‘ বিদআত ও বিআতের পরিণতিঃ

قُلْ اِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ اللّٰهَ فَاتَّبِعُوْنِيْ يُحْبِبْكُمُ اللّٰهُ وَيَغْفِرْ لَـكُمْ
ذُنُوْبَكُمْ ۗ وَاللّٰهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
(হেব নবী) “বলে দাও, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তবে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহসকল ক্ষমা করবেন, বস্তুতঃ আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’।”
(Ali ‘Imran 3: Verse 31)

ۗ وَمَاۤ اٰتٰٮكُمُ الرَّسُوْلُ فَخُذُوْهُ وَمَا نَهٰٮكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوْا
” রাসূল তোমাদেরকে যা দেয় তা গ্রহণ কর,যা নিষেধ করে তা থেকে বিরত থাক।
(Al-Hashr 59: Verse 7)

اَطِيْعُوا اللّٰهَ وَالرَّسُوْلَ
‘তোমরা আল্লাহর ও রসূলের আজ্ঞাবহ হও’।
(Ali ‘Imran 3: Verse 32,132)
An-Nisa 4:13,59,69,80)
(Al-Mai’da 5:92)
(Al-Anfal 8:1,20,24,46)
(At-Tawba 9:71)
(An-Nur 24:1,20,24,46)
(Al-Ahzab 33:31,33)
(Muhammad 47:33)
(Al-Fath 48:17)
(Al-Hujurat 49:14)
(Al-Mijadilah 58:13)
(At-Taghabun 64:12)

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ فَمَاذَا بَعۡدَ ٱلۡحَقِّ إِلَّا ٱلضَّلَٰلُۖ ﴾ [يونس: ٣٢]

অর্থাৎ “সত্যের পর ভ্রষ্টতা ছাড়া আর কী আছে?” (সূরা ইউনুস ৩২ আয়াত)

তিনি আরো বলেন,

﴿ مَّا فَرَّطۡنَا فِي ٱلۡكِتَٰبِ مِن شَيۡءٖۚ ﴾ [الانعام: ٣٨]

অর্থাৎ “আমি কিতাবে কোন কিছু লিপিবদ্ধ করতে ত্রুটি করিনি।” (সূরা আনআম ৩৮ আয়াত)

﴿ وَأَنَّ هَٰذَا صِرَٰطِي مُسۡتَقِيمٗا فَٱتَّبِعُوهُۖ وَلَا تَتَّبِعُواْ ٱلسُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمۡ عَن سَبِيلِهِۦۚ﴾ [الانعام: ١٥٣]

অর্থাৎ “নিশ্চয়ই এটি আমার সরল পথ। সুতরাং এরই অনুসরণ কর এবং ভিন্ন পথ অনুসরণ করো না, করলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে।” (সূরা আনআম ১৫৩ আয়াত)

আল্লাহ আরও বলেছেনঃ
ۚ فَاِنْ تَنَازَعْتُمْ فِيْ شَيْءٍ فَرُدُّوْهُ اِلَى اللّٰهِ وَالرَّسُوْلِ
“যদি কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটে, তাহলে সেই বিষয়কে আল্লাহ এবং রসূলের (নির্দেশের) দিকে ফিরিয়ে দাও।
( An-Nisa’ 4: Verse 59)
هَاتُوا بُرْهٰنَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِينَ,
Produce your proof, if you should be truthful.”
তোমাদের প্রমাণ পেশ কর,যদি তুমরা সত্যবাদী হও।
( Al-Baqara: Verse 111)

جَآءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبٰطِلُ ۚ إِنَّ الْبٰطِلَ كَانَ زَهُوقًا
“সত্য এসেছে মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে,নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল”
( Al-Israa 17: Verse 81)

يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تُقَدِّمُوْا بَيْنَ يَدَيِ اللّٰهِ وَرَسُوْلِهٖ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ ۗ اِنَّ اللّٰهَ سَمِيْعٌ عَلِيْمٌ
“ওহে মু’মিনগণ! তোমরা (কোন বিষয়েই) আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আগে বেড়ে যেয়ো না, আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।”
(Al-Hujurat 49: Verse 1)

وَ مِنْهُمْ اُمِّيُّوْنَ لَا يَعْلَمُوْنَ الْكِتٰبَ اِلَّاۤ اَمَانِيَّ وَاِنْ هُمْ اِلَّا يَظُنُّوْنَ
“তাদের মাঝে এমন কিছু নিরক্ষর লোক আছে, যাদের মিথ্যা আকাঙ্ক্ষা ছাড়া কিতাবের কোন জ্ঞানই নেই, তারা কেবল অলীক ধারণা পোষণ করে।”
(Al-Baqarah 2: Verse 78)

রসূল (সাঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি ইসলামে এমন কিছু নতুন সৃষ্টি করল যা তার মধ্যে নেই তা বাতিল।”
বুখারী হা/২৬৯৭
মুসলিম হা/১৭১৮,
রসূল (রাঃ) আরো বলেছেন: “আর তোমরা দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টি করা থেকে সাবধান থেকো ! নিশ্চয় ইসলামে প্রত্যেক নতুন বিষয় বিদআ’ত। প্রত্যেক বিদআ’তই ভ্রষ্টতা। প্রত্যেক পথভ্রষ্টই জাহান্নামে থাকবে।”
মুসলিম- হা/১৫৩৫
নাসাঈ হা/১৫৬০
রসূল (রাঃ) আরো বলেছেনঃ
দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু উদ্ভাবন সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট কাজ। প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা।
ইবনু মাজাহ হা/৪৫
মুসলিম হা/৮৬৭,
নাসাঈ হা/১৫৭৮, ১৯৬২;
আবু দাঊদ হা/২৯৫৪,
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি আমার এই দ্বীনে কোনো নতুন কিছু উদ্ভাবন করল—যা তার মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য।’’ (বুখারী ও মুসলিম)

মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘‘যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল, যাতে আমাদের নির্দেশ নেই, তা বর্জনীয়।’’[1]
সহীহুল বুখারী ২৬৯৭,
মুসলিম ১৭১৮,
আবূ দাউদ ৪৬০৬,
ইবনু মাজাহ ১৪,
আহমাদ ২৩৯২৯,

