি আলস্যের কারণে যখন বাস্তবতায় পৌঁছুতে পারে না তখনই তাকে শুধু আশার উপরই নির্ভর করতে হয়। মূলতঃ বাস্তববাদী হওয়াই একমাত্র সাহসীর পরিচয়। মানুষের ভালো মনোভাব আবার চার প্রকার: ১. দুনিয়ার লাভার্জনের মনোভাব। ২. দুনিয়ার ক্ষতি থেকে বাঁচার মনোভাব। ৩. আখিরাতের লাভার্জনের মনোভাব। ৪. আখিরাতের ক্ষতি থেকে বাঁচার মনোভাব। নিজ মনোভাবকে উক্ত চারের মধ্যে সীমিত রাখাই যে কোন মানুষের একান্ত কর্তব্য। এগুলোর যে কোনটিই মনে জাগ্রত হলে তা অতি তাড়াতাড়ি কাজে লাগানো উচিৎ। আর যখন এগুলোর সব কটিই মনের মাঝে একত্রে জাগ্রত হয় তখন সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণটিকেই প্রাধান্য দিতে হবে। যা এখনই না করলে পরে করা আর সম্ভবপর হবে না। কখনো এমন হয় যে, অন্তরে একটি প্রয়োজনীয় কাজের মনোভাব জাগ্রত হলো যা পরে করলেও চলে; অথচ এরই পাশাপাশি আরেকটি এমন কাজের মনোভাবও অন্তরে জন্মালো যা এখনই করতে হবে। না করলে তা পরবর্তীতে কখনোই করা সম্ভবপর হবে না। তবে কাজটি এতো প্রয়োজনীয় নয়। এ ক্ষেত্রে আপনাকে প্রয়োজনীয় বস্ত্তটিকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। কেউ কেউ অপরটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন যা শরীয়তের মৌলিক নীতি পরিপন্থী। তবে সর্বোৎকৃষ্ট চিন্তা ও মনোভাব সেটিই যা একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলার সন্তুষ্টি কিংবা পরকালের জন্যই হবে। এ ছাড়া যত চিন্তা-ভাবনা রয়েছে তা হচ্ছে শয়তানের ওয়াস্ওয়াসা অথবা ভ্রান্ত আশা। যে চিন্তা-ফিকির একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলার জন্য তা আবার কয়েক প্রকার: ১. কুর‘আন মাজীদের আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা এবং তাতে নিহিত আল্লাহ্ তা‘আলার মূল উদ্দেশ্য বুঝতে চেষ্টা করা। ২. দুনিয়াতে আল্লাহ্ তা‘আলার যে প্রকাশ্য নিদর্শনসমূহ রয়েছে তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। এরই মাধ্যমে আল্লাহ্ তা‘আলার নাম ও গুণাবলী, কৌশল ও প্রজ্ঞা, দান ও অনুগ্রহ বুঝতে চেষ্টা করবে। কুর‘আন মাজীদে আল্লাহ্ তা‘আলা এ ব্যাপারে মানুষকে মনোনিবেশ করার জন্য উৎসাহ প্রদান করেছেন। ৩. মানুষের উপর আল্লাহ্ তা‘আলার যে অপার অনুগ্রহ রয়েছে তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা। তাঁর দয়া, ক্ষমা ও ধৈর্য নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা। উক্ত ভাবনাসমূহ মানুষের অন্তরে আল্লাহ্ তা‘আলার একান্ত পরিচয়, ভয়, আশা ও ভালোবাসার জন্ম দেয়। ৪. নিজ অন্তর ও আমলের দোষ-ত্রুটি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা। এতদ্ চিন্তা-চেতনা খুবই কল্যাণকর। বরং একে সকল কল্যাণের সোপানই বলা চলে। ৫. সময়ের প্রয়োজন ও নিজ দায়িত্ব নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা। সত্যিকার ব্যক্তি তো সেই যে নিজ সময়ের প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ইমাম শাফি’য়ী (রাহিমাহুল্লাহ্) বলেন: আমি সূফীদের নিকট মাত্র দু’টি ভালো কথাই পেয়েছি। যা হচ্ছে: তারা বলে থাকে, সময় তলোয়ারের ন্যায়। তুমি তাকে ভালো কাজে নি:শেষ করবে। নতুবা সে তোমাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত করবে। তারা আরো বলে, তুমি অন্তরকে ভালো কাজে লাগাবে। নতুবা সে তোমাকে খারাপ কাজেই লাগাবে। মনে কোন চিন্তা-ভাবনার উদ্রেক তা ভালো অথবা খারাপ যাই হোক না কেন দোষের নয়। বরং দোষ হচ্ছে খারাপ চিন্তা-চেতনাকে মনের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ স্থান দেয়া। কারণ, আল্লাহ্ তা‘আলা মানুষকে দু’টি চেতনা তথা প্রবৃত্তি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। যার একটি ভালো অপরটি খারাপ। একটি সর্বদা একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলার সন্তুষ্টিই কামনা করে। পক্ষান্তরে অন্যটি গায়রুল্লাহ্’র সন্তুষ্টিই কামনা করে। ভালোটি অন্তরের ডানে অবস্থিত যা ফেরেশতা কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। অপরটি অন্তরের বামে অবস্থিত যা শয়তান কর্তৃক নিয়ন্তিত। পরস্পরের মধ্যে সর্বদা যুদ্ধ ও সংঘর্ষ অব্যাহত। কখনো এর জয় আবার কখনো ওর জয়। তবে সত্যিকারের বিজয় ধারাবাহিক ধৈর্য, সতর্কতা ও আল্লাহ্ভীরুতার উপরই নির্ভরশীল। অন্তরকে কখনো খালি রাখা যাবে না। ভালো চিন্তা-চেতনা দিয়ে ওকে ভর্তি রাখতেই হবে। নতুবা খারাপ চিন্তা-চেতনা তাতে অবস্থান নিবেই। সূফীবাদীরা অন্তরকে কাশ্ফের জন্য খালি রাখে বিধায় শয়তান সুযোগ পেয়ে তাতে ভালোর বেশে খারাপের বীজ বপন করে। সুতরাং অন্তরকে সর্বদা ধর্মীয় জ্ঞান ও হিদায়াতের উপকরণ দিয়ে ভর্তি রাখতেই হবে।

তুমি শুধু শস্যক্ষেত্র —————————- পুষ্পা, সাকিব, মাহদী ও নুসরা। ওরা চারজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসমেটের পাশাপাশি বন্ধু ও। শুধু বন্ধু বললে ভুল হবে বরং বলতে হবে জানে জিগর বন্ধু। সবাই সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী। পুষ্পা ধনি পিতার একমাত্র মেয়ে। পড়াশোনার পাশাপাশি জাতিকে উদ্ধার করার লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রমে জড়িত। নারী নেত্রী হিসেবে ক্যাম্পাসে প্রসিদ্ধ। ধর্মকর্মের ধার ধারে না। তার নিকট ধর্ম হল- “কিছু অন্ধ মানুষের তৈরিকৃত জঞ্জাল”। সবচেয়ে অপছন্দ হল ইসলাম। কারণ এ ধর্ম নারীদের করেছে চরম অপমান। সাকিব বেচারা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। মাঝেমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হলে বাড়িতে গিয়ে কাজও করতে হয় অর্থের অভাব পূরণের জন্য। বড় স্বপ্ন দেখলেও বাস্তবতা ভেবে ভয় পায়। বই পড়তে পছন্দ করে। গ্রামের ধর্মপ্রাণ পরিবারে জন্ম হওয়ায় ধর্ম একটু আধটু পালন করে। তুলনামূলক অর্থবিত্ত কম হলেও অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। এ জন্য পুষ্পা সাকিবকে মন থেকে পছন্দ করে তবে পুষ্পার সাকিবের প্রতি সদা অনুরোধ হল- “প্লিজ ধর্মের জালে আবদ্ধ হইস না”। কিন্তু সাকিব বুঝেও না বুঝার ভান করে। সাকিবের আরেকটি গুণ হল- তার কন্ঠ খুব শ্রুতিমধুর। মাহদী আর নুসরা পড়াশোনার বাইরে শুধু ভালবাসা বুঝে। উভয়েই উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। ধর্মের বিরুদ্ধে বা পক্ষে কোন দিকেই নয়। এ দু’জনের মধ্যে মন বিনিময় হয়ে গেছে। দু’জন একে অপরকে ছাড়া বাঁচেনা! মাহদী প্রয়োজনে অন্যসব বন্ধু বান্ধব ছেড়ে দেবে তবু নুসরাকে চাই। নুসরার একই অবস্থা। সাকিবের এটা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছিল। কারণ সাকিব মাহদীকে খুব ভালবাসে। তবে মাহদীর একদিনের ধমকে সাকিব মাহদীর ঐ ব্যাপারে একদম নাক গলানো ছেড়ে দিয়েছে। ক্লাস না থাকলে ওরা চারজন ডিপার্টমেন্টের সামনের পুকুর পারে বসে গল্প করে, আড্ডা দেয়। আজ ডিপার্টমেন্টে একটি প্রোগ্রাম থাকায় আর ক্লাস হবে না। পুষ্পা, মাহদী ও নুসরা এসে বসল পুকুর পারে সিমেন্ট আর বালুর তৈরি লাল চেয়ারে। > পুষ্পা : কিরে কপোত কপোতী, কেমন আছিস? > নুসরা : (একটুখানি হেসে) আজ প্রথম ক্লাস করেই পিঠ ব্যথা হয়ে গেছে। আজ আর ক্লাস না হওয়ায় ভালই হল। মাহদীও নুসরার কথায় সায় দিল। > পুষ্পা : হুম। আচ্ছা! দু’দিন ধরে সাকিব ক্লাসে আসছে না। ফোনও বন্ধ। কিছু জানিস? > নুসরা : আমিও তাই ভাবছিলাম। > মাহদী : (মুখ ভেংচি করে) উনি বংশগত হুজুর মানুষ। শোনলাম ড. মুফতি ইসমাঈল মেন্ক না কোন ইসলামি চিন্তাবিদ জানি দু’দিন ধরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করছে ও সরাসরি প্রশ্নোত্তর প্রদান করছে। উনি ওখানে গিয়েছেন। > পুষ্পা : সাকিব ছেলেটার সব ভাল লাগে। কিন্তু এ জিনিসটা আমি কোনো ভাবেই মানতে পারি না। ওর মত স্মার্ট একটা ছেলে এরকম ফালতু ধর্মকর্মের পেছনে ছুটে কীভাবে? যত্তোসব!!! > নুসরা : মজে গেছ বুঝি প্রেম দরিয়ায়? > পুষ্পা : মজে লাভ নেই। এক হাতে কী আর তালি বাজানো যায়… > মাহদী : ঐ দেখ! সাকিব আসছে। পুকুরপার দিয়ে ধীর গতিতে সাকিব এদিকে এগিয়ে আসছে। গায়ে ধূসর রং-এর পাঞ্জাবী। পুষ্পা মনে মনে ভাবে- ছেলেটাকে কতই না সুন্দর লাগছে। কি ব্যক্তিত্ব মাইরি কিন্তু কেন যে এই গোঁড়ামি করে। সাকিব ততক্ষণে কাছে চলে এসেছে। হাতে গোলাপের একটি ডাল। দু’দিকে ঘুরাচ্ছে আর গুনগুনিয়ে কী জানি পড়ছে। নিসা উকুম হারসুল লাকুম, ফা তু হারসাকুম আন্না শি তুম। > পুষ্পা : কিরে হারানো মানিক, কই হারিয়ে গেছিলি? > মাহদী : সম্বোধনের কি ভাষা মাইরি…. সা.কা চৌধুরী এটা শুনলে তাঁর নিজস্ব ভাষায় কিছু একটা বলতেন। > সাকিব : হুম। আমারে হাবাগোবা পাইয়া সবাই মজা নেয়। > পুষ্পা : (মাহদীকে ধমক দিয়ে) এই চুপ কর। সাকিব কই ছিলি, মোবাইলও অফ কেন? > সাকিব : একটা সেমিনারে গেছিলাম। মোবাইল ‘চুর মামা’ নিয়ে গেছেন। সেমিনারে থাকায় নতুন ফোন বা সিম পুনঃউত্তোলন হয়নি। > পুষ্পা : দোস্ত! অনেক দিন হল তুই গান শোনাছ না। আজ একটা শোনা না? > সাকিব : অনেকদিন হল গান গাই না। গান ভুলে গেছি। একটাও পারি না। > পুষ্পা : এইমাত্র না তুই গান গাইলি আসতে আসতে! নিসা উকুম হারসুল লাকুম…… এটা কি তামিল গান? > সাকিব : পাগলী! এটা গান না। এটা কুরআনের বাক্য। জীবনে পড়ছনি জানবি কেমনে? > পুষ্পা : তাহলে ওটাই একটু শোনা। আমি তোর কন্ঠ শোনবো। কী শোনাবি সেটা তোর ব্যাপার। সাকিব : হৃদয়ের আবেগ মাখানো সূর দিয়ে “নিসা উকুম ….” আয়াতের শেষ পর্যন্ত পড়লো। > নুসরা : তুই এখন যা পড়লি এর মানে আছে? থাকলে সেটা কী? > সাকিব : অবশ্যই মানে আছে। “তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র। সুতরাং তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে গমন কর এবং ভবিষ্যতে নিজেদের জন্য উত্তম ব্যবস্থা গ্রহণ কর। এবং আল্লাহকে ভয় কর। এবং জেনে রাখ তাঁর সাথে তোমাদের সাক্ষাত হবেই। সুসংবাদ বিশ্বাসীদের জন্য।” (গাভী অধ্যায়, বাক্য নং ২২৩) > পুষ্পা : কি বললি? যা বলছিস সবই কি তোর কুরআনে আছে? নাকি বানিয়ে বললি? > সাকিব : বানিয়ে বলব কেন? এইমাত্র এটার উপর আলোচনা শুনে এসেছি। > পুষ্পা : গোষ্ঠি কিলাই তোর আলোচনার। কোন ধরনের অথর্ব অনর্থক ধর্ম হলে এ রকম ফালতু কথা বলতে পারে? ইসলামের ব্যাপারে দুই এক ছিপি সম্মান যা ছিল আজ থেকে তাও চলে গেল। একই জাতিগোষ্ঠির সদস্যদেরকে বলে এরা নাকি শস্যক্ষেত্র। তোদের আবাল ধর্মে নারীরা বুঝি একমাত্র ভোগের পণ্য ই? একনাগাড়ে অনেকক্ষণ কথা বলে পুষ্পা থামল। ফর্সা মুখের পুরোটাই রক্তলাল হয়ে গেছে। হবেই না বা কেন? সাকিবের কুরআনের বাক্যটি যে পুষ্পার নারীত্বের সম্মানে আঘাত করেছে। সাকিব পুষ্পার কথাগুলো শোনে মৃদু হাসল। সাকিবের হাসি দেখে পুষ্পার রাগ যেন বেড়েই চলল। গজগজ করতে করতে সাকিবকে বলল কেন যে এই গোঁড়ামির মধ্যে এখনো আটকে আছিস? এগুলো হল তোদের ধর্মগুরুদের বানানো। যাতে ধর্মান্ধ মানবী গুলোকে আচ্ছামত উপভোগ করতে পারে। > সাকিব : একটু ফ্লোর পেলে আমি কিছু একটা বলতে পারতাম। সাকিব পুকুরের পানির দিকে তাকিয়ে আছে। তার কথা শোনে পুষ্পা বলল- কি আর সাফাই গাইবি? ওকে! কি বলবি বল! সাকিব : আমি কুরআনের যে বাক্যটি পাঠ করেছি এর পূর্বের বাক্যে বলা হয়েছে “ঋতুস্রাব অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করো না; ঋতুস্রাব শেষ হলে পবিত্র হওয়ার পর সম্মুখ পথে সহবাস কর, পশ্চাৎপথে না”। তোমরা মানো আর না মানো কুরআন হল স্রষ্টার আদেশনামা। এখানে দুটি আদেশ দেয়া হয়েছে। একটি হল ঋতুস্রাব অবস্থায় সহবাস না করা, আর আরেকটি হল পবিত্র হওয়ার পরও শুধুমাত্র সম্মুখ পথে সহবাস করা। এরপর বলছেন তোমাদের নারীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র। ইচ্ছা অনুযায়ী আসতে পারো তবে অবশ্যই সামনের পথে। উদ্দেশ্য হবে ভবিষ্যতের পাথেয় সংগ্রহ করা, অর্থাৎ বংশধর তৈরি করা যা বৃদ্ধ কালের অবলম্বন হবে। আবার বাক্যের শেষাংশে বলা হয়েছে আল্লাহকে ভয় কর (স্ত্রীদের সাথে আচরণে)। অন্যায় কিছু করলে পরকালে শাস্তি পেতে হবে। যেরকম ইচ্ছা সেরকম ব্যবহার করা যদি যেত তবে পূর্বের বাক্যে দু’টি নিষেধ থাকতো না। পরে ভীতি প্রদর্শন থাকতো না। তার মানে বুঝা গেল শস্যক্ষেত্রের সাথে তুলনার কোনো রিজন বা কারণ আছে। কুরআন হল সংবিধান। এখানে সবকিছু তোর মত করে ব্যাখ্যা করা থাকবে না। নিজের বুদ্ধি দিয়ে বুঝে নিতে হবে। স্রষ্টা বুদ্ধি দিয়েছেন সঠিক বিষয় বুঝার জন্য। তারপরও না বুঝলে চতুষ্পদ পশুর চেয়েও অধম হতে হবে। সাকিব অনেকক্ষণ কথা বলে থামল। মাহদীর হাত থেকে পানির বোতল নিয়ে পানি পান করল। > পুষ্পা : আচ্ছা! বুঝলাম। কিন্তু শস্যক্ষেত্রের সাথে তুলনা দেয়ার কারণ কি? এতে কি নারীদের সম্মানহানি হল না? পুষ্পার কন্ঠ একটু নরম হয়েছে এবার। কুরআনে নারী নির্যাতেনর ব্যাপারে এতবড় ধমকি সে আশা করেনি। > সাকিব : (“ইহ হা হু” গলাটা পরিস্কার করে) আমরা সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী। আমাদের যদি আরবী গ্রামার বা বালাগাত মানতিকের কোনো উদাহরণ হঠাৎ করে দেয়া হয় তবে কি আমরা বুঝব? > মাহদী : বালাগাত মানতিক কী ভাই? > সাকিব : দেখ! তোরা বালাগাত মানতিক বিষয়টি ই বুঝতে পারিস নাই। উদাহরণ বুঝবে তো দূরের কথা। বালাগাত হল আরবী ভাষার অলংকার শাস্ত্র আর মানতিক হল যুক্তিবিদ্যা সংক্রান্ত একটি বিষয়। এমনিভাবে যদি মোবাইলের কোন অংশ দিয়ে যদি আমাদের উদাহরণ দেয়া হয়, তবে আমরা মোবাইলের ছাত্র না হলেও সহযে বুঝে ফেলব। কারণ আমরা মোবাইল ব্যবহারে অভ্যস্ত। ঠিক তেমনি স্রষ্টা যখন আরববাসীর নিকট মহিলা সংক্রান্ত আদেশ পাঠালেন তখন আরববাসী বিশ্বের মধ্যে তুলনা মূলক বেশি মূর্খ ছিল। এদেরকে বুঝানোর জন্য সহজ উদাহরণ ছিল তাদের ব্যবহৃত কোনো বস্তু। আরববাসীর নিকট সবচেয়ে প্রিয় ব্যবহৃত বস্তু ছিল শস্যক্ষেত্র। সুতরাং তাদেরকে সহজে বুঝানোর জন্য স্রষ্টা শস্যক্ষেত্রের উদাহরণ দিয়েছেন। আরেকটি যুক্তি শোন (এটি ডাঃ শামছুল আরেফিন ভাইয়ের নিকট থেকে সংগৃহীত) – পুষ্পা, মাহদী, নুসরা, আমি খুব গরীব ঘরের ছেলে। এতদিন বাস্তবতা ভেবে তোদের বলিনি। কারণ তোরা ধনীর দুলাল দুলালী। আমি গরীবের সাথে তোরা মিশবি না। কিন্তু আমি যে তোদের বন্ধু হিসেবে খুব ভালবাসি। স্কুল থেকে আমরা একসাথে আছি। তোদের ছাড়া থাকা কষ্টকর হবে ভেবে সত্যটা তোদের বলিনি। আমি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হলে বাড়ি গিয়ে বাবার সাথে কাজ করি। আমার বাবা একজন কৃষক। আমাদের কয়েক কেদার ফসলি জমি আছে। এ ফসলী জমির আয় দিয়েই আমাদের খরচ সরবরাহ হয়। আমাদের নিকট এ জমির মূল্য খুবই বেশী। একজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র বা শিল্পপতির নিকট এক টুকরো জমি শুধুই প্রপার্টি। কিন্তু একজন কৃষকের নিকট এটা হল বেঁচে থাকার সম্বল। “তোমাদের নারী তোমাদের শস্যক্ষেত্র” এটি বুঝতে হলে তোকে বুঝতে হবে একজন কৃষেকর কাছে তার জমিটুকুর মূল্যায়ন কতটুকু। শস্যক্ষেত্রের সাথে তুলনা করে আল্লাহ স্ত্রীর মর্যাদা আর অধিকারকে কীভাবে বুঝিয়েছেন শোন তাহলে। ¢ প্রথমত, ক্ষেতের ফসল চাষীর ভবিষ্যতের পাথেয়। ঠিক তেমনই স্ত্রীর গর্ভজাত সন্তান পুরুষের বৃদ্ধ বয়সের অবলম্বন। ¢ দ্বিতীয়ত, চাষী শস্যক্ষেত্রের যত্ন নেয়, বীজ বোনে, নিড়ানি দেয়, সার দেয়, সেঁচ দেয়। ক্ষেতেই তার সারা দিন কাটে। স্ত্রীও তেমনি সারা দিন স্বামীর মনোজগৎ জুড়ে থাকবে। স্বামীও স্ত্রীর যত্ন নেবেন, আর সুযোগ সুবিধা রোগশোক এসবের প্রতি খেয়াল রাখবেন। ¢ তৃতীয়ত, চাষী তার জমি ডিফাইন করে, আইল দেয়- যে ‘এটা আমার জমি’। সেখানে অন্য কারও হস্তক্ষেপ সহ্য করে না। এর জন্য সে সব করতে প্রস্তুত। মামলা মোকদ্দমা থেকে শুরু করে মারপিট সব। জীবন দিতেও তৈরি, জীবন নিতেও তৈরি। স্ত্রীও স্বামীর কাছে এমন রত্ন। যে কোনো মূল্যে সে স্ত্রীকে রক্ষা করবে। অধিকারবোধের কারণে স্ত্রীর বিষয়ে কারো হস্তক্ষেপ তার কাছে অসহ্য হবে। ‘ও শুধুই আমার’ এই অনুভূতি কাজ করবে স্ত্রীর প্রতি। ফাইনালি, জমিটুকু চাষীর সম্বল। ওটাই তার দুনিয়া। পরম নির্ভরতা ও আবেগের জায়গা। তার কাছে ঐ জমিটুকুই তার সবকিছু। চাষীর চব্বিশ ঘণ্টার সব সাধ্য সাধনা স্বপ্ন বেদনা তাঁর জমিটুকু ঘিরে। সব ভাবনা চিন্তা কল্পনা তার জমির জন্য। স্বামীর কাছে স্ত্রীর মর্যাদা ও এমন। স্ত্রী তার স্বামীর গর্বের ধন, তার আশ্রয় সম্বল, স্ত্রী স্বামীর কাছে তার দুনিয়া, তার সবকিছু। তার নির্ভরতা, তার কল্পনা ভাবনা পরিশ্রমের কেন্দ্র। সাকিব এবার থামল। জমির আলোচনা করতে গিয়ে তার নিজেদের জমির কথা মনে পড়ল। এবার বন্যার কারণে ফসল হয়নি। বাবা মা বাড়িতে খুব কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। এগুলো ভেবে সাকিবের চোখে জল চলে আসল। সাকিবের চোখের জল যেন সবাইকেই ছূয়ে গেল। নিজেকে সামলে নিয়ে সাকিব বলল- রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প ‘হৈমন্তী’ এর সবচেয়ে জোশ লাইন কোনটা ছিল কে বলতে পারবে? > মাহদী : ‘সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ’ এটা? > সাকিব : তোর দেখছি স্মৃতিশক্তি ভালই আছে। হুম এটাই। বন্ধুরা রবীন্দ্রনাথ বললেন ঠিক আছে সাহিত্যের চরম উৎকর্ষ। একই জিনিস আল্লাহ শস্যক্ষেত্রের উপমা দিয়ে বুঝাতে চাচ্ছেন। এখন এত প্রশ্ন? এই আমাদের বিবেক? একটু দম নিয়ে সাকিব মাহদির কাঁধে হাত রেখে আবার বলা শুরু করল- কুরঅান এখনো নতুন, চিরনতুন। ইসলাম তখনো নারীদের অধিকার নিয়ে বলেছে এখনো বলছে। যেটুকু অধিকার পেলে নারীরা সত্ত্বাগত ভাবে ভালো থাকবে। নারীর নারীত্ব ভালো থাকবে। ইসলাম নারীদের অপমান করেনি। বরং বর্ববরতার যুগে নারীকে দিয়েছে নতুন করে সম্মান। ইসলামের ডেফিনেশনের বাইরে যদি কেউ অধিকার দিতে চায় সেটা অধিকার নয়। সেটা ফাঁদ, যে ফাঁদে আটকে ছটফট করবে নারীর নারীত্ব। যে নারীত্বের ওপর নির্ভর করে পুরোটা সমাজ, পুরোটা ভবিষ্যৎ। কবিগুরু রবিন্দ্রনাথ বলেছিলেন- “প্রেমের ফাঁদ পাতা এ ভূবনে, কখন কে ধরা পরে কে জানে?” ইসলাম এখনো আধুনিক আছে। যতকাল পৃথিবী থাকবে ততকাল ইসলাম আধুনিকই থাকবে। শুধু চোখ থেকে ঔপনিবেশিক মনিবদের চশমাটা সরাতে হবে। একরোখা না হয়ে ডান বাম বুঝতে হবে। পুষ্পা নীরব। অনেকক্ষণ নীরবতায় দেখে নুসরা পুষ্পার মুখ উপরে তুলে ধরল। লোনা জলে ভিজে যাচ্ছে পুষ্পার গাল। সাকিবের আর্থিক অভাবের ব্যথায় সে ব্যতীত। মনে মনে যে সে ভালবাসে ছেলেটাকে। চোখে ভাবান্তরের দৃষ্টি। এ দৃষ্টি যেন পুষ্পাকে ডেকে বলছে- “হে পুষ্পা! একচোখে দেখ কেন? নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে সাকিবের কথাগুলো ভেবে দেখবে কি? ” এতক্ষণে পুষ্পার মুখ খুলল, সাকিব! অর্থের জন্য এ সম্পর্ক ভাংবে নারে। পুষ্পা ফুফাচ্ছে। আমার কথায় কষ্ট পাস না। আর ইসলামে নারী অধিকার নিয়ে যে কথাগুলো আছে সেগুলো আমাকে দিস কাইন্ডলি। আমি তো জানতাম না ইসলামে নারীর অধিকারের কথা এভাবে বলা আছে। সাকিব এখনো পুকুরের পানির দিকে তাকিয়ে আছে।পুকুরের পানির সৌন্দর্যের মধ্যে যেন হারিয়ে গিয়েছে।আরেকটি সৌন্দর্য সাকিব দেখেনি, হয়তো দেখবে কি না কখনো। কপাল থেকে নারীবাদী ইউনিফর্ম বড় টিপটা খুলে মাথায় ওড়না দিলে পুষ্পা কে অনেক সুন্দর লাগে। মাহদী সাকিবকে জড়িয়ে ধরল। ভেঙ্গে গেল এতক্ষণের বাঁধ। স্রোত হল বহমান। এ স্রোত “অমূল্য রতন কাছে পেয়েও পায়ে ঠেলার কারণে”। স্রোত যেন মাহদিকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সিরাতে মুস্তাকিমের দিকে। নদীর স্রোত তো এর চেয়ে বেশী, কিন্তু এর থেকে কি গভীর? না মনে হয়। ততক্ষণে সূর্য হলুদ বর্ণের রশ্মি ছড়িয়ে পশ্চিম দিকে হেলে পড়েছে। সবাই পেঠে দুপুরের খাবার গ্রহণের ইঙ্গিত পাচ্ছে। সাকিব বলল- চল! আজকের মত উঠি। সবাই ফিরে চলল আপন নীরে। লেখক ওয়লিদ আল হামিদী ভাই

সালাতের গুরুত্ব কি বিস্তারিত পোষ্টটি সকলেই পড়ুন!! بسم الله الرحمن الرحيم إِنَّ الْحَمْدَ ِللهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِيْنُهُ مَنْ يَهْدِهِ اللهُ فَلاَ مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلاَ هَادِىَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لآ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ، أَمَّا بَعْدُ:* আল্লাহ বলেন, وَأَقِمِ الصَّلاَةَ لِذِكْرِىْ ‘আর তুমি ছালাত কায়েম কর আমাকে স্মরণ করার জন্য’ (ত্বোয়া-হা ২০/১৪)। ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) অনুধাবন করুন সম্মানিত মুছল্লী ! অনুধাবন করুন আপনার প্রভুর বাণী- ‘সফলকাম হবে সেই সব মুমিন যারা ছালাতে রত থাকে ভীত সন্ত্রস্ত ভাবে’।[1] অতএব গভীরভাবে চিন্তা করুন! আপনার প্রভু আল্লাহ কিজন্য আপনাকে সৃষ্টি করেছেন? মনে রাখবেন তিনি আপনাকে বিনা প্রয়োজনে সৃষ্টি করেননি। তাঁর সৃষ্ট এ সুন্দর সৃষ্টি জগতকে সুন্দরভাবে আবাদ করার দূরদর্শী পরিকল্পনা নিয়েই তিনি আপনাকে এ পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। কে এখানে কত বেশী সুন্দর আমল করে এবং তার সৃষ্টিকর্তার হুকুম যথাযথভাবে পালন করে, তা পরীক্ষার জন্য আল্লাহ মউত ও হায়াতকে সৃষ্টি করেছেন।[2] আপনার হাত-পা, চক্ষু-কর্ণ, নাসিকা-জিহবা সর্বোপরি যে মূল্যবান জ্ঞান-সম্পদ এবং ভাষা ও চিন্তাশক্তির নে‘মত দান করে আপনাকে আপনার প্রভু এ দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন, তার যথার্থ ব্যবহার আপনি করেছেন কি-না, তার কড়ায়-গন্ডায় হিসাব আপনাকে আপনার সৃষ্টিকর্তার নিকটে দিতে হবে।[3] কেউ আপনার উপকার করলে আপনি তার নিকটে চির কৃতজ্ঞ থাকেন। সর্বপ্রদাতা আল্লাহর নিকটে আপনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন কি? একবার ভেবে দেখুন দুনিয়ার সকল সম্পদের বিনিময়ে কি আপনি আপনার ঐ সুন্দর দু’টি চক্ষুর ঋণ শোধ করতে পারবেন? পারবেন কি আপনার দু’টি হাতের, পায়ের, কানের বা জিহবার যথাযথ মূল্য দিতে? আপনার হৃৎপিন্ডে যে প্রাণবায়ুর অবস্থান, সেটি কার হুকুমে সেখানে এসেছে ও কার হুকুমে সেখানে রয়েছে? আবার কার হুকুমে সেখান থেকে বেরিয়ে যাবে? [4] সেটির আকার-আকৃতিই বা কি, তা কি কখনও আপনি দেখতে পেয়েছেন? শুধু কি তাই? আপনার পুরো দেহযন্ত্রটাই যে এক অলৌকিক সৃষ্টির অপরূপ সমাহার। যার কোন একটি তুচ্ছ অঙ্গের মূল্য দুনিয়ার সবকিছু দিয়েও কি সম্ভব? অতএব আসুন! সেই মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর প্রতি মন খুলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। তাঁর প্রেরিত মহান ফেরেশতা জিব্রীলের মাধ্যমে শিখানো ও শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) প্রদর্শিত পদ্ধতিতে ‘ছালাত’ আদায়ে রত হই।[5] স্বীয় প্রভুর নিকটে আনুগত্যের মস্তক অবনত করি। হে মুছল্লী! ছালাতের নিরিবিলি আলাপের সময় আপনি আপনার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর নিকটে হৃদয়ের দুয়ার খুলে দিন।[6] ছালাত শেষ করার আগেই আপনার সকল প্রার্থনা নিবেদন করুন। সিজদায় লুটিয়ে পড়ে চোখের পানি ফেলুন। আল্লাহ আপনার হৃদয়ের কথা জানেন। আপনার চোখের ভাষা বুঝেন। ঐ শুনুন পিতা ইবরাহীম (আঃ)-এর আকুল প্রার্থনা- ‘প্রভু হে! নিশ্চয়ই আপনি জানেন যা কিছু আমরা হৃদয়ে লুকিয়ে রাখি ও যা কিছু আমরা মুখে প্রকাশ করি। আল্লাহর নিকটে যমীন ও আসমানের কোন কিছুই গোপন থাকেনা’।[7] অতএব ভীতিপূর্ণ শ্রদ্ধা ও গভীর আস্থা নিয়ে বুকে জোড়হাত বেঁধে বিনীতভাবে আপনার মনিবের সামনে দাঁড়িয়ে যান। দু’হাত উঁচু করে রাফ‘উল ইয়াদায়েন-এর মাধ্যমে আল্লাহর নিকটে আত্মসমর্পণ করুন। অতঃপর তাকবীরের মাধ্যমে স্বীয় প্রভুর মহত্ত্ব ঘোষণা করুন। যাবতীয় গর্ব ও অহংকার চূর্ণ করে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সম্মুখে রুকূতে মাথা ঝুঁকিয়ে দিন। তারপর সিজদায় গিয়ে মাটিতে মাথা লুটিয়ে দিন। সর্বদা স্মরণ রাখুন তাঁর অমোঘ বাণী- ‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তবে আমি তোমাদেরকে অবশ্যই বেশী করে দেব। আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তবে জেনে রেখ আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর’। [8] তিনি বলেন, ‘হে আদম সন্তান! তুমি আমার ইবাদতের জন্য অন্তরকে খালি করে নাও। আমি তোমার হৃদয়কে সচ্ছলতা দ্বারা পূর্ণ করে দেব এবং তোমার অভাব দূর করে দেব। কিন্তু যদি তুমি সেটা না কর, তাহ’লে আমি তোমার দু’হাতকে (দুনিয়াবী) ব্যস্ততায় ভরে দেব এবং তোমার অভাব মিটাবো না’।[9] অতএব আসুন! আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে ও জান্নাত লাভের উদ্দেশ্যে ইসলামের শ্রেষ্ঠতম ইবাদত ও প্রার্থনার অনুষ্ঠান ‘ছালাতে’ রত হই ‘তাকবীরে তাহরীমা’-র মাধ্যমে দুনিয়ার সবকিছুকে হারাম করে একনিষ্ঠভাবে বিনম্রচিত্তে বিগলিত হৃদয়ে!! সুন্নাতের রাস্তা ধরে নির্ভয়ে চল হে পথিক! জান্নাতুল ফেরদৌসে সিধা চলে গেছে এ সড়ক। আসুন! পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে জীবন গড়ি !! * মুসলিম, মিশকাত হা/৫৮৬০ ‘ফাযায়েল ও শামায়েল’ অধ্যায়-২৯, ‘নবুঅতের নিদর্শন সমূহ’ অনুচ্ছেদ-৫; ১০ম নববী বর্ষে ইয়ামনের ঝাড়-ফুঁককারী কবিরাজ যেমাদ আযদী মক্কায় এসে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর উপর কথিত জিন ছাড়ানোর তদবীর করতে গিয়ে রাসূল (ছাঃ)-এর মুখে উপরোক্ত খুৎবা শুনে বিষ্ময়ে অভিভূত হয়ে সঙ্গে সঙ্গে হাত বাড়িয়ে বায়‘আত করে ইসলাম কবুল করেন। [1]. قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُوْنَ، الَّذِيْنَ هُمْ فِي صَلاَتِهِمْ خَاشِعُوْن َ= সূরা মু’মিনূন ২৩/১-২। [2] .اَلَّذِىْ خَلَقَ الْمَوْتَ وَ الْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلاً = মুল্ক ৬৭/২। [3] . = فَمَنْ يَّعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَّرَهُ ، وَمَنْ يَّعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَّرَهُ যিলযাল ৯৯/৭-৮। [4] وَ يَسْئَلُوْنَكَ عَنِ الرُّوْحِ قُلِ الرُّوْحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّيْ وَمَا أُوْتِيْتُمْ مِّنَ الْعِلْمِ إِلاَّ قَلِيْلاً . = বনু ইসরাঈল ১৭/৮৫। [5] . صَلُّوْا كَمَا رَأَيْتُمُوْنِيْ أُصَلِّيْ বুখারী (দিল্লী) ‘আযান’ অধ্যায়-২, ১/৮৮ পৃঃ, হা/৬৩১, ৬০০৮, ৭২৪৬; মিশকাত-আলবানী (বৈরূত: আল-মাকতাবুল ইসলামী, ৩য় সংস্করণ, ১৪০৫হি:/১৯৮৫খৃ:) হাদীছ সংখ্যা/৬৮৩ ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪, ‘দেরীতে আযান’ অনুচ্ছেদ-৬। [6] . إِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا صَلَّى يُنَاجِيْ رَبَّهُ… ‘নিশ্চয়ই তোমাদের কেউ যখন ছালাত আদায় করে, তখন সে তার প্রভুর সঙ্গে মুনাজাত করে’ অর্থাৎ গোপনে আলাপ করে’। -বুখারী হা/৫৩১, ১/৭৬ পৃঃ; মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৭১০ ‘মসজিদ ও ছালাতের স্থান সমূহ’ অনুচ্ছেদ-৭; আহমাদ, মিশকাত হা/৮৫৬ ‘ছালাতে ক্বিরাআত’ অনুচ্ছেদ-১২। [7] . رَبَّنَا إِنَّكَ تَعْلَمُ مَا نُخْفِيْ وَمَا نُعْلِنُ وَمَا يَخْفَى عَلَى اللهِ مِنْ شَيْءٍ فِي الْأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ = ইবরাহীম ১৪/৩৮। [8] . لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيْدَنَّكُمْ وَلَئِنْ كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِيْ لَشَدِيْدٌ = ইবরাহীম ১৪/৭। [9] . হাদীছে কুদসী; আহমাদ, তিরমিযী হা/২৪৬৬; ইবনু মাজাহ হা/৪১০৭; ঐ, মিশকাত হা/৫১৭২ ‘হৃদয় গলানো’ অধ্যায়-২৬, পরিচ্ছেদ-২; আলবানী, সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৩৫৯।

অধিকাংশ মহিলারাই হবে জাহান্নামী এবং জাহন্নামী হওয়ার ছয়টি কারনের বিবরনঃ ————————————————————- নারী শাস্তির ছয়টি দিক অবহিত হওয়ার পর নবী কন্যা ফাতিমা (রাঃ) এ শাস্তির কারণ জানতে চেয়ে আরজ করলেন আব্বাজান! মহিলাদের এই ভয়াবহ শাস্তি ভোগের কারণ কি? উত্তরে মহানবী ﷺ এরশাদ করলেন; নারী শাস্তির ১ম কারণঃ ————————————- যে মহিলা স্বীয় মাথার চুল দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় সাজা ভোগ করতে দেখেছিলাম তার এই শাস্তির কারণ হলো, সে চলার পথে পর পুরুষ থেকে নিজের চুলকে ঢেকে রাখতো না। নগ্ন মাথায় পর পুরুষকে দেখানোর জন্য চুল ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়াতো। আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে মহিলাদেরকে মাথা ঘাড় ও বুক মোটা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ বর্তমান সমাজের দিকে তাকালে দেখা যায় মহিলারা মাথার চুলকে কত বাহারী প্রসাধনীতে রূপসজ্জায় সাজিয়ে নানা ঢংয়ে রাস্তায় বেপর্দা অবস্থায় চলাফেরা করছে। অথচ পর্দা সহকারে চলা, চুল ঢেকে রাখা সকল নারীর উপর ফরজ। তাই সকল নারীদের উচিৎ তারা যেন কঠোরভাবে পর্দার হুকুম মেনে ঘরে- বাইরে চলাফেরা করে নিজেদেরকে এই ভয়াবহ আযাব থেকে রক্ষা করে। নারী শাস্তির ২য় কারণঃ ———————————— যে সকল মহিলাদেরকে স্বীয় জিহ্বা দ্বারা ঝুলন্ত অবস্থায় জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে দেখা গেছে, তাদের ঐ শাস্তির কারণ হলো তারা কথাবার্তায় স্বামীকে কষ্ট দিত তাদের জবান থেকে শাশুড়ি আত্মীয়-স্বজন এমনকি প্রতিবেশী পর্যন্ত নিরাপদ থাকতো না। অনেক মহিলা আছে যারা নামাযে কালামে খুবই পাকা কিন্তু মুখের বচন বিষের মত, এই শ্রেণীর নারীরা নামাযে পাকা পোক্ত হওয়া সত্ত্বেও কুরুচীপূর্ণ অশ্লীলভাষী হওয়ার কারণে জাহান্নামে কঠিন শাস্তির উপযুক্ত হয়ে যাবে। রাসূল ﷺ এরশাদ করেন; মুসলমান হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যার হাত মুখ এবং আচরণ থেকে অপর মুসলমান নিরাপদ থাকে। (মুসলিম) নারী শাস্তির ৩য় কারণঃ ————————————— অবৈধ সম্পর্ক হচ্ছে নারী শাস্তির তৃতীয় কারণ। মহানবী ﷺ যে মহিলাকে স্তনে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়েছিলেন তার কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন; ঐ নারী ছিল বিবাহিতা, সে বিবাহিতা হওয়া সত্ত্বেও তার সম্পর্ক ছিল পর পুরুষের সাথে। আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে লজ্জাস্থান হেফাজতকারী মহিলাকে জান্নাতী বলে ঘোষণা করেছেন। (সূরা মু’মিনূন: ৫) অন্য আয়াতে যিনাকারী মহিলা এবং যেনার পরিবেশ সৃষ্টিকারীনী মহিলা সম্পর্কে কঠোর আযাব ও শাস্তির কথা ঘোষণা করেছেন। (সূরা নূর: ২) আজকের চলমান বিশ্বে নারী কেলেংকারীর নামে অনেক কিছুই ঘটে চলছে স্বামীর অনুপস্থিতিতে দেবর ও অন্যের সাথে অসংকোচে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে লজ্জাকে বিসর্জন দিয়ে আস্তে আস্তে অবৈধ সম্পর্কের দিকে অগ্রসর হয়। এগুলো লজ্জাহীনতার ফসল। নারী শাস্তির ৪র্থ কারণঃ ————————————- নারী শাস্তির চতুর্থ কারণ হচ্ছে এবাদতে অনিহা। এ সম্পর্কে মহানবী ﷺ এরশাদ করেন; জাহন্নামে স্বীয় পদযুগল বক্ষে এবং হস্তদয় কপালে স্থাপিত অবস্থায় সাজাপ্রাপ্তা মহিলারা দুনিয়ায় ফরজ গোসল এবং ঋতুবতী হওয়ার পরবর্তী পবিত্রতা অর্জনে উদাসীন ছিল। নামায যথারীতি পালন করা তো দূরের কথা বরং নামায বা অন্যান্য এবাদত নিয়ে উপহাস করতো। গোসল ফরজ হওয়ার সাথে সাথে তা করে নেওয়া উত্তম, অহেতুক অলসতা বসত দেরী করার দ্বারা কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং এটা হারাম। তদরূপভাবে ঋতুবতী মহিলার ঋতুশ্রাব বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে গোসল করে নেওয়া উচিৎ। অথচ আজকাল মহিলাদের মধ্যে এটা নিয়ে খুবই উদাসীন ভাব লক্ষ্য করা যায়। অনেক আগেই শ্রাব বন্ধ হওয়া সত্ত্বেও গোসল না করে বসে থাকে। এরই মধ্যে নামাযের ওয়াক্ত চলে যায়। নামায নিয়ে বিদ্রপ করা এটা নারী শাস্তির অন্যতম কারণ। আজকের সমাজে দেখা যায় নামায মোটেই গুরুত্ব দিয়ে পড়ে না । নামাযের ওয়াক্ত চলে যায় তাদের কোন খবর থাকে না। কোন জায়গায় বেড়াতে গেলে তো কথাই নেই, প্রসাধনী নষ্ট হওয়ার ভয়ে নামাজের কাছেই যায় না অথচ কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাযেরই হিসাব হবে। (তিরমিযী) রাসূলে কারীম ﷺ বলেন; নামায হচ্ছে মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে পার্থক্যকারী (বুখারী)। তাই সাবধান হে নারীগণ! নামাযকে গুরুত্ব সহকারে আদায় করুন। নারী শাস্তির ৫ম কারণঃ ————————————- পরনিন্দা ও মিথ্যা হচ্ছে নারী শাস্তির পঞ্চম কারণ। মুখাকৃতি শুকর এবং শরীরের বাকী অংশ গাধার ন্যায় রূপান্তরিত আর অসংখ্য সাপ বিচ্ছু বেষ্টিত অবস্থায় শাস্তি ভোগকারীনি মহিলার কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে রাসূল (সঃ) বলেন; এ মহিলা পরনিন্দা ও মিথ্যা বলতে অভ্যস্ত ছিল। পরনিন্দা ও মিথ্যা বলা মহাপাপ। পবিত্র কুরআনে পরনিন্দাকে মৃত ভাইয়ের গোস্ত খাওয়ার সাথে তুলনা করা হয়েছে অতএব সকলকে মিথ্যা, পরনিন্দা ও চোগলখুরী থেকে বাঁচা আবশ্যকীয়। নারী শাস্তির ৬ষ্ঠ কারণঃ —————————————– হিংসা ও খোটা দেওয়া। রাসূল ﷺ জাহান্নামের যে মহিলাকে মুখচ্ছবি কুকুর আকৃতির ও তার মুখে আগুন ঢুকে মলদ্বার দিয়ে বের হতে দেখেছেন সে ছিল হিংসুক ও খোটা প্রদানকারীনি। হিংসা একটি মারাত্মক ধরণের রোগ যা মানুষের আমলকে ধ্বংস করে দেয় হাদীস শরীফে এসেছে, রাসুল (সঃ) এরশাদ করেন; হিংসা হতে দূরে থাক কেননা হিংসা নেকীকে ধ্বংস করে, যেমন আগুন শুকনো কাঠকে পুড়িয়ে ছাই করে ফেলে (মুসলিম)। উপকার করে খোটা দেয়া সম্পর্কে রাসূল ﷺ এরশাদ করেন; তিন ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন অনুগ্রহ দৃষ্টি দিবেন না। এদের মধ্যে একজন হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যে অপরকে অনুগ্রহ বা উপকার করে খোটা দেয় (বায়হাকী)। তাই হিংসা করা ও খোটা দেয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করুন। উপরোল্লেখিত শেষ পর্যায়ে চারটি অপরাধ যথা মিথ্যাবলা, পরনিন্দা করা, খোটা দেওয়া ও হিংসা করা এ গুলো নারী পুরুষ সবার মধ্যে পাওয়া যায় । তাই নারী পুরুষ সবার উচিৎ উপরোক্ত বদ অভ্যাসসমূহ থেকে নিজেকে রক্ষা করা। তাছাড়া আমাদের পরিবারে মা, বোন ও স্ত্রী সহ অনেক মহিলা লোক আছেন। তাদেরও সাবধান করা আমাদের উচিৎ। আল্লাহ তা’আলা আমাদের সকলকে তাওফীক দান করুন। আমীন!! সা’ঈদ ইবনু আবূ মারয়াম (রহঃ) আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একবার ঈদুল আযহা বা ঈদুল ফিতরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের জন্য রাসূল ﷺ ঈদগাহের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি মহিলাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেনঃ হে মহিলা সমাজ! তোমরা সা’দকা করতে থাক। কারন আমি দেখেছি জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে তোমরাই অধিক। তাঁরা আরয করলেনঃ কী কারনে, ইয়া রাসূল ﷺ ? তিনি বললেনঃ তোমরা অধিক পরিমাণে অভিশাপ দিয়ে থাক আর স্বামীর না-শোকরী করে থাক। বুদ্ধি ও দ্বীনের ব্যাপারে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও একজন সদাসতর্ক ব্যাক্তির বুদ্ধি হরণে তোমাদের চাইতে পারদর্শী আমি আর কাউকে দেখিনি। তাঁরা বললেনঃ আমাদের দ্বীন ও বুদ্ধির ত্রুটি কোথায়, ইয়া রাসূলﷺ! একজন মহিলার সাক্ষ্য কি একজন পুরুষের সাক্ষের অর্ধেক নয়? তাঁরা উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ’। তখন তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে তাদের বুদ্ধির ত্রুটি। আর হায়য অবস্থায় তারা কি সালাত (নামায/নামাজ) ও সিয়াম থেকে বিরত থাকে না? তাঁরা বললেন, ‘হাঁ’। তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে তাদের দ্বীনের ত্রুটি।( বোখারি, মুসলিম)

সহু সিজদাহ সহু সিজদা বা সিজদা-এ সাহও (ভুলের সিজদাহ) ফরয বা নফল নামাযে ভুল করে কোন ওয়াজেব অংশ ত্যাগ করলে ঐ ভুলের খেসারত স্বরুপ এবং ভুল আনয়নকারী শয়তানের প্রতি চাবুক স্বরুপ দুটি সিজদাহ করতে হয়। ভুল অনুপাতে সিজদার আগে বা পরে হাদীসে বর্ণিত নিয়মানুসারে সিজদাহ করা জরুরী।   নামায কম পড়ে সালাম ফিরে দিলে : ভুলবশত: ১ বা ২ রাকআত নামায কম পড়ে সালাম ফিরে থাকলে যদি অল্প (৫/৭ মিনিট) সময়ের মধ্যে মনে পড়ে, তাহলে (মাঝে কথা বলে থাকলেও) নামাযী বাকী নামায সম্পন্ন করে সালাম ফিরার পর তকবীর ও তাসবীহ সহ্‌ দুটি সিজদাহ করে পুনরায় সালাম ফিরবে। এ ব্যাপারে যুল-য়্যাদাইনের হাদীস প্রসিদ্ধ। একদা মহানবী (সাঃ) যোহ্‌র কিংবা আসরের নামায ভুল করে ২ রাকআত পড়ে সালাম ফিরে উঠে অন্য জায়গায় বসলেন। লোকেরা ভাবল, নামায সংক্ষিপ্ত হয়ে গেছে। আবূ বাক্‌র, উমার কেউই ভয়ে তাঁর সাথে কথা বললেন না। অবশেষে যুল-য়্যাদাইন বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি ভুলে গেছেন, নাকি নামায কম হয়ে গেল?’ তিনি বললেন, “আমি ভুলিও নি, নামায কমও হয় নি।” অতঃপর সকলের উদ্দেশ্যে বললেন, “যুল-য়্যাদাইন যা বলছে তা কি ঠিক?” সকলে বলল, ‘জী হ্যাঁ।’ সুতরাং তিনি অগ্রসর হয়ে বাকী নামায পূরণ করে সালাম ফিরলেন। অতঃপর তকবীর দিয়ে অনুরুপ অথবা তার চেয়ে লম্বা সিজদা দিলেন। তারপর আবার তকবীর দিয়ে মাথা তুললেন। পুনরায় তকবীর দিয়ে অনুরুপ অথবা তার চেয়ে লম্বা আরো একটি সিজদাহ করলেন। তারপর আবার তকবীর দিয়ে মাথা তুলে সালাম ফিরলেন। (বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ১০১৭নং) অবশ্য দীর্ঘ সময়ের পর মনে পড়লে নূতন করে পুরো নামাযটাই পুনরায় ফিরিয়ে পড়তে হবে। নামাযের কোন রুক্‌ন (যেমন কিয়াম, রুকূ, সিজদাহ প্রভৃতি) ভুলে ত্যাগ করলে নামাযই হবে না। যে রাকআতের রুক্‌ন ত্যক্ত হবে, সে রাকআত বাতিল গণ্য হবে। ঐ ভুল নামাযের মধ্যে প্রথম রাকআতের রুক্‌ন ছেড়ে দ্বিতীয় রাকআতে মনে পড়লে, দ্বিতীয়কে প্রথম রাকআত গণ্য করে বাকী নামায সম্পন্ন করবে নামাযী। অতঃপর সালাম ফিরার পর দুই সিজদা করে পুনরায় সালাম ফিরবে। (মাজাল্লাতুল বুহূসিল ইসলামিয়্যাহ্‌ ২৭/৩৯) পক্ষান্তরে নামাযের সালাম ফিরার পর মনে পড়লে এক রাকআত নামায পড়ে ঐরুপ সিজদাহ করবে। নামায বেশী পড়লে : নামাযে ভুলবশত: ১ রাকআত বা ১টি সিজদাহ বা বৈঠক অতিরিক্ত হয়ে গেলে সালাম ফিরার পর ২টি সহু সিজদা করে পুনরায় সালাম ফিরবে নামাযী। একদা মহানবী (সাঃ) ৫ রাকআত নামায পড়ে সালাম ফিরলেন। লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, নামায কি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে? তিনি বললেন, “ব্যাপার কি?” লোকেরা বলল, ‘আপনি ৫ রাকআত নামায পড়লেন।’ এ কথা শুনে তিনি দুটি সিজদাহ করলেন। (অতঃপর সালাম ফিরলেন।) (বুখারী, মুসলিম,  সুনানু আরবাআহ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ্‌), মিশকাত ১০১৬নং) রাকআতে সন্দেহ্‌ হলে : নামায পড়তে পড়তে কয় রাকআত হল -এই সন্দেহ্‌ হলে যেদিকের সঠিকতার ধারণা অধিক প্রবল হবে, তার উপর ভিত্তি করে নামায শেষ করে সালাম ফিরার পর ২টি সিজদাহ করে পুনরায় সালাম ফিরবে। যদি দুই দিকের মধ্যে কোন দিকেরই সঠিকতার ধারণা প্রবল না হয়, তাহলে দৃঢ় প্রত্যয়ের উপর আমল করবে নামাযী। অর্থাৎ, কম সংখ্যার উপর ভিত্তি করলে নামায অসম্পূর্ণ হওয়ার আশংকা থাকবে না। সুতরাং সেই প্রত্যয়ের সাথে বাকী নামায সম্পন্ন করে সালাম ফিরার পূর্বে দুটি সিজদা-এ সাহও করে সালাম ফিরবে। মহানবী (সাঃ) বলেন, “যখন তোমাদের কেউ নামাযে সন্দেহ্‌ করে এবং বুঝতে পারে না যে, সে কয় রাকআত পড়েছে; ৪ রাকআত, না ৩ রাকআত? তখন তার উচিৎ, সন্দেহ্‌ দূর করে দিয়ে যা একীন (দৃঢ় প্রত্যয়) হয় তার উপর ভিত্তি করা। অতঃপর সালাম ফিরার পূর্বে দুটি সিজদাহ করা। এতে সে যদি ৫ রাকআত পড়ে থাকে তাহলে ঐ সিজদাহ মিলে তার নামায জোড় হয়ে যাবে। অন্যথা যদি পূর্ণ ৪ রাকআত পড়ে থাকে, তাহলে ঐ সিজদাহ শয়তানের জন্য লাঞ্ছনাকর হবে।” (আহমাদ, মুসনাদ, মুসলিম,  মিশকাত ১০১৫নং)   প্রথম তাশাহহুদ ত্যাগ করলে : নামাযী নামাযের প্রথম তাশাহহুদের বৈঠকে বসতে ভুলে গেলে যদি অর্ধেক উঠে খাড়া না হয়ে যায়, (হাঁটুদ্বয় মাটি ত্যাগ না করে) তাহলে মনে পড়লে পুনরায় বসে ‘আত্‌-তাহিয়্যাত’ পড়ে নেবে। আর এতে সাহও সিজদার প্রয়োজন নেই। অর্ধেকের বেশী উঠে খাড়া হয়ে গেলে এবং সম্পূর্ণ খাড়া না হয়ে মনে পড়লে পুনরায় বসে ‘আত্‌-তাহিয়্যাত’ পড়ে নেবে এবং শেষে সহু সিজদাহ করবে। কিন্তু যদি সম্পূর্ণ খাড়া হয়ে যায়, তাহলে আর পুনরায় না বসে বাকী নামায পূর্ণ করে সালাম ফিরার পূর্বে দুই সিজদা করে সালাম ফিরবে। অবৈধ জানার পরেও সম্পূর্ণ খাড়া হওয়ার পর পুনরায় বসে তাশাহহুদ পড়লে নামায বাতিল নয়। কিন্তু ক্বিরাআত শুরু করার পর বসলে নামায বাতিল গণ্য হবে। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৩/৫১১-৫১৩) একদা মহানবী (সাঃ) নামাযে প্রথম বৈঠকে না বসে উঠে পড়েন। লোকেরা তাসবীহ বললেও তিনি না বসে নামায শেষে দুই সিজদাহ করে সালাম ফিরেন। (বুখারী, মুসলিম,  সুনানু আরবাআহ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ্‌), মিশকাত ১০১৮নং) তিনি বলেন, “ইমাম ভুলে গিয়ে (তাশাহহুদ না পড়ে) সম্পূর্ণ খাড়া হয়ে গেলে তাকে ২টি সহু সিজদাহ করতে হবে। অবশ্য সম্পূর্ণ খাড়া না হলে সহু সিজদাহ করতে হবে না।” (ত্বাবারানী, মু’জাম জামে ৬২৩নং) প্রকাশ যে, ৪ রাকআত পড়ে ৫ রাকআতের জন্য ভুলে উঠে সম্পূর্ণ খাড়া হয়ে গেলেও স্মরণ হওয়া বা করানোর সাথে সাথে নামাযী বসে যাবে। কিন্তু প্রথম বৈঠকের জন্য স্মরণ হওয়া বা করানোর পরেও বসবে না।   সহু সিজদার আনুষঙ্গিক মাসায়েল : ভুলবশত: যে কোনও ওয়াজেব (যেমন রুকূ বা সিজদার তাসবীহ ইত্যাদি মূলেই) ত্যাগ করলে ঐ একই নিয়মে সিজদাহ করতে হবে। ইমাম সহু সিজদাহ করলে মুক্তাদী ভুল না করলেও তাঁর অনুসরণে তাঁর সাথে সিজদাহ করতে বাধ্য। ইমামের পশ্চাতে মুক্তাদী ভুল করলে যদি সে প্রথম রাকআত থেকেই ইমামের সাথে থাকে, তাহলে তাকে পৃথকভাবে সিজদাহ করতে হবে না। কারণ, তার এ ভুল ইমাম বহন করে নেবে। অবশ্য মসবূক (জামাআতে পিছিয়ে পড়া মুক্তাদী) হলে, ইমামের সালাম ফিরার পর তার বাকী নামায আদায় করতে উঠলে শেষে ভুল অনুসারে যথানিয়মে সিজদাহ করবে। কিন্তু যদি ইমাম সালাম ফিরার পর সিজদাহ করেন, তাহলে তাঁর সাথে মসবূকের সহু সিজদাহ করা সম্ভব নয়। কারণ সে সালাম ফিরতে পাবে না। তাই সে উঠে বাকী নামায আদায় করে শেষে যথানিয়মে একাকী সিজদাহ করে নেবে। অবশ্য সে যদি ইমামের ভুলের পর জামাআতে শামিল হয়ে থাকে, তাহলে সে ক্ষেত্রে তাকে সিজদাহ করতে হবে না। ইমাম ভুল করে এক রাকআত নামায বেশী পড়লে এক রাকআত ছুটে গেছে এমন মসবূক (পিছে পড়ে যাওয়া) নামাযী সেই রাকআত গণ্য করতে পারে না। সে রাকআত যেহেতু ইমামের বাতিল, সেহেতু তারও বাতিল। তাকে নিয়ম মত উঠে বাকী এক রাকআত কাযা পড়তে হবে। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ্‌, সঊদী উলামা-কমিটি ১/৩০৯) সতর্কতার বিষয় যে, ভুল করে নামাযের কোন রুক্‌ন ছুটে গেলে নামাযই হয় না। কোন ওয়াজেব ছুটে গেলে সিজদা-এ সাহও দ্বারা পূরণ হয়ে যায় এবং কোন সুন্নত ছুটে গেলে নামাযের কোন ক্ষতি হয় না তথা সহু সিজদারও প্রয়োজন হয় না। ক্বিরাআত করতে করতে ভুলে গেলে অথবা কাশিতে ধরলে যদি পরিমাণ মত পড়া হয়ে থাকে, তাহলে ইমাম তখনই রুকূতে চলে যাবেন। অবশ্য ক্বিরাআত ছোট মনে হলে অন্য সূরাও পড়তে পারেন। আটকে যাওয়ার পর সূরা ইখলাস পড়েও রুকূ যেতে পারেন। অবশ্য ক্বিরাআত ভুল পড়লে শেষে ঐ সূরা পড়তে হয় -এ কথা মনে করা ঠিক নয়।

সহু সিজদাহ সহু সিজদা বা সিজদা-এ সাহও (ভুলের সিজদাহ) ফরয বা নফল নামাযে ভুল করে কোন ওয়াজেব অংশ ত্যাগ করলে ঐ ভুলের খেসারত স্বরুপ এবং ভুল আনয়নকারী শয়তানের প্রতি চাবুক স্বরুপ দুটি সিজদাহ করতে হয়। ভুল অনুপাতে সিজদার আগে বা পরে হাদীসে বর্ণিত নিয়মানুসারে সিজদাহ করা জরুরী।   নামায কম পড়ে সালাম ফিরে দিলে : ভুলবশত: ১ বা ২ রাকআত নামায কম পড়ে সালাম ফিরে থাকলে যদি অল্প (৫/৭ মিনিট) সময়ের মধ্যে মনে পড়ে, তাহলে (মাঝে কথা বলে থাকলেও) নামাযী বাকী নামায সম্পন্ন করে সালাম ফিরার পর তকবীর ও তাসবীহ সহ্‌ দুটি সিজদাহ করে পুনরায় সালাম ফিরবে। এ ব্যাপারে যুল-য়্যাদাইনের হাদীস প্রসিদ্ধ। একদা মহানবী (সাঃ) যোহ্‌র কিংবা আসরের নামায ভুল করে ২ রাকআত পড়ে সালাম ফিরে উঠে অন্য জায়গায় বসলেন। লোকেরা ভাবল, নামায সংক্ষিপ্ত হয়ে গেছে। আবূ বাক্‌র, উমার কেউই ভয়ে তাঁর সাথে কথা বললেন না। অবশেষে যুল-য়্যাদাইন বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি ভুলে গেছেন, নাকি নামায কম হয়ে গেল?’ তিনি বললেন, “আমি ভুলিও নি, নামায কমও হয় নি।” অতঃপর সকলের উদ্দেশ্যে বললেন, “যুল-য়্যাদাইন যা বলছে তা কি ঠিক?” সকলে বলল, ‘জী হ্যাঁ।’ সুতরাং তিনি অগ্রসর হয়ে বাকী নামায পূরণ করে সালাম ফিরলেন। অতঃপর তকবীর দিয়ে অনুরুপ অথবা তার চেয়ে লম্বা সিজদা দিলেন। তারপর আবার তকবীর দিয়ে মাথা তুললেন। পুনরায় তকবীর দিয়ে অনুরুপ অথবা তার চেয়ে লম্বা আরো একটি সিজদাহ করলেন। তারপর আবার তকবীর দিয়ে মাথা তুলে সালাম ফিরলেন। (বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ১০১৭নং) অবশ্য দীর্ঘ সময়ের পর মনে পড়লে নূতন করে পুরো নামাযটাই পুনরায় ফিরিয়ে পড়তে হবে। নামাযের কোন রুক্‌ন (যেমন কিয়াম, রুকূ, সিজদাহ প্রভৃতি) ভুলে ত্যাগ করলে নামাযই হবে না। যে রাকআতের রুক্‌ন ত্যক্ত হবে, সে রাকআত বাতিল গণ্য হবে। ঐ ভুল নামাযের মধ্যে প্রথম রাকআতের রুক্‌ন ছেড়ে দ্বিতীয় রাকআতে মনে পড়লে, দ্বিতীয়কে প্রথম রাকআত গণ্য করে বাকী নামায সম্পন্ন করবে নামাযী। অতঃপর সালাম ফিরার পর দুই সিজদা করে পুনরায় সালাম ফিরবে। (মাজাল্লাতুল বুহূসিল ইসলামিয়্যাহ্‌ ২৭/৩৯) পক্ষান্তরে নামাযের সালাম ফিরার পর মনে পড়লে এক রাকআত নামায পড়ে ঐরুপ সিজদাহ করবে। নামায বেশী পড়লে : নামাযে ভুলবশত: ১ রাকআত বা ১টি সিজদাহ বা বৈঠক অতিরিক্ত হয়ে গেলে সালাম ফিরার পর ২টি সহু সিজদা করে পুনরায় সালাম ফিরবে নামাযী। একদা মহানবী (সাঃ) ৫ রাকআত নামায পড়ে সালাম ফিরলেন। লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, নামায কি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে? তিনি বললেন, “ব্যাপার কি?” লোকেরা বলল, ‘আপনি ৫ রাকআত নামায পড়লেন।’ এ কথা শুনে তিনি দুটি সিজদাহ করলেন। (অতঃপর সালাম ফিরলেন।) (বুখারী, মুসলিম,  সুনানু আরবাআহ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ্‌), মিশকাত ১০১৬নং) রাকআতে সন্দেহ্‌ হলে : নামায পড়তে পড়তে কয় রাকআত হল -এই সন্দেহ্‌ হলে যেদিকের সঠিকতার ধারণা অধিক প্রবল হবে, তার উপর ভিত্তি করে নামায শেষ করে সালাম ফিরার পর ২টি সিজদাহ করে পুনরায় সালাম ফিরবে। যদি দুই দিকের মধ্যে কোন দিকেরই সঠিকতার ধারণা প্রবল না হয়, তাহলে দৃঢ় প্রত্যয়ের উপর আমল করবে নামাযী। অর্থাৎ, কম সংখ্যার উপর ভিত্তি করলে নামায অসম্পূর্ণ হওয়ার আশংকা থাকবে না। সুতরাং সেই প্রত্যয়ের সাথে বাকী নামায সম্পন্ন করে সালাম ফিরার পূর্বে দুটি সিজদা-এ সাহও করে সালাম ফিরবে। মহানবী (সাঃ) বলেন, “যখন তোমাদের কেউ নামাযে সন্দেহ্‌ করে এবং বুঝতে পারে না যে, সে কয় রাকআত পড়েছে; ৪ রাকআত, না ৩ রাকআত? তখন তার উচিৎ, সন্দেহ্‌ দূর করে দিয়ে যা একীন (দৃঢ় প্রত্যয়) হয় তার উপর ভিত্তি করা। অতঃপর সালাম ফিরার পূর্বে দুটি সিজদাহ করা। এতে সে যদি ৫ রাকআত পড়ে থাকে তাহলে ঐ সিজদাহ মিলে তার নামায জোড় হয়ে যাবে। অন্যথা যদি পূর্ণ ৪ রাকআত পড়ে থাকে, তাহলে ঐ সিজদাহ শয়তানের জন্য লাঞ্ছনাকর হবে।” (আহমাদ, মুসনাদ, মুসলিম,  মিশকাত ১০১৫নং)   প্রথম তাশাহহুদ ত্যাগ করলে : নামাযী নামাযের প্রথম তাশাহহুদের বৈঠকে বসতে ভুলে গেলে যদি অর্ধেক উঠে খাড়া না হয়ে যায়, (হাঁটুদ্বয় মাটি ত্যাগ না করে) তাহলে মনে পড়লে পুনরায় বসে ‘আত্‌-তাহিয়্যাত’ পড়ে নেবে। আর এতে সাহও সিজদার প্রয়োজন নেই। অর্ধেকের বেশী উঠে খাড়া হয়ে গেলে এবং সম্পূর্ণ খাড়া না হয়ে মনে পড়লে পুনরায় বসে ‘আত্‌-তাহিয়্যাত’ পড়ে নেবে এবং শেষে সহু সিজদাহ করবে। কিন্তু যদি সম্পূর্ণ খাড়া হয়ে যায়, তাহলে আর পুনরায় না বসে বাকী নামায পূর্ণ করে সালাম ফিরার পূর্বে দুই সিজদা করে সালাম ফিরবে। অবৈধ জানার পরেও সম্পূর্ণ খাড়া হওয়ার পর পুনরায় বসে তাশাহহুদ পড়লে নামায বাতিল নয়। কিন্তু ক্বিরাআত শুরু করার পর বসলে নামায বাতিল গণ্য হবে। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৩/৫১১-৫১৩) একদা মহানবী (সাঃ) নামাযে প্রথম বৈঠকে না বসে উঠে পড়েন। লোকেরা তাসবীহ বললেও তিনি না বসে নামায শেষে দুই সিজদাহ করে সালাম ফিরেন। (বুখারী, মুসলিম,  সুনানু আরবাআহ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ্‌), মিশকাত ১০১৮নং) তিনি বলেন, “ইমাম ভুলে গিয়ে (তাশাহহুদ না পড়ে) সম্পূর্ণ খাড়া হয়ে গেলে তাকে ২টি সহু সিজদাহ করতে হবে। অবশ্য সম্পূর্ণ খাড়া না হলে সহু সিজদাহ করতে হবে না।” (ত্বাবারানী, মু’জাম জামে ৬২৩নং) প্রকাশ যে, ৪ রাকআত পড়ে ৫ রাকআতের জন্য ভুলে উঠে সম্পূর্ণ খাড়া হয়ে গেলেও স্মরণ হওয়া বা করানোর সাথে সাথে নামাযী বসে যাবে। কিন্তু প্রথম বৈঠকের জন্য স্মরণ হওয়া বা করানোর পরেও বসবে না।   সহু সিজদার আনুষঙ্গিক মাসায়েল : ভুলবশত: যে কোনও ওয়াজেব (যেমন রুকূ বা সিজদার তাসবীহ ইত্যাদি মূলেই) ত্যাগ করলে ঐ একই নিয়মে সিজদাহ করতে হবে। ইমাম সহু সিজদাহ করলে মুক্তাদী ভুল না করলেও তাঁর অনুসরণে তাঁর সাথে সিজদাহ করতে বাধ্য। ইমামের পশ্চাতে মুক্তাদী ভুল করলে যদি সে প্রথম রাকআত থেকেই ইমামের সাথে থাকে, তাহলে তাকে পৃথকভাবে সিজদাহ করতে হবে না। কারণ, তার এ ভুল ইমাম বহন করে নেবে। অবশ্য মসবূক (জামাআতে পিছিয়ে পড়া মুক্তাদী) হলে, ইমামের সালাম ফিরার পর তার বাকী নামায আদায় করতে উঠলে শেষে ভুল অনুসারে যথানিয়মে সিজদাহ করবে। কিন্তু যদি ইমাম সালাম ফিরার পর সিজদাহ করেন, তাহলে তাঁর সাথে মসবূকের সহু সিজদাহ করা সম্ভব নয়। কারণ সে সালাম ফিরতে পাবে না। তাই সে উঠে বাকী নামায আদায় করে শেষে যথানিয়মে একাকী সিজদাহ করে নেবে। অবশ্য সে যদি ইমামের ভুলের পর জামাআতে শামিল হয়ে থাকে, তাহলে সে ক্ষেত্রে তাকে সিজদাহ করতে হবে না। ইমাম ভুল করে এক রাকআত নামায বেশী পড়লে এক রাকআত ছুটে গেছে এমন মসবূক (পিছে পড়ে যাওয়া) নামাযী সেই রাকআত গণ্য করতে পারে না। সে রাকআত যেহেতু ইমামের বাতিল, সেহেতু তারও বাতিল। তাকে নিয়ম মত উঠে বাকী এক রাকআত কাযা পড়তে হবে। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ্‌, সঊদী উলামা-কমিটি ১/৩০৯) সতর্কতার বিষয় যে, ভুল করে নামাযের কোন রুক্‌ন ছুটে গেলে নামাযই হয় না। কোন ওয়াজেব ছুটে গেলে সিজদা-এ সাহও দ্বারা পূরণ হয়ে যায় এবং কোন সুন্নত ছুটে গেলে নামাযের কোন ক্ষতি হয় না তথা সহু সিজদারও প্রয়োজন হয় না। ক্বিরাআত করতে করতে ভুলে গেলে অথবা কাশিতে ধরলে যদি পরিমাণ মত পড়া হয়ে থাকে, তাহলে ইমাম তখনই রুকূতে চলে যাবেন। অবশ্য ক্বিরাআত ছোট মনে হলে অন্য সূরাও পড়তে পারেন। আটকে যাওয়ার পর সূরা ইখলাস পড়েও রুকূ যেতে পারেন। অবশ্য ক্বিরাআত ভুল পড়লে শেষে ঐ সূরা পড়তে হয় -এ কথা মনে করা ঠিক নয়।

