সহীহ বুখারীর ১০ টি বৈজ্ঞানিক হাদীসঃ১) নবীজি বলেন,”জ্বর আসে জাহান্নামের তাপ থেকে! সুতরাং,জ্বর কে পানি দ্বারা প্রশমিত কর! (সহীহ বুখারী,, খন্ড: ৭:অধ্যায় ৭১:হাদিস ৬২১).২)নবীজি বলেন,”যদি কারো পানিতে মাছি পড়ে যায়,তবে মাছিটিকে পানিতে চুবিয়ে তারপর পান কর!কারণ,মাছির এক ডানায় আছে রোগ,অন্য ডানায় আছে প্রতিকার! “(সহীহ বুখারী, 4:54:537).৩) নবীজি বলেন,কালোজিরা আস- সামস ব্যতিত সর্বরোগের ঔষধ! আয়েশা জিজ্ঞেস করেন,আস- সামস কি?নবীজি উত্তরে বলেন,মৃত্যু!(বুখারী৭:৭১:৫৯১)৪)নবীজি বলেন,”যারা রোপ্যপাত্রে পানি পান করে,তারা জাহান্নামের আগুন দ্বারা তাদের পেটপুর্ণ করে! (বুখারী 7:69:538)৫) নবীজি বলেন,”জাহান্নামের আগুণ আল্লাহর কাছে অভিযোগ করল,”হে আমার প্রতিপালক,আমার বিভিন্ন অংশ পরস্পরকেখেয়ে ফেলছে!সুতরাং,তিনি জাহান্নামকে দুইবার শ্বাস নেয়ার অনুমতি দিলেন,একটি শীতকালে (প্রশ্বাস),অন্যটি গ্রীষ্মকালে (নিঃশ্বাস)!এবং এটাই (গ্রীষ্মকলে) প্রখর গরম ও (শীতিকালে) তীব্র শীতের কারণ! (বুখারী 4:54:482)৬)নবীজি বলেন,”আল্লাহ হাচি পছন্দ করেন এবং হাই তোলা অপছন্দ করেন!(বুখারী 8:73:242)৭)নবীজি বলেন,”ভাল স্বপ্ন আসে আল্লাহ থেকে আর দুঃস্বপ্ন আসে শয়তান থেকে!কেউ যদি দুঃস্বপ্ন দেখে তার উচিত আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া ও বাম দিকে থুথু নিক্ষেপ করা,কারণ এতে দুঃস্বপ্ন তার কোন ক্ষতি করতে পারবেনা। (বুখারী 9:87:115).৮)আব্দুল্লাহ বর্ণিত:এক লোক নবীজির কাছে এসে বলল,সে সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়েছে এবং নামায আদায় করতে পারেনি!!নবীজি বললেন:শয়তান তার কানে প্রস্রাব করে দিয়ে চলে গিয়েছে!(বুখারী 2:21:245).৯)নবীজি বলেন,”তোমরা সুর্যদ্বয় ও সুর্যাস্তের সময় নামায আদায় করোনা,কারণ সুর্য শয়তানের মাথার দুইপ্রান্তের মধ্যখানদিয়ে উদিত হয়(বুখারী৪:৫৪:৪৯৪) .১০) নবীজি বলেন,,”যে ব্যক্তি প্রতি সকালে ৭ টি আজওয়া খেজুর খায়,তার ওপর বিষ ও জাদু কোন প্রভাব ফেলতে পারেনা!(বুখারী ৭:৬৫:৩৫৬)

সহীহ বুখারীর ১০ টি বৈজ্ঞানিক হাদীসঃ
১) নবীজি বলেন,”জ্বর আসে জাহান্নামের তাপ থেকে! সুতরাং,জ্বর কে পানি দ্বারা প্রশমিত কর! (সহীহ বুখারী,, খন্ড: ৭:অধ্যায় ৭১:হাদিস ৬২১)
.
২)নবীজি বলেন,”যদি কারো পানিতে মাছি পড়ে যায়,তবে মাছিটিকে পানিতে চুবিয়ে তারপর পান কর!কারণ,মাছির এক ডানায় আছে রোগ,অন্য ডানায় আছে প্রতিকার! “(সহীহ বুখারী, 4:54:537)
.
৩) নবীজি বলেন,কালোজিরা আস- সামস ব্যতিত সর্বরোগের ঔষধ! আয়েশা জিজ্ঞেস করেন,আস- সামস কি?নবীজি উত্তরে বলেন,মৃত্যু!(বু
খারী৭:৭১:৫৯১)
৪)নবীজি বলেন,”যারা রোপ্যপাত্রে পানি পান করে,তারা জাহান্নামের আগুন দ্বারা তাদের পেটপুর্ণ করে! (বুখারী 7:69:538)
৫) নবীজি বলেন,”জাহান্নামের আগুণ আল্লাহর কাছে অভিযোগ করল,”হে আমার প্রতিপালক,আমার বিভিন্ন অংশ পরস্পরকে
খেয়ে ফেলছে!সুতরাং,তিনি জাহান্নামকে দুইবার শ্বাস নেয়ার অনুমতি দিলেন,একটি শীতকালে (প্রশ্বাস),অন্যটি গ্রীষ্মকালে (নিঃশ্বাস)!
এবং এটাই (গ্রীষ্মকলে) প্রখর গরম ও (শীতিকালে) তীব্র শীতের কারণ! (বুখারী 4:54:482)
৬)নবীজি বলেন,”আল্লাহ হাচি পছন্দ করেন এবং হাই তোলা অপছন্দ করেন!(বুখারী 8:73:242)
৭)নবীজি বলেন,”ভাল স্বপ্ন আসে আল্লাহ থেকে আর দুঃস্বপ্ন আসে শয়তান থেকে!কেউ যদি দুঃস্বপ্ন দেখে তার উচিত আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া ও বাম দিকে থুথু নিক্ষেপ করা,কারণ এতে দুঃস্বপ্ন তার কোন ক্ষতি করতে পারবেনা। (বুখারী 9:87:115)
.
৮)আব্দুল্লাহ বর্ণিত:এক লোক নবীজির কাছে এসে বলল,সে সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়েছে এবং নামায আদায় করতে পারেনি!!নবীজি বললেন:শয়তান তার কানে প্রস্রাব করে দিয়ে চলে গিয়েছে!(বুখারী 2:21:245)
.
৯)নবীজি বলেন,”তোমরা সুর্যদ্বয় ও সুর্যাস্তের সময় নামায আদায় করোনা,কারণ সুর্য শয়তানের মাথার দুইপ্রান্তের মধ্যখান
দিয়ে উদিত হয়(বুখারী৪:৫৪:৪৯৪) .
১০) নবীজি বলেন,,”যে ব্যক্তি প্রতি সকালে ৭ টি আজওয়া খেজুর খায়,তার ওপর বিষ ও জাদু কোন প্রভাব ফেলতে পারেনা!(বুখারী ৭:৬৫:৩৫৬)

♦#প্রশ্নঃ মোহরের টাকা পরিশোধ না করে কি স্ত্রীকে স্পর্শ বা দর্শন করা যাবেনা?

বাসর রাত্রেই কি মোহরের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করতে হয়?

স্বামী কি স্ত্রীর কাছে ঐ রাত্রেই দেন- মোহরের টাকা মাফ চাইতে পারবে?

স্ত্রী যদি মাফ করে দেন তাহলে ভবিষ্যতে কি পরিশোধ করতে হবে না?

বিয়ের সময় স্ত্রীকে যে অলংকার বা অন্যান্য জিনিস দেওয়া হয় তা সাধারনতঃ দেন- মোহরের টাকা থেকে কেটে রাখা হয়। এটা কি ঠিক?

#অনেকেই আট/দশ লক্ষ টাকা দেন-মোহর ধার্য করে থাকে,অথচ এক সময়ে এই টাকা পরিশোধ করা স্বামীর পক্ষে সম্ভব হয় না! তখন তার হুকুম কি? অনেক সময় বংশ মর্যাদার অনুযায়ী বড় অংকের মহরানা ধার্য করতে দেখা যায়। এটা কি ঠিক?

★★★#উত্তরঃ মহরানা স্ত্রীর প্রাপ্য একটা ঋণ বিশেষ! স্ত্রীর দেন-মোহর স্বামীর উপর অবশ্য পরিশোধ্য বিষয়। এটি ফরজ। এজন্য যতটুকু পরিমান স্বামীর পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব, সেই পরিমানই দেন- মোহর ধার্য করা কর্তব্য। না দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে মোটা অংকের দেন-মোহর ধার্য করে সম্পাদিত বিয়ে শুদ্ধ হয়না! দেন- মোহর একান্ত ভাবেই স্ত্রীর প্রাপ্য। স্ত্রী যদি ইচ্ছা করেন তবে তাকে স্পর্শ করার আগেই স্বামীকে তা আদায় করে দিতে বাধ্য করতে পারেন। যদি পরস্পরের সম্মতিক্রমে সময় নেওয়া হয়, তবে তা বৈধ হবে। অর্থাৎ বিলম্বেও পরিশোধ করা যাবে।

বাসর রাত্রে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর নিকট দেন-মোহর মাফ চাওয়া নিতান্ত কাপুরুষচিত একটি প্রথা। নতুন বৌ লজ্জার খাতিরে হয়তো মাফ করে দিলাম বলে দেয়,কিন্তু যেহেতু সন্তুষ্টচিত্তে সেই ঋণ ক্ষমা করা হয়না, তাই এরুপ ক্ষমা চাওয়া অর্থহীন, লজ্জাজনক। বিয়ের মোহরানা সম্পর্কে কোরআন কি বলে ? তোমরা নারীগণকে তাদের মোহরানা বা একটা নির্দিষ্ট উপহার দিবে। যদি তারা সন্তুষ্টচিত্তে মোহরানার কিছু অংশ ছেড়ে দেয়, তোমরা তা স্বাচ্ছন্দে ভোগ করবে।-[সূরা নিসা – ৪]

পবিত্র কোরআন নারীর পারিবারিক অধিকার রক্ষার জন্য স্বেচ্ছায় ও সন্তুষ্টচিত্তে মোহরানা পরিশোধ করতে বিবাহিত পুরুষের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে এবং এ ব্যাপারে সব ধরনের কঠোরতা ও কর্কশ আচরণ পরিহার করতে বলেছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ এও বলছেন , মোহরানা ফিরিয়ে নেয়া বা এর অংশবিশেষ ফিরিয়ে নেয়াও তোমাদের জন্য বৈধ নয়। যদি তারা অর্থাৎ স্ত্রীরা নিজেরাই খুশী মনে মোহরানার কিছু অংশ ফিরিয়ে দিতে চায়, তাহলে তা গ্রহণ করা যেতে পারে। এই আয়াতে উল্লেখিত নাহলেও শব্দটির অর্থ হলো, মৌচাকের মৌমাছি। মৌমাছি যেমন কোন স্বার্থের আশা না করেই মানুষকে মধু দেয়, সে রকম পুরুষেরও উচিত জীবনসঙ্গীকে দাম্পত্য জীবনের মধু হিসেবেই মোহরানা দেয়া। আর যা উপহার হিসেবে দেয়া হয়, তা ফিরে পাবার আশা করা কি অন্যায় নয় ? এই আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো,

=>> প্রথমত : স্ত্রীর প্রাপ্য মোহরানা তার ক্রয় মূল্য নয়, বরং এটা স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ভালবাসার নিদর্শন ও উপহার । কোরআনের আয়াতে মাহরানা শব্দটিকে বলা হয়েছে, যা সাদাক্কাত বা আন্তরিকতা শব্দ থেকে উদ্ভূত।

=>> দ্বিতীয়ত : মোহরানা স্ত্রীর অধিকার এবং স্ত্রী-ই এর মালিক। স্ত্রীকে মোহরানা দেয়া যেমন বন্ধ রাখা যায়না , তেমনি তা ফেরতও নেয়া যায় না।

=>>তৃতীয়ত : মোহরানা মাফ করার জন্য স্ত্রীর বাহ্যিক সন্তুষ্টি যথেষ্ট নয়। এজন্যে স্ত্রীর প্রকৃত বা আন্তরিক সন্তুষ্টি জরুরী।

মহানবী (সা:) বলেছেন, যে কোনও ব্যক্তি কোন মহিলাকে কম- বেশী “ মোহরের “ বিনিময়ে বিবাহ করছে, মনে মনে তার হক আদায় দেয়ার নিয়ত রাখেনি, তাকে ধোকাঁ দিয়েছে ,অতঃপর তার হক আদায় না করেই মারা গিয়েছে, সে ব্যক্তি কেয়ামতের দিন ব্যাভিচারী বা যেনাকার হয়ে আল্লাহর সংগে সাক্ষাৎ করবে।(ত্বাবারানী সঃ তারগীব ১৮০৭ নং)

♦প্রশ্নঃ–মাহারের কি পরিমান হওয়া ভাল?