রাসূল সা ইরশাদ করেছেনঃ
নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম কথা আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম রীতি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রীতি। আর নিকৃষ্টতম কাজ (দ্বীনে) নব আবিষ্কৃত কর্মসমূহ এবং প্রত্যেক বিদ‘আত ভ্রষ্টতা।’’
মুসলিম ৮৬৭,
নাসায়ী ১৫৭৮,
আবূ দাউদ ২৯৫৪, ২৯৫৬,
ইবনু মাজাহ ৪৫, ২৪১৬,
আহমাদ ১৩৭৪৪, ১৩২৪,
রাসূল (সা) আরও বলেন,
তোমরা আমার সুন্নত ও সুপথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদ্বীনের রীতিকে আঁকড়ে ধরবে এবং তা দাঁত দিয়ে মজবূত করে ধরে থাকবে। আর তোমরা দ্বীনে নব উদ্ভাবিত কর্মসমূহ (বিদ‘আত) থেকে বেঁচে থাকবে। কারণ, প্রত্যেক বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা
আবূ দাউদ ৪৬০৭,
দারেমী ৯৫,
রিয়াযুস স্বালিহীন ১৭৫
বিদআতের সংজ্ঞাঃ
বিদআত শব্দের অভিধানিক অর্থঃ
*পূর্ববর্তী কোন নমুনা ছাড়াই নতুন আবিষ্কৃত বিষয়।
আন-নিহায়াহ,পৃ ৬৯,
কাওয়াযেদ মা’রিফাতিল বিদ’আহ, পৃঃ১৭
*আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে নতুন করে যার প্রচলন করা হয়েছে এবং এর পক্ষে শরিয়তের কোন ব্যাপক ও সাধারণ কিংবা খাস ও সুনির্দিষ্ট দলীল নেই।
কাওয়াযেদ মা’রিফাতিল বিদ’আহ, পৃঃ২৪
ইমাম ইবনুল যাওজী রহ বলেন,
বিদআত বলতে বুঝায় এমন কাজকে যা ছিলনা অতঃপর উদ্ভাবন করা হয়েছে।
তালবীসু ইবলীস, পৃঃ ১৬
হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু বলেন,
যে সকল ইবাদত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম এর সাহাবাগণ করেন নি তোমরা সে সকল ইবাদাত কর না।
সহীহ বুখারী
মালিক ইবনে আনাস রহ. বলেন এই উম্মাতের প্রথম প্রজন্ম যে আমল দ্বারা সংশোধিত হয়েছিল একমাত্র সেই আমল দ্বারাই উম্মাতের শেষ প্রজন্ম সংশোদিত হতে পারে।
ইকতিযা আস-সিরাত আল মুস্তাকিম ২/৭১৮
ইমাম ইবনু তাইমিয়া রহ. কিছু বিদআতের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বলেন,
এ কথা জানা যে,যদি একাজটি শরীয়তসম্মত ও মুস্তাহাব হত যদদ্বারা আল্লাহ সাওয়াব দিয়ে থাকেন,তাহলে নবী করিম (সা) এ ব্যাপারে সবচেয় বেশি অবহিত থাকতেন এবং অবশ্যই তাঁর সাহাবীদেরকে তা জানাতেন,আর তাঁর সাহাবীরাও সে বিষয়ে অন্যদের চেয়েও বেশি অবহিত থাকতেন এবং পরবর্তী লোকদের চেয়েও এ আমলে বেশী আগ্রহী হতেন।কিন্তু যখন তারা এ প্রকার আমলের দিকে কোন ভ্রুক্ষেপই করলেন না তাতে বোঝা গেল যে,তা নব উদ্ভাবিত এমন বিদআত যাকে তারা ইবাদাত,নৈকট্য ও আনুগত্য হিসাবে বিবেচনা করতেন না।অতএব এখন যারা একে ইবাদাত,নৈকট্য,সাওয়াবের কাজ ও আনুগত্য হিসাবে প্রদর্শন করছে তারা সাহাবাদের পথ ভিন্ন অন্য পথ অনুসরন করছেন এবং দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু প্রচলন করছেন যার অনুমতি আল্লাহ প্রদান করেননি।
ইকতিযা আস-সিরাত আল মুস্তাকিম ২/৭৯৮
তিনি আরো বলেন,
আর যে ধরনের ইবাদত পালন থেকে নবী করীম (সা) বিরত থেকেছেন অথচ শরীয়ত সম্মত হত তাহলে তাহলে তিনি নিজে অবশ্যই পালন করতেন, অথবা অনুমতি প্রদান করতেন এবং তাঁর পরে খলীফাগণ ও সাহাবীগন তা পালন করতেন।অতএব এ কথা নিশ্চিত ভাবে বিশ্বাস করা ওয়াজিব যে একাজটি বিদআত ও ভ্রষ্টতা।
মাযমু আল ফাতাওয়া -১৬/১৭২
এর দ্বারা বুঝা গেলযে যে সকল ইবাদাত পালন করা থেকে রাসূল (সা) নিজে এবং তাঁর পরে উম্মাতের প্রথম প্রজন্মের আলিমগন বিরত থেকেছেন নিঃসন্দেহে সেগুলো বিদআত ও ভ্রষ্টতা।পরবর্তী যুগে কিংবা আমাদের যুগে এসে এগুলোকে ইবাদাত হিসেবে গণ্য করার কোন শরয়ী’ ভিত্তি নেই।
ইমাম যাহাবী বলেন,
জন্ম উৎসব, নববর্ষ উৎসব পালনের মাধ্যমে অমুসলিমদের অনুকরণ নিকৃষ্ট বিদআত।
আত-তামাসসুক-বিসসুনান পৃঃ ১৩০

প্রচলিত কিছু বিদআত –
১.মুখে উচ্চারন করে প্রতেক নামাজের জন্য নিয়ত করা।(নিয়ত করা ফরজ,মুখে উচ্চারন করে নিয়ত করা বিদআত)
২.ওজুর আগে মুখে উচ্চারন করে নিয়ত করা।
৩.ওযু করার সময় ঘাড় মাসাহ করা।
৪.রোজার নিয়ত মুখে উচ্চারন করে পাঠ করা।
৫.ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা।
৬.নামাজের শেষে সালাম ফিরানোর পর সবাইকে নিয়ে একসাতে মুনাজাত করা।
৭,শবেবরাত রাতে ১০০রাকআত সালাত বিশেষ পদ্ধতিতে আদায় করা।
৮.পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ও জুমা ছাড়া অন্যান্য সালাতের জন্য আজান দেওয়া।
৯.বিপদ-আপদ ও ঝড়-তুফান আসলে ঘরে আজান দেওয়া।
১০.আল্লাহর কাছে সাওয়াব ও বরকত লাভের প্রতাশায় অথবা,যে কোন কাজে আল্লাহর সাহায্য লাভের উদ্দেশ্য মিলাদ পড়া।
১১.কাফিরদের উৎসব ও পর্ব অনুষ্টানের অনুকরণে উৎসব ও পর্ব পালন করা।
১২.অমুসলিমদের সাথে খাস যে সকল প্রথা ও ইবাদত রয়েছে মুসলিমদের মধ্যে সেগুলো অনুসরণ করা।
রাসূল (সাঃ) আনীত দ্বীন একটি পূর্নাঙ্গ দ্বীনঃ
وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْـكِتٰبَ تِبْيَانًا لِّـكُلِّ شَيْءٍ وَّ هُدًى وَّرَحْمَةً وَّبُشْرٰى لِلْمُسْلِمِيْنَ
আমি তোমার প্রতি এ কিতাব নাযিল করেছি যা প্রত্যেকটি বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা, সত্য পথের নির্দেশ, রহমাত আর আত্মসমর্পণকারীদের জন্য সুসংবাদ স্বরূপ।”
(An-Nahl 16: Verse 89)
اَ لْيَوْمَ اَكْمَلْتُ لَـكُمْ دِيْنَكُمْ وَاَ تْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِيْ وَرَضِيْتُ لَـكُمُ الْاِسْلَامَ دِيْنًا
“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিআমাত পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে কবূল করে নিলাম।
(Al-Ma’idah 5: Verse 3)

আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,
রাসূল (সা) বাতাসে দুই ডানা মেলে উড়ন্ত পাখির বিষয়েও আমাদের শিক্ষা দিতে ছাড়েন নি।
আহমদ, হাদীস নং ২১৬৮৯,২১৭৭০,২১৭৭১
একজন মুশরিক সালমান ফারসী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেনঃ
তোমাদের নবী তোমাদেরকে সবকিছু শিখিয়েছেন,এমনকু পায়খানা পেশাবের নিয়ম পদ্ধতি। তিনি বললেন হ্যাঁ।রাসূল (সা) আমাদের পায়খানা ও পেশাবের সময় কিবলামূখ হওয়া,তিনটি কম পাথর দ্বারা পবিত্রতা হাসিল করা, ডান হাত দ্বারা পবিত্রতা হাসিল করা অথবা গোবর ও হাড় দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করতে নিষেদ করেছেন।
সহীহ মুসলিম, তাহারাত অধ্যায়,পরিচ্ছেদ -আল-ইস্তিবাহ,হাদীস নং ২৬৯

গ্রন্থঃ ছালাতুর রাসূল (ছাঃ)
অধ্যায়ঃ জানাযার ছালাত (صلاة الجنازة)

মৃত্যুর পরে প্রচলিত বিদ‘আত সমূহ

মৃত্যুর পরে প্রচলিত বিদ‘আত সমূহ (البدع المروجة بعد الموت)