সহু সিজদাহ সহু সিজদা বা সিজদা-এ সাহও (ভুলের সিজদাহ) ফরয বা নফল নামাযে ভুল করে কোন ওয়াজেব অংশ ত্যাগ করলে ঐ ভুলের খেসারত স্বরুপ এবং ভুল আনয়নকারী শয়তানের প্রতি চাবুক স্বরুপ দুটি সিজদাহ করতে হয়। ভুল অনুপাতে সিজদার আগে বা পরে হাদীসে বর্ণিত নিয়মানুসারে সিজদাহ করা জরুরী।   নামায কম পড়ে সালাম ফিরে দিলে : ভুলবশত: ১ বা ২ রাকআত নামায কম পড়ে সালাম ফিরে থাকলে যদি অল্প (৫/৭ মিনিট) সময়ের মধ্যে মনে পড়ে, তাহলে (মাঝে কথা বলে থাকলেও) নামাযী বাকী নামায সম্পন্ন করে সালাম ফিরার পর তকবীর ও তাসবীহ সহ্‌ দুটি সিজদাহ করে পুনরায় সালাম ফিরবে। এ ব্যাপারে যুল-য়্যাদাইনের হাদীস প্রসিদ্ধ। একদা মহানবী (সাঃ) যোহ্‌র কিংবা আসরের নামায ভুল করে ২ রাকআত পড়ে সালাম ফিরে উঠে অন্য জায়গায় বসলেন। লোকেরা ভাবল, নামায সংক্ষিপ্ত হয়ে গেছে। আবূ বাক্‌র, উমার কেউই ভয়ে তাঁর সাথে কথা বললেন না। অবশেষে যুল-য়্যাদাইন বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি ভুলে গেছেন, নাকি নামায কম হয়ে গেল?’ তিনি বললেন, “আমি ভুলিও নি, নামায কমও হয় নি।” অতঃপর সকলের উদ্দেশ্যে বললেন, “যুল-য়্যাদাইন যা বলছে তা কি ঠিক?” সকলে বলল, ‘জী হ্যাঁ।’ সুতরাং তিনি অগ্রসর হয়ে বাকী নামায পূরণ করে সালাম ফিরলেন। অতঃপর তকবীর দিয়ে অনুরুপ অথবা তার চেয়ে লম্বা সিজদা দিলেন। তারপর আবার তকবীর দিয়ে মাথা তুললেন। পুনরায় তকবীর দিয়ে অনুরুপ অথবা তার চেয়ে লম্বা আরো একটি সিজদাহ করলেন। তারপর আবার তকবীর দিয়ে মাথা তুলে সালাম ফিরলেন। (বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ১০১৭নং) অবশ্য দীর্ঘ সময়ের পর মনে পড়লে নূতন করে পুরো নামাযটাই পুনরায় ফিরিয়ে পড়তে হবে। নামাযের কোন রুক্‌ন (যেমন কিয়াম, রুকূ, সিজদাহ প্রভৃতি) ভুলে ত্যাগ করলে নামাযই হবে না। যে রাকআতের রুক্‌ন ত্যক্ত হবে, সে রাকআত বাতিল গণ্য হবে। ঐ ভুল নামাযের মধ্যে প্রথম রাকআতের রুক্‌ন ছেড়ে দ্বিতীয় রাকআতে মনে পড়লে, দ্বিতীয়কে প্রথম রাকআত গণ্য করে বাকী নামায সম্পন্ন করবে নামাযী। অতঃপর সালাম ফিরার পর দুই সিজদা করে পুনরায় সালাম ফিরবে। (মাজাল্লাতুল বুহূসিল ইসলামিয়্যাহ্‌ ২৭/৩৯) পক্ষান্তরে নামাযের সালাম ফিরার পর মনে পড়লে এক রাকআত নামায পড়ে ঐরুপ সিজদাহ করবে। নামায বেশী পড়লে : নামাযে ভুলবশত: ১ রাকআত বা ১টি সিজদাহ বা বৈঠক অতিরিক্ত হয়ে গেলে সালাম ফিরার পর ২টি সহু সিজদা করে পুনরায় সালাম ফিরবে নামাযী। একদা মহানবী (সাঃ) ৫ রাকআত নামায পড়ে সালাম ফিরলেন। লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, নামায কি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে? তিনি বললেন, “ব্যাপার কি?” লোকেরা বলল, ‘আপনি ৫ রাকআত নামায পড়লেন।’ এ কথা শুনে তিনি দুটি সিজদাহ করলেন। (অতঃপর সালাম ফিরলেন।) (বুখারী, মুসলিম,  সুনানু আরবাআহ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ্‌), মিশকাত ১০১৬নং) রাকআতে সন্দেহ্‌ হলে : নামায পড়তে পড়তে কয় রাকআত হল -এই সন্দেহ্‌ হলে যেদিকের সঠিকতার ধারণা অধিক প্রবল হবে, তার উপর ভিত্তি করে নামায শেষ করে সালাম ফিরার পর ২টি সিজদাহ করে পুনরায় সালাম ফিরবে। যদি দুই দিকের মধ্যে কোন দিকেরই সঠিকতার ধারণা প্রবল না হয়, তাহলে দৃঢ় প্রত্যয়ের উপর আমল করবে নামাযী। অর্থাৎ, কম সংখ্যার উপর ভিত্তি করলে নামায অসম্পূর্ণ হওয়ার আশংকা থাকবে না। সুতরাং সেই প্রত্যয়ের সাথে বাকী নামায সম্পন্ন করে সালাম ফিরার পূর্বে দুটি সিজদা-এ সাহও করে সালাম ফিরবে। মহানবী (সাঃ) বলেন, “যখন তোমাদের কেউ নামাযে সন্দেহ্‌ করে এবং বুঝতে পারে না যে, সে কয় রাকআত পড়েছে; ৪ রাকআত, না ৩ রাকআত? তখন তার উচিৎ, সন্দেহ্‌ দূর করে দিয়ে যা একীন (দৃঢ় প্রত্যয়) হয় তার উপর ভিত্তি করা। অতঃপর সালাম ফিরার পূর্বে দুটি সিজদাহ করা। এতে সে যদি ৫ রাকআত পড়ে থাকে তাহলে ঐ সিজদাহ মিলে তার নামায জোড় হয়ে যাবে। অন্যথা যদি পূর্ণ ৪ রাকআত পড়ে থাকে, তাহলে ঐ সিজদাহ শয়তানের জন্য লাঞ্ছনাকর হবে।” (আহমাদ, মুসনাদ, মুসলিম,  মিশকাত ১০১৫নং)   প্রথম তাশাহহুদ ত্যাগ করলে : নামাযী নামাযের প্রথম তাশাহহুদের বৈঠকে বসতে ভুলে গেলে যদি অর্ধেক উঠে খাড়া না হয়ে যায়, (হাঁটুদ্বয় মাটি ত্যাগ না করে) তাহলে মনে পড়লে পুনরায় বসে ‘আত্‌-তাহিয়্যাত’ পড়ে নেবে। আর এতে সাহও সিজদার প্রয়োজন নেই। অর্ধেকের বেশী উঠে খাড়া হয়ে গেলে এবং সম্পূর্ণ খাড়া না হয়ে মনে পড়লে পুনরায় বসে ‘আত্‌-তাহিয়্যাত’ পড়ে নেবে এবং শেষে সহু সিজদাহ করবে। কিন্তু যদি সম্পূর্ণ খাড়া হয়ে যায়, তাহলে আর পুনরায় না বসে বাকী নামায পূর্ণ করে সালাম ফিরার পূর্বে দুই সিজদা করে সালাম ফিরবে। অবৈধ জানার পরেও সম্পূর্ণ খাড়া হওয়ার পর পুনরায় বসে তাশাহহুদ পড়লে নামায বাতিল নয়। কিন্তু ক্বিরাআত শুরু করার পর বসলে নামায বাতিল গণ্য হবে। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৩/৫১১-৫১৩) একদা মহানবী (সাঃ) নামাযে প্রথম বৈঠকে না বসে উঠে পড়েন। লোকেরা তাসবীহ বললেও তিনি না বসে নামায শেষে দুই সিজদাহ করে সালাম ফিরেন। (বুখারী, মুসলিম,  সুনানু আরবাআহ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ্‌), মিশকাত ১০১৮নং) তিনি বলেন, “ইমাম ভুলে গিয়ে (তাশাহহুদ না পড়ে) সম্পূর্ণ খাড়া হয়ে গেলে তাকে ২টি সহু সিজদাহ করতে হবে। অবশ্য সম্পূর্ণ খাড়া না হলে সহু সিজদাহ করতে হবে না।” (ত্বাবারানী, মু’জাম জামে ৬২৩নং) প্রকাশ যে, ৪ রাকআত পড়ে ৫ রাকআতের জন্য ভুলে উঠে সম্পূর্ণ খাড়া হয়ে গেলেও স্মরণ হওয়া বা করানোর সাথে সাথে নামাযী বসে যাবে। কিন্তু প্রথম বৈঠকের জন্য স্মরণ হওয়া বা করানোর পরেও বসবে না।   সহু সিজদার আনুষঙ্গিক মাসায়েল : ভুলবশত: যে কোনও ওয়াজেব (যেমন রুকূ বা সিজদার তাসবীহ ইত্যাদি মূলেই) ত্যাগ করলে ঐ একই নিয়মে সিজদাহ করতে হবে। ইমাম সহু সিজদাহ করলে মুক্তাদী ভুল না করলেও তাঁর অনুসরণে তাঁর সাথে সিজদাহ করতে বাধ্য। ইমামের পশ্চাতে মুক্তাদী ভুল করলে যদি সে প্রথম রাকআত থেকেই ইমামের সাথে থাকে, তাহলে তাকে পৃথকভাবে সিজদাহ করতে হবে না। কারণ, তার এ ভুল ইমাম বহন করে নেবে। অবশ্য মসবূক (জামাআতে পিছিয়ে পড়া মুক্তাদী) হলে, ইমামের সালাম ফিরার পর তার বাকী নামায আদায় করতে উঠলে শেষে ভুল অনুসারে যথানিয়মে সিজদাহ করবে। কিন্তু যদি ইমাম সালাম ফিরার পর সিজদাহ করেন, তাহলে তাঁর সাথে মসবূকের সহু সিজদাহ করা সম্ভব নয়। কারণ সে সালাম ফিরতে পাবে না। তাই সে উঠে বাকী নামায আদায় করে শেষে যথানিয়মে একাকী সিজদাহ করে নেবে। অবশ্য সে যদি ইমামের ভুলের পর জামাআতে শামিল হয়ে থাকে, তাহলে সে ক্ষেত্রে তাকে সিজদাহ করতে হবে না। ইমাম ভুল করে এক রাকআত নামায বেশী পড়লে এক রাকআত ছুটে গেছে এমন মসবূক (পিছে পড়ে যাওয়া) নামাযী সেই রাকআত গণ্য করতে পারে না। সে রাকআত যেহেতু ইমামের বাতিল, সেহেতু তারও বাতিল। তাকে নিয়ম মত উঠে বাকী এক রাকআত কাযা পড়তে হবে। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ্‌, সঊদী উলামা-কমিটি ১/৩০৯) সতর্কতার বিষয় যে, ভুল করে নামাযের কোন রুক্‌ন ছুটে গেলে নামাযই হয় না। কোন ওয়াজেব ছুটে গেলে সিজদা-এ সাহও দ্বারা পূরণ হয়ে যায় এবং কোন সুন্নত ছুটে গেলে নামাযের কোন ক্ষতি হয় না তথা সহু সিজদারও প্রয়োজন হয় না। ক্বিরাআত করতে করতে ভুলে গেলে অথবা কাশিতে ধরলে যদি পরিমাণ মত পড়া হয়ে থাকে, তাহলে ইমাম তখনই রুকূতে চলে যাবেন। অবশ্য ক্বিরাআত ছোট মনে হলে অন্য সূরাও পড়তে পারেন। আটকে যাওয়ার পর সূরা ইখলাস পড়েও রুকূ যেতে পারেন। অবশ্য ক্বিরাআত ভুল পড়লে শেষে ঐ সূরা পড়তে হয় -এ কথা মনে করা ঠিক নয়।

