বিবাহ করার পরে যদি আপনি য্বিনায় লিপ্ত হন,তাহলে দুনিয়াতে বেঁচে থাকার কোন পথই নেই!! আপনি দেখুন,আপনাকে মুসলিম গ্রন্থ থেকে একটি হাদিস শুনাই?

গামেদ সম্রদায়ের একজন মহিলা আসলো,এসে রাসূলের দরবারে বললঃ আল্লাহর রাসূল আমাকে পবিত্র করুন,তখন আল্লাহর রাসূল বললেনঃ তুমি বাড়ি ফিরে যাও!!
তুমি আল্লাহর নিকটে ক্ষমা চাও,তুমি তোওবা করো আল্লাহ তোমাকে মাফ করে দিবেন!!

তখন মহিলাটি বলছেঃ মাইদুল মালেককে যেভাবে আপনি ফিরিয়ে দিয়ে ছিলেন,সেভাবে আপনি আমাকে ফিরিয়ে দিতে চান?

আমার পেট উঁচু হয়েছে অবৈধ সন্তানে,আমার পেটে অবৈধ সন্তান রয়েছে,দয়া করে আমাকে ফিরিয়ে দিবেন না,আমার বিচার করে দেন?

তখন আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বললেনঃ আচ্ছা ঠিক আছে,তুমি বাড়ি ফিরে যাও,তুমি বাচ্চাকে জন্ম দাও,যেদিন তোমার বাচ্চা জন্ম দেবে সেদিন আসো বিচার করে দিব,মহিলাটি বাড়ি চলে গেলো!!

মুসলিম গ্রন্থ থেকে এসেছে,সবে মাত্র বাচ্চা জন্ম
নিয়েছে সে বাচ্চাকে এই নেকরা তে জড়িয়ে নিয়ে এসো
রাসূল(সাঃ)এর দরবারে এসে বলছে আল্লাহর রাসূল(সাঃ)এ দেখেন বাচ্চা জন্ম নিয়েছে বিচার করে দেন?

তখন আল্লাহর রাসূল(সাঃ)দৃশ্য দেখে বলছেনঃ তুমি বাড়ি ফিরে যাও,বাচ্চাকে দুধ খাওয়াও,যেদিন বাচ্চা দুধ ছেড়ে দেবে সেদিনএসো বিচার করে দিবো!!

মহিলা বাচ্চা নিয়ে চলে গেল,দুই বছর বাচ্চাকে দুধ পান
করালো,দুই বছর পরে বাচ্চাকে নিয়ে বিচারালয় উপস্থিত,এই অবস্থায় বাচ্চার হাতে এক টুকরা রুটি রয়েছে,এই রুটি প্রমাণ করে বাচ্চা খাদ্য খেতে পারে!!
আল্লাহর রাসূল(সাঃ)বাচ্চাটিকে একজন মুসলমানের হাতে সমর্পণ করলেন,বললেন যাও তুমি একে লালন পালন করো!!

এরপরে বললেন সঙ্গী সাথী তোমরা একে মাঠে নিয়ে
যাও,মাঠে নিয়ে গিয়ে গর্ত খুঁড়ে বুক পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে
দিয়ে,একে ইট-পাটকেল ঢেল দিয়ে মেরে মেরে দুনিয়া
থেকে বিদায় করো!!

সাহাবীগণ বলেনঃ আমরা তাকে মাঠে নিয়ে গেলাম,গর্ত
খুরলাম,বুক পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে দিয়ে চতুর্দিক থেকে পাথর মারতে লাগলাম!!

খালিদ বিন ওয়ালিদ বলেনঃ আমরা একটি পাথর তার মুখের উপর মারলাম,পাথরটা মুখে লেগে মুখ ফেটে রক্ত ছিটে খালিদের গায়ে লাগলো,খালিদ তাকে গালি দিয়ে বললেন ছিঃ ছিঃ একজন যিনাকারীনী মহিলার গায়ের রক্ত আমার গায়ে লাগলো,এরকম কিছু বলে তিনি গালি দিলেন!!

আল্লাহর রাসূল(সাঃ)বললেনঃ খালিদ থামো তুমি একে গালি দিয়ো না,এই মহিলা এতো তওবা করছে,আল্লাহর দরবারে এত ক্ষমা ভিক্ষা চেয়েছে,এরূপ তওবা যদি কোনো বড় থেকে বড় পাপি চায়,তাহলে তার পাপ কে ক্ষমা করা হবে খালিদ,আসলে একে ক্ষমা করা হয়েছে খালিদ!!

তাইতো তিনি জানাযা করালেন কাফন দাফন করালেন,তিনি সবকিছু করলেন,ক্ষমা হয়ে গেছে ঘোষণা দিয়ে দিলেন,কিন্তু তিনি তার শাস্তিকে মাপ করলেন না!!
বিবাহ করার পর য্বিনা করলে মাফ হয় না,দুনিয়াবী শাস্তি মাফ হবে না কোনো পথই নেই বেঁচে থাকার!!
সারা পৃথিবীতে যত মানুষ,পুরুষ ও নারী বিবাহ করার পর য্বিনায় লিপ্ত হয়েছে,এদের বেঁচে থাকার পৃথিবীতে কোন পথ ঘাঁটিই নেই!!

কেউ জানলো না আপনি আল্লাহর দরবারে ক্ষমা চান,পাপ ক্ষমা হয়ে যাবে সেটা ভিন্ন কথা,কিন্তু আপনি জেনে রাখেন যে আপনার বেঁচে সুযোগ হারিয়ে গেছে!!
এটা এতো বড় পাপ,যেই পাপ মানুষের কাছে কিছুই না।

আলোচকঃ- আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ!!

আসসালামু আলাইকুম
আসুন শিক্ষা গ্রহন করি ও মেনে চলি

👉অনেক বইতে দেখি সহবাসের সময় স্ত্রীর গোপনাঙ্গের দিকে দেখা জায়েজ নাই, এতে নাকি স্বামীর চোখের জ্যোতি কমে যায়। আমি সহবাস সম্পর্কিত এ ধরণের সকল বিধি নিষেধ, মাসয়ালা মাসায়েল আর নিয়ম গুলো জানতে চাচ্ছি। জানালে উপকৃত হব, ইন শা আল্লাহ। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিক

উত্তরঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

♥ স্ত্রী সহবাসের সময় যেসব বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত, সংক্ষেপে তা নিম্নে পেশ করা হল-

১- নিয়ত খালেস করে নেয়া। অর্থাৎ, কাজটির মাধ্যমে নিজেকে হারাম পথ থেকে বিরত রাখার, মুসলিম উম্মাহর সংখ্যা বৃদ্ধি করার এবং সাওয়াব অর্জনের নিয়ত করা। এ মর্মে আবু যার রাযি. থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে,

وَفِي بُضْعِ أَحَدِكُمْ صَدَقَةٌ ‏ ‏.‏ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيَأْتِي أَحَدُنَا شَهْوَتَهُ وَيَكُونُ لَهُ فِيهَا أَجْرٌ؟ قَالَ : ‏‏ أَرَأَيْتُمْ لَوْ وَضَعَهَا فِي حَرَامٍ أَكَانَ عَلَيْهِ فِيهَا وِزْرٌ فَكَذَلِكَ إِذَا وَضَعَهَا فِي الْحَلاَلِ كَانَ لَهُ أَجْرٌ

স্ত্রী সহবাসও সদকা। তারা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কেউ যদি স্ত্রী সহবাস এতেও কি সে সাওয়াব পাবে? তিনি বললেন, তোমরা কি মনে কর যদি সে কামাচার করে হারাম পথে তাতে কি তার গুনাহ হবে না? অনুরূপ ভাবে যদি সে কামাচার করে হালাল পথে তবে সে সাওয়াব পাবে। (মুসলিম ২২০১)

২- সহবাসের সময় শৃঙ্গার তথা চুম্বন, আলিঙ্গন, মর্দন ইত্যাদি করা। হাদিসে এসেছে,

كان رسول الله ﷺ يُلاعبُ أهله ، ويُقَبلُها

রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে আলিঙ্গন, চুম্বন ইত্যাদি করতেন। (যাদুল মা’আদ ৪/২৫৩)

৩- সহবাসের শুরু করার সময় দোয়া পড়া–

بِسْمِ اللّهِ اللّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَ جَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا

‘আল্লাহর নামে শুরু করছি, হে আল্লাহ! আমাদের কে তুমি শয়তান থেকে দূরে রাখ এবং আমাদের কে তুমি যা দান করবে (মিলনের ফলে যে সন্তান দান করবে) তা থেকে শয়তান কে দূরে রাখ।’

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, এরপরে যদি তাদের দু’জনের মাঝে কিছু ফল দেয়া হয় অথবা বাচ্চা পয়দা হয়, তাকে শয়তান কখনো ক্ষতি করতে পারবে না। (বুখারী ৪৭৮৭)

৪- যেকোনো আসনে স্ত্রী সহবাসের অনুমতি ইসলামে আছে। মুজাহিদ রহ. نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَّكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّىٰ شِئْتُمْ (তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য ক্ষেতস্বরূপ; অতএব তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তোমাদের ক্ষেতে গমণ কর।)-এই আয়াতের তফসিরে বলেন, قَائِمَةً وَقَاعِدَةً وَمُقْبِلَةً وَمُدْبِرَةً فِي الْفَرْجِ ‘দাঁড়ানো ও বসা অবস্থায়, সামনের দিক থেকে এবং পিছনের দিক থেকে (সঙ্গম করতে পারো, তবে তা হতে হবে) স্ত্রীর যোনিপথে।’ ( দুররে মানছুর ১/২৬৫ তাফসীর তাবারী ২/৩৮৭-৩৮৮ মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা ৪/২৩২)

👉৫- মলদ্বারে সহবাস হারাম। কেননা, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

لا يَنْظُرُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلَى رَجُلٍ جَامَعَ امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا

👉যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর মলদ্বারে সঙ্গম করে, আল্লাহ্ তার দিকে (দয়ার দৃষ্টিতে) তাকান না। (ইবন মাজাহ ১৯২৩)

👉৬-ঋতুবতী অবস্থায় সহবাস হারাম। কেননা, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

مَنْ أَتَى حَائِضًا أَوِ امْرَأَةً فِي دُبُرِهَا أَوْ كَاهِنًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ

👉যে ব্যাক্তি ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস করলো অথবা স্ত্রীর মলদ্বারে সঙ্গম করলো অথবা গণকের নিকট গেলো এবং সে যা বললো তা বিশ্বাস করলো, সে অবশ্যই মুহাম্মাদ ﷺ -এর উপর নাযিলকৃত জিনিসের (আল্লাহ্‌র কিতাবের) বিরুদ্ধাচরণ করলো। (তিরমিযী ১৩৫ আবূ দাঊদ ৩৯০৪)

৭- একবার সহবাসের পর পুনরায় সহবাস করতে চাইলে অজু করে নেয়া মুস্তাহাব। হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

إِذَا أَتَى أَحَدُكُمْ أَهْلَهُ ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يَعُودَ فَلْيَتَوَضَّأْ بَيْنَهُمَا وُضُوءًافإنه أنشط للعود

যখন তোমাদের কেউ নিজ স্ত্রীর সাথে সহবাস করার পর আবার সহবাস করতে চায় তখন সে যেন এর মাঝখানে ওযু করে নেয়। কেননা, এটি দ্বিতীয়বারের জন্য অধিক প্রশান্তিদায়ক। (মুসলিম ৩০৮ হাকিম ১/২৫৪)

তবে গোসল করে নেয়া আরো উত্তম। কেননা, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, هَذَا أَزْكَى وَأَطْيَبُ وَأَطْهَرُ এরূপ করা অধিকতর পবিত্র, উত্তম ও উৎকৃষ্ট। ( আবু দাউদ ২১৯)

দুই. সহবাসের সময় স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের গোপনাঙ্গের দিকে তাকানো জায়েয আছে। হাদিসে এসেছে, বাহয বিন হাকীম তিনি তাঁর পিতা তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, একদা তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাদের গোপনাঙ্গ কী গোপন করব, আর কী বর্জন করব?’ তিনি বললেন, احْفَظْ عَوْرَتَكَ ، إِلَّا مِنْ زَوْجَتِكَ ، أَوْ مَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ ‘তুমি তোমার স্ত্রী ও ক্রীতদাসী ছাড়া অন্যের নিকটে লজ্জাস্থানের হেফাযত কর।’ সাহাবী বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা আপোসে এক জায়গায় থাকলে?’ তিনি বললেন, যথাসাধ্য চেষ্টা করবে, কেউ যেন তা মোটেই দেখতে না পায়।’ সাহাবী বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! কেউ যদি নির্জনে থাকে?’ তিনি বললেন, اللهُ أَحَقُّ أَنْ يُسْتَحْيَا مِنْهُ مِنَ النَّاسِ ‘মানুষ অপেক্ষা আল্লাহ এর বেশী হকদার যে, তাঁকে লজ্জা করা হবে।’ (আবূ দাঊদ ৪০১৯, তিরমিযী ২৭৯৪)

উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় হাফেয ইবন হাজর আসকালানী রহ. বলেন,

وَمَفْهُومُ قَوْلِهِ (إِلَّا مِنْ زَوْجَتك) يَدُلُّ عَلَى أَنَّهُ يَجُوزُ لَهَا النَّظَرُ إِلَى ذَلِكَ مِنْهُ ، وَقِيَاسه أَنَّهُ يَجُوزُ لَهُ النَّظَرُ

‘তুমি তোমার স্ত্রী ছাড়া’ (إِلَّا مِنْ زَوْجَتِكَ)-এর দ্বারা বোঝা যায়, স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের গোপনাঙ্গের দিকে তাকানো জায়েয। যুক্তিও বলে, এটা জায়েয হবে। (ফাতহুল বারী ১/৩৮৬)

ইবন কুদামা আল মাকদেসী রহ. বলেন,

وَيُبَاحُ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْ الزَّوْجَيْنِ النَّظَرُ إلَى جَمِيعِ بَدَنِ صَاحِبِهِ ، وَلَمْسُهُ ، حَتَّى الْفَرْجِ … ؛ وَلِأَنَّ الْفَرْجَ يَحِلُّ لَهُ الِاسْتِمْتَاعُ بِهِ ، فَجَازَ النَّظَرُ إلَيْهِ وَلَمْسُهُ ، كَبَقِيَّةِ الْبَدَنِ

স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সমস্ত দেহের দিকে তাকানো, স্পর্শ করা, এমনকি যৌনাঙ্গের ক্ষেত্রেও বৈধ। কেননা, যৌনাঙ্গে মিলন হালাল। সুতরাং শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মত তা দেখা ও স্পর্শ করাও জায়েয। (আল মুগনী ৭/৭৭)

হাশিয়াতুত দাসুকী (২/২১৫)-তে আছে,

وَحَلَّ لَهُمَا ، أَيْ لِكُلٍّ مِنْ الزَّوْجَيْنِ … نَظَرُ كُلِّ جُزْءٍ مِنْ جَسَدِ صَاحِبِهِ ، حَتَّى نَظَرُ الْفَرْجِ ، وَمَا وَرَدَ مِنْ أَنَّ نَظَرَ فَرْجِهَا يُورِثُ الْعَمَى مُنْكَرٌ لا أَصْلَ لَهُ

স্বামী-স্ত্রীর জন্য জায়েয একে অপরের সমস্ত দেহের দিকে তাকানো, এমনকি যৌনাঙ্গের দিকেও। বলা হয়, স্ত্রীর গোপনাঙ্গের দিকে তাকালে স্বামীর চোখের জ্যোতি কমে যায়-একথার কোনো ভিত্তি নেই।
(আল্লাহ ভালো জানেন)

https://m.facebook.com/groups/1855479478022410?view=permalink&id=2596787467224937&sfnsn=mo