(১) মৃত্যুর আগে বা পরে মাইয়েতকে ক্বিবলার দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া
(২) মাইয়েতের শিয়রে বসে সূরা ইয়াসীন বা কুরআন তেলাওয়াত করা (তালখীছ ৯৬, ৯৭)।
(৩) মাইয়েতের নখ কাটা ও গুপ্তাঙ্গের লোম ছাফ করা (৯৭)
(৪) কাঠি দিয়ে (বা নির্দিষ্ট সংখ্যক নিম কাঠি দিয়ে) দাঁত খিলাল করানো
(৫) নাক-কান-গুপ্তাঙ্গ প্রভৃতি স্থানে তুলা ভরা (৯৭)
(৬) দাফন না করা পর্যন্ত পরিবারের লোকদের না খেয়ে থাকা (৯৭)
(৭) বাড়ীতে বা কবরস্থানে এই সময় ছাদাক্বা বিলি করা (৯৯, ১০৩)
(৮) চীৎকার দিয়ে কান্নাকাটি করা, বুক চাপড়ানো, কাপড় ছেঁড়া, মাথা ন্যাড়া করা, দাড়ি-গোঁফ না মুন্ডানো ইত্যাদি (১৮, ৯৭)
(৯) তিন দিনের অধিক (সপ্তাহ, মাস, ছয় মাস ব্যাপী) শোক পালন করা (১৫, ৭৩) কেবল স্ত্রী ব্যতীত। কেননা তিনি ৪ মাস ১০ দিন ইদ্দত পালন করবেন
(১০) কাফির, মুশরিক, মুনাফিকদের জন্য দো‘আ করা (৪৮)
(১১) শোক দিবস (শোকের মাস ইত্যাদি) পালন করা, শোকসভা করা ও এজন্য খানাপিনার বা (কাঙ্গালী ভোজের) আয়োজন করা ইত্যাদি (৭৩-৭৪)
(১২) মসজিদের মিনারে বা বাজারে মাইকে অলি-গলিতে ‘শোক সংবাদ’ প্রচার করা (১৯, ৯৮)
(১৩) কবরের উপরে খাদ্য ও পানীয় রেখে দেওয়া। যাতে লোকেরা তা নিয়ে যায় (১০৩)
(১৪) মৃতের কক্ষে তিন রাত, সাত রাত (বা ৪০ রাত) ব্যাপী আলো জ্বেলে রাখা (৯৮)
(১৫) কাফনের কাপড়ের উপরে কুরআনের আয়াত ও দো‘আ-কালেমা ইত্যাদি লেখা (৯৯)
(১৬) এই ধারণা করা যে, মাইয়েত জান্নাতী হ’লে ওযনে হালকা হয় ও দ্রুত কবরের দিকে যেতে চায় (৯৯)
(১৭) মাইয়েতকে দূরবর্তী নেককার লোকদের গোরস্থানে নিয়ে দাফন করা (৯৯)
(১৮) জানাযার পিছে পিছে উচ্চৈঃস্বরে যিকর ও তেলাওয়াত করতে থাকা (১০০)
(১৯) জানাযা শুরুর প্রাক্কালে মাইয়েত কেমন ছিলেন বলে লোকদের কাছ থেকে সমস্বরে সাক্ষ্য নেওয়া (১০১)
(২০) জানাযার ছালাতের আগে বা দাফনের পরে তার শোকগাথা বর্ণনা করা (১০০)
(২১) জুতা পাক থাকা সত্ত্বেও জানাযার ছালাতে জুতা খুলে দাঁড়ানো (১০১)।
(২২) কবরে মাইয়েতের উপরে গোলাপ পানি ছিটানো (১০২)
(২৩) কবরের উপরে মাথার দিক থেকে পায়ের দিকে ও পায়ের দিক থেকে মাথার দিকে পানি ছিটানো। অতঃপর অবশিষ্ট পানিটুকু কবরের মাঝখানে ঢালা (১০৩)
(২৪) তিন মুঠি মাটি দেওয়ার সময় প্রথম মুঠিতে ‘মিনহা খালাক্বনা-কুম’ দ্বিতীয় মুঠিতে ‘ওয়া ফীহা নু‘ঈদুকুম’ এবং তৃতীয় মুঠিতে ‘ওয়া মিনহা নুখরিজুকুম তা-রাতান উখরা’ বলা (ত্বোয়াহা ৫৫; ১০২) (২৫) অথবা ‘আল্লা-হুম্মা আজিরহা মিনাশ শায়ত্বান’…. পাঠ করা (ইবনু মাজাহ হা/১৫৫৩, ‘যঈফ’)। (২৬) কবরে মাথার দিকে দাঁড়িয়ে সূরায়ে ফাতিহা ও পায়ের দিকে দাঁড়িয়ে সূরায়ে বাক্বারাহর শুরুর অংশ পড়া (১০২)
(২৭) সূরায়ে ফাতিহা, ক্বদর, কাফেরূণ, নছর, ইখলাছ, ফালাক্ব ও নাস এই সাতটি সূরা পাঠ করে দাফনের সময় বিশেষ দো‘আ পড়া (১০২)
(২৮) কবরের কাছে বসে কুরআন তেলাওয়াত ও খতম করা (১০৪)
(২৯) কবরের উপরে শামিয়ানা টাঙ্গানো (১০৪)
(৩০) নির্দিষ্ট ভাবে প্রতি জুম‘আয় কিংবা সোম ও বৃহস্পতিবারে পিতা-মাতার কবর যেয়ারত করা (১০৫) (৩১) এতদ্ব্যতীত আশূরা, শবে মে‘রাজ, শবেবরাত, রামাযান ও দুই ঈদে বিশেষভাবে কবর যেয়ারত করা (৩২) কবরের সামনে হাত জোড় করে দাঁড়ানো ও সূরায়ে ফাতিহা ১ বার, ইখলাছ ১১ বার কিংবা সূরা ইয়াসীন ১ বার পড়া (১০৫)।
(৩৩) কুরআন পাঠকারীকে উত্তম খানা-পিনা ও টাকা-পয়সা দেওয়া বা এ বিষয়ে অছিয়ত করে যাওয়া (১০৪, ১০৬)
(৩৪) কবরকে সুন্দর করা (১০৭)।
(৩৫) কবরে রুমাল, কাপড় ইত্যাদি বরকত মনে করে নিক্ষেপ করা (১০৮) ।
(৩৬) কবরে চুম্বন করা (১০৮)।
(৩৭) কবরের গায়ে মৃতের নাম ও মৃত্যুর তারিখ লেখা (১০৯)।
(৩৮) কবরের গায়ে বরকত মনে করে হাত লাগানো এবং পেট ও পিঠ ঠেকানো (১০৮)।
(৩৯) ত্রিশ পারা কুরআন (বা সূরা ইয়াসীন) পড়ে এর ছওয়াব সমূহ মৃতের নামে বখশে দেয়া (১০৬)। যাকে এদেশে ‘কুরআনখানী’ বলে।
(৪০) কাফেরূণ, ইখলাছ, ফালাক্ব ও নাস এই চারটি ‘কুল’ সূরার প্রতিটি ১ লক্ষ বার পড়ে মৃতের নামে বখশে দেওয়া, যাকে এদেশে ‘কুলখানী’ বলে।
(৪১) কালেমা ত্বাইয়িবা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ১ লক্ষ বার পড়ে মৃতের নামে বখশে দেওয়া, যাকে এদেশে ‘কালেমাখানী’ বলে।
(৪২) ১ম, ৩য়, ৭ম (বা ১০ম দিনে) বা ৪০ দিনে চেহলাম বা চল্লিশার অনুষ্ঠান করা
(৪৩) ‘খানা’র অনুষ্ঠান করা (১০৩)
(৪৪) যারা কবর খনন করে ও দাফনের কাজে সাহায্য করে, তাদেরকে মৃতের বাড়ী দাওয়াত দিয়ে বিশেষ খানার ব্যবস্থা করা। যাকে এদেশে ‘হাত ধোয়া খানা’ বলা হয়
(৪৫) আযান শুনে নেকী পাবে বা গোর আযাব মাফ হবে ভেবে মসজিদের পাশে কবর দেওয়া
(৪৬) কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ‘ফাতিহা’ পাঠ করা (২০)
(৪৭) কাফন-দাফনের কাজকে নেকীর কাজ না ভেবে পয়সার বিনিময়ে কাজ করা
(৪৮) মৃত ব্যক্তির কবরের পাশে আলো জ্বেলে ও মাইক লাগিয়ে রাত্রি ব্যাপী উচ্চৈঃস্বরে কুরআন খতম করা
(৪৯) মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা (১০৪, ১০৬)
(৫০) ছালাত, ক্বিরাআত ও অন্যান্য দৈহিক ইবাদত সমূহের নেকী মৃতদের জন্য হাদিয়া দেওয়া (১০৬)। যাকে এদেশে ‘ছওয়াব রেসানী’ বলা হয়
(৫১) আমল সমূহের ছওয়াব রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নামে (বা অন্যান্য নেককার মৃত ব্যক্তিদের নামে) বখশে দেওয়া (১০৬)। যাকে এদেশে ‘ঈছালে ছওয়াব’ বলা হয়
(৫২) নেককার লোকদের কবরে গিয়ে দো‘আ করলে তা কবুল হয়, এই ধারণা করা (১০৮)।