সহু সিজদাহ সহু সিজদা বা সিজদা-এ সাহও (ভুলের সিজদাহ) ফরয বা নফল নামাযে ভুল করে কোন ওয়াজেব অংশ ত্যাগ করলে ঐ ভুলের খেসারত স্বরুপ এবং ভুল আনয়নকারী শয়তানের প্রতি চাবুক স্বরুপ দুটি সিজদাহ করতে হয়। ভুল অনুপাতে সিজদার আগে বা পরে হাদীসে বর্ণিত নিয়মানুসারে সিজদাহ করা জরুরী।   নামায কম পড়ে সালাম ফিরে দিলে : ভুলবশত: ১ বা ২ রাকআত নামায কম পড়ে সালাম ফিরে থাকলে যদি অল্প (৫/৭ মিনিট) সময়ের মধ্যে মনে পড়ে, তাহলে (মাঝে কথা বলে থাকলেও) নামাযী বাকী নামায সম্পন্ন করে সালাম ফিরার পর তকবীর ও তাসবীহ সহ্‌ দুটি সিজদাহ করে পুনরায় সালাম ফিরবে। এ ব্যাপারে যুল-য়্যাদাইনের হাদীস প্রসিদ্ধ। একদা মহানবী (সাঃ) যোহ্‌র কিংবা আসরের নামায ভুল করে ২ রাকআত পড়ে সালাম ফিরে উঠে অন্য জায়গায় বসলেন। লোকেরা ভাবল, নামায সংক্ষিপ্ত হয়ে গেছে। আবূ বাক্‌র, উমার কেউই ভয়ে তাঁর সাথে কথা বললেন না। অবশেষে যুল-য়্যাদাইন বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি ভুলে গেছেন, নাকি নামায কম হয়ে গেল?’ তিনি বললেন, “আমি ভুলিও নি, নামায কমও হয় নি।” অতঃপর সকলের উদ্দেশ্যে বললেন, “যুল-য়্যাদাইন যা বলছে তা কি ঠিক?” সকলে বলল, ‘জী হ্যাঁ।’ সুতরাং তিনি অগ্রসর হয়ে বাকী নামায পূরণ করে সালাম ফিরলেন। অতঃপর তকবীর দিয়ে অনুরুপ অথবা তার চেয়ে লম্বা সিজদা দিলেন। তারপর আবার তকবীর দিয়ে মাথা তুললেন। পুনরায় তকবীর দিয়ে অনুরুপ অথবা তার চেয়ে লম্বা আরো একটি সিজদাহ করলেন। তারপর আবার তকবীর দিয়ে মাথা তুলে সালাম ফিরলেন। (বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ১০১৭নং) অবশ্য দীর্ঘ সময়ের পর মনে পড়লে নূতন করে পুরো নামাযটাই পুনরায় ফিরিয়ে পড়তে হবে। নামাযের কোন রুক্‌ন (যেমন কিয়াম, রুকূ, সিজদাহ প্রভৃতি) ভুলে ত্যাগ করলে নামাযই হবে না। যে রাকআতের রুক্‌ন ত্যক্ত হবে, সে রাকআত বাতিল গণ্য হবে। ঐ ভুল নামাযের মধ্যে প্রথম রাকআতের রুক্‌ন ছেড়ে দ্বিতীয় রাকআতে মনে পড়লে, দ্বিতীয়কে প্রথম রাকআত গণ্য করে বাকী নামায সম্পন্ন করবে নামাযী। অতঃপর সালাম ফিরার পর দুই সিজদা করে পুনরায় সালাম ফিরবে। (মাজাল্লাতুল বুহূসিল ইসলামিয়্যাহ্‌ ২৭/৩৯) পক্ষান্তরে নামাযের সালাম ফিরার পর মনে পড়লে এক রাকআত নামায পড়ে ঐরুপ সিজদাহ করবে। নামায বেশী পড়লে : নামাযে ভুলবশত: ১ রাকআত বা ১টি সিজদাহ বা বৈঠক অতিরিক্ত হয়ে গেলে সালাম ফিরার পর ২টি সহু সিজদা করে পুনরায় সালাম ফিরবে নামাযী। একদা মহানবী (সাঃ) ৫ রাকআত নামায পড়ে সালাম ফিরলেন। লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, নামায কি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে? তিনি বললেন, “ব্যাপার কি?” লোকেরা বলল, ‘আপনি ৫ রাকআত নামায পড়লেন।’ এ কথা শুনে তিনি দুটি সিজদাহ করলেন। (অতঃপর সালাম ফিরলেন।) (বুখারী, মুসলিম,  সুনানু আরবাআহ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ্‌), মিশকাত ১০১৬নং) রাকআতে সন্দেহ্‌ হলে : নামায পড়তে পড়তে কয় রাকআত হল -এই সন্দেহ্‌ হলে যেদিকের সঠিকতার ধারণা অধিক প্রবল হবে, তার উপর ভিত্তি করে নামায শেষ করে সালাম ফিরার পর ২টি সিজদাহ করে পুনরায় সালাম ফিরবে। যদি দুই দিকের মধ্যে কোন দিকেরই সঠিকতার ধারণা প্রবল না হয়, তাহলে দৃঢ় প্রত্যয়ের উপর আমল করবে নামাযী। অর্থাৎ, কম সংখ্যার উপর ভিত্তি করলে নামায অসম্পূর্ণ হওয়ার আশংকা থাকবে না। সুতরাং সেই প্রত্যয়ের সাথে বাকী নামায সম্পন্ন করে সালাম ফিরার পূর্বে দুটি সিজদা-এ সাহও করে সালাম ফিরবে। মহানবী (সাঃ) বলেন, “যখন তোমাদের কেউ নামাযে সন্দেহ্‌ করে এবং বুঝতে পারে না যে, সে কয় রাকআত পড়েছে; ৪ রাকআত, না ৩ রাকআত? তখন তার উচিৎ, সন্দেহ্‌ দূর করে দিয়ে যা একীন (দৃঢ় প্রত্যয়) হয় তার উপর ভিত্তি করা। অতঃপর সালাম ফিরার পূর্বে দুটি সিজদাহ করা। এতে সে যদি ৫ রাকআত পড়ে থাকে তাহলে ঐ সিজদাহ মিলে তার নামায জোড় হয়ে যাবে। অন্যথা যদি পূর্ণ ৪ রাকআত পড়ে থাকে, তাহলে ঐ সিজদাহ শয়তানের জন্য লাঞ্ছনাকর হবে।” (আহমাদ, মুসনাদ, মুসলিম,  মিশকাত ১০১৫নং)   প্রথম তাশাহহুদ ত্যাগ করলে : নামাযী নামাযের প্রথম তাশাহহুদের বৈঠকে বসতে ভুলে গেলে যদি অর্ধেক উঠে খাড়া না হয়ে যায়, (হাঁটুদ্বয় মাটি ত্যাগ না করে) তাহলে মনে পড়লে পুনরায় বসে ‘আত্‌-তাহিয়্যাত’ পড়ে নেবে। আর এতে সাহও সিজদার প্রয়োজন নেই। অর্ধেকের বেশী উঠে খাড়া হয়ে গেলে এবং সম্পূর্ণ খাড়া না হয়ে মনে পড়লে পুনরায় বসে ‘আত্‌-তাহিয়্যাত’ পড়ে নেবে এবং শেষে সহু সিজদাহ করবে। কিন্তু যদি সম্পূর্ণ খাড়া হয়ে যায়, তাহলে আর পুনরায় না বসে বাকী নামায পূর্ণ করে সালাম ফিরার পূর্বে দুই সিজদা করে সালাম ফিরবে। অবৈধ জানার পরেও সম্পূর্ণ খাড়া হওয়ার পর পুনরায় বসে তাশাহহুদ পড়লে নামায বাতিল নয়। কিন্তু ক্বিরাআত শুরু করার পর বসলে নামায বাতিল গণ্য হবে। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৩/৫১১-৫১৩) একদা মহানবী (সাঃ) নামাযে প্রথম বৈঠকে না বসে উঠে পড়েন। লোকেরা তাসবীহ বললেও তিনি না বসে নামায শেষে দুই সিজদাহ করে সালাম ফিরেন। (বুখারী, মুসলিম,  সুনানু আরবাআহ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ্‌), মিশকাত ১০১৮নং) তিনি বলেন, “ইমাম ভুলে গিয়ে (তাশাহহুদ না পড়ে) সম্পূর্ণ খাড়া হয়ে গেলে তাকে ২টি সহু সিজদাহ করতে হবে। অবশ্য সম্পূর্ণ খাড়া না হলে সহু সিজদাহ করতে হবে না।” (ত্বাবারানী, মু’জাম জামে ৬২৩নং) প্রকাশ যে, ৪ রাকআত পড়ে ৫ রাকআতের জন্য ভুলে উঠে সম্পূর্ণ খাড়া হয়ে গেলেও স্মরণ হওয়া বা করানোর সাথে সাথে নামাযী বসে যাবে। কিন্তু প্রথম বৈঠকের জন্য স্মরণ হওয়া বা করানোর পরেও বসবে না।   সহু সিজদার আনুষঙ্গিক মাসায়েল : ভুলবশত: যে কোনও ওয়াজেব (যেমন রুকূ বা সিজদার তাসবীহ ইত্যাদি মূলেই) ত্যাগ করলে ঐ একই নিয়মে সিজদাহ করতে হবে। ইমাম সহু সিজদাহ করলে মুক্তাদী ভুল না করলেও তাঁর অনুসরণে তাঁর সাথে সিজদাহ করতে বাধ্য। ইমামের পশ্চাতে মুক্তাদী ভুল করলে যদি সে প্রথম রাকআত থেকেই ইমামের সাথে থাকে, তাহলে তাকে পৃথকভাবে সিজদাহ করতে হবে না। কারণ, তার এ ভুল ইমাম বহন করে নেবে। অবশ্য মসবূক (জামাআতে পিছিয়ে পড়া মুক্তাদী) হলে, ইমামের সালাম ফিরার পর তার বাকী নামায আদায় করতে উঠলে শেষে ভুল অনুসারে যথানিয়মে সিজদাহ করবে। কিন্তু যদি ইমাম সালাম ফিরার পর সিজদাহ করেন, তাহলে তাঁর সাথে মসবূকের সহু সিজদাহ করা সম্ভব নয়। কারণ সে সালাম ফিরতে পাবে না। তাই সে উঠে বাকী নামায আদায় করে শেষে যথানিয়মে একাকী সিজদাহ করে নেবে। অবশ্য সে যদি ইমামের ভুলের পর জামাআতে শামিল হয়ে থাকে, তাহলে সে ক্ষেত্রে তাকে সিজদাহ করতে হবে না। ইমাম ভুল করে এক রাকআত নামায বেশী পড়লে এক রাকআত ছুটে গেছে এমন মসবূক (পিছে পড়ে যাওয়া) নামাযী সেই রাকআত গণ্য করতে পারে না। সে রাকআত যেহেতু ইমামের বাতিল, সেহেতু তারও বাতিল। তাকে নিয়ম মত উঠে বাকী এক রাকআত কাযা পড়তে হবে। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ্‌, সঊদী উলামা-কমিটি ১/৩০৯) সতর্কতার বিষয় যে, ভুল করে নামাযের কোন রুক্‌ন ছুটে গেলে নামাযই হয় না। কোন ওয়াজেব ছুটে গেলে সিজদা-এ সাহও দ্বারা পূরণ হয়ে যায় এবং কোন সুন্নত ছুটে গেলে নামাযের কোন ক্ষতি হয় না তথা সহু সিজদারও প্রয়োজন হয় না। ক্বিরাআত করতে করতে ভুলে গেলে অথবা কাশিতে ধরলে যদি পরিমাণ মত পড়া হয়ে থাকে, তাহলে ইমাম তখনই রুকূতে চলে যাবেন। অবশ্য ক্বিরাআত ছোট মনে হলে অন্য সূরাও পড়তে পারেন। আটকে যাওয়ার পর সূরা ইখলাস পড়েও রুকূ যেতে পারেন। অবশ্য ক্বিরাআত ভুল পড়লে শেষে ঐ সূরা পড়তে হয় -এ কথা মনে করা ঠিক নয়।

সহু সিজদাহ

সহু সিজদা বা সিজদা-এ সাহও (ভুলের সিজদাহ) ফরয বা নফল নামাযে ভুল করে কোন ওয়াজেব অংশ ত্যাগ করলে ঐ ভুলের খেসারত স্বরুপ এবং ভুল আনয়নকারী শয়তানের প্রতি চাবুক স্বরুপ দুটি সিজদাহ করতে হয়। ভুল অনুপাতে সিজদার আগে বা পরে হাদীসে বর্ণিত নিয়মানুসারে সিজদাহ করা জরুরী।

নামায কম পড়ে সালাম ফিরে দিলে :

ভুলবশত: ১ বা ২ রাকআত নামায কম পড়ে সালাম ফিরে থাকলে যদি অল্প (৫/৭ মিনিট) সময়ের মধ্যে মনে পড়ে, তাহলে (মাঝে কথা বলে থাকলেও) নামাযী বাকী নামায সম্পন্ন করে সালাম ফিরার পর তকবীর ও তাসবীহ সহ্‌ দুটি সিজদাহ করে পুনরায় সালাম ফিরবে।

এ ব্যাপারে যুল-য়্যাদাইনের হাদীস প্রসিদ্ধ। একদা মহানবী (সাঃ) যোহ্‌র কিংবা আসরের নামায ভুল করে ২ রাকআত পড়ে সালাম ফিরে উঠে অন্য জায়গায় বসলেন। লোকেরা ভাবল, নামায সংক্ষিপ্ত হয়ে গেছে। আবূ বাক্‌র, উমার কেউই ভয়ে তাঁর সাথে কথা বললেন না। অবশেষে যুল-য়্যাদাইন বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি ভুলে গেছেন, নাকি নামায কম হয়ে গেল?’ তিনি বললেন, “আমি ভুলিও নি, নামায কমও হয় নি।” অতঃপর সকলের উদ্দেশ্যে বললেন, “যুল-য়্যাদাইন যা বলছে তা কি ঠিক?” সকলে বলল, ‘জী হ্যাঁ।’ সুতরাং তিনি অগ্রসর হয়ে বাকী নামায পূরণ করে সালাম ফিরলেন। অতঃপর তকবীর দিয়ে অনুরুপ অথবা তার চেয়ে লম্বা সিজদা দিলেন। তারপর আবার তকবীর দিয়ে মাথা তুললেন। পুনরায় তকবীর দিয়ে অনুরুপ অথবা তার চেয়ে লম্বা আরো একটি সিজদাহ করলেন। তারপর আবার তকবীর দিয়ে মাথা তুলে সালাম ফিরলেন। (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ১০১৭নং)

অবশ্য দীর্ঘ সময়ের পর মনে পড়লে নূতন করে পুরো নামাযটাই পুনরায় ফিরিয়ে পড়তে হবে।

নামাযের কোন রুক্‌ন (যেমন কিয়াম, রুকূ, সিজদাহ প্রভৃতি) ভুলে ত্যাগ করলে নামাযই হবে না। যে রাকআতের রুক্‌ন ত্যক্ত হবে, সে রাকআত বাতিল গণ্য হবে। ঐ ভুল নামাযের মধ্যে প্রথম রাকআতের রুক্‌ন ছেড়ে দ্বিতীয় রাকআতে মনে পড়লে, দ্বিতীয়কে প্রথম রাকআত গণ্য করে বাকী নামায সম্পন্ন করবে নামাযী। অতঃপর সালাম ফিরার পর দুই সিজদা করে পুনরায় সালাম ফিরবে। (মাজাল্লাতুল বুহূসিল ইসলামিয়্যাহ্‌ ২৭/৩৯) পক্ষান্তরে নামাযের সালাম ফিরার পর মনে পড়লে এক রাকআত নামায পড়ে ঐরুপ সিজদাহ করবে।

নামায বেশী পড়লে :

নামাযে ভুলবশত: ১ রাকআত বা ১টি সিজদাহ বা বৈঠক অতিরিক্ত হয়ে গেলে সালাম ফিরার পর ২টি সহু সিজদা করে পুনরায় সালাম ফিরবে নামাযী।

একদা মহানবী (সাঃ) ৫ রাকআত নামায পড়ে সালাম ফিরলেন। লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, নামায কি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে? তিনি বললেন, “ব্যাপার কি?” লোকেরা বলল, ‘আপনি ৫ রাকআত নামায পড়লেন।’ এ কথা শুনে তিনি দুটি সিজদাহ করলেন। (অতঃপর সালাম ফিরলেন।) (বুখারী, মুসলিম, সুনানু আরবাআহ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ্‌), মিশকাত ১০১৬নং)

রাকআতে সন্দেহ্‌ হলে :

নামায পড়তে পড়তে কয় রাকআত হল -এই সন্দেহ্‌ হলে যেদিকের সঠিকতার ধারণা অধিক প্রবল হবে, তার উপর ভিত্তি করে নামায শেষ করে সালাম ফিরার পর ২টি সিজদাহ করে পুনরায় সালাম ফিরবে।

যদি দুই দিকের মধ্যে কোন দিকেরই সঠিকতার ধারণা প্রবল না হয়, তাহলে দৃঢ় প্রত্যয়ের উপর আমল করবে নামাযী। অর্থাৎ, কম সংখ্যার উপর ভিত্তি করলে নামায অসম্পূর্ণ হওয়ার আশংকা থাকবে না। সুতরাং সেই প্রত্যয়ের সাথে বাকী নামায সম্পন্ন করে সালাম ফিরার পূর্বে দুটি সিজদা-এ সাহও করে সালাম ফিরবে।

মহানবী (সাঃ) বলেন, “যখন তোমাদের কেউ নামাযে সন্দেহ্‌ করে এবং বুঝতে পারে না যে, সে কয় রাকআত পড়েছে; ৪ রাকআত, না ৩ রাকআত? তখন তার উচিৎ, সন্দেহ্‌ দূর করে দিয়ে যা একীন (দৃঢ় প্রত্যয়) হয় তার উপর ভিত্তি করা। অতঃপর সালাম ফিরার পূর্বে দুটি সিজদাহ করা। এতে সে যদি ৫ রাকআত পড়ে থাকে তাহলে ঐ সিজদাহ মিলে তার নামায জোড় হয়ে যাবে। অন্যথা যদি পূর্ণ ৪ রাকআত পড়ে থাকে, তাহলে ঐ সিজদাহ শয়তানের জন্য লাঞ্ছনাকর হবে।” (আহমাদ, মুসনাদ, মুসলিম, মিশকাত ১০১৫নং)

প্রথম তাশাহহুদ ত্যাগ করলে :

নামাযী নামাযের প্রথম তাশাহহুদের বৈঠকে বসতে ভুলে গেলে যদি অর্ধেক উঠে খাড়া না হয়ে যায়, (হাঁটুদ্বয় মাটি ত্যাগ না করে) তাহলে মনে পড়লে পুনরায় বসে ‘আত্‌-তাহিয়্যাত’ পড়ে নেবে। আর এতে সাহও সিজদার প্রয়োজন নেই। অর্ধেকের বেশী উঠে খাড়া হয়ে গেলে এবং সম্পূর্ণ খাড়া না হয়ে মনে পড়লে পুনরায় বসে ‘আত্‌-তাহিয়্যাত’ পড়ে নেবে এবং শেষে সহু সিজদাহ করবে। কিন্তু যদি সম্পূর্ণ খাড়া হয়ে যায়, তাহলে আর পুনরায় না বসে বাকী নামায পূর্ণ করে সালাম ফিরার পূর্বে দুই সিজদা করে সালাম ফিরবে।

অবৈধ জানার পরেও সম্পূর্ণ খাড়া হওয়ার পর পুনরায় বসে তাশাহহুদ পড়লে নামায বাতিল নয়। কিন্তু ক্বিরাআত শুরু করার পর বসলে নামায বাতিল গণ্য হবে। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৩/৫১১-৫১৩)

একদা মহানবী (সাঃ) নামাযে প্রথম বৈঠকে না বসে উঠে পড়েন। লোকেরা তাসবীহ বললেও তিনি না বসে নামায শেষে দুই সিজদাহ করে সালাম ফিরেন। (বুখারী, মুসলিম, সুনানু আরবাআহ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ্‌), মিশকাত ১০১৮নং)

তিনি বলেন, “ইমাম ভুলে গিয়ে (তাশাহহুদ না পড়ে) সম্পূর্ণ খাড়া হয়ে গেলে তাকে ২টি সহু সিজদাহ করতে হবে। অবশ্য সম্পূর্ণ খাড়া না হলে সহু সিজদাহ করতে হবে না।” (ত্বাবারানী, মু’জাম জামে ৬২৩নং)

প্রকাশ যে, ৪ রাকআত পড়ে ৫ রাকআতের জন্য ভুলে উঠে সম্পূর্ণ খাড়া হয়ে গেলেও স্মরণ হওয়া বা করানোর সাথে সাথে নামাযী বসে যাবে। কিন্তু প্রথম বৈঠকের জন্য স্মরণ হওয়া বা করানোর পরেও বসবে না।

সহু সিজদার আনুষঙ্গিক মাসায়েল :

ভুলবশত: যে কোনও ওয়াজেব (যেমন রুকূ বা সিজদার তাসবীহ ইত্যাদি মূলেই) ত্যাগ করলে ঐ একই নিয়মে সিজদাহ করতে হবে।

