✋✋✋আরে শোনেন✋✋✋

👉নিজের চেহারা সুন্দর করার জন্যে ব্যস্ত?👇
👉ওজু করে নামাজ পড়েন চেহারা এমনিতেই সুন্দর হয়ে যাবে💕
👉মিথ্যা বলা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারছেন না?👇
👉সকালে ঘুম থেকে উঠে একটা সত্যি কথা বলুন,দেখবেন ঐ সত্যি কথাটাই আপনার মিথ্যা কথাগুলো থেকে আপনাকে হেফাজতে রাখবে💕
👉গিবত করতেই হবে?? 👇
👉অপ্রয়োজনে কারো সাথে কথা বলবেন না দেখবেন গিবত নামক শব্দটাই ভুলে গেছেন। ☝
👉ঈমান ঠিক করতে পারছেন না? 👇
👉দৈনিক ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন ঈমান এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে। 💕
👉পর্দা আপনার দ্বারা সম্ভব না?👇
👉একদিন উলঙ্গ হয়ে মানুষের সামনে যেয়ে নিজেকে একটু উপলব্ধি করার চেষ্টা করবেন,পর্দার মান আপনি তখন বুঝবেন। 🤞
👉রিলেশন ছাড়া থাকতে পারছেন না?👇
👉দৈনিক ৫ বেলা আল্লাহর সাথে গল্প করতে বসবেন দেখবেন রিলেশন এমনিতেই হয়ে গেছে।💕
👉কোরআন পড়া হচ্ছে না?👇
👉আল্লাহর সাথে গল্প করতে বসলে দেখবেন কোরআন এমনিতেই আপনার কাছে চলে এসেছে। 💕
👉চোখকে হেফাজতে রাখতে পারছেন না?👇
👉চোখের সাথে মাটির বন্ধুত্ব তৈরি করুন দেখবেন চোখ শুধু মাটির দিকেই তাকিয়ে আছে। 🤗
👉সেলিব্রিটি হয়ে আপনার ফেসবুকের ফলোয়ার বাড়াতে চান?👌
👉হযরত মোহাম্মদ সঃ এর সুন্নাহ্ ফলো করুন আপনার ফলোয়ারের অভাব হবে না ☝❤💕
👉আপনারা তো সব পারেন তাহলে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে পারবেন না কেন??মানুষকে খুশি করে কোনো লাভ নেই যদি না ঐ দুনিয়াতে জান্নাতে যেতে না পারেন।মনে রাখবেন আল্লাহর একটি ইশারায় আপনার রুহু বের হয়ে যেতে পারে যেকোনো সময়।নামাজ পড়ুন আল্লাহর রাস্তায় চলুন 🙏🙏🙏

ইসলামে প্রেম ও যৌনাচার
==================

আল্লাহ তা’আলা পৃথিবী আবাদ রাখার জন্য মানুষকে খলীফারূপে সৃষ্টি করেছেন। তার মধ্যে এমন প্রকৃতি ও প্রবৃত্তি দান করেছেন যাতে সে অতি সহজে নিজের বংশ বৃদ্ধি ও আবাদ করতে পারে। ক্ষুধা-নিবৃত্তি করে যেমন তার নিজের অস্তিত্ব অবশিষ্ট থাকে, তদ্রূপ যৌনক্ষুধা নিবৃত্তি করলে তার বংশ বাকী থাকবে। এই যৌনক্ষুধা এমন এক ক্ষুধা, যার তাড়নায় ক্ষুধার্ত মানুষ নিজেকে অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ ও আয়ত্তে রাখতে পারে না। ক্ষুধা উপশান্ত না হওয়া পর্যন্ত মানুষ প্রকৃতিস্থ হতে পারে না। অবশ্য উক্ত ক্ষুধা নিবারণের জন্য পৃথিবীতে সাধারণতঃ তিনটি রীতি রয়েছেঃ

প্রথমতঃ
‘ফ্রী–সেক্স’ (অবাধ যৌনাচার) এটা পশুবৎ রীতি, যাতে ধর্মীয়, নৈতিক বা লৌকিক কোন প্রকারের বাধা ও নিয়ন্ত্রণ নেই, যখন যেভাবে ইচ্ছা কামপিপাসা দূর করা যায়। যাতে সমাজে সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খলতা এবং বংশে আসে শত শত জারজ সন্তান।

দ্বিতীয়তঃ
সংযম রীতি, যাতে মানুষ ইন্দ্রিয় বাসনাকে নিগৃহীত রাখে। কোন প্রকারের বীর্যক্ষয়কে পাপ মনে করে। এরূপ বৈরাগ্যবাদ প্রকৃতি-ধর্মেরও বিরোধী।

