بسم الله الرحمن الرحيم *যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন: ফযীলত ও করণীয়* *অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল* الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله. أما بعد আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ যে, তিনি নেক বান্দাদেরকে এমন কিছু মৌসুম দিয়েছেন যেগুলোতে তারা বেশি বেশি নেকীর কাজ করতে পারে। এই মৌসুমগুলোর অন্যতম হল, যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন। এ দিনগুলোর ফযীলতের ব্যাপারে কুরআন-সুন্নায় অনেক দলীল রয়েছে: 🌀 ১. আল্লাহ তায়ালা বলেন: وَالْفَجْرِ وَلَيَالٍ عَشْرٍ “শপথ ফজরের। শপথ দশ রাতের। (সূরা ফজর: ১ ও ২) ইবনে কাসীর রাহ. বলেছেন: “এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল, যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন।” এই মত ব্যক্ত করেন ইবনে আব্বাস, ইবনুয যুবাইর, মুজাহিদ প্রমুখ। (সহীহ বুখারী) 🌀 ২. আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যিলহজ্জের প্রথম দশকের চেয়ে উত্তম এমন কোন দিন নেই, যে দিনগুলোর সৎ আমল আল্লাহ্‌র নিকট অধিক পছন্দনীয়।” সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন: আল্লাহ্‌র পথে জিহাদও নয় হে রাসূলুল্লাহ্‌? তিনি বললেন: “আল্লাহ্‌র পথে জিহাদও নয়। অবশ্য সেই মুজাহিদের কথা ভিন্ন, যে জান-মাল নিয়ে জিহাদে বেরিয়ে পড়ে, কিন্তু আর কোন কিছুই নিয়ে ফিরে আসে না (অর্থাৎ আল্লাহর পথে শহীদ হয়ে যায়)।” (বুখারী) 🌀 ৩. আল্লাহ তায়ালা বলেন: وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ “তারা যেন নির্দিষ্ট দিন সমূহে আল্লাহর নাম স্মরণ করে। (সূরা হজ্জ: ২৮) ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন: “(নির্দিষ্ট দিন সমূহ হল) যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন।” (তাফসীর ইবনে কাসীর) 🌀 ৪. ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “এ দশ দিনের তুলনায় অন্য কোন সময় আল্লাহর নিকট এতটা মর্যাদা পূর্ণ নয় বা তাতে আমল করা এতটা পছন্দনীয় নয়। সুতরাং এ দিনগুলোতে তোমরা অধিক পরিমাণ তাহলীল (লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ), তাকবীর (আল্লাহু আকবার) ও তাহমীদ (আল হামদুলিল্লাহ) পাঠ কর।” (মুসনাদ আহমদ) 🌀 ৫. সাঈদ ইবনে জুবাইর (যিনি পূর্বোক্ত ইবনে আব্বাস রা. এর হাদীস বর্ণনাকারী) জিলহজ্জের দশ দিন শুরু হলে ইবাদত-বন্দেগীতে এত বেশী পরিশ্রম করতেন যে, অন্য কারো জন্য এত ইবাদত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যেত। (দারেমী) 🌀 ৬) ইবনে হাজার রহ. ফাতহুল বারীতে বলেন: “এই দশ দিন বিশেষ বৈশিষ্ট্য মণ্ডিত হওয়ার কারণ হিসেবে আমার নিকট এটাই প্রতিভাত হচ্ছে যে, এ দিনগুলোতে সালাত, সিয়াম, দান-সদকা, হজ্জ ইত্যাদি মৌলিক ইবাদতগুলোর সমাবেশ ঘটেছে। এ ছাড়া অন্য কখনো এগুলো একসাথে পাওয়া যায় না।” 🔰 *এ দিনগুলোতে যেসব আমল করা মুস্তাহাব:* 💠১. সালাত: ফরয সালাতগুলো যথাসময়ে সম্পাদন করার পাশাপাশি প্রচুর নফল সালাত আদায় করা। কারণ, সালাতই হল আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায়। সাওবান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “তুমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে অধিক পরিমাণ সেজদা কর (নফল সালাত আদায় কর), কারণ যখনই তুমি সেজদা কর বিনিময় আল্লাহ তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং গুনাহ মোচন করেন।” (মুসলিম) এটি কেবল যিলহজ্জ মাস নয় বরং অন্য সকল সময়ের জন্য প্রযোজ্য। 💠২.সিয়াম: রোজা রাখা অন্যতম একটি নেক কাজ। তাই এ দিনগুলোতে নফল রোজা রাখা খুবই ফযীলতের। হুনাইদা বিন খালেদ তার স্ত্রী থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জনৈক স্ত্রী থেকে বর্ণনা করেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলহজ্জ মাসের নয় তারিখ, আশুরার দিন ও প্রত্যেক মাসের তিন দিন রোজা পালন করতেন।” (আহমদ, আবু দাউদ ও নাসায়ী) ইমাম নববী যিলহজ্জ মাসের শেষ দশ দিনে রোযা রাখার ব্যাপারে বলেছেন, এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ মুস্তাহাব। 💠 ৩. তাকবীর, তাহলীল ও তাহমীদ: পূর্বে ইবনে ওমর রা. এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তাতে রয়েছে, তোমরা বেশি বেশি তাকবীর (আল্লা-হু আকবার), তাহলীল (লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ), ও তাহমীদ (আল হামদুলিল্লা-হ) পড়। ইমাম বুখারী রহ. বলেছেন, ইবনে ওমর রা. এবং আবু হুরায়রা রা. এ দশ দিন তাকবীর বলতে বলতে বাজারে বের হতেন, আর মানুষরাও তাদের দেখে তাকবীর বলত। তিনি আরও বলেছেন, ইবনে উমর রা, মিনায় তাঁর তাঁবুতে তাকবীর বলতেন, তা শুনে মসজিদের লোকেরা তাকবীর বলত এবং বাজারের লোকেরাও তাকবীর বলত। এক পর্যায়ে পুরো মিনা তাকবীর ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠত। ইবনে উমর রা. মিনায় অবস্থানের দিনগুলোতে, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পরে, তাঁবুতে, বিছানায়, বসার স্থানে, চলার পথে সর্বত্র তাকবীর পাঠ করতেন। এ তাকবীরগুলো উচ্চ আওয়াজে পাঠ করা মুস্তাহাব। কারণ, সাহাবী উমর রা., তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা., আবু হুরায়রা রা. তা উচ্চ আওয়াজে পাঠ করতেন। মুসলমানদের উচিত এ সুন্নতটি পুনর্জীবিত করা, যা বর্তমান যুগে প্রায় হারিয়ে গেছে এবং দু:খ জনক হলেও সত্য, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি নেককার লোকেরাও এটি প্রায় ভুলতে বসেছে। অথচ আমাদের পূর্বপুরুষগণ ছিলেন এর সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। 🔰 *তাকবীর বলার নিয়ম:* নিন্মোক্ত যে কোন পদ্ধতিতে তাকবীর পাঠ করা যায়: ক) আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার কাবীরা। খ) আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লাইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ। গ) আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লাইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ। 💠 ৪. আরাফার দিন রোজা: আরাফার দিন রোজা রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত, তিনি আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে বলেছেন: “আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী, এটি পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।” (মুসলিম) তবে আরাফায় অবস্থানকারী হাজীদের জন্য রোযা রাখা মুস্তাহাব নয়। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরাফায় অবস্থান করেছিলেন রোজা বিহীন অবস্থায়। 💠৫. কুরবানীর দিন (দশম যিলহজ্জ) এর মর্যাদা: এই মহান দিনটির মর্যাদার ব্যাপারে অনেক মুসলমানই অসচেতন। কতিপয় বিদ্বান এ মত ব্যক্ত করেছেন যে, সাধারণভাবে সারা বছরের মধ্যে-এমনকি আরাফার দিনের চেয়েও নহর তথা কুরবানীর দিন উত্তম। ইবনুল কাইয়িম রহ. বলেছেন, আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম দিন নহরের দিন। এটিই হল, হজ্জে আকবর (বড় হজ্জ) এর দিন। যেমন সুনানে আবু দাউদে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহর নিকট সর্বাধিক মহিমান্বিত দিন হল নহর তথা কুরবানীর দিন। অতঃপর কুরবানীর পরের দিন (অর্থাৎ যিলহজ্জের এগারতম দিন যে দিন হাজীগণ কুরবানী করার পর মিনায় অবস্থান করেন)। অবশ্য কেউ কেউ বলেছেন, নহরের দিনের চেয়ে আরাফার দিন উত্তম। কারণ, সে দিনের সিয়াম দুই বছরের গুনাহের কাফফারা। তাছাড়া আল্লাহ তায়ালা আরাফার দিন যে পরিমাণ লোক জাহান্নাম থেকে মুক্ত করেন, তা অন্য কোন দিন করেন না। আরও এ জন্যও যে, আল্লাহ তায়ালা সে দিন বান্দার নিকটবর্তী হন এবং আরাফায় অবস্থানকারীদের নিয়ে ফেরেশতাদের সাথে গর্ব করেন। তবে প্রথম বক্তব্যই সঠিক। কারণ, হাদীস তারই প্রমাণ বহন করে। এর বিরোধী কিছু নেই। যাহোক, সর্বোত্তম দিন চাই কুরবানীর দিন হোক অথবা আরাফার দিন হোক যারা হজ্জে গমণ করেছেন বা যারা করেন নি সবার জন্য উচিৎ হল, সে দিনের ফযীলত অর্জনের চেষ্টা করা এবং এই সুযোগকে কাজে লাগানো। 🔰 *ইবাদতের মৌসুমগুলো আমরা কিভাবে গ্রহণ করব?* 🌀 ১) প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য ইবাদতের মৌসুমগুলোতে খাঁটি ভাবে তওবা করা এবং পাপাচার ও আল্লাহর নাফরমানী থেকে বিরত থাকা। কারণ, পাপাচার মানুষকে আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে শুধু বঞ্চিতই রাখে না বরং আল্লাহ ও তার অন্তরের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দেয়। 🌀 ২) আরও কর্তব্য হল, আল্লাহ তায়ালাকে খুশি করে এমন কাজগুলোকে গনিমত মনে করে সেগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। যে আল্লাহর কথাকে বিশ্বাস করবে আল্লাহ তার ব্যাপারে তাঁর ওয়াদাকে বাস্তবায়ন করবেন। তিনি ওয়াদা করেছেন: وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا “যারা আমার ব্যাপারে চেষ্টা ও সাধনা করবে আমি অবশ্যই তাকে আমার রাস্তাগুলো দেখাবো।” (সূরা আনকাবূত: ৬৯) প্রিয় মুসলিম ভাই, এই সকল অমূল্য সুযোগগুলো ফুরিয়ে যাওয়ার পূর্বেই তা গ্রহণ করুন। কারণ, সময় পার হয়ে গেলে তখন আফসোস করে লাভ হবে না। মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করি, তিনি যেন আমাকে ও আপনাকে এই কল্যাণের মৌসুমগুলোকে অমূল্য সম্পদ হিসেবে গ্রহণ করার তাওফীক দান করেন এবং তাতে ভালোভাবে তাঁর ইবাদত-বন্দেগী সম্পাদনে সাহায্য করেন। *লেখক: শায়খ আব্দুল মালেক আল-কাসেম* সম্পাদনায়: শায়খ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল জিবরীন অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার abuafnan12@gmail.com

যে কোন ব্যক্তির জান্নাতে যাওয়ার জন্য ভালো কাজের পাশাপাশি ৪টি পাপ থেকে দূরে থাকা অতিব জরুরি- ________________________________________ ১। শির্ক । ২। বিদআত। ৩। হারাম ভক্ষন। ৪। মানুষের হক নষ্ট করা, সে যেভাবেই হোক। #শির্ক, বিদআত এবং হারাম ভক্ষন করা এমন পাপ যে, এই পাপীদের ইবাদাত আল্লাহ্ কবুল করেন না। আর মানুষের হক নষ্ট করলে ঐ মানুষের হক ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত কিংবা তার কাছে ক্ষমা না নেওয়া পর্যন্ত আল্লাহ্ ঐ ব্যক্তিকে ক্ষমা করেন না। যেহেতু এই বিষয় গুলো যেকোনো আমল গ্রহণ যোগ্য হওয়ার প্রধান অন্তরায় তাই এ বিষয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তালা ও তার রাসুল (সাঃ)-এর জরুরি কিছু নির্দেশনা জেনে নিন- ১। শির্ক- শির্ক শব্দের অর্থ অংশীদার তৈরি করা অর্থাৎ যখন আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যদেরকে কিংবা আল্লাহ্‌র পাশাপাশি অন্যদেরকে সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিক দাতা, ইবাদত পাওয়ার যোগ্য মনে করা হয় তখন শরীয়তের পরিভাষায় এটাকে শির্ক বলা হয়। আল্লাহ সুবহানাহু অয়া তালা বলেন, ﴿ إِنَّهُۥ مَن يُشۡرِكۡ بِٱللَّهِ فَقَدۡ حَرَّمَ ٱللَّهُ عَلَيۡهِ ٱلۡجَنَّةَ وَمَأۡوَىٰهُ ٱلنَّارُۖ وَمَا لِلظَّٰلِمِينَ مِنۡ أَنصَارٖ ٧٢ ﴾ [المائ‍دة: ٧٢] ‘নিশ্চয় যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, তার উপর অবশ্যই আল্লাহ জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা আগুন। আর যালিমদের কোনো সাহায্যকারী নেই’। {সূরা আল-মায়িদা, আয়াত : ৭২} ২। বিদআত- বিদআত শব্দের অর্থ নতুন “ধর্মের মধ্যে যে নবাবিস্কৃত ইবাদাত , বিশ্বাস ও কথার সমর্থনে কুরআন ও সুন্নাহের মধ্যে কোন দলীল মিলে না অথচ তা ছাওয়াবের উদ্দেশ্যে করা হয় তাকেই বিদ’আত বলা হয়। রাসূল (সাঃ) বলেন, “কেউ আমাদের এ শরী‘আতে নাই এমন কিছুর অনুপ্রবেশ ঘটালে তা প্রত্যাখ্যাত(অর্থাৎ কবুল করা হবে না) (বুখারি- ২৬৯৭)। আলী(রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূ্ল (সাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি বিদয়াত সৃষ্টি করে অথবা কোন বিদয়াতীকে আশ্রয় দেয়, তার উপর আল্লাহ্‌, ফেরেশতা এবং সকল মানুষের অভিশাপ। তার ফরয ও নফল কোন ইবাদত কবুল করা হবে না।(বুখারী কিতাবুল জিযিয়াহ- হাদিস নং ৩১৭২) ৩। হারাম ভক্ষন করা সেটা যে কোন উপায়ে হোক না কেন- আল্লাহ তা‘আলা বলেন- ﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَأۡكُلُوٓاْ أَمۡوَٰلَكُم بَيۡنَكُم بِٱلۡبَٰطِلِ ﴾ [النساء: ٢٩] ‘‘হে ইমানদারগণ! তোমরা অন্যায় ও অবৈধভাবে পরস্পরের ধন-সম্পদ আত্মসাৎ করো না। সূরা আল-বাকারা: ১৮৮। রাসূ্ল (সাঃ) বলেন, কোন ব্যক্তি দীর্ঘপথ অতিক্রম করলো, বিক্ষিপ্ত চুল, ধুলা-বালিযুক্ত শরীর, ২ হাত আসমানের দিকে উঠিয়ে দোয়া করতে থাকে আর বলতে থাকে- হে প্রভু! হে প্রভু! অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম এবং হারাম দ্বারা শক্তি সঞ্চয় করা হয়েছে। তাহলে কিভাবে তার দোয়া কবুল করা হবে? (তিরমিজি- ২৯৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেসন) উক্ত হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে খাদ্য, পানি, পোশাক হারাম থাকলে অর্থাৎ হারাম উপায়ে উপার্জিত হলে তার দোয়া আল্লাহ্‌র কাছে কবুল হবে না বরং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম যা নিচের হাদিসে স্পষ্ট বলা হয়েছে- রাসুল (সাঃ) বলেছেন, সে মাংশ কোনদিন জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যার পুষ্টিসাধন হারাম খাদ্য দ্বারা হয়েছে। (দারেমি- হাদিস নং ২৬৭৪) রাসুল (সাঃ) আরও বলেছেন, যে মাংশ হারাম খাদ্য দ্বারা প্রতিপালিত হবে, তার জন্য জাহান্নামই উপযুক্ত। (ত্বাবারানী/কবীর ১৯/১৩৬ সা’হীহুল্ জামি’, হাদীস ৪৪৯৫, হারাম ও কবিরা গুনাহ- শাইখ মুস্তাফিজুর রহমান মাদানি) ৪। মানুষের হক নষ্ট করা, সে যেভাবেই হোক- আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, ‘‘তোমরা কি জান, নিঃস্ব কে?’’ তাঁরা বললেন, ‘আমাদের মধ্যে নিঃস্ব ঐ ব্যক্তি, যার কাছে কোন দিরহাম এবং কোনো আসবাব-পত্র নেই।’ তিনি বললেন, ‘‘আমার উম্মতের মধ্যে আসল নিঃস্ব তো সেই ব্যক্তি, যে কিয়ামতের দিন নামায, রোযা ও যাকাতের নেকী নিয়ে হাজির হবে কিন্তু এর সাথে সাথে সে এ অবস্থায় আসবে যে, সে কাউকে গালি দিয়েছে, কারো প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করেছে, কারো (অবৈধরূপে) মাল ভক্ষন করেছে, কারো রক্তপাত করেছে, কাউকে মেরেছে। অতঃপর প্রত্যেক অত্যাচারিতকে তার নেকী থেকে পরিশোধ করা হবে। পরিশেষে যদি তার নেকীরাশি অন্যান্যদের দাবী পূরণ করার পূর্বেই শেষ হয়ে যায়, তাহলে তাদের পাপরাশি নিয়ে তার উপর নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’’ (মুসলিম-৬৪৭৩, হাদিস একাডেমী) #পাপগুলো এতো নিকৃষ্ট যে, প্রথম ৩টা পাপে লিপ্ত থাকলে ইবাদত ই কবুল হয় না আর ৪র্থ পাপে লিপ্ত বেক্তির অতি কষ্টের ইবাদতের সওয়াব অন্যকে দিয়ে জাহান্নামে যেতে হবে (নাউজুবিল্লাহ)। জান্নাত পেতে চাইলে এই পাপগুলো অন্তত কোনভাবেই যেন আমাদের দ্বারা না হয় সেই ব্যাপারে ১০০ ভাগ সতর্ক থাকতে হবে আর অতিতের ভুলের কারনে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে এবং অন্যের মাল নিয়ে থাকলে ফিরিয়ে দিতে হবে, আল্লাহ তা’লা আমাদের পাপগুলো থেকে বেচে থাকার তাওফিক দান করুন, আমীন।