ইমাম সহু সিজদাহ করলে মুক্তাদী ভুল না করলেও তাঁর অনুসরণে তাঁর সাথে সিজদাহ করতে বাধ্য। ইমামের পশ্চাতে মুক্তাদী ভুল করলে যদি সে প্রথম রাকআত থেকেই ইমামের সাথে থাকে, তাহলে তাকে পৃথকভাবে সিজদাহ করতে হবে না। কারণ, তার এ ভুল ইমাম বহন করে নেবে। অবশ্য মসবূক (জামাআতে পিছিয়ে পড়া মুক্তাদী) হলে, ইমামের সালাম ফিরার পর তার বাকী নামায আদায় করতে উঠলে শেষে ভুল অনুসারে যথানিয়মে সিজদাহ করবে।

কিন্তু যদি ইমাম সালাম ফিরার পর সিজদাহ করেন, তাহলে তাঁর সাথে মসবূকের সহু সিজদাহ করা সম্ভব নয়। কারণ সে সালাম ফিরতে পাবে না। তাই সে উঠে বাকী নামায আদায় করে শেষে যথানিয়মে একাকী সিজদাহ করে নেবে। অবশ্য সে যদি ইমামের ভুলের পর জামাআতে শামিল হয়ে থাকে, তাহলে সে ক্ষেত্রে তাকে সিজদাহ করতে হবে না।

ইমাম ভুল করে এক রাকআত নামায বেশী পড়লে এক রাকআত ছুটে গেছে এমন মসবূক (পিছে পড়ে যাওয়া) নামাযী সেই রাকআত গণ্য করতে পারে না। সে রাকআত যেহেতু ইমামের বাতিল, সেহেতু তারও বাতিল। তাকে নিয়ম মত উঠে বাকী এক রাকআত কাযা পড়তে হবে। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ্‌, সঊদী উলামা-কমিটি ১/৩০৯)

সতর্কতার বিষয় যে, ভুল করে নামাযের কোন রুক্‌ন ছুটে গেলে নামাযই হয় না। কোন ওয়াজেব ছুটে গেলে সিজদা-এ সাহও দ্বারা পূরণ হয়ে যায় এবং কোন সুন্নত ছুটে গেলে নামাযের কোন ক্ষতি হয় না তথা সহু সিজদারও প্রয়োজন হয় না।

ক্বিরাআত করতে করতে ভুলে গেলে অথবা কাশিতে ধরলে যদি পরিমাণ মত পড়া হয়ে থাকে, তাহলে ইমাম তখনই রুকূতে চলে যাবেন। অবশ্য ক্বিরাআত ছোট মনে হলে অন্য সূরাও পড়তে পারেন। আটকে যাওয়ার পর সূরা ইখলাস পড়েও রুকূ যেতে পারেন। অবশ্য ক্বিরাআত ভুল পড়লে শেষে ঐ সূরা পড়তে হয় -এ কথা মনে করা ঠিক নয়।

দাম্পত্য ও অধিকার

‘‘এ জগতে যত ফুটিয়াছে ফুল, ফলিয়াছে যত ফল,

নারী দিল তাহে রূপ-রস-মধু-গন্ধ সুনির্মল।

কোনো কালে একা হয়নি কো জয়ী পুরুষের তরবারী,

প্রেরণা দিয়াছে, শক্তি দিয়াছে বিজয়-লক্ষমী নারী।’’

নারী পুরুষের অর্ধাঙ্গিনী, সমাজের সচল জোড়া চাকার অন্যতম। পরিবারের ভিত্তি ও শিক্ষার প্রথম স্কুল এই নারী। প্রত্যেক মহান পুরুষের পশ্চাতে কোন না কোন নারী লুক্কায়িত থাকে অথবা পুরুষের মহত্বের পিছনে এই নারীর হাত অবশ্যই থাকে।

দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই উভয়ের মুখাপেক্ষী। প্রত্যেকের সব-সব অধিকার রয়েছে অপরের উপর। ইসলামে এই হল ভারসাম্যমূলক পারস্পরিক সহায়তাভিত্তিক প্রেম-প্রীতির সুন্দরতম জীবন ব্যবস্থা।

মানুষ হিসাবে সমান অধিকার সকলের। কিন্তু তাহলেও সমাজে সুশৃঙ্খলার জন্য নেতা ও মান্যব্যক্তির বিশেষ প্রয়োজন। নচেৎ স্বাই ‘মোড়ল’ হলে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে না। নারী-পুরুষের ভূমিকা সমান হলেও নারীর উপর পুরুষের কর্তৃত্ব রয়েছে। নারী জাতিকে অপেক্ষাকৃত দুর্বলরূপে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর ঘোষণাঃ-

هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ

অর্থাৎ, ‘‘তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক।’’[1]

﴿وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ﴾

‘‘নারীদের তেমনি ন্যায়সংগত অধিকার আছে, যেমন আছে তাদের উপর পুরুষদের। কিন্তু নারীদের উপর পুরুষদের কিছু মর্যাদা আছে।’’[2]

﴿الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ﴾

‘‘পুরুষ নারীর কর্তা। কারণ আল্লাহ তাদের এককে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং এ শ্রেষ্ঠত্ব এজন্য যে, পুরুষ (তাদের জন্য) ধন ব্যয় করে থাকে।’’[3]

সুতরাং নারী পুরুষদের নেত্রী হতে পারে না। নেতার অর্ধাঙ্গিনী, রানী বা রাজমাতা হয়েই তো নারীর বিরাট গর্ব।

‘অতএব জাগো জাগো গো ভগিনী,

হও বীরজায়া বীর-প্রসবিনী।’

ইবাদতেও স্বামী স্ত্রীর ইমাম। স্বামী অশিক্ষিত এবং স্ত্রী পাকা হাফেয-কবারী হলেও ইমামতি স্বামীই করবে।[4]

পরন্তু স্ত্রী স্বামীর পশ্চাতে দাঁড়িয়ে (জামাআত করে) নামাজ পড়বে।[5]

স্বামীর উপর স্ত্রীর অনস্বীকার্য অধিকারঃ-

স্বামীর উপর স্ত্রীর বহু অধিকার আছে, যা পালন করা স্বামীর পক্ষে ওয়াজেব। সেই সমস্ত অধিকার নিম্নরূপঃ-

১- আর্থিক অধিকারঃ-

ক- স্বামী বিবাহ-বন্ধনের সময় বা পূর্বে যে মোহর স্ত্রীকে প্রদান করবে বলে অঙ্গীকার করেছে তা পূর্ণভাবে আদায় করা এবং তা হতে স্ত্রীকে বঞ্চিতা করার জন্য কোন প্রকার টাল-বাহানা না করা। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ فَرِيضَةً﴾

‘‘সুতরাং তাদেরকে তাদের ফরয মোহর অর্পণ কর।’’[6]

খ- আর্থিক অবস্থানুযায়ী স্ত্রীর ভরণ-পোষণ করা। নিজে যা খাবে তাকে খাওয়াবে এবং যা পরিধান করবে ঠিক সেই সমমানের লেবাস তাকেও পরিধান করাবে।[7]

অবশ্য নেকীর নিয়তে এই ব্যয়িত অর্থ স্বামীর জন্য সদকার সমতুল্য হবে।[8]

অন্যান্য সকল ব্যয়ের চেয়ে স্ত্রীর পশ্চাতে ব্যয়ের নেকীই অধিক।[9]

এমন কি তাকে এক গ্লাস পানি পান করালেও তাতে নেকী লাভ হয় স্বামীর।[10]

২- ব্যবহারিক অধিকারঃ-

ক- স্ত্রীর সাথে সদ্ভাবে বাস করা ওয়াজেব। দুই-একটি গুণ অপছন্দ হলেও সদাচার ও সদ্ব্যবহার বন্ধ করা মোটেই উচিৎ নয়। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ فَإِنْ كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئاً وَيَجْعَلَ اللهُ فِيهِ خَيْراً كَثِيراً﴾

‘‘আর তাদের সাথে সদ্ভাবে জীবন-যাপন কর। তোমরা যদি তাদেরকে ঘৃণা কর, তবে এমনও হতে পারে যে, তোমরা যা ঘৃণা করছ, আল্লাহ তার মধ্যেই প্রভূত কল্যাণ নিহিত রেখেছেন।’’[11]

সুতরাং সদ্ভাব ফুটিয়ে তুলতে স্বামী সর্বদা নিজের প্রেমকে স্ত্রীর মনের সিংহাসনে আসীন করে রাখবে। তাকে সুন্দর প্রেমময় নামে ডাকবে, সে যা চায় তাই তাকে সাধ্যমত প্রদান করবে। হৃদয়ের বিনিময়ে হৃদয় এবং শক্তি নয় বরং ভক্তি দ্বারাই সাথীর মন জয় করা কর্তব্য।

স্ত্রীর মন পেতে হলে আগে প্রেম দিতে হবে। ‘একটি পাখীকে ধরতে হলে তাকে ভয় দেখানো চলে না। তাকে আদর ক’রে, ভালোবাসা দিয়ে কাছে আনতে হয়। অতঃপর একদিন সে আপনিই পোষ মেনে নেয়। কারণ, স্নেহ ও ভালোবাসা বড়ই পবিত্র জিনিস।’

স্ত্রীর নিকট তার মাতৃলয়ের প্রশংসা করবে। সময় মত তাকে সেখানে নিয়ে যাবে বা যেতে-আসতে দেবে।

কোন কারণে স্ত্রী রেগে গেলে ধৈর্য ধরবে। মুর্খামি করলে সহ্য করে নেবে। যেহেতু পুরুষ অপেক্ষা নারীর আবেগ ও প্রতিক্রিয়া-প্রবণতা অধিক এবং পুরুষের চেয়ে নারীর ধৈর্য বহুলাংশে কম। সুতরাং দয়া করেই হোক অথবা ভালোবাসার খাতিরেই হোক তার ভুল ক্ষমা করবে। ‘যত ভুল হবে ফুল ভালোবাসাতে।’ তার ছোটখাট ত্রুটির প্রতি ভ্রূক্ষেপ করবে না। অনিচ্ছাকৃত ভুলের উপর তাকে চোখ রাঙাবে না। অন্যায় করলে অবশ্য শাসন করার অধিকার তার আছে। তবে-

‘শাসন করা তারই সাজে সোহাগ করে যে,

ত্রুটির উপর প্রীতির সাথে সহন ধরে সে।’

তাছাড়া ভুল হওয়া মানুষের প্রকৃতিগত সবভাব। ভুল-ত্রুটি দিয়ে সকলেরই জীবন গড়া। কিন্তু সেই ভুলকে প্রাধান্য দিয়ে বাকী জীবনে অশান্তি ডেকে আনার কোন যুক্তি নেই।

প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন,

اسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ فَإِنَّ الْمَرْأَةَ خُلِقَتْ مِنْ ضِلَعٍ وَإِنَّ أَعْوَجَ شَيْءٍ فِي الضِّلَعِ أَعْلَاهُ فَإِنْ ذَهَبْتَ تُقِيمُهُ كَسَرْتَهُ وَإِنْ تَرَكْتَهُ لَمْ يَزَلْ أَعْوَجَ فَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ.

‘‘তোমরা নারীদের জন্য হিতাকাঙক্ষী হও। কারণ, নারী জাতি বঙ্কিম পঞ্জরাস্থি হতে সৃষ্ট। আর তার উপরের অংশ বেশী বঙ্কিম (সুতরাং তাদের প্রকৃতিই বঙ্কিম ও টেরা।) অতএব তুমি সোজা করতে গেলে হয়তো তা ভেঙ্গেই ফেলবে। আর নিজের অবস্থায় উপেক্ষা করলে বাঁকা থেকেই যাবে। অতএব তাদের জন্য মঙ্গলকামী হও।’’[12]

সুতরাং স্ত্রীর নিকট থেকে যত বড় আদর্শের ব্যবহারই আশা করা যাক না কেন, তার মধ্যে কিছু না কিছু টেরামি থাকবেই। সম্পূর্ণভাবে স্বামীর মনে অঙ্কিত সরল পথে সে চলতে চাইবে না। সোজা করে চালাতে গেলে হাড় ভাঙ্গার মত ভেঙ্গে যাবে; অর্থাৎ মন ভেঙ্গে দাম্পত্য ভেঙে (তালাক হয়ে) যাবে।[13]

প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন,

لاَ يَفْرَكْ مُؤْمِنٌ مُؤْمِنَةً إِنْ كَرِهَ مِنْهَا خُلُقًا رَضِىَ مِنْهَا آخَرَ.

‘‘কোন মু’মিন পুরুষ যেন কোন মু’মিন স্ত্রীকে ঘৃণা না বাসে। কারণ সে তার একটা গুণ অপছন্দ করলেও অপর আর একটা গুণে মুগ্ধ হবে।’’[14]

সুতরাং পূর্ণিমার সুদর্শন চন্দ্রিমারও কলঙ্ক আছে। সুদর্শন সৌরভময় গোলাপের সাথেও কণ্টক আছে। গুণবতীর মধ্যেও কিছু ত্রুটি থেকে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।

কথিত আছে যে, একদা এক ব্যক্তি তার ঠোঁটকাটা স্ত্রীর অভিযোগ নিয়ে হযরত উমারের নিকট উপস্থিত হয়ে বাড়ির দরজায় তাঁকে ডাক দিয়ে অপেক্ষা করতেই শুনতে পেল হযরত ওমরের স্ত্রীও তাঁর সাথে কথা-কাটাকাটি করছেন এবং তিনি নীরব থেকে যাচ্ছেন। লোকটি আর কোন কথা না বলে প্রস্থান করতে করতে মনে মনে বলতে লাগল, ‘আমীরুল মু’মিনীনের যদি এই অবস্থা হয় অথচ তিনি খলীফা, কত কড়া মানুষ, তাহলে আমার আর কি হতে পারে?’ হযরত উমার দরজায় এসে লোকটিকে যেতে দেখে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমার প্রয়োজন না বলেই তুমি চলে যাচ্ছ কেন?’ লোকটি বলল, ‘যার জন্য এসেছিলাম তার জবাব আমি পেয়ে গেছি হুজুর! আমার স্ত্রী আমার সাথে লম্বা জিভে কথা বলে। তারই অভিযোগ নিয়ে আপনার কাছে এসেছিলাম। কিন্তু দেখছি আপনারও আমার মতই অবস্থা?’ উমার বললেন, ‘আমি সহ্য করে নিই ভাই! কারণ, আমার উপর তার অনেক অধিকার আছে; সে আমার খানা পাক করে, রুটি তৈরী করে, কাপড় ধুয়ে দেয়, আমার সন্তানকে স্তনদুগ্ধ পান করিয়ে লালন-পালন করে, আমার হৃদয়ে শান্তি আনে, ইত্যাদি। তাই একটু সহ্য করে নিই।’ লোকটি বলল, ‘আমীরুল মু’মিনীন! আমার স্ত্রীও তো অনুরূপ।’ উমার বললেন, ‘তবে সহ্য করে নাও গে ভাই! সে তো সামান্যক্ষণই রাগান্বিতা থাকে।’

সুতরাং সুন্দর সৌরভময় গোলাপ তুলে তার সুঘ্রাণ নিতে হলে দু-একটা কাঁটা হাতে-গায়ে ফুঁড়বে বৈ কি? কাঁটার জন্য কেউ কি প্রস্ফুটিত গোলাপকে ঘৃণা করে? নারী গোলাপের মত সুন্দর ও কোমল বলেই কাঁটার ন্যায় কথা দ্বারা নিজেকে রক্ষা করতে চায়।[15]

পক্ষান্তরে রাগের মাথায় একজন পুরুষকে ক্ষান্ত করতে হলে তার বিবেক-বুদ্ধির খেই ধরে, একজন নারীকে ক্ষান্ত করতে হলে তার হৃদয় ও আবেগের খেই ধরে এবং সমাজকে ক্ষান্ত করতে হলে তার প্রকৃতিকে জাগ্রত করে সফল হওয়া যায়। তাছাড়া ‘স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে কোন লাভও নেই; আঘাত করলেও কষ্ট, আর আঘাত পেলেও কষ্ট।’

স্ত্রী কোন ভাল কথা বললে উপেক্ষার কানে না শুনে খেয়ালের সাথে শোনা, কোন উত্তম রায়-পরামর্শ দিলে তা সাদরে গ্রহণ করাও সদ্ভাবে বাস করার শামিল।

যেমন, তার সাথে হাসি-তামাসা করা, সব সময় পৌরুষ মেজাজ না রেখে কোন কোন সময় তার সাথে বৈধ খেলা করা, শরীরচর্চা বা ব্যায়ামাদি করা ইত্যাদিও স্বামীর কর্তব্য। প্রিয় নবী (সাঃ) স্ত্রী আয়েশার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করে একবার হেরেছিলেন ও পরে আর একবারে তিনি জিতেছিলেন।[16]

তদনুরূপ স্ত্রীকে কোন বৈধ খেলা দেখতে সুযোগ দেওয়াও দূষণীয় নয়।[17] তবে এসব কিছু হবে একান্ত নির্জনে, পর্দা-সীমার ভিতরে।

স্ত্রী ভালো খাবার তৈরী করলে, সাজগোজ করলে বা কোন ভালো কাজ করলে তার প্রশংসা করবে স্বামী। এমনকি স্ত্রীর হৃদয়কে লুটে নেওয়ার জন্য ইসলাম মিথ্যা বলাকেও বৈধ করেছে।[18] তবে যে মিথ্যা তার অধিকার হরণ করে ও তাকে ধোঁকা দেয়, সে মিথ্যা নয়।

সদ্ভাবে বাস করতে চাইলে স্বামী স্ত্রীর গৃহস্থালি কর্মেও সহায়তা করবে। এতে স্ত্রীর মন স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা ও প্রেমে আরো পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে। প্রিয় নবী (সাঃ); যিনি দুজাহানের বাদশাহ তিনিও সংসারের কাজ করতেন। স্ত্রীদের সহায়তা করতেন, অতঃপর নামাযের সময় হলেই মসজিদের দিকে রওনা হতেন।[19]

তিনি অন্যান্য মানুষের মত একজন মানুষ ছিলেন; সবহস্তে কাপড় পরিষ্কার করতেন, দুধ দোয়াতেন এবং নিজের খিদমত নিজেই করতেন।[20]

স্বামী যেমন স্ত্রীকে সুন্দরী দেখতে পছন্দ করে তেমনি স্ত্রীও স্বামীকে সুন্দর ও সুসজ্জিত দেখতে ভালোবাসে। এটাই হল মানুষের প্রকৃতি। সুতরাং স্বামীরও উচিৎ, স্ত্রীকে খোশ করার জন্য সাজগোজ করা। যাতে তারও নজর অন্য পুরুষের ( স্বামীর কোন পরিচ্ছন্ন আত্মীয়ের) প্রতি আকৃষ্ট না হয়। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীর জন্য সাজসজ্জা করি, যেমন সে আমার জন্য সাজসজ্জা করে।’ আর আল্লাহ তাআ’লা বলেন,

﴿وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ﴾

‘‘নারীদের তেমনি ন্যায়সঙ্গত অধিকার আছে, যেমন তাদের উপর আছে পুরুষদের–।’’[21]

বলাই বাহুল্য যে, এই অবহেলার ফলেই বহু আধুনিকা স্বামী ত্যাগ করে অথবা অন্যাসক্তা হয়ে পড়ে।

খলীফা উমার <-এর নিকট একটি লোক উষ্কখুষ্ক ও লেলাখেপা বেশে উপস্থিত হল। সঙ্গে ছিল তার স্ত্রী। স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তার নিকট থেকে বিবাহ বিচ্ছেদ প্রার্থনা করল। দূরদর্শী খলীফা সব কিছু বুঝতে পারলেন। তিনি তার স্বামীকে পরিচ্ছন্নতা গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দিলেন। অতঃপর সে তার চুল, নখ ইত্যাদি কেটে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে ফিরে এলে তিনি তাকে তার স্ত্রীর নিকট যেতে আদেশ করলেন। স্ত্রী পরপুরুষ ভেবে তাকে দেখে সরে যাচ্ছিল। পরক্ষণে তাকে চিনতে পেরে তালাকের আবেদন প্রত্যাহার করে নিল!

এ ঘটনার পর খলীফা উমার < বললেন, ‘তোমরা তোমাদের স্ত্রীর জন্য সাজসজ্জা কর। আল্লাহর কসম! তোমরা যেমন তোমাদের স্ত্রীগণের সাজসজ্জা পছন্দ কর; অনুরূপ তারাও তোমাদের সাজসজ্জা পছন্দ করে।[22]

স্ত্রীর এঁটো খাওয়া অনেক স্বামীর নিকট অপছন্দনীয়। কিন্তু শরীয়তে তা স্বীকৃত। রসূল (সাঃ) পান-পাত্রের ঠিক সেই স্থানে মুখ রেখে পানি পান করতেন, যে স্থানে হযরত আয়েশা (রাঃ) মুখ লাগিয়ে পূর্বে পান করতেন। যে হাড় থেকে হযরত আয়েশা গোশ্ত ছাড়িয়ে খেতেন, সেই হাড় নিয়েই ঠিক সেই জায়গাতেই মুখ রেখে আল্লাহর নবী (সাঃ) গোশ্ত ছাড়িয়ে খেতেন।[23]

তাছাড়া স্ত্রীর রসনা ও ওষ্ঠাধর চোষণের ইঙ্গিতও শরীয়তে বর্তমান।[24]

এমন প্রেমের প্রতিমার এঁটো এবং চুম্বন তারাই খেতে চায়না, যারা একান্ত প্রেমহীন নীরস পুরুষ অথবা যাদের স্ত্রী অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা থাকে তারা অথবা যাদের নিকট কেবল লৈঙ্গিক যৌনসম্ভোগই মূল তৃপ্তি।

স্ত্রীকে বিভিন্ন উপলক্ষে (যেমন ঈদ, কুরবানী প্রভৃতিতে) ছোটখাট উপহার দেওয়াও সদ্ভাবে বাস করার পর্যায়ভুক্ত। এতেও স্ত্রীর হৃদয় চিরবন্দী হয় স্বামীর হৃদয় জেলে।

মোট কথা স্ত্রীর সাথে বাস তো প্রেমিকার সাথে বাস। সর্বতোভাবে তাকে খোশ রাখা মানুষের প্রকৃতিগত সবভাব। প্রেমিককে কষ্ট দেওয়া কোন মুসলিম, কোন মানুষের, বরং কোন পশুরও কাজ নয়।

প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন,

خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لأَهْلِهِ وَأَنَا خَيْرُكُمْ لأَهْلِى.

‘‘তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি সেই, যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম। আর আমি নিজ স্ত্রীর নিকট তোমাদের সর্বোত্তম ব্যক্তি।’’[25]

أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا وَخِيَارُهُمْ خِيَارُهُمْ لِنِسَائِهِمْ.

‘‘সবার চেয়ে পূর্ণ ঈমানদার ব্যক্তি সে, যার চরিত্র স্বার চেয়ে সুন্দর এবং ওদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম ব্যক্তি সেই, যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম।’’(আহমদ)

وَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا فَإِنَّمَا هُنَّ عَوَانٍ عِنْدَكُمْ.

‘‘সাবধান! তোমরা নারী (স্ত্রী)দের জন্য মঙ্গলকামী হও। যেহেতু তারা তো তোমাদের হাতে বন্দিনী।’’[26]

اتَّقُوا اللَّهَ فِى النِّسَاءِ فَإِنَّكُمْ أَخَذْتُمُوهُنَّ بِأَمَانَةِ اللَّهِ وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللَّهِ.

‘‘তাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। যেহেতু তাদেরকে তোমরা আল্লাহর অঙ্গীকারে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে বরণ করেছ এবং আল্লাহর বাণীর মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থান হালাল করে নিয়েছ।’’[27]

অবশ্যই স্ত্রীর যথার্থ মর্যাদা ও অধিকার প্রদান করার নাম ‘আঁচল ধরা’ বা ‘বউ পাগলামি’ নয়।

খ- স্বামীর উপর স্ত্রীর অন্যতম অধিকার এই যে, বিপদ আপদ থেকে স্বামী তাকে রক্ষা করবে। স্ত্রীকে রক্ষা করতে গিয়ে যদি স্বামী শত্রুর হাতে মারা পরে, তবে সে শহীদের দর্জা পায়।[28]

অনুরূপ স্ত্রীকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করাও তার এক বড় দায়িত্ব। তাকে দ্বীন, আকীদা, পবিত্রতা, ইবাদত, হারাম, হালাল, অধিকার ও ব্যবহার প্রভৃতি শিক্ষা দিয়ে সৎকাজ করতে আদেশ ও অসৎকাজে বাধা দিয়ে আল্লাহর আযাব থেকে রেহাই দেবে।

মহান আল্লাহ বলেন,

﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَاراً وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ﴾

‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং নিজ পরিবারকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও; যার ইন্ধন মানুষ ও পাথর –।’’[29]

গ- স্ত্রীর ধর্ম, দেহ, যৌবন ও মর্যাদায় ঈর্ষাবান হওয়া এবং এ সবে কোন প্রকার কলঙ্ক লাগতে না দেওয়া স্বামীর উপর তার এক অধিকার। সুতরাং স্ত্রী এক উত্তম সংরক্ষণীয় ও হিফাজতের জিনিস। লোকের মুখে-মুখে, পরপুরুষদের চোখে-চোখে ও যুবকদের মনে-মনে বিচরণ করতে না দেওয়া; যাকে দেখা দেওয়া তার স্ত্রীর পক্ষে হারাম তাকে সাধারণ অনুমতি দিয়ে বাড়ি আসতে-যেতে না দেওয়া সুপুরুষের কর্ম।

আর এর নাম রক্ষণশীলতা বা গোঁড়ামী নয়। বরং এটা হল সুপুরুষের রুচিশীলতা ও পবিত্রতা। নারী-সবাধীনতার নামে যারা এই বল্গাহীনতা ও নগ্নতাকে ‘প্রগতি’ মনে ক’রে আল্লাহ-ভক্তদের ‘গোঁড়া’ বলে থাকে, শরীয়ত তাদেরকেই ‘ভেঁড়া’ বলে আখ্যায়ন করে। আর ‘ভেঁড়া’ বা স্ত্রী-কন্যার ব্যাপারে ঈর্ষাহীন পুরুষ জান্নাতে যাবে না।[30]

নিজের ইচ্ছামত এ ঘর-ও ঘর, এ পাড়া-ও পাড়া, এ মার্কেট সে মার্কেট যেতে স্বামী তার স্ত্রীকে বাধা দেবে। কোন প্রকার নোংরামী, অশ্লীলতা, গান-বাজনা, সিনেমা-থিয়েটারে নিজে যাবে না, স্ত্রীকেও যেতে দেবে না। নোংরা টেলিভিশন ও ভিডিও বাড়িতে রাখবে না। রেডিওতে গান-বাজনা শুনতে দেবে না। পর্যাপ্ত কারণ বিনা এবং আপোসের চুক্তি ও সম্মতি ছাড়া চার মাসের অধিক স্ত্রী ছেড়ে বাইরে থাকবে না। যেহেতু পুরুষের যৌনপ্রবৃত্তি যেমন, ঠিক তেমনি নারীরও। পুরুষের যেমন নারীদেহ সংসর্গলাভে পরমতৃপ্তি, অনুরূপ নারীও পুরুষের সংসর্গ পেয়ে চরম তৃপ্তি উপভোগ করে থাকে। অতএব প্রেমে অনাবিলতা বজায় রাখতে নারীকে হিফাযত করা পুরুষের জন্য ফরয এবং তা এক সুরুচিপূর্ণ কর্ম। পানি বা শরবতে সামান্য একটা পোকা বা মাছি পড়লে তা পান করতে কারো রুচি হয় না; আর নিজ স্ত্রীর সৌন্দর্য ও প্রেমে অপরের কাম বা কুদৃষ্টি, মন্তব্যের মুখ ও কামনার মন পড়লে তাতে কি করে রুচি হয় সুপুরুষের? সুতরাং যে পুরুষের অনুরূপ সুরুচি নেই সে কাপুরুষ বৈ কি?

হিজরী ২৮৬ সনে ‘রাই’এর কাযীর নিকট এক মহিলা মুকাদ্দামা দায়ের করল। তার অভিভাবকের সাথে মিলে স্বামীর বিরুদ্ধে সে তার মোহরানা বাবদ ৫০০ দিরহাম আদায় না দেওয়ার অভিযোগ করল। কাযী সাক্ষী তলব করলে সাক্ষী উপস্থিত করা হল। কিন্তু সাক্ষিদাতারা মহিলাটিকে চেনার জন্য তার চেহারা দেখাতে অনুরোধ জানালো। এ খবর স্বামীর কানে গেলে কাযীর সামনে বলল, ‘আমি স্বীকার করছি যে, ৫০০ দিরহাম আমার স্ত্রীর পাওনা। আমি যথাসময়ে তাকে তা আদায় করে দেব। সাক্ষীর দরকার নেই। ও যেন চেহারা না খোলে!’

এ খবর স্ত্রীর নিকট গেলে সেও আল্লাহ অতঃপর কাযীকে সাক্ষী রেখে বলল, ‘আমিও আমার স্বামীর নিকট থেকে প্রাপ্য উক্ত মোহরানার দাবী প্রত্যাহার করে নিচ্ছি এবং দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য ওকে ক্ষমা করে দিচ্ছি!’

এ শুধু এ জন্য যে, পর্দার মান ও মূল্য আছে নারীর কাছে, আর স্বামীর আছে যথাযথ ঈর্ষা। তাই চেহারা খুলে বেআবরু করতে সকলেই নারাজ। এটাই তো সুরুচিপূর্ণ মুসলিম দম্পতির পরিচয়।

একটি সত্য কথা এই যে, মহিলা ঈর্ষাবান পুরুষকে অপছন্দ করে। কিন্তু যে তার ব্যাপারে ঈর্ষাবান নয়, তাকে সে আরো বেশী অপছন্দ করে।

স্ত্রীকে খামাখা সন্দেহ করাও স্বামীর উচিৎ নয়। বৈধ কর্মে, চিকিৎসার জন্য বা অন্যান্য জরুরী কাজের জন্য পর্দার সাথে যেতে না দিয়ে তাকে অর্গলবদ্ধ করে রাখাই হল অতিরঞ্জন ও গোঁড়ামী। তাছাড়া এমন অবরোধ প্রথায় ইসলামের কোন সমর্থন নেই।

পক্ষান্তরে স্ত্রীকে সন্দেহ করলে দাম্পত্য জীবন তিক্ত হয়ে উঠে। কারণ দাম্পত্য সুখের জন্য জরুরী; স্বামী-স্ত্রীর উভয়ের আমানতদারী, হিতৈষিতা, সত্যবাদিতা, অন্তরঙ্গতা, অনাবিল প্রেম, বিশ্বস্ততা, নম্রতা, সুস্মিত ব্যবহার ও বাক্যালাপ, একে অপরের গুণ স্বীকার। আর সন্দেহ এসব কিছুকে ধবংস করে ফেলে। কারণ সন্দেহ এমন জিনিস যার সূক্ষমতম শিকড় একবার মনের মাটিতে সঞ্চালিত হয়ে গেলে তাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না টেনে-ছিঁড়ে ফেলা হয়, ততক্ষণ সে প্রবল প্রতাপে রাজত্ব করতে থাকে এবং সম্প্রীতি ও সুখের কথা ভাবতেই দেয় না।

এই সন্দেহের ফলশ্রুতিতেই বহু হতভাগা স্বামী তাদের স্ত্রীদেরকে ভাতের চাল পর্যন্ত তালাবদ্ধ রেখে রান্নার সময় মেপে রাঁধতে দেয়! বলাই বাহুল্য যে, কথায় কথায় এবং কাজে কাজে স্ত্রীকে সন্দেহ করলে সে স্বামীর সংসার নিশ্চয় এক প্রকার জাহান্নাম।

পরিশেষে, মহান আল্লাহর এই বাণী প্রত্যেক স্বামীর মনে রাখা উচিৎ; তিনি বলেন,

[يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ وَأَوْلادِكُمْ عَدُوّاً لَكُمْ فَاحْذَرُوهُمْ وَإِنْ تَعْفُوا وَتَصْفَحُوا وَتَغْفِرُوا فَإِنَّ اللهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ]

‘‘হে মুমিনগণ! নিশ্চয় তোমাদের স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততির মধ্যে কেউ কেউ তোমাদের (পার্থিব ও পারলৌকিক বিষয়ের) শত্রু। অতএব তাদের ব্যাপারে তোমরা সতর্ক থেকো। অবশ্য (দ্বীনী বিষয়ে অন্যায় থেকে তওবা করলে ও পার্থিব বিষয়ক অন্যায়ে) তোমরা যদি ওদেরকে মার্জনা কর, ওদের দোষ-ত্রুটি উপেক্ষা কর এবং ওদেরকে ক্ষমা করে দাও তাহলে জেনে রাখ যে, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’’[31]

[1] (সূরা আল-বাক্বারা (২) : ১৮৭) [2] (সূরা আল-বাক্বারা (২) : ২২৮) [3] (সূরা আন-নিসা (৪) : ৩৪) [4] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১/৩৮২) [5] (জামিউ আহকামিন নিসা, ১/৪১৬) [6] (সূরা আন-নিসা (৪) : ২৪) [7] (আবু দাঊদ, তিরমিযী, ইনাঃ, আল মারআতুল মুসলিমাহ, ওয়াহ্বী সুলাইমান আল-আলবানী ১৪৭পৃঃ) [8] (বুখারী, মুসলিম, মিশকাতুল মাসাবীহ১৯৩০নং) [9] (মুসলিম, মিশকাতুল মাসাবীহ ১৯৩১নং) [10] (আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ ২৭৩৬নং, ইরওয়াউল গালীল ৮৯৯ নং) [11] (সূরা আন-নিসা (৪) : ১৯) [12] (বুখারী, মুসলিম, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩২৩৮নং) [13] (মুসলিম, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩২৩৯নং) [14] (মুসলিম, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩২৪০নং) [15] (হুক্বূক্বুল মারআতিল মুসলিমাহ, কওসর আল-মীনাবী ৫২ পৃঃ) [16] (মুসনাদে আহমদ, আল মারআতুল মুসলিমাহ, ওয়াহ্বী সুলাইমান আল-আলবানী ১৫০পৃঃ) [17] (বুখারী, নাসাঈ, আদাবুয যিফাফ ২৭৫পৃঃ) [18] (বুখারী, মুসলিম, আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ ৫৪৫নং) [19] (বুখারী, তিরমিযী, আদাবুয যিফাফ ২৯০পৃঃ) [20] (আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ ৬৭০নং, আদাবুয যিফাফ ২৯১পৃঃ) [21] (সূরা আল-বাক্বারাহ (২) : ২২৮) [22] (তুহফাতুল আরূস, ১০৩-১০৪পৃঃ) [23] (মুসলিম, মুসনাদে আহমদ, প্রভৃতি, আদাবুয যিফাফ ২৭৭পৃঃ) [24] (বুখারী ৫০৮০নং, আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ ৬২৩নং) [25] (ত্বাহাবী , হাকেম , দাঃ, আদাবুয যিফাফ ২৬৯পৃঃ) [26] (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, আদাবুয যিফাফ ২৭০পৃঃ) [27] (মুসলিম) [28] (তিরমিযী, আবু দাঊদ, নাসাঈ, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩৫২৯নং) [29] (সূরা আত্তাহরীম (৬৬) : ৬) [30] (নাসাঈ, দাঃ, আল মারআতুল মুসলিমাহ, ওয়াহ্বী সুলাইমান আল-আলবানী ১৫৫পৃঃ) [31] (সূরা তাগাবুন (৬৪) : ১৪ আয়াত)