উত্তরঃ-সাধারণভাবে মাহার কম ধার্য করাই মুস্তাহাব। রসূল(সাঃ)বলেন –
“ সে নারী বরকতের মাঝে আছে যাকে প্রস্তাব দেয়া সহজ ও যার মোহরানা অল্প” [ মুসনাদু আহমাদ; হাসান সানাদে]
তবে মাহার এর সর্বনিম্ন পরিমান সম্পর্কে ইমাম ইবনুল কায়্যিম(রহঃ) বলেন- “ কোন বস্তু, সেবা যার মূল্য আছে তাই মাহার হিসেবে ধার্য করা যেতে পারে” যেমন- সোনা,রূপা,টাকা-পয়সা, জমি জমা, ফলমূল ইত্যাদি। আর সেবার উদাহরণ হলঃ ভেড়া চরানো, সেচ দেয়া, ফল তোলা কুরআন শিক্ষা দেয়া ইত্যাদি। মাহারের সর্বাধিক পরিমাণের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট কোন সীমা নেই। এ ব্যাপারে সকল আলিম ঐক্যমত পোষণ করেছেন। [আল-মুগনী; খন্ড- ৬; পৃঃ ৬৮১]

আলিমগণ নিম্নোক্ত দালীলের ভিত্তিতে একমত হয়েছেন –

“ আর (স্ত্রীদের) একজনকে দিয়েছ স্তুপীকৃত সম্পদ।“ [নিসাঃ২০]
এই আয়াতে ﻗﻨﻄﺎﺭ শব্দটির একটি অর্থ হচ্ছে- ‘প্রচুর সম্পদ,সম্পদের স্তুপ’ [আল হাবী আল কাবীর; খন্ডঃ ১২ ; পৃঃ ৪] বিবাহের পর উভয় পক্ষের সম্মতিতে পূর্ব নির্ধারিত মাহারের হ্রাস-বৃদ্ধি উভয়ই জায়েয।[সূরা আন-নিসাঃ৭৮] জমহুর আলিমগণও এ ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন। [আল মুগনি; খন্ডঃ৬ ; পৃঃ ৭৪৩-৭৪

+++++++++++++++++++++++++++

“দেনমোহর অাদায় করা ফরজে অাইন!!!

বর্তমানে অাধুনিকতার নামে নোংরামি পদ্ধতিতে যে বিবাহ অনুষ্ঠানের অায়োজন করে দুনিয়াবী মান মর্যাদার দোহাই দিয়ে কোরআন-হাদীসের আদেশ নিষেধকে এড়িয়ে গিয়ে গুরুত্ব না দিয়ে (বর) পক্ষকে গরু কাটা করা হয় তা ইসলামে অাদৌ বৈধ বলে বিবেচিত হবে কিনা আসুন একটু জেনে নেই-

♣সুন্নতি তথা মহানবী সা : এর দেখানো নিয়ম পদ্ধতিতে বিয়ে হলে পাত্রের সাধ্যমত দেনমোহর নির্ধারণ করা উচিত।
কেননা অতিরিক্ত দেনমোহর চাপে পিষ্ট (বর) অবশেষে ব্যর্থ হয়ে বৌয়ের কাছেই ক্ষমা -মাফ চেয়ে নেয়!!!!
যা ইসলামী শরীয়তের সম্পূর্ন বিরোধী

♣দ্বীনের প্রতিটা কাজ মহান অাল্লাহ রাব্বুলঅালামিন সহজ করে দিয়েছেন।
তাই নিজের জামাতা কে ছোট করে “পাপী করে অন্যরা কি করলো কত মোটা অংক কসলো সেটা না দেখে ———–তারই সাধ্যের মধ্যে দেনমোহর নির্ধারন করুন!!!!

♦বিবাহ কে সহজ করে দিন অাল্লাহর হুকুম দুনিয়ার বুকে সুপ্রতিষ্ঠিত করুন।হাদীসে আছে,যেই বিয়েতে খরচ কম হয়,সেই বিয়েই বরকতময়।

আফসোস বর্তমান সমাজের দিকে তাকালে দেখা যায় যে জেনার বাজার হলো সস্তা আর বিয়ের বাজার হলো আকাশচুম্বি তাই অনেকেই বউ পালার সামর্থ্য অর্জন করলেও শুধু অযথা বিয়ের আকাশচুম্বি খরচের ভয়ে বিয়ে করতে দেরি করে।

উভয় পক্ষের অভিভাবকদের উচিত বিয়ের ক্ষেত্রে দ্বীনদ্বারিতাকে প্রাধান্য দিয়ে লৌকিকতা পরিহার করে সামর্থ্যনুযায়ী বিয়ের ব্যবস্থা করা।

কিয়ামতের দিনে গুনাগার হিসেবে নিজ জামাতা কে উপাস্থাপন করতে কতটুকু ভালো লাগবে অাপনার????
বিবেচনার ভার অাপনার বিবেক????

তবে কোরঅান হাদিসের বাইরে কখনোই কোন বিবাহ বৈধ হতেই পারে না।

এই চরম সত্য সকল মা বাবা ভাই ও বোন কে বোঝার তৌফিক দিক। আমিন।

আসসালামুআলাইকুম

👉#সত্য বললে গীবত হবেনা! যারা এমনটা ভাবেন লিখাটা তাদের জন্য……..

  • ‘থাক আর বলিস না! গীবত হয়ে যাচ্ছে!’
  • ‘আরে না, গীবত না। আমি কি মিথ্যা কিছু বলতেসি? সত্যি যা, তাই বলতেসি।’
    .
    ভাই!
    সত্য বলেই তা গীবত। মিথ্যে হলে তো দ্বিগুণ গুনাহ –
    ১. গীবত, ২. অপবাদ।

আসুন কিছু প্রশ্নোত্তরে জেনে নিই বিস্তারিত……

🔰গীবত (পরচর্চা) ও তহমত (অপবাদ)
▬▬▬▬●◈●▬▬▬▬

প্রশ্ন: গীবত করা তো আপন মৃত ভাইয়ের মাংস ভক্ষণ করার সমান। তাহলে ধরুন, কেউ কারোর নামে সমালোচনা করছে কিন্তু সেটা সত্য। অর্থাৎ যার নামে সমালোচনা করা হচ্ছে সত্যই তার মধ্যে সমস্যা আছে। তাহলেও কি গীবত বলে গণ্য হবে? কারণ তার নামে সত্যি কথাটাই বলা হচ্ছে; মিথ্যা বলা হয় নি।

উত্তর:

কারো মধ্যে যদি বাস্তবেই কোন দোষ-ত্রুটি থাকে আর তা যদি তার অসাক্ষাতে সমালোচনা করা হয় তাহলে এটাই প্রকৃত গীবত (পরচর্চা)। এটাই মৃত ভায়ের গোস্ত খাওয়ার সমতুল্য এবং কবিরা গুনাহ। কিন্তু যদি তার মধ্যে কোন দোষ না থাকে তারপরও অন্যায়ভাবে তার দোষ চর্চা করা হয় তাহলে এটাকে তহমত বা অপবাদ বলা হয়। গীবতের চেয়ে অপবাদ দেয়া আরও বড় অন্যায়। কারণ, এতে এক সাথে অনেকগুলো অন্যায় সংঘটিত হয়। যেমন, অপবাদ, মিথ্যা, সম্মানহানি ও জুলুম।

গীবত (পরচর্চা) ও তহমত (অপবাদ) এর সংজ্ঞা সম্পর্কে নিম্নোক্ত হাদিসটি পড়ুন:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «أَتَدْرُونَ مَا الْغِيبَةُ؟» قَالُوا: اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: ذِكْرُكَ أَخَاكَ بِمَا يَكْرَهُ قِيلَ أَفَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ فِي أَخِي مَا أَقُولُ؟ قَالَ: إِنْ كَانَ فِيهِ مَا تَقُولُ، فَقَدِ اغْتَبْتَهُ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيهِ فَقَدْ بَهَتَّهُ

আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লম বলেছেন: তোমরা কি জান, গীবত কি? তাঁরা বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন:
“গীবত হল তোমার ভাইয়ের সম্পর্কে এমন কিছু আলোচনা করা, যা সে অপছন্দ করে।”

#প্রশ্ন করা হল: আমি যা বলেছি তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থেকে থাকে, তাহলে আপনি কি বলেন?

তিনি বললেন: “তুমি তার সম্পর্কে যা বলেছ তা যদি তার মধ্যে থাকে, তাহলেই তুমি তার গীবত করলে। আর যদি তা তার মধ্যে না থাকে, তাহলে তো তুমি তার প্রতি অপবাদ আরোপ করলে।” (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং-২৫৮৯)

🔰গীবত এর সংজ্ঞা, ভয়াবহতা এবং যে সব ক্ষেত্রে গীবত বৈধ
▪▪▪▪▪▪▪▪

প্রশ্ন: গীবত সম্পর্কে একটু বিস্তারিত জানতে চাই। কেউ যদি আমার মনে কষ্ট দেয় তার সে আচরণের কথা যদি আমি ৩য় কাউকে বলি তবে কি এটা গীবত হবে-এই হিসেবে যে এ কথা তার সামনে বললে সে মনে কষ্ট পেত?

উওরঃ গীবত এর সঙ্গা, ভয়াবহতা এবং কোন কোন ক্ষেত্রে গীবত করা বৈধ?