(৫৩) মৃত্যুর সাথে সাথে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায় বলে ধারণা করা
(৫৪) জানাযার সময় স্ত্রীর নিকট থেকে মোহরানা মাফ করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা
(৫৫) ঐ সময় মৃতের ক্বাযা ছালাত সমূহের বা উমরী ক্বাযার কাফফারা স্বরূপ টাকা আদায় করা
(৫৬) মৃত্যুর পরপরই ফকীর-মিসকীনদের মধ্যে চাউল ও টাকা-পয়সা বিতরণ করা
(৫৭) দাফনের পরে কবরস্থানে মহিষ বা গবাদি-পশু যবহ করে গরীবদের মধ্যে গোশত বিতরণ করা (৫৮) লাশ কবরে নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় তিনবার নামানো
(৫৯) কবরে মাথার কাছে ‘মক্কার মাটি’ নামক আরবীতে ‘আল্লাহ’ লেখা মাটির ঢেলা রাখা
(৬০) মাইয়েতের মুখে ও কপালে আতর দিয়ে ‘আল্লাহ’ লেখা
(৬১) কবরে মোমবাতি, আগরবাতি ইত্যাদি দেওয়া
(৬২) পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতের সময় বদনায় পানি দিয়ে যাওয়া এই নিয়তে যে, মৃতের রূহ এসে ওযূ করে ছালাত আদায় করে যাবে
(৬৩) মৃতের ঘরে ৪০ দিন যাবৎ বিশেষ লৌহজাত দ্রব্য রাখা
(৬৪) মৃত্যুর ২০দিন পর রুটি বিলি করা ও ৪০ দিন পর বড় ধরনের ‘খানা’র অনুষ্ঠান করা
(৬৫) মৃতের বিছানা ও খাট ইত্যাদি ৭দিন পর্যন্ত একইভাবে রাখা
(৬৬) মৃতের পরকালীন মুক্তির জন্য তার বাড়ীতে মীলাদ বা ওয়ায মাহফিল করা(৬৭) নববর্ষ, শবেবরাত ইত্যাদিতে কোন বুযর্গ ব্যক্তিকে ডেকে মৃতের কবর যিয়ারত করিয়ে নেওয়া ও তাকে বিশেষ সম্মানী প্রদান করা
(৬৮) শবেবরাতে ঘরবাড়ী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে মৃত স্বামীর রূহের আগমন অপেক্ষায় তার পরিত্যক্ত কক্ষে বা অন্যত্রে সারা রাত জেগে বসে থাকা ও ইবাদত-বন্দেগী করা
(৬৯) ঈছালে ছওয়াবের অনুষ্ঠান করা
(৭০) নিজের কোন একটি বা একাধিক সমস্যা সমাধানের নিয়তে কবরের গায়ে বা পাশের কোন গাছের ডালে বিশেষ ধরনের সুতা বা ইটখন্ড ঝুলিয়ে রাখা।
(৭১) মাযার থেকে ফিরে আসার সময় কবরের দিকে মুখ করে বেরিয়ে আসা
(৭২) মৃত্যুর আগেই কবর তৈরী করা (১০৪)
(৭৩) কবরে মৃত ব্যক্তির ব্যবহৃত বস্ত্ত সমূহ রাখা এই ধারণায় যে, সেগুলি তার কাজে আসবে
(৭৪) কবরে কা‘বা গৃহের কিংবা কোন পীরের কবরের গেলাফের অংশ কিংবা তাবীয লিখে দাফন করা এই ধারণায় যে, এগুলি তাকে কবর আযাব থেকে বাঁচিয়ে দেবে
(৭৫) কবরে ‘ওরস’ উপলক্ষে বা অন্য সময়ে রান্না করা খিচুড়ী বা তৈরী করা রুটি বা মিষ্টি ‘তাবাররুক’ নাম দিয়ে বরকতের খাদ্য মনে করে ভক্ষণ করা
(৭৬) আজমীরে খাজাবাবার কবরে টাকা পাঠানো বা অন্য কোন পীর বাবার কবরে গরু-ছাগল, টাকা-পয়সা ও অন্যান্য হাদিয়া পাঠানো
(৭৭) কবরের মধ্যবর্তী স্থানে আঙ্গুল প্রবেশ করিয়ে মৃতের জন্য দো‘আ পড়া
(৭৮) কবরের উপরে একটি বা চার কোণে চারটি কাঁচা খেজুরের ডাল পোতা বা কোন গাছ লাগানো এই ধারণা করে যে, এর প্রভাবে কবর আযাব হালকা হবে।

(৭৯) খাটিয়া ও মাইয়েত ঢাকার কাপড় খুব সুন্দর করা (৯৯)
(৮০) কালেমা ও পবিত্র কুরআনের আয়াত লিখিত কালো কাপড় দিয়ে খাটিয়া ঢাকা।
(৮১) মৃতের প্রত্যেক অঙ্গ ধোয়ার সময় পৃথক পৃথক দো‘আ পড়া (৯৮)
(৮২) জানাযা বহনের সাথে সাথে ছাদাক্বা বিতরণ করা এবং লোকদের কোল্ড ড্রিংকস পান করানো (৯৯)
(৮৩) লাশের নিকট ভিড় করা (৯৯)
(৮৪) মৃতের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী বা অন্য কোন উপলক্ষে দিনভর উচ্চৈঃস্বরে তার বক্তৃতা বা কুরআনের ক্যাসেট বাজানো
(৮৫) বিশেষ কোন নেককার ব্যক্তির কবর থাকার কারণে জনপদের লোকেরা রূযিপ্রাপ্ত হয় ও আল্লাহর সাহায্যপ্রাপ্ত হয় বলে ধারণা পোষণ করা (১০৬)।

(৮৬) জানাযা শুরুর পূর্বে ইমামের পক্ষ থেকে মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে উচ্চৈঃস্বরে ‘নিয়ত’ বলে দেওয়া
(৮৭) ইমাম ও মুক্তাদীর ‘ছানা’ পড়া (১০১)।
(৮৮) সূরা ফাতিহা ও একটি সূরা ছাড়াই জানাযার ছালাত আদায় করা (১০১)।
(৮৯) জানাযা শেষ হবার পরেই সেখানে দাঁড়িয়ে অথবা দাফন শেষে একজনের নেতৃত্বে সকলে দু’হাত তুলে দলবদ্ধভাবে মুনাজাত করা।
(৯০) জানাযার সময়ে সকলকে মৃতের বাড়ীতে কুলখানির অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়া।

উপরে বর্ণিত বিষয়গুলি ছাড়াও মৃত ব্যক্তি ও কবরকে কেন্দ্র করে হাযারো রকমের শিরকী আক্বীদা ও বিদ‘আতী রসম-রেওয়াজ উপমহাদেশে মুসলিম সমাজে চালু আছে। অতএব প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য হবে এসকল শিরক ও বিদ‘আতী কর্মকান্ড হ’তে দূরে থাকা। আল্লাহ আমাদের হেফাযত করুন।- আমীন!!

জানা আবশ্যক যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) দু’টি কবরের উপরে যে খেজুরের দু’টি কাঁচা চেরা ডাল পুঁতেছিলেন, সেটা ছিল তাঁর জন্য ‘খাছ’। তাঁর বা কোন ছাহাবীর পক্ষ থেকে পরবর্তীতে এমন কোন আমল করার নযীর নেই বুরাইদা আসলামী (রাঃ) ব্যতীত। কেননা তিনি এটার জন্য অছিয়ত করেছিলেন (বুখারী)। অতএব এটা স্পষ্ট যে, কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে নেক আমলের কারণেই কবর আযাব মাফ হ’তে পারে। ফুল দেওয়া বা কাঁচা ডাল পোতার কারণে নয়। কেননা এসবের কোন প্রভাব মাইয়েতের উপর পড়ে না। যেমন আব্দুর রহমান (রাঃ)-এর কবরের উপর তাঁবু খাটানো দেখে ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন, ওটাকে হটিয়ে ফেল হে বৎস! কেননা ওটা তার আমলের উপরে ছায়া করছে বা বাধা সৃষ্টি করছে।[121]

♥♥ বোন…

এই কথাটা অাজ সব ছেলেদের মুখে শোনা যাই।এই নামটি বলে অনেক দ্বীন পালন করা যুবক যুবতীরা অাজ হারাম রিলেশনে অাবদ্ধ।এই হারাম রিলেশনকে তারা কিছুই মনে করছে না তাদেরকে শয়তান নেক শুরাতে ধোকা দিয়েই যাচ্ছে।

