#মানুষ_অধিকাংশ_জাহান্নামী_হবে_দুটি_কারণে

আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্নিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল ﷺ কে একদিন জিজ্ঞেস করা হলো, অধিক কোন জিনিষ মানুষকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে? তিনি উত্তর দিলেন, “তাকওয়া (আল্লাহভীতি) ও সচ্চরিত্র।” তাঁকে আরো জিজ্ঞেস করা হলো, “অধিক কোন জিনিস মানুষকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবে? তিনি বললেন, মুখ ও লজ্জাস্থান।” (তিরমিযি)

আমাদের প্রত্যেকেরই সারাদিনের অধিকাংশ পাপ কাজ এই দুইটি জিনিস দ্বারাই সংগঠিত হয়। মুখ দিয়ে কতই না আমরা পাপ করি। মিথ্যা কথা বলা থেকে শুরু করে মুখ দিয়ে পর্যন্ত জেনা করে থাকি। কতই’না পাপে ডুবে আছি আমরা!

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “কোন বেগানা নারীর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া চোখের যেনা, অশ্লীল কথাবার্তা বলা জিহ্বার যেনা, অবৈধভাবে কাউকে স্পর্শ করা হাতের যেনা, ব্যাভিচারের উদ্দেশ্যে হেঁটে যাওয়া পায়ের যেনা, খারাপ কথা শোনা কানের যেনা আর যেনার কল্পণা করা ও আকাংখা করা মনের যেনা । অতঃপর লজ্জাস্থান একে পূর্ণতা দেয় অথবা অসম্পূর্ণ রেখে দেয়।” (সহীহ আল- বুখারী, সহীহ আল-মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে আন-নাসায়ী)

প্রতিনিয়ত পাপের ঝুড়ি বড় হচ্ছে। পাপকে সহজলভ্য করতে প্রতিনিয়ত ওৎ পেতে আছে নানান রকম শত্রুরা। একটা সময় টিভি-মিডিয়া বিনোদন বলতে খুব সীমাবদ্ধতা ছিলো। অশ্লীলতার প্রসার তেমন ছিলো না। সিডি ক্যাসেটের দোকানগুলোতেও প্রকাশ্যে নানা বাজে রকমের সিডি বিক্রি হতো না। আজ টিভি খুললেই হারামের মিলনমেলা। ঈমানকে ধ্বংস করতে মুসলিমদের মাঝে হারাম ও অস্লীলতার প্রসার বিস্তার করতে নানান মাধ্যম ব্যবহার করা হচ্ছে। তথাকথিত পশ্চিমারা এখন টুথপেষ্টের বিজ্ঞাপনের আড়ালেও আমাদের সমাজে ঢুকিয়ে দিচ্ছে অশ্লীলতার বীজ।

যে ধর্মে বিবাহবহির্ভুত কোন সম্পর্কের বিন্দু পরিমানে স্থান নেই, সেই ধর্মের অনুসারীদের মাঝে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে কিভাবে হারাম ভালোবাসা শিখতে হয়। ধীরে ধীরে এরা এমন পর্যায়ে চলে যাচ্ছে যে – জাহান্নামের লেলিহান শিখায় নিয়ে গিয়ে ফেলছে আমাদের।

কু-চর্ককারীরা যতই চেষ্টা চালাক না কেনো, কখনোই তারা সফল হতে পারবে না। কেননা তাদের কৌশলের থেকেও মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামীনের কৌশল উৎকৃষ্ট এবং সর্বোত্তম কার্যকর। আল্লাহ্‌ বলেন, “তারাও যখন ষড়যন্ত্র করল আল্লাহ্ তায়ালাও কৌশল অবলম্বন করলেন, আর আল্লাহর কৌশলই উত্তম কৌশল।” (সূরাহ আলে-ইমরান, আয়াত : ৫৪)

আজ সমাজে ব্যাপকহারে ব্যেভিচার প্রকাশ পাচ্ছে এর জন্য কে দায়ী আজ আপনাদের সামনে কিছু বাস্তব ঘটনা উপস্থাপন করব

পঞ্চম শ্রেনীতে পড়ে মেয়েটা। হাসপাতালে বাচ্চার মা হয়ে গেলো। তার বাবা – মা অনেক চেষ্টা করেছে বাচ্চাটা নষ্ট করে ফেলার জন্য। কিন্তু সে করেনি। কারন এই বাচ্চার জন্য হলেও যেনো তার বাবা মা তাদের এই প্রেমের সম্পর্কটা মেনে নেয়। তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করে।

বরগুনার একটা ঘটনা হলো মেয়ে নবম শ্রেনীতে পড়ে। হাসপাতালে বসে বিয়ে ছাড়াই এখন সে বাচ্চার মা।

ক্লাস সিক্স সেভেন এইট এর মেয়েরাও এখন কোনো রকমের চিন্তা ভাবনা ছাড়াই শারিরিক সম্পর্ক করে বেড়াচ্ছে বয়ফ্রেন্ড নামক জন্তুর সাথে।

কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের ডার্করেস্টুরেন্টে এর কথা বলেছিলাম।এই আধুনিক পতিতালয় আপনার আমার কন্যা কিংবা আদূরে বোনরাই যাচ্ছে যাদের বয়স ১৫ থেকে ১৬ বছরের বেশি না। কলেজে ভার্সিটিতে উঠে মেয়েরা কি করে সেটা মনে করি বলার প্রয়োজন নাই। এটা অনেকেই জানেন যে ডাস্টবিন টয়লেট যেখানে সেখানে এখন পাওয়া যাচ্ছে কুকুরদের মতো অবাদ যৌনাচারে উৎপন্ন মানুষের বাচ্ছা। যারা পিতার পরিচয়হীন। আমরা যাদেরকে বলি জারজ সন্তান।

কত অবৈধভাবে গর্ভে রাখা সন্তানকে জম্মের আগেই হাসপাতালে গিয়ে নষ্ট করছে এর সংখ্যা গননার বাইরে। এই বাচ্চা নষ্ট করতে গিয়ে মৃত্যু হচ্ছে অনেক মেয়ের।

কিছুদিন আগে মা মেয়ে দুজনেই আত্মহত্যা করে মেয়ের প্রেমের কলঙ্ক থেকে মুক্ত হতে।
.
পাকিস্থানে বাবা মায়েরাই অনেক সময় মেয়ে এবং তার অবৈধ সন্তানকে হত্যা করে সামাজিক ভাবে যেনো সম্মান নষ্ট না হয় সে জন্য..। এমন ঘটনা বাংলাদেশেও হতে পারে। হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।

এরকম উদাহরন দিলে হাজার হাজার উদাহরন দেয়া যাবে। সমাজের ছেলে মেয়ের ৯০% প্রেমের সম্পর্কে যুক্ত। তাদের মধ্যে ৫০% ই সরাসরি শারিরিক সম্পর্ক করে যাচ্ছে বিয়ের আগেই।

অবৈধ ভাবে সমাজে জম্ম নিচ্ছে অনেক বাচ্ছা। সমাজ ভারি হচ্ছে হারাম প্রেমের কলঙ্কের দাগে।

এটা তো গেলো নিজ ইচ্ছায় ছেলে মেয়ের হারাম সম্পর্কের বর্ননা। কিন্তু সমাজে আরো একটা ব্যাধি আছে।ধর্ষন নামক মহামারি। ধর্ষনের খুব কম ঘটনাই প্রকাশ পায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেয়ের ইজ্জতের কথা বিবেচনা করে অনেক পরিবারই এসব ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে দেয়। কখনও ধর্ষকের কাছেই মেয়ে বিয়ে দেয় অথবা কুমারি বলে অন্য ছেলের ঘরে তুলে দেয় মেয়েকে।

কিছু ঘটনা প্রকাশ পেলে তখন আমরা হাক ডাক ছাড়ি কিছুদিন। কিন্তু এই প্রকাশ পাওয়া ঘটনা ১% ও নয়। ৯৯% ধর্ষনের ঘটনাই ধামাচাপা দেওয়া হয় বেচে যায় ধর্ষক।

এছাড়া সমাজে সমকামীদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। সমকামীতার অন্যতম কারন বিয়ে না হওয়া। মাদ্রাসায়ও এর অবস্থা ভয়ংকর।

এছাড়া পর্নদেখা- হস্তমৈধুন করা সহ আরো ভয়ংকর ব্যাপারগুলা নিয়ে এখন না হয় কথা না বললাম।

তবে উপরে যা বললাম তা নিয়ে একটু চিন্তা করুন..! ভাবুন আমরা কেমন সমাজে আছি.?

যে সমাজে টিভি রেডিও কবিতা উপন্যাস সহ স্কুল কলেজ বন্ধুমহল সব যায়গায় চলে প্রেম নামক ভাইরাসের আলোচনা.।একজন ছেলে/মেয়ে বয়ঃসন্ধি কালে পড়ার আগেই সামাজিক প্রভাবের কারনে আক্রান্ত হয় প্রেম রোগে..!

যে ঘরে মা টিভিতে সারাক্ষন হিন্দি সিরিয়ালের নায়ক নায়িকার রসালো দৃশ্য দেখছে সে ঘরের কিশোরী মেয়ে যৌনউম্মাদনায় পাগল হয়ে ডার্করেস্টুরেন্টে এ যাওয়া খুব একটা অন্যায় নয়।

সমাজের যখন এই অবস্থা তখন আমরা কি শুধু দুটো ধর্মীয় উপদেশ দিলেই সমাজ পরিবর্তন হয়ে যাবে??

যদি বলি প্রেম করা হারাম এতেই কি সব কিশোর কিশোরী যুবকযুবতি প্রেম ছেড়ে ভালো হয়ে যাবে??

আপনার কাছে কি মনে হয় আমরা তাদের ৩০/৩৫ বছর পর্যন্ত বিয়ে করতে বাধা দিবো. প্রতি মুহুর্তে তাদের সামনে উন্মুক্ত যৌনাচারের মহরা চালাবো- রাস্তা ঘাটে লাগিয়ে রাখবো নায়ক নায়িকাদের মিলনের দৃশ্য..! বন্ধু মহল স্কুল কলেজ সব যায়গায় আলোচনা করে বেড়াবো প্রেমের রসালো গল্প।আর বলবো আমাদের মেয়ে তো খুব ভদ্র, হিজাব ছাড়া বেরই হয় না.. আমার ছেলে লাজুক।ভাজা মাছটাও উলটে খেতে জানে না..! এদের চরিত্র ফুলের মতো পবিত্র..! অথচ দেখা যায় এরাই ডার্করেস্টুরেন্টে কিংবা লিটনের ফ্লাটে হারাম সম্পর্ক করে কিছুদিন পরে বাচ্চার মা হয়ে যাচ্ছে। (হারাম সম্পর্কের কারনে কেউ পিতা হয় না)। জারজ সন্তান মায়ের পরিচয় পাবে।

এদের হারাম সম্পর্ক আমরা বন্ধ করতে পারছি না। তাহলে এদেরকে আমাদের কি পরামর্শ দেয়া উচিত??

যদি মেয়ে ১৮ এর আগে বিয়ে করতে চায় তবে রাষ্ট্রবাধা দিবে।যদি বাড়িতে বলে বাবা মা বিভিন্ন অজুহাতে বিয়ের অনুমতি দিবে না কিন্তু হারাম কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিবে।

তখন এদের কি করনীয় আছে??

তাদেরকে কি এই পরামর্শ দেয়া উত্তম নয় যে তোমরা গোপনে বিয়ে করে অন্ততপক্ষে সম্পর্কটাকে বৈধ করে নাও? অন্ততপক্ষে যদি দুর্ঘটনায় কোনো সন্তান জম্ম নেয় সে তার পিতার পরিচয় লাভ করুক..! যখন মেয়ে মনে করবে তার সন্তান বৈধ। এই সন্তানের পিতা আছে তখন অনেক মেয়েই এই সন্তানকে আর ডাসবিনে ফেলে আসবে না।

যখন একটা মেয়ে বিয়ে করে নিবে তখন সেই মেয়ের একজন হকদার থাকবে। তখন কিছুদিন পরে যার তার সাথে প্রেম করার সুযোগ পাবে না।

হারাম প্রেমের মুল সমস্যা হলো দ্বীনদার ছেলেকেও বেদ্বীনদার বানাইয়া দেয়। ফাসেক বানাইয়া দেয়।ইমানহারা বানাইয়া দেয়। কিন্তু বিয়ে করে নিলে তার প্রেমের কারনে পাপের প্রভাবও তার উপর পড়বে না। ফলে দ্বীনের উপর অটোল থাকা তার জন্য সহজ হবে।

যেসব কাজ বন্ধ করা আমাদের পক্ষে সম্ভাব নয় সেসব ক্ষেত্রে আমাদের বৈধ পথটা দেখাইয়া দেয়া উচিত। যাতে তাদের জাহান্নামের যাওয়ার রাস্তাটা বন্ধ হয়।

তাই আসুন কেউ যদি পাপ থেকে বাচার জন্য বিয়ে করতে চায় আমরা তাদেরকে সাহায্যকরি। বন্ধু হিসেবে যদি সাক্ষি থাকার অনুরোধ করে তখন একজন বিশ্বস্ত সাক্ষি হই তার।যদি আলেম হিসেবে আমার কাছে কেউ বিয়ে পড়ানোর জন্য আসে তাকে আমরা বিয়ে পড়িয়ে দিতে সাহায্য করি।

কেউ যদি দেনমোহরের জন্য ঋণ চায় তাকে ঋণ দেই। জাকাতের টাকা থেকেও অবিবাহিতদের জন্য বিয়ের ব্যবস্থা করতে পারি।
.
নিশ্চিত জাহান্নামের রাস্তা থেকে যাতে রক্ষা পায়- এই অবুজ কৈশোরের যৌবনের উত্তাল হওয়ায় আমরা তাদের সৎপথে চলতে সাহায্য করি।

বাবাদের অনুরোধ করবো- আপনার মেয়ে যদি নিজের চরিত্ররক্ষার জন্য বিয়ে করে আর ছেলে দ্বীনদার হয় তবে তাদের বিয়ে মেনে নিন। আপনার মেয়েকে জাহান্নামে জ্বলতে দেখে কি আপনি খুসি হবেন?? আল্লাহর ওয়াস্তে তাকে সাহায্য করুন।আপনার সহযোগীতা এই ফিতনার সময় তার ভীষন প্রয়োজন।

ভাইদেরকে বলবো- আপনার বোন যদি কোনো রিলেশনে যুক্ত হয়ে থাকে তাকে বকাবকি না করে ছেলেকে ভালোভাবে দেখুন।যদি সে দ্বীনদার হয় তবে বিয়ের ব্যবস্থা করে দিন।

আসুন এই যুবসমাজকে বাচাই..! তারা বড় আজাবের মাঝে আছে..! তারা জাহান্নামের দিকে যাত্রারত।আমাদের সহযোগীতা তাদের ভীষন প্রয়োজন।

সমাজে হারামের বিস্তার ঠেকাতে আমাদের প্রত্যেকের পরিবারের উচিত ইসলামি অনুশাসন মেনে চলা। সন্তানকে শুধু খাইয়ে পরে মানুষ করার স্বপ্ন দেখলে হবে না, তাদের গুরুত্বপূর্ন একটি দিক ‘বিয়ে’ সেটার দিকেও নজর দিতে হবে। আজ সমাজে বিয়ে এত কঠিন হয়েছে দেখে মানুষ এত এত হারাম (প্রেম তথা জেনা) এর দিকে ধাবিত হচ্ছে।

জাহান্নাম থেকে বেঁচে থাকার জন্য আমাদের প্রচন্ড শক্তি ও মনোবল নিয়ে ঈমান বাঁচিয়ে চলতে হবে। হারামকে কোনভাবেই প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। জাহান্নাম বড়ই ভয়াবহ একটি জায়গা..

“তোমরা জাহান্নামের ঐ আগুনকে ভয় কর যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর…” (সূরাহ আল-বাকারাহ, আয়াত :
২৪)

#যিনা_এবং_ব্যেভিচার_থেকে_বাঁচার_১৫_উপায়

নি:সন্দেহে দুনিয়ায় যত ভয়াবহ ও বড় গুনাহ আছে সেগুলোর মধ্যে জিনা অন্যতম। এর জন্য দুনিয়াতে যেমন ইসলামি ফৌজদারি আইনে কঠোর শাস্তি রয়েছে তেমনি আখিরাতে রয়েছে ভয়াবহ আজাব।
তাই এমন কঠিন গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা প্রত্যেক ইমানদার যুবক-যুবতীর জন্য ফরজ।
নিচে জিনা থেকে বাঁচার কয়েকটি নির্দেশনা প্রদান করা হল:

এমন কোনো কাজ করা যাবে না যা জিনার দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারে। যেমন:

১/ কোন পর নারীর সাথে নির্জনে দেখা-সাক্ষাত, বিনা প্রয়োজনে তার সাথে ফোনালাপ, লিখিত বা ভিডিও চ্যাটিং, বিনা প্রয়োজনে তার আশে পাশে অবস্থান করা, ছবি দেখা, স্পর্শ করা, হাসি- তামাশা করা ইত্যাদি।
আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَىٰ
আর তোমরা জিনার কাছেও যেও না।” (সূরা ইসরা: ৩২)

২/ মনে কুবাসনা মাথা চাড়া দিয়ে উঠলে তৎক্ষণাৎ ‘আউযুবিল্লাহি মিনাশ শয়তানির রাজীম’ ”আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি” পাঠ করা এবং ঐ কু চিন্তা থেকে নিবৃত হওয়া।

৩/ বিয়ে করে স্ত্রীর সাথে সময় কাটানো। কিন্তু কোন কারণে বিয়ে করা সম্ভব না হলে বা বিয়ের পরে স্ত্রী সাথে না থাকলে জৈবিক চাহিদা দমনের জন্য নিয়মিত নফল রোযা রাখা।

৪/ তরজমা ও ব্যাখ্যা সহ নিয়মিত কুরআন ও হাদিস পাঠ করা, কুরআন তিলাওয়াত শোনা ও বিজ্ঞ আলেমদের বক্তব্য শোনা।

৫/ভালো ও উপকারী কাজে ব্যস্ত থাকা, মানুষের উপকার করা ও জিকির-আজকারে সময় দেয়া ও কুরআন মুখস্থ করা।

৬/বিনা প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে যেখানে-সেখানে ঘোরাফেরা না করা আর বাড়িতে থাকা কালীন যথাসম্ভব নির্জন ঘরে একাকী সময় না কাটানো। এর পরিবর্তে বাবা-মা ও ভাই-বোনদের সাথে সময় কাটানো। বিবাহিত হলে স্ত্রী-পরিবারে সাথে থাকা।

৬/জিনার ভয়াবহ পরিণতি তথা দুনিয়ার শাস্তি, লাঞ্ছনা ও আখিরাতের কঠিন আজাবের কথা স্মরণ করা।

৭/মহান আল্লাহকে ভয় করা এবং এ কথা মনে রাখা যে, দুনিয়ার কোন মানুষ আমাকে না দেখলেও বিশ্বচরাচরের মালিক মহান আল্লাহর চোখের সামনে এতটুকু গোপন নাই।

৮/ খারাপ, অশ্লীল ছবি, ভিডিও ও ম্যাগাজিন ইত্যাদি না দেখা, পর্দা হীন যুবতী মেয়েদের উপস্থিতি আছে এমন স্থান থেকে যথাসাধ্য দূরে থাকা। হঠাৎ কোন বেপর্দা নারীর দিকে দৃষ্টিপাত হলে দৃষ্টি অবনত করা।

৯/গান-বাজনা না শোনা এবং কনসার্ট ও নৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ না করা। গান-বাজনা মানুষের মনে মদের মত কাজ করে, মনের মধ্যে কুচিন্তা জাগ্রত করে এবং কামনার আগুন জ্বালিয়ে দেয়।

১০/মদ ও নেশাদার বস্তু থেকে দূরে থাকা। এগুলোর মাধ্যমে অন্তরে কুবাসনা মাথা চাড়া দিয়ে উঠে এমনকি হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে মানুষ নারী ও শিশু ধর্ষণের মত জঘন্য কাজ করতেও পিছপা হয় না।

১১/মদ ও নেশা গ্রহণ করে, নানা পাপাচারে জড়িত, সালাত আদায় করে না ও বাজে কাজে সময় অপচয় করে এ জাতীয় খারাপ বন্ধুদের সংশ্রব ত্যাগ করে সৎ, চরিত্রবান, দ্বীনদার ও নামাযী বন্ধুদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করা।

১২/ দ্বীনদার বন্ধুদের সাথে দ্বীন চর্চা, জ্ঞানার্জন ও সামাজিক উন্নয়ন মূলক কাজে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে সময়কে কাজে লাগানো।

১৩/যৌন উদ্দীপক খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা।

১৪/ফেসবুকে বাজে আড্ডা, প্রেম, ক্রাশ, মেয়ের ছবি ও ভিডিও আপলোড দেয় এবং ফালতু বিষয়ে সময় নষ্ট করে এ জাতীয় গ্রুপ বা পেইজে থাকলে সেগুলো থেকে বের হয়ে আসা।

১৫/এর পরিবর্তে কুরআন-হাদিস ও বিশুদ্ধ আকিদা নির্ভর পেইজ ও গ্রুপের ভালো ভালো ইসলামি পোস্টগুলো অনুসরণ করা এবং ভালো আলেমদের প্রশ্নোত্তর বা বিভিন্ন লেখুনি থেকে উপকৃত হওয়া এবং ভালো মানের উপকারী ভিডিও আপলোড দেয় এমন ইউটিউব চ্যানেলগুলোতে সাবস্ক্রাইব রাখা।
.
আল্লাহ তাওফিক দান করুন এবং আমাদেরকে সব ধরণের আল্লাহর নাফরমানি থেকে হেফাজত করুন। আমীন

%d bloggers like this: