ইসলামের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য
পারিভাষিক শব্দ বা দোয়ার
যথোপযুক্ত ব্যবহার।
ﺍﻥ ﺷﺎﺀﺍﻟﻠﻪ
★ইন শা আল্লাহ (In Shaa Allah):
অর্থঃ ‘ইন শা আল্লাহ’ শব্দের অর্থ, মহান
আল্লাহ যদি চান তাহলে।
কখন বলতে হয়ঃ
• ভবিষ্যতের হবে,
• করবো বা ঘটবে,
ইত্যাদি ক্ষেত্রে এমন কোন বিষয়ে ‘ইন
শা আল্লাহ’ বলা সুন্নাত। যেমনঃ ‘ইন শা
আল্লাহ’ আমি আগামীকাল আপনার
কাজটি করে দিবো। পবিত্র কুরআনে
মহান আল্লাহ মুমিনদেরকে এর নির্দেশ
দিয়েছেন।
ﺳﺒﺤﺎﻥ ﺍﻟﻠّٰﻪ
★সুবহান আল্লাহ (Subhan Allah):
অর্থঃ ‘সুবহান আল্লাহ’ এর অর্থ, সকল
পবিত্রতা আল্লাহর ।
কখন বলতে হয়ঃ
• আল্লাহর মহিমা শুনে,
• সুন্দর ফল ও ফুল দেখে,
• দৃষ্টিপাত বৈধ এমন সুন্দর
জিনিসদেখে,
• ভাল কথা শ্রবন করে,
• আশ্চার্যজনক কোন কথা শুনে বা
ভালো কোন কাজ হতে দেখলে,
ইত্যাদি ক্ষেত্রে বলতে হয় ‘সুবহান
আল্লাহ’।
যেমনঃ ‘সুবহান আল্লাহ’! আগুনে পুরো
ঘর পুরে গেলেও কুরআন শরীফ অক্ষত
আছে।
ﺍﻟﺤﻤﺪﻟﻠﻪ
★আলহামদুলিল্লাহ (Alhamdulillah):
অর্থঃ ‘আলহামদুলিল্লাহ’ এর অর্থ, সকল
মহান প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
কখন বলতে হয়ঃ
• কেউ অবস্থাদি জিজ্ঞেস করলে,
• পরীক্ষা ভাল হলে,
• কোন কাজ সুষ্ঠুভাবে শেষ হলে,
• আহার ও পান শেষ হলে,
• কোন সুসংবাদ শুনে,
ইত্যাদি ক্ষেত্রে বলতে হয়
‘আলহামদুলিল্লাহ’।
যেমনঃ ভাই আপনি কেমন আছেন?
জবাবে বলা উচিত, ‘আলহামদুলিল্লাহ’,
ভালো আছি।
ﻣــــــﺎﺷﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ
★মাশা আল্লাহ (Masha Allah):
অর্থঃ ‘মাশা আল্লাহ’ শব্দের অর্থ,
আল্লাহ যেমন চেয়েছেন।
কখন বলতে হয়ঃ
• কেউ পরীক্ষায় ভাল করেছে শুনলে,
• যেকোন সুসংবাদ শুনলে,
• কেউ ভাল কাজ করেছে শুনলে,
ইত্যাদি ক্ষেত্রে বলতে হয় ‘মাশা
আল্লাহ’।
এটি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ শব্দের মতোই
ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অর্থাৎ, যে কোনো
সুন্দর এবং ভালো ব্যাপারে এটি বলা
হয়। যেমনঃ ‘মাশা আল্লাহ’ তুমি তো