গীবতএরসংজ্ঞাঃ

গীবত শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে, অনুপস্থিত কারো, পরচর্চা করা, পরনিন্দা করা, কুৎসা রটনা করা, পিছে সমালোচনা করা ইত্যাদি।

◼ পরিভাষায় গীবত বলা হয় ‘তোমার কোনও ভাইয়ের পেছনে তার এমন দোষের কথা উল্লেখ করা যা সে গোপন রেখেছে অথবা যার উল্লেখ সে অপছন্দ করে।’ (মু’জামুল ওয়াসিত)

◼ গীবতের সবচেয়ে উত্তম ও বাস্তবসম্মত সংজ্ঞা দিয়েছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিম্নোক্ত হাদিসে :

সাহাবি আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, গীবত কাকে বলে, তোমরা জান কি? সাহাবিগণ বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ই ভালো জানেন। তিনি বললেন, তোমার কোনও ভাই (দ্বীনি) সম্পর্কে এমন কথা বলা, যা সে অপছন্দ করে, তা-ই গীবত। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি যে দোষের কথা বলি তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে তাহলেও কি গীবত হবে? উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যে দোষের কথা বল, তা যদি তোমার ভাইয়ের থাকে তবে তুমি অবশ্যই তার গীবত করলে আর তুমি যা বলছ তা যদি তার মধ্যে না থাকে তবে তুমি তার ওপর মিথ্যা অপবাদ দিয়েছ। (মুসলিম)

সুতরাং এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, কোনও ভাইয়ের এমন দোষের কথা বলা গীবত যা সে অপছন্দ করে।

অত:এব কেউ যদি আপনাকে কষ্ট দেয় আর আপনি তা যদি এমন ব্যক্তির সামনে পেশ করেন, যে তার বিচার করবে বা এ বিষয়ে দুজনের মধ্যে সমাধান করবে বা এ ব্যাপারে আপনাকে সাহায্য করবে তাহলে তা গীবতের পর্যায়ে পড়বে না। অন্যথায় গীবত হিসেবে পরিগণিত হবে।

🎯#গীবতের_ভয়াবহতা:

▪ গীবত বা অসাক্ষাতে মানুষের দোষত্রুটি নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ সূরা হুজরাতের ১২ নম্বর আয়াতে বলেন,

وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ

‘আর তোমরা কেউ কারো গীবত করো না, তোমরা কি কেউ আপন মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া পছন্দ করবে? একে তোমরা অবশ্যই ঘৃণা করবে।, (সূরা হুজুরাত:১২)

সুস্থ, স্বাধীন কোনও বিবেকবান মানুষই জ্ঞান অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত মৃত মানুষ তো দূরের কথা, যে পশু জীবিত থাকলে হালাল সেই পশু মৃত হলে তার গোশতও ভক্ষণ করবে না। অথচ মানুষ সুস্থ মস্তিষ্কে, স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে গীবতের মতো জঘন্য ফেতনায় নিমজ্জিত হয়।

▪ গীবত সামাজিক বন্ধন ছিন্নভিন্ন করে দেয়। মানুষের মাঝ থেকে ভালবাসা, বন্ধুত্ব ও সুসম্পর্ক নষ্ট হয়। শুরু হয় মানুষে মানুষে অবিশ্বাস, আস্থাহীনতা এবং সকল ক্ষেত্রে চরম বিশৃংখলা। এটি একটি সামাজিক ক্যান্সারের মত। সমাজ দেহে কোন এক স্থানে এর সূচনা হলে আস্তে আস্তে তা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমানে আমাদের সমাজে এহেন বিশৃংখ অবস্থা বিরজমান হওয়ার জন্য এই অপরাধটি অন্যতম কারণ।
তাই গীবতের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি।

যেসকলক্ষেত্রেঅসাক্ষাতেকোরওদোষত্রুটিআলোচনাকরাগীবতেরঅন্তর্ভুক্ত_নয়:

ইমাম নববী (রহ:) বলেন, ”সৎ ও শরীয়ত সম্মত উদ্দেশ্য সাধন যদি গীবত ছাড়া সম্ভব না হয়, তাহলে এক্ষেত্রে গীবত জায়েয।” তার মতে ছয় ধরণের গীবত জায়েয। যথা:⤵️⤵️

☑ ১. মজলুম ব্যক্তি জালেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারে।

☑ ২. ত্রুটি সংশোধনের জন্য কোন ব্যক্তির দোষ এমন ব্যক্তির কাছে বলা, যে তা সংশোধন করার ক্ষমতা রাখে।

☑ ৩. মুফতির নিকট মাসয়ালা জানতে গিয়ে প্রয়োজনে কোন ব্যক্তির (সম্ভব হলে নাম উল্লেখ না করে) ত্রুটি বলা যায়।

☑ ৪. কোন ব্যক্তি কারো সাথে বিয়ে বা ব্যবসায়ের সম্পর্ক করতে চাইলে এবং তার সম্পর্কে অন্য ব্যক্তির সাথে পরামর্শ চাইলে তার দোষ-গুণ স্পষ্টভাবে বলে দেবে যা সে জানে (মনে হিংসা-বিদ্বেষ না রেখে)।

☑ ৫. যে সব লোক সমাজে প্রকাশ্যে পাপ কাজ, বিদআত বা গোমরাহির প্রসার ঘটাচ্ছে, তাদের দোষ-ত্রুটির তীব্র সমালোচনা জায়েয।

☑ ৬. চেনার উদ্দেশ্যে কাউকে ছদ্মনাম বা খারাপ উপনামে ডাকা জায়েয (তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে নয়)।
(আল্লামা ইমাম নববী রচিত মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যা গ্রন্থ)
▪▪▪▪▪▪▪
উত্তরদাতা:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীলল
জুবাইল, দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

“গীবত এমন একটি কবিরা গুনাহ; ছালাত, সাদক্বা, সিয়াম ও হজ্ব যা মার্জনা করতে পারে না।”
(ইবনু উসাইমীন,শারহু রিয়াদুস সালিহীন, ৬/১০৯)

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে গীবত-পরচর্চা, মিথ্যারোপ, অপবাদ ইত্যাদি ধ্বংসাত্মক অন্যায় থেকে হেফাজত করুন। আমিন,,,,,,,

আসসালামুআলাইকুম

আসসালামুআলাইকুম ওরহমাতুল্লাহি ওবারাকাতুহ

👉 ‘লাইলাতুল ক্বদর’ (ক্বদরের রাত) চেনার কিছু আলামত-
.
১. রাতটি গভীর অন্ধকারে ছেয়ে যাবে না।
২. নাতিশীতোষ্ণ হবে। অর্থাৎ গরম বা শীতের তীব্রতা থাকবে না।
৩. মৃদুমন্দ বাতাস প্রবাহিত হতে থাকবে।
৪. সে রাতে ইবাদত করে মানুষ অপেক্ষাকৃত অধিক তৃপ্তিবোধ করবে।
৫. ঐ রাতে বৃষ্টি বর্ষণ হতে পারে।
৬. সকালে হালকা আলোকরশ্মিসহ সূর্যোদয় হবে। যা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মত।
.
(তথ্যসূত্র- সহীহ বুখারী : ২০২১,সহীহ মুসলিম : ৭৬২,সহীহ ইবনে খুযাইমা : ২১৯০)।

👉 লাইলাতুল্ কদর’ এ কি কি ইবাদত করবেন ?

আলহামদুলিল্লাহ, ওয়াস্ স্বালাতু ওয়াস্ সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আম্মা বাদঃ

অনেক দ্বীনী ভাই আছেন যারা সহীহ নিয়মে লাইলাতুল কদরে ইবাদত করতে ইচ্ছুক। তাই তারা প্রশ্ন করে থাকেন যে, লাইলাতুল কদরে আমরা কি কি ইবাদত করতে পারি? এই রকম ভাই এবং সকল মুসলিম ভাইদের জ্ঞাতার্থে সংক্ষিপ্তাকারে কিছু উল্লেখ করা হল। [ওয়ামা তাওফীকী ইল্লা বিল্লাহ]

প্রথমতঃ আল্লাহ তাআ’লা আমাদের বলে দিয়েছেন যে, এই রাত এক হাজার মাসের থেকেও উত্তম। অর্থাৎ এই এক রাতের ইবাদত এক হাজার মাসের থেকেও উত্তম। [আল্ মিসবাহ আল্ মুনীর/১৫২১]
তাই এই রাতটি ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করাই হবে আমাদের মূল উদ্দেশ্য।

দ্বিতীয়তঃ জানা দরকার যে ইবাদত কাকে বলে? ইবাদত হচ্ছে, প্রত্যেক এমন আন্তরিক ও বাহ্যিক কথা ও কাজ যা, আল্লাহ পছন্দ করেন এবং তাতে সন্তুষ্ট থাকেন। [মাজমুউ ফাতাওয়া,১০/১৪৯]

উক্ত সংজ্ঞার আলোকে বলা যেতে পারে যে ইবাদত বিশেষ এক-দুটি কাজে সীমাবদ্ধ নয়। তাই আমরা একাধিক ইবাদতের মাধ্যমে এই রাতটি অতিবাহিত করতে পারি। নিম্নে কিছু উৎকৃষ্ট ইবাদত উল্লেখ করা হলঃ

১- ফরয নামায সমূহ ঠিক সময়ে জামাআ’তের সাথে আদায় করা।
যেমন মাগরিব, ইশা এবং ফজরের নামায। তার সাথে সাথে সুন্নতে মুআক্কাদা, তাহিয়্যাতুল মসজিদ সহ অন্যান্য মাসনূন নামায আদায় করা।

২- কিয়ামে লাইলাতুল্ কদর করা।
অর্থাৎ রাতে তারবীহর নামায আদায় করা। নবী (সাঃ) বলেনঃ
“যে ব্যক্তি ঈমান ও নেকীর আশায় লাইলাতুল কদরে কিয়াম করবে (নামায পড়বে) তার বিগত গুনাহ ক্ষমা করা হবে”। [ফাতহুল বারী,৪/২৯৪]
এই নামায জামাআতের সাথে আদায় করা উত্তম। অন্যান্য রাতের তুলনায় এই রাতে ইমাম দীর্ঘ কিরাআতের মাধ্যমে নামায সম্পাদন করতে পারেন। ইশার পর প্রথম রাতে কিছু নামায পড়ে বাকী নামায শেষ রাতে পড়াতে পারেন। একা একা নামায আদায়কারী হলে সে তার ইচ্ছানুযায়ী দীর্ঘক্ষণ ধরে নামায পড়তে পারে।

৩- বেশী বেশী দুআ করা।
তন্মধ্যে সেই দুআটি বেশী বেশী পাঠ করা যা নবী (সাঃ) মা আয়েশা (রাযিঃ) কে শিখিয়েছিলেন।
মা আয়েশা নবী (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি লাইলাতুল কদর লাভ করি, তাহলে কি দুআ করবো? তিনি (সাঃ) বলেনঃ বলবে, (আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল্ আফওয়া ফা’ফু আন্নী”। [আহমদ,৬/১৮২] অর্থ, হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল। ক্ষমা পছন্দ কর, তাই আমাকে ক্ষমা কর”।

এছাড়া বান্দা পছন্দ মত দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণকর যাবতীয় দুআ করবে। সে গুলো প্রমাণিত আরবী ভাষায় দুআ হোক কিংবা নিজ ভাষায় হোক। এ ক্ষেত্রে ইবাদতকারী একটি সুন্দর সহীহ দুআ সংকলিত দুআর বইয়ের সাহায্য নিতে পারে। সালাফে সালেহীনদের অনেকে এই রাতে অন্যান্য ইবাদতের চেয়ে দুআ করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। কারণ এতে বান্দার মুক্ষাপেক্ষীতা, প্রয়োজনীয়তা ও বিনম্রতা প্রকাশ পায়, যা আল্লাহ পছন্দ করেন।

৪- যিকর আযকার ও তাসবীহ তাহলীল করা।
অবশ্য এগুলো দুআরই অংশ বিশেষ। কিন্তু বিশেষ করে সেই শব্দ ও বাক্য সমূহকে যিকর বলে, যার মাধ্যমে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করা হয়। যেমন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”, “আল্ হামদু ল্লিল্লাহ” “সুবহানাল্লাহ”, “আল্লাহুআকবার” “আস্তাগফিরুল্লাহ”, “লা হাওলা ওয়ালা কুউআতা ইল্লা বিল্লাহ”। ইত্যাদি।

৫- কুরআন তিলাওয়াত।
কুরআন পাঠ একটি বাচনিক ইবাদত, যা দীর্ঘ সময় ধরে করা যেতে পারে। যার এক একটি অক্ষর পাঠে রয়েছে এক একটি নেকী। নবী (সাঃ) বলেনঃ
“যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পড়বে, সে তার বিনিময়ে একটি নেকী পাবে… আমি একথা বলছি না যে, আলিফ,লাম ও মীম একটি অক্ষর; বরং আলিফ একটি অক্ষর লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর”। [তিরমিযী, তিনি বর্ণনাটিকে হাসান সহীহ বলেন]

এছাড়া কুরআন যদি কিয়ামত দিবসে আপনার সুপারিশকারী হয়, তাহলে কতই না সৌভাগ্যের বিষয়! নবী (সাঃ) বলেনঃ
“তোমরা কুরআন পড়; কারণ সে কিয়ামত দিবসে পাঠকারীর জন্য সুপারিশকারী হিসাবে আগমন করবে”। [মুসলিম]

৬- সাধ্যমত আল্লাহর রাস্তায় কিছু দান-সাদকা করা।
নবী (সাঃ) বলেনঃ
“সাদাকা পাপকে মুছে দেয়, যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়”। [সহীহুত তারগবি]

শবে কদরের একটি রাতে এই রকম ইবাদতের মাধ্যমে আপনি ৮৩ বছর ৪ মাসের সমান সওয়াব অর্জন করতে পারেন। ইবাদতের এই সুবর্ণ সুযোগ যেন হাত ছাড়া না হয়। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দিন। আমীন!

উল্লেখ থাকে যে, ইবাদতের উদ্দেশ্যে বৈষয়িক কাজ-কর্মও ইবাদতে পরিণত হয়। যেমন রোযার উদ্দেশ্যে সাহরী খাওয়া, রাত জাগার জন্য প্রয়োজনীয় কাজ-কর্ম সেরে নেওয়া। তাই লাইলাতুল কদরে ইবাদতের উদ্দেশ্যে বান্দা যেসব দুনিয়াবী কাজ করে সেগুলোও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।

আশা করি আপনাদের বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত কিছু আইডিয়া দিতে পেরেছি। ওয়ামা তাওফীক ইল্লা বিল্লাহ্।

👉 একাকিত্ব থেকেই গুনাহের প্রতি আকৃষ্টতা বাড়ে। নিরিবিলিতে নিজের নফস হয়ে ওঠে শক্তিশালী!
প্রত্যেক মুমিনের উচিত নিজেকে ব্যস্ত রাখা,আখিরাতের কাজে..

—নিজেকে তৈরি করো রোজার মতো তাহলে মৃত্যু টা হবে ইদের মতো—–

যখন মসজিদ তোমাকে ডেকেছিলো তোমার টাইম ছিলো না , আজ তোমার কাছে টাইম আছে । কিন্ত মসজিদ তোমাকে গ্রহণ করছেনা !! 🗣হায় আফসোস!!😥

https://m.facebook.com/groups/1855479478022410?view=permalink&id=2558812901022394&sfnsn=mo

#বেগানা_নারী_পুরুষ_হতে_সাবধান..!

একজন বাইরের বেগানা মহিলার অথবা পুরুষের হাত সহ অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্পর্শ করার আগে হাদিস টা মনে রাখেন..

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করার পর অবৈধভাবে কোন মহিলার সাথে সহবাস করার মত বড় পাপ আর নাই”।[আহমদ, তাবারানী]

“মানুষ তার সমগ্র ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে জিনা করে। দেখা হচ্ছে চোখের জিনা,ফুঁসলানো কণ্ঠের জিনা, তৃপ্তির সাথে কথা শোনা কানের জিনা, হাত দিয়ে স্পর্শ করা হাতের জিনা, কোনো অবৈধ উদ্দেশ্যে পথ চলা পায়ের জিনা, এভাবে ব্যভিচারের যাবতীয় ভূমিকা যখন পুরোপুরি পালিত হয়, তখন লজ্জাস্থান তার পূর্ণতা দান করে অথবা পূর্ণতা দান থেকে বিরত থাকে” -বুখারি, মুসলিম ও আবু দাউদ) ”

” নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য কারো মাথায় লোহার পেরেক ঠুকে দেওয়া ঐ মহিলাকে স্পর্শ করা থেকে অনেক ভালো, যে তার জন্য মোটেই হালাল নয়।” – ত্বাবারানী ২০/২১২
রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন “আমি মেয়েদের সাথে মুসাফাহা করিনা।” – (আহমাদ-৬/৩৫৮)

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ” তোমাদের কারো মাথায় যদি লোহা দিয়ে আঘাত করা হয়, তবু এটা তার জন্যে ঐ মহিলাকে স্পর্শ করা থেকে উত্তম – যে তার জন্যে বৈধ নয়। “(তাবরানি, সহীহুল জামে-৪৯২১ )

“আমি মেয়েদের হাত স্পর্শ করিনা।” – (সহীহুল জামে হাদীস নং ৭০৫৪)

এ প্রসংগে মা আয়েশা (রাঃ) বলেছেন, “আল্লাহর শপথ, রসুল (সঃ) এর হাত কখনোই কোন বেগানা নারীর হাত স্পর্শ করেনি। তিনি কথার মাধ্যমে তাদেরকে বায়’আত করাতেন।” – (মুসলিম ৩/১৪৭৯)

কিন্তু আজকে সেই নবীর উম্মত হিসেবে আমরা তো মূলত প্রতিযোগিতাই নেমেছি তাইনা? আজকে কেউ কারো যদি গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ড না থাকে তাহলে মনে হয় জীবনটাই বৃথা! আবার কেউ যদি দ্বীনকে পরিপূর্ণ ভাবে মেনে চলে হারামকে-হারাম এবং হালালকে- হালাল হিসেবে গ্রহণ করে তাহলে তাঁকে বলে ব্যাকডেটেড বা মধ্যযুগীয়,,
আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়াতুবু ইলাইহি। আল্লাহ আমাদের এইসমস্ত বেহায়াপনা থেকে মুসলিম নারী-পুরুষ সমাজকে আল্লাহ্ হেফাজত করুক।

ভাই/আপু এই লেখাটা তোমার জন্যে………..

আশা করি এই লেখাটি তোমার চোখ
খুলে দিবে । সবকিছু নতুন করে ভাবতে সহায়তা করবে । লেখাটি খুব মনোযোগ সহকারে শেষ পর্যন্ত পড়ার আন্তরিক অনুরোধ রইল । জাযাকাল্লাহ খাইরান ।

বিসমিল্লাহ্হীর রাহমানের রাহীম ।

তোমাকে প্রথমেই একটা কথা বলে রাখি, আমি খুব বিষণ্ণ মন নিয়ে এই
লেখাটা লিখতে বসেছি । তবে এই বিষণ্ণতা তথাকথিত গার্লফ্রেন্ড চলে যাওয়ার বিষন্নতা নয় বা এই পৃথিবীতে কোনো কিছু হারানোর বিষণ্ণতা নয় । এই বিষণ্ণতা তোমাকে এই কথাগুলো আগে বলতে না পারার
অযোগ্যতার বিষণ্ণতা, আমাদের চারিপাশে যা কিছু হচ্ছে তা সইতে না পারার বিষণ্ণতা । সবাই যখন পরীক্ষার পড়াশোনা নিয়ে খুব ব্যস্ত
আমি তখন তোমাকে লিখতে বসেছি কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে আমার এই পরীক্ষার চেয়ে তোমাকে এই কথাগুলো বলা বেশী প্রয়োজন,
বেশী গুরুত্বপূর্ণ । হয়ত আমার এই কথাগুলো তোমার ভালো নাও লাগতে পারে তারপরেও লিখলাম শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে ।

প্রারম্ভিক কিছু কথাঃ-

কি সুন্দর এই পৃথিবী ! চোখ জুড়ানো বিস্তীর্ণ শ্যামল শস্য ক্ষেত । গাছের ডালে ডালে রঙ-বেরঙের ফুল ও ফল, তারই মাঝে রঙ-বেরঙের পাখ-পাখালি ও প্রজাপতির মনভুলানো খেলা । মন জুড়িয়ে যায় । মন জুড়িয়ে যায় বিরাট খোলা আকাশটার
দিকে তাকিয়ে । মেঘের কোলে ভেসে বেড়াচ্ছে স্বাধীন ডানা মেলা পাখিরা, রোদ হাসছে ঝিকমিক । কি সুন্দর ! কি সুন্দর এই সৃষ্টি ! কি বিরাট বিস্ময়কর এই সৃষ্টি ! সৃষ্টির এই সৌন্দর্য উপভোগ করে শেষ করা যায় না । এর সীমা-সংখ্যা গুনে শেষ করা যায় না । বিশ্বের প্রতিটি অনু পরমাণু মেনে চলেছে আল্লাহর আইন । এই শৃংখলার কোন ব্যতিক্রম নেই । আর এ জন্যেই এই বিশ্বজগত এতো সুন্দর । বিরাট এ
বিশ্বজগতে বিরাজ করছে অনাবিল শান্তি, ঐক্য আর শৃংখলা । কে না চায় এই এতো সুন্দর বিশ্বজগতে বেঁচে থাকতে !!

মানুষ এই দুনিয়ার সুন্দরতম সৃষ্টি ।
আশরাফুল মাখলুকাত বলা হয় তাকে । অন্যান্য সৃষ্টি থেকে আলাদা তার মর্যাদা । বিশেষ তার স্থান । মানুষ এই দুনিয়ায় আল্লাহর খলীফা বা প্রতিনিধি, আল্লাহ্ মানুষকে দিয়েছেন জ্ঞান-বিবেক, দিয়েছেন ভালো মন্দ বুঝার ক্ষমতা । সে যেমন এই জ্ঞানের আলোকে ভালো কাজ করতে পারে তেমনি রয়েছে খারাপ কাজ করার তার ক্ষমতা ও স্বাধীনতা । কিন্তু কেন আল্লাহ্ তায়ালা মানুষকে এই বিশেষ মর্যাদা দিলেন ? কেন দিলেন এমন স্বাধীনতা ? এর পিছনে রয়েছে আল্লাহর এক মহান উদ্দেশ্য । তা হলো, বিশ্ব প্রকৃতির অন্যান্য সৃষ্টি যেমন আল্লাহর নিয়ম মেনে তৈরি করেছে অনাবিল শান্তির জগত তেমনি মানুষ তার স্বাধীনতা থাকা সত্ত্বেও যেন আল্লাহর পথকে বেঁচে নিতে পারে । খারাপ কাজ করার ক্ষমতা ও স্বাধীনতা থাকা সত্ত্বেও
যাতে করে সে নিজের ইচ্ছায় আল্লাহর আইনের গোলামীকে বরন করে নিতে পারে । আর তারই
ফলে তাদের জীবনে নেমে আসবে অনাবিল শান্তি । পৃথিবীতে গড়ে উঠবে এক সুন্দর শান্তিপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থা । আর আখেরাতের অশেষ পুরষ্কার তো রয়েই গেছে । এবার আসি মূল কথায়ঃ-

১) তোমার জীবনের লক্ষ্য ও
উদ্দেশ্য কি ?

পড়াশুনা করেছি কিন্তু স্কুল জীবনে “Aim in life বা জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য” নিয়ে রচনা লিখিনি বা পড়িনি এমন একজনও খুজে পাওয়া যাবে না । আমরা প্রত্যকেই মুখস্ত কিছু কথা লিখেছি যে, আমি বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাই । ডাক্তার
হয়ে বিনামূল্যে মানুষের চিকিৎসা করে মানুষের সেবা করতে চাই । কেউবা আবার লিখেছি শিক্ষক হয়ে সমাজকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে চাই । আবার কেউবা লিখেছি ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই । কিন্তু একবার চিন্তা করে দেখতো যে ছেলেটা ডাক্তার হতে চেয়েছিল সে আজ হয়ত পড়ছে ইতিহাস বা বাংলা বা ইংরেজী সাহিত্য নিয়ে । যে ছেলেটা ইঞ্জিনিয়ার হতে চেয়েছিল সে হয়ত আজ পড়ছে প্রানীবিজ্ঞান বা উদ্ভিদবিজ্ঞান নিয়ে বা অন্য যেকোনো বিষয়ে । আর যে ছেলেটা শিক্ষক হতে চেয়েছিল তার হয়তোবা স্কুলের গণ্ডি পেরোনই হয় নাই । আসলে বাস্তবতা বড়ই নিষ্ঠুর । একজনকে যদি দান করে শতজনকে করে বঞ্চিত । আজ তোমার জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ভিন্ন । এখন আর ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করা বা শিক্ষক হয়ে সমাজকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা তোমার জীবনের উদ্দেশ্য নয় । তোমার দরকার কাড়ি কাড়ি টাকা-পয়সা, অর্থ-বিত্ত-প্রাচুর্য ও প্রভাব-প্রতিপত্তি । তোমার দরকার সমাজের বাহবা । সমাজ তোমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হবে,
তোমাকে দেখে চেয়ারটা ছেড়ে দিবে, সমাজ তোমাকে স্বীকৃতি দিবে তুমি জীবনে সফল (?), সমাজ বলবে তুমি তোমার বাবা-মার মুখ উজ্জ্বল করেছো, এগুলোই হচ্ছে এখন তোমার একমাত্র চাওয়া । আর একটা সুন্দরী রমণীর সাথে প্রেম করা বা বিয়ে করার বাসনা সেটা তো তোমার মনের ভিতরে সবসময়ই কাজ করে । তোমার দরকার বড় বড় সার্টিফিকেট, পি এইচ ডি ডিগ্রী যাতে বিয়ের বাজারে তোমার কদর একটু বেশীই থাকে । তুমি স্বীকার না করলেও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এগুলোই যে তোমার জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তা তুমি অস্বীকার করতে পারবে না । হয়ত বলবে এগুলো কে না চায় ? হ্যা আমিও জানি এগুলো প্রায় সবাই চায় । তাই তুমিও চাও, মনেপ্রাণে চাও, যেকোনো মূল্যে চাও । আর তুমি তোমার এই চাওয়া গুলোকে পূরন করার জন্যে প্রাণপণ চেষ্টা সাধনা করে চলেছ । যে তুমি তোমার আরামের ঘুমটুকু ভেঙ্গে ফজরের নামাজটুকু পড়তে পারো না সেই তুমি পরীক্ষার টেনশনে সারারাত ঘুমাতে পারো না । কখন কিভাবে ভোর হয়ে যায় তুমি বলতেই পারো না কিন্তু তোমার পড়া শেষ হয় না আর ফজরের দুই রাকাত ফরজ নামাজ পড়ারও সময়তো এমনেই হয় না । বই নিয়ে, গ্রুপস্টাডি নিয়ে বন্ধুদের সাথে এতোটাই ব্যস্ত থাক যে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার জন্যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিরিশ মিনিট সময় তোমার হয় না । কারণ তুমি জান যে এবং তোমাকে জানানো হয়েছে যে এই পরীক্ষায় তুমি ভালো করতেই হবে, না করতে পারলে তোমার স্বপ্নগুলো পূরন হবে না । এই পরীক্ষায় ভালো না করতে পারলে তোমার একটা আরাম আয়েশি জীবন, একটা সুন্দর বাড়ি, একটা সুন্দরী নারী এবং একটা সুন্দর গাড়ী পাওয়া হবে না । আর এগুলো না ফেলে তোমার জীবন একেবারে ব্যর্থ । সমাজ তোমাকে ব্যর্থদের কাতারে ফেলে দিবে, সমাজ তোমার কুৎসা করবে, সমাজ বলবে তুমি শেষ, তুমি কোন কাজের না, তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না । তাই তুমি পাগলের মত ছুটে চলেছ এসবের পেছনে । কিন্তু তুমি একবার ভাবনি তুমি কিসের পেছনে ছুটছো, কিসের
জন্যে ছুটছো । অবশ্য তা ভাবার মত তোমার সময় কোথায় ?

ক) মনে করো তুমি পরীক্ষা দিয়ে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছ এবং দুই দিন পরে ডিপার্টমেন্টের টিচার হবে কিন্তু কিছু দিন পরেই তুমি মারা গেলে । এখন বল কি হবে তোমার ওইসব ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট সার্টিফিকেট দিয়ে । কেজির দরে বিক্রি করা ছাড়া আর কোন কাজে আসবে না । আর কেজির দরে বিক্রি করলেও তো দুই টাকার বেশী হবে না । এখন চিন্তা করো তোমার সারা জীবনের অর্জন তোমার মৃত্যুর সাথে সাথেই দুই টাকা হয়ে গেল বা তারও কম ।

খ) মনে করো গুলশানে তোমার একটা বিশাল বাড়ী হল এবং বাড়ীটিতে উঠার একদিন পরেই তুমি মারা গেলে কি হবে তোমার এই বাড়িটার ? মনে করো তোমার একটা লাখ টাকা বেতনের একটা চাকরি হল এবং একটা গাড়ী হল এবং তুমি ওই গাড়ীতে করে প্রথম দিন অফিসে যাওয়ার পথেই দুর্ঘটনায় মারা গেলে তখন কি হবে তোমার ওই লাখ টাকার চাকরি আর
বিলাসবহুল গাড়ীর ? আচ্ছা মনে করো খুব সুন্দরী একটা মেয়ের সাথে তোমার বিয়ে হল এবং বাসর রাতের পরের দিনই তুমি মারা গেলে তখন কি হবে তোমার ওই সুন্দরী স্ত্রীর ? এগুলো কি তোমার সাথে কবরে নিয়ে যাবে নাকি ? নিয়ে যাওয়া তো দূরের কথা তুমি মারা যাওয়ার পর তোমার ওই ভালোবসার মানুষটিই ভয়ে তোমার সাথে একরাত থাকতেও চাইবে না । তোমার যে স্ত্রী কখনো তোমাকে ছাড়া একরাত থাকতে পারতো না তোমার সেই স্ত্রীই বলবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তোমাকে যেন দাফন করা হয় । এটাই চরম বাস্তবতা এবং এটাই চরম সত্য । একবার ভেবে দেখ তোমার মৃত্যুর সাথে সাথেই তোমার সব বৈষয়িক অর্জন, প্রভাব-প্রতিপত্তি সব কিছু এক মুহূর্তের মধ্যে শূন্য হয়ে যাবে । তোমার অতি কাছের মানুষগুলো চিরদিনের জন্যে তোমার পর হয়ে যাবে । যাদের জন্যে তুমি পৃথিবীতে এতো কিছু করেছো কেউ তোমার সামান্য উপকারে আসবে না । কেউ তোমাকে বিন্দু পরিমাণ সাহায্য করতে পারবে না এমনকি তোমার গর্ভধারিণী মাও পর্যন্ত তোমার জন্যে কিছু করতে পারবে না এক দোয়া করা ছাড়া ।
আল্লাহ্ তায়ালা বলেনঃ-

“আর ভয় করো সেই দিনকে যেদিন কেউ কারো সামান্যতম উপকারে আসবে না, কারো পক্ষ থেকে কোন
সুপারিশ গৃহীত হবে না এবং বিনিময় নিয়েও সেদিন কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না ।”
-সুরা আল বাকারাঃ ৪৮ ।

তাহলে এখন ভাবো কি নিয়ে যাবে তোমার সাথে যেটা তোমাকে সেদিন
সাহায্য করবে যেদিন কেউ তোমাকে সাহায্য করতে পারবে না । শুধুমাত্র একটা জিনিসই তোমাকে সাহায্য করতে পারবে সেটা হচ্ছে তোমার আমল অর্থাৎ তোমার কৃতকর্ম । আর সেটাকে গুরুত্ব না দিয়েইতো তুমি এসবের পিছনে পাগলের মত ছুটে চলেছ । তাহলে তখন্ তোমার কি অবস্থা হবে একবার ভাব । অবশ্য
তোমাকে ভাবতে হবে না কারণ সেটা আল্লাহ্ তায়ালাই তোমাকে সতর্ক করার জন্যে পবিত্র কোরআনে বার বার বলে দিয়েছেন । কিন্তু তুমি এতোটাই দুর্ভাগা যে সেই সতর্ক বানীগুলো তোমার কানে পৌঁছায় না বা নিজে জানারও প্রয়োজনবোধটুকু
করো না ।
আল্লাহ্ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেনঃ-

“আর যার আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে সে বলবেঃ হায় ! আমার আমলনামা যদি আমাকে আদৌ দেয়াই না হতো এবং আমার
হিসেব যদি আমি আদৌ না জানতাম
তাহলে কতই না ভাল হত ৷ হায় ! আমার মৃত্যুই যদি আমার শেষ হতো । আজ আমার অর্থ-সম্পদও কোন কাজেই আসলো না ৷ আমার সকল ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি বরবাদ হয়ে গেল ।”
–সুরা আল হাক্কাহঃ ২৫-২৯ ।

এখন ভাবো কি হওয়া উচিত তোমার জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য । আবারো ভাবো !! এই দুনিয়ার প্রতিপত্তি নাকি আখিরাতে মুক্তি ।

২) আচ্ছা বলতো কেন তোমাকে সৃষ্টি করা হয়েছে ? তুমি তো এই পৃথিবীর সামান্য কিছু বৈষয়িক সুখের জন্যে হাজার হাজার পৃষ্টা পড়ে চিন্তা করতে পারো, লিখতে পারো, বলতে পারো কিন্তু কখনো কি একবার ভেবে দেখেছো যে কেন
তোমাকে তোমার প্রভু সৃষ্টি করেছেন ? শুধুমাত্র কি এই জন্যে যে তুমি জন্ম
নিয়ে ছোট থেকে বড় হবে, পড়াশুনা করবে, তারপর একটা ভালো চাকরি করবে, তারপর বিয়ে করে সুখে শান্তিতে সংসার করবে, তারপর বৃদ্ধ
হবে এবং তারপর একদিন এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিবে ? অনেকটা পশু পাখির মতই । তাহলে তুমি যে আশরাফুল মাখলুখাত এই কথার সত্যতা থাকল কোথায় ? আচ্ছা একবার গভীরভাবে চিন্তা করতো যিনি এই বিশ্বজগতের স্রষ্টা, অসীম জ্ঞানী, যার সৃষ্টিতে কোন ভুল
বা ত্রুটি নেই সেই তিনি কীভাবে তোমাকে এতো বুদ্ধি, বিবেক, প্রজ্ঞা দিয়ে সুন্দরতর আকৃতিতে সৃষ্টি করে কোন কারণ বা উদ্দেশ্য ছাড়াই এই
পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিয়েছেন ? তুমি হয়ত জানো না বা জানবার প্রয়োজনীয়তাটুকুও বোধ করো না কেন আল্লাহ্ তোমাকে সৃষ্টি করেছেন । কিন্তু সেটা আল্লাহ্ তায়ালা পবিত্র
কোরআনে সুস্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন ।
আল্লাহ্ তায়ালা বলেনঃ-

“আমি জিন ও মানুষকে আমার ইবাদত ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্য সৃষ্টি করিনি ।”
-সুরা আয যারিয়াতঃ ৫৬ ।

উপরের আয়াতটা বার বার পড় এবং দেখতো বুঝতে কোন অসুবিধা হয় কিনা, কি কারণে আল্লাহ্ তোমাকে সৃষ্টি করেছেন । আমি জানি একটা ছোট শিশুরও বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা না । অর্থাৎ আল্লাহ্ তায়ালা তোমাকে এতো বুদ্ধি বিবেক, প্রজ্ঞা দিয়ে সুন্দরতর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন শুধুমাত্র তার অর্থাৎ আল্লাহর ইবাদতের জন্যে । এখন তোমার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, আমি কি তাহলে এই পৃথিবীর কিছুই পাবো না বা কিছুই ভোগ করতে পারবো না বা অন্য কোন কিছুই করতে পারবো না ? অবশ্যই পারবে, সব কিছুই করতে পারবে । তবে সেটা আল্লাহ্ ও তার রাসুলের দেখানো পথে হতে হবে । আল্লাহ্ ও তার রাসুলের দেখানো পথে তুমি যা করবে বা আল্লাহ্ ও তার রাসুলের নিষেধে যা পরিত্যাগ করবে তার সবটাই ইবাদত । যদি তুমি আল্লাহ্ ও তার রাসুলের নির্দেশমত রাস্তা দিয়ে হাট এবং আল্লাহ্ ও তার রাসুলের আদেশমত
রাস্তা দিয়ে হাটার সময় নিষিদ্ধ কাজগুলো থেকে বিরত থাক তাহলে রাস্তা দিয়ে হাঁটাটাও তোমার জন্যে ইবাদত বলে গন্য হবে যেমনিভাবে আল্লাহ্ ও তার রাসুলের দেখানো পদ্ধতিতে নামাজ পড়া, রোজা রাখা, যাকাত আদায় করা, হজ্জ করা ইবাদত হিসেবে গন্য হয় । তুমি যদি সৎ পথে তোমার পরিবারের
জন্যে জীবিকা নির্বাহ করো তাহলে সেটাও তোমার জন্যে ইবাদত হিসেবে গন্য বা কবুল হবে । এমনকি তুমি তোমার স্ত্রী বা স্বামীর সাথে যে সময়টুকু কাটাবে সেটাও ইবাদত বলে গন্য হবে যদি সেটা আল্লাহ্ ও তার রাসুলের দেখানো পথ অনুসারে হয় । এমনকি তোমার ঘুমটাও ইবাদত হবে যদি সেটা আল্লাহ্ ও তার রাসুলের নির্দেশিত পন্থায় হয় ।
রাসুল (সাঃ) বলেনঃ-

“যে ব্যক্তি ইশার নামাজ জামাতের সাথে পড়ল যে যেন অর্ধরাত অবধি নামাজ আদায় করল । আর এর পর
যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতের সাথে আদায় করল সে যেন সারা রাত নামাজ আদায় করল । অর্থাৎ
মাঝখানে তার ঘুমটাও নামজের মত ইবাদত হিসেবে গন্য হবে ।”
-সহীহ মুসলিম ।

৩) কেন তুমি আশরাফুল মাখলুখাত ?

তুমি ইসলাম সম্পর্কে খুব ভালো না জানলেও অন্তত এইতুকু জানো যে মহান আল্লাহ্ তায়ালা তোমাকে আশরাফুল মাখলুখাত বা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন । কিন্তু কখনি কি একবার ভেবে দেখেছো কেন তুমি সৃষ্টির সেরা । নাকি তুমি এমনি এমনিই সৃষ্টির সেরা !! এইটা বলা কি চরম নিরবুদ্ধিতা না বল ? তুমি নিজেও কি অন্য কাউকে শুধু শুধু সেরা বলে বলে মেনে নিবে ? তুমি জানো যে তোমার বাবা তোমার পরিবারের শ্রেষ্ঠ কারণ তোমার বাবা তোমার পরিবাবের সকল দায়িত্ব বহন করেন । তেমনিভাবে তোমাকে কিছু দায়িত্ব
দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে যেটা অন্য কোন প্রানীকে দেয়া হয় নাই আর সে জন্যেই তুমি আঁশরাফুল মাখলুখাত বা সৃষ্টির সেরা ।
আল্লাহ্ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেনঃ

“তোমরা হলে উত্তম জাতি । তোমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষের কল্যান সাধনের জন্যে । তোমাদের কাজ হল, তোমরা মানুষকে সত্যের পথে চলার আদেশ
করবে এবং অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখবে ।”
-সুরা আল ইমরানঃ ১১০ ।

দেখ আল্লাহ্ কত স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন কেন তোমাকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন । এখন বল
এই দায়িত্ব পালন না করলে কি তুমি আর শ্রেষ্ঠ থাকবে বা থাকতে পারবে ? থাকতে পারবে না । তাহলে কি হবে তোমার অবস্থান ? সেটাও কিন্তু আল্লাহ্ তায়ালা পরিষ্কারভাবে বলে
দিয়েছেনঃ

“আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম আকৃতিতে । অতঃপর থাকে নামিয়ে দিয়েছি নিকৃষ্ট থেকে নিকৃষ্টতর অবস্থানে ।”
-সুরা আত ত্বীনঃ ৪-৫ ।

অর্থাৎ তুমি যদি তোমার এই দায়িত্ব মানে “সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধ” পালন না করো বা পালনে অবহেলা করো তাহলে তোমাকে এক নিকৃষ্ট স্তরে নামিয়ে দেয়া হবে । অর্থাৎ পশু পাখিরও নীচের স্তরে । এখন একটু চিন্তা করতো তোমাকে যে দায়িত্ব দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে সেটা সম্পর্কে কতটুকুই বা জানো কতটুকুই বা পালন করছো । যদি না করে থাক
তাহলে তোমার অবস্থানটা কি পশুর চেয়েও নীচে নেমে গেল না ?

৪) আচ্ছা বলতো কেন আমরা বেঁচে আছি ?

আচ্ছা ভাইয়া বা আপু কখনো কি একবার চিন্তা করেছো কেন আমরা বেঁচে আছি ? কিসের জন্যে বেঁচে আছি ? খাবো-দাবো, সেক্স করবো, আমোদ-ফুর্তি করবো শুধু কি এই জন্যেই বেঁচে আছি ? যদি শুধুমাত্র খাওয়া-দাওয়া, সেক্স, আমোদ-ফুর্তি বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য হয় তাহলে তো আমাদের আর পশু পাখির মধ্যে কোন পার্থক্যই থাকলো না । বরং তখন পশু পাখির জীবনটা আমাদের চেয়ে অনেক সুন্দর হবে কারণ ওদের খাওয়া-দাওয়া, সেক্সের জন্যে অতটা পরিশ্রম করতে হয় না যতটা করতে হয় মানুষের । যদি বল খাওয়া- দাওয়া, সেক্স, আমোদ- ফুর্তিই বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য না তাহলে কেন আমরা বেঁচে আছি সেই কারণটা অবশ্যই তোমাকে বের করতে হবে । আর এই জন্যে তোমাকে ফিরে যেতে হবে
আল কোরআনের ছায়াতলে । না হলে হাজার হাজার পৃষ্টা পড়েও অন্ধকারে হাতড়িয়ে মরবে কিন্তু বেঁচে থাকার সঠিক উদ্দেশ্যটাই আবিষ্কার করতে পারবে না ।
আল্লাহ্ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেনঃ

“এই সেই রমজান মাস, যে মাসে কোরআন নাযিল করা হয়েছে; যা মানুষের জন্যে হেদায়াত স্বরূপ, যা এমন স্পষ্ট উপদেশে পরিপূর্ণ যে,
তা সঠিক পথ দেখায় এবং হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য পরিস্কারভাবে তুলে ধরে ।”
-সুরা আল বাকারাঃ ১৮৫ ।

৫) এই দুনিয়ার সাফল্যই কি প্রকৃত সাফল্য ?

আচ্ছা এই দুনিয়ার সাফল্যই কি প্রকৃত সাফল্য ? এই দুনিয়াতে অঢেল টাকা-পয়সা, গাড়ী-বাড়ী, প্রভাব-প্রতিপত্তি এবং সুন্দরী রমণী পাওয়াটাই কি প্রকৃত সাফল্যের মূল নিদর্শন ? দেখা যাক এই দুনিয়ার সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ্ তায়ালা এই দুনিয়ার তথাকথিত সাফল্য নিয়ে কি বলেনঃ

“তারা তাদের এই দুনিয়ার জীবনে যা কিছু ব্যয় করছে তার উপমা হচ্ছে এমন বাতাস যার মধ্যে আছে তূষার কণা । যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছে তাদের শস্যক্ষেতের ওপর দিয়ে এই বাতাস প্রবাহিত হয়
এবং তাকে ধ্বংস করে দেয় । আল্লাহ তাদের ওপর জুলুম করেননি । বরং প্রকৃতপক্ষে এরা নিজেরাই নিজেদের ওপর জুলুম করেছে । পার্থিব জীবন ছলনাময় সম্পদ ছাড়া কিছুই নয় ।”
-সুরা আল ইমরানঃ ১১৭ ।

“পার্থিব জীবন ছলনাময় সম্পদ ছাড়া কিছুই নয় ।”
-সূরা আলে ইমরানঃ ১৮৫ ।

“পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক ব্যতীত কিছু নয়, যারা সংযত হয় তাদের জন্য পরকালের আবাসই শ্রেষ্ঠতর । তোমরা কি তা বোঝ না ?”
-সূরা আল-আন’আমঃ ৩২ ।

“এই পার্থিব জীবন তো ক্রীড়া-কৌতুক ব্যতীত কিছুই নয় । পরলৌকিক জীবনই তো প্রকৃত জীবন ।”
-সূরা আল-আনকাবূতঃ ৬৪ ।

“এই পার্থিব জীবন তো অস্থায়ী উপভোগের বস্তু এবং পরকাল হচ্ছে চিরস্থায়ী আবাস ।”
-সূরা আল-মু’মিনঃ ৩৯ ।

“তোমরা জেনে রেখো, পার্থিব জীবন তো ক্রীড়া-কৌতুক, জাঁকজমক, পারস্পরিক গর্ববোধ ও ধন-জনে প্রাচুর্য লাভের প্রতিযোগিতা ব্যতীত আর কিছু নয় ।”
-সূরা আল-হাদীদঃ ২০ ।

উপরের আয়াতগুলো বার বার পড় আর চিন্তা করো কিসের পেছনে পাগলের মত ছুটছো ।

৬) আখিরাতের সাফল্যই প্রকৃত সাফল্য ।

এই দুনিয়ার সাফল্য সে প্রকৃত সাফল্য নয় এই কথাতি বুঝতে বা উপলব্ধি করতে কোন বিবেকবান মানুষেরই অসুবিধা হওয়ার কথা না ।
কেননা এই দুনিয়ার সাফল্য নশ্বর, অস্থায়ী । এই দুনিয়ার সাফল্য আজ আছে তো কাল নেই । যেকোনো মুহূর্তে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে । প্রকৃতপক্ষে আখিরাতের সাফল্যই যে প্রকৃত সাফল্য যে কেউ সামান্য একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারবে ।
কেননা আখিরাতের সাফল্য অবিনশ্বর, চিরন্তন । তা কখনো হারিয়ে যাবার নয় বা ধ্বংস হবার নয় ।
আল্লাহ্ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেনঃ

“অবশেষে প্রত্যেক ব্যক্তিকেই মরতে হবে এবং তোমরা সবাই কিয়ামতের দিন নিজেদের পূর্ণ প্রতিদান লাভ করবে । একমাত্র সেই ব্যক্তিই সফলকাম হবে, যে সেখানে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাবে এবং যাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে ৷ আর এ দুনিয়াটা তো নিছক একটা বাহ্যিক প্রতারণার বস্তু ছাড়া আর কিছুই নয় ।”
-সুরা আল ইমরানঃ ১৮৫ ।

“সে সময় যাকে তার আমলনামা ডান হতে দেয়া হবে, সে বলবেঃ নাও, তোমরাও আমার আমলনামা পড়ে দেখো, আমি জানতাম, আমাকে হিসেবের সম্মুখীন হতে হবে । তাই সে মনের মত আরাম আয়েশের মধ্যে থাকবে সুউচ্চ মর্যাদার জান্নাতে । যার ফলের গুচ্ছসমূহ নাগালের সীমায় অবনমিত হয়ে থাকবে । এসব লোকদের কে বলা হবেঃ অতীত দিনগুলোতে তোমরা যা করে এসেছো তার বিনিময়ে তোমরা তৃপ্তির সাথে খাও এবং পান করো ।”
-সুরা আল হাক্কাহঃ ১৯-২৪ ।

৭) এবার তোমাকে কিছু অপ্রিয় সত্য কথা বলি ।

এবার তোমাকে কিছু অপ্রিয় সত্য কথা বলি । হয়ত তোমার কাছে কথাগুলো কটু মনে হতে পারে । তাতে কি ? আমি যদি তোমাকে এতো ভালোবাসতে পারি, তোমার জন্যে লিখতে পারি তাহলে কি তোমার বৃহত্তর কল্যাণের জন্যে তোমাকে কয়েকটা কটু কথা বলার অধিকার রাখি না বল ?
আর একটা প্রবাদই তো আছে যে,
“শাসন করা তারই সাজে সোহাগ করে যে ।”

ক) একটু চিন্তা করে দেখতো তোমাকে অনার্স পাস করতে হলে ছোটবেলা থেকে অনার্স পর্যন্ত কমপক্ষে ১৩৫ টি বই পরতে হয় (প্রতি বিষয়ের জন্যে কমপক্ষে একটি করে বই ধরে ; কিন্তু অনেক সময় আমদেরকে একটা বিষয়ের জন্যে তিনটা থেকে চারটা পর্যন্ত বই পরতে হয়) । কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে এই কমপক্ষে ১৩৫ তার মধ্যেও তোমার জীবনের জন্যে সবচেয়ে অত্যাবশ্যকীয় একটা বই(আল কোরআন) থাকে না । তোমার এই পৃথিবীতে একটা চাকরীর জন্যে শত শত আজেবাজে বই পড়ার সময় হয় কিন্তু আল কোরআন পড়ার সময় হয় না । তার পরেও তুমি নিজেকে মুসলমান বলে পরিচয় দাও !! আল্লাহর কাছে মুক্তির আশা করো !! আমার মনে হয় আমাদের নিজেদের একটু লজ্জিত হওয়া উচিত ।

খ) একবার চিন্তা করতো সাময়িক কিছু বিনোদনের জন্যে তুমি হাজার হাজার টাকা খরচ করে হুমায়ূন আহমেদের বই, জাফর ইকবালের বই, বিভিন্ন মুভি ডিস্ক এবং আরও কত কি কিনতে পারো কিন্তু মাত্র হাজার বারোশ টাকা খরচ করে ইসলাম বুঝার জন্যে একটা কোরআনের তাফসীর বা কয়েকটা ইসলামিক বই কিনতে পারো না । তা পারবে কেন ? তুমি তো আধুনিক ছেলে বা মেয়ে !! তোমার কি কোরআনের তাফসীর আর ইসলামিক বই পড়ার সময় আছে ?তোমার সময় আছে একরাতে দুই তিনটা মুভি দেখে শেষ করার !! তোমার সময় আছে টিএসসিতে বন্ধু
বান্ধবীদের সাথে জমিয়ে আড্ডা দেয়ার !! তোমার সময় আছে গার্লফ্রেন্ড নিয়ে পার্কে বসে নিভৃতে আড্ডা দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করার !! তোমার সময় আছে গার্লফ্রেন্ডের সাথে সারারাত জেগে ফোনালাপ করার !! তোমার কি ইসলাম নিয়ে, কোরআন-হাদিস নিয়ে আলোচনা করার সময় আছে ? তা থাকবে কেন ? তোমার সময়গুলো হচ্ছে একথা টাইগার, ডার্টি পিকচার আর বলিউডের কোন মুভিটা কত হিট হয়েছে তা নিয়ে বন্ধুদের সাথে আলোচনায় হারিয়ে যাওয়ার । কোন মুভি প্রথম দিনেই কত মিলিয়ন ডলার আয় করছে তা একেবারে তোমার নখদর্পণে । স্প্যানিশ লীগে, ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে কে কয়টা গোল করছে সব তোমার মুখস্ত । আগামী বছর কে ব্যালন ডি জিতবে তাও বলে দিতে পারবে । পৃথিবীর সব বিষয়ের জ্ঞান তুমি রাখো । তুমি সবই বলে দিতে পারবে । বলতে পারবেনা শুধু পবিত্র
কোরআনে কয়টা সূরা আছে, সিহাহ সিত্তাহ মানে কি । সত্যি তোমার জন্যে আমার করুনা হয়, তোমার জন্যে আমার লজ্জা হয়, তোমার
জন্যে আমি বিব্রত !! !তারপরেও
তোমাকে আমি অনেক অনেক ভালোবাসি, অনেক অনেক পছন্দ করি আর তাই তোমাকে এই কথাগুলো বললাম যেন তোমার চেতনা ফিরে আসে, যেন তোমার ভিতরে ঘুমিয়ে থাকা সত্যিকারের
মানুষটা জেগে ওঠে ।

গ) হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুতে, সস্তা প্রেমের সিনেমা দেখে, সস্তা প্রেমের উপন্যাস পড়ে তোমার চোখে জল এসে যায় কিন্তু নিজের শত শত ভুল আর পাপের জন্যে আল্লাহর সামনে দাড়িয়ে এক ফোঁটা চোখের জল ফেলার সময় তোমার হয় না। আর দাঁড়ালেও সে সময় চোখের সমস্ত জল যেন কর্পূরের মত বাষ্প হয়ে উড়ে যায় !! এভাবে আর কতদিন বল ? এখনি কি তোমার চেতনা হবে না নাকি আল কোরআনের ওই আয়াতের মত হবে তোমার অবস্থাঃ

“দুনিয়ায় বেশী বেশী এবং একে অপরের থেকে বেশী পাওয়ার মোহ
তোমাদেরকে গাফলতির মধ্যে ফেলে দিয়েছে । এমনকি তোমরা (এই চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়ে) কবর পর্যন্ত পৌঁছে যাও ।”
– সুরা আত তাকাসুরঃ ১-২ ।

বল, আর কবে তোমার রবের দিকে প্রত্যাবর্তন করবে ? শেষ বয়সে ? কিন্তু তুমি যে আর এক মুহূর্ত পরে এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে এই নিশ্চায়তা তোমাকে কে দিল ?

৮) শুরু হোক নতুন জীবন, নতুন অধ্যায় ।

অতীতের ভুল ভ্রান্তির জন্যে পরম করুনাময় আল্লাহর কাছে তওবা করে,ক্ষমা চেয়ে আজ থেকে শুরু হোক নতুন জীবন । শুরু হোক নতুন করে চলার পথ, যে পথ শুধুই আলোয় ভরা, যে পথ শুধুই সাফল্যের, যে পথে ব্যর্থতার কোন হিসেব নেই, আল কোরআনই হবে যে পথের একমাত্র আলোকবর্তিকা । আল্লাহ্ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেনঃ

“হে ঈমানদারগণ তোমরা সবাই আল্লাহর নিকট তওবা করো, তাহলেই তোমরা কল্যান লাভ করতে পারবে ।”
-সুরা আন নূরঃ ৩১ ।

“হে ঈমানদগন তোমারা আল্লাহর কাছে খাঁটি মনে তওবা করো ।”
-সুরা আত তাহরীমঃ ৮ ।

রাসুল(সাঃ) বলেনঃ

“আল্লাহ তাঁর বান্দার তওবায় সেই ব্যক্তির চেয়েও বেশি খুশি হন যার খাবার ও পানীয় সামগ্রী নিয়ে সাওয়ারী উটটি হঠাৎ গভীর মরুভূমিতে হারিয়ে গেল । অনেক খোঁজাখুজির পর হতাশ হয়ে লোকটি একটি গাছের ছায়ায় শুয়ে পড়ল । এরূপ অবস্থায় হঠাৎ সে উটটিকে নিজের কাছে দাঁড়ানো দেখতে পেল । সে উটের লাগাম
ধরে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে বলতে লাগলঃ হে আল্লাহ্ তুমি আমার বান্দা আর আমি তোমার প্রভু !! সে অতিশয় আনন্দেই এই ভুল করে বসল ।”
-সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিম ।

“আবু হুরাইরা (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমি রাসুল (সাঃ) কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহর কসম ! আমি একদিনে সত্তর বারের চেয়েও বেশি তওবা করি এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই ।”
-সহীহ আল বুখারী ।

৯) শেষ কথাঃ

এই সুন্দর পৃথিবীতে কে একটু সুন্দরভাবে বাঁচতে না চায় । আমরা সবাই চাই কারো কাছে হাত না পেতে একটু স্বাবলম্বী হয়ে বাঁচতে । আমরা সবাই চাই পৃথিবীতে আমাদের ধন-সম্পদ, প্রভাব-প্রতিপত্তি, মান-সম্মান থাকুক । তবে মনে রাখতে হবে তা যেন আখিরাতের সাফল্যের চেয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে, আখিরাতকে বিনষ্ট করে নয় । আর প্রাণপণ চেষ্টা করলেই কি অঢেল ধন-সম্পদ, প্রভাব-প্রতিপত্তি, মান-সম্মান অর্জন করা যায় ?
আল্লাহ্ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেনঃ

“বলোঃ হে আল্লাহ ! তুমিই বিশ্বজাহানের মালিক ! তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা দান করো এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা ছিনিয়ে নাও । যাকে ইচ্ছা মর্যাদা ও ইজ্জত দান করো এবং যাকে ইচ্ছা লাঞ্জিত ও অপমানিত করো । সমস্ত কল্যাণ তোমরা হাতেই নিহিত । নিসন্দেহে তুমি সবকিছুর ওপর শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান ।”
-সুরা আল ইমরানঃ ২৬ ।

আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে ইসলাম, কোরআন-হাদিস বুঝার তৌফিক দান করুন । আমীন !

পবিত্র দ্বীন ইসলামে ছোঁয়াচে রোগের প্রতি বিশ্বাস রাখা হারাম ও শিরকের অন্তর্ভূক্ত, সূতরাং যারা করোনা গজবকে ছোঁয়াচে বলছে তারা কুফরী করছে (পর্ব ৪)
———————-
১ম পর্ব: is.gd/b8Wu1q
২য় পর্ব: is.gd/TA7LHh
৩য় পর্ব: is.gd/0DDNuP
———————
গত পর্বে আমরা দেখেছি বাহ্যিক কিছু রেওয়ায়েত আছে যা দেখে কিছু মানুষ ছোঁয়াচে রোগের প্রতি বিশ্বাস করে বসে। অথচ ঐসকল বর্ণনা দ্বারাই বরং প্রমাণ হয় ছোঁয়াচে রোগের আক্বীদা রাখা যাবে না। কেউ তেমন বিশ্বাস করে বসলে ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে।
.
এ ধরনের আরো একটি বর্ণনা হাদীছ শরীফের কিতাবে বর্ণিত আছে,
عَنْ عَمْرِو بْنِ الشَّرِيدِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كَانَ فِي وَفْدِ ثَقِيفٍ رَجُلٌ مَجْذُومٌ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّا قَدْ بَايَعْنَاكَ فَارْجِعْ
হযরত আমর ইবনে শারীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, বনী সাক্বীফের প্রতিনিধি দলে একজন ব্যক্তি কুষ্ঠরোগী ছিলেন। তখন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম সে ব্যক্তির নিকট সংবাদ পাঠিয়ে বললেন, “নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বাইয়াত করে নিয়েছি সুতরাং আপনি ফিরে যান।” (মুসলিম শরীফ ২২৩১)
.
এই হাদীছ শরীফ দেখিয়ে বাতিল ফির্কার লোকেরা বলে থাকে কুষ্ঠরোগ ছোঁয়াচে বলেই সেই কুষ্ঠরোগীকে আসতে না করা হয়েছে। উল্লেখ্য উক্ত ব্যক্তিকে ছোঁয়াচে রোগের কারনে আসতে না করা হয়নি। বরং যেহেতু কুষ্ঠের মত কষ্টসাধ্য রোগে তিনি আক্রান্ত ছিলেন তাই উনাকে কষ্ট আসতে না করা হয়েছে। যিনি রহমাতুল্লীল আলামীন ছল্লাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন দয়া করে ইহসান করে উক্ত ব্যক্তির উপর রহম করে বলেছেন আপনার বাইয়াত নেয়া হয়েছে, কষ্ট করে আপনাকে আসতে হবে না, আপনি ফিরে যান। ছোঁয়াচে রোগের কারনে উনাকে ফিরে যেতে বলা হয়েছে এমন আক্বীদা রাখা স্পষ্ট কুফরী। কারন আমরা আগেই জেনেছি ছোঁয়াচে রোগ বলতে ইসলাম উনার মধ্যে কিছু নেই।
.
এই বক্ত্যেবে স্বপক্ষে সহীহ হাদীছ শরীফ মওজুদ রয়েছে। ইমাম হযরত তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবে উল্লেখ করেন,
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخَذَ بِيَدِ مَجْذُومٍ فَأَدْخَلَهُ مَعَهُ فِي الْقَصْعَةِ ثُمَّ قَالَ كُلْ بِسْمِ اللَّهِ ثِقَةً بِاللَّهِ وَتَوَكُّلًا عَلَيْهِ
হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে যে, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একজন কুষ্ঠরোগীর হাত ধরলেন, অতঃপর তার হাতকে উনার সাথে (খাবার খাওয়ানোর জন্য) স্বীয় খাবারে পাত্রে প্রবিষ্ট করলেন। এরপর বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার নামে খান, মহান আল্লাহ পাকের উপর ভরসা রাখুন।” (তিরমিযী শরীফ ১৮১৭)
.
এখানে প্রশ্ন আসে যদি কুষ্ঠরোগ ছোঁয়াচে হওয়ার কারনে বনী সাক্বীফ গোত্রের সেই ব্যক্তিকে ফিরে যেতে বলা হয় তাহলে এই হাদীছ শরীফে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত একজনের হাত ধরলেন, একই পাত্রে খাবার খেলেন এর ব্যাখ্যা বাতিল ফির্কার লোকেরা কি দিবে? ব্যাখ্যা হচ্ছে সেটাই, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম উক্ত কুষ্ঠরোগীর হাত ধরে, একই পাত্রে খাবার খাইয়ে এটাই দেখিয়ে দিয়েছেন যে ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেই। আর বনী সাক্বীফের সে ব্যক্তিকে ফিরে যেতে বলার কারন সে ব্যক্তির অসুস্থ হওয়ার কারনে এত রাস্তা অতিক্রম করে আসতে যেন কষ্টে পতিত হতে না হয়।
.
এ কারনে আমরা পবিত্র হাদীছ শরীফের মাধ্যমে জানতে পারি, কুষ্ঠরোগীর সাথে নির্দ্বিধায় সুস্থ মানুষের থাকা খাওয়া ইত্যাদির বর্ণনাও রয়েছে,
عَنْ عَائِشَة قَالَتْ لَنَا مَوْلًى مَجْذُوم فَكَانَ يَأْكُل فِي صِحَافِي وَيَشْرَب فِي أَقْدَاحِي وَيَنَام عَلَى فِرَاشِي
উম্মুল মু’মিনিন হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের একজন আযাদকৃত গোলাম ছিলো যে কুষ্ঠরোগী ছিলো। সে আমার থালায় খাবার খেতো, আমার পেয়ালায় পানি পান করতো এবং আমাদের (বাড়ির) বিছানায় ঘুমাতো।” (তাহযিবুল আছার লি তাবারী ৪/৬, ফতহুল বারী ১০/১৫৯, শরহে সহীহুল বুখারী লি ইবনে বাত্তাল ৯/৪১০, শরহে নববী আলা মুসলিম ৭/৩৯৩, তুহফাতুল আহওয়াযী ৫/২০, আওনুল মা’বুদ ৯/৮৭৬)
.
কুষ্ঠরোগের মত রোগ যদি ছোঁয়াচেই হতো তাহলে কি করে একজন কুষ্ঠরোগীকে একই পাত্রে খাবার, পানি, সেইসাথে বিছানা দেয়া হলো?
সূতরাং প্রমাণ হলো কোন রোগই ছোঁয়াচে নয়। ছোঁয়াচে রোগে বিশ্বাস করা স্পষ্ট হাদীছ শরীফের বিরোধিতা ও কুফরী। (চলবে..)

নারী-পুরুষের নামাযের পদ্ধতি কি একই ? ————————————- পুরুষ ও মহিলার নামাযের পদ্ধতি একই প্রকার। সুতরাং মহিলাও ঐরুপ একই তরীকায় নামায পড়বে, যেরুপ ও যে তরীকায় পুরুষ পড়ে থাকে। কারণ, (নারী-পুরুষ উভয় জাতির) উম্মতকে সম্বোধন করে রসূল (সাঃ) বলেছেন, “তোমরা সেইরুপ নামায পড়, যেরুপ আমাকে পড়তে দেখেছ।” (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ৬৮৩নং) আর উভয়ের নামায পৃথক হওয়ার ব্যাপারে কোন দলীলও নেই। সুতরাং যে আদেশ শরীয়ত পুরুষদেরকে করেছে, সে আদেশ মহিলাদের জন্যও এবং যে সাধারণ আদেশ মহিলাদেরকে করেছে তাও পুরুষদের ক্ষেত্রে পালনীয় -যদি বিশেষ হওয়ার ব্যাপারে কোন প্রকার দলীল না থাকে। যেমন, “যারা সতী মহিলাদের উপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে, অতঃপর চারজন সাক্ষী উপস্থিত করে না, তাদের জন্য শাস্তি হল ৮০ কোড়া—।” (কুরআন মাজীদ ২৪/৪) পরন্তু যদি কেউ কোন সৎ পুরুষকে অনুরুপ অপবাদ দেয়, তবে তার জন্যও ঐ একই শাস্তি প্রযোজ্য। সুতরাং মহিলারাও তাদের নামাযে পুরুষদের মতই হাত তুলবে, পিঠ লম্বা করে রুকূ করবে, সিজদায় জানু হতে পেট ও পায়ের রলাকে দূরে রেখে পিঠ সোজা করে সিজদাহ করবে। তাশাহ্‌হুদেও সেইরুপ বসবে, যেরুপ পুরুষরা বসে। উম্মে দারদা (রাঃ) তাঁর নামাযে পুরুষের মতই বসতেন। আর তিনি একজন ফকীহ্‌ ছিলেন। (আত্‌-তারীখুস স্বাগীর, বুখারী ৯৫পৃ:, বুখারী, ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার ২/৩৫৫) আর মহিলাদের জড়সড় হয়ে সিজদাহ করার ব্যাপারে কোন হাদীস সহীহ নয়। (সিলসিলাহ যায়ীফাহ, আলবানী ২৬৫২ নং) এ জন্যই ইবরাহীম নাখয়ী (রহঃ) বলেন, ‘নামাযে মহিলা ঐরুপই করবে, যেরুপ পুরুষ করে থাকে।’ (ইবনে আবী শাইবা, সিফাতু স্বালাতিন নাবী (সাঃ), আলবানী ১৮৯পৃ:) পক্ষান্তরে দলীলের ভিত্তিতেই নামাযের কিছু ব্যাপারে মহিলারা পুরুষদের থেকে ভিন্নরুপ আমল করে থাকে। যেমন:- ১। বেগানা পুরুষ আশে-পাশে থাকলে (জেহরী নামাযে) মহিলা সশব্দে কুরআন পড়বে না। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৩/৩০৪) যেমন সে পূর্ণাঙ্গ পর্দার সাথে নামায পড়বে। তাছাড়া একাকিনী হলেও তার লেবাসে বিভিন্ন পার্থক্য আছে। ২। মহিলা মহিলাদের ইমামতি করলে পুরুষদের মত সামনে না দাঁড়িয়ে কাতারের মাঝে দাঁড়াবে। ৩। ইমামের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে মহিলা পুরুষের মত ‘সুবহা-নাল্লাহ্‌’ না বলে হাততালি দেবে। ৪। মহিলা মাথার চুল বেঁধে নামায পড়তে পারে, কিন্তু (লম্বা চুল হলে) পুরুষ তা পারে না। এ সব ব্যাপারে দলীলসহ্‌ বিস্তারিত আলোচনা যথাস্থানে দ্রষ্টব্য। অনেক মহিলা আছে, যারা মসজিদে বা বাড়িতে পুরুষদের নামায পড়া না হলে নামায পড়ে না। এটা ভুল। আযান হলে বা নামাযের সময় হলে আওয়াল অক্তে নামায পড়া মহিলারও কর্তব্য। (মুত্বাসা ১৮৮-১৮৯পৃ:) বইঃ স্বালাতে মুবাশ্‌শির, অধ্যায়ঃ নারী-পুরুষের নামাযের পদ্ধতি, অনুচ্ছেদঃ নারী-পুরুষের নামাযের পদ্ধতি একই

VID_20190417_230644.mp4

https://modinarpoth.files.wordpress.com/2019/04/vid_20190417_230644.mp4