মেয়েদের জন্য মুখমণ্ডল ঢাকা কি ফরজ? মেয়েদের ঘরে বা বাইরে পর পুরুষের সামনে মুখ ঢাকা ফরজ।
এ মর্মে দলীল হল,
✳ আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِيُّ قُل لِّأَزۡوَٰجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَآءِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ يُدۡنِينَ عَلَيۡهِنَّ مِن جَلَٰبِيبِهِنَّۚ ذَٰلِكَ أَدۡنَىٰٓ أَن يُعۡرَفۡنَ فَلَا يُؤۡذَيۡنَۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورٗا رَّحِيمٗا ٥٩ ﴾ [الاحزاب: ٥٩]
‘হে নবী, তুমি তোমার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকে ও মু’মিনদের নারীগণকে বল, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না।’ {সূরা আল-আহযাব, আয়াত : ৫৯}
পর্দা বিষয়ে এ আয়াত অত্যন্ত পরিস্কার ও স্পষ্ট। কারণ, এ আয়াত থেকে জানা যায়, পর্দার নির্দেশের মধ্যে মুখমণ্ডলও অন্তর্ভুক্ত। তাছাড়া এ আয়াতে আযওয়াজে মুতাহহারাত (রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুতঃপবিত্র সহধর্মীনীগণ) ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যাগণের সঙ্গে মুসলিম মহিলাদেরও সম্বোধন করা হয়েছে। এ আয়াতে ‘জালাবীব’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা ‘জিলবাব’ শব্দের বহুবচন। আরবী অভিধানের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘লিসানুল ‘আরাব’ –এ লেখা হয়েছে, ‘জিলবাব’ ওই চাদরকে বলা হয় যা মহিলারা নিজেদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢাকার জন্য ব্যবহার করে। [১/২৭৩]
অভিধান থেকে সরে গিয়ে মুফাসসিরগণের বক্তব্য দেখলেও জানা যায়, ‘জিলবাব’ এমন কাপড়কে বলে যদ্বারা মহিলারা নিজেদের শরীর ঢাকেন। ‘জিলবাব’ অর্থ বড় চাদর, যা দ্বারা মুখমণ্ডল ও পূর্ণ দেহ আবৃত করা যায়। [কুরতুবী, আল-জামে‘ লিআহকামিল কুরআন : ১৪/২৪৩]
—————
‘আবদুল্লাহ ইবন ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু মুখমণ্ডলের ওপর ‘জিলবাব’ ফেলার যে পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন তা হলো, ‘মুসলিম মহিলারা নিজেদের চাদর দ্বারা নিজ নিজ মাথা ও মুখমণ্ডল ঢেকে বের হবে। তারা কেবল একটি চোখ খোলা রাখতে পারে’। [শাওকানী, ফাতহুল কাদীর : ৭/৩০৭]
————————
✳ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয়তমা পত্নী আয়িশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার বর্ণনা থেকে। তিনি বলেন,
يَرْحَمُ اللَّهُ نِسَاءَ الْمُهَاجِرَاتِ الأُوَلَ لَمَّا أَنْزَلَ اللَّهُ : {وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ} شَقَّقْنَ مُرُوطَهُنَّ فَاخْتَمَرْنَ بِهِ.
‘আল্লাহ হিজরতকারী অগ্রবর্তী নারীদের ওপর রহমত করুন। যখন তিনি নাযিল করলেন, ‘আর তারা যেন তাদের বক্ষের ওপর ওড়না টেনে দেয়’ তখন তারা তাদের নিম্নাংশের কাপড়ের প্রান্ত ছিঁড়ে ফেলেন এবং তা দিয়ে ওড়না বানিয়ে নেন।’ [বুখারী : ৮৫৭৪]
আলোচ্য বর্ণনায় ‘ইখতামারনা’ শব্দটি এসেছে। সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাকার হাফিয ইবন হাজার ‘আসকালানী রহ. ‘ইখতামারনা’ শব্দের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিখেছেন, ‘গাত্তাইনা উজুহাহুন্না’। অর্থাৎ তারা নিজেদের মুখমণ্ডল ঢেকে রাখতেন। [ফাতহুল বারী : ৮/৩৪৭]
———————————–
✳ আয়েশা রাদিআল্লাহু ‘আনহা বলেন,
كَانَ الرُّكْبَانُ يَمُرُّونَ بِنَا وَنَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- مُحْرِمَاتٌ فَإِذَا حَاذَوْا بِنَا سَدَلَتْ إِحْدَانَا جِلْبَابَهَا مِنْ رَأْسِهَا إِلَى وَجْهِهَا فَإِذَا جَاوَزُونَا كَشَفْنَاهُ.
‘আমরা ইহরাম অবস্থায় সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ছিলাম। তখন আরোহীরা আমাদের সঙ্গে পথ চলছিলেন। যখন তারা আমাদের আড়াআড়ি হন, আমাদের সঙ্গীনীরা তাদের বড় চাদর মাথা থেকে চেহারায় ঝুলিয়ে দেন। তারা আমাদের অতিক্রম করে চলে যাবার পরই আমরা তা উন্মুক্ত করি।’ [আবূ দাঊদ : ৫৩৮১; বাইহাকী : ৩৩৮৮]
———————-
তবে একান্ত বিশেষ জরুরি ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে মুখমণ্ডল খোলা জায়েয রয়েছে। যেমন, চিকিৎসার প্রয়োজনে বা নিরাপত্তা তল্লাশী করার সময় বা এ জাতীয় বিশেষ দরকারে।
~ শাইখ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলিল।

((ইসলামে একে অপরের সাথে বন্ধুত্বের উদ্দেশ্য ও সীমারেখা কতটুকু হবে))!!!
*********************************************************
বন্ধুত্বের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হ’ল দুনিয়াবী কল্যাণ ও আখেরাতে মুক্তি লাভ। সেকারণ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভই হবে বন্ধুত্ব ও শত্রুতার প্রকৃত মানদন্ড।
এতে দুনিয়াবী স্বার্থ ক্ষুণ্ন হলেও তা বরদাশত করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন……
বন্ধুত্ব হবে আল্লাহর জন্য, বিদ্বেষও হবে আল্লাহর জন্য।
(মিশকাত হাদীস/৫০১৪)

তবে বন্ধুত্ব ও শত্রুতার ১টা সীমারেখা থাকবে, যেখানে কোনরুপ অতিরঞ্জন বা বাড়াবাড়ি থাকবে না। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন…..
বন্ধুর সাথে স্বাভাবিক বন্ধুত্ব রাখ (বাড়াবাড়ি কর না),
হতে পারে সে একদিন তোমার শত্রু হয়ে যাবে।
অনুরুপভাবে শত্রুর সাথে স্বাভাবিক শত্রুতা রাখ (আধিক্য দেখিয়ো না),
হতে পারে সে একদিন তোমার বন্ধু হয়ে যাবে।
(সহীহ তিরমিযী হা/১৬২৫ সত কাজ ও সদাচরণ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ ৫৯, সহীহ আদাবুল মুফরাদ হা/১৩২১)
(মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৭৯০, যাকাত অধ্যায়)

অর্থাত আমরা বুঝতে পারি যে বন্ধু হচ্ছে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের একটি মাধ্যম এবং অকল্যাণের মাধ্যম। যতটুকু সদাচরণ ও ইশ্বার্ণিত হলে আমরা দুনিয়াতে বন্ধু ও শত্রু নির্বচন করতে পারি ততটুকুই যেনো আমাদের মধ্যে থাকে।
আল্লাহ আমাদের প্রত্যেককে সঠিক বুঝ দান করুন ।
আমীন।।।