অনেকবড় হয়ে গেছো।
ﻧﻌﻮﺫﺑﺎﻟﻠﻪ
★নাউযুবিল্লাহ (Nauzubillah):
অর্থঃ ‘নাউযুবিল্লাহ’ শব্দের অর্থ,
আমরা মহান আল্লাহর কাছে এ থেকে
আশ্রয় চাই।
কখন বলতে হয়ঃ
• যেকোনো মন্দ কাজ দেখলে,
• যেকোনো গুনাহের কাজ দেখলে,
ইত্যাদি ক্ষেত্রে তার থেকে
নিজেকে আত্মরক্ষার্থে এটি বলা
হয়ে থাকে।
ﺍﺳﺘﻐﻔﺮ ﺍﻟﻠّٰﻪ
★আসতাগফিরুল্লাহ (Astaghfirullah):
অর্থঃ ‘আসতাগফিরুল্লাহ’ শব্দের অর্থ
আমি মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।
কখন বলতে হয়ঃ
• অনাকাঙ্খিত কোন অন্যায় করলে,
• অনাকাঙ্খিত কোন গুনাহ হয়ে গেলে,
ইত্যাদি ক্ষেত্রে তার থেকে
নিজেকে আত্মরক্ষার্থে আমরা এটি
বলবো।
ﺍﻧﺎ ﻟﻠﻪ ﻭﺍﻧﺎ ﺇﻟﻴﻪ ﺭﺍﺟﻌﻮﻥ
★ইন্নালিল্লাহ বা ইন্নালিল্লাহি
ওয়া ইন্নাইলাইহি রা-জিউনঃ
অর্থঃ নিশ্চয়ই আমরা মহান আল্লাহর
জন্য এবং আমরা তার দিকেই ফিরে
যাবো।
কখন বলতে হয়ঃ
• যে কোনো দু:সংবাদ,
• বিপদের সময়,
ইত্যাদি ক্ষেত্রে আমরা এটি বলবো।
ﻻﺣﻮﻝ ﻭﻻﻗﻮﺓ ﺍﻻ ﺑﺎﻟﻠﻪ
★লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা
বিল্লাহঃ
অর্থঃ মহান আল্লাহর সাহায্যও
সহায়তা ছাড়া আর কোন আশ্রয় ও
সাহায্য নেই।
কখন বলতে হয়ঃ
• শয়তানের কোন ওয়াসওয়াসাবা
দূরভিসন্ধিমূলক কোন প্রতারণা থেকে
বাঁচার জন্য এটি পড়া উচিত।
ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻋﻠﻴﻜﻢ ﻭﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺑﺮﻛﺎﺗﻪ
★আস সালামু আলাইকুম (As Salamu Alaikum):
অর্থঃ আপনার উপর মহান আল্লাহর
শান্তি বর্ষিত হোক।
কখন বলতে হয়ঃ
• কারো সাথে দেখা হলে- হাই,
হ্যালো না বলে বলুন- ‘আস সালামু
আলাইকুম’।
ﺟﺰﺍﻙ ﺍﻟﻠّٰﻪ ﺧﻴﺮﺍ
★জাযাক আল্লাহু খায়রান (Jazak Allahu
Khayran):
অর্থঃ মহান আল্লাহ আপনাকে
সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
কখন বলতে হয়ঃ
• কেউ আপনার কোন উপকার করলে-
তাকে থ্যাংক ইউ না বলে বলুন-
‘‘জাযাক আল্লাহু খায়রান’।
বিঃদ্রঃ কখনো ‘খোদা হাফেজ’
বলবেন না।
পাশ্চাত্য সংস্কৃতির আলোকে নয়
আসুন আমরা কুরআন ও সুন্নাহ নির্দেশিত
পথেই জিবনকে গঠন করি।

*পাপ যত বড়ই হোক মহান আল্লাহর নিকট যথার্থভাবে তওবা করলে নিশ্চয় তিনি ক্ষমা করে দেন*

উক্ত বোন নিজের অপরাধ বুঝতে পেরে মহান আল্লাহর দরবারে ফিরে এসেছেন-তাওবা করেছেন এবং পরিপূর্ণভাবে দ্বীনের পথে চলার চেষ্টা করছেন এ জন্য তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। সেই সাথে মহান রবের নিকট দুআ করছি, তিনি যেন তাকে ক্ষমা করেন এবং আমরণ দ্বীনের পথে চলার তাওফিক দান করেন। আমীন।

💠 মানুষ যত বড়াই অন্যায় করুক মহান আল্লাহর দয়া ও ক্ষমা তার চেয়েও অনেক অনেক বড়। বান্দা অপরাধ করার পরে তার দরবারে ফিরে এলে তিনি অত্যন্ত খুশি হন। প্রিয় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খাদেম আবু হামযা আনাস বিন মালিক রা. বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

اللَّهُ أَفْرَحُ بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ مِنْ أَحَدِكُمْ سَقَطَ عَلَى بَعِيرِهِ ، وَقَدْ أَضَلَّهُ فِى أَرْضِ فَلاَةٍ

“কোনও লোক বিজন মরু প্রান্তরে উট হারিয়ে যাবার পর পুনরায় তা ফেরত পেলে যে পরিমাণ আনন্দে উদ্বেলিত হয় মহান আল্লাহ বান্দার তওবাতে তার চেয়েও বেশি আনন্দিত হন।” (সহীহ বুখারী,অনুচ্ছেদ: তওবা, হা/৫৮৩৪, শামেলা)
💠 কোন ব্যক্তি যদি তাওবা করার বা দ্বীন মেনে চলার সুযোগ পায় তাহলে বুঝতে হবে, এটি তার প্রতি দয়াময় আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। তার তওফিক ও শক্তি ছাড়া মানুষ কোন ভালো কাজ করতে পারে না বা মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকতে পারে না।
💠 মনে রাখতে হবে, ভুল করার পর সঠিক পথে ফিরে আসাই হল মানুষের স্বভাব। আর ভুল করার পর ভুল পথে চলতে থাকা শয়তানের স্বভাব।
👉 আরেকটি অত্যন্ত আশা ব্যাঞ্জক হাদীস দেখুন:
আনাস বিন মালেক রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন,
يا ابن آدم إنك ما دعوتني ورجوتني غفرت لك على ما كان فيك ولا أبالي، يا ابن آدم لو بلغت ذنوبك عنان السماء ثم استغفرتني غفرت لك ولا أبالي، يا ابن آدم إنك لو أتيتني بقراب الأرض خطايا ثم لقيتني لا تشرك بي شيئا لأتيتك بقرابها مغفرة .
“আল্লাহ তা’আলা বলেন, হে আদম সন্তান! যখনই তুমি আমাকে ডাকবে এবং আমাকে পাওয়ার আশা করবে, আমি তোমার মধ্যে যে সব দোষ ত্রুটি আছে, সেগুলো নির্বিঘ্নে ক্ষমা করে দেব। হে আদম সন্তান! যদি তোমার গুনাহের স্তুপ আকাশ পর্যন্ত পৌঁছে, তারপরও তুমি আমার নিকট ক্ষমা চাইলে আমি নির্বিঘ্নে তোমাকে ক্ষমা করে দেব। হে আদম সন্তান! যদি তুমি জমিন ভর্তি গুনাহ করে থাক, তারপর তুমি আমার নিকট ক্ষমা চাইতে আসলে যে অবস্থায় তুমি আমার সাথে কাউকে শরিক করোনি, আমি জমিন ভর্তি ক্ষমা নিয়ে তোমার নিকট উপস্থিত হব”। [তিরমিযি: ৩৫৪০]

🔸 সুতরাং উক্ত বনের জন্য করণীয় হল, অতীত নিয়ে বেশি টেনশন না করে বা জাহেল লোকদের কটু কথায় মন খারাপ না করে দ্বীনের উপর অবিচল থাকা এবং বেশি বেশি নেকির কাজ করা তাহলে আল্লাহ তাআলা অতীতের গুনাহগুলো নেকিতে রূপান্তরিত করে দেয়ার অঙ্গিকার করেছেন।

আল্লাহ বলেন:
إِلَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَـٰئِكَ يُبَدِّلُ اللَّـهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ ۗ وَكَانَ اللَّـهُ غَفُورًا رَّحِيمًا- وَمَن تَابَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَإِنَّهُ يَتُوبُ إِلَى اللَّـهِ مَتَابًا
*“কিন্তু যারা তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গুনাহগুলোকে নেকি দ্বারা পরিবর্তত করে এবং দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা ফুরকান: ৭০)*
আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমীন।

*পাপ যত বড়ই হোক মহান আল্লাহর নিকট যথার্থভাবে তওবা করলে নিশ্চয় তিনি ক্ষমা করে দেন*

উক্ত বোন নিজের অপরাধ বুঝতে পেরে মহান আল্লাহর দরবারে ফিরে এসেছেন-তাওবা করেছেন এবং পরিপূর্ণভাবে দ্বীনের পথে চলার চেষ্টা করছেন এ জন্য তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। সেই সাথে মহান রবের নিকট দুআ করছি, তিনি যেন তাকে ক্ষমা করেন এবং আমরণ দ্বীনের পথে চলার তাওফিক দান করেন। আমীন।

💠 মানুষ যত বড়াই অন্যায় করুক মহান আল্লাহর দয়া ও ক্ষমা তার চেয়েও অনেক অনেক বড়। বান্দা অপরাধ করার পরে তার দরবারে ফিরে এলে তিনি অত্যন্ত খুশি হন। প্রিয় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খাদেম আবু হামযা আনাস বিন মালিক রা. বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

اللَّهُ أَفْرَحُ بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ مِنْ أَحَدِكُمْ سَقَطَ عَلَى بَعِيرِهِ ، وَقَدْ أَضَلَّهُ فِى أَرْضِ فَلاَةٍ

“কোনও লোক বিজন মরু প্রান্তরে উট হারিয়ে যাবার পর পুনরায় তা ফেরত পেলে যে পরিমাণ আনন্দে উদ্বেলিত হয় মহান আল্লাহ বান্দার তওবাতে তার চেয়েও বেশি আনন্দিত হন।” (সহীহ বুখারী,অনুচ্ছেদ: তওবা, হা/৫৮৩৪, শামেলা)
💠 কোন ব্যক্তি যদি তাওবা করার বা দ্বীন মেনে চলার সুযোগ পায় তাহলে বুঝতে হবে, এটি তার প্রতি দয়াময় আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। তার তওফিক ও শক্তি ছাড়া মানুষ কোন ভালো কাজ করতে পারে না বা মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকতে পারে না।
💠 মনে রাখতে হবে, ভুল করার পর সঠিক পথে ফিরে আসাই হল মানুষের স্বভাব। আর ভুল করার পর ভুল পথে চলতে থাকা শয়তানের স্বভাব।
👉 আরেকটি অত্যন্ত আশা ব্যাঞ্জক হাদীস দেখুন:
আনাস বিন মালেক রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন,
يا ابن آدم إنك ما دعوتني ورجوتني غفرت لك على ما كان فيك ولا أبالي، يا ابن آدم لو بلغت ذنوبك عنان السماء ثم استغفرتني غفرت لك ولا أبالي، يا ابن آدم إنك لو أتيتني بقراب الأرض خطايا ثم لقيتني لا تشرك بي شيئا لأتيتك بقرابها مغفرة .
“আল্লাহ তা’আলা বলেন, হে আদম সন্তান! যখনই তুমি আমাকে ডাকবে এবং আমাকে পাওয়ার আশা করবে, আমি তোমার মধ্যে যে সব দোষ ত্রুটি আছে, সেগুলো নির্বিঘ্নে ক্ষমা করে দেব। হে আদম সন্তান! যদি তোমার গুনাহের স্তুপ আকাশ পর্যন্ত পৌঁছে, তারপরও তুমি আমার নিকট ক্ষমা চাইলে আমি নির্বিঘ্নে তোমাকে ক্ষমা করে দেব। হে আদম সন্তান! যদি তুমি জমিন ভর্তি গুনাহ করে থাক, তারপর তুমি আমার নিকট ক্ষমা চাইতে আসলে যে অবস্থায় তুমি আমার সাথে কাউকে শরিক করোনি, আমি জমিন ভর্তি ক্ষমা নিয়ে তোমার নিকট উপস্থিত হব”। [তিরমিযি: ৩৫৪০]

🔸 সুতরাং উক্ত বনের জন্য করণীয় হল, অতীত নিয়ে বেশি টেনশন না করে বা জাহেল লোকদের কটু কথায় মন খারাপ না করে দ্বীনের উপর অবিচল থাকা এবং বেশি বেশি নেকির কাজ করা তাহলে আল্লাহ তাআলা অতীতের গুনাহগুলো নেকিতে রূপান্তরিত করে দেয়ার অঙ্গিকার করেছেন।

আল্লাহ বলেন:
إِلَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَـٰئِكَ يُبَدِّلُ اللَّـهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ ۗ وَكَانَ اللَّـهُ غَفُورًا رَّحِيمًا- وَمَن تَابَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَإِنَّهُ يَتُوبُ إِلَى اللَّـهِ مَتَابًا
*“কিন্তু যারা তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গুনাহগুলোকে নেকি দ্বারা পরিবর্তত করে এবং দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা ফুরকান: ৭০)*
আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমীন।

https://en.blog.wordpress.com/2018/07/23/sharing-options-from-wordpress-com-to-facebook-are-changing/

#আপনি কি জানেন ইয়াজুজ মাজুজ কি?মুসলিমদের এই বিষয় টা না জানা দুঃখ জনক, যারা জানেন না,পোস্ট টা কষ্ট করে পড়ুন এবং জেনে নিন!!
বিস্তারিত:-সূরা কাহফ এর ৮৩-৯৯ এই আয়াত গুলোতে ইয়াজুজ মাজুজ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
য়্যা’জূজ ও মা’জূজ দুটি জাতি সহীহ হাদীস মোতাবেক এরা মনুষ্য জাতি। এদের সংখ্যা অন্যান্য জাতির তুলনায় অনেক বেশী হবে এবং তাদেরকে দিয়েই জাহান্নামের বেশী অংশ পূর্ণ করা হবে। (বুখারী, সূরা হাজ্জের তফসীর, মুসলিম ঈমান অধ্যায়)
এই ইয়াজুজ মাজুজ খুবই অনিষ্টকারীছিল তাই এদের কে আল্লাহ্‌ রহমতেই যুলকারিন তাদের কে বন্ধি করে ফেলে পর্বত এর মাঝে
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত রয়েছে যে, তিনি বলেছেনঃ “যুলকারনাইন নবী বা ফিরিশতা ছিলেন না, একজন নেক বান্দা ছিলেন। আল্লাহকে তিনি ভালবেসেছিলেন, আল্লাহও তাকে ভালবেসেছিলেন। আল্লাহর হকের ব্যাপারে অতিশয় সাবধানী ছিলেন, আল্লাহও তার কল্যাণ চেয়েছেন। তাকে তার জাতির কাছে পাঠানো হয়েছিল। তারা তার কপালে মারতে মারতে তাকে হত্যা করল। আল্লাহ তাকে আবার জীবিত করলেন, এজন্য তার নাম হল যুলকারনাইন ‘ [মুখতারাঃ ৫৫৫, ফাত্হুল বারীঃ ৬/৩৮৩] যুলকারনাইনের ঘটনা সম্পর্কে কুরআনুল করীম যা বর্ণনা করেছে, তা এইঃ তিনি একজন সৎ ও ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ ছিলেন এবং পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যদেশসমূহ জয় করেছিলেন। এসব দেশে তিনি সুবিচার ও ইনসাফের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আল্লাহ্ তা’আলার পক্ষ থেকে তাকে লক্ষ্য অর্জনের জন্য সর্বপ্রকার সাজ-সরঞ্জাম দান করা হয়েছিল। তিনি দিগ্বিজয়ে বের হয়ে পৃথিবীর তিন প্রান্তে পৌছেছিলেন- পাশ্চাত্যের শেষ প্রান্তে, প্রাচ্যের শেষ প্রান্তে এবং উত্তরে উভয় পর্বতমালার পাদদেশ পর্যন্ত। এখানেই তিনি দুই পর্বতের মধ্যবতী গিরিপথকে একটি থেকে এলাকার জনগণ নিরাপদ হয়ে যায়
ইয়াজুজ-মাজুজ সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসের সুস্পষ্ট বর্ণনা থেকে এতটুকু নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয় যে, ইয়াজুজ-মাজুজ মানব সম্প্রদায়ভুক্ত। অন্যান্য মানবের মত তারাও নূহ ‘আলাইহিস সালাম-এর সন্তান-সন্ততি। কুরআনুল করীম স্পষ্টতঃই বলেছে
(আরবি) [আস-সাফফাতঃ৭৭] অর্থাৎ নুহের মহাপ্লাবনের পরদুনিয়াতে যত মানুষ আছে এবং থাকবে, তারা সবাই নূহ ‘আলাইহিস সালাম-এর সন্তান-সন্ততি হবে। ঐতিহাসিকবৰ্ণনা এব্যাপারে একমত যে, তারাইয়াফেসের বংশধর। [মুসনাদে আহমাদঃ ৫/১১]
তাদের অবশিষ্ট অবস্থা সম্পর্কে সর্বাধিক বিস্তারিত ও সহীহ হাদীস হচ্ছে নাওয়াস ইবনে সামআন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর হাদীসটি:-
সেখানে দাজ্জালের ঘটনা ও তার ধ্বংসের কথা বিস্তারিত বর্ণনার পর বলা হয়েছে,(দাজ্জাল কে ঈসা(আ) শেষ করার পর) “এমতাবস্থায় আল্লাহ তা’আলা ঘোষণা করবেনঃ আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে এমন লোক বের করব, যাদের মোকাবেলা করার শক্তি কারো নেই। কাজেই (হে ঈসা!)। আপনি মুসলিমদেরকে সমবেত করে তুর পর্বতে চলে যান। (সে মতে তিনি তাই করবেন। )
অতঃপর আল্লাহ তা’আলা ইয়াজুজ-মাজুজের রাস্তা খুলে দেবেন। তাদের দ্রুত চলার কারণে মনে হবে যেন উপর থেকে পিছলে নীচে এসে পড়ছে।
তাদের প্রথম দলটি তবরিয়া উপসাগরের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় তার পানি পান করে এমন অবস্থা করে দেবে যে, দ্বিতীয় দলটি এসে সেখানে কোনদিন পানি ছিল, একথা বিশ্বাস করতে পারবে না। ঈসা ‘আলাইহিস সালাম ও তার সঙ্গীরা তুর পর্বতে আশ্রয় নেবেন।
অন্যান্য মুসলিমরা নিজ নিজ দূর্গে ও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেবে। পানাহারের বস্তুসামগ্ৰী সাথে থাকবে, কিন্তু তাতে ঘাটতি দেখা দেবে। ফলে একটি গরুর মস্তককে একশ’ দীনারের চাইতে উত্তম মনে করা হবে। ঈসা ‘আলাইহিস সালাম ও অন্যান্য মুসলিমরা কষ্ট লাঘবের জন্য আল্লাহর কাছে দো’আ করবেন। (আল্লাহ দো’আ কবুল করবেন ) তিনি মহামারী আকারে রোগব্যাধি পাঠাবেন। ফলে, অল্প সময়ের মধ্যেই ইয়াজুজ-মাজুজের গোষ্ঠী সবাই মরে যাবে।
অতঃপর ঈসা ‘আলাইহিস সালাম সঙ্গীদেরকে নিয়ে তুর পর্বত থেকে নীচে নেমে এসে দেখবেন। পৃথিবীতে তাদের মৃতদেহ থেকে অর্ধহাত পরিমিত স্থানও খালি নেই এবং (মৃতদেহ পচে) অসহ্য দুৰ্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। (এ অবস্থা দেখে পুনরায়) ঈসা আলাইহিস সালাম ও তার সঙ্গীরা আল্লাহর দরবারে দো’আ করবেন।
(যেন এই বিপদও দূর করে দেয়া হয়)। আল্লাহ তা’আলা এ দো”আও কবুল করবেন এবং বিরাটাকার পাখি প্রেরণ করবেন, যাদের ঘাড় হবে উটের ঘাড়ের মত। (তারা মৃতদেহগুলো উঠিয়ে যেখানে আল্লাহ ইচ্ছা করবেন, সেখানে ফেলে দেবে। )
কোন কোন বর্ণনায় এসেছে, মৃতদেহগুলো সমুদ্রে নিক্ষেপ করবে। এরপর বৃষ্টি বর্ষিত হবে। কোন নগর ও বন্দর এ বৃষ্টি থেকে বাদ থাকবে না। ফলে সমগ্র ভূপৃষ্ঠ ধৌত হয়ে কাঁচের মত পরিস্কার হয়ে যাবে।
অতঃপর আল্লাহ্ তা’আলা ভূপৃষ্ঠকে আদেশ করবেনঃ তোমার পেটের সমুদয় ফল-ফুল উদগীরণ করে দাও এবং নতুনভাবে তোমার বরকতসমূহ প্ৰকাশ কর। (ফলে তাই হবে এবং এমন বরকত প্ৰকাশিত হবে যে) একটি ডালিম একদল লোকের আহারের জন্য যথেষ্ট হবে এবং মানুষ তার ছাল দ্বারা ছাতা তৈরী করে ছায়া লাভ করবে। দুধে এত বরকত হবে যে, একটি উস্ত্রীর দুধ একদল লোকের জন্য, একটি গাভীর দুধ এক গোত্রের জন্য এবং একটি ছাগলের দুধ একটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট হবে।
(চল্লিশ বছর যাবত এই অসাধারণ বরকত ও শান্তি-শৃংখলা অব্যাহত থাকার পর যখন কেয়ামতের সময় সমাগত হবে; তখন) আল্লাহ তা’আলা একটি মনোরম বায়ু প্রবাহিত করবেন। এর পরশে সব মুসলিমের বগলের নীচে বিশেষ এক প্রকার রোগ দেখা দেবে এবং সবাই মৃত্যুমুখে পতিত হবে
; শুধু কাফের ও দুষ্ট লোকেরাই অবশিষ্ট থেকে যাবে। তারা ভূ-পৃষ্ঠে জন্তু-জানোয়ারের মত খোলাখুলিই অপকর্ম করবে। তাদের উপরই কেয়ামত আসবে। ’ [মুসলিমঃ ২৯৩৭]
আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াখীদের বর্ণনায় ইয়াজুজ-মাজুজের কাহিনীর আরো অধিক বিবরণ পাওয়া যায়:-
তাতে রয়েছেঃ তবরিয়া উপসাগর অতিক্রম করার পর ইয়াজুজ-মাজুজ বায়তুল মোকাদাস সংলগ্ন পাহাড় জাবালুল-খমরে আরোহণ করে ঘোষণা করবেঃ আমরা পৃথিবীর সমস্ত অধিবাসীকে হত্যা করেছি। এখন আকাশের অধিবাসীদেরকে খতম করার পালা। সে মতে তারা আকাশের দিকে তীর নিক্ষেপ করবে। আল্লাহর আদেশে সে তীর রক্তরঞ্জিত হয়ে তাদের কাছে ফিরে আসবে। (যাতে বোকারা এই ভেবে আনন্দিত হবে যে, আকাশের অধিবাসীরাও শেষ হয়ে গেছে। ) [মুসলিমঃ ২৯৩৭]।
অন্য হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ কেয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা আদম ‘আলাইহিস সালাম-কে বলবেনঃ আপনি আপনার সন্তানদের মধ্য থেকে জাহান্নামীদেরকে তুলে আনুন। তিনি বলবেনঃ হে আমার রব! তারা কারা? আল্লাহ বলবেনঃ প্রতি হাজারে নয়শত নিরান্নব্বই জন জাহান্নামী এবং মাত্র একজন জান্নাতী ৷ একথা শুনে সাহাবায়ে কেরাম শিউরে উঠলেন এবং জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে সে একজন জান্নাতী কে হবে? তিনি উত্তরে বললেনঃ চিন্তা করো না। তোমাদের মধ্য থেকে এক এবং ইয়াজুজ-মাজুজের মধ্য থেকে এক হাজারের হিসেবে হবে। [মুসলিমঃ ২২২]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন যে, ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাবের পরও বায়তুল্লাহর হজ্ব ও উমরাহ অব্যাহত থাকবে। [বুখারীঃ ১৪৯০]।
তাছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন ঘুম থেকে এমন অবস্থায় জেগে উঠলেন যে, তার মুখমণ্ডল ছিল রক্তিমাভ এবং মুখে এই বাক্য উচ্চারিত হচ্ছিলঃ “আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। আরবদের ধ্বংস নিকটবতী ! আজি ইয়াজুজ-মাজুজের প্রাচীরে এতটুকু ছিদ্র হয়ে গেছে। অতঃপর তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনী মিলিয়ে বৃত্ত তৈরী করে দেখান। যয়নব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেনঃ আমি এ কথা শুনে বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের মধ্যে সৎকর্মপরায়ণ লোক জীবিত থাকতেও কি ধ্বংস হয়ে যাবে? তিনি বললেনঃ হ্যা, ধ্বংস হতে পারে; যদি অনাচারের আধিক্য হয় ৷ [বুখারীঃ ৩৩৪৬, মুসলিমঃ ২৮৮০]।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেনঃ ইয়াজুজ-মাজুজ প্রত্যেহ যুলকারনাইনের দেয়ালটি খুঁড়তে থাকে। খুঁড়তে খুঁড়তে তারা এ লৌহ-প্রাচীরের প্রান্ত সীমার এত কাছাকাছি পৌছে যায় যে, অপরপাশ্বের আলো দেখা যেতে থাকে। কিন্তু তারা একথা বলে ফিরে যায় যে, বাকী অংশটুকু আগামী কাল খুঁড়ব।(কিন্তু তারা ইন শা আল্লাহ্‌ বলে না) কিন্তু আল্লাহ তা’আলা প্রাচীরটিকে পূর্ববৎ মজবুত অবস্থায় ফিরিয়ে নেন। পরের দিন ইয়াজুজ-মাজুজ প্রাচীর খননে নতুনভাবে আত্মনিয়োগ করে। খননকার্যে আত্মনিয়োগ ও আল্লাহ তা’আলা থেকে বন্ধ রাখা আল্লাহর ইচ্ছা রয়েছে। যেদিন আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে মুক্ত করার ইচ্ছা করবেন, সেদিন ওরা মেহনত শেষে বলবেঃ আল্লাহ ইচ্ছা করলে আমরা আগামী কাল অবশিষ্ট অংশটুকু খুঁড়ে ওপারে চলে যাব। (আল্লাহর নাম ও তাঁর ইচ্ছার উপর নির্ভর করার কারণে সেদিন ওদের তাওফীক হয়ে যাবে। ) পরের দিন তারা প্রাচীরের অবশিষ্ট অংশকে তেমনি অবস্থায় পাবে এবং তারা সেটুকু খুঁড়েই প্রাচীর ভেদ করে ফেলবে। [তিরমিযিঃ ৩১৫৩, ইবনে মাজাহঃ ৪১৯৯, হাকিম মুস্তাদরাকঃ ৪/৪৮৮, মুসনাদে আহমাদঃ ২/৫:১০, ৫১১]
। আল্লামা ইবনে কাসীর বলেনঃ ‘হাদীসের উদ্দেশ্য এই যে, ইয়াজুজ-মাজুজের প্রাচীর খনন করার কাজটি তখন শুরু হবে, যখন তাদের আবির্ভাবের সময় নিকটবতী হবে। কুরআনে বলা হয়েছে যে, এই প্রাচীর ছিদ্র করা যাবে না। এটা তখনকার অবস্থা, যখন যুলকারনাইন প্রাচীরটি নির্মান করেছিলেন। কাজেই এতে কোন বৈপরীত্য নেই। ” তাছাড়া কুরআনে তারা ছিদ্র পুরোপুরি করতে পারছে না বলা হয়েছে, যা হাদীসের ভাষ্যের বিপরীত নয়।
সংগৃহীত