আসসালামু আলাইকুম।আমার এই পোস্টটি সময়োপযোগী একটি পোস্ট।৫ মিনিট সময়ব্যায় করে আশাকরি সবাই পড়বেন।প্রেম করা হারাম কিন্তু আমি যে ওকে ভিষণ ভালোবাসি।কেউ যদি এখন হাতভর্তি গোলাপ এনে বলে ভালোবাসি,ভালোবাসি,খুব ভালোবাসি।তুমি চাইলে এনে দিতে পারি আকাশের ঐ মেঘমালা রৌদ্দুর। পাড়ি দিতে পারি একলা সমুদ্দুর। তুমি চাইলে নদী হয়ে বয়ে যাবো পাড়ি দিব দুর্গম সব পর্বতমালা। তুমি কি হবে আমার সারাবেলা?”কৈশরি “যদি এমন আবেগমাখা ভালোবাসা নিয়ে কিশোরির দুয়ারে গেলে অনেক কিশোরির পক্ষে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়না।কৈশরের কৌতূহল,নতুন হরমনের সৌতধারা,বাঁধ ভাঙ্গা আবেগের বাতাস তখন চারদিক থেকে ঘিরে ধরে।তখন কিশোর,কিশোরি এক অন্ধকার জগতে পা বাড়ায়।এর শেষ পরিণতি কি হবে তা তাদের জানা নেই।দ্বীনহীনদের ক্ষেত্রেই শুধু এটা ঘটে না। দ্বীনদার পরিবারের সন্তানদের ক্ষেত্রে ও এটা ঘটে থাকে।প্রেম করা হারাম।তারা যা করছে সেটা ভুল, সেটা যিনাএসব জেনে ও তারা নিজের মন আর আবেগের কাছে হার মানে।শারিরিক চাহিদা ও মানব জীবনে খাবারের মতই নিত্যপ্রয়োজনীয় একটা বিষয়।যদি বৈধভাবে ব্যাবস্হা না করা হয় তখন অবৈধভাবে এসব করে বেড়াবে।শুধু নীতি কথা বলে এসব বন্ধ করা যাবে এই উসুলে আমি বিশ্বাসী না।কারণ ইসলাম বাস্তব সমস্যার সমাধান না দিয়ে কখনো নীতি কথা শুনিয়ে সমাধান দেয়নি।আপনি যদি লক্ষ করেন তাহলে দেখবেন ইসলামে বিয়ের কথা অনেক গুরুত্বের সাথে বলা হয়েছে।অভিবাবকদের এই ব্যাপারে গুরুত্বের সাথে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন তাদের বিবাহ করিয়ে দাও।বয়সসন্ধি কালে কিশোর কিশোরির মনে নতুন আবেগ জাগ্রত হবে।একটা সঙ্গির জন্য মন আনচান করবে এটাই স্বাবাবিক।আদম আলাইহিস সালাম জান্নাতের সবকিছু পেয়ে ও কিছু একটা নাই ফিল করেছিলেন।নিজেকে অপূর্ণ মনে হতো।তখন তার বাম পাজরের হাঁড় দিয়ে তৈরি করে জীবনসঙ্গীনী দেওয়া হলো।একটু ভাবুন জান্নাতের সব নেয়ামত পাওয়ার পর ও আদম (আঃ) এর জীবন সঙ্গিনী প্রয়োজন ছিলো, তাহলে পৃথিবীতে আমাদের এর প্রয়োজন অনেক বেশি।সঙ্গির সাথে শুধু শারিরীক সম্পর্ক ব্যাপারটা মোটেও এমন নয়।মানসিক প্রশান্তি দূর করার জন্য ও সঙ্গিনী প্রয়োজন।আল্লাহ্ মানুষের জন্য সঙ্গিনী বানিয়েছেন যাতে তারা পেতে পারে প্রশান্তি,ভালোবাসা আর দয়া মায়া।আরেক নির্দশন এই যে ” তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য সঙ্গিনী ঠিক করেছেন। যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রতি ও দয়াময়া সৃষ্টি করেছেন”(সূরা রুম:২১)।কৈশর কালেই এই বিষয় গুলো খুব প্রয়োজন। কারণ যৌবনে অনেক শাররিক চাহিদা থাকে আর ভালোবাসা পেতে ইচ্ছা হয়।এই যৌবন কতক্ষণ?১৫-৩০ বছর।মাত্র ১৫ বছর থাকে এই যৌবন।এই মুুহুর্তে যদি আপনি নীতি কথা বলে তাদের পবিত্র থাকতে বলেন,কারো কারোরো ক্ষেতে সম্ভব হলে ও অনেকের কাছে তা অসম্ভব।লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম করে যাবে তারা।ছেলে-মেয়েদের ফ্রি মিক্মিং য়ের সমাজ। স্কুল কলেজ কোচিং একসাথেই পড়ে।এমনিতে এই বয়সে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ বেশি থাকে তার উপরে আবার ক্লাস রুমে তাদের ৮-১০ ঘন্টা একসাথে রেখে আপনি যদি বলেন প্রেম করারা হারাম,নীতি বাক্য শুনান, প্রেম করিও না এসব বলেন তাহলে আপনার কথা মানার জন্য কেউই থাকবে না।প্রেম হলো একপ্রকার রোগ,অন্তরের রোগ।যখন মানুষ প্রেমে পড়ে তখন তার হৃদয় অন্ধ আর বধির হয়ে যায়।প্রেমের আরেকটা দিক হলো মাদকের মতো কাজ করে।মানুষের মন,মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।তখন সে যদি জানে ও সে ভুল করছে তবু ও সেখান থেকে ফিরে আসতে পারে না।এর কারণে অনেকে আত্নহত্যা পর্যন্ত করে ফেলে।প্রেমের একমাত্র ঔষধ হলো বিয়ে।কিশোর কিশোরির যখন প্রেমে পড়ার সম্ভবনা থাকে বাবা -মায়ের উচিত তাদের বিয়ে দেওয়া।যদি গার্জিয়ান দের দায়িত্ব।ভাই আপনি জানেন প্রেম করা হারাম তবু প্রেম করছেন কেন?আমি জানি আপনি তাকে খুব ভালোবাসেন।আপনি কি চান আপনার কারণে আপনার ভালোবাসার মানুষ আগুন সাগরে জ্বলতে থাকুক?আপনি কি চান আপনার সস্তা এই আবেগ, ভালোবাসার কারণে আপনার ভালোবাসা এবং আপনাদের বাবা-মা যিনা কারী হিসাবে সাব্যস্ত হোক?আপনি চান আপনাদের বাবা-মা ব্যাভিচারিনী হিসাবে আল্লাহর সামনে উপস্হিত হোক?আপনি কি চান দুনিয়ার এই কয়েক বছরের সুখের জন্য আপনার জান্নাতের সুখ নষ্ট হোক?তুমি কি চাও না ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে চিরসুখের জান্নাতে যেতে?আপনি কি চান না আপনার এই ভালোবাসার মানুষ জান্নাতের হুরদের থেকে ও সবচেয়ে আর্কষণীয় আর সুন্দরী হোক?আপনি কি চান না আপনার এই ভালোবাসার মানুষকে প্রথমবার দেখতে?সেখানে প্রথম দেখায় পরস্পর পরস্পরের দিকেকে ৪০বছর কেটে যাবে।তাহলে আপনি কেন হারাম জেনে ও এই হারাম সম্পর্ক টিকিয়ে রাখছেন।আপনার সামনে এখন দুইটা অপশন আছে।১)আপনি তার পরিবারের সাথে কথা বলুন।তাদের কে রাজি করান।আপনার বাবা-মায়ের সাথে কথা বলুন এরপর পারিবারিক ভাবে বিয়ে করুন।প্রথম অপশনটি যদি সম্ভব না হয় তাহলে২)আপনি তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করুন এবং সম্পর্ক ছিন্ন করুন।চিরস্থায়ী ভাবে তাকে বিদায় দিন।কখনোই এই কথা বলবেন না যে আমি জানি প্রেম করা হারাম কিন্তু আমি ওকে ভালোবাসি।আপনার এই ভালোবাসা মিথ্যা।বিয়ে ছাড়া এই ভালোবাসা ধোকা, প্রতারণা।একটা কথা মনে রাখুন আপনার এই ভালোবাসার জন্য আপনার মা-বাবা,আপনার প্রেমিকার মা-বাবা, আপনি এবং আপনার প্রেমিকা সবাই গুনাহগার।দুইটি পরিবারকে আপনার জন্য জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে তাহলে কিভাবে আপনি ভালোবাসা দাবি করছেন?চোখ বন্ধ করে একটু ভাবুন তো আপনার সামনেই আপনার মা-বাবা আগুনে পুড়ছে। আপনি যাকে ভালোবাসেন বলে দাবি করছেন সে ও আগুনে পুড়ে জ্বলছে এবং তার পরিবার ও পুড়ছে। আপনি কি তা সহ্য করতে পারবেন?এক্ষণি এই মুহূর্তে আপনাকে সিন্ধান্ত নিন আপনি কি এই হারাম সম্পর্ক রাখবেন? নাকি বিয়ে করে বৈধ করবেন?আল্লাহ্ সবাইকে বোঝার তৌফিক দান করুন।আমাদেরকে হেদায়েত দান করুন।(আমিন)।

%d bloggers like this: