গ্রন্থঃ প্রশ্নোত্তরে রমযান ও ঈদ অধ্যায়ঃ তারাবীহর সালাত তারাবীহর সংখ্যার মতবিরোধের মধ্যে কোনটি সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য? মালেকী মাযহাবের ইমাম মালেক (রহঃ) বলেছেন, একশ বছরেরও বেশি সময় ধরে লোকেরা ৩৬ রাকআত তারাবীহ পড়েছে। শাফেঈ মাযহাবের ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেছেন, তিনি তারাবীহ মদ্বীনায় ৩৬ এবং মাক্কায় ২০ রাকআত পড়তে দেখেছেন। সৌদী আরবের গ্র্যান্ড মুফতী সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেমে দ্বীন আল্লামা মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল উসাইমীন (রহ.) ১০ ও আট রাকআতের মাসআলাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এ জাতীয় মত পার্থক্যের সমাধানকল্পে শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যা (রহ.) বলেছেন, অধিক সংখ্যক রাকআত পড়াই উত্তম। আর যদি কেউ কম সংখ্যক রাকআত পড়তে চায় তাহলে তার উচিৎ হবে তিলাওয়াত, কিয়াম, রুকু ও সিজদা দীর্ঘ করা। তিনি আরো বলেছেন যে, তারাবীহকে রাকআত সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বরং সময় ব্যয়ের পরিমাণ দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিৎ। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু ১১ রাকআতের মধ্যে ৫ ঘণ্টা সময় অতিবাহিত করেছেন। সালাতের কিয়ামে এত দীর্ঘ সময় কেটে যেত যার কারণে সাহাবীগণ লাঠির উপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন। সবশেষে ইমাম ইবনু তাইমিয়্যা (রহঃ) আরেকটি মত ব্যক্ত করে বলেছেন, সার্বিক বিশ্লেষণে তারাবীহ ২০ রাকআত পড়াই উত্তম। কারণ এটা ১০ ও ৪০ রাকআতের মাঝামাঝি এবং বেশির ভাগ মুসলমানের আমলও এরই উপর। তবে অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই যে, আমাদের দেশে তারাবীহ যেভাবে তাড়াহুড়া করে পড়া হয় তা পরিহার করে বিশুদ্ধ ও ধীরস্থির তিলাওয়াত, রুকু থেকে উঠার পর এবং দু’ সিজদার মাঝে আরো একটু সময়ক্ষেপণ করা, সুন্নাত মোতাবিক ও ধীরস্থিরভাবে রুকু-সিজদাহ ইত্যাদি সুন্দর করে তারাবীহ আদায় করা অত্যাবশ্যক। যে পদ্ধতিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের সালাত আদায় করতেন আমাদেরও উচিৎ সে তরীকামত আদায় করা। http://www.hadithbd.com/shareqa.php?qa=2558

📚📚#কবর_যিয়ারতের_বিধান📚📚 রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে- ============================ লেখকঃ শায়খ আব্দুল আযীয ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইব্‌ন বায রাহিমাহুল্লাহ ============================ প্রশ্ন ১ – কবর দৃষ্টিগোচর হলে বা কবরের দেয়াল অতিক্রম করলে কবরবাসীদেরকে সালাম করতে হবে কি? উত্তর – পথিক হলেও সালাম দেয়া উত্তম, এরূপ ব্যক্তির যিয়ারতের নিয়ত করে নেয়া উত্তম। প্রশ্ন ২ – যিয়ারতকারীর নির্দিষ্ট কবরের পাশে গিয়ে যিয়ারত করার হুকুম কি? উত্তর – গোরস্থানের প্রথম কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দো‘আ করাই যথেষ্ট, তবুও যদি নির্দিষ্ট কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দো‘আ ও সালাম করতে চায় করতে পারবে। প্রশ্ন ৩ – মৃত ব্যক্তি যিয়ারতকারীকে চিনতে পারে? উত্তর – কতিপয় হাদিসে এসেছে যে, যিয়ারতকারী যদি এমন হয় যে দুনিয়াতে তার সাথে পরিচয় ছিল তাহলে আল্লাহ যিয়ারতকারীর সালামের উত্তর দেয়ার জন্য তার রুহ ফিরিয়ে দেন । কিন্তু এ হাদিসের সনদে কিছু ত্রুটি রয়েছে। অবশ্য আল্লামা ইবনে আব্দুল বার রাহিমাহুল্লাহ হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন। প্রশ্ন ৪ – উম্মে আতিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত, «نهينا عن اتباع الجنائز ولم يعزم علينا» “আমাদেরকে জানাযার সাথে চলতে নিষেধ করা হয়েছে, কিন্তু কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি”। হাদিসটির ব্যাখ্যা কি? উত্তর – আবস্থা দৃষ্টে প্রতিয়মান হচ্ছে যে, বর্ণনাকারীর মতে নিষেধটি কঠোর নয়, তবে আমাদের জেনে রাখা উচিত যে প্রত্যেক নিষেধ হারাম। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। «ما نهيتكم عنه فاجتنبوه وما أمرتكم به فأتوا منه ما استطعتم» (متفق عليه) “আমি যার থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করি, তোমরা তা পরিত্যাগ কর, আর আমি তোমাদেরকে যার আদেশ দেই, তোমরা তা সাধ্যানুসারে পালন কর”। (বুখারি ৩৯১) এ হাদিস দ্বারা প্রতিয়মান হয় যে, মহিলাদের জানাযার সাথে কবর পর্যন্ত যাওয়া হারাম, তবে পুরুষদের ন্যায় তারা জানাযায় অংশ গ্রহণ করতে পারবে। প্রশ্ন ৫ – একটি হাদিসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে কবরের উপর জুতা নিয়ে হাটতে দেখে বললেন, হে জুতা ওয়ালা! তোমার জুতাদ্বয় খুলে নাও। এ হাদিসের উপর কি আমল করা যাবে? জুতা নিয়ে কেউ কবরের উপর হাটা-চলা করতে চাইলে তাকে কি নিষেধ করা হবে? উত্তর – হ্যাঁ, বর্ণিত হাদিসের উপর আমল করা যাবে, সুতরাং কোন অবস্থাতেই কবরের উপর জুতা নিয়ে হাটা-চলা করা জায়েয হবে না। হ্যাঁ, বিশেষ প্রয়োজনে যেমন কবরের উপর যদি কাঁটাদার গাছ থাকে বা মাটি অত্যন্ত গরম হয়, যে কারণে খালিপায়ে চলা অসম্ভব হয়, এমতাবস্থায় জুতা নিয়ে কবরের উপর হাঁটা যেতে পারে, এরূপ কোন বিশেষ প্রয়োজন না হলে তাকে অবশ্যই নিষেধ করা হবে, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। তাকে শরি‘আতের হুকুম জানিয়ে দেবে। প্রশ্ন ৬ – গোরস্থানে প্রবেশকালে জুতা খুলার বিধান কি? উত্তর – কবরের উপর দিয়ে হেঁটে গেলে জুতা অবশ্যই খুলতে হবে, আর যদি কবরের উপর দিয়ে না হেটে গোরস্থানের প্রথম কবরের পাশে দাঁড়িয়ে সালাম দেয়, তা হলে জুতা খুলতে হবে না। প্রশ্ন ৭ – জনৈক মহিলাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কবরের পাশে ক্রন্দরত আবস্থায় দেখে বলেছিলেন, «اتقي الله واصبري» “আল্লাহকে ভয়কর ও ধৈর্যধারণ কর”। (বুখারি ও মুসলিম) এ হাদিস কি মহিলাদের কবর যিয়ারত বৈধ প্রমাণ করে না? উত্তর – সম্ভবত উল্লিখিত ঘটনাটি নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য কবর যিয়ারত বৈধ থাকাকালিন সময়ের ঘটনা। আর মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারত নিষিদ্ধকারী হাদিস এ হাদিসের জন্যে নাসেখ বা এ হাদিসকে রহিতকারী। প্রশ্ন ৮ – কিছু কিছু শহরে অনেক মানুষ কববের উপর ঘর তৈরি করে সেখানে বসবাস করে। এটা কতটুকু শরিয়ত সম্মত? উত্তর – এটা নেহায়েত গর্হিত ও নিন্দনীয় কাজ, এ কাজের দ্বারা কবরবাসীদের অপমান করা হয়, তাই তাদেরকে এ কাজ হতে বারণ করা এবং শরি‘আতের বিধান সম্পর্কে অবহিত করা জরুরী। তারা এসব কবরের উপর যেসব সালাত আদায় করেছে, তা সব বাতিল ও বৃথা। এ অবস্থায় কবরের উপর বসাও অত্যন্ত গর্হিত কাজ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম বলেছেন, « لا تصلوا إلى القبور ولا تجلسوا عليها » (رواه مسلم) “কবরের দিকে মুখ করে নামাজ পড়বে না এবং কবরের উপর বসবে না”। (মুসলিম ২১২২) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লম আরো বলেছেন, «لعن الله اليهود والنصارى اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد» (رواه البخاري) “আল্লাহ ইয়াহূদী ও নাসারাদের উপর লানত করেছেন, কারণ তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে”। (মুসলিম ১০৭৯) এ হাদিস সম্পর্কে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বাণী দ্বারা তাদেরকে তাদের গর্হিত কাজের জন্য সতর্ক করেছেন। প্রশ্ন ৯ – জনৈক ব্যক্তির কবরের উপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হল, আর ঐ ব্রিজের উপর দিয়ে একটি যাত্রিবাহী গাড়ি যাওয়ার সময় বিরত দিল, যাত্রীদের মাঝে একজন মহিলাও রয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে গাড়িটির যাত্রা বিরতির কারণে সে মহিলা কি কবর যিয়ারতকারীদের অন্তর্ভূক্ত হবে, সে মহিলা কি কবরবাসীদের সালাম করবে? উত্তর – না, মহিলা কবর যিয়ারতকারীদের অন্তর্ভূক্ত হবে না, ব্রিজ কেন কবরের পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেও কবর যিয়ারতকারী বলে গণ্য হবে না। মহিলা যদি পথচারী হয়, তবুও তার পক্ষে কবরবাসীদের সালাম না করা উত্তম। প্রশ্ন ১০ – একটি হাদিস প্রচলিত আছে, « اذا مررتم بقبر كافر فبشروه بالنار » “যখন তোমরা কোন কাফেরের কবরের পাশ দিয়ে যাও, তখন তাকে জাহান্নামের সুসংবাদ দাও”। এ হাদিসটি কতটুকু শুদ্ধ? উত্তর – আমার জানা মতে এ হাদিসের বিশুদ্ধ কোন সনদ নেই। প্রশ্ন ১১- মহিলারা কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কবরবাসীদের সালাম দেবে কি? উত্তর – আমার জানা মতে কবরবাসীদেরকে মহিলাদের সালাম না-করা উচিৎ। কারণ সালাম বিনিময় কবর যিয়ারতের রাস্তা উম্মুক্ত করবে, দ্বিতীয়ত সালাম দেয়া কবর জিয়ারতের অন্তর্ভুক্ত। তাই মহিলাদের উপর ওয়াজি হচ্ছে সালাম বর্জন করা, তারা যিয়ারত ব্যতীত মৃতদের জন্য শুধু দো‘আ করবে। প্রশ্ন ১২ – রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর জিয়ারতের নিয়ম কি? উত্তর – রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর জিয়ারতের সুন্নত তরিকা এই যে, কবরের দিকে মুখ করে সালাম দেবে, অতঃপর তাঁর দু’সাথী আবু-বকর ও ওমরকে সালাম দেবে, অতঃপর ইচ্ছা করলে অন্য জায়গায় গিয়ে কিবলামুখী হয়ে নিজের জন্য দো‘আ করবে। প্রশ্ন ১৩ – মহিলাগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারত করতে পারবে কি? উত্তর – মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারত করা নিষেধ, যেসব হাদিসে মহিলাদের কবর যিয়ারত থেকে বারণ করা হয়েছে, সেখানে রাসূলের কবরও অন্তর্ভুক্ত, তাই তাদের জন্য জরুরী হচ্ছে রাসূলের কবর যিয়ারত না-করা। মহিলাদের জন্য রাসূলের কবর যিয়ারত বৈধ না অবৈধ এ সম্পর্কে ওলামায়ে কেরাম দু’ভাগে বিভক্ত, তাই সুন্নতের অনুসরণ ও মতানৈক্য থেকে বাঁচার জন্য মহিলাদের জন্য যে কোন কবর যিয়ারত ছেড়ে দেয়াই শ্রেয়। তা ছাড়া মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারত নিষেধ সংক্রান্ত হাদিসে রাসূলের কবরকে বাদ দেয়া হয়নি। এমতাবস্থায় হাদিসের ব্যাপকতার উপর আমল করাই ওয়াজিব, যতক্ষণ না এর বিপরীত কোন সহিহ হাদিস পাওয়া যায়। প্রশ্ন ১৪ – মসজিদে প্রবেশকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারত করতে পারবে কি? উত্তর – মসজিদে প্রবেশকালে রাসূলকে শুধু সালাম করবে, শুধু কবর জিয়াতর উদ্দেশ্যে যাবে না, তবে মাঝে-সাজে যেতে পারে। প্রশ্ন ১৫ – রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা কি জায়েয? উত্তর – মসজিদে নববি জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা জায়েয। তাই মসজিদে নববির যিয়ারত মূল উদ্দেশ্য করে সফর করবে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয় হিসেবে নবীর কবর যিয়ারত করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, «لاتشد الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد: المسجد الحرام ومسجدي هذا والمسجد الاقصى» (رواه البخاري) “তিন মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও সফর করা যাবে নাঃ মাসজিদে হারাম, আমার এ মসজিদ ও মসজিদে আকসা”। (বুখারি ২৮১) প্রশ্ন ১৬ – কবর জিয়ারতের জন্য জুমার দিনকে নির্দিষ্ট করা কেমন? উত্তর – এর কোন ভিত্তি নেই। যিয়ারতকারী সুযোগ বুঝে যখন ইচ্ছা যিয়ারত করবে। জিয়ারতের জন্য কোন দিন বা রাতকে নির্ধারিত করা বিদ‘আত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, «من احدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد» (متفق عليه) “আমাদের এ দ্বীনে যে কেউ নতুন কিছু আবিষ্কার করল, তা পরিত্যক্ত”। (বুখারি ৮৬১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, «من عمل عملا ليس عيه أمرنا فهو رد» (رواه مسلم) “যে এমন কোন কাজ করল যা আমাদের আদর্শ নয়, তা পরিত্যক্ত”।হাদিসটি ইমাম মুসলিম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। প্রশ্ন ১৭ – মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারত নিষেধ হওয়া সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে কিভাবে কবর জিয়ারতের দো‘আ শিক্ষা দিয়েছেন? উত্তর – কবর যিয়ারত প্রথমে সবার জন্য নিষেধ ছিল, অতঃপর সবার জন্য জায়েয হয়, অতঃপর শুধু মহিলাদের জন্য নিষেধ হয়। এ ব্যাখ্যার পরিপেক্ষিতে বলা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আহাকে কবর জিয়ারতের আদব তখন শিক্ষা দিয়েছিলেন যখন তা সবার জন্য জায়েয ছিল। প্রশ্ন ১৮ – কবরের পাশে দো‘আ কি দু’হাত তুলে করতে হবে? উত্তর – কবরের পাশে দু’হাত তুলে দো‘আ করা জায়েয আছে, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারত করে কবরবাসীদের জন্য দু’হাত তুলে দো‘আ করেছেন। (মুসলিম) প্রশ্ন ১৯ – কবরের পাশে সম্মিলিত দোয়ার কি হুকুম? উত্তর – কাউকে দো‘আ করতে দেখে শ্রোতাদের আমিন আমিন বলায় কোন বাঁধা নেই। তবে পরিকল্পিতভাবে সম্মিলিত দো‘আ করা যাবে না। অকস্মাৎ কাউকে দো‘আ করতে দেখে তার সাথে সাথে আমিন আমিন বলা যাবে, কারণ এটাকে সম্মিলিত দো‘আ বলা হয় না। প্রশ্ন ২০ – গোরস্থানের প্রথমাংশে সালাম দিলে সমস্ত কবরবাসীর জন্য সালাম বিবেচ্য হবে? উত্তর – এ সালামই যথেষ্ট, সে ইনশাল্লাহ জিয়ারতের সাওয়াব পেয়ে যাবে। যদি গোরস্থান অনেক বড় হয় আর সে ঘুরে ঘুরে সব দিক দিয়ে সালাম বিনিময় করতে চায় তাও করতে পারবে। প্রশ্ন ২১ – অমুসলিমের কবর যিয়ারত করা কি জায়েয? উত্তর – শিক্ষা গ্রহণের জন্য হলে অমুসলিমের কবর যিয়ারত করা জায়েয। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মায়ের কবর যিয়ারত করে তাঁর জন্যে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি চেয়ে ছিলেন, কিন্তু তাঁকে এ বিষয়ে অনুমতি দেয়া হয়নি। শুধু জিয়ারতের অনুমতি দেয়া হয়েছে। প্রশ্ন ২২ – দু’ঈদের দিনকে কবর জিয়ারতের জন্য নির্দিষ্ট করার কোন ভিত্তি আছে কি? উত্তর – আমার জানামতে এর কোন ভিত্তি নেই, যিয়ারতকারীর যখন সুযোগ হবে তখন সে যিয়ারত করবে, এটাই সুন্নত। প্রশ্ন ২৩ – মৃতের জন্য দো‘আ করার সময় কবর মুখী হয়ে দো‘আ করা কি নিষেধ? উত্তর – না, নিষেধ নয়, মৃতের জন্য দো‘আ করার সময় কেবলামুখী ও কবরমুখী উভয় বৈধ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তির দাফন শেষে বললেন, «استغفروا لأخيكم واسألوا له التثبيت فإنه الآن يسأل» (رواه أبوداود) “তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রর্থনা কর এবং তার ইস্তেকামাতের দো‘আ কর, কেননা তাকে এখন প্রশ্ন করা হবে”। এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেননি যে, কিবলামুখী হয়ে দো‘আ কর। সুতরাং কিবলামুখী হয়ে দো‘আ করুক আর কবরমুখী হয়ে দো‘আ করুক উভয়ই জায়েয। রাসূলের সাহাবিগণ কবরের চতুর্পাশে দাঁড়িয়ে মৃতের জন্য দো‘আ করতেন। প্রশ্ন ২৪- দু’হাত তুলে মৃতের জন্য দো‘আ করা কি জায়েয? উত্তর – কিছু কিছু হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কবর যিয়ারত করে দো‘আ করতেন তখন দু’হাত তুলেই দো‘আ করতেন। যেমন ইমাম মুসলিম রাহিমাহুল্লাহ উম্মুল মুমিনিন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারত করে তাদের জন্য দো‘আ করার সময় দু’হাত তুলেছেন। প্রশ্ন ২৫ – আমাদের এখানে কিছু সৎকর্মী যুবক বাস করে, তারা নিজেদের সাথে কতক গাফেল লোকদেরকে কবর জিয়ারতের জন্য নিয়ে যেতে চায়, হয়ত তাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় সঞ্চার হবে। এ ব্যাপারে আপনাদের মত কি? উত্তর – এটা একটি মহৎ কাজ, এতে কোন বাঁধা নেই। এটা ভাল কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করার অন্তর্ভূক্ত। আল্লাহ তাদেরকে উত্তম বিনিময় দান করুন। প্রশ্ন ২৬ – কবরের উপর কোন চিহ্ন স্থাপন করার হুকুম কি? উত্তর – লিখা বা নাম্বারিং করা ব্যতীত শুধু পরিচয়ের জন্য কবরের উপর চিহ্ন স্থাপন করা যেতে পারে। বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের উপর কিছু লিখতে নিষেধ করেছেন, আর নাম্বারিং করাও লিখার অন্তর্ভূক্ত। তবে কবরস্থ লোকের পরিচয়ের জন্য শুধু পাথর ইত্যাদি রাখা যাবে, কালো বা হলুদ রঙের পাথরও রাখা যাবে। বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবি উসমান ইবন মাজউন রাদিয়াল্লাহু আনহুর কবরের উপর চিহ্ন স্থাপন করেছিলেন। ============================ **আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক** শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। “কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা” [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪][তিরমিযীঃ২৬৭৪] #কপি_পোষ্ট

প্রশ্নঃ (৪১০) রোজাদার ভুলক্রমে পানাহার করলে তার ছিয়ামের বিধান কি? কেউ এটা দেখলে তার করণীয় কি? উত্তরঃ রামাযানের রোযা রেখে কেউ যদি ভুলক্রমে খানা-পিনা করে তবে তার ছিয়াম বিশুদ্ধ। তবে স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে বিরত হওয়া ওয়াজিব। এমনকি খাদ্য বা পানীয় যদি মুখের মধ্যে থাকে এবং স্মরণ হয়, তবে তা ফেলে দেয়া ওয়াজিব। ছিয়াম বিশুদ্ধ হওয়ার দলীল হচ্ছে, আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, 👉”যে ব্যক্তি রোযা রেখে ভুলক্রমে পানাহার করে, সে যেন তার ছিয়াম পূর্ণ করে। কেননা আল্লাহ্‌ই তাকে খাইয়েছেন ও পান করিয়েছেন। ” (বুখারী, অধ্যায়ঃ ছিয়াম, অনুচ্ছেদঃ ভুলক্রমে পানাহার করা। মুসলিম, অধ্যায়ঃ ছিয়াম, অনুচ্ছেদঃ ভুলক্রমে পানাহার করলে রোযা ভঙ্গ হবে না।) তাছাড়া ভুলক্রমে নিষিদ্ধ কাজ করে ফেললে তাকে পাকড়াও করা হবে না। 👉আল্লাহ্‌ বলেন, “হে আমাদের পালনকর্তা আমরা যদি ভুলে যাই বা ভুলক্রমে কোন কিছু করে ফেলি, তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না।(সূরা বাক্বারাঃ ২৮৬) আল্লাহ্‌ বলেন, আমি তাই করলাম। কেউ যদি দেখতে পায় যে ভুলক্রমে কোন মানুষ খানা-পিনা করছে, তবে তার উপর ওয়াজিব হচ্ছে, তাকে বাঁধা দেয়া এবং ছিয়ামের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া। কেননা ইহা গর্হিত কাজে বাধা দেয়ার অন্তর্গত। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, 👉”যে ব্যক্তি কোন গর্হিত কাজ হতে দেখবে, সে যেন হাত দ্বারা বাধা প্রদান করে, যদি সম্ভব না হয় তবে যবান দ্বারা বাধা দিবে, যদি তাও সম্ভব না হয় তবে অন্তর দ্বারা তা ঘৃণা করবে। “(মুসলিম, অধ্যায়ঃ ঈমান, অনুচ্ছেদঃ গর্হিত কাজে বাধা দেয়া ঈমানের অন্তর্ভূক্ত।) সন্দেহ নেই রোযা রেখে খানা-পিনা করা একটি গর্হিত কাজ। কিন্তু ভুল ক্রমে হওয়ার কারণে তাকে ক্ষমা করা হবে। কিন্তু যে ব্যক্তি তা দেখবে তার জন্য তাতে বাধা না দেয়ার কোন ওযর থাকতে পারে না। (ফতোওয়া আরকানুল ইসলাম থেকে)

আস সালামু আ’লাইকুম ওয়া রহ’মাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
মুসলিম নারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছিঃ
.
অধ্যায়ঃ নারীদের বিষয়াবলী (পর্ব-৩)
(৫) মুসলমান মেয়েরা কি টি-শার্ট, ফতোয়া বা জিন্সের প্যান্ট পরতে পারে?
(৬) ভ্রু প্লাক করা ও শরীরে ট্যাটু অংকন করা শুধু গুনাহ নয়, বরং কবীরা গুনাহ
____________________________________
মুসলমান মেয়েরা কি টি-শার্ট, ফতোয়া ও জিন্সের প্যান্ট পরতে পারে?
মেয়েদের মধ্যে বিশেষ করে কলেজ-ইউভার্সিটি পড়ুয়া, বাংলা বা ইংরেজী শিক্ষিত এমন তরুণীরা নিজেদেরকে স্মার্ট ও আধুনিকা প্রমান করার জন্য বডি ফিটিং বা টাইট এমন ফতুয়া, গেঞ্জি, জিন্সের প্যান্ট, লেগিংস ইত্যাদি পুরুষদের পোশাক কিংবা পুরুষদের জন্যে যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী অমুসলিম মহিলাদের পোশাক পরিধান করে থাকে। এধরণের পোশাক পরিধান করার পাপ কয়েক প্রকারঃ
.
(১) পুরুষদের পোষাক পড়াঃ নারীদের জন্যে পুরুষের পোশাক পরিধান করা এবং পুরুষদের জন্যে নারীদের পোশাক পরা হারাম, কবীরাহ গুনাহ ও অভিশপ্ত একটা কাজ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম সেই পুরুষদের উপর অভিশাপ দিয়েছেন, যারা নারীদের পোষাক পরিধান করে। আর তিনি সেই সমস্ত নারীদের উপর অভিশাপ দিয়েছেন, যারা পুরুষদের পোশাক পড়ে। সহীহ বুখারীঃ ৫৮৮৫, আবু দাউদ, মিশকাত ৪৪৬৯।
.
(২) ফাহেশা বা অশ্লীলতাঃ ইয়াহুদী, খ্রীস্টান ও হিন্দু ও মুশরেক মহিলাদের মতো শরীর উন্মুক্ত রাখা ও শরীরের গঠন বা অবয়ব ও সৌন্দর্য প্রকাশ করে বাইরে বের হওয়া, স্বচ্ছ বা মশারির কাপড়ের মতো পোশাক পরা, পেট পিঠ উন্মুক্ত রাখা ‘ফাহেশাহ’ বা অশ্লীল কাজের অন্তর্ভুক্ত। তাবাররুজ অর্থাৎ, নারীদের শারীরিক সৌন্দর্য প্রদর্শ করে বাইরে বের হওয়া ইসলাম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে, এবং একে ‘জাহেলী’ (শিরক ও অন্ধকার যুগের) একটা কাজ বলে আখ্যা দিয়েছে। আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “আর তোমরা গৃহে অবস্থান করবে, জাহেলিয়াতের (মূর্খতা যুগের) মত তাবাররুজ (নিজেদেরকে প্রদর্শন) করবে না। তোমরা সালাত কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করবে।” সুরা আল-আহজাবঃ ৩৩।
.
(৩) কাফের মহিলাদের অনুকরণ করাঃ মানুষ যাদেরকে ভালোবাসে, তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। নারীদের খোলামেলা ও যৌন উত্তেজক পোশাক পরিধান করা, মুসলমানদের মাঝে এটা মূলত আধুনিক যুগের পাশ্চাত্য ইয়াহুদী ও খ্রীস্টান সভ্যতার অবদান। কাফেরদের সংস্কৃতিকে ভালোবেসে বা সেইগুলোকে ভালো মনে করে মুসলমানদের মাঝে যারাই সেগুলোর অনুকরণ করবে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম তার ভয়াবহতা সম্পর্কে বলেছেন, “যে ব্যক্তি যাকে ভালোবাসবে, কেয়ামতের দিন সে তার সাথেই (জান্নাতে বা জাহান্নামে) থাকবে।” তিরমিযী, ২৩৮৮।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আর বলেছেন, “মান তাশাব্বাহা বি ক্বাওমিন ফাহুয়া মিনহুম”। অর্থাৎ, কোন ব্যক্তি যেই জাতির অনুকরণ করবে, সে সেই জাতির অন্তর্ভুক্ত বলেই গণ্য হবে। সুতরাং যারা হিন্দুদের অনুকরণ করবে, তারা হিন্দুদের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে, যারা ইয়াহুদী-খ্রীস্টানদের অনুকরণ করবে, তারা ইয়াহুদী-খ্রীস্টানদের অন্তর্ভুক্ত বলেই গণ্য হবে।
.
(৪) ওড়না না পড়ে বুক উন্মুক্ত রাখাঃ ঘর থেকে বাইরে বের হলে নারীদের হিজাবের (স্কার্ফ বা মাথার ছোট্ট একটা রুমাল নয়। হিজাব হচ্ছে, নারীদের নিয়মিত পোশাকের উপরে অন্য একটা লম্বা ও ঢোলা কাপড় দিয়ে সারা শরীর সম্পূর্ণ ঢাকে, এমন বোরখা বা জিলবাব), তার উপরে অতিরিক্ত একটা কাপড় দিয়ে বুক ঢেকে রাখার আদেশ আল্লাহ ক্বুরআনেই উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “(হে নবী আপনি) ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না ‘জুয়ুবিহিন্নাহ’ (শরীর, চেহারা, ঘাড় ও বুকের) উপর ফেলে রাখে।” সুরা নূরঃ ৩১।
যাইহোক, এই নিকৃষ্ট কাজে লিপ্ত মেয়েগুলো সাবালিকা হলে, তারা স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে আগুনে যাওয়ার দিকে হাঁটছে। তবে তাদের বাবা বা পুরুষ গার্জিয়ানেরাও তাদের এহেন নির্লজ্জতার জন্য দায়ী থাকবে। কেননা, একটা মেয়েকে ছোটবেলা থেকে হিজাব-পর্দা শিক্ষা দেওয়া, ইসলামী বিশ্বাস ও সংস্কৃতি ও সভ্যতায় বড় করে তোলা তার বাবা-মায়ের জন্য ফরয। তারা যদি এই কাজ না করে, উলটা নিজের মেয়েকে কাফের নারীদের মতো অশ্লীল কাপড়-চোপড় কিনে দেয় বা টাকা-পয়সা দিয়ে সাহায্য করে, তার মেয়ে লম্পট পুরুষদের কামনার বস্তু হয়ে ঘুরে বেড়ায় আর সে চুপ করে বসে থাকে, তাহলে ইসলামে এধরণের পুরুষদেরকে “দাইয়ুস” বলা হয়। আর দাইয়ুসের জন্য জান্নাত হারাম, হারাম এবং হারাম।
.
দুর্ভাগ্যের ব্যপার হচ্ছে, এমন অনেক আংকেলকে দেখা যায়, যাদের লম্বা দাড়ি ধবধবে সাদা হয়ে আছে, সিজদা দিতে দিতে কপালে কালো দাগ পড়ে গেছে। কিন্তু তার মেয়েদেরকে চরিত্রহীনা মেয়েদের মতো বেয়াহাপনা ও খোলামেলা ছেড়ে দিয়েছেন। আবার বোকা শ্রেণীর কিছু মহিলা আছে, তারা যখন মেয়েকে নিয়ে বাইরে বের হন, তিনি নিজে ঠিকই বোরখা পড়েন, কিন্তু তার কিশোরী বা তরুণী মেয়েকে পুরুষদের জন্য প্রদর্শনীর বস্তু বানিয়ে বের হন। খুব ইচ্ছা হয় এই সমস্ত আকলহীন আন্টিদেরকে বলি, একটা পুরুষ চল্লিশোর্ধ-পঞ্চাশোর্ধ নারীর দিকে খারাপ দৃষ্টি দেওয়ার সম্ভাবনা এমনিতেই কম। আর তরুণী একটা মেয়ে নিকাব পড়ে বের হলেও, পুরুষেরা চেষ্টা করবে একটু দেখার জন্যে। আপনার যদি টাকা-পয়সার অভাব থাকে যে আপনার একটা মাত্র বোরখা কেনার সামর্থ্য আছে, তাহলে আপনার বোরখাটা আপনার থেকে আপনার মেয়ের জন্যি বেশি জরুরী। এই সমস্ত অজ্ঞ ও বোকাশ্রেণীর বাবা-মায়ের কারণে বর্তমানে মুসলমান ছেলে মেয়েরা জাহেল ও পাপীষ্ঠ হয়ে বড় হয়। এভাবেই এরা দ্বীন থেকে দূরে থেকে কেয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করবে। আল্লাহ আমাদের ও আমাদের পরিবারকে নিরাপদে রাখুন, আমিন।
.
দাইয়ুস কথাটির ব্যখ্যাঃ
দাইয়ুস হচ্ছে, যে নিজ পরিবারে যিনা-ব্যভিচার ও অশ্লীলতার কাজকে প্রশ্রয় দেয়। যে পুরুষ ঘরের নারীদের সম্ভ্রম রক্ষায় আত্মসম্মানী নয়, সে মানবিকতাহীন, অপুরুষত্ব, অসুস্থ মস্তিষ্ক এবং দুর্বল ঈমানের অধিকারী। তার তুলনা অনেকটা শূকরের মতো, যে নিজ সম্ভ্রম রক্ষা করে না। তাই ওই সব লোককে সতর্ক থাকা উচিত, যারা নিজ পরিবারে এবং তার দায়িত্বে থাকা লোকদের মাঝে অশ্লীলতা বা অশ্লীলতার উপকরণ প্রশ্রয় দেয়। যেমন বাড়িতে এমন টিভি চ্যানেল রাখা যা যৌনতা উস্কে দেয় এবং অশ্লীলতা বৃদ্ধি করে।
.
অধিকাংশ নারী বেপর্দা ও চরিত্রহীনা হওয়ার জন্যে তাদের পিতা, স্বামী বা পুরুষ গার্জিয়ানের উদাসীনতা দায়ী। এদের পরিণত হবে ভয়াবহ। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “এমন তিনজন ব্যক্তি আছে, যাদের দিকে আল্লাহ আ’যযা ওয়া যাল কিয়ামাতের দিন তাকাবেন না। তারা হচ্ছে (১) যে পিতামাতার অবাধ্য, (২) যে নারী বেশভূষায় পুরুষদের অনুকরণ করে এবং (৩) দাইয়ুস ব্যক্তি।” নাসায়ীঃ ২৫৬২, হাসান সহীহ, শায়খ আলবানী।
.
ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “দাইয়্যুস হচ্ছে এমন পুরুষ যার কোন ঘীরাহ (Protective jealousy) নেই।” মাজমু আল-ফাতাওয়াঃ ৩২/১৪১।
.
স্থায়ী কমিটির ফাতওয়াঃ “দাইয়ুস শব্দটি এমন ব্যক্তিকে নির্দেশ করে, যে তার অধিকারভুক্ত কোন নারীকেই, হোক তা তার স্ত্রী, কন্যা, বোন এবং অন্যদের যিনা করা থেকে বিরত রাখেনা, তা সরাসরি জিনাই হোক, আর এমন সব কাজ হোক যা জিনার দিকে নিয়ে যায়, যেমন গায়ের মাহরামের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে যেসব আওরা (শরীরের অংশ) ঢেকে রাখতে হয়, তা প্রকাশ করা, গায়ের মাহরাম এর সাথে একাকী অবস্থান করা, ঘর থেকে বের হওয়ার সময় দেহে সুগন্ধি লাগানো, আর অন্যান্য কাজ যা ফিতনা আর অপরাধ সৃষ্টি করতে পারে।”
____________________________________
ভ্রু প্লাক করা ও শরীরে ট্যাটু অংকন করা শুধু গুনাহ নয়, বরং কবীরা গুনাহ
আজকাল অনেক নারীরা, এমনকি অনেক নামাযী মহিলারাও ভ্রু প্লাক করছে। অথচ, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম যারা ভ্রু প্লাক করে, তাদেরকে ‘লানত’ বা অভিশাপ করেছেন। সহীহ বুখারীঃ ৪৮৮৬।
আপনি ভ্রু প্লাক কার জন্য করছেন? বাসায় যারা আছে তাদের জন্য? I don’t think so. মানুষ সাধারণত নায়ক নায়িকা, গায়ক গায়িকা, এমন “সো কলড” সেলেব্রিটির দেখে প্রভাবিত হয়ে তাদের ফ্যাশান নকল করার চেষ্টা করে, যদিও ঐ সমস্ত নায়িকা বা গায়িকারা যে চরিত্রহীনা ও ব্যভিচারিণী, বর্তমান যুগের সকলেরই তা জানা আছে। এইভাবে মিডিয়ার পাল্লায় পড়ে আধুনিক যুগের দুর্বল ঈমান ও ইলমহীন নারীরা আসলে মডার্ণ যুগের প্রস্টিটিউটদেরকে ফলো করছে।
যা বলছিলাম, আপনি নিশ্চয়ই আপনার মা-বাবা বা ভাই-বোনদেরকে দেখানোর জন্য ভ্রু প্লাক করছেন না? তাহলে কার জন্য? বাইরের দুনিয়ার পর পুরুষদের জন্য? অথচ তাদের সামনে সাজ-গোজ করে যাওয়াতো দূরের কথা, আপনার জন্য নিকাব ছাড়া তাদের সামনে যাওয়াই নিষিদ্ধ। কথাগুলো বুঝানোর উদ্দেশ্যেই বলা, কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। আমাদের মা বোনেরা আমদের সম্মান, আল্লাহ আমাদের মা বোনদের হেফাজত করুন।
আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আরো যাদের লানত বা অভিশাপ করেছেন তারা হলোঃ যারা দেহে উল্কি অংকন করে এবং অন্যকে উলিক এঁকে দেয়, সৌন্দর্যের জন্য দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে, যারা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন আনে, যারা পরচুলা পড়ে ও অন্যকে পরচুলা পরতে বলে।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আ’নহু কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন, “আল্লাহর অভিশাপ হোক সেই সবনারীদের উপর, যারা শরীরে উল্কি (ট্যাটু) অংকন করে এবং যারা করায়, এবং তাদের উপর (আল্লাহর অভিশাপ), যারা ভ্রু চেঁছে সরু (প্লাক) করে, যারা সৌন্দর্য মানসে দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে, যারা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন আনে।” জনৈক মহিলা এ ব্যাপারে তার (ইবনে মাসউদের) কথার প্রতিবাদ করলে তিনি বলেন, “আমি কি তাকে অভিসম্পাত করব না, যাকে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম অভিসম্পাত করেছেন এবং তা আল্লাহর কিতাবে আছে? আল্লাহ বলেছেন, “রাসুল যে বিধান তোমাদেরকে দিয়েছেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে নিষেধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাক (সুরা হাশরঃ ৭)।” সহীহ বুখারীঃ ৪৮৮৬।
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আ’নহু হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম যে মহিলা পরচুলা লাগিয়ে দেয় এবং যে পরচুলা লাগাতে বলে, আর যে মহিলা অঙ্গ প্রত্যঙ্গে উল্কি অংকন করে ও অন্যকে উল্কি অংকণ করতে বলে, তাদেরকে অভিশাপ করেছেন।” সহীহ বুখারীঃ ৫৯৩৭।
____________________________________

#পোষ্ট_লম্বা_কিন্তু_মনোযোগ_দিন।

একটি মানব জীবনে বিয়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। বিয়ের দ্বারা মানুষ নিজেকে দায়িত্ববান বানাতে সক্ষম হয়। এই বিয়ের মাধ্যমে নারী-পুরুষ সক্ষম হয় যাবতীয় পাপাচার ও চারিত্রিক স্খলন থেকে দূরে থাকতে। অব্যাহত থাকে বিয়ের মধ্য দিয়ে পৃথিবীতে মানব সভ্যতার ধারা। বিয়ের বিবিধ কল্যাণের প্রতি ইঙ্গিত করে আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন, “আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এর মধ্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে সে কওমের জন্য, যারা চিন্তা করে।’ (সূরা রূম, অায়াত নং ২১)
বিয়ের সঙ্গে পৃথিবীতে মানুষের বংশ ধারার সম্পর্ক নির্দেশ করে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, “তোমরা অধিক সন্তান দানকারী স্বামী ভক্ত নারীদের বিয়ে করো। কেননা কিয়ামতের দিন আমি তোমাদের (সংখ্যা) নিয়ে নবীদের সামনে গর্ব করবো।’ (মুসনাদ আহমাদঃ ১২৬৩৪) সুতরাং বলাবাহুল্য যে, বিয়ে করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। অতএব, কেউ যখন বিয়ে করবেন তার উচিত বিয়ের সুন্নাত ও বর্জনীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে সুষ্পষ্ট ধারণা অর্জন করা।

যে সকল ভাই ও বোনেরা বিবাহ উপযুক্ত বা যারা বিবাহ নিয়ে ভাবছেন তাদের অথবা যারা অভিবাবক আছেন তারা জেনে নিন….
_______________________________________
বিবাহের কতিপয় সুন্নত এবং করণীয় সমূহঃ-

(১) মাসনূন বিবাহ সাদা সিধে ও অনাড়ম্বর হবে, যা অপচয়, অপব্যয়, বেপর্দা ও বিজাতীয় সংস্কৃতি মুক্ত হবে এবং তাতে যৌতুকের শর্ত বা সামর্থের অধিক মোহরানার শর্ত থাকবেনা। তথ্যসূত্রঃ (তাবারানী আউসাত, হাদিস নং- ৩৬১২)
(২) সৎ ও খোদাভীরু পাত্র-পাত্রীর সন্ধান করে বিবাহের পূর্বে পয়গাম পাঠাতে হবে। কোন বাহানা বা সুযোগে পাত্রী দেখা সম্ভব হলে, দেখে নেয়া মুস্তাহাব। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটা করে পাত্রী দেখানোর যে প্রথা আমাদের সমাজে প্রচলিত তা সুন্নতের পরিপন্থী ও পরিত্যাজ্য। তথ্যসূত্রঃ (বুখারী হাদিস নং-৫০৯০, ইমদাদুল ফাতাওয়া-৪: ২০০)
(৩) শাউয়াল মাসে এবং জুমুয়ার দিনে মসজিদে বিবাহ সম্পাদন করা সুন্নাত। উল্লেখ্য, সকল মাসের যে কোন দিন বিবাহ করা যায়িজ আছে। তথ্যসূত্রঃ (মুসলিম ১৪২৩/ বায়হাকী ১৪৬৯৯)
(৪) বিবাহের খবর ব্যাপকভাবে প্রচার করে বিবাহ করা এবং বিবাহের পরে আকদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকদের মাঝে খেজুর বন্টন করা সুন্নাত। তথ্যসূত্রঃ(বুখারী/৫১৪৭)
(৫) সামর্থানুযায়ী মোহর ধার্য করা। তথ্যসূত্রঃ (আবু দাউদ/২১০৬)
(৬) বাসর রাতে স্ত্রীর কপালের উপরের চুল হাতে নিয়ে এই দোয়া পড়া, “আল্লাহুম্মা ইন্নি আস আলুকা খয়রাহা ওয়া খয়রা মা জাবালতুহা আলাইহি ওয়াওযুবিকা মিন শার্রিহা মিন শার্রিমা জাবালতাহা আলাইহি” তথ্যসূত্রঃ (আবু দাউদ/২১৬০)
(৭) স্ত্রীর সঙ্গে প্রথমে অন্তরঙ্গতা সৃষ্টি করবে, তার পর যখনই সহবাস এর ইচ্ছা হয়, তখন প্রথমে নিম্নোক্ত দু’আ পড়ে নিবে, “বিসমিল্লাহ্‌। আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শায়তান ও জান্নিবিশ শায়তানা মা রাযাকতানা।” তথ্যসূত্রঃ (মুসলিম/১৪৩৪) (উপরোক্ত দোয়া না পড়লে শয়তানের তাছীরে বাচ্চার উপর কু-প্রভাব পড়ে। অতঃপর সন্তান বড় হলে, তার মধ্যে ধীরে ধীরে তা প্রকাশ পেতে থাকে এবং বাচ্চা নাফরমান ও অবাধ্য হয়। সুতরাং পিতা মাতাকে খুবই শতর্ক থাকা জরুরী)
(৮) বাসর রাতের পর স্বীয় আত্মীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, শুভাকাংখী এবং গরীব মিসকীনদের তাওফিক অনুযায়ী ওলীমা খাওয়ানোর আয়োজন করা। তথ্যসূত্রঃ (মুসলিম/১৪২৭)
(৯) কোন পক্ষ যেওরের শর্ত করা নিষেধ এবং ছেলের পক্ষ থেকে যৌতুক চাওয়া হারাম। তথ্যসূত্রঃ (আহসানুল ফাতাওয়া ৫/১৩)
(১০) কনের ইযন এর জন্য স্বাক্ষীর কোন প্রয়োজন নাই। সুতরাং ছেলের পক্ষের লোক ইযন শুনতে যাওয়া অনর্থক এবং বেপর্দা। সুতরাং তা নিষেধ। মেয়ের কোন মাহরুম বিবাহের এবং উকীল হওয়ার অনুমতি নিবে।তথ্যসূত্রঃ (মুসলিম/১৪২১)
(১১) শর্ত আরোপ করে বর যাত্রীর নামে বরের সাথে অধিক সংখ্যাক লোকজন নিয়ে যাওয়া এবং কনের বাড়ীতে মেহমান হয়ে কনের পিতার উপর বোঝা সৃষ্টি করা আজকের সমাজের একটি জঘন্য কু-প্রথা, যা সম্পূর্ন রুপে পরিত্যাগ করা আবশ্যক। তথ্যসূত্রঃ (মুসনাদে আহমাদ/২০৭২২, বুখারী/২৬৯৭)
(১২) ওলীমায় অতিরিক্ত ব্যয় করা কিংবা খুব উচু মানের খানার ব্যবস্থা করা জরুরী নয়। বরং সামর্থানুযায়ী খরচ করাই সুন্নত আদায়ের জন্য যথেষ্ট। যে ওলীমায় শুধু ধনী ও দুনিয়াদার লোকদের দাওয়াত দেওয়া হয়, দ্বীনদার ও গরীব গরীব-মিসকিনদের দাওয়াত দেওয়া হয়না, সে ওলীমাকে হাদিসে নিকৃষ্টতম ওলীমা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সুতরাং এ ধরনের ওলীমা আয়োজন থেকে বিরত থাকা উচিত। তথ্যসূত্রঃ (আবু দাউদ /৩৭৫৪)
_____________________________
বিয়েতে যে সকল কাজ বর্জণীয়ঃ-

(১) আংটি পরানোঃ- আজকাল মুসলিমের বিয়ের মধ্যে অমুসলিমদের মতো আংটি বদলের রীতি ঢুকে পড়েছে। শাইখ আলবানী রহ. ‘আদাবুয যিফাফ’ গ্রন্থে বলেন, “এতে মূলত কাফেরদের অন্ধানুকরণই প্রকাশ পায়। কেননা তা খ্রিস্টানদের সনাতন রীতি।
(২) অপচয় করা এবং আভিজাত্য জাহির করাঃ-অনেককেই দেখা যায় বিয়েতে বাগাড়ম্বর ও অপচয় দেখাতে গিয়ে নিজের কাঁধে ঋণের বিশাল বোঝা তুলে নেন। আর তা করা হয় বিচিত্র উপায়ে। যেমন,
ক) বিয়ের জন্য দামী দাওয়াত কার্ড ছাপা।
খ) হোটেল ও কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া করা।
গ) শুধু বিয়ের জন্য বাহারী পোশাক খরিদ করা, যা পরে কখনো গায়ে দেয়া হয় না।
ঘ) খাবারে অপচয় করা, খাদ্য নষ্ট করা, ফেলে দেয়া ইত্যাদি। বস্তুত মেহমানদের সম্মানের খাতিরে নয় এসব করা হয় মূলত বিত্ত ও আভিজাত্য প্রকাশের জন্য।
ঙ) বিয়ের অনুষ্ঠানে নর্তকীদের পায়ের নিচে প্রচুর অর্থ ঢালা। অথচ অনেক মুসলমান না খেয়ে মরছে।
চ) পোশাক-আশাকের পেছনে মেয়েদের প্রচুর অর্থ ব্যয় করা। মানুষকে দেখানোর জন্য বিয়ে অনুষ্ঠানে বারবার দামী কাপড় বদলানো।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, এসব কাজ থেকে একটু বিরত হোন। নিজেকে রক্ষা করুন এবং আল্লাহ হিসাব নেয়ার আগে নিজে নিজের হিসাব নিন। কেননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‘কিয়ামতের দিন কোনো বান্দার পা নড়বে না যাবৎ না তাকে প্রশ্ন করা হবে তার হায়াত সম্পর্কেঃ কোন কাজে তা ব্যয় করেছে, জিজ্ঞেস করা হবে তার ইলম সম্পর্কেঃ তার কতটুকু আমল করেছে, প্রশ্ন করা হবে তার সম্পদ বিষয়েঃ কোত্থেকে তা উপার্জন করেছে এবং কোথায় তা খরচ করেছে এবং জিজ্ঞেস করা হবে তারা দেহ সম্পর্কেঃ কোথায় তা কাজে লাগিয়েছে।’ (তিরমিযী : ২৬০২)

(৩) গান বা বাজনা বাজানোঃ- নিম্নোক্ত প্রমাণসমূহের ভিত্তিতে গান-বাজনা হারাম।
ক) পবিত্র কুরআন থেকেঃ- আল্লাহ তা’আলা বলেন,
‘আর মানুষের মধ্য থেকে কেউ কেউ না জেনে আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য বেহুদা কথা খরিদ করে, আর তারা ঐগুলোকে হাসি-ঠাট্টা হিসেবে গ্রহণ করে; তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর আযাব। আর তার কাছে যখন আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তখন সে দম্ভভরে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেন সে শুনতে পায়নি, তার দু’কানে যেন বধিরতা; সুতরাং তাকে যন্ত্রণাদায়ক আযাবের সুসংবাদ দাও।’ (সূরা লুকমান, অায়াত নং ৬-৭)
খ) হাদীস থেকেঃ- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আমার উম্মতের মধ্যে একদল লোক এমন হবে যারা ব্যভিচার, রেশমি বস্ত্র পরিধান, মদ পান এবং বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার ইত্যাদি হালাল মনে করবে। আর কিছু লোক এমন হবে যারা একটি পর্বতের কাছে অবস্থান করবে এবং সন্ধ্যাবেলায় তাদের মেষপালক তাদের কাছে মেষগুলো নিয়ে আসবে এবং তাদের কাছে কিছু চাইবে। তখন তারা বলবে, আগামীকাল ফেরত এসো। রাতের বেলায় আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে ধ্বংস করে দেবেন এবং তাদের ওপর পর্বত ধ্বসিয়ে দেবেন। বাকি লোকদেরকে তিনি বানর ও শূকরে পরিণত করে দেবেন এবং শেষ বিচারের দিন পর্যন্ত তারা এই অবস্থায় থাকবে।’ (বুখারী, হাদীছ নং ৫৫৯০) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আরও বলেন, “আল্লাহ আমার ওপর হারাম করেছেন অথবা (তিনি বলেছেন) মদ, জুয়া ও তবলা হারাম করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আর প্রতিটি নেশাজাতীয় দ্রব্যই হারাম।’ (আবূ দাউদ, হাদীছ নং ৩৬৯৬)
গ) সাহাবীদের উক্তি থেকেঃ- আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, ‘দফ হারাম, বাদ্যযন্ত্র হারাম, তবলা হারাম এবং বাঁশি হারাম।’ (বাইহাকী, হাদীছ নং ২১৫২৯)

উল্লেখ্য, গান ও বাদ্যযন্ত্র হারাম হওয়ার ব্যাপারে সকল ইমাম একমত।

(৪) বিয়েতে হারাম কাজ হলেও তাতে অংশ নেয়াঃ বিয়ের অনুষ্ঠানে যদি নিষিদ্ধ কিছুর আয়োজন থাকে তবে তাতে অংশ নেয়ার অনুমতি নেই। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি একটি খাবার তৈরি করলাম এবং রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে দাওয়াত দিলাম। ফলে তিনি এলেন। তারপর ঘরে ছবি দেখতে পেয়ে ফেরত এলেন। আমি তখন জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনি ফিরে এলেন কেন? তিনি বললেন, ‘ঘরে কিছু রয়েছে যাতে ছবি আঁকা। আর যে ঘরে ছবি থাকে তাতে ফেরেশতা প্রবেশ করেন না। এ হাদীসের আলোকে আলিমগণ বলেন, যে দাওয়াতে নিষিদ্ধ বিষয় রয়েছে, তা বর্জন করা উচিত। ইমাম আওযায়ী রহ. বলেন, ‘সে ঘরে বিয়ের দাওয়াতে যাওয়া যাবে না, যেখানে তবলা এবং বাদ্যযন্ত্র রয়েছে।’ (মুসনাদ বাযযার, ৫২৩; ইবন মাজাহ্, ৩৩৫৯)
_________________________________
বিয়েতে নারীদের বর্জনীয় কাজসমূহঃ-

(১) ভ্রু উপড়ানোঃ- ভ্রু উপড়ানো বা পাতলা করা এমন একটি কাজ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যা হারাম করেছেন এবং এ কাজ করা ব্যক্তির ওপর অভিশাপ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন সেসব মহিলার ওপর যারা সৌন্দর্যের জন্য উল্কি অঙ্কন করে ও করায়, ভ্রু উৎপাটন করে ও করায় এবং দাঁত ফাঁকা করে।’ (মুসলিম : ৫৬৯৫)
(২) চুল কাটাঃ- চুল কাটার তিনটি ধরন রয়েছে। যেমন,
এক) পুরুষের সাদৃশ্য গ্রহণ করে চুল কাটা। এটি হারাম এবং কবীরা গুনাহ। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) পুরুষদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী নারীদের অভিসম্পাত করেছেন। তিনি বলেন, “তিন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের দিকে তাকাবেন না তারা হল পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী নারী এবং কোটনা তথা ব্যভিচারের দূত।’ (মুসনাদ আহমদ, ৬১৮০)
দুই) যদি চুল ছোট করা হয় এমনভাবে যে তাতে পুরুষের সাদৃশ্য গ্রহণ হয় না তবে ইমাম আহমদ রহ.-এর মতে তা মাকরূহ।
তিন) যদি চুল ছোট করা হয় অমুসলিম রমণীদের অনুকরণে তবে তা হারাম। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, “যে বিজাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।’ (আবূ দাউদ, ৪০৩৩)
(৩) অশ্লীল কিংবা প্রসিদ্ধি ও অহংকারের পোশাক পরাঃ- অতি টাইট, পাতলা ও গোপন সৌন্দর্যকে প্রস্ফূটিত করে এমন পোশাক পরা। বক্ষ, বাহু ও কটি দৃশ্যমান হয় এমন অপ্রচলিত ও দৃষ্টিকটু পোশাক পরে অহংকার দেখানো এবং পর পুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, “দুই শ্রেণীর জাহান্নামী লোক যাদের আমি এখনো দেখিনি। (তবে তারা অচিরেই সমাজে দেখা দেবে) এক. সন্ত্রাসী দল, তাদের সাথে গরুর লেজ সদৃশ চাবুক থাকবে। তারা এর দ্বারা লোকজনকে আঘাত করবে। দুই. এমন নারী যারা (পাতলা ফিনফিনে কাপড়) পরিহিতা অথচ উলঙ্গ, অপরকে আকর্ষণকারিণী আবার নিজেরাও অপরের দিকে আকৃষ্ট। তাদের মস্তকগুলো হবে বুখতি উটের হেলানো কুজের মতো। এরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, এমনকি জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। অথচ জান্নাতের ঘ্রাণ এমন এমন দূরত্ব থেকেও পাওয়া যায়।’ (মুসলিম, ৫৭০৪; বাইহাকী, ৩৩৮৬)
(৪) সুগন্ধি ব্যবহার করাঃ- বিবাহ অনুষ্ঠানে ইদানীং মেয়েরা বিশেষত তরুণীরা মহা উৎসাহে সেন্ট ব্যবহার করে অংশগ্রহণ করে। অথচ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, “যে নারী সুগন্ধি ব্যবহার করে অতপর মানুষের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে যাতে তার সুগন্ধি পায়, সে ব্যভিচারিণী।’ (নাসায়ী, ৯৩৬১; আহমদ, ১৯৭২৬)
(৫) ছবি তোলাঃ- আমাদের বিবাহ অনুষ্ঠানগুলোর আরেক গর্হিত কাজ ছবি তোলা। রাসূল (সাঃ) বলেন, “প্রত্যেক ছবি অঙ্কনকারীই জাহান্নামে যাবে।’ (মুসলিম, ৫৬৬২) অতএব সেই ছবি সম্পর্কে আর কী বলার প্রয়োজন আছে যা পর পুরুষের হাতে প্রিন্ট হয়, পর পুরুষরা দেখে এবং তার প্রতি আকৃষ্ট হয়।

পরিশেষে বলা যায় যারা নিজের জীবনের প্রতিটি পর্বকে কুরআন-সুন্নাহর আদলে গড়ে তোলেন এবং সর্ব প্রকার নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকেন, আশা করা যায় তারাই হবেন সফল ও কামিয়াব। তাদের মৃত্যু হবে পরম সৌভাগ্যকে সঙ্গে নিয়ে। আর তারাই হলেন সে দলের অন্তর্ভুক্ত আল্লাহ যাদের কথা বলেছেন এভাবে,
“আর যারা বলে, ‘হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন যারা আমাদের চক্ষু শীতল করবে। আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দিন’। তারাই, যাদেরকে (জান্নাতে) সুউচ্চ কক্ষ প্রতিদান হিসাবে দেয়া হবে যেহেতু তারা সবর করেছিল সেজন্য। আর তাদের সেখানে অভ্যর্থনা করা হবে অভিবাদন ও সালাম দ্বারা। সেখানে তারা স্থায়ী হবে। অবস্থানস্থল ও আবাসস্থল হিসেবে তা কতইনা উৎকৃষ্ট!’ (সূরা ফুরকান, ৭৪-৭৬)
আল্লাহ তা’আলা আমাদের সকলকে তাঁর প্রতিটি নির্দেশ মেনে চলার তাওফীক দিন। আমাদের জীবনের প্রতিটি কথা ও কাজে তাঁর প্রিয় হাবীবের সুন্নতের অনুবর্তী হবার তাওফীক দিন। আমীন।

কথিত ‘শবে বরাত’ উপলক্ষে প্রচলিত কতিপয় বিদআত

https://wp.me/p19Oe7-1K1

শি’আদের তৈরিকৃত ‘ঈদে মীলাদুন্নবী’ নামক নিকৃষ্ট বিদা’আত যেভাবে সুন্নীদের মাঝে সংক্রমিত হলঃ

https://wp.me/p19Oe7-1Qc