তৃতীয়তঃ
নিয়ন্ত্রিত রীতিঃ গন্ডি-সীমার অভ্যন্তরে থেকে কাম-বাসনাকে মানুষ চরিতার্থ করতে পারে। ঐ সীমা লংঘন করে নিয়ন্ত্রণ-হারা হতে পারে না। এই রীতিই হল মানুষের জন্য প্রকৃতিসিদ্ধ ও ন্যায়পরায়ণ। বিবাহ-বন্ধনের মাঝে সীমিত ও রীতিমত যৌনাচার ও কামবাসনা চরিতার্থ করা যায়। এই নীতিই সমস্ত ঐশীধর্মের নীতি এবং ইসলামের আদর্শ। ইসলাম বিবাহকে বৈধ করেছে এবং ব্যভিচারকে অবৈধ ও হারাম ঘোষণা করেছে। নারী-পুরুষের এই মিলনকে যদি নিয়ন্ত্রিত না করা হত, তাহলে পৃথিবীতে সুশৃঙ্খল সমাজ ও সংসার গড়ে উঠত না। স্থায়ী হত না প্রেম ও সম্প্রীতি। সেই দাম্পত্য গড়ে উঠত না, যাতে থাকে একে অন্যের জন্য শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, স্নেহ, মায়া, মমতা, স্বার্থত্যাগ ও উৎসর্গ। তাইতো প্রয়োজন ছিল ব্যভিচারকে কঠোরভাবে দমন করা। যাতে সমাজের মানুষরা অসভ্য ও উচ্ছৃঙ্খল না হয়ে উঠে, লাগামহীন যৌনাচারে বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধি ও মহামারীর প্রাদুর্ভাব না ঘটে এবং মানুষ পশুর পর্যায়ে নেমে না যায়। তাই তো ইসলামে রয়েছে ব্যভিচারীর জন্য কঠোর শাস্তি-ব্যবস্থা।

আল্লাহ তা’আলা বলেন, ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী তাদের প্রত্যেককে একশ’টি করে বেত্রাঘাত কর। আর যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনে থাকো, তবে আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে তাদের প্রতি দয়া যেন তোমাদেরকে পেয়ে না বসে। আর মু’মিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে। [সূরা আন-নুর, আয়াতঃ ২]

আর এরপর তাদেরকে এক বছরের জন্য দেশ থেকে বহিষ্কার অথবা কারাদন্ডে দন্ডিত করা হবে। এ তো হল অবিবাহিত ব্যভিচারী-ব্যভিচারিণীর শাস্তি। বিবাহিতদের শাস্তি হল তাদেরকে কোমর অবধি মাটিতে পুঁতে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা।
তদনুরূপ সমকাম বা সমলিঙ্গী-ব্যভিচারকেও ইসলাম হারাম ঘোষণা করেছে। প্রকৃতিগতভাবে পুরুষ নারীর প্রতি এবং নারী পুরুষের প্রতি আসক্ত এবং উভয়েই একে অপরের মিলন লাভের আকাঙ্ক্ষী। কিন্তু এই প্রকৃতির সীমা লংঘন করে এবং দ্বীনী নিয়ন্ত্রণের বেড়া ডিঙ্গিয়ে যারা নির্লজ্জভাবে পুরুষে-পুরুষে ও নারীতে-নারীতে সমকামে নিজেদের যৌনক্ষুধা নিবারণ করে তাদেরও শাস্তি হত্যা।

কৃত্রিম-মৈথুন বা হস্তমৈথুন অত বড় মহাপাপ না হলেও যা স্বাস্থ্যের পক্ষে দারুন ক্ষতি ও হানিকর এবং তা হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেন, আর যারা তাদের নিজদের লজ্জাস্থানের হিফাযতকারী। তবে তাদের স্ত্রী ও তাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে তারা ছাড়া, নিশ্চয় এতে তারা নিন্দিত হবে না। অতঃপর যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী। [সূরা আল-মুমিনুন, আয়াতঃ ৫-৭]

সুতরাং কৃত্রিম মৈথুন এক প্রকার সীমালংঘন, যা মহাপাপ। তাছাড়া আল্লাহর রাসূল [ﷺ] যখন সামর্থ্যবান যুবকদেরকে বিবাহ করতে বললেন, তখনই অসামর্থ্যবান যুবককে রোযা রাখার নির্দেশ দিলেন। যাতে যৌন-তাড়নায় যুবকদল কোনরূপ বেয়াড়া না হয়ে যায়। পক্ষান্তরে এতে হয়তো ক্ষণিকের যৌনস্বাদ আছে কিন্তু এর পশ্চাতে আছে মহালাঞ্ছনা, মহাপরিতাপ।

আল্লাহর রাসূল [ﷺ] বলেন, আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নাবী [ﷺ]-এর সঙ্গে আমরা কতক যুবক ছিলাম; আর আমাদের কোন কিছু ছিল না। এই হালতে আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ [ﷺ] বলেন, হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিয়ে করে। কেননা, বিয়ে তার দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান হিফাযত করে এবং যার বিয়ে করার সামর্থ্য নেই, সে যেন সওম পালন করে। কেননা, সওম তার যৌনতাকে দমন করবে। [সহীহ বুখারী, হাদিস নং-৫০৬৬]

শরীয়ত যেমন সর্বপ্রকার ব্যভিচারকে হারাম ঘোষণা করেছে তেমনি ব্যভিচারের কাছ ঘেঁসতে, অবৈধ যৌনাচারের নিকটবর্তী হতে নিষেধ এবং এর সমস্ত ছিদ্র-পথ বন্ধ করতে আদেশ করেছে। কারণ, যে পথ হারামে নিয়ে যায় সে পথে চলাও হারাম। মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন, আর তোমরা ব্যভিচারের কাছে যেয়ো না, নিশ্চয় তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ। [সূরা আল-ঈসরা, আয়াতঃ ৩২]

বিবাহ পূর্ব প্রেম হারাম

আর মু’মিন সচ্চরিত্রা নারী এবং তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে, তাদের সচ্চরিত্রা নারীদের সাথে তোমাদের বিবাহ বৈধ। যখন তোমরা তাদেরকে মোহর দেবে, বিবাহকারী হিসেবে, প্রকাশ্য ব্যভিচারকারী বা গোপনপত্নী গ্রহণকারী হিসেবে নয়। [সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াতঃ ৫]

আল্লাহ তা’আলা পুরুষদেরকে সতর্ক করে বলেন, বলেন, মু’মিন পুরুষদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করবে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয় তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত। [সূরা আন-নুর, আয়াতঃ ৩০]

পরের আয়াতে তিনি নারীদেরকে সতর্ক করে বলেন, আর মু’মিন নারীদেরকে বল, যেন তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। আর যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য তারা প্রকাশ করবে না। তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে বক্ষদেশকে আবৃত করে রাখে। আর তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, নিজদের ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাই এর ছেলে, বোনের ছেলে, আপন নারীগণ, তাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে, অধীনস্থ যৌনকামনামুক্ত পুরুষ অথবা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া কারো কাছে নিজদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন নিজদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। [সূরা আন-নুর, আয়াতঃ ৩১] উক্ত আয়াতে নারীদেরও পর্দা করার কথা বলা হয়েছে আর নারীরা কাদের সাথে সাক্ষাত করতে পারবে তাদের একটা তালিকা দেওয়া হয়েছে।

মহান আল্লাহ বলেন, হে নবী, তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মু’মিনদের নারীদেরকে বল, ‘তারা যেন তাদের জিলবাবের কিছু অংশ নিজেদের উপর ঝুলিয়ে দেয়, তাদেরকে চেনার ব্যাপারে এটাই সবচেয়ে কাছাকাছি পন্তুা হবে। ফলে তাদেরকে কষ্ট দেয়া হবে না। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। [সূরা আহযাব, আয়াতঃ৫৯]

যেখানে দৃষ্টি নীচু ও সংযত রাখা, লজ্জা স্থান হিফাজত করার কথা এবং পর্দা করার কথা বলা হয়েছে আর সূরা মায়িদাহ-তে গোপন প্রেমলীলাকে নিষেধ করা হয়েছে, সেখানে বিবাহ পূর্ব প্রেম বৈধ হতে পারে কি করে? এটা হারাম। বিবাহ পূর্ব প্রেম নর-নারীকে যিনার নিকটবর্তী করে দেয় আর যিনা মারাত্মক একটি কবিরা গুণাহ। বিবাহপূর্ব প্রেম অনেক সময় বান্দাহকে শিরকের নিকটবর্তী করে দেয়। কারণ অনেক সময় তারা একে অপরকে এতটাই ভালোবাসা শুরু করে দেয়, যে প্রকার ভালোবাসা পাওয়ার দাবীদার একমাত্র আল্লাহ।

আল্লাহ তা’আলা বলেন, আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে, যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যকে আল্লাহর সমকক্ষরূপে গ্রহণ করে, তাদেরকে তারা আল্লাহকে ভালোবাসার মত ভালোবাসে। আর যারা ঈমান এনেছে, তারা আল্লাহর জন্য ভালোবাসায় দৃঢ়তর। আর যদি যালিমগণ দেখে- যখন তারা আযাব দেখবে যে, নিশ্চয় সকল শক্তি আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আল্লাহ আযাব দানে কঠোর। [সূরা বাকারাহ, আয়াতঃ ১৬৫]

মহান আল্লাহ আমাদের মুসলিম ভাই ও বোনদের এই হারাম কাজ থেক হিফাজত করুন, আমীন।