শয়তান মানুষের আজন্ম শত্রু। এমন কোনো অপরাধ কর্মকাণ্ড নেই যা সে মানুষকে দিয়ে করাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত শয়তানের ধোঁকায় পড়ে মানুষ নানানরকম অপরাধে লিপ্ত হয়।
পৃথিবীতে যাবতীয় পাপাচার, অন্যায়-অত্যাচার মানুষে মানুষে ঝগড়া, হানাহানি, বিদ্ধেষ, দ্বন্ধ-বিবাদ, মোদ্দা কথা সমস্ত অনাচারের মুল প্রেরণাদায়ক হলো শয়তান ।

মহান আল্লাহ তাআলা মুুমিনদের শয়তানের প্ররোচনায় প্রলুব্ধ হতে নিষেধ করেছেন। পবিত্র কোরআনে তিনি ইরশাদ করেন ‘হে মুসলিমগণ! তোমরা পূর্ণরূপে ইসলামের মধ্যে প্রবিষ্ট হও এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু (সূরা বাকারাহ আয়াত-২০৮)

মহান রবের সতর্কতা ও নিষেধাজ্ঞার কথা জানা সত্তেও আমরা প্রতিনিয়ত শয়তানের ধোঁকায় পতিত হচ্ছি। শয়তানের প্ররোচনায় উদ্ভুদ্ধ হয়ে প্রত্যহ পাপাচারে লিপ্ত হচ্ছি। এর কারণ হলো শয়তান প্রতিটা মুহুর্তে মুহুর্তে মানুষকে তার ধোঁকার ফাঁদে ফেলতে পারে। এ শক্তি তাকে আল্লাহ তাআলাই দিয়েছেন। আবার আল্লাহ তাআলাই আমাদেরকে এর থেকে বাঁচার উপায় শিখিয়ে দিয়েছেন।পবিত্র কোরআনে সূরা হা-মীম সেজদার ৩৬নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
‘যদি শয়তানের কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে তাহলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা কর। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’

ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨَّﺒﻲِّ ﷺ، ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﻣَﺎ ﺗَﺮَﻛْﺖُ ﺑَﻌْﺪِﻱ ﻓِﺘْﻨَﺔً ﻫِﻲَ ﺃﺿَﺮُّ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺮِّﺟَﺎﻝِ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨِّﺴﺎﺀ ‏» . ﻣُﺘَّﻔَﻖٌ ﻋَﻠَﻴﻪِ বাংলা অনুবাদ উসামাহ ইবনে যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি পর পুরুষের জন্য নারীর চেয়ে বেশী ক্ষতিকারক অন্য কোন ফিতনা ছাড়লাম না।’’ [বুখারি৫০৯৬, মুসলিম ২৭৪০, ২৭৪১, তিরমিযি ২৭৮০, ইবন মাজাহ ৩৯৯৮, আহমদ ২১২৩৯, ২১৩২২

আবূ হুরায়রা সুত্রে নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আদম সন্তানের উপর যিনার যে অংশ লিপিবদ্ধ আছে তা অবশ্যই সে প্রাপ্ত হবে। দু-চোখের যিনা হল (নিষিদ্ধ যৌনতার প্রতি) দৃষ্টিপাত করা, দু’কানের যিনা হল শ্রবণ করা, রসনার যিনা হল কথোপকথন করা, হাতের যিনা হল স্পর্শ করা, পায়ের যিনা হল হেঁটে যাওযা, অন্তরের যিনা হচ্ছে আকাংখা ও কামনা করা। আর যৌনাঙ্গ অবশেষে তা বাস্তবায়িত করে অথবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে।
— সহীহ বুখারী, ৮:৭৭:৬০৯ (ইংরেজি),সহীহ মুসলিম, ৩৩:৬৪২১ (ইংরেজি)

অাল্লাহ হারাম রেলেশন থেকে বাঁচার তৌফিক দান করুন।

🔵স্ত্রী নির্বাচন এবং ভালো স্ত্রীর গুণাগুনঃ

عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: سُئِلَ النَّبِيُّ ﷺ أَيُّ النِّسَاءِ خَيْرٌ؟ قَالَ الَّتِي تَسُرُّهُ إِذَا نَظَرَ إِلَيْهَا وَتُطِيعُهُ إِذَا أَمَرَ وَلَا تُخَالِفُهُ فِيمَا يَكْرَهُ فِي نَفْسِهَا وَلَا فِي مَالِهِ
(২৫৪৬) আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘কোন্ স্ত্রী সর্বশ্রেষ্ঠ?’ তিনি বললেন, ‘‘শ্রেষ্ঠ স্ত্রী সেই, যার প্রতি তার স্বামী দৃকপাত করলে সে তাকে খোশ করে দেয়, কোন আদেশ করলে তা পালন করে এবং তার জীবন ও সম্পদে স্বামীর অপছন্দনীয় বিরুদ্ধাচরণ করে না।’’ (আহমাদ ৯৫৮৭, নাসাঈ ৩২৩১, হাকেম ২৬৮২, বাইহাক্বী ১৩২৫৫, সিলসিলাহ সহীহাহ ১৮৩৮)
হাদীস সম্ভার হাদিস নম্বরঃ ২৫৪৬
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

🔵 *স্ত্রী নির্বাচন*

عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ قَالَ النبي ﷺ لِيَتَّخِذْ أَحَدُكُمْ قَلْبًا شَاكِرًا وَلِسَانًا ذَاكِرًا وَزَوْجَةً تُعِينُهُ عَلٰى أَمْرِ الْآخِرَةِ
(২৫৪৭) সাওবান থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তোমাদের প্রত্যেককে কৃতজ্ঞ হৃদয়, (আল্লাহর) যিকরকারী জিহবা এবং আখেরাতের কাজে সহায়িকা মুমিন স্ত্রী গ্রহণ করা উচিত।’’ (আহমাদ ২২৪৩৭, ইবনে মাজাহ ১৮৫৬, সহীহ সনদে)
হাদীস সম্ভার হাদিস নম্বরঃ ২৫৪৭
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

🔵*স্ত্রী নির্বাচন*

عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إِنَّ مِنْ يُمْنِ الْمَرْأَةِ تَيْسِيرَ خِطْبَتِهَا وَتَيْسِيرَ صَدَاقِهَا وَتَيْسِيرَ رَحِمِهَا
(২৫৪৮) আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘নারীর অন্যতম বরকত এই যে, তার পয়গাম সহজ হবে, তার মোহর স্বল্প হবে এবং তার গর্ভাশয় সন্তানময় হবে।’’ (আহমাদ ২৪৪৭৮, হাকেম ২৭৩৯, বাইহাক্বী ১৪৭৪৬, সহীহুল জামে’ হা/ ২২৩৫)
হাদীস সম্ভার হাদিস নম্বরঃ ২৫৪৮
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

🔵*স্ত্রী নির্বাচন*

عَنْ أَبِى أُذَيْنَةَ الصَّدَفِىِّ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ خَيْرُ نِسائِكُمُ الوَلُودُ الوَدُودُ المُواسِيةُ المُواتِيَةُ إذا اتَّقَيْنَ الله
(২৫৪৯) আবূ উযাইনাহ স্বাদাফী থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ স্ত্রী সে, যে প্রেমময়ী, অধিক সন্তানদাত্রী, যে (স্বামীর) সহমত অবলম্বন করে, (স্বামীকে বিপদেশোকে) সান্ত্বনা দেয় এবং সেই সাথে আল্লাহর ভয় রাখে।’’ (বাইহাক্বী ১৩২৫৬, সহীহ জামে ৩৩৩০)
হাদীস সম্ভার হাদিস নম্বরঃ ২৫৪৯
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

🔵*স্ত্রী নির্বাচন*

وَعَن سَعدِ بنِ أَبِـيْ وَقَّاصٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْبَعٌ مِنَ اَلسعَادَةِ : الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ وَالْمَسْكَنُ ألوَاسِعُ وَاَلجَارُ الصَّالِحُ وَالْمَرْكَبُ اَلهَنِيءُ وَأَرْبَغ مِنَ اَلشًقَاوَةِ : اَلْجَارُ السُّوءُ وَألْمَرْأَةُ اَلسُّوءُ وَالْمَسْكَنُ اَلضيقُ وَالْمَرْكَبُ السُّوءُ
(২৫৫০) সা’দ বিন আবী অক্কাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘পুরুষের জন্য সুখ ও সৌভাগ্যের বিষয় হল চারটি; সাধ্বী স্ত্রী, প্রশস্ত বাড়ি, সৎ প্রতিবেশী এবং সচল সওয়ারী (গাড়ি)। আর দুখ ও দুর্ভাগ্যের বিষয়ও চারটি; অসৎ পতিবেশী, অসতী স্ত্রী, সংকীর্ণ বাড়ি এবং খারাপ সওয়ারী (গাড়ি)।’’ (ইবনে হিব্বান ৪০৩২, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৯৫৫৬, সিলসিলাহ সহীহাহ ২৮২)
হাদীস সম্ভার হাদিস নম্বরঃ ২৫৫০
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

🔵 *স্ত্রী নির্বাচন*

عَنْ أَبِى سَعِيدٍ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ لاَ تُصَاحِبْ إِلاَّ مُؤْمِنًا وَلاَ يَأْكُلْ طَعَامَكَ إِلاَّ تَقِىٌّ
(২৫৫১) আবূ সাঈদ কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘মুমিন ছাড়া কারো সঙ্গী হয়ো না এবং পরহেযগার ব্যক্তি ছাড়া তোমার খাদ্য যেন অন্য কেউ না খেতে পায়।’’ (আহমাদ, আবূ দাঊদ ৪৮৩৪, তিরমিযী ২৩৯৫, হাকেম)
হাদীস সম্ভার হাদিস নম্বরঃ ২৫৫১
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

🔵*স্ত্রী নির্বাচন*

عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لأَرْبَعٍ لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَلِجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ
(২৫৫২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘মহিলার চারটি জিনিস দেখে বিবাহ করা হয়; তার সম্পদ, উচ্চ বংশ, রূপ ও দ্বীন দেখে। তুমি দ্বীনদার মহিলা পেতে সফল হও, তোমার হাত ধূলিধূসরিত হোক।’’ (বুখারী ৫০৯০, মুসলিম ৩৭০৮)
হাদীস সম্ভার হাদিস নম্বরঃ ২৫৫২
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

🔵*স্ত্রী নির্বাচন*

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ الدُّنْيَا مَتَاعٌ وَخَيْرُ مَتَاعِ الدُّنْيَا الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ
(২৫৫৩) আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘দুনিয়া (তার সবকিছু) উপভোগ্য বস্তু। আর দুনিয়ার উপভোগ্য বস্তুসমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ বস্তু হল পুণ্যময়ী স্ত্রী।’’ (মুসলিম
৩৭১৬)
হাদীস সম্ভার হাদিস নম্বরঃ ২৫৫৩
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

🔵*স্ত্রী নির্বাচন*

عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ مَنْ رَزَقَهُ الله امْرَأَةً صَالِحَةً فَقَدْ أَعَانَهُ عَلٰى شَطْرِ دِينِهِ فَلْيَتَّقِ الله فِي الشَّطْرِ الْبَاقِي
(২৫৫৪) আনাস বিন মালিক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আল্লাহ যাকে পুণ্যময়ী স্ত্রী দান করেছেন, তাকে তার অর্ধেক দ্বীনে সাহায্য করেছেন। সুতরাং বাকী অর্ধেকের ব্যাপারে তার আল্লাহকে ভয় করা উচিত।’’ (ত্বাবারানীর আওসাত্ব ৯৭২, হাকেম ২৬৮১, বাইহাক্বী, সঃ তারগীব ১৯১৬)
হাদীস সম্ভার হাদিস নম্বরঃ ২৫৫৪
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

🔵 *স্ত্রী নির্বাচন*

عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ إِذَا صَلَّتِ المَرْأةُ خَمْسَها وَصَامَتْ شَهْرَها وَحَصَّنَتْ فَرْجَها وأطاعَتْ زَوْجَهَا قِيلَ لَها أدْخُلِي الجَنَّة مِنْ أيِّ أبْوابِ الجَنَّةِ شِئْتِ
(২৫৫৫) আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘মহিলা যখন তার পাঁচ ওয়াক্তের নামায আদায় করে, তার রমযান মাসের রোযা পালন করে, (অবৈধ যৌনাচার থেকে) তার যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে এবং তার স্বামীর কথা ও আদেশমত চলে, তখন তাকে বলা হয়, জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা তুমি সেই দরজা দিয়েই জান্নাতে প্রবেশ কর।’’ (ইবনে হিব্বান ৪১৬৩, সহীহুল জামে’ ৬৬০)
হাদীস সম্ভার হাদিস নম্বরঃ ২৫৫৫
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

🔵*স্ত্রী নির্বাচন*

عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ أَلَا أُخْبِرُكمْ بِنِسائِكمْ مِنْ أهْلِ الجَنَّةِ الوَدُودُ الوَلودُ العؤودُ الّتِي إذا ظُلِمَتْ قالَتْ هذِهِ يَدِي في يَدِكَ لا أذُوقُ غَمْضاً حَتّٰـى تَرْضَى
(২৫৫৬) কা’ব বিন উজরাহ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমাদের জান্নাতী স্ত্রীদের সম্পর্কে কি তোমাদেরকে জ্ঞাত করব না? যে স্ত্রী অধিক প্রণয়িণী, সন্তানদাত্রী, বার-বার ভুল করে বার-বার স্বামীর নিকট আত্মসমর্পণকারিণী, (যার স্বামী রাগ করলে অথবা) যে অত্যাচারিতা হলে, সে তার নিকট এসে তার হাতে হাত রেখে বলে, আপনি রাজি (ঠাণ্ডা) না হওয়া পর্যন্ত আমি ঘুমাবই না।’’ (ত্বাবারানীর কাবীর ১৫৬৩৭, আওসাত্ব ৫৬৪৮, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৮৭৩২, সিলসিলাহ সহীহাহ ২৮৭)
হাদীস সম্ভার হাদিস নম্বরঃ ২৫৫৬
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

🔵*স্ত্রী নির্বাচন*

عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ قال قَالَ النبي ﷺ تَزَوَّجُوا الْوَدُودَ الْوَلُودَ فَإِنِّى مُكَاثِرٌ بِكُمُ الأُمَمَ

(২৫৫৭) মা’ক্বিল বিন য়্যাসার কর্তৃক
বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘অধিক প্রেমময়ী, অধিক সন্তানদাত্রী রমণী বিবাহ কর। কারণ, আমি তোমাদেরকে নিয়ে কিয়ামতে অন্যান্য উম্মতের সামনে (সংখ্যাধিক্য নিয়ে) গর্ব করব।’’ (আবূ দাঊদ ২০৫২, নাসাঈ ৩২২৭, মিশকাত ৩০৯১, সিলসিলাহ সহীহাহ ২৩ ৮৩)
হাদীস সম্ভার হাদিস নম্বরঃ ২৫৫৭
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

🔵*স্ত্রী নির্বাচন*

عَلَيْكُمْ بِالأَبْكَارِ فَإِنَّهُنَّ أَعْذَبُ أَفْوَاهًا وَأَنْتَقُ أَرْحَامًا وَأَرْضَى بِالْيَسِيرِ عَلَيْكُمْ بِالأَبْكَارِ فَإِنَّهُنَّ أَعْذَبُ أَفْوَاهاً وَأَنْتَقُ أَرْحَاماً وَأَسْخَنُ أَقْبَالاً وَأَرْضَى بِالْيَسِيرِ مِنَ العَمَلِ عَلَيْكُمْ بِالأَبْكَارِ فَإِنَّهُنَّ أَنْتَقُ أَرْحَاماً وَأَعْذَبُ أَفْوَاهاً وَأَقَلُّ خِبّاً وَأَرْضَى بِالْيَسِيرِ
(২৫৫৮) একাধিক সাহাবী কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমরা কুমারী বিবাহ কর। কারণ কুমারীদের মুখ অধিক মিষ্টি, তাদের গর্ভাশয় অধিক সন্তানধারী, তাদের যোনীপথ অধিক উষ্ণ, তারা ছলনায় কম হয় এবং স্বল্পে অধিক সমত্মুষ্ট থাকে।’’ (ইবনে মাজাহ ১৮৬১, ইবনুস সুন্নী, ত্বাবারানী, সিঃ সহীহাহ ৬২৩, সহীহুল জামে’ হা/ ৪০৫৩)
হাদীস সম্ভার হাদিস নম্বরঃ ২৫৫৮
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

🔵*স্ত্রী নির্বাচন*

عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَتَاكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ خُلُقَهُ وَدِينَهُ فَزَوِّجُوهُ إِلاَّ تَفْعَلُوا تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الأَرْضِ وَفَسَادٌ عَرِيضٌ
(২৫৫৯) আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমাদের নিকট যখন এমন ব্যক্তি (বিবাহের পয়গাম নিয়ে) আসে; যার দ্বীন ও চরিত্রে তোমরা মুগ্ধ তখন তার সাথে (মেয়ের) বিবাহ দাও। যদি তা না কর তাহলে পৃথিবীতে ফিৎনা ও মহাফাসাদ সৃষ্টি হয়ে যাবে।’’ (তিরমিযী ১০৮৪, ইবনে মাজাহ ১৯৬৭, মিশকাত ৩০৯০, সিঃ সহীহাহ ১০২২)
হাদীস সম্ভার হাদিস নম্বরঃ ২৫৫৯
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

🔵*স্ত্রী নির্বাচন*

عَنْ مُعَاذٍ الْجُهَنِيِّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ أَعْطَى لِلهِ وَمَنَعَ لِلهِ وَأَحَبَّ لِلهِ وَأَبْغَضَ لِلهِ وَأَنْكَحَ لِلهِ فَقَدْ اسْتَكْمَلَ إِيمَانَهُ
(২৫৬০) মুআয জুহানী থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে কিছু দান করে, কিছু দেওয়া হতে বিরত থাকে, কাউকে ভালোবাসে অথবা ঘৃণাবাসে এবং তাঁরই সন্তুষ্টিলাভের কথা খেয়াল করে বিবাহ দেয়, তার ঈমান পূর্ণাঙ্গ ঈমান।’’ (আহমাদ ১৫৬১৭, ১৫৬৩৮, তিরমিযী ২৫২১, হাকেম, বাইহাক্বী , সহীহ সনদে)
হাদীস সম্ভার হাদিস নম্বরঃ ২৫৬০
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

🔵*স্ত্রী নির্বাচন*

عَنْ أَبِـيْ أُمَامَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ قَلْبٌ شَاكِرٌ وَلِسَانٌ ذَاكِرٌ وَزَوجَةٌ صَالِحَةٌ تُغْنِيكَ عَلٰى أَمْرِ دُنْيَاكَ وَدِينِكَ خَيْرُ مَا اكْتَنزَ النَّاسُ
(২৫৬১) আবু উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘শুকরকারী হৃদয়, যিকরকারী জিহ্বা এবং পুণ্যময়ী স্ত্রী, যে তোমাকে তোমার দুনিয়া ও দ্বীনের কাজে সহযোগিতা করে, এ সব হল মানুষের সঞ্চিত সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ।’’ (ত্বাবারানী ৭৮২৮, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৪৪৩০, সহীহুল জামে’ হা/৪৪০৯)
হাদীস সম্ভার হাদিস নম্বরঃ ২৫৬১
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

🔵 *স্ত্রী নির্বাচন*

عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ نِسَاءُ قُرَيْشٍ خَيْرُ نِسَاءٍ رَكِبْنَ الإِبِلَ أَحْنَاهُ عَلٰى طِفْلٍ وَأَرْعَاهُ عَلٰى زَوْجٍ فِى ذَاتِ يَدِهِ

(২৫৬২) আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘উট চড়েছে এমন (আরবের) মহিলা, ক্বুরাইশের মহিলা, যে নিজ সন্তানের প্রতি তার শৈশবে সবচেয়ে বড় স্নেহময়ী এবং তার স্বামীর ধন-সম্পদে সবচেয়ে বেশি হিফাযতকারিণী।’’ (বুখারী ৫০৮২, মুসলিম ৬৬২৩)
হাদীস সম্ভার হাদিস নম্বরঃ ২৫৬২
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)